Previous
Next

সর্বশেষ


Thursday, August 20

চোরাকারবারিদের পিকআপের ধাক্কায় নিহত ফারুকের দাফন সম্পন্ন

চোরাকারবারিদের পিকআপের ধাক্কায় নিহত ফারুকের দাফন সম্পন্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাটে চোরাকারবারিদের ভারতীয় জিরাবোঝাই পিকআপের ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ঢাকায় নেওয়ার পথে নিহত ফারুক আহমদ (৫৫)-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের আগ্রীপাড়া জামে মসজিদ মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে আগ্রীপাড়া গ্রামের কবরস্থানে ফারুক আহমদকে দাফন করা হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে ফারুক আহমদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। দরিদ্র দিনমজুর ফারুকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে আসে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সুরইঘাট-বড়বন্দ সীমান্ত এলাকায় বেপরোয়া চোরাচালান বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহত ফারুক আহমদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে তার বাড়িতে যান কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস। ইউএনওর উপস্থিতির খবর পেয়ে জানাজায় অংশ নেওয়া লোকজনসহ এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন।

এ সময় স্থানীয়রা ইউএনওর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফারুক আহমদ একজন হতদরিদ্র দিনমজুর ছিলেন। সুরইঘাট বাজারে বিভিন্ন মালামালের বস্তা বহন করে তিনি সংসার চালাতেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে সুরইঘাট বাজারে ভারতীয় জিরাবোঝাই একটি পিকআপকে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করলে সেটি দ্রুতগতিতে বাজারের দিকে চলে আসে। তাদের দাবি, পিকআপটির গ্লাস লাঠি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় এবং পরে গাড়িটি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে। একপর্যায়ে ইট নিক্ষেপের ঘটনায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফারুক আহমদ ও আম্বিয়া মিয়াকে সজোরে ধাক্কা দিলে তারা আহত হন। পরে গুরুতর আহত ফারুককে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় কার—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকা ও সুরইঘাট বাজারসহ আশপাশের এলাকায় বেপরোয়া চোরাচালান বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা।

স্থানীয়দের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস। তিনি বলেন, তিনি সদ্য কানাইঘাটে যোগদান করেছেন। সকল মহলের সহযোগিতা নিয়ে চোরাচালান প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে ইউএনও আরও বলেন, মামলার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফারুক আহমদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।

এর আগে ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস সুরইঘাট বাজারের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বাজারের ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার বিষয়ে তথ্য নেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার, কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এদিকে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ফারুক আহমদ নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলী

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলী


নিজস্ব প্রতিবেদক :

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর সহকারী ও খেতাবপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টায় সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভার নন্দিরাই পশ্চিম জামে মসজিদ মাঠে দ্বিতীয় দফা জানাজার নামাজ শেষে মহল্লার কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তজম্মুল আলী। বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ২টায় ঢাকার পল্টন জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ গ্রামের বাড়ি কানাইঘাট পৌরসভার নন্দিরাই গ্রামে নিয়ে আসা হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে গার্ড অব অনার শেষে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জানাজার নামাজে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

তজম্মুল আলী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় তিনি বাক ও শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এরপর জীবনের বাকি সময়টুকু তিনি বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী অবস্থায় কাটিয়েছেন।

স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধকালীন সহযোদ্ধা জেনারেল ওসমানীর সহযোগিতায় ঢাকার পুরানা পল্টনে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত বাসস্থানে বসবাস শুরু করেন তিনি। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৪ বছর সেখানেই কাটিয়েছেন এই সরল-সহজ মানুষটি।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, জীবনে কারও কাছে কিছু চাননি তজম্মুল আলী। নিজের কষ্ট কিংবা অভিমানও প্রকাশ করেননি কখনো। মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা এই বীর যোদ্ধা নীরবে-নিভৃতে কাটিয়েছেন জীবনের শেষ দিনগুলো।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তজম্মুল আলী কানাইঘাট পৌরসভার নন্দিরাই গ্রামের মরহুম তছদ্দর আলীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে কানাইঘাটের মুক্তিযোদ্ধা সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব কানাইঘাটের এহসান-ই-এলাহী

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব কানাইঘাটের এহসান-ই-এলাহী


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)-এর উপ-মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কানাইঘাটের কৃতী সন্তান মোঃ এহসান-ই-এলাহী। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এ নিয়োগে সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

মোঃ এহসান-ই-এলাহী বাংলাদেশ সরকারের একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা। জনপ্রশাসন, নীতি প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা, শ্রম ও অভিবাসন শাসন, মানবিক কার্যক্রম এবং সরকারি খাতের সংস্কারে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিব, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

কৌশলগত নেতৃত্ব, সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা, নীতি বাস্তবায়ন, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং দুর্যোগ ও মানবিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

নতুন দায়িত্বে মোঃ এহসান-ই-এলাহী বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মানবিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, মানবিক সমন্বয়, সরকার ও অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিচালনগত কার্যকারিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এহসান-ই-এলাহীর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভে সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

Wednesday, August 19

সুরমা নদীর নওয়াগাঁও বালুমহালের কানাইঘাট অংশ পরিদর্শনে ইউএনও

সুরমা নদীর নওয়াগাঁও বালুমহালের কানাইঘাট অংশ পরিদর্শনে ইউএনও


নিজস্ব প্রতিবেদক:
 

জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের সুরমা নদীর নওয়াগাঁও সরকারি বালুমহালকে কেন্দ্র করে ইজারাদার ও বালু উত্তোলনের বিরোধিতাকারীদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে বালুমহালের কানাইঘাট অংশের কায়স্তগ্রাম ও বড়দেশ এলাকা পরিদর্শন করেছেন কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে তিনি ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কানাইঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার, স্থানীয় ভূমি অফিসের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কানাইঘাট থানা পুলিশের সদস্যরা।

পরিদর্শনকালে ইউএনও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বালু উত্তোলন নিয়ে তাদের বিভিন্ন অভিযোগ ও উদ্বেগের কথা শোনেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলেন, নওয়াগাঁও বালুমহালটি জকিগঞ্জ উপজেলার সুরমা নদীর নির্ধারিত অংশে অবস্থিত। বালুমহালের নির্ধারিত এলাকার বাইরে কানাইঘাট অংশে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে।

তিনি বালুমহালের ইজারাদারকে নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের বালু উত্তোলন না করার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশ দেন। পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, বালুমহাল এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি দেখতে পান, ইজারাদার নির্ধারিত স্থান থেকেই বালু উত্তোলন করছেন। তবে বালুমহালের নির্ধারিত এলাকার বাইরে থেকে বালু উত্তোলন না করার জন্য ইজারাদারকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে যাতে বালু উত্তোলন না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলী আর নেই

বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলী আর নেই


নিজস্ব প্রতিবেদক :

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলী আর নেই। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলী সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভার নন্দিরাই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি যুদ্ধাহত হন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চাকরিসূত্রে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করছিলেন এই বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধা।

তাঁর মৃত্যুতে কানাইঘাটসহ সিলেটের মুক্তিযোদ্ধা ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান ও পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন স্থানীয়রা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার জোহরের নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টন জামে মসজিদে মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টায় কানাইঘাট দারুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে তাঁর দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নন্দিরাই গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশীদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মহি উদ্দিন, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম. এ. হান্নান, সাবেক সভাপতি রোটারিয়ান শাহজাহান সেলিম বুলবুল, বর্তমান সভাপতি নিজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

কানাইঘাটে চোরাকারবারিদের পিকআপের ধাক্কায় আহত সেই বৃদ্ধ মারা গেছেন

কানাইঘাটে চোরাকারবারিদের পিকআপের ধাক্কায় আহত সেই বৃদ্ধ মারা গেছেন


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে ভারতীয় জিরাবোঝাই চোরাকারবারিদের পিকআপের ধাক্কায় গুরুতর আহত ফারুক আহমদ (৬৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত ফারুক আহমদ কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের আগ্রীপাড়া গ্রামের মৃত মতসিন আলীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি এলাকা দিয়ে একটি টাটা পিকআপে করে ভারতীয় জিরা নিয়ে আসছিল চোরাকারবারিরা। এ সময় সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা পিকআপটি আটক করতে পেছন থেকে ধাওয়া করেন।

বিজিবির ধাওয়া খেয়ে পিকআপচালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে সুরইঘাট বাজারের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাজার পয়েন্টে ফারুক আহমদ ও আম্বিয়াকে সজোরে ধাক্কা দেন। এতে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় ফারুক আহমদের দুই পা ভেঙে যায়। পরে বাজারের লোকজনের সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা পিকআপটি আটক করতে সক্ষম হলেও চালক পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত আহত দুজনকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফারুক আহমদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আটক পিকআপে থাকা ভারতীয় জিরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, বাগরা গ্রামের আনিছুল হকের ছেলে সাজনসহ আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। পলাতক চালক হিসেবে ভাউরভাগ ৪র্থ খণ্ড গ্রামের মৃত ফরিদ আহমদের ছেলে তুলি মিয়ার নামও জানা গেছে।

কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নিজাম উদ্দিন বলেন, আহত ফারুক আহমদ ও আম্বিয়া তার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ফারুক আহমদ সুরইঘাট বাজারে দিনমজুরের কাজ করতেন। সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে আসা পণ্যবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। এলাকায় চোরাচালান বন্ধে বিজিবি ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সুরইঘাট বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারতীয় পণ্যবোঝাই যানবাহন প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে বাজার ও আশপাশের সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এতে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করতে হয়। তারা চোরাচালান বন্ধের পাশাপাশি এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল আহত হওয়া লোকটি মারা গেছে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপের কাজ চলছে।’

ফারুক আহমদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Tuesday, August 18

কানাইঘাটে জিরাবোঝাই পিকআপের বেপরোয়া ছুট, ধাক্কায় গুরুতর আহত ২

কানাইঘাটে জিরাবোঝাই পিকআপের বেপরোয়া ছুট, ধাক্কায় গুরুতর আহত ২


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী সুরইঘাট বাজারে ভারতীয় জিরাবোঝাই একটি টাটা পিকআপের ধাক্কায় দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ফারুক আহমদ (৬৫) নামের এক ব্যক্তির দুই পা ভেঙে যাওয়ায় তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত আম্বিয়া (৫০) কানাইঘাট মা-মনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত ফারুক আহমদ কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের আগ্রীপাড়া গ্রামের মৃত মতসিন আলীর ছেলে এবং আম্বিয়া একই ইউনিয়নের নিজ চাউরা উত্তর গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি এলাকা দিয়ে একটি টাটা পিকআপে করে ভারতীয় জিরা নিয়ে আসছিল চোরাকারবারিরা। এ সময় সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা পিকআপটি আটক করতে পেছন থেকে ধাওয়া করেন।

বিজিবির ধাওয়া খেয়ে পিকআপচালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে সুরইঘাট বাজারের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাজার পয়েন্টে ফারুক আহমদ ও আম্বিয়াকে সজোরে ধাক্কা দেন। এতে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে বাজারের লোকজনের সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা পিকআপটি আটক করতে সক্ষম হলেও চালক পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত আহত দুইজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফারুক আহমদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আটক পিকআপে থাকা ভারতীয় জিরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, বাগরা গ্রামের আনিছুল হকের ছেলে সাজনসহ আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। পলাতক চালক হিসেবে ভাউরভাগ ৪র্থ খণ্ড গ্রামের মৃত ফরিদ আহমদের ছেলে তুলি মিয়ার নামও জানা গেছে।

কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নিজাম উদ্দিন বলেন, আহত ফারুক আহমদ ও আম্বিয়া তার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ফারুক আহমদ সুরইঘাট বাজারে দিনমজুরের কাজ করেন। সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে আসা পণ্যবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। এলাকায় চোরাচালান বন্ধে বিজিবি ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সুরইঘাট বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারতীয় পণ্যবোঝাই যানবাহন প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে বাজার ও আশপাশের সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এতে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করতে হয়। তারা চোরাচালান বন্ধের পাশাপাশি এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভারতীয় জিরাভর্তি পিকআপটি আটক করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে আহত দুই ব্যক্তির সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কানাইঘাটে ৮ রোহিঙ্গাসহ ৪ মানব পাচারকারী আদালতে

কানাইঘাটে ৮ রোহিঙ্গাসহ ৪ মানব পাচারকারী আদালতে


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাটে দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে রোহিঙ্গা পাচারের চেষ্টার অভিযোগে আটক ৮ রোহিঙ্গাসহ চার মানব পাচারকারীকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তাদের আদালতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে পাচারে ব্যবহৃত দুটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি মাদ্রাসার সামনে স্থানীয় লোকজন সন্দেহজনকভাবে তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮ রোহিঙ্গাসহ ১২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আটক চার দালাল হলেন-কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের এরালীগুল বাঙ্গীছড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আছাদ আহমদ, বড়খেরড় গ্রামের বাতা মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন এবং দুই সিএনজি অটোরিকশাচালক সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাইকাপন গ্রামের মৃত হেদায়েতুল ইসলামের ছেলে রফিক আহমদ ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার মইন নুরুলীয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশের ছেলে এলাছ উদ্দিন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট নগরীর কদমতলী এলাকা থেকে দুটি সিএনজি অটোরিকশায় করে ওই ৮ রোহিঙ্গাকে কানাইঘাটে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।

আটক ৮ রোহিঙ্গা হলেন-এনায়েত হোসেন (১৮), আব্দুল মুবিন (২৪), জুবের আহমদ (১৮), আজিদা বেগম (১৮), জামিলা বেগম (২০), ফাতেমা বিবি (১৮), নুর ফাতেমা (১৮) ও আজিদা (১৮)। পুলিশ জানায়, তারা সবাই মিয়ানমারের নাগরিক এবং কক্সবাজারের উখিয়া থানার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করতেন।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। উদ্ধার করা রোহিঙ্গা ভিকটিমদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আটক আসামিদের যথাযথভাবে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাচারে ব্যবহৃত দুটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

Monday, August 17

কানাইঘাটে টিসিবির ডিলার মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইউএনও বরাবরে অভিযোগ

কানাইঘাটে টিসিবির ডিলার মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইউএনও বরাবরে অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নে টিসিবির ডিলার হিসেবে মনোনীত আলমগীর আহমদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় নারানপুর গ্রামের মৃত গোলাম কিবরিয়া চৌধুরীর ছেলে আলফাছ উদ্দিন চৌধুরী বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে এ অভিযোগ দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগে আলফাছ উদ্দিন চৌধুরী উল্লেখ করেন, লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নে টিসিবির ডিলার নিয়োগের জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ইউনিয়নের পাঁচজন ব্যক্তি ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন। পরবর্তীতে উপজেলা খাদ্যগুদাম পরিদর্শক প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে মা এন্টারপ্রাইজ, ফারুক খাদ্য ভান্ডার ও আলমগীর এন্টারপ্রাইজকে ডিলার হিসেবে যোগ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে আবেদনকারীরা জানতে পারেন, আলমগীর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী স্থানীয় বড়খেওড় গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর আহমদকে লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের টিসিবি ডিলার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

আলফাছ উদ্দিন চৌধুরীর অভিযোগ, আলমগীর আহমদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং তিনি লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির ছেলে। এছাড়া বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, আলমগীর আহমদের দুই ভাই ও এক বোন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তার টিসিবি ডিলার হিসেবে মনোনয়ন বাতিল করে অন্য যোগ্য আবেদনকারীকে ডিলারশিপ দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারী।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও সিদ্ধান্তের ওপরই অভিযোগটির সত্যতা ও পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ভর করবে।

কানাইঘাটে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ৮ রোহিঙ্গাসহ ৪ দালাল আটক

কানাইঘাটে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ৮ রোহিঙ্গাসহ ৪ দালাল আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ৮ রোহিঙ্গাসহ চার দালালকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি মাদ্রাসার সামনে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮ রোহিঙ্গাসহ ১২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আটক চার দালালের মধ্যে রয়েছেন-কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের এরালীগুল বাঙ্গীছড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আছাদ আহমদ, বড়খেরড় গ্রামের বাতা মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন এবং দুই সিএনজি অটোরিকশাচালক সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাইকাপন গ্রামের মৃত হেদায়েতুল ইসলামের ছেলে রফিক আহমদ ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার মইন নুরুলীয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশের ছেলে এলাছ উদ্দিন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট নগরীর কদমতলী এলাকা থেকে দুই সিএনজি অটোরিকশাযোগে ওই ৮ রোহিঙ্গাকে কানাইঘাটে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। কানাইঘাটের দনা সীমান্ত এলাকার কথিত দালাল সাদ্দাম হোসেন ও আছাদ আহমদের মাধ্যমে তাদের আনা হয় বলে জানা গেছে।

আটক ৮ রোহিঙ্গা হলেন-এনায়েত হোসেন (১৮), আব্দুল মুবিন (২৪), জুবের আহমদ (১৮), আজিদা বেগম (১৮), জামিলা বেগম (২০), ফাতেমা বিবি (১৮), নুর ফাতেমা (১৮) ও আজিদা (১৮)। তারা সবাই মিয়ানমারের নাগরিক এবং কক্সবাজারের উখিয়া থানার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কাজের সন্ধানে ওই রোহিঙ্গারা কুতুপালং ক্যাম্প থেকে বের হয়ে সাদ্দাম ও আছাদের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সাদ্দাম ও আছাদ দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তারা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে কানাইঘাটের বিভিন্ন সীমান্তপথে ভারতে পাচার এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করে আসছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রোহিঙ্গাদের দ্রুত দনা সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি গ্রামের বটরবাজার এলাকায় সুরমা নদীর ঘাটে একটি নৌকা ভাড়া করে রাখা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিএনজি থেকে নেমে নৌকাযোগে তাদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

তবে সাদ্দাম ও আছাদ রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসতে কিছুটা দেরি করায় নৌকার মাঝি একাধিকবার তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা কুওরেরমাটি মাদ্রাসার কাছে অবস্থান নেওয়া দুটি সিএনজি অটোরিকশায় থাকা রোহিঙ্গা ও দালালদের আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সীমান্ত এলাকার আরও কয়েকজন দালাল জড়িত রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “দালালসহ ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। তারা কক্সবাজারের উখিয়া থানার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কানাইঘাট হয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

Sunday, August 16

কানাইঘাটে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পোনা অবমুক্ত, র‌্যালি ও আলোচনা সভা

কানাইঘাটে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পোনা অবমুক্ত, র‌্যালি ও আলোচনা সভা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

“রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় সিলেটের কানাইঘাটে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, মাছের পোনা অবমুক্ত ও সফল মৎস্যচাষীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। এতে মৎস্যজীবী, মৎস্যচাষী, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস।

পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিঃ) অলিউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মৎস্যচাষী নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, মৎস্য সম্পদ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাছ রপ্তানি করা হচ্ছে। দেশীয় মাছের বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কারেন্ট জালের অপব্যবহার বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কানাইঘাট খাল-বিল, নদ-নদী ও হাওরবেষ্টিত একটি উপজেলা। এখানে মৎস্য চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্য চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। তাই এলাকার মানুষকে মৎস্য চাষে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আলতাফ হোসেন, রাজাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা সামছুল ইসলাম, কানাইঘাট সদর ইউপি বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন মেম্বার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শফিক আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল ইসলাম মেম্বার, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক রুবেল আহমদ, সদস্য সচিব মামুন আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ফারুক আহমদ মেম্বার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মীম সালমান, মৎস্যচাষী ফখর উদ্দিন চৌধুরী, পরেশ দাস প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে সফল মৎস্যচাষীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় কাড়াবাল্লা বড় চাতল যুব ফোরাম ও নিজ চাউরা দক্ষিণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দের হাতে পুরস্কারস্বরূপ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসসহ অনুষ্ঠানের অতিথিরা।

কানাইঘাটে মাদক কারবারির বাড়িতে পুলিশের হানা, ইয়াবাসহ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার

কানাইঘাটে মাদক কারবারির বাড়িতে পুলিশের হানা, ইয়াবাসহ ৩ লাখ টাকা উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ৩ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কথিত মাদক ব্যবসায়ী শরীফ উদ্দিন পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের নারানপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করে কানাইঘাট থানা পুলিশের একটি দল।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারাইনপুর গ্রামের তাহের আলীর ছেলে শরীফ উদ্দিনকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বসতঘরে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শরীফ উদ্দিন কৌশলে পালিয়ে যান। পরে তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ৩ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শরীফ উদ্দিনকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শরীফ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি ভারত থেকে অবৈধভাবে মাদক এনে সহযোগীদের মাধ্যমে স্থানীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, শরীফ উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি কানাইঘাট উপজেলাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি: কানাইঘাটে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা করলেন ইউএনও

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি: কানাইঘাটে দুই ফার্মেসিকে জরিমানা করলেন ইউএনও


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে বিভিন্ন ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া ফেরদৌস।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়।

জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দি আজাদ ফার্মেসীকে ২০ হাজার টাকা এবং হলি হেলথ নামক ফার্মেসীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযান প্রসঙ্গে ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি রয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এর আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার একই আইনে ‘মাদার কেয়ার’ নামক একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করেন।

উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধ এবং ভোক্তাদের নিরাপদ ওষুধ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।