নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটের কানাইঘাটে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সীমান্তে চোরাচালান, লোভাছড়া পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পাথর চুরি, মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পল্লীবিদ্যুতের অতিরিক্ত বিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সভায় চোরাচালান প্রতিরোধে চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, পাথর চুরি বন্ধ এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌসের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সীমান্তবর্তী সুরইঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে পণ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া বন্ধে চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার জন্য বিজিবিকে নির্দেশনা দেন ইউএনও।
এ সময় কমিটির সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, বিজিবি চোরাচালানের পণ্য আটক করলেও অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হচ্ছে না। ফলে ভারত থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী আনা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি চোরাকারবারীরা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটাচ্ছে। আটক করা চোরাই পণ্যের মালিকদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে চোরাচালান অনেকাংশে কমে আসবে বলে মত দেন তারা।
সভায় সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাম্প কমান্ডার জানান, গত আগস্ট মাসে এক কোটি টাকার বেশি ভারতীয় চোরাই পণ্য আটক করা হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও প্রায় এক কোটি টাকার পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। তবে নানা তৎপরতা সত্ত্বেও চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে তিনি স্বীকার করেন।
এদিকে লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে জব্দ করা পাথর চুরি এবং অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে বিজিবি ও থানা পুলিশকে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস। সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে চেকপোস্ট স্থাপন ও টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সভা-সেমিনার আয়োজনের কথাও জানান তিনি।
সভায় কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। চুরি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যেও গ্রাহকদের অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সভার সদস্যরা। তারা বলেন, পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে গিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। অনেক ক্ষেত্রে মিটার রিডাররা সরেজমিনে মিটার না দেখে মনগড়াভাবে রিডিং দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে সভায় উপস্থিত পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপককে (ডিজিএম) অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন ইউএনও।
সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরে বক্তব্য দেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বক্তব্য দেন দিঘীরপাড় পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী, সাতবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান আবু তায়্যিব শামীম, কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আফসর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ, রাজাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা শামছুল ইসলাম এবং কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিনসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।

