Previous
Next

সর্বশেষ


Thursday, June 25

টরন্টোয় শাহজালাল এসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী, আত্মপ্রকাশ করল নতুন আহ্বায়ক কমিটি

টরন্টোয় শাহজালাল এসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী, আত্মপ্রকাশ করল নতুন আহ্বায়ক কমিটি


কানাডা প্রতিনিধি :

কানাডার টরন্টোতে বসবাসরত সিলেটবাসীর অন্যতম সামাজিক সংগঠন শাহজালাল এসোসিয়েশন অব টরন্টো-এর উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও নতুন আহ্বায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৭ জুন টরন্টোর বাংলা টাউনের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী সিলেটি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফ উদ্দিন রুবেল-এর সভাপতিত্বে এবং সংগঠক সাইদুর রহমান শামীম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, এশিয়ান টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও রোটারিয়ান শাহজাহান সেলিম বুলবুল পিএইচএফ।


বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যাংকার সাইফুল আলম শিকদার, ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম, রোটারিয়ান আবুল হোসেন এবং সংগঠক ফুজেল আহমদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজাহান সেলিম বুলবুল বলেন, “সামাজিক সংগঠনের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত নিঃস্বার্থ সমাজসেবা ও মানবিক কল্যাণ। প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের শিকড়, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ তুলে ধরতে এবং পিছিয়ে পড়া প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “প্রবাসে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি সিলেটি কমিউনিটির ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এ সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” এ সময় তিনি নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন মো. ইকবাল হোসেন, আফজাল হোসেন সায়েম, নাসির আহমদ, মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, ময়নুল হক, মোবারক হোসেন তুহিন, সালাউদ্দিন আহমদ, রুহেল আহমদ, সুমন বকসি, সৈয়দা তাহমিদা, আদনান আহমেদ প্রমুখ।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আশরাফ উদ্দিন রুবেলকে আহ্বায়ক এবং সাইদুর রহমান শামীমকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে নবনির্বাচিত আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন রুবেল উপস্থিত সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “সিলেটি কমিউনিটির সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এ সংগঠনের পথচলা। আমরা আশা করি, এই আহ্বায়ক কমিটি একটি সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সংগঠনকে আরও গতিশীল করবে।”

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে উপস্থিত অতিথি ও সদস্যদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। ঈদ পুনর্মিলনীর প্রাণবন্ত পরিবেশে প্রবাসী সিলেটবাসীর মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।

টরন্টোয় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সাধারণ সভা সম্পন্ন

টরন্টোয় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সাধারণ সভা সম্পন্ন


কানাডা প্রতিনিধি:

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নির্বাচনী উত্তেজনা এবং নানা আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সাধারণ সভা। গত সোমবার (২২ জুন) টরন্টোর ড্যানফোর্থ এলাকার একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের গৌরবময় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে অতীতের সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে সদ্য বিদায়ী সভাপতি মাহবুব চৌধুরী রনি বলেন, “ব্যক্তিগত কিংবা নির্বাচনী মতপার্থক্য কখনো সংগঠনের স্বার্থের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন আমাদের সবার প্রাণের সংগঠন। এর উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমরা সবসময় পাশে থাকব।”

নবনির্বাচিত সভাপতি এবাদ চৌধুরী সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “নির্বাচন একটি সাময়িক প্রক্রিয়া, কিন্তু সংগঠনের উন্নয়ন একটি চলমান যাত্রা। আমরা কোনো বিভাজনে বিশ্বাস করি না। সবার পরামর্শ ও সহযোগিতায় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী এবং জবাবদিহিমূলক সংগঠনে পরিণত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

সংগঠনের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমদের সভাপতিত্বে এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সাবেক সভাপতি সাদ চৌধুরী বলেন, “আজকের এই মিলনমেলা আমাদের সংগঠনের শক্তি ও সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। এখানে উপস্থিত সবাই কোনো না কোনো সময় সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। জ্যেষ্ঠ ও নবীন নেতৃত্বের এই ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”

সভায় বক্তারা বিগত নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকাণ্ড ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে আরও নিরপেক্ষ, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য নতুন কমিটির প্রতি আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য কমিউনিটির সদস্যদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ।

সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সাংগঠনিক উন্নয়ন এবং কমিউনিটির কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি আব্দুল আহাদ খন্দকার, মিজানুর রহমান চৌধুরী, দেবব্রত দে তমাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুদীপ সোম রিংকু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান নির্বাহী সভাপতি মেহেদী মারুফ, সহ-সভাপতি তাহমিনা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ১৭ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর নির্বাচনে এবাদ চৌধুরী সভাপতি, রাসেল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক এবং মেহেদী মারুফ নির্বাহী সভাপতিসহ ২৯ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি নির্বাচিত হয়।

মাধবীলতার সংসার : প্রেম, দ্রোহ ও জীবনবোধের কাব্য

মাধবীলতার সংসার : প্রেম, দ্রোহ ও জীবনবোধের কাব্য


সরওয়ার ফারুকী:

মাধবীলতার সংসার—কবি সালেহ আহমদ খসরুর তৃতীয় বই, দ্বিতীয় কাব্য। নানান রঙের অনুভব ও অনুভূতিকে কবি রূপকার্থে মাধবীলতার সঙ্গে মিলিয়ে এ কাব্য গেঁথেছেন। বাগান যেমন একটি ফুলের ডালি দিয়ে গড়ে ওঠে না, জীবনও তেমনি—সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, দ্রোহ-আনুগত্যসহ বহুমাত্রিক অনুভূতির এক বৃহৎ সংকলন। মাধবীলতার রূপে কবি সালেহ আহমদ সেই অনুভূতিগুলোর সংসার গড়েছেন এ কাব্যে।


বিচ্ছেদাশ্রিত প্রেমানুভূতি নিয়ে এ কাব্যের সূচনা। শিরোনাম কবিতা ‘মাধবীলতার সংসার’ গ্রন্থাশ্রিত অনুভূতির এক পূর্ণাঙ্গ সংসার নির্মাণের মধ্য দিয়ে কাব্যের সুন্দর সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। ২৪-০৪-২০২৫ তারিখে রচিত কাব্যের প্রথম কবিতা ‘ফিরে আসি পৃথিবী ছেড়ে’; আর ২১-০৯-২০২৫ তারিখে রচিত শেষ কবিতা ‘মাধবীলতার সংসার’। মাত্র পাঁচ মাসের সাধনায় কবিতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পঁয়ষট্টিতে। কবিতার আকুতি প্রাণে না ঝরলে কাব্যের সংসার পাতবার জন্য এ ক’মাস সময় যথেষ্ট নয়। কবি খসরুর প্রাণে যে কবিতার উথাল-পাথাল ঢেউ, দ্রুতগামী অশ্বের মতো কাব্যের প্লাবন যে তার বুক জুড়ে ওঠছে—এ তারই প্রমাণ।

 

এ কাব্যের প্রাণ মূলত প্রেম। তবুও কাব্যে শুধু প্রেম নয়; আছে বিচ্ছেদের অশ্রু, দ্রোহের আগুন, অবিশ্বাসের দাগ, সন্দেহের বীজ, বিশ্বাসের শক্তি, পুতুলনাচের নাটাই, বৃষ্টিমুখর ভোর, সন্ধ্যারাতের তারা, অন্ধকারের দ্বন্দ্ব, মাটির মোহ ছাড়াও দেশপ্রেমের আবেশ আছে—সর্বোপরি জীবনবোধের বর্ণিল প্রকাশ আছে।

 

কবি যখন হাঁটেন, কথা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকেন, স্লোগানে স্লোগানে পাথর ভাঙেন—তখনও তিনি ভেতরে ভেতরে একাকীত্বে ভোগেন। এই একাকীত্ব কবিকে মহাজাগতিক বিস্তারে উড়িয়ে নিয়ে যায়; তিনি তখন অদ্ভুত সব কল্পচিত্র আঁকেন। কবি ও অকবিদের এখানেই এক অবধারিত অন্তরায়। এই অন্তরায়ের এপারে পাঠক, ও পারে কবি।

 

কবি সালেহ আহমদ খসরু বহুমাত্রিক চরিত্র। লেখক-পরিচয়ে প্রকাশক যথার্থই বলেছেন—“সালেহ আহমদ খসরু বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব; একাধারে কবি, সমাজচিন্তক, বাচিকশিল্পী এবং তুখোড় রাজনীতিবিদ। তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা তাঁকে স্বতন্ত্র পরিচয়ে উদ্ভাসিত করেছে। তাঁর দরাজ কণ্ঠ সিলেটের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।”

 

মাধবীলতার সংসার কাব্যে কবি খসরু কল্পদৃষ্টিতে যে চিত্রমালা এঁকেছেন, তা তাঁকে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করেছে। প্রেম থেকে অগ্নি, ফুল থেকে ঘ্রাণ, প্রাণ থেকে যৌবন আহরণ করতে যে সাংসারিক দৌড়ঝাঁপের প্রয়োজন, কবি এ কাব্যে তার সবটাই ঢেলেছেন। নাকফুলের খোঁজে পথে নেমেই কবি দীঘল বাঁকের উর্মিমালায় ঘোমটাপরা আঁখির দেখা পান; বুকের ভেতর অনুভব করেন অল্পস্বল্প অম্লমধুর টান। আবার গহিন-গভীর অন্ধকূপের পানশালায় বেহিসেবি, বেশুমার শরাব-বিলাসেও মত্ত হন।

 

এ কাব্যে কবি খসরুর তাড়াহুড়োর ছাপ রয়েছে। এ ছাপ অস্পষ্ট নয়; বরং এ তাড়াহুড়োই হয়তো কবির স্মারক হিসেবে তাঁকে আগামীতে চিহ্নিত করতে ভূমিকা রাখবে। কবিতার চিরায়ত যে রূপ, মাধবীলতার সংসার কাব্যে তা অনেকটাই ম্রিয়মাণ। ছন্দ, মাত্রা ও অন্ত্যমিলের যে ঐতিহ্যিক রূপ, এ কাব্যে সচেতনভাবেই কবি তার আশ্রয় নেননি; অনেকটাই ইচ্ছাস্বাধীন থেকেছেন। কবি নিজে একজন খ্যাতিমান বাচিকশিল্পী; যেকোনো কবিতা পাঠে তিনি নিজেকে সেভাবেই সঁপে দেন। সম্ভবত এ কারণেই তাঁর কবিতায় ঐতিহ্যিক ধারার বিপরীতে একটি খাপছাড়া স্বতঃস্ফূর্ততা থেকেছে। এ কবির দুর্বলতা, না স্বকীয়তা—সে বিচার অনাগত দিনের পাঠকরা করবেন।


কবি সালেহ আহমদ খসরু ১৯৫৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পুলিশ পরিদর্শক বাবার চাকরির সুবাদে সিলেটের এ কবির জন্ম হয়ে সাতক্ষীরা জেলায়। কবির আদিনিবাস বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চন্দরপুর গ্রামে। বর্তমানে সিলেট শহরের আম্বরখানার চাষনীপীর রোডে বসবাস করছেন।

 

এ বই ছেপেছে দোআঁশ, রঙমহল টাওয়ার, সিলেট। দোআঁশ ইতিমধ্যে সিলেটের প্রকাশনা শিল্পে নানন্দিক চর্চায় সুনাম কুড়াচ্ছে, যদিও মাধবীলতার সংসার কাব্যের প্রচ্ছদ অতটা আকর্ষণীয় নয়!