Previous
Next

সর্বশেষ


Monday, November 2

কানাইঘাটে প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষার অভিযোগ স্বজনদের বিরুদ্ধে

কানাইঘাটে প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষার অভিযোগ স্বজনদের বিরুদ্ধে


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাটে এক প্রসূতি নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লেও ঘটনার পেছনে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা একাধিকবার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে স্বজনদের সিদ্ধান্তহীনতা ও সিলেটে নিতে অনীহার কারণে সময়মতো উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, সম্প্রতি ফরহাদ সাগর নামে এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভে এসে তাঁর বোনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অপচিকিৎসার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ঘটনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সূত্রের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ওই প্রসূতি নারীর চিকিৎসা ও হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে একাধিক ঘটনা ঘটেছিল।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রসবের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাঁকে সড়কের বাজার এলাকার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থার জটিলতা বিবেচনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সেখানে চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে তাঁকে কানাইঘাটের মা-মনি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বিবেচনায় দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় রোগীর সঙ্গে থাকা তাঁর ভাবি নাজমা বেগম সিলেটে নিতে রাজি হননি। বরং উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়ার পরিবর্তে রোগীকে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রোগী নিজেও সিলেটে নেওয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরাও রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দ্রুত সিলেটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে। তবে সেখানেও রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে সিলেটে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে রোগীর স্বজন নাজমা বেগমের কাছ থেকে লিখিত সম্মতিপত্র বা রিস্ক বন্ড নেওয়া হয় ।

চিকিৎসা পরিভাষায় এ ধরনের লিখিত সম্মতিকে ‘ডিসচার্জ অ্যাগেইনস্ট মেডিকেল অ্যাডভাইস’ (DAMA) বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিরুদ্ধে রোগীকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার সম্মতিপত্র বলা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অমান্য করে রোগীকে অন্যত্র নেওয়া বা চিকিৎসা চালিয়ে না যাওয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাধারণত এ ধরনের লিখিত নথি সংরক্ষণ করে থাকে।

পরবর্তীতে হাসপাতালে প্রসব কার্যক্রম চলাকালে ওই প্রসূতি নারী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে সিলেটে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পথিমধ্যে গোলাপগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে তাঁর মৃত্যু হয়।


কানাইঘাট সীমান্তে পিকআপের চাপায় কিশোর নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের

কানাইঘাট সীমান্তে পিকআপের চাপায় কিশোর নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী সোনাতনপুঞ্জি গ্রামে ভারতীয় চোরাই পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি টাটা পিকআপের চাপায় দিলদার হোসেন (১৭) নামে এক কিশোর নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ৩১ অক্টোবর এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ও লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বাউরভাগ ১ম খণ্ড গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন বাউরভাগ ১ম খণ্ড গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সেবুল আহমদ (২৪), একই গ্রামের ফয়াজ আহমদের ছেলে ও সীমান্ত এলাকার চিহ্নিত ভারতীয় চোরাকারবারি হিসেবে এজাহারে উল্লেখিত মাসুম আহমদ (৩০) এবং জৈন্তাপুর উপজেলার গড়াটিল্লা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে পিকআপের মালিক ও চালক রামিম আহমদ (৩২)।

এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় মামলা নং-০২, তারিখ ০১/১১/২০২৬ ইং। প্ররোচনার মাধ্যমে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৯৮, ৯৯ ও ১০৫ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, আসামি সেবুল আহমদ ও মাসুম আহমদ ভারতীয় চোরাকারবারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অপর আসামি রামিম আহমদ তাঁর মালিকানাধীন পিকআপ গাড়ি দিয়ে ভারতীয় চোরাই পণ্য পরিবহন করে থাকেন।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ৩১ অক্টোবর শনিবার সকাল ৭টার দিকে সীমান্তবর্তী সোনাতনপুঞ্জি জলাসছড়া ব্রিজের উত্তর পাশে কাঁচা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন দিলদার হোসেন। এ সময় আসামি মাসুম আহমদের নির্দেশে সেবুল আহমদ চালক না হয়েও রামিম আহমদের পিকআপটি বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে ভারতীয় চোরাই মালামালের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় দিলদারকে চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসান, হারুন রশিদকে বিদায় সংবর্ধনা

রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসান, হারুন রশিদকে বিদায় সংবর্ধনা


নিজস্ব প্রতিবেদক: 

কানাইঘাটের ঐতিহ্যবাহী রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হারুন রশিদের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন আহমদ। সহকারী শিক্ষক সেলিম আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ।

সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের অভিভাবক নুরুল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুমিন রশিদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামীম আহমদ, ফারুক মিয়া এবং শিক্ষার্থী ফাহমিদা জান্নাত, মনিসা জান্নাত প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বিদায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন রশিদ দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে তিনি বিনা বেতনে শিক্ষকতা শুরু করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি শুধু একজন আদর্শ শিক্ষকই ছিলেন না, শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন অভিভাবকতুল্য একজন মানুষ। দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রিয় শিক্ষক হিসেবে তিনি সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর অবদান ও স্মৃতি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিদায়ী সংবর্ধিত অতিথি হারুন রশিদ তাঁর বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েই তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সূচনা এবং এ প্রতিষ্ঠান থেকেই তিনি অবসরে যাচ্ছেন। দীর্ঘ ৩৮ বছরের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, সবসময় আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করার চেষ্টা করেছেন। বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষার মানোন্নয়নে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কখনো সহকর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাবা-মা অনেক স্বপ্ন ও আশা নিয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। তাই তাদের স্বপ্ন পূরণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে লেখাপড়া করতে হবে এবং সবসময় শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। কর্মজীবনের ইতি টানলেও তিনি সবসময় এ বিদ্যালয়ের পাশে থাকবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষক হারুন রশিদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নুরুল হক চাকরিজীবন শেষে অবসরে যাওয়ায় তাঁকেও বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।


Sunday, November 1

আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে কানাইঘাট ক্রীড়া সংস্থার প্রস্তুতি সভা

আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে কানাইঘাট ক্রীড়া সংস্থার প্রস্তুতি সভা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

জেলা পর্যায়ের আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে কানাইঘাট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সুমাইয়া ফেরদৌসের সভাপতিত্বে এবং সংস্থার সদস্য সচিব শহিদুর রহমান শহিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী, ক্রীড়া সংগঠক, ক্রীড়ানুরাগী এবং সাবেক ও বর্তমান ফুটবল খেলোয়াড়রা অংশ নেন।

সভায় ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে জেলা স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো ‘রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান আন্তঃউপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ টুর্নামেন্টে কানাইঘাট উপজেলা ফুটবল দল যাতে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য বয়ে আনতে পারে, সেজন্য একটি শক্তিশালী টিম গঠনে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে টিম গঠন করা হবে; এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটবে না।

প্রস্তুতি সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আমিনুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, কানাইঘাট সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, দিঘীরপাড় পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী, বড়চতুল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী এবং উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার ফয়ছল আহমদ।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ফুটবলার নজরুল ইসলাম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি আমানুর রশিদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংস্থার সদস্য শামীমুল এহসান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ও সাবেক কৃতি ফুটবলার কাওছার রশিদ, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং আজাদ ইলেভেন স্পোর্টিং ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শফিক আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাসেল চৌধুরী, এমসি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাফিজ আহমদ সুজন, উপজেলা জাসাসের সভাপতি ও ধারাভাষ্যকার আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, কানাইঘাট উপজেলা ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এ এইচ বাবর এবং বাফুফে অনুমোদিত রেফারি সাবেক ফুটবলার জাকারিয়া সহ বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের সদস্যরা।

কানাইঘাট সীমান্তে চোরাই পণ্যবাহী পিকআপচাপায় কিশোর নিহত

কানাইঘাট সীমান্তে চোরাই পণ্যবাহী পিকআপচাপায় কিশোর নিহত


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে ভারতীয় চোরাই পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে দিলদার হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সোনারতনপুঞ্জি কালভার্টের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দিলদার হোসেন ভাউরভাগ প্রথম খণ্ড গ্রামের দিনমজুর নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে দিলদার সোনারতনপুঞ্জি কালভার্টের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় চোরাই পণ্য লোড করার জন্য সেখানে থাকা একটি নম্বরবিহীন টাটা পিকআপ অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছিলেন চোরাকারবারীদের সহযোগী সেবুল আহমদ (২৪)। বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি ঘুরানোর সময় দাঁড়িয়ে থাকা দিলদারকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে মাটিতে পড়ে গেলে পিকআপের চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়।

গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় দিলদারকে রাস্তায় ফেলে রেখে চালক সেবুল আহমদ, গাড়ির মূল মালিক রামিম উদ্দিন এবং চোরাকারবারি দলের সদস্য মাসুম আহমদ একটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় দিলদারকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া নম্বরবিহীন পিকআপটি জব্দ করে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক পিকআপটি জব্দ করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং কিশোর দিলদারের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গবেষণা সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে গুণিজনদের মিলনমেলা

গবেষণা সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে গুণিজনদের মিলনমেলা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

মসজিদকেন্দ্রিক ধর্মীয় শিক্ষার প্রাথমিক স্তম্ভ মক্তব। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিশুদের কোরআন শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পাঠ দিয়ে আসছে এই প্রতিষ্ঠান। অথচ এই শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জীবনমান ও আর্থিক বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রেই রয়ে গেছে উপেক্ষিত। কানাইঘাট উপজেলার মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে তাঁদের আর্থিক দুরবস্থার চিত্র।

‘কানাইঘাট উপজেলার মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা: একটি সমীক্ষা’ শীর্ষক গবেষণা এবং গবেষণাসহ বিভিন্ন লেখার সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। গতকাল শনিবার রাতে সিলেট নগরের একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ প্রকাশনা উৎসবে কানাইঘাটের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা, ধর্ম, সমাজসেবা, রাজনীতি ও প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যেন বসেছিল গুণিজনদের মিলনমেলা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং ধর্মীয় অনুশাসন টিকিয়ে রাখতে প্রথাগত মক্তব শিক্ষাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। একই সঙ্গে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সমাজের সম্মানজনক বেতন এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সমাজ থেকে মক্তব শিক্ষা প্রায় বিলুপ্তির পথে। এর ফলে সামগ্রিক নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তুলতে মক্তব শিক্ষার প্রসারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। 

গতকাল শনিবার রাতে সিলেট নগরের একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলনকক্ষে কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘কানাইঘাট উপজেলার মসজিদের ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা: একটি সমীক্ষা’ শীর্ষক গবেষণা এবং গবেষণাসহ বিভিন্ন লেখার সংকলন ‘চারণধ্বনি’র প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

মসজিদের ইমাম ও খতিবদের সম্মানজনক সম্মানী এবং সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায় এমপি আবুল হাসানের বক্তব্যে। তিনি বলেন,  সমাজে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও অনেক ইমাম অত্যন্ত অল্প বেতনে জীবনযাপন করছেন। গবেষণায় কোনো কোনো ইমামের মাসিক বেতন সাড়ে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া গেছে, যা বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বৈষম্যের কারণে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিরা এ পেশায় আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। তাই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানজনক বেতন ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।

পিএইচডি গবেষক ও সাংবাদিক এহসানুল হক জসীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ আজহারুল ইসলাম উসামা। মরমি কবি ইব্রাহিম তশনার ‘তুমি গগনের শশী’ গানটি পরিবেশন করেন আলী হায়দার। এ সময় গবেষণার ফলাফল বড় পর্দায় উপস্থাপন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে কানাইঘাটের বিশিষ্টজন, শিক্ষাবিদ, আলেম, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও লেখকদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলার সৃষ্টি হয়। বক্তব্যে জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক বলেন, ফুরকানিয়া মক্তব নিয়ে গবেষণাগ্রন্থটি ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

ডা. আবুল কাহের বলেন, মসজিদভিত্তিক মক্তবে শিশুদের যে শিক্ষা দেওয়া হয়, বাসাবাড়িতে গৃহশিক্ষক রেখে তা পুরোপুরি পাওয়া যায় না। এ কারণে সমাজে নৈতিকতার অবক্ষয় বাড়ছে।

জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা এহসানুল হক বলেন, ফুরকানিয়া মক্তব নিয়ে গবেষণাগ্রন্থটি ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, মক্তব থেকেই সামগ্রিক শিক্ষার সূচনা হয়। কিন্তু আমরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে গেছি। ‘চারণধ্বনি’তে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ইমামদের মূল্যায়নে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল বলেন, এ আয়োজন কানাইঘাটের গুণীজনদের একত্র করেছে। এ জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যে পরিমাণ বেতন পান, তা অত্যন্ত কম। অথচ আমরা হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে চা পান করতেও অনেক টাকা খরচ করি। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানজনক বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি সন্তানদের নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষায় মক্তব চালু রাখতে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।

কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ইমামদের বেতন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এগিয়ে আসতে হবে।

দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইফতেখার আলম বলেন, সমাজে সত্যিকার পরিবর্তন আনতে হলে ঘরে থাকা নারীদেরও এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

ফুলবাড়ী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকির হোসেন বলেন, কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন শেকড়ের সন্ধানে কাজ করছে। মসজিদভিত্তিক শিক্ষা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষার ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মৃতপ্রায় এ শিক্ষাব্যবস্থাকে আবারও এগিয়ে নিতে হবে।

শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা পাঠানটুলার উপাধ্যক্ষ মাওলানা ফয়জুল্লাহ বাহার বলেন, মসজিদ ইসলামী সভ্যতার বুনিয়াদি কেন্দ্র। মসজিদকেন্দ্রিক মক্তব ইসলামী শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র এবং মূল্যবোধ চর্চার প্রাথমিক ভিত্তি। মক্তব ব্যবস্থা চালু থাকলে সমাজ আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হবে। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে মক্তব সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে হবে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ. ফ. ম. জাকারিয়া বলেন, মক্তব শিক্ষা প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থা। ব্রিটিশরা মানুষকে মক্তব থেকে বিমুখ করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছিল। এখন সম্মিলিত উদ্যোগে মক্তবকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে এবং শিশুদের মক্তবমুখী করতে হবে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফজলে এলাহি ফয়সাল বলেন, এ অঞ্চলে ইসলামী সংস্কৃতি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। ইমামরা আমাদের নেতা, কিন্তু তাঁদের আমরা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছি কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। তাঁদের বেতনের ক্ষেত্রে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। ইমামদের সম্মানী নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করতে হবে। মক্তব শিক্ষা ছাড়া ঈমানি সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না।

কবি কালাম আজাদ বলেন, মক্তব শিক্ষাই মানুষ গঠনের মূল উৎস। মক্তব শিক্ষা হারিয়ে গেলে ইসলামী শিক্ষার ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে। এ উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

প্রফেসর ডা. শিব্বির আহমদ শিবলি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে ইমাম ও মক্তব শিক্ষার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। যাঁদের এ বিষয়ে কাজ করার কথা ছিল, তাঁরা যথাযথভাবে কাজ করছেন না, যা দুঃখজনক। মক্তবের মাধ্যমেই ইসলামী শিক্ষার পুনর্জাগরণ ঘটেছিল।

সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, মক্তব শিক্ষার ত্রুটিগুলো দূর করে তাওহিদভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করতে হবে। শিশুদের সঠিকভাবে পবিত্র কোরআন শিক্ষা দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ও অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ আব্দুল মালিক বলেন, গবেষণা করতে গিয়ে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতনের যে চিত্র পাওয়া গেছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। সামান্য বেতনে তাঁরা কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। বিষয়টি নিয়ে সমাজের সবাইকে ভাবতে হবে।

লেখকদের পক্ষ থেকে বক্তব্যে শিক্ষক জালাল উদ্দিন বলেন, এ অনুষ্ঠানে গুণীজনদের মিলনমেলা বসেছে। মক্তব শিক্ষাই ছিল মূল শিক্ষা। কিন্তু বর্তমানে সেই শিক্ষা হারিয়ে যাওয়ায় সমাজে অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিলেট পাইলট স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সিলেট জেলার সহসভাপতি মাওলানা নূর আহমদ কাসেমী, সৌদি প্রবাসীদের পক্ষ থেকে কমিউনিটি নেতা ওয়েস আহমদ, দক্ষিণ বাণিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন, কানাইঘাট উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরওয়ার ফারুকী, উপজেলা জামায়াতের আমির কামাল উদ্দিন, লেখক মাওলানা মাহবুব সিরাজী, রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা শামসুল ইসলাম, জেলা বারের জ্যেষ্ঠ সদস্য অ্যাডভোকেট আখলাকুল আম্বিয়া, মুন্সিগঞ্জের হরগঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আসাদ উদ্দিন, শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ এখলাছে এলাহি, শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, কানাইঘাট সমিতি সিলেট মহানগরের সেক্রেটারি জাকারিয়া এবং ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার আবু বকর প্রমুখ।





Thursday, October 29

কানাইঘাটে নজরুল বর্ষ উদযাপন, বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

কানাইঘাটে নজরুল বর্ষ উদযাপন, বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাটে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরুষ্কার ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়।

নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসের সভাপতিত্বে ও মাষ্টার জাহিদ হোসেন রাহিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন কানাইঘাট সরকারী কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, কানাইঘাট পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তারবিন্দু রায়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী মজুমদার, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, কানাইঘাট মনসুরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান, কানাইঘাট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপালী বিশ^াস, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিসা আনজুম হলি, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, উপজেলা জাসাসের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ এবং নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা। উপজেলা পর্যায়ে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন কানাইঘাটের বিভিন্ন প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসার কয়েক শত শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী ১২৯জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে সম্মাননা স্বারক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়াও যারা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সুযোগ পেয়েছেন তাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষকবৃন্দ ও সুধীজন এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বক্তারা বলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সম্মান জানিয়ে তার শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বছরকে নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যদিয়ে আমাদের জাতীয় কবিকে যেমন সম্মানীত করা হয়েছে, পাশাপাশি নজরুল বর্ষে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে তার জীবন কর্মের উপর বিভিন্ন প্রতিযোগীতার আয়োজন করায় শিক্ষার্থীরা তাকে ধারণ করে আগামী দিনে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবেন বলে বক্তারা প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন।    

কানাইঘাটে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

কানাইঘাটে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটের কানাইঘাটে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) কানাইঘাট উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে যুবদলের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে কানাইঘাট পৌর শহরে এসে জড়ো হন।

পরে বিকেল ৪টার দিকে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি কানাইঘাট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজার পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

পথসভায় সঞ্চালনা করেন জেলা যুবদল নেতা ও কানাইঘাট উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আর এ বাবলু। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাজ উদ্দিন সাজু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলওয়ার ইসমাইল, সিলেট জেলা যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, সেলিম রনি ও গিয়াস উদ্দিন, কানাইঘাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মামুন রশিদ মামুন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আহমদ বাদল, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাজ উদ্দিন সাজু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটি গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ও জনগণের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যুবসমাজ দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি। দেশ ও জাতির কল্যাণে যুবকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মসূচিতে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন সম্পন্ন হয়।

Saturday, October 24

  ‘ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন রম্য লেখক মাহবুবুর রশিদ

‘ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন রম্য লেখক মাহবুবুর রশিদ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

রম্য লেখালেখিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ  ‘ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড’  পেয়েছেন সিলেটের কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও রম্য লেখক মাহবুবুর রশিদ।

 ২৪ অক্টোবর(শনিবার) বিকেলে সিলেট বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও পবিত্র উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করায় তাঁর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর বাবা, কলামিস্ট মহিউদ্দিন।

পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় মাহবুবুর রশিদ বলেন, “মানুষকে হাসানো অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। হাসি মানুষের মন ভালো রাখার পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। সেই মানুষকে হাসানোর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি। এ সম্মাননা আমাকে রম্য লেখালেখিতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।” তাঁকে এ সম্মাননার জন্য মনোনীত করায় ‘ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড’-এর আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

মাহবুবুর রশিদের জন্ম সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৬ নম্বর সদর ইউনিয়নের গোসাইনপুর গ্রামে। তাঁর বাবা কলামিস্ট মো. মহিউদ্দিন এবং মা জাহেদা খানম শিরিন। ২০০৬ সালে সিলেটের প্রাচীনতম সংবাদপত্র দৈনিক যুগভেরীর কানাইঘাট উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। এরপর থেকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত রম্য লেখালেখির মাধ্যমে পাঠকমহলে পরিচিতি অর্জন করেছেন।

লেখালেখি ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি মাহবুবুর রশিদ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। রম্য লেখালেখির মাধ্যমে সমাজের নানা অসংগতি, মানুষের জীবনযাপন ও সমকালীন বিষয়গুলো হাস্যরসের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেন তিনি।

বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে কানাইঘাটে নাগরিক সংবর্ধনা

বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে কানাইঘাটে নাগরিক সংবর্ধনা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হিফজুল কোরআন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে তাঁর নিজ জন্মভূমি সিলেটের কানাইঘাটে বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজয়ী এই কৃতি সন্তানকে কাছে পেয়ে আনন্দ, ভালোবাসা ও গর্বে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষক, সহপাঠী, স্বজন ও এলাকাবাসী।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ মাদরাসা মাঠে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে এ নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননায় সিক্ত হন হাফেজ হিরা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণে পরিণত হন স্বয়ং হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা। তাঁর সুললিত কণ্ঠের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতে পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে এক আবেগঘন ও মুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন হিরার গর্বিত পিতা এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনওয়ারুল হক।

৯ নম্বর রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় কুরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা যুবায়ের আহমদ চৌধুরী। তরুণ আলেম মাওলানা খালেদ আহমদ ও মাওলানা নজরুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, মাওলানা আমিমুল ইহসান শামীম, মাওলানা রায়হান উদ্দিন, মাওলানা ইমরান হোসাইন, মাওলানা আলী আবেদীন, মাওলানা শাহেদ আহমদ, মাওলানা সাঈদ আহমদ, মাওলানা আব্দুল জলিল, হাজী মুদরিছ আলী, ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান চুনু ও ফয়ছল আহমদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক আলেম-ওলামা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা শাহ ওলিউর রহমান।


উল্লেখ্য, সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বিশ্বের শতাধিক দেশের সেরা প্রতিযোগীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা। কয়েক ধাপের তীব্র বাছাই শেষে ৩৮টি দেশের প্রতিযোগী মূল পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান। সেই বিশ্বমঞ্চে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে হিফজুল কোরআন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন বাংলাদেশের প্রতিযোগী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা।

আন্তর্জাতিক এ আসরটির উদ্বোধন করেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সমাপনী পর্বে দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান চ্যাম্পিয়ন হিরার হাতে সম্মাননা ট্রফি, নগদ ৪০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ৩ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের একটি স্বর্ণের বার এবং ৫ হাজার রিঙ্গিত সমমূল্যের ওমরাহ প্যাকেজ তুলে দেন। হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা রাজধানীর মিরপুর-১-এ অবস্থিত বিশিষ্ট ক্বারী নাজমুল হাসানের প্রতিষ্ঠান ‘মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামী’র শিক্ষার্থী।

Monday, October 19

কানাইঘাটে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু

কানাইঘাটে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু


নিজস্ব প্রতিবেদক: 

সিলেটের কানাইঘাটে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩ নম্বর দিঘীরপাড়, ৪ নম্বর সাতবাঁক ও ৬ নম্বর সদর ইউনিয়নে এ পাইলট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের মাঝে ডিজিটাল ট্যাব বিতরণ এবং কার্যক্রম সংক্রান্ত এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌসের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জিলানীর সঞ্চালনায় সভায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিটি পরিবারের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দায়িত্বে কারও কোনো অবহেলা বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তিনি এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞ সফল করতে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মীসহ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায় শেষে দ্রুততম সময়ে বাকি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।


সভায় কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, কানাইঘাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেন।


এ ছাড়া সভায় উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন।


রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে সভায় বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সফিক আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আলম মেম্বার এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাসেল চৌধুরী প্রমুখ।


অবহিতকরণ সভা শেষে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সুবিধার্থে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি তুলে দেওয়া হয়।

Monday, October 12

বাল্যবিয়ে রোধ ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সচেতনতার আহ্বান কানাইঘাটে

বাল্যবিয়ে রোধ ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সচেতনতার আহ্বান কানাইঘাটে


নিজস্ব প্রতিবেদক :

‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটের কানাইঘাটে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন। র‌্যালি শেষে উপজেলা সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শামছুন্নাহারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কন্যাশিশুর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং সমাজে তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে কন্যাশিশুরা নানা ধরনের নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। সম্মিলিত সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কন্যাশিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশু নির্যাতন, বাল্যবিয়ে ও শিশুদের প্রতি সব ধরনের নিপীড়ন প্রতিরোধে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. স্বপ্নীল সৌরভ রায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায়, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জিলানী, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, বিএনপি নেতা রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস।

কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারে ইউএনওর পরিদর্শন

কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারে ইউএনওর পরিদর্শন


নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবাসিক কোয়ার্টার পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস। এ সময় হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, সীমানাপ্রাচীর উঁচু করা এবং রাতের বেলা পুলিশের টহল বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুর রহমান, বিএনপি ও খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. স্বপ্নীল সৌরভ রায়, কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। চিকিৎসক ও নার্সরা এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগের কথা তাঁর কাছে তুলে ধরেন।

পরিদর্শনকালে ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস হাসপাতালের সীমানাপ্রাচীর আরও উঁচু করা, আবাসিক কোয়ার্টার এলাকায় বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ বন্ধ করা এবং রাতের বেলা থানা পুলিশের টহল জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার-ভিডিপি সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সম্প্রতি আবাসিক কোয়ার্টার এলাকায় কিছু বখাটে ও মাদকসেবীর অনুপ্রবেশ এবং সেখানে বসবাসরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আবাসিক কোয়ার্টারে বসবাসকারী চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ইউএনও কোয়ার্টার এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ সময় কানাইঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি আমানুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাসেল চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা ও পৌর বিএনপি, সহযোগী সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।