Previous
Next

সর্বশেষ


Thursday, June 18

মহানবীর (সা.) জীবন থেকে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

মহানবীর (সা.) জীবন থেকে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

 


মানব ইতিহাসের সবচেয়ে চমৎকার ভারসাম্যের উদাহরণ হলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি ছিলেন আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা, তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ নেতা। মানবীয় কোনো দুর্বলতা ছাড়াই তিনি ছিলেন একজন অনুকরণীয় মানুষ।

মহানবীর (সা.) সীরাত বা জীবনী পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, মহানবীর জীবন-ভারসাম্য শুধু কোনো তাত্ত্বিক কথা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি বাস্তব জীবনপদ্ধতি। পবিত্র কোরআনের সূরা আহযাবের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মাঝে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবনীতে এই ভারসাম্য ও মধ্যপন্থার অনবদ্য প্রতিফলন ঘটেছে। বিশৃঙ্খল এই পৃথিবীতে কীভাবে নিজের জীবনে স্থিতি ও ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, তার জীবন থেকে এমন ৭টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো:

১. ইবাদত ও জাগতিক দায়িত্বের সমন্বয়

মহানবী (সা.) সবসময় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। ইবাদতের পাশাপাশি তিনি শিখিয়েছেন ধর্ম মানুষের জন্য সহজ, কঠিন কিছু নয়। একবার তিনজন সাহাবী সারাজীবন রোজা রাখা, সারা রাত জেগে নামাজ পড়া এবং বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিলে নবীজী (সা.) তাদের এই ভুল ধারণা সংশোধন করে দেন।

বুখারী শরীফের একটি হাদিসে তিনি বলেন, আমি রোজা রাখি আবার তা ভঙ্গও করি, নামাজ পড়ি এবং ঘুমাাই, আর নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে আমার এই সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।

২. মানুষের অধিকার রক্ষা

জীবনে ভারসাম্য আনার জন্য যার যা প্রাপ্য বা অধিকার, তা সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি। হজরত সালমান ফারসি (রা.) যখন দেখলেন যে হজরত আবু দারদা (রা.) অতিরিক্ত ইবাদত করতে গিয়ে নিজের শরীর ও পরিবারের প্রতি অবহেলা করছেন, তখন তিনি তাকে বাধা দেন। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) সালমান (রা.)-এর এই বুদ্ধিমত্তাকে সমর্থন করে বলেন, তোমার শরীরের যেমন অধিকার আছে, তেমনি তোমার পরিবার এবং অতিথিদেরও তোমার ওপর অধিকার রয়েছে।

৩. দয়া ও কঠোরতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য

রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন দয়ার মূর্ত প্রতীক, তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অবিচল। ব্যক্তিগত কোনো অপমানের জন্য তিনি কখনো প্রতিশোধ নেননি। কিন্তু যখনই কোনো দুর্বল মানুষের অধিকার খর্ব করা হতো কিংবা আল্লাহর নির্ধারিত সীমার অবমাননা হতো, তখন তিনি কঠোর অবস্থান নিতেন।

তার জীবন থেকে শেখা যায় যে, দয়া করার অর্থ সত্যের সাথে আপস করা নয়, আবার দৃঢ় থাকার অর্থ নিষ্ঠুরতা নয়।

৪. কোমলতার সাথে ভুল সংশোধন

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা দেওয়ার মূল পদ্ধতিই ছিল মানুষকে তিরস্কার না করে সংশোধন করে দেওয়া। একবার এক বেদুইন মসজিদে নববীর ভেতরেই প্রস্রাব করে দিলে সাহাবীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কিন্তু নবীজী (সা.) তাদের শান্ত করেন। তিনি অপরাধীর আত্মসম্মান বজায় রেখে তাকে সঠিক নিয়মটি বুঝিয়ে দেন।

বর্তমান সময়ে সন্তান লালন-পালন বা শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও শাস্তি নয় বরং স্নেহের সাথে বোঝানোই হলো নববী আদর্শ।

৫. আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে শোক প্রকাশ

ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক আবেগ-অনুভূতিকে দমন করতে বলে না, বরং তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। নিজের শিশুপুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুর পর মহানবী (সা.)-এর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়েছিল।

তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, প্রিয়জনের বিদায়ে চোখ অশ্রুসিক্ত হতে পারে এবং হৃদয় ব্যথিত হতে পারে, তবে তা যেন ঈমানের গণ্ডি পেরিয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি কোনো ধরনের ক্ষোভ বা হতাশার রূপ না নেয়।

৬. পারিবারিক জীবনে ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতা

পারিবারিক জীবনে মহানবী (সা.) ঘরের মানুষদের থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ ছিলেন না। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সবসময় ঘরের কাজে স্ত্রীদের সাহায্য করতেন এবং সাংসারিক সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতেন। গভীর ভালোবাসার পাশাপাশি পরিবারের সবার মাঝে শতভাগ সমতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতেন তিনি।

৭. কৌশলগত নেতৃত্বে পরিকল্পনা ও আল্লাহর ওপর ভরসা

মহানবী (সা.) ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী মানুষ, কিন্তু তিনি কখনো হঠকারিতা দেখাননি। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় তিনি সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল ও পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী বেছে নিয়েছিলেন, দক্ষ পথপ্রদর্শক ভাড়া করেছিলেন এবং শত্রুকে ফাঁকি দিতে ভিন্ন পথ ব্যবহার করেছিলেন। নিজের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিখুঁত পরিকল্পনা সম্পন্ন করার পরই তিনি গুহার ভেতর সাহাবীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।

অর্থাৎ, নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সঠিক পরিকল্পনার সাথে আল্লাহর ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুলের মেলবন্ধনই হলো প্রকৃত ভারসাম্য।

শেষ কথা

আজকের আধুনিক যুগে যে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের জীবনে শান্তি ও স্থিতি খুঁজছে, তাদের জন্য মহানবী (সা.)-এর জীবনই একমাত্র বাস্তবমুখী পথপ্রদর্শক।

সমাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়েও কীভাবে একজন খাঁটি বিশ্বাসী হওয়া যায়, অহংকারী না হয়েও কীভাবে একজন শক্তিশালী নেতা হওয়া যায় এবং অন্যের দ্বারা প্রতারিত না হয়েও কীভাবে দয়ালু হওয়া যায়—তার অনন্য এক রূপরেখা পাওয়া যায় মহানবীর এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনদর্শনে।

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

 


সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৫৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার নয় জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮৯ হাজার ৮০৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৩৯ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৭৩৩ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪ হাজার ১৮৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫০৩ জন।

আখের রস না কি ডাবের পানি, গরমে কোনটি বেশি উপকারী?

আখের রস না কি ডাবের পানি, গরমে কোনটি বেশি উপকারী?

 


যখন গরম চরমে ওঠে, তখন আমরা বেশিরভাগই ঠান্ডা ও সতেজকারক কিছুর দিকে হাত বাড়াই। গ্রীষ্মের দুটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়- আখের রস এবং ডাবের পানি তাপমাত্রা বাড়লেই সর্বত্র পাওয়া যায়। উভয়ই শরীরকে আর্দ্র রাখে, উভয়ই শীতল অনুভূতি দেয় এবং উভয়ই প্যাকেটজাত চিনিযুক্ত পানীয়ের চেয়ে অনেক ভালো। কিন্তু আপনি যদি শরীরকে আর্দ্র রাখা, হজম বা সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য একটু বেশি সচেতনভাবে কোনো একটি বেছে নিতে চান, তবে এই দুটির মধ্যে পার্থক্যটি বোঝা জরুরি হয়ে পড়ে। যদিও আপাতদৃষ্টিতে দুটিকে একই রকম মনে হতে পারে, তবে এদের পুষ্টিগুণ এবং শরীরে প্রভাব ফেলার ধরন ভিন্ন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, গ্রীষ্মের জন্য আপনার কোন পানীয়টি বেছে নেওয়া উচিত-

আর্দ্রতা: কোনটি ভালোভাবে পূরণ করে?

‘স্পোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা অনুসারে, ডাবের পানিতে পটাসিয়াম এবং সোডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট রয়েছে যা ঘামের মাধ্যমে হারানো তরলের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে, ফলে এটি শরীরকে পুনরায় আর্দ্র করার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক স্পোর্টস ড্রিংকের সমতুল্য। এই কারণেই প্রচণ্ড গরমে বা শারীরিক পরিশ্রমের পরে ডাবের পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আখের রস সতেজকারক হলেও, এটি মূলত প্রাকৃতিক চিনির একটি উৎস এবং এটি একই রকম ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য প্রদান করে না।

চিনির পরিমাণ: যা জানা জরুরি

EAS জার্নাল অফ হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, আখের রস প্রাকৃতিক মিষ্টি হওয়া সত্ত্বেও, এর উচ্চ সুক্রোজ উপাদানের কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা লক্ষণীয়ভাবে বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই আখের রস পান করলে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি পাওয়া যায়, কিন্তু এটি নিয়মিত পানের জন্য আদর্শ নাও হতে পারে।

ডাবের পানিতেও প্রাকৃতিক চিনি থাকে, তবে তা কম পরিমাণে, যার ফলে এটি নিয়মিত পানের জন্য একটি হালকা এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শীতল অনুভূতি: কোনটি বেশি হালকা?

উভয় পানীয়কেই শীতল বলে মনে করা হয়, তবে ডাবের পানি সাধারণত পেটের জন্য বেশি সহজপাচ্য। এটি হালকা অনুভূত হয়, বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে এবং এটি পেট ভারি করার সম্ভাবনা কম। আখের রস কখনও কখনও কিছুটা ঘন মনে হতে পারে, বিশেষ করে যদি বেশি পরিমাণে বা ভরা পেটে পান করা হয়।

পুষ্টিগুণ: শুধু সতেজতার চেয়েও বেশি

ডাবের পানি ইলেক্ট্রোলাইট, অল্প পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে এবং শরীরের সামগ্রিক জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এটি সুপারিশ করা হয়।

আখের রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উদ্ভিদ যৌগ থাকে। অ্যানালস অফ ফাইটোমেডিসিন-এ প্রকাশিত ২০২৪ সালের একটি পর্যালোচনা অনুসারে, আখের রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত ফেনোলিক যৌগ রয়েছে, কিন্তু পুষ্টির দৃষ্টিকোণ থেকে এটি মূলত একটি চিনি-ভিত্তিক পানীয়।

ডাবের পানি বনাম আখের রস: গ্রীষ্মের জন্য কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

দৈনিক শরীরকে আর্দ্র রাখার জন্য ডাবের পানি আদর্শ, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বা ঘামের পরে।

আখের রস মাঝে মাঝে শক্তি বাড়ানোর জন্য বেশি কার্যকর, বিশেষ করে যদি আপনি ক্লান্ত বোধ করেন বা তাৎক্ষণিক সতেজতার প্রয়োজন হয়।

আপনি যদি স্বাস্থ্যকর গ্রীষ্মকালীন পানীয় খুঁজে থাকেন, তবে ডাবের পানিই সেরা পছন্দ। এটি কার্যকরভাবে শরীরকে আর্দ্র রাখে, শরীরের জন্য হালকা এবং নিয়মিত পান করা যায়। আখের রস সতেজকারক এবং উপভোগ্য হলেও, এর উচ্চ চিনির পরিমাণের কারণে পরিমিত পরিমাণে পান করাই ভালো।

অতিরিক্ত ডিম খেলে শরীরে কী ঘটে?

অতিরিক্ত ডিম খেলে শরীরে কী ঘটে?

 


সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে অন্যতম হলো ডিম, যা সহজেই প্রতিদিনের খাবারে রাখা যায়। এতে রয়েছে উচ্চ মানের প্রোটিন এবং ভিটামিন এ, ডি, ও বি১২-এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, সঙ্গে সেলেনিয়াম ও জিঙ্কের মতো খনিজ পদার্থ। নিয়মিত ডিম খেলে তা পেশী গঠনে সহায়তা করে, পেট ভরার অনুভূতি বাড়ায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে। এত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও খুব বেশি ডিম খাওয়া সবসময় ভালো নয়। যেকোনো খাবারের মতো ডিমও অতিরিক্ত খেলে হজমে অস্বস্তি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পরিমাণ ও রান্নার পদ্ধতির দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

অতিরিক্ত ডিম কীভাবে হজমে প্রভাব ফেলে?

ডিমে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর প্রোটিন থাকে। বেশি ডিম খেলে তা হজমতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের শরীর ফল, শাক-সবজি এবং শস্যদানা থেকে পর্যাপ্ত আঁশ ছাড়া অতিরিক্ত প্রোটিন হজম করলে তা পেট ফাঁপা, গ্যাস, অ্যাসিডিটি এবং খাওয়ার পর ভারী অনুভূতির মতো সমস্যার কারণ হতে পারে।

কারও কারও ক্ষেত্রে ডিমে হালকা অ্যালার্জি থাকতে পারে। এর ফলে বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা বা অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ডিম খাওয়ার পর যদি আপনি এই সমস্যাগুলো লক্ষ্য করেন, তবে ডিম খাওয়া কমিয়ে দিলে বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে উপকার হতে পারে।

অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যা

* অতিরিক্ত ডিম খেলে পেট ফাঁপা এবং পেটে অস্বস্তি হতে পারে, বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি সংবেদনশীল তাদের ক্ষেত্রে।

* কারও কারও ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব বা ত্বকে হালকা জ্বালাপোড়ার মতো অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

* প্রোটিনের জন্য ডিমের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করলে খাদ্যতালিকায় পুষ্টির বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে।

* যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগ আছে, তাদের ডিম খাওয়া সীমিত করার প্রয়োজন হতে পারে।

* বেশি পরিমাণে মাখন, পনির বা প্রক্রিয়াজাত মাংস দিয়ে ডিম রান্না করলে খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

দিনে কয়টি ডিম খাওয়া নিরাপদ

দিনে কয়টি ডিম খাবেন তা আপনার বয়স, জীবনযাপনের ধরন, রোগের ইতিহাস এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। পুষ্টিবিদদর মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা সুষম খাদ্যের অংশ হিসাবে সপ্তাহে প্রায় তিন থেকে চারবার নিরাপদে দিনে একটি করে ডিম খেতে পারেন।

শিশুরা সাধারণত প্রতিদিন একটি ডিম খেতে পারে, কারণ এটি প্রোটিন এবং পুষ্টি সরবরাহ করে যা সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে। যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। প্রোটিন, ফল, শাক-সবজি এবং শস্যদানা মিশ্রিত একটি সুষম খাদ্যই সার্বিক সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।

ডিম রান্নার স্বাস্থ্যকর উপায় বেছে নিন

আপনি কীভাবে ডিম রান্না করছেন, সেটিও একটি বড় বিষয়। খুব বেশি মাখন, ক্রিম বা চিজ ব্যবহার করলে ডিম ভারী হয়ে যেতে পারে এবং হজম করা কঠিন হতে পারে। এর পরিবর্তে অল্প তেলে ডিম সেদ্ধ, পোচ বা হালকা করে স্ক্র্যাম্বল করলে তা হালকা এবং স্বাস্থ্যকর থাকে।

প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নেবে: আইনমন্ত্রী

প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নেবে: আইনমন্ত্রী


 ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেন মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ কিংবা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হতো। কিন্তু এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি কোনো একদিনের চিন্তার ফল নয়; বরং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন।

বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বলে সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে।

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর-সুবিধা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার লুটপাট ও অর্থপাচারনির্ভর অর্থনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। প্রস্তাবিত বাজেট সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আইনমন্ত্রী বলেন, এ বাজেট দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা এতে তুলে ধরা হয়েছে।

বিমানের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বা সিন্ডিকেট জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা

বিমানের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বা সিন্ডিকেট জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা


 কোনো এজেন্সি বিমানের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য আদায় করলে বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এসব কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। আজ এর প্রশ্ন-উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, অভ্যন্তরীণ বিমানে টিকিট বুকিংয়ে দিন ও সময়কে কেন্দ্র করে ভাড়া ওঠা নামা করার কারণ হলো আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের মতো অভ্যন্তরীণ রুটেও এয়ারলাইন্সগুলোর ভাড়া সময় এবং চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, যা বিশ্বব্যাপী ‘রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি নামে পরিচিত। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অভ্যন্তরীণ রুটে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া এই পদ্ধতিতেই নির্ধারিত হয়ে থাকে।

মন্ত্রী বলেন, ভাড়া ওঠা নামা করার আরো কারণ হলো বাংলাদেশ বিমান তার নিজস্ব বাণিজ্যিক স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, একই রুটে অন্যান্য উড়োজাহাজ কোম্পানির প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের নিয়ামক যেমন- জ্বালানি মূল্য, পরিচালনা ব্যয়, এয়ারক্রাফটের ধরন, দিন, সময়, পিক, অফ-পিক, মৌসুম, যাত্রী চাহিদা, আসন প্রাপ্যতা, অগ্রীম বুকিং, যাত্রীসেবার মান ইত্যাদি বিবেচনায় টিকিটের মূল্য/ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে। ফলে অধিক চাহিদা সম্পন্ন সময়ে ভাড়া বৃদ্ধি পায় এবং কম চাহিদাসম্পন্ন সময়ে তুলনামূলকভাবে ভাড়া হ্রাস পায়।

তিনি বলেন, ভাড়া ওঠা নামা করার ক্ষেত্রে আরো উল্লেখযোগ্য কারণ হলো মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং এভিয়েশন শিল্পের বৈশ্বিক নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের সরাসরি ফিক্সড বা নির্ধারিত ভাড়া আরোপ করা না হলেও, অভ্যন্তরীণ রুটে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স হিসেবে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া যাতে সাধারণ যাত্রীদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে না যায় এবং অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী অন্যান্য উড়োজাহাজ কোম্পানির। তুলনায় টিকিটের মূল্য/ভাড়া যুক্তিযুক্ত সাশ্রয়ী পর্যায়ে থাকে সে বিষয়ে বিমান সর্বদা সচেষ্ট থাকে।

বিমান মন্ত্রী বলেন, এয়ার টিকিটের মূল্যের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি রোধ ও যাত্রীদের স্বার্থ সংরক্ষণে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭ সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাছাড়া টিকিট সিন্ডিকেট ও প্রতারণা রুখতে টিকিটের গায়ে আবশ্যিকভাবে মূল্য, এজেন্সির নাম ও লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো এজেন্সি অস্বাভাবিক মূল্য আদায় করলে বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিমান টিকিটের দাম যেন যাত্রীদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নিয়মিত ট্রাভেল এজেন্সি ও এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও আলোচনা চলমান রেখেছে।

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক

 


গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় পানি পান করে ২ শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টায় জেলার কালিয়াকৈর উপজেলাধীন চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত ড্রেসম্যান গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটেছে।

হাসপাতালে অবস্থানরত শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় প্রবেশ করে শ্রমিকরা। কাজ শুরুর কিছুক্ষণ পর শ্রমিকরা কারখানার পানি পান করেন। এর কিছুক্ষণ পর কারখানার চতুর্থ তলায় কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকেই মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, বমিসহ নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। ধীরে ধীরে কারখানার অন্যান্য ফ্লোরের শ্রমিকরাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী শ্রমিক দেখা গেছে।

কারখানার শ্রমিক জাহিদ, মাজেদুল, তন্নি আক্তার জানান, প্রতিনিয়ত তারা কারখানার সাপ্লাই থেকে পানি পান করেন। আজও সেখান থেকেই পানি পান করার কিছুক্ষণ পর সবার মধ্যেই এমন অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। ২ শতাধিক শ্রমিক মাথা ঘুরে ফ্লোরে পড়ে যায়, অনেকেই বমি করেন, অনেকেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সবাইকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। অনেককেই কারখানার ভেতরেও চিকিৎসা দেওয়া হয়।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় বহু শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে জায়গা হচ্ছে না। একের পর এক রোগী আসছে। আমরা যথাক্রমে তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি।