Previous
Next

সর্বশেষ


Sunday, August 16

কানাইঘাটে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পোনা অবমুক্ত, র‌্যালি ও আলোচনা সভা

কানাইঘাটে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পোনা অবমুক্ত, র‌্যালি ও আলোচনা সভা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

“রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় সিলেটের কানাইঘাটে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, মাছের পোনা অবমুক্ত ও সফল মৎস্যচাষীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। এতে মৎস্যজীবী, মৎস্যচাষী, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস।

পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিঃ) অলিউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মৎস্যচাষী নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, মৎস্য সম্পদ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাছ রপ্তানি করা হচ্ছে। দেশীয় মাছের বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কারেন্ট জালের অপব্যবহার বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কানাইঘাট খাল-বিল, নদ-নদী ও হাওরবেষ্টিত একটি উপজেলা। এখানে মৎস্য চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্য চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। তাই এলাকার মানুষকে মৎস্য চাষে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আলতাফ হোসেন, রাজাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা সামছুল ইসলাম, কানাইঘাট সদর ইউপি বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন মেম্বার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শফিক আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল ইসলাম মেম্বার, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক রুবেল আহমদ, সদস্য সচিব মামুন আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ফারুক আহমদ মেম্বার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মীম সালমান, মৎস্যচাষী ফখর উদ্দিন চৌধুরী, পরেশ দাস প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে সফল মৎস্যচাষীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় কাড়াবাল্লা বড় চাতল যুব ফোরাম ও নিজ চাউরা দক্ষিণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দের হাতে পুরস্কারস্বরূপ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসসহ অনুষ্ঠানের অতিথিরা।

কানাইঘাটে মাদক কারবারির বাড়িতে পুলিশের হানা, ইয়াবাসহ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার

কানাইঘাটে মাদক কারবারির বাড়িতে পুলিশের হানা, ইয়াবাসহ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ৩ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কথিত মাদক ব্যবসায়ী শরীফ উদ্দিন পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের নারানপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করে কানাইঘাট থানা পুলিশের একটি দল।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারাইনপুর গ্রামের তাহের আলীর ছেলে শরীফ উদ্দিনকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শরীফ উদ্দিন কৌশলে পালিয়ে যান। পরে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ৩ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শরীফ উদ্দিনকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শরীফ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি ভারত থেকে অবৈধভাবে মাদক এনে সহযোগীদের মাধ্যমে স্থানীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, শরীফ উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি কানাইঘাট উপজেলাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি: কানাইঘাটে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা করলেন ইউএনও

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি: কানাইঘাটে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা করলেন ইউএনও


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে বিভিন্ন ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া ফেরদৌস।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়।

জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দি আজাদ ফার্মেসীকে ২০ হাজার টাকা এবং হলি হেলথ নামক ফার্মেসীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযান প্রসঙ্গে ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি রয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এর আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার একই আইনে ‘মাদার কেয়ার’ নামক একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করেন।

উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধ এবং ভোক্তাদের নিরাপদ ওষুধ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Saturday, August 15

কানাইঘাটে পুলিশের অভিযানে  ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

কানাইঘাটে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাটে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় ইয়াবা বিক্রির সময় ২০ পিস ইয়াবাসহ রুবেল আহমদ (২৬) নামে এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ৩নং দিঘীরপাড় ইউনিয়নের ঠাকুরেরমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খেলার মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার রুবেল আহমদ পূর্ব ঠাকুরেরমাটি গ্রামের শরীফ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় অভিযান চালানোর সময় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে রুবেল আহমদকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রুবেল আহমদ ছদ্মবেশে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলেন। তারা তাকে এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করেন।

এ ঘটনায় কানাইঘাট থানা পুলিশ বাদী হয়ে রুবেল আহমদকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিঘীরপাড় ইউনিয়নে ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ী এবং চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান জোরদার হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার ও অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, মাদকের কারণে সমাজে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, কানাইঘাটের রাস্তাঘাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হলে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা ও তাদের গ্রেফতার করা আরও সহজ হবে।

বাবার কবরের মাটি সরাচ্ছে শিশু, জানে না বাবাই শুয়ে থাকবেন এখানে

বাবার কবরের মাটি সরাচ্ছে শিশু, জানে না বাবাই শুয়ে থাকবেন এখানে


মাহবুবুর রশিদ:

নাহ, দৃশ্যটি কোনো আনন্দের চিত্র নয়। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, বড়দের সঙ্গে গর্তে নেমে ছোট্ট শিশুটি বুঝি মাটি নিয়ে খেলছে। শিশুরা যেমন খেলার ছলে মাটি সরায়, দৃশ্যটিও অনেকটা তেমনই। কিন্তু বাস্তবতা ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত,এটি ছিল এক বাবাহারা শিশুর জীবনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্তগুলোর একটি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সিলেট শহর থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের উপরবড়াই গ্রামের মাওলানা হুসেইন আহমদের ছেলে ফয়েজ আহমদ (৩০)। শুক্রবার(১৪ আগস্ট)  বাবার লাশ দাফনের জন্য যখন কবর খোঁড়ার কাজ চলছিল, তখনই চোখে পড়ে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক দৃশ্য।

কবর খোঁড়ার কাজে অন্যদের সঙ্গে মাটি সরাচ্ছিল ফয়েজের মাত্র তিন বছর বয়সী ছেলে নিহান। নিষ্পাপ শিশুটি হয়তো বুঝতেই পারেনি, যে গর্ত থেকে সে আনন্দের ছলে মাটি সরাচ্ছে, কিছুক্ষণ পর সেই গর্তেই চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তার বাবা। কেউ একজন সেই হৃদয়বিদারক মুহূর্তটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাবার কবরের মাটি সরাতে অন্যদের সঙ্গে শিশুটিও ব্যস্ত। তার চোখেমুখে নেই কোনো শোকের ছাপ,কারণ সে তো এখনও জানে না, বাবার ফিরে না আসার অর্থ কী! যে ছোট্ট হাতে বাবার কবরের মাটি সরাচ্ছে, সেই হাতই জানে না। এই কবরেই শুয়ে থাকবেন তার জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, তার ‘বটবৃক্ষ’ বাবা।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট থেকে বাড়ি ফেরার পথে জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর এলাকায় ফয়েজ আহমদকে বহনকারী পিকআপ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ফয়েজের এই করুণ মৃত্যুতে পরিবারটির পুরোনো ক্ষতও যেন আবারও তাজা হয়ে উঠেছে। ঠিক আট বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে নিজের বিয়ের তারিখের দিনই মৃত্যুবরণ করেছিলেন ফয়েজের বড় ভাই মাওলানা জামিল। একই পরিবারের ওপর সড়ক দুর্ঘটনার নির্মম আঘাত যেন আট বছর পর আবারও ফিরে এলো ফয়েজের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

একদিকে ৩০ বছর বয়সী তরুণ বাবার নিথর দেহ, অন্যদিকে মাত্র তিন বছরের নিষ্পাপ সন্তান-যে এখনও বুঝতেই পারেনি, তার বাবা আর কোনোদিন তাকে কোলে তুলে নেবেন না, আদর করবেন না, কিংবা ঘরে ফিরে ডাকবেন না। শুক্রবার রাত ৯টায় ফয়েজ আহমদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।




Wednesday, August 12

কানাইঘাটে এসএসসির ফলাফলে শীর্ষে বীরদল এন. এম. একাডেমি

কানাইঘাটে এসএসসির ফলাফলে শীর্ষে বীরদল এন. এম. একাডেমি


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে বীরদল এন. এম. একাডেমি। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৬২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ (এ প্লাস) অর্জন করেছে। বিদ্যালয়টির মোট পাসের হার ৯৭ শতাংশ।

ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে তারা একে অপরকে অভিনন্দন জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল হক বলেন, “বীরদল এন. এম. একাডেমি কানাইঘাট উপজেলার একটি স্বনামধন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রেখে আসছে। বিগত বছরগুলোতেও পাবলিক পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে।”

তিনি জানান, বিদ্যালয়টি ২০২২ ও ২০২৫ সালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কানাইঘাট উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হয়। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও বিদ্যালয়টি ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালে কানাইঘাট উপজেলার মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পর ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রথম স্থান অধিকার করে।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, “এই সাফল্যের পেছনে এলাকাবাসীর অবদান, অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতা, শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও সুচিন্তিত পরামর্শ প্রয়োজন। সবাই বিদ্যালয়ের উন্নয়নে এগিয়ে এলে খুব শিগগিরই বিদ্যালয়টি এলাকার মানুষের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত কার্যক্রমের সমন্বিত ফল হিসেবেই এই সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষার মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

বীরদল এন. এম. একাডেমির এ সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও আনন্দ ও সন্তোষ বিরাজ করছে।

Tuesday, August 11

নজরুল একাডেমী সিলেটের সহ-সভাপতি এম এ হান্নান

নজরুল একাডেমী সিলেটের সহ-সভাপতি এম এ হান্নান


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন নজরুল একাডেমী সিলেটের আগামী তিন বছরের জন্য ৬১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সরকারি মদনমোহন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফরিদ আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আহমদ জুলকারনাইন।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক সিলেট বাণীর নির্বাহী সম্পাদক ও সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এম এ হান্নান। তিনি কানাইঘাট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সিলেটে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা ও এর প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ হান্নান নজরুল একাডেমী সিলেটের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানাইঘাট প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। তারা আশা প্রকাশ করেন, এম এ হান্নানের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নজরুল একাডেমীর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তর্কে-যুক্তিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কানাইঘাটের শিক্ষার্থীরা

তর্কে-যুক্তিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কানাইঘাটের শিক্ষার্থীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক: 

‘অভাব নয়, সীমাহীন লোভই দুর্নীতির প্রধান কারণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কানাইঘাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬। দুর্নীতি দমন কমিশনের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, কানাইঘাট উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলার তিনটি ভেনুতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বিতর্কের মঞ্চে শিক্ষার্থীরা যুক্তি, তথ্য ও বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে দুর্নীতির কারণ ও প্রতিরোধ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মহি উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বীরদল এন এম একাডেমির প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার শাখাওয়াত হোসেন, কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দীপালি বিশ্বাস, সিনিয়র শিক্ষক হোসেইন আহমদ, উপজেলা স্কাউটসের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শুকুর, আলহাজ বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক অভিজিৎ, কমিটির সদস্য মো. ইয়াহইয়া, মুহিবুর রহমান মনির, শিক্ষক তাহমিনা আক্তার সুমি প্রমুখ।

চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতায় তুমুল যুক্তিতর্কের পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। আর রানার্সআপ হয় বীরদল এন এম একাডেমি।

এর আগে উপজেলার তিনটি ভেনুতে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে মোট ৯টি বিদ্যালয় অংশ নেয়। গাছবাড়ী মর্ডাণ একাডেমি ভেনুতে ৩টি, বীরদল এন এম একাডেমি ভেনুতে ২টি এবং কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ভেনুতে ৪টি বিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

বক্তারা বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নয়; ব্যক্তির সীমাহীন লোভ, অনৈতিক মানসিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ও দুর্নীতির অন্যতম বড় কারণ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সততা ও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা গড়ে তুলতে বিতর্কের মতো সৃজনশীল আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।



Monday, August 10

সুরমার বালুমহাল নিয়ে উ'ত্তেজনা!  উত্তোলনে বাধা, ফেসবুকে হুমকি-অপপ্রচার

সুরমার বালুমহাল নিয়ে উ'ত্তেজনা! উত্তোলনে বাধা, ফেসবুকে হুমকি-অপপ্রচার


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুরমা নদীর নওয়াগাঁও বালুমহাল ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য ভ্যাট-করসহ ২ কোটি ৫ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়ার পর বালু উত্তোলনে বারবার বাধার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ করেছেন ইজারাদার চন্দন তালুকদার। তাঁর অভিযোগ, কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমানে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী জাবের আশরাফ চৌধুরীর লোকজন বালু উত্তোলনে বাধা, শ্রমিকদের মারধর, যন্ত্রপাতি ক্ষতিসাধন এবং ফেসবুকে হুমকি ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

ইজারাদার সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নওয়াগাঁও বালুমহালটি ইজারাদারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এরপর ইজারার শর্ত মেনে সুরমা নদীর নির্ধারিত অংশ থেকে বালু উত্তোলন শুরু করা হয়। তবে এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ইজারাদারের।

চন্দন তালুকদারের দাবি, জাবের আশরাফ চৌধুরী তাঁর স্বার্থ হাসিলের জন্য স্থানীয় কিছু লোককে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা দিচ্ছেন। তাঁর পক্ষের লোকজন অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের নামে লোকজন জড়ো করে ইজারাদারের শ্রমিকদের মারধর, ড্রেজারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ক্ষতিসাধন এবং বালুবাহী নৌকা আটকের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইজারাদারের আরও দাবি, এসব ঘটনার কারণে বারবার বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তবে নওয়াগাঁও বালুমহালটি জকিগঞ্জ উপজেলার সুরমা নদীর অংশে অবস্থিত হলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলনে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন ইজারাদার। তাঁর অভিযোগ, কানাইঘাটের কিছু লোকজনের মাধ্যমে বালুমহালটি কানাইঘাটের সুরমা নদীর অংশে পড়েছে,এমন অভিযোগ তুলে প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একের পর এক অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ইজারাদার চন্দন তালুকদার বলেন, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টাস্কফোর্স, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসন কয়েক দফা বালুমহাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে। তাঁর দাবি, অভিযানে নওয়াগাঁও বালুমহালের নির্ধারিত এলাকা ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এদিকে জাবের আশরাফ চৌধুরীকে ঘিরে অতীতের বালু ব্যবসা নিয়েও অভিযোগ করেছেন ইজারাদার। তাঁর দাবি, বিগত সরকারের সময়ে কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সুরমা নদীর কানাইঘাট-রাজাগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বৈধ-অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় জাবের আশরাফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ওই মামলার পর তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান বলেও দাবি করেন চন্দন তালুকদার।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাবের আশরাফ চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ইজারাদার চন্দন তালুকদারের অভিযোগ, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে জাবের আশরাফ চৌধুরী তাঁর নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নওয়াগাঁও বালুমহালের ইজারাদারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করছেন। এসব পোস্টে ইজারাদার ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য, গুজব, উসকানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চন্দন তালুকদার। তাঁর দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে ইজারা নেওয়ার পরও যদি এভাবে বাধা, হামলা ও অপপ্রচারের শিকার হতে হয়, তাহলে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে বালুমহাল পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জাবের আশরাফ চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

Sunday, August 9

আইইএলটিএস কৃতীদের সাফল্যে হেক্সাসে উৎসব

আইইএলটিএস কৃতীদের সাফল্যে হেক্সাসে উৎসব


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে আইইএলটিএস ও লাইফ স্কিল শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।

রোববার সকালে মেজরটিলাস্থ হেক্সাস এডুকেশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইইএলটিএস পরীক্ষায় ৮.০, ৭.৫, ৭.০, ৬.৫ ও ৬.০ ব্যান্ড স্কোর অর্জনকারী প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি লাইফ স্কিল কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্নকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার ও সনদ।

হেক্সাস এডুকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাদির সুমনের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক তাহমিনা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হিসাব ব্যবস্থাপক মো. মুহিব উর রহমান, হিসাব সহায়তা কর্মকর্তা তানজিম সুলতানা তান্নি, মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের প্রশিক্ষক সৈয়দ নাকিব সাদীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফলতার জন্য ভালো আইইএলটিএস স্কোরের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা ও বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন জরুরি। নিয়মিত অনুশীলন ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব বলেও জানান তারা।

অনুষ্ঠান শেষে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা, পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। (প্রেস বিজ্ঞপ্ত) 


Saturday, August 8

লোভাছড়ায় প্রশাসনের নজরদারির মাঝেও চলছে জব্দ করা পাথর লুট

লোভাছড়ায় প্রশাসনের নজরদারির মাঝেও চলছে জব্দ করা পাথর লুট

 


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটের লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের জব্দ করা পাথর চুরির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাথর চুরির খবর প্রকাশের পর চুরি ঠেকাতে কোয়ারি এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রাম বাজারের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ ক্রাশার জোন বন্ধেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে আটগ্রামের পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিনগুলো বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যেই প্রশাসনের নজর এড়িয়ে লোভাছড়া কোয়ারিতে জব্দ করে রাখা পাথর চুরির অভিযোগ উঠেছে। পাথর চুরি ঠেকাতে কোয়ারি এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি থাকলেও পুলিশের ডিউটির ফাঁকে একটি চক্র গভীর রাতে ও ভোরে নদীপথে জব্দ পাথর জকিগঞ্জের আটগ্রামে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

গত বুধবার বিকেলে লোভাছড়া কোয়ারিতে জব্দ করা পাথর দুটি স্টিলের বলগেটে বোঝাই করে আটগ্রামে নেওয়া হচ্ছিল বলে খবর পায় কানাইঘাট থানা পুলিশ। পাথর ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন ওই বলগেট দুটির মাধ্যমে পাথর নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ বলগেট দুটি আটকের চেষ্টা করে। তবে এর আগেই সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র লুকিয়ে ফেলা হয় বলে জানা গেছে।


বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, লোভাছড়া পাথর কোয়ারির একটি চক্র জব্দ করা পাথর চুরি করে আটগ্রামে বিক্রির জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা থেকে অর্ধশতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা কোয়ারি এলাকায় নিয়ে এসেছে। এসব নৌকার দৈর্ঘ্য ২০০ থেকে ২৫০ ফুট বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব নৌকা ব্যবহার করেই জব্দ পাথর সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


স্থানীয় বাসিন্দা সালমান আহমদসহ কয়েকজন জানান, হাজার ফুট ধারণক্ষমতার বেশ কয়েকটি স্টিলের বলগেট ব্যবহার করেও জব্দ পাথর চুরি করা হচ্ছে। পরে এসব পাথর নদীপথে জকিগঞ্জের আটগ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এ অবস্থায় লোভাছড়ার জব্দ পাথর চুরি বন্ধে জকিগঞ্জের আটগ্রামে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সেখানে মজুত থাকা কয়েক লাখ ঘনফুট চোরাই পাথর জব্দ এবং অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ক্রাশার মেশিনগুলো ধ্বংসের দাবি জানান তারা।


কোয়ারি এলাকার বাসিন্দা বাশার আহমদ বলেন, ‘পাথর চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, লোভাছড়া পাথর কোয়ারি একেবারে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। জব্দকৃত পাথর দেখভাল করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হলে পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।


ওসি বলেন, ‘সম্প্রতি একটি পাথর বোঝাই বলগেট এবং পাথরবাহী দুইটি ট্রাক আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলাও হয়েছে।’ তবে এখন আর পাথর চুরি হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোয়ারি এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ওসি।


এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর লোভাছড়ার পাথর জব্দ করেছে কিন্তু এখন এই পাথরের মালিক হচ্ছে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুারো (বিএমডি)। এখন যদি জব্দকৃত পাথর চুরি হয়ে থাকে তবে বিএমডি কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবে। আমরা তাদের সহযোগিতা করব।’

Friday, August 7

কানাইঘাটকে একটি সুন্দর জনপদ হিসেবে গড়তে চাই: নবাগত ইউএনও সুমাইয়া

কানাইঘাটকে একটি সুন্দর জনপদ হিসেবে গড়তে চাই: নবাগত ইউএনও সুমাইয়া


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাট উপজেলার রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনদের সাথে বিশেষ মতবিনিময় করেছেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নবাগত ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, যোগদানের পর রাজনৈতিক দল ও সুধীজনদের নিয়ে এটিই আমার প্রথম বৈঠক। আপনাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ নিয়ে আমি কানাইঘাট উপজেলাকে একটি সুন্দর জনপদে পরিণত করতে চাই। সরকারের সমস্ত সেবা মানুষের দোরগোড়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমি সবার সহযোগিতা কামনা করি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত উপজেলা বিএনপি, জামায়াত, জমিয়ত ও খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ নবাগত ইউএনওকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। নেতৃবৃন্দ কানাইঘাট পৌর শহরের সৌন্দর্যবর্ধন, যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং হাট-বাজারের সংস্কারে দুর্নীতমুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া তারা মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষারের উপস্থিতিতে সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা ফয়সল আহমদ, কেন্দ্রীয় জমিয়ত নেতা মাওলানা আবুল হোসেন চতুলী এবং জেলা খেলাফত মজলিশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শিব্বির আহমদ।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার আফতাব উদ্দিন, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আমানুর রশিদ চৌধুরী, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল করিম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাস্টার শলিল চন্দ্র দাসসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Thursday, August 6

৫৫ বছরের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি, ভালোবাসায় সিক্ত মাওলানা গোলাম ওয়াহিদ

৫৫ বছরের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি, ভালোবাসায় সিক্ত মাওলানা গোলাম ওয়াহিদ


নিজস্ব প্রতিবেদক
:

টানা ৫৫ বছর মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করে দ্বীনি শিক্ষা ও ইসলামের খেদমতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বীরদল আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবীণ আলেম মাওলানা গোলাম ওয়াহিদকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ‘আল-ওয়াহিদ আবনা, ফুজালা, হুফ্ফাজ পরিষদ’ এবং বীরদল এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিলে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, মাওলানা গোলাম ওয়াহিদ দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বীরদল আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, আদর্শবান আলেম ও হাফেজ গড়ে তোলা এবং সমাজে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রচারে নিরলস ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার সুনিপুণ তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অসংখ্য হাফেজ ও আলেম বের হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় শিক্ষা, ইমামতি, খতিব ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষানুরাগী, আদর্শ শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে মাওলানা গোলাম ওয়াহিদের অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তারা তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দ্বীনি খেদমতের ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাইখুল হাদি মাওলানা শফিকুল হক সুরইঘাটী, সিলেটের বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মোশতাক আহমদ খান, শায়খুল হাদিস মাওলানা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী, মুফতি মাসউদ আহমদ (শাহবাগ জামিয়া), মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা মুতাছিম আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ,  বীরদল এন এম একাডেমির সাবেক প্রধান শিক্ষক জার উল্লাহ, বর্তমান প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল করীম, মাওলানা আজমত উল্লাহ, মাওলানা জামিল আহমদ, মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মাওলানা গোলাম ওয়াহিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং সম্মাননার অংশ হিসেবে ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার দীর্ঘ ৫৫ বছরের দ্বীনি খেদমত, শিক্ষা বিস্তার এবং কর্মময় জীবন নিয়ে প্রকাশিত একটি স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সবশেষে দেশ, জাতি ও উম্মাহর কল্যাণ এবং মাওলানা গোলাম ওয়াহিদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও দ্বীনি খেদমতের ধারাবাহিকতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।