Previous
Next

সর্বশেষ


Thursday, May 14

কানাইঘাটে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের বিশেষ সভা

কানাইঘাটে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনের বিশেষ সভা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহদী হাসান শাকিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

সভায় ইউএনও মো. মেহদী হাসান শাকিল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের অংশ হিসেবে সারা দেশের ন্যায় কানাইঘাটেও খাল খনন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি খুব শিগগিরই সরকার ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে উপজেলাব্যাপী ১ লাখ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিপ্লব ও জনকল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে খাল খনন কার্যক্রম চলমান থাকবে। এসব উন্নয়নমূলক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা বলেন, নকলা খাল খনন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ব্যক্তিস্বার্থ বা প্রতিহিংসার কারণে কেউ যাতে এসব উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার, কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশিদ মামুন,সহ-সভাপতি আলমাছ উদ্দিন চৌধুরী,  ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা ফয়ছল আহমদ, উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির চেয়ারম্যান মাওলানা জামাল উদ্দিন, দিঘীরপাড় ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী, বড়চতুল ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী, ঝিঙ্গাবাড়ি ইউপির চেয়ারম্যান আবু বকর, রাজাগঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান মাওলানা সামসুল ইসলাম, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান ইকবাল, উপজেলা খেলাফত মজলিস নেতা হুসন আহমদ ও উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।

Wednesday, May 13

জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য হলেন সাংবাদিক এহসানুল হক জসীম

জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য হলেন সাংবাদিক এহসানুল হক জসীম


নিজস্ব প্রতিবেদক ::

কানাইঘাটের সন্তান ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক ডেইলি সানের সিনিয়র প্রতিবেদক এহসানুল হক জসীম জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করেছেন।

পেশাদার সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন জাতীয় প্রেসক্লাব মঙ্গলবার (১২ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করে। এতে শুরুতেই স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন সাংবাদিক, গবেষক ও লেখক এহসানুল হক জসীম।

সদস্যপদ লাভের প্রতিক্রিয়ায় এহসানুল হক জসীম বলেন,“জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যপদ পেয়েছি। আরো আনন্দিত যে, শুরুতেই স্থায়ী সদস্য হিসেবে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। দেশের সিনিয়র সাংবাদিকদের এই সংগঠনের সদস্য হতে পেরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।”

তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি, দেশের খ্যাতিমান সাহিত্যিক কবি হাসান হাফিজ এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুইয়া-এর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এহসানুল হক জসীমের গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ব্রাক্ষ্মণগ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জনের পর বর্তমানে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।

তার পিতা শফিকুল হক এবং মাতা সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি লেখালেখিতেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতির ব্যবচ্ছেদ’ এবং ‘বরাক পারের বয়ান’।

২০২২ সালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে গবেষণা পরিচালনা করেন তিনি। ২০২৩ সালে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মিডিয়া ফেলোশিপ লাভের পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রদত্ত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ জাতীয় সম্মাননা-২০২৩’ অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ‘মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অন জুডিশিয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্স ২০২৫’ এবং রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ঘোষিত ‘নগদ-ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ লাভ করেন।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সেমিনার, সম্মেলন ও গবেষণাধর্মী আয়োজনে অংশগ্রহণ এবং প্রবন্ধ উপস্থাপনায়ও রয়েছে তার সক্রিয় ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা।

Tuesday, May 12

কানাইঘাটে লোভা নদীর ভাঙন রোধে মাঠে পাউবো, দ্রুত প্রকল্প নেওয়ার আশ্বাস

কানাইঘাটে লোভা নদীর ভাঙন রোধে মাঠে পাউবো, দ্রুত প্রকল্প নেওয়ার আশ্বাস


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভা নদীর  ভাঙনকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের কর্মকর্তারা। 

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে লোভা নদীর বিভিন্ন ভাঙনকবলিত স্থান ঘুরে দেখেন পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শওকত উজ্জামান। পরিদর্শনকালে তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তরুণ রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর সাজু চৌধুরী,কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ,  বিশিষ্ট সমাজসেবী ইয়াহইয়া আহমদ,কানাইঘাট উপজেলা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি হাবিব আহমদ,জাতীয় নাগরিক পার্টি সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ইউসুফ,মাস্টার শাব্বির আহমদ, ইউপি সদস্য ময়নুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য কামাল আহমদ,সমাজসেবী মাহবুবুর রহমান, সালেহ আহমদ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পরিদর্শন শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, “সম্প্রতি সিলেট-৫ আসনের এমপি মহোদয়ের সঙ্গে নদী ভাঙন নিয়ে আমাদের একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সভার প্রেক্ষিতেই আজ আমরা এই এলাকায় এসেছি। লোভারমুখ বাজার থেকে মুলাগুল বাজার পর্যন্ত নদীর দুই তীরের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। ভাঙন রোধে দ্রুত একটি কার্যকর প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে লোভা নদীর অব্যাহত ভাঙনে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বিশেষ করে নদীর দুই পাড়ের উর্বর জমি প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। কুকুবাড়ি চর এলাকায় ব্যাপক সবজি চাষাবাদ হয়, যা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে কৃষি ও বসতভিটা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

এসময় স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী নদী ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং সরেজমিনে এসে পরিস্থিতি পরিদর্শন করায় পাউবো কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। 



Monday, May 11

কানাইঘাটে ভাল্লুক ভেবে বিরল বন্য শূকরকে পিটিয়ে হ*ত্যা

কানাইঘাটে ভাল্লুক ভেবে বিরল বন্য শূকরকে পিটিয়ে হ*ত্যা

ধরার পর শেকলে বাঁধা শূকর-ভাল্লুক। মারা যাওয়ার পর বন বিভাগ মাটিচাপা দেয়। ছবি: খবরের কাগজ

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

বাঘ শিকারের অন্যতম পদ্ধতি ‘বাঘ কেওড়’। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা সিলেটের কানাইঘাটের বিভিন্ন গ্রামে এই পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে। সম্প্রতি ‘বাঘ কেওড়’ দিয়ে ভাল্লুক ধরা হয়েছে—এমন ধারণা থেকে ভারতীয় একটি বন্য শূকরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। প্রাণিটি বাংলাদেশের বনে খুবই বিরল। লম্বাটে এবং শরীরের গড়ন কিছুটা ভাল্লুকের মতো হওয়ায় এগুলোকে ‘শূকর-ভাল্লুক’ বলা হয়।

বনকর্মীরা জানিয়েছেন, এই এলাকায় হিংস্র বন্য প্রাণীর বিচরণ রয়েছে। খাবারের সন্ধানে এসব প্রাণী হন্যে হয়ে এসে মানুষের ওপর আক্রমণ করে। মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। এ কারণে এসব প্রাণী নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি দেখা যায়। তবে পরিবেশ সংগঠকদের মতে,  ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে এসব প্রাণীর আসা-যাওয়াটা স্বাভাবিক। হয়তো ভারতীয় অংশে খাবারের সংকট দেখা দেওয়ায় এসব প্রাণী এপারে চলে আসে। বিষয়টি নিয়ে দুদেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাজ করা উচিত।

গত শনিবার সন্ধ্যায় বন বিভাগের কানাইঘাট রেঞ্জ থেকে শূকরটি হত্যার তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বন বিভাগের স্থানীয় বিট অফিস সূত্র জানায়, বন্য শূকরটি ভারত থেকে বাংলাদেশে নেমে এসেছিল। স্থানীয় লোকজন এটিকে ভাল্লুক ভেবে লোহার জিঞ্জির দিয়ে আটকে পিটিয়ে হত্যা করে। বন বিভাগের স্থানীয় বিট কর্মীরা খবর পেয়ে বন্য শূকরটি উদ্ধার করে চিকিৎসালয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে এটি মারা যায়। পরে এটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

শূকর-ভাল্লুকটিকে আটকে রেখে পেটানোর একটি ভিডিওচিত্র প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তাতে দেখা যায়, লোহা দিয়ে উপর্যুপরি পেটানোর পর একপর্যায়ে এটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। কানাইঘাটের বাংলাবাজার থেকে এ দৃশ্য দেখে স্থানীয় এক যুবক বন বিভাগে খবর দিলে শুক্রবার বিকেলে সেটি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাওয়ার পথেই এটি মারা যায়। 

সিলেট বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার শাহ আলম বলেন, ‘মুমূর্ষু অবস্থায় পেয়ে প্রাণীটিকে আমরা উদ্ধার করে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারা যায়নি। বন্য শূকরটিকে ভাল্লুক ধারণা করে এলাকাবাসী মেরেছে। আঘাতের পর আঘাতে সেটি মারা যায়।’

রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, শূকর-ভাল্লুক অথবা বন্য শূকর বাংলাদেশে নেই। এগুলো ভারতের বনে বসবাস করে। সেখানেও বিরল। ওপার থেকে এপারে বন্য প্রাণী আসায় স্থানীয় লোকজন তটস্থ থাকেন। শূকরগুলো হন্যে হয়ে এসে মানুষজনের ওপর আক্রমণ করে। এতে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে সেখানে ভারতীয় হিংস্র প্রাণীর আক্রমণ-আতঙ্ক রয়েছে। 

জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের জঙ্গল থেকে বাংলাদেশের সীমান্তের এপারে নয়টি গ্রাম বাঘসহ ভারতীয় বন্য প্রাণীর বিচরণক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত। ২০০৯ সালে ওই এলাকা থেকে বিরল কালো বাঘ (ব্ল্যাক প্যানথার) জ্যান্ত অবস্থায় ‘বাঘ কেওড়ে’ ধরা পড়েছিল। এরপর থেকে সেখানে কেওড় প্রথা প্রচলিত রয়েছে।

এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বাংলাবাজার ছাড়াও কানাইঘাটের বাগফৌজ, কালীনগর, লক্ষ্মীপ্রসাদ, পাটানিপাড়া, বউলবাগ, তৃতীয় বউলবাগ, বিহারীপাড়া, পশ্চিম বিহারীপাড়া ও নয়াখেল এলাকায় ভারতীয় প্রাণীর বিচরণ দেখা যায়। এই ৯টি গ্রামের ১৮টি মহল্লায় প্রায় ১০ হাজার পরিবারের বসবাস। সর্বশেষ ২০১৯ সালে সেখানে কেওড় দিয়ে একটি বাঘ জ্যান্ত ধরা হয়েছিল। তবে সেটি রাখা যায়নি। ভারতের জঙ্গলে ছুটে গিয়েছিল।

শূকর-ভাল্লুকটিকে পেটানোর ভিডিও দেখেছেন সিলেটের পরিবেশ ও প্রাণী অধিকার সংগঠনের সংগঠক, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’র (ধরা) কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুল করিম চৌধুরী কিম। তিনি ভিডিওটি বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে দিয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘ওপার থেকে এপারে হিংস্র প্রাণী আসবে, তাতে মানুষের বসবাস অনিরাপদ হবে, এটা স্বাভাবিক। এলাকাটির ভৌগোলিক কাঠামো যেহেতু এমন, সেখানে বন বিভাগের প্রাণী সংরক্ষণ দপ্তরের নজরদারি বাড়ানো উচিত।’ তার মতে, ভারতীয় বনজঙ্গলে হয়তো খাবার সংকট, তাই এগুলো এপারে আসছে। এতে দুই দেশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

সৌজন‌্য: খবরের কাগজ

কানাইঘাটে সুরমা নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে মুফতি আবুল হাসান এমপি

কানাইঘাটে সুরমা নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে মুফতি আবুল হাসান এমপি


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান কানাইঘাটে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সোমবার (১১ মে) বিকেল ৩টায় নৌকাযোগে তিনি পৌরসভার বায়মপুর, গৌরিপুর, লক্ষীপুর, ডালাইচর এবং সদর ইউনিয়নের গৌরিপুর, কুওরঘড়ি ও গোসাইনপুর গ্রামের নদীভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় বাসিন্দারা এমপির কাছে নদীভাঙনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে জানান, সুরমা নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতিনিয়ত বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।

এসময় মুফতি আবুল হাসান বলেন, “কানাইঘাট-জকিগঞ্জ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে নদীভাঙন। বিষয়টি আমি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছি এবং পানি সম্পদ মন্ত্রীর সাথেও আলোচনা করেছি।”

তিনি আরও জানান, সরকার ইতোমধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙনরোধে ৫ কিলোমিটার এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে কানাইঘাটের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনের সময় সংসদ সদস্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মিত সুরমা ডাইকের কয়েকটি বেড়িবাঁধ ও কাঁচা রাস্তার কাজ পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি পৌরসভার পানি শোধনাগার প্রকল্পের অগ্রগতিও ঘুরে দেখেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কানাইঘাটের এসও শওকত, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি আমানুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা ফয়ছল আহমদ, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ উপজেলা খেলাফত মজলিসের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

দালাল’ আখ্যার প্রতিবাদে কানাইঘাটে ফারিয়ার মানববন্ধন

দালাল’ আখ্যার প্রতিবাদে কানাইঘাটে ফারিয়ার মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশে কর্মরত ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে সিলেটের কানাইঘাটে প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সংগঠন “কানাইঘাট মডেল ফারিয়া”।

সোমবার (১১ মে) সকাল ১১টায় কানাইঘাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেলে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ‘দালাল’ আখ্যায়িত করে হেনস্তা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

কানাইঘাট মডেল ফারিয়ার সভাপতি আবু হানিফ জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিমের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশের ন্যায় কানাইঘাটেও এ মানববন্ধন পালন করা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ উচ্চশিক্ষিত যুবক বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। তারা নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়েও অবদান রাখছেন। অথচ একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পেশাজীবীদের ‘দালাল’ আখ্যা দিয়ে সম্মানহানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তারা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পেশার মর্যাদা রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন ফারিয়ার নেতৃবৃন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ফারিয়ার নেতৃবৃন্দ জাহিদ আল ফারুক, মোহাম্মদ জাকিউল ইসলাম, বিলাল সরকার, আব্দুর রশিদ, মোহাম্মদ রুজ বেল্ট মিয়া, মোহাম্মদ শামসুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, বাবু মিলন রায়, মাসুদ রানা, ইসমাইল আলী ও রাজিব বিশ্বাসসহ অন্যান্যরা।

মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন।

কানাইঘাটে পুলিশের ফোর্স মোবিলাইজেশন: জোরদার চেকপোস্ট ও টহল

কানাইঘাটে পুলিশের ফোর্স মোবিলাইজেশন: জোরদার চেকপোস্ট ও টহল


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেট রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি ড. জিল্লুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে কানাইঘাট থানা পুলিশের উদ্যোগে ব্যাপক মোবিলাইজেশন কার্যক্রম ও বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। দৃশ্যমান টহল ও কঠোর নজরদারির কারণে জনমনে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একাধিক টিম উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজার, প্রধান সড়ক, জনবহুল এলাকা এবং সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ টহল ও চেকপোস্ট পরিচালনা করছে।

এ কার্যক্রমের আওতায় যানবাহন তল্লাশি, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সপ্তাহকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

নিয়মিত মোবিলাইজেশন কার্যক্রমের ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে রাত্রীকালীন সময়ে পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়িয়েছে নিরাপত্তাবোধ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, “থানা পুলিশের দৃশ্যমান টহল ও বিশেষ চেকপোস্টের কারণে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তিতে চলাফেরা করা যাচ্ছে।”

কানাইঘাট থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি যেকোনো অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

“জনসেবাই পুলিশের প্রধান অঙ্গীকার”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কানাইঘাট থানা পুলিশ জননিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান থানার ওসি মোঃ আমিনুল ইসলাম। 

তিনি বলেন,"পুলিশ সবসময় জনসাধারণকে সেবা প্রদান ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।”

Sunday, May 10

কানাইঘাটে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কমিটি গঠন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

কানাইঘাটে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কমিটি গঠন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের কানাইঘাট উপজেলা ও পৌর শাখার কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) বিকেল ৩টায় উপজেলার শ্রী শ্রী বামজঙ্ঘা মহাশক্তি পীঠ কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করা হয়। বামজঙ্ঘা কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মানিক লাল দাসের সভাপতিত্বে এবং মাষ্টার প্রসাদ চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সদস্য সচিব ও সাবেক ছাত্রনেতা কল্লোল জ্যোতি বিশ্বাস। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ফনি পুরকায়স্থ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুগ্ম আহ্বায়ক পানেশ দেব ও বাপ্পু দত্ত।

এছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিনসহ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে সমাজ উন্নয়নে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

প্রধান অতিথি কল্লোল জ্যোতি বিশ্বাস বলেন, ১৯৮৮ সালে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার আদায় ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন।

তিনি নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে স্থানীয় সকল ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করার আহ্বান জানান। সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

কানাইঘাটে পুলিশের অভিযানে দুই মা/দক ব্যবসায়ী গ্রে/ফ/তা/র

কানাইঘাটে পুলিশের অভিযানে দুই মা/দক ব্যবসায়ী গ্রে/ফ/তা/র


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা ও ভারতীয় মদসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৯ মে) বিকেলে কানাইঘাট থানা পুলিশ পৃথক অভিযান পরিচালনা করে দুইজনকে আটক করে। এর মধ্যে বড়বতুল ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের তবারক আলীর ছেলে ও এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী সফিক আহমদ ওরফে পঁচাই মিয়া (৪৭)-কে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ নিজ বাড়ি থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন থানার এসআই শৈলেস চন্দ্র দাসের নেতৃত্বাধীন একদল পুলিশ।

অপরদিকে, কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের চাউরা উত্তর গ্রামে অভিযান চালিয়ে বীরদল ভাড়ারীফৌদ গ্রামের মৃত সমছুল হকের ছেলে বিল্লা হোসেন (৩৭)-কে ৬ বোতল ভারতীয় “অফিসার্স চয়েস” মদসহ আটক করেন থানার এসআই সাইদুল হক ও সঙ্গীয় ফোর্স।

উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের ঘটনায় গ্রেফতার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সফিক আহমদ ওরফে পঁচাই মিয়া দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কৌশলে এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

এদিকে রবিবার (১০ মে) দুপুরে কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী দনা এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় বিজিবি। দনা বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে জব্দ করেন। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

Thursday, May 7

কানাইঘাটে শুরু হলো নকলাখালের পুনঃখনন কাজ

কানাইঘাটে শুরু হলো নকলাখালের পুনঃখনন কাজ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

র্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় শুরু হয়েছে বৃহৎ পরিসরের খাল পুনঃখনন কার্যক্রম। প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন ও লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নকলাখালের আমরী সুইচ গেইট থেকে কৃষ্ণপুর গ্রাম পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার অংশের পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খনন কাজের উদ্বোধন করেন কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান শাকিল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশিদ মামুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সুবল চন্দ্র বর্মন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপষ চক্রবর্তী, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির চেয়ারম্যান মাওলানা জামাল উদ্দিন, কানাইঘাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সদর ইউপি বিএনপির সভাপতি ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন মেম্বার, প্রকল্প কমিটির সেক্রেটারি ইউপি সদস্য বদরুল ইসলামসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং উপজেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ খাল পুনঃখনন কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে যেমন খালের পানিপ্রবাহ সচল হবে, তেমনি এলাকার শতাধিক দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান শাকিল বলেন,“বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখননের মতো যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতে নতুন বিপ্লব ঘটবে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কানাইঘাটের নকলাখালের পুনঃখনন কাজ শুরু করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন খালের তালিকা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে উপযুক্ত খালগুলোতেও খনন কাজ শুরু হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন, ধান ও শাক-সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত হাওড়ে নেমে গিয়ে জলাবদ্ধতা কমবে। পাশাপাশি সারা বছর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশিদ মামুন বলেন,“শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। তাঁরই সুযোগ্য সন্তান বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই কার্যক্রমকে নতুনভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো কানাইঘাটেও এ কর্মসূচির আওতায় নকলাখাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা চাই প্রকল্পটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক।”

জানা গেছে, ৪৩ দিনের মধ্যে খনন কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পে প্রতিদিন যান্ত্রিক সরঞ্জামের পাশাপাশি ৫৩৫ জন শ্রমিক কাজ করবেন। জনপ্রতি দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে মোট ১ লাখ ৬ হাজার ২৪০.১৩৬ ঘনমিটার মাটি খনন করা হবে।

Wednesday, April 29

সিলেটে স্বামীর পা ধরেও রেহাই পাননি স্ত্রী, তিন মেয়ের সামনেই হ*ত্যা*কা*ণ্ড

সিলেটে স্বামীর পা ধরেও রেহাই পাননি স্ত্রী, তিন মেয়ের সামনেই হ*ত্যা*কা*ণ্ড


মাহবুবুর রশিদ : 

সিলেটের কানাইঘাটে স্বামীর হাতে স্ত্রী হত্যার নির্মম ঘটনা পুরো উপজেলাজুড়ে শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। তিন কন্যার চোখের সামনে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে স্বামী সোহেল আহমদ। পরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি ঘটনার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যার সময় স্ত্রী ফারহানা বেগম প্রাণভিক্ষা চেয়ে স্বামীর পা ধরেছিলেন। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, সোহেল ধারালো দা দিয়ে ফারহানার মাথার পেছনে, গালে ও বুকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হামলা চালায় পাষাণ স্বামী। 

ঘটনার সময় তাদের তিন কন্যা মায়ের ওপর হামলা দেখে এগিয়ে এলে তাদেরও হত্যার হুমকি দেন অভিযুক্ত বাবা। শিশুদের চিৎকারে পাশের কক্ষ থেকে সোহেলের বাবা ছুটে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর স্ত্রীকে হত্যা করে সোহেল নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায় । বুধবার (২৯ এপ্রিল) এ লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয় নিহত ফারহানা বেগমের ১২ বছর বয়সী মেয়ে। 

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে গভীর নাড়া দিয়েছে। মানুষের কাছে বাবা মানে পরিবারে ছায়া, আশ্রয় ও নিরাপত্তার প্রতীক। সন্তানের কাছে বাবা হলো ভরসার শেষ ঠিকানা। কিন্তু সেই বাবাই যদি সন্তানের সামনে মায়ের ঘাতক হয়ে ওঠেন, তবে তা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়-একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ একসঙ্গে ভেঙে পড়ার করুণ নাম। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ১ম খণ্ড ছিলাইরপাড় গ্রামে সোহেল আহমদের সঙ্গে তার স্ত্রী ফারহানা বেগমের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেল ধারালো দা দিয়ে ফারহানাকে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পর সোহেল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে নিহতের ভাই সেলিম আহমদ বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে কালীনগর বাগরা এলাকা থেকে সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। 

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল গ্রামের ফারহানা বেগমের সঙ্গে সোহেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ফারহানার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। স্বজনরা জানান, নির্যাতনের কারণে দুই দিন আগে ফারহানা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে সোমবার তিনি মামার বাড়ি দরবস্ত ইউনিয়নের মহাইল গ্রামে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে রাতে সোহেল ও তার এক চাচাতো ভাই সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর গভীর রাতে তাকে হত্যা করা হয়।

Tuesday, April 28

কানাইঘাট স্বামীর হাতে প্রাণ গেল স্ত্রীর

কানাইঘাট স্বামীর হাতে প্রাণ গেল স্ত্রীর


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে স্বামীর ছুরিকাঘাতে ফারহানা বেগম নামে তিন সন্তানের জননীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার(২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ১ম খণ্ড গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড়বন্দ ১ম খণ্ড গ্রামের সোহেল আহমদের সঙ্গে কয়েক বছর আগে জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল গ্রামের ফারহানা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সোহেল প্রায়ই ফারহানার ওপর নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নির্যাতনের কারণে দুই দিন আগে ফারহানা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে সোমবার (২৭ এপ্রিল) তিনি তার মামার বাড়ি দরবস্ত ইউনিয়নের মহাইল গ্রামে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে রাতে সোহেল আহমদ ও তার এক চাচাতো ভাই সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর গভীর রাতে ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের ভাই নোহা গাড়িচালক সেলিম উদ্দিন জানান, তার বোনের স্বামী সোহেল একজন মাদকাসক্ত। তিনি প্রায়ই ফারহানাকে মারধর ও নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার সালিসি বৈঠকও হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে তার বোন প্রায়ই বাবার বাড়িতে চলে আসতেন। সর্বশেষ আবারও মারধরের পর তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সোমবার তার বোন দরবস্ত ইউনিয়নের মহাইল গ্রামের  মামার বাড়িতে যায়। রাতে মামার বাড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।

ঘটনার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফারহানা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে।
কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী সোহেল আহমদকে আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

Monday, April 20

কানাইঘাটে পাহাড়ঘেরা কেওটি হাওর, পর্যটন ও খনিজে নতুন স্বপ্ন

কানাইঘাটে পাহাড়ঘেরা কেওটি হাওর, পর্যটন ও খনিজে নতুন স্বপ্ন

এহসানুল হক জসীম::

লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা কানাইঘাট উপজেলার ১ নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের কেওটি হাওর যেমন রূপলাবণ্যে অনন্য, তেমনি সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা ধারণ করে। সত্যিই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য আধার। গত ১২ এপ্রিল সরেজমিনে গিয়ে যে উপলব্ধি-- পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষে অবস্থিত এই হাওর অঞ্চলটি তার অনিন্দ্য সুন্দর রূপ দিয়ে পর্যটকদের মুগ্ধ করবে যদি এলাকাটিকে পর্যটক বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলা যায়।

একটি পাহাড়ি এলাকা। পাহাড়ে কি হাওর থাকে? এই যে পাহাড়ে হাওরের অস্তিত্ব-- এটা একটা বৈচিত্র নয় কি? সেই হাওরের বিস্তীর্ণ জমিতে বোরো চাষ হয়। অন্যান্য ফসলও হয়। আর এটি কেবল হাওর নয়। পাহাড়বেষ্টিত এলাকায় হাওর, আর সেই হাওরের মাঝখানে আবার টিলা বা পাহাড়। অর্থাৎ পাহাড়ে হাওর, আর হাওরের মাঝে পাহাড়। যখন পানিতে পুরো হাওর ডুবে যায় তখন টিলাগুলো বা টিলার উপর বাড়িগুলো ভেসে উঠে। খুবই সুন্দর দেখায়। 

সিলেটের পর্যটন এলাকা বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে জাফলং, লালাখাল, বিছানাকান্দি কিংবা রাতারগুলের ছবি। কিন্তু কানাইঘাট উপজেলার ১ নং লক্ষীপ্রসাদ পুর্ব ইউনিয়নের কয়েকটি স্থান এখনো রয়ে আছে দৃষ্টির বাইরে। কেওটি হাওর এমন এক লুকানো এলাকা। বাইরের পর্যটক দুরে থাক, উপজেলার অন্য এলাকার লোকজনের কাছেও কেওটি হাওর অপরিচত-অজানা। অথচ এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ভূ-তাত্ত্বিক গুরুত্ব যেকোনো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রকে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

কেওটি হাওরের আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে বর্ষাকালে। যখন বৃষ্টির পানিতে হাওর কানায় কানায় পূর্ণ হয়, তখন নীল আকাশের মেঘের প্রতিচ্ছবি স্থির স্বচ্ছ পানিতে এক অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণা করে। হাওরের বুক চিরে জেগে থাকা ছোট ছোট টিলা এবং সেই টিলার ওপর সবুজ গাছের ছায়া একে দেয় এক ভিন্ন মাত্রা। বিকেলের শান্ত রোদে টিলার ছায়া যখন পানিতে পড়ে, তখন মনে হয় কোনো দক্ষ শিল্পী জলরঙ দিয়ে এক মায়াবী ছবি এঁকে রেখেছেন। এখানে পাহাড়, পানি আর সবুজের এমন মিতালি দেখা যায়, যা সচরাচর অন্য কোথাও মেলে না। আবার শুষ্ক মৌসুমে বিস্তীর্ণ সবুজ ফসলের মাঠ—ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে কেওটি হাওর তার রূপ বদলায়। দিগন্তজোড়া সবুজ পাহাড় আর হাওরের শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ সৌন্দর্যপিয়াসীদের এক নিমেষে মুগ্ধ করতে বাধ্য। 

কেওটি হাওর শুধু সৌন্দর্যের আধার নয়, হাওরের মধ্যকার বিভিন্ন টিলায় প্রচুর কাঁঠাল উৎপাদন হয়। এই হাওরের মধ্যে একটি গ্রাম কেরকেরিপাড়া। এই গ্রামের টিলায় ও বিভিন্ন বাড়িতে প্রচুর কাঁঠালের গাছ দেখা গেছে। গাছে প্রচুর কাঁঠাল এসেছে। এই গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী আব্দুল্লাহ বলেন, এখানে যে পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদন হয়, সেই কাঁঠাল স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে আশপাশ এলাকায় যায়। তবে যাতায়াতের সংকটের কারণে কাঁঠাল বেশি সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। উপযুক্ত দামও পাওয়া যায় না। প্রচুর আমও উৎপাদন হয় বলে জানালেন আব্দুল্লাহ। বিভিন্ন টিলা ঘুরে আব্দুল্লাহর এসব কথার বাস্তবতা দেখা গেছে। 

কেওটি হাওরে বিভিন্ন বণ্যপ্রাণীর বাস রয়েছে। বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য যেখানে সরকার নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে এই হাওরের টিলায় হরিণ, শুকর-সহ বিভিন্ন বণ্যপ্রাণী বাস করে। আমরা যখন সরেজমিন সেথায় ছিলাম, তখন দেখলাম লোভা চা বাগান এলাকার বেশ কিছু লোক একটি বড় টিলার আশেপাশে দেশী এক প্রকার অস্ত্র নিয়ে ঘুরাঘুরি করছে। হাওরের পার্শ্ববর্তী উজান বারাপৈত গ্রামের ইফতেখার চৌধুরী বললেন, উনারা মূলত লোভছাড়া চা বাগান এরিয়ার চা শ্রমিক। শুকর তাদের অনেকের পছন্দের খাবার। মাঝে মাঝে তারা দল বেঁধে এই এলাকায় আসেন শুকর শিকার করতে। কেরকেরিপাড়ার আব্দুল্লাহ জানালেন, মাঝে মাঝে হরিণের দেখা মেলে তাদের এলাকায়। 

গাছপালা ও ফলমূলের পাশাপাশি কেওটি হাওর স্থানীয় মৎস্য ও কৃষি অর্থনীতির জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান হতে পারে। এখানে বোরোসহ ধান চাষ হয়। সেই ধানের জমিতে আবার প্রচুর পরিমাণ মাছ থাকে। হাওরের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন খাল প্রবাহিত হয়েছে। খালগুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। ১ নং লক্ষীপ্রসাদ পুর্ব ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নাজিম উদ্দিন জানালেন, সীমান্তবর্তী দনা নদী থেকে পাহাড়ি এলাকার মধ্য দিয়ে একটি খাল কেওটি হাওরের দিকে প্রবাহিত হয়েছে। আগে এই খালে প্রচুর পানি ছিলো। নৌকাও চলতো। এখন খালটি ভরাট হওয়ার পথে। এই খালটিকে যদি পুনরজ্জীবিত করা যায় তথা খনন করে খালটির প্রবাহ যদি ঠিক হয় তাহলে কেওটি হাওরে আরো হাজার হাজার বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন হবে। হাওরটি তখন আরো সমৃদ্ধ হবে।  

তবে এই হাওরের আকর্ষণ শুধু তার নান্দনিক সৌন্দর্যে কিংবা মৎস্য ও কৃষি অর্থনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কেওটি হাওর কেবল তার দৃশ্যপট দিয়েই মুগ্ধ করে না, বরং এটি একটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ক্ষেত্রও বটে। এই অঞ্চলটি ভূ-তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার একটি নতুন দুয়ার উন্মোচন করতে পারে যদি সেভাবে পরিকল্পনা নিয়ে আগানো যায়। স্থানীয়দের কারো কারো মতে, কেওটি হাওর এলাকায় চীনামাটির (Kaolin) আছে। হাওরের পাশ্ববর্তী এলাকা ভাটি বারাপৈতের বাসিন্দা এবং ইউপি মেম্বার কোহিনুর আহমদ বলেন, এখানে চীনামাটি থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো উচিত বলে তিনি মনে করেন। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ডা. ফয়েজ আহমদের মতে, অপার সম্ভাবনার কেওটি হাওর পর্যটনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও হাতছানি দিচ্ছে। প্রয়োজন এই হাওরকে নিয়ে যথাযথ পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ। 

সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলের মাটির গঠন ও প্রকৃতি এই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করে। সরেজমিন যা দেখা গেলো তাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকার সাথে কিছুটা মিল পাওয়া গেছে। সেখানে চীনামাটি পাওয়া যায়। কেওটি হাওরের মাটি বা টিলার গঠন প্রকৃতি ওই জায়গার মতো। কেওটি হাওর থেকে কিছু মাটি ব্যাগে করে ঢাকায় নিয়ে এসেছি। যদি সরকারি উদ্যোগে এখানে খনিজ অনুসন্ধান চালানো হয়, তবে এটি দেশের সিরামিক শিল্পের জন্য একটি বড় শক্তির উৎস হয়ে উঠতে পারে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যদি এমনটি প্রমাণিত হয়, তাহলে সেটা সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। 

চীনামাটি বিভিন্ন শিল্পে অপরিহার্য। বিশেষ করে সিরামিক, কাগজ, রং, রাবার এবং প্রসাধনী শিল্পে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যদি এই অঞ্চলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ও মানসম্পন্ন চীনা মাটির মজুদ নিশ্চিত করা যায়, তবে এটি কেবল স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার করবে না, বরং জাতীয় পর্যায়েও ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পিত খনন ও প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে উঠলে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

এত সম্ভাবনা ও অনিন্দ্য সুন্দর প্রকৃতি থাকা সত্ত্বেও কেওটি হাওর আড়ালে রয়ে গেছে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দুর্গম এলাকায় হওয়ার কারণে। কানাইঘাট উপজেলা সদর কিংবা উপজেলার অন্য যে কোন এলাকা থেকে ১ নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের এই দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো যে কারো জন্য বেশ কষ্টসাধ্য। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং যানবাহন না থাকায় উপজেলা বা দেশের অন্যান্য প্রান্তের মানুষ আসা দুরে থাক, এই ইউনিয়নেরও অনেকের আসার সুযোগ কম। কেওটি হাওর বা পুরো ইউনিয়নে আজো গাড়ির চাকা ঘুরেনি। 

সিলেট শহর থেকে আনুমানিক ৫০ কিলোমিটার দুরের কেওটি হাওরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আমরা সিলেট শহর থেকে জকিগঞ্জ রোড ধরে রওয়ানা হই। সড়কের বাজারের একটু আগে সাতবাঁক ঈদগাহে বা হারিছ চৌধুরীর কবরের পাশে নামি। ওখান থেকে আনুমানিক এক কিলোমিটার পথ ধরে অটোরিক্সায় দিঘীরপার খেয়াঘাট গিয়ে খেয়া নৌকায় সুরমা নদী পার হয়ে উজান বারাপৈত গ্রাম। এই গ্রামের ইফতেখার চৌধুরীর সহযোগিতায় বাইকযোগে আরো প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কেওটি হাওর যাই। ওখানে কেরকেরিপাড়া গ্রামে একটা মসজিদ পাই, মসজিদের সাথে একটা নতুন মাদ্রাসাও হয়েছে। সিলেট-জকিগঞ্জ রোডে সড়কের বাজার নেমে সেখান থেকে হারিছ চৌধুরীর বাড়ির ঠিক বিপরীতে অবস্থিত মমতাজগঞ্জ বাজার হয়েও কেওটি হাওর যাওয়া যায়।  

সঠিক পরিকল্পনা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কেওটি হাওর যেমন পর্যটকদের তৃষ্ণা মেটাবে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। প্রকৃতি যেখানে দুহাত ভরে সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে, সেখানে মানুষের একটু সহযোগিতা আর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলে কেওটি হাওর হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পর্যটন গন্তব্য। কেওটি হাওর একদিকে যেমন প্রকৃতির এক অমূল্য দান, অন্যদিকে এটি খনিজ সম্পদের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা। পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি ভূ-তাত্ত্বিক এই সম্পদের সঠিক ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কেওটি হাওর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে। 

লেখক: চেয়ারম্যান, কানাইঘাট গণশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন