Previous
Next

সর্বশেষ


Saturday, November 7

 চারণধ্বনির প্রকাশনা: এক বর্ণাঢ্য উৎসবের স্মরণীয় সন্ধ্যা

চারণধ্বনির প্রকাশনা: এক বর্ণাঢ্য উৎসবের স্মরণীয় সন্ধ্যা


মাহবুবুর রশিদ:

কানাইঘাটের মসজিদ, মক্তব ও ধর্মীয় শিক্ষার বাস্তবচিত্র তুলে ধরার এক অনন্য প্রয়াসের নাম ‘চারণধ্বনি’। ‘কানাইঘাট উপজেলার মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা: একটি সমীক্ষা’ শীর্ষক গবেষণা এবং এ-সংক্রান্ত লেখালেখির সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসব গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ সিলেট নগরীর মিরাবাজারস্থ হোটেল মিরা গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রকাশনা উৎসব কেবল একটি বই প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; বরং এটি ছিল কানাইঘাটের ধর্মীয় শিক্ষা, মসজিদ-মক্তব ও সামাজিক উন্নয়নচিন্তার এক বর্ণাঢ্য মিলনমেলা।

সংকলনটি আরও আগে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তা কিছুটা বিলম্বিত হয়। কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সাড়া জাগানো সেমিনার ও গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই অনেকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল-কবে প্রকাশিত হবে প্রতীক্ষিত সংকলন ‘চারণধ্বনি’? বিশেষ করে যাঁরা এই সংকলনে তাঁদের মূল্যবান লেখা জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকের মনেই সংশয় তৈরি হয়েছিল, আদৌ কি প্রকাশনার মুখ দেখবে এটি?

তবে চাইলেই হুট করে ‘চারণধ্বনি’র মতো একটি সমৃদ্ধ সংকলন প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থায়ন, পর্যাপ্ত সময়, মানসম্মত লেখা সংগ্রহ এবং সেসব লেখার যথাযথ যাচাই-বাছাই ও সম্পাদনা। সব মিলিয়ে এটি ছিল বেশ শ্রমসাধ্য একটি উদ্যোগ।

অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক এহসানুল হক জসীম একদিন আমাকে ফোন করে জানালেন, চলতি মাসের মধ্যেই ‘চারণধ্বনি’র কাজ সম্পন্ন করে প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। উল্লেখ্য, ‘চারণধ্বনি’ নামটিও তাঁর দেওয়া এবং পুরো সংকলনটির সম্পাদনার দায়িত্বও তিনি নিজেই পালন করেছেন। তাঁর দৃঢ় প্রত্যয়, আন্তরিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই অবশেষে আলোর মুখ দেখল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সংকলন।

অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ তাঁদের পরিকল্পনা অনুযায়ী অতিথিদের আমন্ত্রণ জানালেন। অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা। আমাদের দেশে সাধারণত এ ধরনের অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা বিলম্বে শুরু হওয়ার রেওয়াজ থাকলেও ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ঘড়ির কাঁটা মেনেই যথাসময়ে শুরু হলো অনুষ্ঠান। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো হলরুম কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেল।

অনুষ্ঠানে যাঁদের উপস্থিতি ছিল, তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপরিচিত, প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তাঁদের সম্মিলিত উপস্থিতি আয়োজনটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। অতিথিদের উপস্থিতির ব্যাপকতা ও মর্যাদা দেখে আয়োজকেরাও প্রথমে কিছুটা অভিভূত হয়ে পড়েন। মনে হচ্ছিল, উপস্থিত প্রত্যেকেই যেন প্রধান অতিথি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। যদিও অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট-জকিগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হাসান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এহসানুল হক জসীমের। কিন্তু অতিথি ও সুধীজনদের এমন প্রাণবন্ত উপস্থিতি দেখে তিনি যেন নিজেকে আর স্থির রাখতে পারলেন না। সভাপতির আসনে বসার পরিবর্তে নিজেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। তাঁর সাবলীল উপস্থাপনা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগীদের পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পুরো হলরুম ছিল দর্শক-শ্রোতায় পরিপূর্ণ। অথচ কোথাও কোনো হৈচৈ কিংবা বিশৃঙ্খলা ছিল না। সবাই যেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন কানাইঘাটের মসজিদ ও মক্তবের জরিপ কার্যক্রম, গবেষণার ফলাফল এবং ধর্মীয় শিক্ষার বাস্তব অবস্থা নিয়ে আলোচনা।

অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য করে তুলতে বক্তাদের বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে পরিবেশিত হয় চমৎকার তশ্না সংগীত। আলোচনা, কোরআন তিলাওয়াত, সংগীত ও অতিথিদের অভিব্যক্তি-সব মিলিয়ে পুরো আয়োজন পেয়েছিল এক ব্যতিক্রমী মাত্রা।

আমার জানামতে, সিলেট নগরীতে কানাইঘাটের কোনো সংগঠনের ব্যানারে এমন বর্ণাঢ্য, সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত প্রকাশনা অনুষ্ঠান এর আগে খুব একটা দেখা যায়নি। অনুষ্ঠানে অনেক বক্তাও বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, কানাইঘাটের এ যাবৎকালের সেরা অনুষ্ঠান ছিল ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি কালাম আজাদ তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “আমি সিলেটে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০টি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতি, প্রধান অতিথি কিংবা প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নিয়েছি। এর আগে এত চমৎকার ও জমজমাট কোনো প্রকাশনা অনুষ্ঠান আর দেখিনি। আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম একটি স্মরণীয় ও বিশেষ দিন।”

একজন অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ ও অসংখ্য প্রকাশনা অনুষ্ঠানের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির এমন অভিব্যক্তি নিঃসন্দেহে ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবের সার্থকতারই প্রমাণ বহন করে। অন্যান্য বক্তারাও অনুষ্ঠানটির আয়োজন, গবেষণার গুরুত্ব এবং সংকলনটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ছয় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানটির প্রায় চার ঘণ্টা ধরেই চলে বক্তাদের বক্তব্য। দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকতে থাকতে কারও কারও মধ্যে কিছুটা ক্লান্তি আসাটাই স্বাভাবিক। তবে আয়োজকদের ব্যবস্থাপনায় ছিল চমৎকার আয়োজন। উপস্থিত অতিথিদের জন্য ছিল পর্যাপ্ত আপ্যায়নের ব্যবস্থা। যাঁরা কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তাঁরা আপ্যায়ন শেষে আবারও ফিরে আসেন অনুষ্ঠানস্থলে।

একপর্যায়ে উপস্থিত সবার হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া হয় সুদৃশ্য প্যাকেটে মোড়ানো ‘চারণধ্বনি’। সংকলনটির প্রচ্ছদ, মুদ্রণ, গেটআপ ও সামগ্রিক উপস্থাপনা দেখে অতিথিদের মধ্যে আনন্দ ও সন্তুষ্টি লক্ষ করা যায়। আর আনন্দিত হওয়ারই কথা। কারণ, এটি নিছক কোনো সাহিত্য সংকলন নয়; এর ভেতরে সংরক্ষিত রয়েছে কানাইঘাট উপজেলার ৮৫৫টি মসজিদের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত। একটি উপজেলার এত বিপুলসংখ্যক মসজিদের তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গবেষণার আওতায় নিয়ে আসা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় কাজ। শুধু সিলেট নয়, বাংলাদেশের আর কোথাও মসজিদ-মক্তব নিয়ে এ ধরনের জরিপ কার্যক্রম হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। আমার মনে হয়, এ ক্ষেত্রে কানাইঘাটই প্রথম।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা রাতের খাবার গ্রহণ করেন। এরপর হাতে ‘চারণধ্বনি’ নিয়ে যে যাঁর গন্তব্যে ফিরে যান। এভাবেই শেষ হয় একটি স্মরণীয় সন্ধ্যা, একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান।

কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের এই প্রকাশনা উৎসব নিঃসন্দেহে কানাইঘাটের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। কারণ, ‘চারণধ্বনি’ কেবল একটি সংকলনের নাম নয়; এটি কানাইঘাটের মসজিদ-মক্তব, ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়কে তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস।

এ ধরনের গবেষণা ও প্রকাশনা শুধু বর্তমানকে জানার সুযোগ তৈরি করে না, ভবিষ্যতের জন্যও রেখে যায় মূল্যবান দলিল। তাই ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবের সাফল্যকে কেবল একটি দিনের আনন্দ-উৎসব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি সম্মিলিত উদ্যোগের সার্থক পরিণতি।

সত্যিই, সেদিন শুধু একটি সংকলনের প্রকাশনা হয়নি; সেদিন ধ্বনিত হয়েছিল জ্ঞান, গবেষণা ও সম্ভাবনার এক নতুন বার্তা। সেদিন কানাইঘাটের আকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল ‘চারণধ্বনি’র ধ্বনি।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক,কানাইঘাট প্রেসক্লাব।

লোভাছড়ায় টাস্কফোর্সের হানা, বিকল ১০ নৌকা

লোভাছড়ায় টাস্কফোর্সের হানা, বিকল ১০ নৌকা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া পাথর কোয়ারীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্স। অভিযানে পাথর পরিবহনে ব্যবহৃত পাথরবোঝাই ১০টি বারকি নৌকা বিকল করে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা এ অভিযান পরিচালনা করেন কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া ফেরদৌস।

অভিযান চলাকালে টাস্কফোর্সের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পরিবহনে নিয়োজিত শ্রমিকরা বারকি নৌকাগুলো রেখে পালিয়ে যায়। পরে পাথরবোঝাই ১০টি নৌকা বিকল করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী লোভাছড়া পাথর কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিজিবি ও থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ পাথর উত্তোলন কিংবা পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টাস্কফোর্সের এ অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা, স্থানীয় লোভাছড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্য এবং কানাইঘাট থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কানাইঘাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত, বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

কানাইঘাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত, বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সিলেটের কানাইঘাটে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায়, কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এসএম মাসুক, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলমাছ উদ্দিন চৌধুরী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার শাখাওয়াত হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি অংশ তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বন্দি করে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ৬ নভেম্বর মধ্যরাতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। এর মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বর জাতীয় ইতিহাসে বিপ্লব ও সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নেয়।

বক্তারা আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করে বহুদলীয় গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক মুক্তি, শান্তি-শৃঙ্খলা, সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

Thursday, November 5

কানাইঘাটে ‘শেখ হাসিনা ফিরবে’ স্লোগানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

কানাইঘাটে ‘শেখ হাসিনা ফিরবে’ স্লোগানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি বাজারে ‘শেখ হাসিনা ফিরবে’ স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল হঠাৎ মিছিল বের করে। মাত্র ৪ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যেই মিছিলটি শেষ হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হামজা হেলালের ভাতিজি ও ভাতিজার আকিকা অনুষ্ঠান উপলক্ষে গাছবাড়ি বাজারের আনারকলি কমিউনিটি সেন্টারে অতিথিদের সমাগম ঘটে। অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে গাছবাড়ি আইডিয়্যাল কলেজে অধ্যয়নরত কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী এবং তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন হঠাৎ করে বাজারে মিছিল বের করেন। এ সময় তারা ‘শেখ হাসিনা ফিরবে’ ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই,রাজপথ ছাড়িনাই ’ বলে  স্লোগান দেন। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মিছিলকারীরা।

এদিকে, ঝটিকা মিছিলের খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিছিলকারীদের খোঁজাখুঁজি শুরু করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল  ইসলাম বলেন, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায় নি। মিছিলে জড়িতের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ 

কানাইঘাটে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন, নিবন্ধন ২ হাজার ৬০ জনের

কানাইঘাটে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন, নিবন্ধন ২ হাজার ৬০ জনের


নিজস্ব প্রতিবেদক:

তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা এবং শিশু-কিশোরদের ক্রীড়ামুখী করতে সারা দেশের ন্যায় সিলেটের কানাইঘাটেও শুরু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে ভার্চুয়ালি দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে এ জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ উপলক্ষে কানাইঘাট উপজেলা কেন্দ্রীয় মিনি স্টেডিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বড় পর্দায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, ক্রীড়ামোদী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রতিযোগীরা। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ নামে একটি বৃহৎ জাতীয় ক্রীড়া কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে সুপ্ত প্রতিভার অধিকারী খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা হবে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা এবং তাদের মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে রাখাই এ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, কানাইঘাট উপজেলা থেকে ইতোমধ্যে ২ হাজার ৬০ জন প্রতিযোগী নিবন্ধন করেছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব প্রতিযোগিতা উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. স্বপ্নীল সৌরভ রায়, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী, থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী পনিরুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার শাখাওয়াত হোসেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন ও আলমাছ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শহিদুর রহমান, আব্দুল খালিক, দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি জালাল আহমদ জনি, উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক বদরুল আলম, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শফিক আহমদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি কয়সর রশিদ, পৌর শাখার সভাপতি হাজী জালাল আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ফারুক আহমদ, সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, উপজেলা জাসাসের সভাপতি সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাসেল চৌধুরী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মামুন রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ প্রতিযোগিতা মোট চারটি স্তরে অনুষ্ঠিত হবে। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। প্রতিযোগিতার ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, মার্শাল আর্ট, সাঁতার, ভলিবল ও টেবিল টেনিস।

প্রতিটি ইভেন্টের বিজয়ীদের জন্য থাকছে মেডেল, ট্রফি ও সনদপত্র। তবে এ আয়োজনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিতদের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) দীর্ঘমেয়াদি উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে সরকার।

তৃণমূলের হাজারো শিশু-কিশোরের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরিতে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

Wednesday, November 4

কানাইঘাটে আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক ব্যবসায়িক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত

কানাইঘাটে আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক ব্যবসায়িক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদক :

আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র কানাইঘাট শাখার উদ্যোগে বার্ষিক ব্যবসায়িক উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টায় কানাইঘাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কানাইঘাট ও গাছবাড়ী শাখার কর্মকর্তা, বিপুলসংখ্যক মাঠকর্মী, গ্রাহক ও সুধীজনের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নূরে আলম সিদ্দিকী অভি।

কানাইঘাট শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার বিজিত রাম দাসের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেলস ম্যানেজার প্রিয়ময় পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কোম্পানির ডিএমডি সাজেদুল বারি, সেলস ম্যানেজার আব্দুল মুমিন ভূঁইয়া, কানাইঘাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাতবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তায়্যিব শামীম, কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আফসার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন।

এছাড়াও বক্তব্য দেন কানাইঘাট পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, কোম্পানির গাছবাড়ী শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার খাদিজা আক্তার হেনা, সড়কের বাজার সাব-শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌস এবং কানাইঘাট শাখার ইউনিট ম্যানেজার জাহেদা বেগম প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরে আলম সিদ্দিকী অভি বলেন, আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকদের সর্বোত্তম সেবা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে। কোম্পানির কর্মকর্তা ও সারাদেশের মাঠকর্মীরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানুষের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন, গ্রাহকদের স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা এবং বীমা দাবির অর্থ নির্ধারিত সময়ে সরাসরি গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সেবার মান বজায় রাখছে।

তিনি আরও জানান, কানাইঘাট উপজেলায় কোম্পানির দুটি শাখা ও দুটি উপশাখার মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চার শতাধিক শিক্ষিত বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলায় পাঁচ হাজারের অধিক মানুষকে বীমার আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।

সভায় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, কানাইঘাটে আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সময়মতো বীমা দাবি পরিশোধ এবং গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের কারণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা বাড়ছে।

তাঁরা কানাইঘাটের প্রবাসীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে বীমার আওতায় নিয়ে আসতে কোম্পানির কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কোম্পানির কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন শাখা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

Monday, November 2

কানাইঘাটে প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষার অভিযোগ স্বজনদের বিরুদ্ধে

কানাইঘাটে প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষার অভিযোগ স্বজনদের বিরুদ্ধে


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাটে এক প্রসূতি নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লেও ঘটনার পেছনে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা একাধিকবার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে স্বজনদের সিদ্ধান্তহীনতা ও সিলেটে নিতে অনীহার কারণে সময়মতো উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, সম্প্রতি ফরহাদ সাগর নামে এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে তাঁর বোনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অপচিকিৎসার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ঘটনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সূত্রের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ওই প্রসূতি নারীর চিকিৎসা ও হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছিল।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রসবের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাঁকে সড়কের বাজার এলাকার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থার জটিলতা বিবেচনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সেখানে চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে তাঁকে কানাইঘাটের মা-মনি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বিবেচনায় দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় রোগীর সঙ্গে থাকা তাঁর ভাবি নাজমা বেগম সিলেটে নিতে রাজি হননি। বরং উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়ার পরিবর্তে রোগীকে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রোগী নিজেও সিলেটে নেওয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরাও রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত সিলেটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে। তবে সেখানেও রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে সিলেটে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে রোগীর স্বজন নাজমা বেগমের কাছ থেকে লিখিত সম্মতিপত্র বা রিস্ক বন্ড নেওয়া হয় ।

চিকিৎসা পরিভাষায় এ ধরনের লিখিত সম্মতিকে ‘ডিসচার্জ অ্যাগেইনস্ট মেডিকেল অ্যাডভাইস’ (DAMA) বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিরুদ্ধে রোগীকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার সম্মতিপত্র বলা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অমান্য করে রোগীকে অন্যত্র নেওয়া বা চিকিৎসা চালিয়ে না যাওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাধারণত এ ধরনের লিখিত নথি সংরক্ষণ করে থাকে।

পরবর্তীতে হাসপাতালে প্রসব কার্যক্রম চলাকালে ওই প্রসূতি নারী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে সিলেটে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পথিমধ্যে গোলাপগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে তাঁর মৃত্যু হয়।


কানাইঘাট সীমান্তে পিকআপের চাপায় কিশোর নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের

কানাইঘাট সীমান্তে পিকআপের চাপায় কিশোর নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী সোনাতনপুঞ্জি গ্রামে ভারতীয় চোরাই পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি টাটা পিকআপের চাপায় দিলদার হোসেন (১৭) নামে এক কিশোর নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ৩১ অক্টোবর এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ও লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বাউরভাগ ১ম খণ্ড গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন বাউরভাগ ১ম খণ্ড গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সেবুল আহমদ (২৪), একই গ্রামের ফয়াজ আহমদের ছেলে ও সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত ভারতীয় চোরাকারবারি হিসেবে এজাহারে উল্লেখিত মাসুম আহমদ (৩০) এবং জৈন্তাপুর উপজেলার গড়াটিল্লা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে পিকআপের মালিক ও চালক রামিম আহমদ (৩২)।

এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় মামলা নং-০২, তারিখ ০১/১১/২০২৬ ইং। প্ররোচনার মাধ্যমে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯৮, ৯৯ ও ১০৫ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, আসামি সেবুল আহমদ ও মাসুম আহমদ ভারতীয় চোরাকারবারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অপর আসামি রামিম আহমদ তাঁর মালিকানাধীন পিকআপ গাড়ি দিয়ে ভারতীয় চোরাই পণ্য পরিবহন করে থাকেন।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৩১ অক্টোবর শনিবার সকাল ৭টার দিকে সীমান্তবর্তী সোনাতনপুঞ্জি জলাসছড়া ব্রিজের উত্তর পাশে কাঁচা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন দিলদার হোসেন। এ সময় আসামি মাসুম আহমদের নির্দেশে সেবুল আহমদ চালক না হয়েও রামিম আহমদের পিকআপটি বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে ভারতীয় চোরাই মালামালের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় দিলদারকে চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসান, হারুন রশিদকে বিদায় সংবর্ধনা

রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসান, হারুন রশিদকে বিদায় সংবর্ধনা


নিজস্ব প্রতিবেদক: 

কানাইঘাটের ঐতিহ্যবাহী রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হারুন রশিদের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন আহমদ। সহকারী শিক্ষক সেলিম আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ।

সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের অভিভাবক নুরুল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুমিন রশিদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীম আহমদ, ফারুক মিয়া এবং শিক্ষার্থী ফাহমিদা জান্নাত, মনিসা জান্নাত প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বিদায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন রশিদ দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে তিনি বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি শুধু একজন আদর্শ শিক্ষকই ছিলেন না, শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন অভিভাবকতুল্য একজন মানুষ। দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রিয় শিক্ষক হিসেবে তিনি সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর অবদান ও স্মৃতি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিদায়ী সংবর্ধিত অতিথি হারুন রশিদ তাঁর বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েই তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সূচনা এবং এ প্রতিষ্ঠান থেকেই তিনি অবসরে যাচ্ছেন। দীর্ঘ ৩৮ বছরের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, সবসময় আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করার চেষ্টা করেছেন। বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার মানোন্নয়নে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কখনো সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাবা-মা অনেক স্বপ্ন ও আশা নিয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। তাই তাদের স্বপ্ন পূরণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে লেখাপড়া করতে হবে এবং সবসময় শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। কর্মজীবনের ইতি টানলেও তিনি সবসময় এ বিদ্যালয়ের পাশে থাকবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষক হারুন রশিদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নুরুল হক চাকরিজীবন শেষে অবসরে যাওয়ায় তাঁকেও বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


Sunday, November 1

আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে কানাইঘাট ক্রীড়া সংস্থার প্রস্তুতি সভা

আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে কানাইঘাট ক্রীড়া সংস্থার প্রস্তুতি সভা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

জেলা পর্যায়ের আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে কানাইঘাট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সুমাইয়া ফেরদৌসের সভাপতিত্বে এবং সংস্থার সদস্য সচিব শহিদুর রহমান শহিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, ক্রীড়া সংগঠক, ক্রীড়ানুরাগী এবং সাবেক ও বর্তমান ফুটবল খেলোয়াড়রা অংশ নেন।

সভায় ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে জেলা স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো ‘রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ টুর্নামেন্টে কানাইঘাট উপজেলা ফুটবল দল যাতে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য বয়ে আনতে পারে, সেজন্য একটি শক্তিশালী টিম গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে টিম গঠন করা হবে; এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটবে না।

প্রস্তুতি সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আমিনুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, কানাইঘাট সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, দিঘীরপাড় পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী, বড়চতুল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী এবং উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার ফয়ছল আহমদ।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ফুটবলার নজরুল ইসলাম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি আমানুর রশিদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংস্থার সদস্য শামীমুল এহসান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ও সাবেক কৃতি ফুটবলার কাওছার রশিদ, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং আজাদ ইলেভেন স্পোর্টিং ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শফিক আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাসেল চৌধুরী, এমসি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাফিজ আহমদ সুজন, উপজেলা জাসাসের সভাপতি ও ধারাভাষ্যকার আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, কানাইঘাট উপজেলা ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এ এইচ বাবর এবং বাফুফে অনুমোদিত রেফারি সাবেক ফুটবলার জাকারিয়া সহ বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের সদস্যরা।

কানাইঘাট সীমান্তে চোরাই পণ্যবাহী পিকআপচাপায় কিশোর নিহত

কানাইঘাট সীমান্তে চোরাই পণ্যবাহী পিকআপচাপায় কিশোর নিহত


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে ভারতীয় চোরাই পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে দিলদার হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সোনারতনপুঞ্জি কালভার্টের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দিলদার হোসেন ভাউরভাগ প্রথম খণ্ড গ্রামের দিনমজুর নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে দিলদার সোনারতনপুঞ্জি কালভার্টের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় চোরাই পণ্য লোড করার জন্য সেখানে থাকা একটি নম্বরবিহীন টাটা পিকআপ অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছিলেন চোরাকারবারীদের সহযোগী সেবুল আহমদ (২৪)। বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি ঘুরানোর সময় দাঁড়িয়ে থাকা দিলদারকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে মাটিতে পড়ে গেলে পিকআপের চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়।

গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় দিলদারকে রাস্তায় ফেলে রেখে চালক সেবুল আহমদ, গাড়ির মূল মালিক রামিম উদ্দিন এবং চোরাকারবারি দলের সদস্য মাসুম আহমদ একটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিলদারকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া নম্বরবিহীন পিকআপটি জব্দ করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক পিকআপটি জব্দ করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং কিশোর দিলদারের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গবেষণা সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে গুণিজনদের মিলনমেলা

গবেষণা সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে গুণিজনদের মিলনমেলা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

মসজিদকেন্দ্রিক ধর্মীয় শিক্ষার প্রাথমিক স্তম্ভ মক্তব। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিশুদের কোরআন শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পাঠ দিয়ে আসছে এই প্রতিষ্ঠান। অথচ এই শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জীবনমান ও আর্থিক বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই রয়ে গেছে উপেক্ষিত। কানাইঘাট উপজেলার মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে তাঁদের আর্থিক দুরবস্থার চিত্র।

‘কানাইঘাট উপজেলার মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা: একটি সমীক্ষা’ শীর্ষক গবেষণা এবং গবেষণাসহ বিভিন্ন লেখার সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। গতকাল শনিবার রাতে সিলেট নগরের একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ প্রকাশনা উৎসবে কানাইঘাটের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা, ধর্ম, সমাজসেবা, রাজনীতি ও প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যেন বসেছিল গুণিজনদের মিলনমেলা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং ধর্মীয় অনুশাসন টিকিয়ে রাখতে প্রথাগত মক্তব শিক্ষাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। একই সঙ্গে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সমাজের সম্মানজনক বেতন এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সমাজ থেকে মক্তব শিক্ষা প্রায় বিলুপ্তির পথে। এর ফলে সামগ্রিক নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তুলতে মক্তব শিক্ষার প্রসারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। 

গতকাল শনিবার রাতে সিলেট নগরের একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলনকক্ষে কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘কানাইঘাট উপজেলার মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা: একটি সমীক্ষা’ শীর্ষক গবেষণা এবং গবেষণাসহ বিভিন্ন লেখার সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

মসজিদের ইমাম ও খতিবদের সম্মানজনক সম্মানী এবং সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায় এমপি আবুল হাসানের বক্তব্যে। তিনি বলেন,  সমাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও অনেক ইমাম অত্যন্ত অল্প বেতনে জীবনযাপন করছেন। গবেষণায় কোনো কোনো ইমামের মাসিক বেতন সাড়ে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া গেছে, যা বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বৈষম্যের কারণে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিরা এ পেশায় আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। তাই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানজনক বেতন ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।

পিএইচডি গবেষক ও সাংবাদিক এহসানুল হক জসীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ আজহারুল ইসলাম উসামা। মরমি কবি ইব্রাহিম তশনার ‘তুমি গগনের শশী’ গানটি পরিবেশন করেন আলী হায়দার। এ সময় গবেষণার ফলাফল বড় পর্দায় উপস্থাপন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে কানাইঘাটের বিশিষ্টজন, শিক্ষাবিদ, আলেম, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও লেখকদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলার সৃষ্টি হয়। বক্তব্যে জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক বলেন, ফুরকানিয়া মক্তব নিয়ে গবেষণাগ্রন্থটি ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

ডা. আবুল কাহের বলেন, মসজিদভিত্তিক মক্তবে শিশুদের যে শিক্ষা দেওয়া হয়, বাসাবাড়িতে গৃহশিক্ষক রেখে তা পুরোপুরি পাওয়া যায় না। এ কারণে সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় বাড়ছে।

জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক বলেন, ফুরকানিয়া মক্তব নিয়ে গবেষণাগ্রন্থটি ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, মক্তব থেকেই সামগ্রিক শিক্ষার সূচনা হয়। কিন্তু আমরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে গেছি। ‘চারণধ্বনি’তে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ইমামদের মূল্যায়নে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল বলেন, এ আয়োজন কানাইঘাটের গুণীজনদের একত্র করেছে। এ জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যে পরিমাণ বেতন পান, তা অত্যন্ত কম। অথচ আমরা হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে চা পান করতেও অনেক টাকা খরচ করি। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানজনক বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি সন্তানদের নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষায় মক্তব চালু রাখতে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।

কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ইমামদের বেতন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এগিয়ে আসতে হবে।

দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইফতেখার আলম বলেন, সমাজে সত্যিকার পরিবর্তন আনতে হলে ঘরে থাকা নারীদেরও এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

ফুলবাড়ী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসেন বলেন, কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন শেকড়ের সন্ধানে কাজ করছে। মসজিদভিত্তিক শিক্ষা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষার ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মৃতপ্রায় এ শিক্ষাব্যবস্থাকে আবারও এগিয়ে নিতে হবে।

শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা পাঠানটুলার উপাধ্যক্ষ মাওলানা ফয়জুল্লাহ বাহার বলেন, মসজিদ ইসলামী সভ্যতার বুনিয়াদি কেন্দ্র। মসজিদকেন্দ্রিক মক্তব ইসলামী শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র এবং মূল্যবোধ চর্চার প্রাথমিক ভিত্তি। মক্তব ব্যবস্থা চালু থাকলে সমাজ আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হবে। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে মক্তব সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে হবে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ. ফ. ম. জাকারিয়া বলেন, মক্তব শিক্ষা প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থা। ব্রিটিশরা মানুষকে মক্তব থেকে বিমুখ করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছিল। এখন সম্মিলিত উদ্যোগে মক্তবকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে এবং শিশুদের মক্তবমুখী করতে হবে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফজলে এলাহি ফয়সাল বলেন, এ অঞ্চলে ইসলামী সংস্কৃতি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। ইমামরা আমাদের নেতা, কিন্তু তাঁদের আমরা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছি কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। তাঁদের বেতনের ক্ষেত্রে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। ইমামদের সম্মানী নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করতে হবে। মক্তব শিক্ষা ছাড়া ঈমানি সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না।

কবি কালাম আজাদ বলেন, মক্তব শিক্ষাই মানুষ গঠনের মূল উৎস। মক্তব শিক্ষা হারিয়ে গেলে ইসলামী শিক্ষার ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে। এ উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

প্রফেসর ডা. শিব্বির আহমদ শিবলি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। যাঁদের এ বিষয়ে কাজ করার কথা ছিল, তাঁরা যথাযথভাবে কাজ করছেন না, যা দুঃখজনক। মক্তবের মাধ্যমেই ইসলামী শিক্ষার পুনর্জাগরণ ঘটেছিল।

সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, মক্তব শিক্ষার ত্রুটিগুলো দূর করে তাওহিদভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করতে হবে। শিশুদের সঠিকভাবে পবিত্র কোরআন শিক্ষা দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ও অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ আব্দুল মালিক বলেন, গবেষণা করতে গিয়ে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতনের যে চিত্র পাওয়া গেছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। সামান্য বেতনে তাঁরা কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। বিষয়টি নিয়ে সমাজের সবাইকে ভাবতে হবে।

লেখকদের পক্ষ থেকে বক্তব্যে শিক্ষক জালাল উদ্দিন বলেন, এ অনুষ্ঠানে গুণীজনদের মিলনমেলা বসেছে। মক্তব শিক্ষাই ছিল মূল শিক্ষা। কিন্তু বর্তমানে সেই শিক্ষা হারিয়ে যাওয়ায় সমাজে অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিলেট পাইলট স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সিলেট জেলার সহসভাপতি মাওলানা নূর আহমদ কাসেমী, সৌদি প্রবাসীদের পক্ষ থেকে কমিউনিটি নেতা ওয়েস আহমদ, দক্ষিণ বাণিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন, কানাইঘাট উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরওয়ার ফারুকী, উপজেলা জামায়াতের আমির কামাল উদ্দিন, লেখক মাওলানা মাহবুব সিরাজী, রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা শামসুল ইসলাম, জেলা বারের জ্যেষ্ঠ সদস্য অ্যাডভোকেট আখলাকুল আম্বিয়া, মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আসাদ উদ্দিন, শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ এখলাছে এলাহি, শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, কানাইঘাট সমিতি সিলেট মহানগরের সেক্রেটারি জাকারিয়া এবং ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার আবু বকর প্রমুখ।





Thursday, October 29

কানাইঘাটে নজরুল বর্ষ উদযাপন, বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

কানাইঘাটে নজরুল বর্ষ উদযাপন, বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাটে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরুষ্কার ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়।

নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসের সভাপতিত্বে ও মাষ্টার জাহিদ হোসেন রাহিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন কানাইঘাট সরকারী কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, কানাইঘাট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তারবিন্দু রায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী মজুমদার, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কানাইঘাট মনসুরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, কানাইঘাট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপালী বিশ^াস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিসা আনজুম হলি, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, উপজেলা জাসাসের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ এবং নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা। উপজেলা পর্যায়ে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন কানাইঘাটের বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসার কয়েক শত শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী ১২৯জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে সম্মাননা স্বারক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়াও যারা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সুযোগ পেয়েছেন তাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষকবৃন্দ ও সুধীজন এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বক্তারা বলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সম্মান জানিয়ে তার শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বছরকে নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যদিয়ে আমাদের জাতীয় কবিকে যেমন সম্মানীত করা হয়েছে, পাশাপাশি নজরুল বর্ষে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে তার জীবন কর্মের উপর বিভিন্ন প্রতিযোগীতার আয়োজন করায় শিক্ষার্থীরা তাকে ধারণ করে আগামী দিনে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবেন বলে বক্তারা প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।