Previous
Next

সর্বশেষ


Sunday, June 7

হাসপাতালের শয্যায় জনপদের উন্নয়নপুরুষ, স্মরণে তাঁর অবদান

হাসপাতালের শয্যায় জনপদের উন্নয়নপুরুষ, স্মরণে তাঁর অবদান

 

রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের এক মুরব্বীর সাথে এমপি থাকাকালীন সময়ে কুশল বিনিময় করছেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী

এহসানুল হক জসীম::

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জীবন, কর্ম ও অবদান এই অঞ্চল তথা সমগ্র সিলেটের মানুষের কাছে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি একাধারে একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দূরদর্শী শিক্ষাবিদ ও শিক্ষানুরাগী, অনন্য সমাজসংস্কারক ও উচ্চমাপের আলেমে দ্বীন। দীর্ঘকাল ধরে সিলেটের ইসলামী রাজনীতি ও জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের অবহেলিত জনপদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামগ্রিক উন্নয়নে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। সিলেটে মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষার প্রসারে তাঁর হাত ধরে যে বিপ্লব সাধিত হয়েছে, তা এককথায় অনস্বীকার্য। সেই মানুষটি আজ অনেক দিন থেকে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন। 

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন::

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী কানাইঘাটের এক কীর্তিমান সন্তান। সম্প্রতি ইবনে সিনা হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গিয়ে তাঁর সুযোগ্য সন্তান নাজমুস সাকিব চৌধুরীর সাথে আলাপকালে তাঁর ব্যক্তিজীবনের কিছু প্রসঙ্গ উঠে আসে। সাকিব জানায়, তাঁর বাবার বর্তমান বয়স ৮২ বছর। সেই হিসেবে সাবেক এই এমপির জন্ম ১৯৪৪ সালে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কিছু রেকর্ড অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর। ১৯৪৪ বা ১৯৪৭—কালের যে প্রহরেই হোক না কেন, সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলানা আবদুল হক চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত আলেম ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর মাতাও ছিলেন এক মহীয়সী নারী—যিনি ৭ নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের ঘড়াইগ্রামের প্রখ্যাত আলেম সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল মরহুম মাওলানা জিল্লুর রহমানের আপন বোন। শৈশব থেকেই প্রখর মেধার অধিকারী ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী এক গভীর ধর্মীয় ও নৈতিক আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন। তাঁর শিক্ষাজীবন গড়ে উঠেছিল ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার এক অপূর্ব সমন্বয়ে।

তিনি ঐতিহ্যবাহী সিলেট সরকারী আলিয়া মাদ্রাসার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও খ্যাতিমান কৃতি ছাত্র। এই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ১৯৫৯ সালে দাখিল, ১৯৬৩ সালে আলিম, ১৯৬৫ সালে ফাজিল এবং ১৯৬৭ সালে কৃতিত্বের সাথে কামিল পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন এবং একই কলেজে বাংলা অনার্সেও অধ্যয়ন করেন। শিক্ষাজীবনের এক পর্যায়ে তিনি গাছবাড়ী জামিউল উলূম কামিল মাদ্রাসায় আলিম শ্রেণিতে এক বছর পড়াশোনা করেছিলেন, পরে অবশ্য পুনরায় সিলেট আলিয়া মাদ্রাসায় ফিরে যান। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষে নিজেকে সমাজসেবা ও দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে বিলিয়ে দেন। মূলত ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর ভেতর নেতৃত্ব ও সমাজভাবনার স্ফুরণ ঘটেছিল।

ষাট ও সত্তরের দশকে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন সিলেট অঞ্চলের ছাত্ররাজনীতির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তিনি তৎকালীন ইসলামী ছাত্রসংঘের সিলেট জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আশির দশকে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং নিজের সততা, কর্মদক্ষতা ও বাগ্মিতার জোরে সাধারণ মানুষের চোখের মণি হয়ে ওঠেন। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন; বিভিন্ন মেয়াদে দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অঞ্চল পরিচালকের মতো গুরুদায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সাথে পালন করেন। অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হওয়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি নিজ সংগঠনের আদর্শ ও গণমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সক্রিয় ছিলেন।

সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সম্মানজনক ভোট পান। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ব্যালটের লড়াইয়ে তিনি ভোটে বিজয়ী হন এবং রেডিও-টেলিভিশনের প্রাথমিক ফলাফলে তাঁর বিজয় ঘোষিতও হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, তৎকালীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রতিপক্ষের নানামুখী কৌশলের কারণে একটি কেন্দ্রের স্থগিত ভোট পুনর্নির্বাচনের নামে তাঁর নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

অবশেষে, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে তিনি সিলেট-৫ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬—এই পাঁচ বছর ছিল সিলেট-৫ আসনের ইতিহাসের এক অবিসংবাদিত ‘স্বর্ণযুগ’। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হারিছ চৌধুরী এবং সংসদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী—এই দুই ব্যক্তিত্ব নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করায় দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-বঞ্চিত এই জনপদে এক অভূতপূর্ব উন্নয়ন জোয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

এলাকার উন্নয়নে বৈপ্লবিক রূপান্তর:

২০০১ সালের পূর্বে সিলেট-৫ আসনের যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। বিশেষ করে কানাইঘাট উপজেলা ছিল প্রায় বিচ্ছিন্ন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। সিলেট শহর থেকে কানাইঘাট যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ঐতিহাসিক ‘বোরহানউদ্দিন রাস্তা’ তখনো ছিল কাঁচা ও চলাচলের অযোগ্য। উপজেলার সিংহভাগ মানুষই বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সে সময় একটি স্লোগান ছিল—“আর কোনো দাবি নাই, বিদ্যুৎসহ রাস্তা (বোরহানউদ্দিন) চাই।”

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী এই অবহেলিত জনপদের চেহারা বদলে দিতে কোমর বেঁধে নামেন। যোগাযোগ ব্যবস্থায় তিনি যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন, তা এই অঞ্চলের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই রকম করে আর কে কাজ করতে পারবেন এলাকার জন্য-- সেটা সময় বলে দেবে। তবে বিগত প্রায় চার মাস ধরে বর্তমান সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান যেভাবে জনকল্যাণে তৎপর রয়েছেন, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক; আশা করি তিনি তাঁর পুরো মেয়াদে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। যাহোক, ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর উন্নয়ন ছিল এক দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিপ্রস্তর। তাঁর উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে:

যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তিনি অনন্য ভূমিকা রাখেন। গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাঘাট পাকাকরণ, কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে তিনি যাতায়াত ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটান। কানাইঘাটবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ‘বোরহানউদ্দিন রাস্তা’কে তিনিই প্রথম পিচঢালা পথে রূপান্তর করে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করেন। সুরমা নদীর দুই পাড়ের মানুষের মেলবন্ধনের জন্য কানাইঘাট সুরমা সেতুর নির্মাণকাজ তাঁর সময়েই শুরু হয়। অবশ্য এই সেতু বাস্তবায়নে হারিছ চৌধুরীর অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। সোজাকথায়, হারিছ চৌধুরীর কারণে এই ব্রীজ হয়েছে। 

সুরইঘাট অঞ্চলের সংযোগ স্থাপনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন সাবেক এই এমপি। কানাইঘাটের সাথে অত্যন্ত দুর্গম ও প্রতিকূল সুরইঘাট অঞ্চলের বর্তমান চমৎকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীরই দূরদর্শী পরিকল্পনার ফসল। এই রাস্তাটি নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠেছিলেন। ওই অঞ্চলে তাঁর ভোটের হিসাব কেমন ছিল—তা কখনো তাঁর উন্নয়ন ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করেনি।

জকিগঞ্জের উন্নয়নেও বৈষম্যহীনভাবে ভূমিকা রাখেন। জকিগঞ্জের শেওলা রাস্তা পাকাকরণসহ কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের প্রতিটি প্রান্তে তাঁর ছোঁয়া আজও স্পষ্ট। স্থানীয়রা অকপটে স্বীকার করেন—তিনি মাত্র ৫ বছরে যে কাজ করেছেন, তা সাধারণ সময়ে ৩০ বছরেও সম্ভব হতো না। তাঁর বিদায়ের পর এবং বর্তমান এমপির দায়িত্ব নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মাঝখানের দীর্ঘ ২০ বছর উন্নয়ন গতি থমকে থাকায় এলাকাটি যে পিছিয়ে পড়েছিল, তা আজ পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ।

বিদ্যুতায়নে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয়। গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সময়েই কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছায়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

তিনি ক্ষমতার দাপট দেখাননি, বরং একজন বিনয়ী সেবকের মতো মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে গেছেন। দুর্নীতিমুক্ত ও নিষ্কলঙ্ক রাজনৈতিক জীবনের তিনি এক উজ্জ্বল বাতিঘর।

শিক্ষাক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান:

রাজনীতি ও সংসদীয় জীবনের বাইরে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জীবনের সবচেয়ে স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী অবদান রয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে। তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন, শিক্ষার আলো ছাড়া কোনো অনগ্রসর সমাজকে বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। এই বিশ্বাস থেকে তিনি সিলেট শহর ও নিজ নির্বাচনী এলাকায় অসংখ্য মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী মিরাবাজার শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির মজবুত ভিত্তি দাঁড় করান। এছাড়া সিলেট নগরীর পাঠানটুলা শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা (যেখানে তিনি দীর্ঘদিন রেক্টর ছিলেন), মেজরটিলার আল-আমীন জামেয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জালালাবাদ ইন্টারন্যাশনাল আলিম মাদ্রাসা এবং সোবহানীঘাটস্থ জালালাবাদ কলেজ প্রতিষ্ঠা ও সুচারু পরিচালনায় তিনি প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জমি দান করে তিনি নিজ গ্রাম তালবাড়ীতে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন মাদ্রাসা ক্যাম্পাস স্থাপন করেন। সুরমা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে পরবর্তীতে মাদ্রাসাটি বোরহানউদ্দিন রাস্তার পাশে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান অত্যন্ত চমৎকার, কারণ তিনি সর্বদা মানসম্মত ও আধুনিক দ্বীনি শিক্ষার ওপর জোর দিতেন। এ ছাড়াও সিলেটে ‘আনজুমানে খেদমতে কুরআন’ এবং ‘দি সিলেট ইসলামিক সোসাইটি’র মতো সমাজ ও দ্বীনি খেদমতধর্মী সংগঠন প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রদূত।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসায়িক উদ্যোগ:

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী কেবল কিতাবি আলেম বা রাজনীতিক নন, তিনি ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তাও। সিলেটের আধুনিক ও অন্যতম বৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স ‘আল-হামরা শপিং সিটি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। এমন বহু বাণিজ্যিক স্থাপনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি শত শত যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রেখেছেন। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন।  

প্রাজ্ঞ মুফাসসির ও বক্তা হিসেবে:

ইলমি ও আধ্যাত্মিক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি অত্যন্ত উচ্চমানের একজন আলেম ও মুফাসসিরে কুরআন। সমাজ ও রাজনীতির শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি যখনই কুরআনের তাফসির বা ওয়াজ মাহফিলে দাঁড়াতেন, মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনত। তাঁর বয়ানে সস্তা কোনো সুর বা কৃত্রিমতা ছিল না, কিন্তু ছিল জ্ঞানের গভীরতা, প্রজ্ঞা ও ইলমের অনন্য ছোঁয়া। অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় তিনি গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করতেন। যারা একবার তাঁর বয়ান শুনেছেন, তারা অনুধাবন করতে পেরেছেন যে তিনি কত বড় মাপের তত্ত্বজ্ঞানী আলেম ছিলেন। তাঁর বয়ান শুনে পথের দিশা পেয়েছে, উপকৃত হয়েছে বহু মানুষ। 

ব্যক্তিত্ব ও অবদানের মূল্যায়ন:

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী একজন অমায়িক, সদালাপী এবং ঋষিতুল্য দূরদর্শী নেতা। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সজ্জন ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক পরমতসহিষ্ণুতা এবং উদারতার কারণে বিরোধী শিবিরের মানুষও তাঁকে অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা জানাতেন। ক্ষমতার লোভ-লালসা ও সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তিনি নিজেকে একজন খাঁটি ভদ্রলোক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ফলশ্রুতিতে তাঁর শয্যাপাশে যেমন ছুটে গিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, তেমনি বাণিজ্য মন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদিরও তাঁকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছেন। আবার হুছামুদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী তাঁকে দেখতে যান। এর আগে হাফিজ আহমদ মজুমদারও তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। 

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী যেমন সৎ, তেমনই পরহেজগার। শত ব্যস্ততার মাঝেও নামাজের ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে তিনি জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। অনেকবার তাঁর সাথে একই গাড়িতে সফরের সৌভাগ্য হয়েছে, দেখেছি নামাজের প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ। তিনি একজন আপাদমস্তক সত্যবাদী মানুষ; সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য কখনো কাউকে মিথ্যা আশ্বাস দেননি। সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দে যেখানে দুর্নীতির ছোঁয়া থাকে, সেখানে তিনি ছিলেন শতভাগ স্বচ্ছ ও কলঙ্কমুক্ত। 

স্মৃতি সাগরের ঢেউ,কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতি:

ব্যক্তিগতভাবে এই মানুষটির সাথে কাটানো কিছু স্মৃতি আজ মনের জানালায় বারবার উঁকি দিচ্ছে। তাঁর কাছাকাছি গেলে কখনো মনে হতো না যে তিনি একজন সংসদ সদস্য বা সাবেক সংসদ সদস্য; বরং একজন অত্যন্ত স্নেহশীল, বিনয়ী ও প্রাজ্ঞ মুরুব্বির অভিভাবকত্ব অনুভব করতাম। মানুষের সুখ-দুঃখে, বিশেষ করে অসুস্থ মানুষের শয্যাপাশে এবং জানাজায় শরিক হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো ক্লান্তি ছিল না।

স্মৃতিপটে ভেসে উঠছে সেই দিনটির কথা, যেদিন আমার শ্রদ্ধেয় পিতার জানাজা ছিল। পূর্বনির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও তিনি সব ফেলে আমার বাবার জানাজায় শরিক হয়েছিলেন। সেদিন আমি ছিলাম ইমাম, আর এত বড় একজন নেতা ও সাবেক এই এমপি ছিলেন আমার পেছনের মুসল্লি! শুধু তা-ই নয়, সেদিন বিকেলে তিনি নিজে ফোন করে আমাদের খোঁজ নিয়েছিলেন, সান্ত্বনা ও গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন।

আরেকটি দিনের কথা মনে পড়ে; আমাদের অঞ্চলের একটি গ্রামে এমপি হিসেবে তাঁর রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষ করে তিনি মাগরিবের নামাজ আদায় করলেন। আমি বিনীতভাবে আরজ করলাম, “আমন্ত্রিত মেহমান হিসেবে চলুন আমাদের বাড়িতে একটু চা খেয়ে যান।” তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে অত্যন্ত নিরহংকার চিত্তে আমাদের সাধারণ ড্রয়িংরুমে এসে বসলেন এবং আপ্যায়ন গ্রহণ করলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন প্রথম বর্ষে ভর্তি হই, তখন তাঁর এমপি মেয়াদের শেষ দিক। একদিন হঠাৎ ফোন করে বললেন, “আমার ফ্ল্যাটে চলে এসো, তোমাকে আজ সংসদ ভবনে নিয়ে যাব, অধিবেশন দেখবে।” একজন তরুণের জন্য সেটি কী যে আনন্দের ও গৌরবের ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাঁর দেওয়া পাস নিয়েই আমার জীবনের প্রথম সংসদ ভবনে প্রবেশ। সাংবাদিকতা পেশায় এসে পেশাগত কারণে সংসদে যেতে হয় এবং আজকের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেও সংসদে যাওয়া হবে, কিন্তু তাঁর হাত ধরে সেই প্রথম সংসদ দেখাটাই আমাকে পরবর্তী জীবনে ‘সংসদ বিট’ বা পার্লামেন্টারি জার্নালিজমে কাজ করার গভীর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

জীবন সায়াহ্নে:

গত কিছুদিন ধরে তাঁর গুরুতর অসুস্থতার খবর আমাদের সবাইকে গভীরভাবে মর্মাহত করে। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ তাঁর জন্য দোয়া করছেন। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি যেন তাঁর মহান রবের ডাকে এখনই সাড়া না দেন। আমরা চাই, তিনি আরো কিছুদিন বাঁচুন। আমরা চাই, জনপদের প্রিয় মানুষটি ফিরে আসুক আবার তাঁর প্রিয় জনপদে। আল্লাহ চাইলে কী না পারেন। এই অন্তিম অবস্থা থেকেও আল্লাহ তাঁকে সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিতে পারেন। জানিনা কী হবে। তবুও বলতে হয় ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী আজ জীবন সায়াহ্নে। 

ঈদের আগের দিন, ২৭ মে তারিখে, তাঁকে দেখতে যাই সিলেট নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে। আছেন আইসিইউর বেডে। অক্সিজেন সাপোর্টও তাঁকে দেওয়া হচ্ছে। এর আগের কয়েক দিন থেকে ওই দিন তিনি তুলনামূলকভাবে ভালো ছিলেন। তাকালেন আমাদের দিকে, চিনতে পারলেন। কিছু বলতে চাইলেন, পারলেন না। হাত নাড়াতে চাইলেন, কিন্তু সেই শক্তি যে এখন আর তাঁর নেই। অপলক দৃষ্টিতে সাবেক এই এমপির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। আহা! কী মানুষ আজ কেমন অবস্থায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন।  

তিনি এখন পর্যন্ত ৮২ বছরের বর্ণাঢ্য, পুণ্যময় ও কর্মমুখর জীবনের অধিকারী এক মানুষ। তিনি আজ আমাদের মাঝে থেকেও চলাফেরায় নেই। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের অবহেলিত জনপদকে আধুনিকতায় রূপ দেওয়ার পেছনে তাঁর যে অক্লান্ত শ্রম, সততা ও ভালোবাসা—তা তাঁকে এই অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় চিরকাল বাঁচিয়ে রাখবে। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের ইতিহাসের পাতায় প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর নাম একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে খোদাই করা থাকবে।




Saturday, June 6

শায়খে লক্ষিপুরীর সুস্থতা কামনায় কানাইঘাট মাদ্রাসায় বিশেষ দোয়া মাহফিল

শায়খে লক্ষিপুরীর সুস্থতা কামনায় কানাইঘাট মাদ্রাসায় বিশেষ দোয়া মাহফিল


নিজস্ব প্রদিবেদক : 

জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম দারুল হাদীস কানাইঘাটের মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত মাওলানা মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস (শায়খে লক্ষিপুরী) এর দ্রুত সুস্থতা কামনায় খতমে ইউনুস ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুর থেকে যোহরের নামাজ পর্যন্ত মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শায়খে লক্ষিপুরীর পূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে ব্যাপকভাবে খতমে ইউনুস পাঠ করা হয়।

যোহরের নামাজের পর জামেয়ার নায়েবে মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস আল্লামা আলিমুদ্দীন শায়খে দুর্লভপুরী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আবেগঘন পরিবেশে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে শায়খে লক্ষিপুরীর আশু রোগমুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও খেদমতময় দীর্ঘ জীবন কামনা করা হয়।

দোয়া মাহফিল শেষে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত শাগরিদ, মুহিব্বীন, মুতাআল্লিকীন এবং ভক্ত-অনুরাগীদের প্রতি শায়খে লক্ষিপুরীর সুস্থতার জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, শায়খে লক্ষিপুরী দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনি শিক্ষা, দাওয়াত ও হাদীসের খেদমতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। তাঁর অসুস্থতার খবরে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ছাত্র, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বসাধারণের কাছে সমাদৃত এক বুজুর্গ আলেম

সর্বসাধারণের কাছে সমাদৃত এক বুজুর্গ আলেম


ইলিয়াস মশহুদ:

যুগে যুগে আল্লাহতায়ালা এমন কিছু মহান ব্যক্তিকে পৃথিবীতে পাঠান, যারা আল্লাহর দ্বীনের অনুসারীদের শিরক, বিদআত ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে সরল-সঠিক ও নির্ভেজাল পথের নির্দেশনা প্রদান করেন। এ সব মনীষীর মধ্যে আলেমকুল শিরোমনি, দেশ ও ইসলামের তরে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব, আধ্যাত্মিক জগতের ধ্রুবতারা মাওলানা মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস লক্ষীপুরী অন্যতম একজন। তিনি শায়খে লক্ষীপুরী নামে খ্যাত।

মাওলানা মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস লক্ষীপুরী নববি চরিত্রের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। পূর্ববর্তী আলেম-উলামাদের পদাঙ্ক অনুসারী। সাহাবি আদর্শের উজ্জ্বল নমুনা। সরল-সঠিক পথের গগনচুম্বী মিনারা। দৃঢ় সংকল্প আর হিম্মতের ওপর পর্বতসম অটল। ভ্রষ্টতার আঁধারে আচ্ছন্ন সমাজে প্রদীপ্ত মশাল। তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির মূর্ত প্রতীক। তিনি আলেম সমাজের উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। বৃহত্তর সিলেটের সর্বসাধারণের কাছে সমাদৃত আস্থাভাজন এক প্রবাদতুল্য বুজুর্গ। তিনি একাধারে একজন মাদ্রাসা পরিচালক, শায়খুল হাদিস ও বহুমাত্রিক দ্বীনি খেদমত আঞ্জাম দানকারী এবং আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.)-এর সার্থক উত্তরসূরি।

শায়খুল ইসলাম সাইয়্যিদ হোসাইন আহমদ মাদানি (রহ.)-এর চারণভূমি, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বসতভূমি সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামে ১৯২৪ সালে তিনি জন্মগহণ করেন। পিতা মাওলানা ইদ্রিস আহমদ (রহ.) ও মা নুরুন্নেসা খানম। জন্মের পর বাবা-মা আদর করে তার নাম রাখেন মুহাম্মদ।

পিতা মাওলানা ইদ্রিস (রহ.) একজন ধীমান আলেম ছিলেন। ঐতিহ্যবাহী কানাইঘাট মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। বিচক্ষণ এই আলেম ১৯২২ সালের কানাইঘাটে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি এই মাদ্রাসার মুহতামিম ছিলেন এবং যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.) সহ বহু জ্ঞানী-গুণীর শিক্ষক ছিলেন তিনি।

তার বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন পিতা মাওলানা ইদ্রিস (রহ.) ইন্তেকাল করেন। পিতৃহারা সন্তান মায়ের স্নেহ মমতায় লালিত-পালিত হন ও তারই তত্বাবধানে প্রাথমিক লেখাপড়ার হাতেখড়ি। এরপর গ্রামের সাবাহি মক্তব (সকালের মক্তব) আরবি শিক্ষাগ্রহণ করে বায়মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে লেখাপড়া করেন। এরপর মাওলানা মুফতি ফয়জুল হক (রহ.) তাকে লালারচক রহমানিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। শিশুকালে পিতৃহারা হওয়ার কারণে একটু দেরিতে তিনি মাদ্রাসায় যান। এখানে তিনি শরহে জামী (আলিয়া সুওম) পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে লেখাপড়া করেন। ১৯৫৩ সালে আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.) কানাইঘাট মাদ্রাসায় চলে এলে ১৯৫৭ সালে তিনিও চলে আসেন কানাইঘাট দারুল উলুম মাদ্রাসায়। ভর্তি হন মুখতাসারুল মাআনি জামাতে। মুখতাসার থেকে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত অত্যন্ত সুনাম ও সুখ্যাতির সঙ্গে লেখাপড়া করে ১৯৬২ সালে তাকমিল ফিল হাদিস পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অধিকার করে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। তাছাড়া প্রতিটি পরীক্ষায় তিনি প্রথম বিভাগে ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জন করেন।

সাধারণত যারা ছাত্রজীবনে লেখাপড়ায় মেধাবী ও ভালো হন, সুন্নতের ওপর যত্নশীল ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী হন, সেসব ছাত্রকে শিক্ষকরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের উস্তাদ হিসেবে নিয়োগ দিতে খুবই আগ্রহী হন। মাওলানা লক্ষীপুরীর বেলায় তাই হয়েছে। তিনি দাওরায়ে হাদিস সমাপনের পর আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.) তাকে কানাইঘাট দারুল উলুমে শিক্ষক হিসেবে দেন। কানাইঘাট মাদ্রাসাই তার ছাত্রজীবনের শেষ অধ্যায় এবং এখানেই কর্মজীবনের সূচনা। যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস স্বীয় উস্তাদদের সঙ্গে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে পাঁচ বছর শিক্ষকতা করেন এখানে। এরপর আল্লামা বায়মপুরী (রহ.) তাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুশাহিদিয়া খাগাইল মাদ্রাসায় সদরুল মুদাররিস হিসেবে পাঠিয়ে দেন। এখানে তিনি অত্যন্ত সুনাম ও সুখ্যাতির সঙ্গে তিন বছর শিক্ষকতা করেন। ১৯৭০ সালে আল্লামা বায়মপুরী (রহ.) ইন্তেকাল করলে আল্লামা মুজাম্মিল (রহ.)-এর নির্দেশে আবারও তিনি কানাইঘাট মাদ্রাসায় চলে আসেন। ১৯৭০ সাল থেকে সুদীর্ঘ অর্ধশতাব্দী তিনি দরসে নেজামীর গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কিতাবাদিসহ হাদিসের বিশুদ্ধ কিতাব সহিহ বোখারি দীর্ঘ চারদশক ধরে অত্যন্ত সুনাম ও সুখ্যাতির সঙ্গে পাঠদান করে আসছেন। তার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের সোনালি ফসল হিসেবে বহু কৃতী শাগরিদ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে দ্বীনের বহুমুখী খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।

আল্লামা বায়মপুরী (রহ.) লক্ষীপুরী হুজুরকে জ্ঞান-বুদ্ধি, ইলম, আমল ও সুন্দর ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত স্নেহ করতেন। এমনকি দূর সম্পর্কে ভাগনে হওয়া সত্বেও নিজের মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে নতুনভাবে আবারও আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন করেন। ১৩৭০ বাংলা সনে আল্লামা বায়মপুরী (রহ.)-এর বড় মেয়ে রায়হানা বেগমের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার ঘরে কোনো সন্তানাদি না হওয়ায় চড়িপাড়ায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে এক কন্যাসন্তান জন্মের পরই মৃত্যুবরণ করেন। পারিবারিক জীবনে তার আর কোনো সন্তান না থাকলেও হাজার হাজার রুহানি সন্তান আছে দেশে-বিদেশে।

তিনি মাদ্রাসায় শিক্ষাদানের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছেন। তিনি দীর্ঘদিন কানাইঘাট মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিমের দায়িত্ব পালনের পর ২০০৭ সালে তার ওপর মুহতামিমের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত তিনি সব মত-পথের ঊর্ধ্বে উঠে মাদ্রাসার উস্তাদ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। কানাইঘাট মাদ্রাসা ছাড়াও লালারচক রহমানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া সিলেটের আলেম-উলামাদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম আজাদ দ্বীনি এদারায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মুশাহিদিয়া কেরাত প্রশিক্ষণ শিক্ষা বোর্ডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

তাজকিয়ায়ে নফস তথা আত্মশুদ্ধির জন্য তিনি আপন উস্তাদ ও শ্বশুর শায়খুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.)-এর হাতে বায়াত গ্রহণ করে ইজাজত লাভ করেন। আধ্যাত্মিকতার জগতে আল্লামা বায়মপুরী (রহ.) ছিলেন খুব উচ্চমাপের সাধক। তিনি হাতেগোনা কয়েকজনকে খেলাফত প্রদান করেন, এর মধ্যে মাওলানা লক্ষীপুরী অন্যতম। বর্তমানে তিনিই তার একমাত্র জীবিত খলিফা।

তিনি সুদীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে মাদ্রাসায় পাঠদান ও পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশে ওয়াজ-নসিহত ও দাওয়াতের খেদমত করে যাচ্ছেন। তিনি কোরআন-হাদিসের আলোকে ইখলাস ও দরদের সঙ্গে বয়ান করেন। বৃহত্তর সিলেটের প্রায় মসজিদ-মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে বয়ান পেশ করেন। তার বয়ানে উপকৃত হন সর্বসাধারণ। তিনি নব্বইয়ের দশক থেকে কানাইঘাট বাজার মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার বয়ানে বসলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়, সুন্নতের অনুসরণের প্রতি মনে আগ্রহ জন্মে, আমল ও ইবাদত-বন্দেগির প্রতি মনে ঝোঁক সৃষ্টি হয়। পরকালের শাস্তির ভয়ে দুচোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়।

মাওলানা লক্ষীপুরী এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার বায়তুল্লাহ শরিফ জিয়ারতের সৌভাগ্য লাভ করেছেন। তিনি শ্বেতী (ধবল) রোগে আক্রান্ত। এই রোগ নিয়ে সাধারণের মনে অনেক কুসংস্কার আর ভ্রান্তি আছে। তবে এটি কোনো ছোঁয়াচে বা অভিশপ্ত রোগ নয়। ১৯৮২ সালে পবিত্র হজপালনে গিয়ে আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে দোয়া করেন ‘হে আল্লাহ! তুমি সাদা রঙ কালো রঙ সব রঙের সৃষ্টিকর্তা, হয়তো তুমি আমার সারা শরীর কালো করে দাও, না হয় সাদা করে দাও।’ আল্লাহতায়ালা তার প্রিয় বান্দার দোয়া কবুল করলেন। তার শরীর সাদা রঙে পরিবর্তন হয়ে যায়। হজ থেকে আসার পর তাকে কেউ চিনতেই পারেননি। পূর্বের লক্ষীপুরী আর এখনকার লক্ষীপুরীর মধ্যে অনেক ব্যবধান। এখন আর তিনি শ্বেতী রোগী নন। মাওলানা লক্ষীপুরী ৮৫ বছর বয়সে ব্রেইন স্ট্রোক করেন। ডানপাশ অবশ হয়ে যায়, আল্লাহর রহমতে এখন তিনি কারও সাহায্য ছাড়া অনায়াসেই হাঁটতে পারেন। এগুলো কোনো অতিরঞ্জিত ঘটনা নয়। আসলে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের অলৌকিক ঘটনাবলি সত্য।

মাওলানা মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস লক্ষীপুরীকে দেখলে হৃদয়ে আলাদা প্রশান্তি আসে, তিনি একজন আল্লাহর অলি। তার খেদমতে গেলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। আল্লাহর অলি ও ইলমে দ্বীনের মহান এই খাদেমের বয়স এখন ৯৯ বছর। বর্তমানে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, তিনি যেন তাকে সুস্থতার সঙ্গে নেক ও বরকতময় হায়াত দান করেন-আমিন।

লেখক : সহ-সম্পাদক,কালান্তর ম্যাগাজিন


Thursday, June 4

কানাইঘাটে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আব্দুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

কানাইঘাটে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আব্দুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়


নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মূল্যায়নে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় ক্যাটাগরিতে কানাইঘাট উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে আব্দুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিদ্যালয়টিকে এ গৌরবজনক সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

গত সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদি হাসান শাকিল এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ মিফতাহুজ্জামান-এর যৌথ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার খবরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের আবহ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ অর্জনের পেছনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাহেদ হোসাইন রাহীন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষ, নৈতিক, যুগোপযোগী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এই স্বীকৃতি আমাদের সামনে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

তিনি বিদ্যালয়ের এ অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Wednesday, June 3

কানাইঘাট সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আজাদ উদ্দিনের ইন্তেকাল, শোকের ছায়া

কানাইঘাট সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আজাদ উদ্দিনের ইন্তেকাল, শোকের ছায়া


নিজস্ব প্রতিবেদক :

কানাইঘাট সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য আজাদ উদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বুধবার (৩ জুন) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা অঙ্গন, ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক পরিমণ্ডলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আজাদ উদ্দিন ছিলেন একজন ক্রীড়ানুরাগী, মানবিক ও সদাহাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন ধরে কানাইঘাট সরকারি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর আন্তরিকতা, কর্মনিষ্ঠা ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের কাছে ছিল অনুকরণীয়।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি সিলেট ফিটনেস ক্লাবের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। অনেকেই স্মৃতিচারণ করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের বুরহানপুর গ্রামে।

মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় সিলেটের আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে এবং দ্বিতীয় জানাজা বিকেল ২টায় বারহাল ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।


কানাইঘাটে ম,দ্যপ অবস্থায় চিৎকার-চেঁচামেচি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ গ্রে,ফতার ৪

কানাইঘাটে ম,দ্যপ অবস্থায় চিৎকার-চেঁচামেচি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ গ্রে,ফতার ৪


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাট থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত দুই আসামিসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন রাত আনুমানিক ১১টায় এসআই সোহাগ চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্সসহ কানাইঘাট থানা এলাকায় রাত্রিকালীন টহল ডিউটি পালনকালে কানাইঘাট পৌরসভার বিষ্ণুপুর বড় মসজিদ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার পশ্চিমে ভানু লাল দাশের বাড়ির সামনে পাকা সড়কে দুই ব্যক্তির উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি ও হৈ-হুল্লোড় লক্ষ্য করেন।

এ সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে তারা মদ্যপানের বিষয়টি স্বীকার করলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন লখাইরগ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে জাহেদ আহমদ (২৬) এবং মহেষপুর গ্রামের রসেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে শিশির রঞ্জন দাস। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে পৃথক অভিযানে এসআই দুর্গা কুমার দাশ ও এসআই সোহাগ চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে নন-জিআর ১৭/২৬ মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামিকে আটক করেন। তারা হলেন উত্তর দলইমাটি গ্রামের হাজী জোয়াদ আলীর ছেলে নূর আহমদ (৩২) এবং একই এলাকার মৃত হাজী জোয়াদ আলীর মেয়ে সিতারা বেগম (৩৫)।

গ্রেফতারকৃত চার আসামিকে বুধবার (৩ জুন) যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কানাইঘাট থানা পুলিশ।

কানাইঘাট-জকিগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন আশার আলো, সমস্যা সমাধানে বিশেষ মতবিনিময় সভা

কানাইঘাট-জকিগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন আশার আলো, সমস্যা সমাধানে বিশেষ মতবিনিময় সভা


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

সিলেটের সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ। সুরমা-কুশিয়ারার পলিবিধৌত এই জনপদের লাখো মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে সবচেয়ে জরুরী যে খাতটি দীর্ঘদিন ধরে একরকম ধুঁকছিল, সেই খাত হলো স্বাস্থ্যসেবা। দূরত্বের কারণে হুট করে সিলেট শহরে এসে চিকিৎসা নেয়া এখানকার সাধারণ মানুষের জন্য যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি সময়সাপেক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কানাইঘাট এবং জকিগঞ্জ উপজেলায় দুটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে ৫০ শয্যায় উন্নীত করণের জন্য অবকাঠামো তৈরি করা হলেও অনুমোদন না পাওয়ায় এখনও ৩১ শয্যায় সেবাদান পরিচালনা করা হচ্ছে হাসপাতাল দুটিতে। রয়েছে অপ্রতুল জনবলসহ নানা সংকটও। একইভাবে গ্রামীণ সাধারণ মানুষের ঘরের কাছের চিকিৎসার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর চলছেও ধুঁকে ধুঁকে। 

তবে আশার কথা হলো, স্থবির হয়ে থাকা এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে তার সমাধানের উপায় ও করণীয় সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করতে আয়োজন করা হয়েছে মতবিনিময় সভার। সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান-এর বিশেষ আহবানে গত সোমবার সকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরীর কার্যালয়ে বসেছিল এক বিশেষ মতবিনিময় সভা। উদ্দেশ্য কাগজে-কলমে সমস্যার তালিকা করা নয়, বরং মাঠপর্যায়ের চিকিৎসাসেবার চিত্র বদলে দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে এই সভায় বসেছিলেন সিলেটের চিকিৎসা খাতের নীতিনির্ধারকেরা। 

সভায় কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের শূন্যপদ, জনবল সংকট, কিংবা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ যেভাবে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তা উঠে আসে আলোচনায়। একই সাথে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং গ্রামীণ জনপদের মানুষের ভোগান্তি কমাতে সভায় বেশ কিছু জরুরি বিষয় নিয়েও বিশদ আলোচনা করা হয়।

দুই উপজেলার হাসপাতালে শুধু ভবন নয়, অনুমোদিত ৫০ শয্যায় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয় এই সভা থেকে। এছাড়া চিকিৎসকের শূন্যপদ পূরণসহ জনবল সংকট নিরসন, স্বাস্থ্য উপকরণ ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও তাগিদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রোগীদের জরুরি যাতায়াতের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা, লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি এড়াতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া এবং গ্রামীণ জনগণের জন্য ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ সমূহের সেবা গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আখলাক আহমদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত (শংকর)।

পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ মুনতাসির আলী, সিলেট জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা মুখলিছুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

দুই উপজেলার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, ‘এই সভায় উঠে আসা স্বাস্থ্যসেবার সমস্যাগুলো সমাধান দ্রæততার সাথে করা গেলে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। সুরমা-কুশিয়ারাপাড়ের এই দুই উপজেলার মানুষ ঘরে বসেই পাবেন আধুনিক চিকিৎসাসেবা।’

এ বিষয়ে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, ‘আমার নির্বাচনী আসনের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অন্যতম একটি স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আমি শুরু থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পরিদর্শন করেছি। তখন আমার কাছে হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। তাৎক্ষণিক দুই হাসপাতালেই কয়েকজন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা দুটির সার্বিক স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে তা সমাধানের উপায় ও করণীয় নিয়ে সিলেটের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের সাথে বসেছিলাম। সভায় বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যা বাস্তবায়ন হলে দ্রæতই কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ অঞ্চলের অবহেলিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে এবং সাধারণ মানুষ উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে আশাবাদি আমি।’


Tuesday, June 2

কানাইঘাটের উন্নয়ন ইস্যুতে এমপির হাতে কাপের স্মারকলিপি

কানাইঘাটের উন্নয়ন ইস্যুতে এমপির হাতে কাপের স্মারকলিপি


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাট উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সিলেট-৫ আসনের এমপি মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসানের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে ‘কানাইঘাট উন্নয়ন পরিষদ’ (কাপ)। মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) জকিগঞ্জের লামারগ্রাম জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

মতবিনিময় শেষে কাপের নেতৃবৃন্দ উপজেলার উন্নয়নে ও সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাবনা সম্বলিত স্মারকলিপি এমপির কাছে হস্তান্তর করেন। সভায় পরিষদের নেতৃবৃন্দ কানাইঘাটের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার দিকগুলো এমপির কাছে তুলে ধরেন। মুফতি আবুল হাসানও তাঁর পক্ষ থেকে গৃহিত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। 

কানাইঘাট উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবি সরওয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে মতবিনিময় সভা ও স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও কাপের কার্যনির্বাহী সদস্য ওমর ফারুক, ফুলবাড়ি আজিরিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জাকির হোসাইন, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা ও কাপের এসিস্যান্ট সেক্রেটারি শিপুল আমিন চৌধুরী, ডেইলি সান পত্রিকার সাংবাদিক ও কাপের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক জসীম, কাপের এসিস্যান্ট সেক্রেটারি মারুফ আহমদ, কাপের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার আহমদ চৌধুরী, ১নং লক্ষীপ্রসাদ পুর্ব ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলতাফ হোসেন, এই ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ জসীম উদ্দিন ও তারেকুল ইসলাম এবং ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বাসিন্দা ইমরান আহমদ প্রমুখ। 

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— কানাইঘাট উপজেলায় একটি কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন-সহ পূর্ণাঙ্গ একটি কারিগরি কলেজ প্রতিষ্ঠা, উপজেলার যে দু’এক জায়গায় এখনো বিদ্যুতায়ন হয়নি সেসব এলাকা বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা, নুন খালের উপর ব্রীজ নির্মাণ, কুকুবাড়ি সবজি চর রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, চলমান আমরী ব্রীজের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পদক্ষেপ গ্রহণ, ১নং লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নকে পর্যটন এলাকার আওতায় আনা এবং  বোরহান উদ্দিন রাস্তার দ্রুত সংস্কার ও সম্প্রসারণ এবং এই রাস্তাকে আদি নকশা অনুযায়ী কাড়াবাল্লা পর্যন্ত কার্যকর করা। এছাড়া উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

স্মারকলিপি গ্রহণের পূর্বে মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান কানাইঘাটের উন্নয়নের স্বার্থে কাপের নেতৃবৃন্দের দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে এসব বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন। ইতোমধ্যে তাঁর গৃহিত কিছু পদক্ষেপের বর্ণনা দিয়ে বলেন, কাপের দাবিগুলা যৌক্তিক।

Sunday, May 31

কানাইঘাটে উদ্বোধন হলো অত্যাধুনিক ইনডোর ফুটবল মাঠ ‘এভারগেইন এভিনিউ’

কানাইঘাটে উদ্বোধন হলো অত্যাধুনিক ইনডোর ফুটবল মাঠ ‘এভারগেইন এভিনিউ’


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ ইনডোর ফুটবল মাঠ ‘এভারগেইন এভিনিউ’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৬টায় কানাইঘাটের জিয়াউর রহমান সড়কের পাশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ আধুনিক স্পোর্টস ভেন্যুর উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাফজয়ী ফুটবলার ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্টের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মাহবুবুল আলম পলো, কানাইঘাট সরকারি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক অলিউডর রহমান, সিলেট জেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সদস্য দেলোয়ার হোসেন বাবরসহ ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা কানাইঘাটে এমন একটি আধুনিক ইনডোর ফুটবল মাঠ প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দেশে অসংখ্য মেধাবী খেলোয়াড় থাকলেও মানসম্মত মাঠ ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেকেই নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পান না। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ ফুটবল প্রতিভা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি ‘এভারগেইন এভিনিউ’-এর চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মুজিব এবং তাঁর ছেলে, তরুণ উদ্যোক্তা ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ইমতিয়াজুর রহমান সায়েম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

‘এভারগেইন এভিনিউ’-এর চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মুজিব তাঁর বক্তব্যে বলেন, তরুণ সমাজকে খেলাধুলামুখী করা, সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ সৃষ্টি এবং আধুনিক ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য থেকেই তিনি ও তাঁর ছেলে এই ইনডোর ফুটবল মাঠ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।




ব্রীজের দাবিতে কাপের মানববন্ধন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সঙ্গে দিনব্যাপী গণআড্ডা

ব্রীজের দাবিতে কাপের মানববন্ধন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সঙ্গে দিনব্যাপী গণআড্ডা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

নুন খাল ও আমরি খালের ওপর ব্রীজ নির্মাণ এবং কুকুবাড়ি সবজি চর রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সঙ্গে দিনব্যাপী গণআড্ডা কর্মসূচি পালন করেছে কানাইঘাট উন্নয়ন পরিষদ (কাপ)।

শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় কানাইঘাট উপজেলার ১নং লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ও ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের মধ্যবর্তী নুন খালের তীরে আয়োজিত মানববন্ধনে কাপের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি স্থানীয় বিপুলসংখ্যক জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন।

কাপের চেয়ারম্যান কবি সরওয়ার ফারকীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি রিয়াজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও পিএইচডি গবেষক এহসানুল হক জসীম, ইউপি সদস্য আলতাফ হুসেন, ময়নুল ইসলাম, ছাত্র মজলিস নেতা হুমায়ুন রশীদ, কাপের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান প্রাবন্ধিক শামসীর হারুনুর রশীদ,প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান শাহেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ইউসুফ, লক্ষীপ্রসাদ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সভাপতি নুরুল আমিন, মাহবুবুল আলম বাবুল, জসিম উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ মুলাগুল ও লোভাছড়া এলাকা সম্ভাবনাময় জনপদ হলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ব্রীজের অভাবে এলাকাবাসী চরম যোগাযোগ দুর্ভোগে ভুগছেন। নুন খাল ও আমরি খালের ওপর ব্রীজ নির্মাণ করা হলে স্থানীয়দের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে উক্ত দুই স্থানে ব্রীজ নির্মাণের জোরালো দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন শেষে কাপের সদস্যরা কানাইঘাটের মঙ্গলপুর আলুবাড়ি এলাকায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দিনব্যাপী গণআড্ডায় অংশ নেন।

গণআড্ডা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ইয়াহিয়ার সভাপতিত্বে এবং কাপের নৃতত্ত্ববিষয়ক সম্পাদক পিযুষ রেমার সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কাপের সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ৭নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক  আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী, সমাজকর্মী আহমদ সালেহ বিন মালিক সহ  শিক্ষক, ইমাম, পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যাংকার, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও কানাইঘাটের সুধীসমাজের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

গণআড্ডায় গারো সম্প্রদায়ের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অতিথিদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি গল্প, আলোচনা ও মতবিনিময়ের ফাঁকে উঠে আসে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মানুষের জীবনসংগ্রাম, দুঃখ-দুর্দশা, বঞ্চনা ও নানা বাস্তবতার চিত্র। তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা, অভাব-অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তা নোট করেন কানাইঘাট উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

Saturday, May 30

কানাইঘাটে জমি বিরোধের জেরে হা'মলা, আহত আবু লেইছ; তদন্তে পুলিশ

কানাইঘাটে জমি বিরোধের জেরে হা'মলা, আহত আবু লেইছ; তদন্তে পুলিশ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার তিনচট্রি নয়াগ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবু লেইছ (৫৫) নামে এক ব্যক্তির ওপর ভয়াবহ হামলার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তিনচট্রি নয়াগ্রামের মৃত নুর উদ্দিনের পুত্র আবু লেইছের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ২৪ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গাছবাড়ি পশ্চিম বাজারে ময়নুল ইসলামের জ্বালানি তেলের দোকানের সামনে প্রতিপক্ষের লোকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীদের হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে আবু লেইছ পাশের মাঠ দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র, রড ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়।

পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, হামলায় আবু লেইছের বুক, বাম হাত, চোখ ও মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে যায়।

এ ঘটনায় আবু লেইছ চিকিৎসাধীন থাকায় তার চাচাতো ভাই কবির উদ্দিনের মাধ্যমে ১০ জনকে আসামি করে শুক্রবার কানাইঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (৩১ মে) কানাইঘাট থানার এসআই দুর্গা কুমার দেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কানাইঘাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

কানাইঘাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালিত


নিজস্ব প্রতিবেদক :

হীদ প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সিলেটের কানাইঘাটে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৪টায় কানাইঘাট পৌরসভাস্থ আল-রিয়াদ কমিউনিটি সেন্টারে কানাইঘাট পৌর বিএনপির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কানাইঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক এমএ হান্নান, সহ-সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা হাজী জসিম উদ্দিন, আলমাছ উদ্দিন চৌধুরী, আব্দুর রহমান, সিলেট ল’ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা জাকারিয়া আহমদ, ইমেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা বেলাল আহমদ, উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক কাওছার আহমদ বাঙ্গালী এবং পৌর বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা আবু শহিদ।

এছাড়াও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি নেতা শাহাজাহান আহমদ, জাকারিয়া সিদ্দিকী লিটন, আব্দুর রব, ইসলাম উদ্দিন, বশির আহমদ, তোতা মিয়া, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল মেম্বার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন আল-আমীন, সদস্য সচিব রাসেল চৌধুরী, পৌর জাসাসের সহ-সভাপতি ডালিম আহমদ, ছাত্রদল নেতা সিয়াম আহমদ ফাহিম, সেলিম উদ্দিনসহ অনেকে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাৎবরণ করেন। তবে তাঁর মৃত্যু হলেও দেশের মানুষের হৃদয়ে তিনি আজও অমর হয়ে আছেন। বক্তারা আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল বিএনপি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপির অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির মধ্যে কানাইঘাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ময়না মিয়া বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগদান করেন।

সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং মরহুম আরাফাত রহমান খোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কানাইঘাটে আগামীকাল উদ্বোধন হচ্ছে আধুনিক ইনডোর ফুটবল মাঠ ‘এভারগেইন এভিনিউ’

কানাইঘাটে আগামীকাল উদ্বোধন হচ্ছে আধুনিক ইনডোর ফুটবল মাঠ ‘এভারগেইন এভিনিউ’

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ


সি
লেটের কানাইঘাট উপজেলার ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য যুক্ত হতে যাচ্ছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ ইনডোর ফুটবল মাঠ ‘এভারগেইন এভিনিউ’। আগামী ৩১ মে সন্ধ্যা ৬টায় জিয়াউর রহমান সড়কের পাশে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে এ আধুনিক স্পোর্টস ভেন্যুর।

তরুণ সমাজকে খেলাধুলামুখী করা, সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তোলা এবং আধুনিক ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করছে এই ইনডোর ফুটবল মাঠ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক সাফজয়ী ফুটবলার ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিপার্টমেন্টের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মাহবুবুল আলম পলো, কানাইঘাট সরকারি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক অলিউডর রহমান, সিলেট জেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সদস্য দেলোয়ার হোসেন বাবরসহ ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

আয়োজকদের দাবি, আধুনিক অবকাঠামো, মানসম্মত খেলার পরিবেশ এবং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নির্মিত এই মাঠ কানাইঘাটের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আয়োজকরা আশা করছেন, ক্রীড়াবিদ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, তরুণ খেলোয়াড় ও ফুটবলপ্রেমীদের অংশগ্রহণে দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হবে।

এ উপলক্ষে ক্রীড়াপ্রেমীসহ সর্বস্তরের মানুষকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ‘এভারগেইন এভিনিউ’-এর উদ্বোধনী আয়োজন উপভোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।