Previous
Next

সর্বশেষ


Tuesday, July 7

কানাইঘাটে জাহাঙ্গীর হ*ত্যা মা’ম’লা’র ৩ আ’সা’মি কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার

কানাইঘাটে জাহাঙ্গীর হ*ত্যা মা’ম’লা’র ৩ আ’সা’মি কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক:
 

কানাইঘাটে পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলার তিন আসামিকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত রোববার (৫ জুলাই) রাতে কক্সবাজার শহরে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি নিহতের ভায়রা ভাই শামীম উদ্দিন (৪৫), তার ভাই ডালিম উদ্দিন (৩৫) এবং ভাগ্নে তারেক উদ্দিন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, জাহাঙ্গীর আলম নিহত হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক দল আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। তবে আসামিরা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় তাদের গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি। মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার বাদী ও নিহতের ছোট ভাই আলমগীর হোসেন তিন আসামির গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করে কানাইঘাট থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তার ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এজাহারভুক্ত পলাতক অপর তিন আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত বুধবার স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ৩য় খণ্ড গ্রামের বাসিন্দা মৃত মুসা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে স্থানীয় করুনা সুন্দরী দিঘীর সড়কের পাশে তার ভায়রা ভাই শামীম উদ্দিন ও সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে কিশোর শ্রমিক আহাদ আহমদ হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক চৌকস দল দিন-রাত কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মামলার প্রধান আসামি সায়েম আহমদকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

কানাইঘাটে নি'খোঁ'জে'র দুই দিন পর সুরমা নদীতে ভেসে উঠল যুবকের লা/শ

কানাইঘাটে নি'খোঁ'জে'র দুই দিন পর সুরমা নদীতে ভেসে উঠল যুবকের লা/শ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সুরমা নদী থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম মো. ইকবাল হুসেন (১৯)। সে উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের নিজ রাজাগঞ্জ গ্রামের মখলিছ মিয়ার ছেলে।  ইকবাল মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলো বলে জানা গেছে। 

জানা যায়, দুই দিন আগে ইকবাল বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সুরমা নদীর চান্দের বাজার এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি ইকবাল হুসেনের বলে শনাক্ত করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান চুনু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ইকবাল হুসেন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। দুই দিন আগে তিনি নিখোঁজ হন। আজ সুরমা নদী থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।”


জকিগঞ্জে সুরমার ভয়াল ভাঙন: বিলীনের পথে ১২১ বছরের বিদ্যালয়, আতঙ্কে পাঁচ গ্রামের মানুষ

জকিগঞ্জে সুরমার ভয়াল ভাঙন: বিলীনের পথে ১২১ বছরের বিদ্যালয়, আতঙ্কে পাঁচ গ্রামের মানুষ


হাফিজ আহমদ সুজন:

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। ভাঙনের তীব্রতায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে নদীপাড়ের কয়েকটি গ্রাম, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। প্রতিনিয়ত নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। নতুন করে ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সুরানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী এই বিদ্যালয়টি বর্তমানে নদীভাঙনের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি সুরমা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

বিদ্যালয়টিতে মানিকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর, দুধরচক, শিবেরচক, হরাইচক ও সুরানন্দপুর-এই পাঁচটি গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থাও বড় সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

মানিকপুর ইউনিয়নের সুরানন্দপুর প্রবাসী ফোরামের সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক, পর্তুগাল প্রবাসী জুবায়ের আহমদ বলেন, “সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো চরম হুমকির মুখে রয়েছে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সুরমা নদীর ভাঙনে এই জনপদের মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় বছর বছর একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Monday, July 6

কানাইঘাট হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপিসহ শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

কানাইঘাট হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপিসহ শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান। সোমবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর বিভাগ ঘুরে দেখা হয় এবং চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাংসদ আবুল হাসানের আমন্ত্রণে পরিদর্শনে অংশ নেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. আখলাক উদ্দিন, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম, সহকারী পরিচালক (রোগ নির্ণয়) ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত।

হাসপাতালে পৌঁছালে অতিথিদের স্বাগত জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান শাকিল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবল চন্দ্র বর্মণসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়রা হাসপাতালের জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সভায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর উদ্যোগেই স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চপর্যায়ের এ পরিদর্শনের আয়োজন হয়েছে। তিনি জানান, সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীর বিপুলসংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং খুব শিগগিরই কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকট ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ৫০ শয্যার হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা ইতোমধ্যে তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই পরিদর্শনের মাধ্যমে হাসপাতালের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান এবং চিকিৎসাসেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সবাইকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ সময় সিলেট জেলা ও কানাইঘাট উপজেলা খেলাফত মজলিশের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Sunday, July 5

‘আমের মৌসুম চলে যাচ্ছে, অথচ কেউ এক কেজি ল্যাংড়া আমও পাঠাল না’

‘আমের মৌসুম চলে যাচ্ছে, অথচ কেউ এক কেজি ল্যাংড়া আমও পাঠাল না’

রম্য :

কানাইঘাট নিউজের মুখোমুখি মেসি


সম্প্রতি এক গভীর রাতে স্বপ্নযোগে কানাইঘাট নিউজ অফিসে হাজির হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ঘুম ভাঙার পর তড়িঘড়ি করে তার কাল্পনিক সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে-মাহবুবুর রশিদ

কানাইঘাট নিউজ : কেমন আছেন মেসি ভাই?

মেসি : আর কেমন থাকি ভাই! একটা গোল বলকে গোল করার জন্য সারা জীবন দৌড়াদৌড়ি করে যাচ্ছি। মানুষ ভাবে আমি ফুটবল খেলি, আসলে তো আমি বলটারে গোল করি!

কানাইঘাট নিউজ  : আপনার পায়ে কী এমন জাদু আছে যে বল পায়ে গেলেই গোল হয়ে যায়?

মেসি : জাদু-টাদু কিছু নারে ভাই। বলটা আমার পায়ে আসার পর আর যেতে চায় না। চুম্বকের মতো আটকে থাকে। শেষে বিরক্ত হয়ে একটা জোরালো লাথি মেরে গোলপোস্টে পাঠিয়ে দিই!

কানাইঘাট নিউজ  : গতদিন আস্ত একটা পেনাল্টি মিস করলেন যে?

মেসি : আসলে পেনাল্টি আর পোল্ট্রি মুরগি দুটোই আমার খুব অপছন্দ! আমি মাগনা গোল দিতে পছন্দ করি না। ঘাম ঝরিয়ে, ডিফেন্ডারদের ঘুরিয়ে গোল দিতে বেশি মজা পাই।

কানাইঘাট নিউজ  : জানেন তো, বাংলাদেশে আপনার অসংখ্য অন্ধ ভক্ত আছে?

মেসি : কীভাবে জানব বলেন? আমের মৌসুম চলে যাচ্ছে, অথচ কেউ এক কেজি ল্যাংড়া আমও পাঠাল না! শুধু ফেসবুকে লাভ ইউ মেসি লিখলে তো হবে না, মাঝে মাঝে আম-কাঁঠালও পাঠাতে হয়!

কানাইঘাট নিউজ : বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আপনি শীর্ষে। গোল্ডেন বুট জেতার সম্ভাবনাও প্রবল। কী বলবেন?

মেসি : দেখেন, আমি শুধু গোল্ডেন বুটের জন্য খেলছি না। আমি তো আবার মোজা ছাড়া বুটই পরতে পারি না। তাই গোল্ডেন বুটের সঙ্গে একটা গোল্ডেন মোজাও দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি!

কানাইঘাট নিউজ : যদি সত্যিই গোল্ডেন বুট জিতে যান, তাহলে সেটা নিয়ে কী করবেন?

মেসি : এ প্রশ্নের উত্তর একটু আবেগের সঙ্গে দিতে চাই। বিয়ের সময় অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তাই স্ত্রীকে ইমিটেশনের গয়না দিয়েই বিয়ে করেছিলাম। এখন তিন সন্তানের বাবা হয়ে গেছি, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুযোগ পেলেই সেই ইমিটেশনের গল্প তুলে খোঁচা দেয়! তাই ভাবছি, যদি গোল্ডেন বুটটা পাই, সরাসরি জুয়েলারি দোকানে নিয়ে গিয়ে গলিয়ে ফেলব। তারপর সেই সোনা দিয়ে স্ত্রীকে একটা সুন্দর নাকফুল বানিয়ে উপহার দেব।

কানাইঘাট নিউজ  : আচ্ছা, আপনার সবচেয়ে বড় ভয় কী?

মেসি : খেলা চলাকালে ভয় পাই না। তবে ভয় লাগে যখন দেখি আর্জেন্টিনা ম্যাচ হারলে বাংলাদেশে কিছু সমর্থক এক সপ্তাহের জন্য ফেসবুকে নিখোঁজ হয়ে যায়!

কানাইঘাট নিউজ : শেষ প্রশ্ন। বাংলাদেশের ভক্তদের জন্য কিছু বলবেন?

মেসি : অবশ্যই। তোমরা আমাকে এত সাপোর্ট কর, এত পতাকা ওড়াও, এত তর্ক কর-এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে একটা অনুরোধ, বিশ্বকাপ শেষে পরিবার-পরিজনের সঙ্গেও একটু সময় দিও। আর আমের মৌসুমে এক-দুই কেজি আম পাঠাতে ভুলো না!

কানাইঘাট নিউজ  : ধন্যবাদ মেসি ভাই, কানাইঘাট নিউজকে সময় দেওয়ার জন্য।

মেসি : কানাইঘাট নিউজকেও ধন্যবাদ, আম পাঠানোর ঠিকানা ইনবক্সে দিচ্ছি কিন্তু।

Saturday, July 4

কানাইঘাটে আহাদ হ'ত্যা'র প্রতিবাদে শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের মানববন্ধন

কানাইঘাটে আহাদ হ'ত্যা'র প্রতিবাদে শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় আহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কানাইঘাট উপজেলা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন (রেজি. নং: সিলেট-৯২)-এর উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার(৪ জুলাই) কানাইঘাট বাজার পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিব আহমদ। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন এবং ক্রীড়া সম্পাদক হাফিজ ইয়াহিয়া। 

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন সমাজসেবা সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া।

মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে নিহত আহাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস কানাইঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি ও শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা আমানুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কানাইঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি ও ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা হাফিজ ফয়েজ আহমদ, ট্রেড ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ইউসুফ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবী এবং ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা আব্দুল গফুর, কানাইঘাট বাজার সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, দোকান শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি সিপুল আমিন চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এবং ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন এবং সাবেক ছাত্রনেতা আম্বিয়া।

বক্তারা আহাদ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে শ্রমিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ সময় বক্তারা কানাইঘাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও জোর দাবি জানান।



কানাইঘাটে জাহাঙ্গীর হ*ত্যা*কা*ণ্ডে ভায়রাসহ ৬ জন আসামি

কানাইঘাটে জাহাঙ্গীর হ*ত্যা*কা*ণ্ডে ভায়রাসহ ৬ জন আসামি


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় দাম্পত্য কলহের জেরে জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নিহত হওয়ার ঘটনায় তার ভাই বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম। মামলার বাদি নিহত জাহাঙ্গীর আলমের ভাই মো. আলমগীর হোসেন। মামলায় জাহাঙ্গীরের ভায়রাসহ ৬জনকে আসামি করা হয়েছে । জাহাঙ্গীরের বাড়ি পশ্চিম লক্ষিপ্রসাদ ইউনিয়নের বড়বন্দ তৃতীয়খন্ড গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রায় দুই মাস আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তাকে ফিরিয়ে আনতে তিনি তার ভায়রা ভাই শামীম উদ্দিনের সহযোগিতা চান।

বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেল ২টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে জাহাঙ্গীর আলম সেখান থেকে চলে যান।

অভিযোগ রয়েছে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বড়বন্দ বাজারে যাওয়ার পথে করুনা সুন্দরী দীঘির পাশে আগে থেকেই ওঁৎপেতে থাকা শামীম উদ্দিন, তার ভাই ডালিম উদ্দিন ও নাইম উদ্দিন, ভাগ্নে তারেক আহমদ ও শাহেদ আহমদসহ কয়েকজন জাহাঙ্গীর আলমের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।


কাতারের শোক না কাটতেই সৌদিতে কানাইঘাটের আরও এক প্রবাসীর মৃত্যু

কাতারের শোক না কাটতেই সৌদিতে কানাইঘাটের আরও এক প্রবাসীর মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক :

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় কানাইঘাটজুড়ে শোকের আবহ এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক আহমদ(২৪) নামে আরও এক রেমিট্যান্সযোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর এসেছে।

নিহত তারেক আহমদ উপজেলার ৫ নম্বর বড়চতুল ইউনিয়নের মুক্তাপুর গ্রামের ফয়েজ আহমদের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারেক ড্রাইভিং শিখছিলেন। এ সময় তিনি সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (৩ জুলাই)  বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তারেকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৫ নং বড় চতুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হোসেন চতুলী। তিনি জানান, পরিবারের স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশায় মাত্র দেড় বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তারেক। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রবাসেই ঝরে গেল তার তরতাজা প্রাণ।

তার এই অকাল মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই মুক্তাপুর গ্রামসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্তানের মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তারেকের বাবা-মা। 

Thursday, July 2

কানাইঘাটে এক সপ্তাহে দুই হ*ত্যা*কাণ্ড: আসামিরা অধরা, জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ

কানাইঘাটে এক সপ্তাহে দুই হ*ত্যা*কাণ্ড: আসামিরা অধরা, জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুটি ঘটনাতেই এক কিশোর ও এক যুবক নিহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলার আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে এলাকাজুড়ে জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ বুধবার (১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বড়বন্দ ৩য় খণ্ড গ্রামের করুণা সুন্দরী দিঘীর পাশে পারিবারিক বিরোধের জেরে নৃশংস হামলায় নিহত হন জাহাঙ্গীর আলম (২৮)। তিনি ওই গ্রামের মৃত মুসা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে প্রায় দুই মাস আগে পাশের বড়চতুল ইউনিয়নের কুল্লার লখাইর গ্রামে তার পিত্রালয়ে চলে যান। স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভায়রা ভাই শামীম আহমদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।

ঘটনার দিন বিকেল ২টার দিকে একই বিষয় নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম ভায়রা ভাই শামীম আহমদের বাড়িতে গেলে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে শামীম আহমদ ও তার পরিবারের লোকজন তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ধাওয়া দিলে তিনি পালিয়ে যান।

এরই জেরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি থেকে বড়বন্দ বাজারের দিকে যাওয়ার পথে করুণাসুন্দরী দিঘীর পাশে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা শামীম আহমদ, তার ভাই ডালিম উদ্দিন, নাঈম উদ্দিন, ভাগ্নে তারেক আহমদ ও সাহেদ আহমদসহ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে একই উপজেলায় কিশোর আহাদ আহমদ (১৬) হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, পৌরসভার উত্তর দলইমাটি গ্রামের দরিদ্র কিশোর আহাদ আহমদ উপজেলার রোডের একটি ওয়ার্কশপে কাজ করত। কর্মরত অবস্থায় কথাকাটাকাটির জেরে সায়েম আহমদ তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের চাচা রশিক উদ্দিন ফেড়াই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় রায়গড় গ্রামের সায়েম আহমদ, ওয়ার্কশপ মালিক তাজ উদ্দিন তাজু ও জামিল উদ্দিনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের পরও আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় কানাইঘাটে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কানাইঘাটে পারিবারিক বিরোধে যুবক খু/ন, ভায়রা ভাইসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কানাইঘাটে পারিবারিক বিরোধে যুবক খু/ন, ভায়রা ভাইসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ৩য় খণ্ড গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের একপর্যায়ে ভায়রা ভাই ও তার স্বজনরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। 

মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের ইউনিয়নের করুনা সুন্দরী দীঘীর পাশের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর আলম বড়বন্দ ৩য় খণ্ড গ্রামের মৃত মোসা মিয়ার ছেলে। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রায় দুই মাস আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে তিনি তার ভায়রা ভাই একই গ্রামের সিকন্দর আলীর পুত্র শামীম উদ্দিনের সহযোগিতা চান। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ২টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে জাহাঙ্গীর আলম সেখান থেকে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বড়বন্দ বাজারে যাওয়ার পথে করুনা সুন্দরী দীঘীর পাশে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা শামীম উদ্দিন, তার ভাই ডালিম উদ্দিন ও নাইম উদ্দিন, ভাগ্নে তারেক আহমদ ও শাহেদ আহমদসহ কয়েকজন জাহাঙ্গীর আলমের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বলে পরিবারের অভিযোগ। 

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। 

ঘটনার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত শুরু করে। কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tuesday, June 30

মা-বাবাহীন কিশোর আহাদ চিরনিদ্রায়, ঘাতক সায়েম এখনো অধরা

মা-বাবাহীন কিশোর আহাদ চিরনিদ্রায়, ঘাতক সায়েম এখনো অধরা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

মা নেই, বাবা থেকেও যেন নেই। যে বয়সে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, সে বয়সেই সংসারের অভাব-অনটনের কারণে জীবিকার ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিল ১৬ বছর বয়সী কিশোর আহাদ আহমদ। কিন্তু জীবনযুদ্ধের সেই সংগ্রাম থেমে গেল এক নির্মম হামলায়। কানাইঘাটে স্ক্রু-ড্রাইভারের আঘাতে নিহত আহাদ আহমদকে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাদ মাগরিব নিজ গ্রামের দলইমাটি জামে মসজিদে অশ্রুসিক্ত পরিবেশে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

জানাজার নামাজে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, স্বজন ও প্রতিবেশীরা  অংশ নেন। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে আহাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে ছোট বোন, নানা-নানিসহ স্বজনদের আহাজারিতে শোকের মাতম নেমে আসে। একমাত্র ভাইকে হারিয়ে ছোট বোনের কান্নায় উপস্থিত অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

জানা গেছে, গত রোববার (২৮ জুন) রাত প্রায় ৮টার দিকে কানাইঘাট উপজেলা রোডের একটি ওয়ার্কশপে সায়েম আহমদ নামে এক যুবকের সঙ্গে আহাদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দোকানে থাকা একটি স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে আহাদের মাথায় আঘাত করে সায়েম। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সোমবার (২৯ জুন) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আহাদের জীবন ছিল সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। তালাকপ্রাপ্ত মায়ের মৃত্যুর পর ছোট বোনকে নিয়ে সে নানা-নানির আশ্রয়ে বড় হচ্ছিলেন। নানা-নানির অভিযোগ, বাবা জীবিত থাকলেও সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নিতেন না। সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে অল্প বয়সেই একটি ওয়ার্কশপে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলো আহাদ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত সায়েম আহমদ গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘাতককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন অনেকে।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


কানাইঘাটে পাঁচ প্রবাসীর শেষ বিদায়, জানাজায় মানুষের ঢল

কানাইঘাটে পাঁচ প্রবাসীর শেষ বিদায়, জানাজায় মানুষের ঢল


নিজস্ব প্রতিবেদক :

অবশেষে স্বজনদের কাছে ফিরলেন তারা। তবে জীবিত নয়, পাঁচটি নিথর দেহ হয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের শাহানিয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ৫ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

​আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ২টার দিকে স্থানীয় আকুনি মাদ্রাসা মাঠে একসঙ্গে জানাজার নামাজ শেষে নিজ নিজ গ্রামের কবরস্থানে তাদেরকে দাফন করা হয়। নিহতদের শেষবারের মতো দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ মাঠে সমবেত হন। একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো কানাইঘাট উপজেলায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

​নিহত প্রবাসীরা হলেন-ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদির আহমদ।

​এর আগে আজ মঙ্গলবার সকালে পাঁচ প্রবাসীর কফিনবন্দী লাশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

​পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ৫টি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি আর বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার বাতাস। প্রিয়জনকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তানেরা।

​উল্লেখ্য, গত রোববার (২১ জুন) কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ছয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

​স্থানীয়রা জানান, বিদেশে গিয়েছিলেন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে আর বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের সেই স্বপ্নগুলো কফিনবন্দী হয়ে ফিরল। রেমিট্যান্স যোদ্ধা এই পাঁচ যুবকের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু পাঁচটি পরিবারকেই ধ্বংস করে দেয়নি, বরং পুরো কানাইঘাটবাসীকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।

কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসী যুবকের মরদেহ বাড়িতে, শোকে স্তব্ধ জনপদ

কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসী যুবকের মরদেহ বাড়িতে, শোকে স্তব্ধ জনপদ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

অবশেষে স্বজনদের কাছে ফিরলেন তারা। তবে জীবিত নয়, পাঁচটি নিথর দেহ হয়ে। কাতারের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী যুবকের মরদেহ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি, মায়ের বুকফাটা কান্না, স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়দের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার বাতাস। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে কানাইঘাট।

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চার বছর আগে কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন কাদের আহমদ (৩৩)। আগামী মাসেই ছিল তার জীবনের প্রথম দেশে ফেরার কথা। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। জীবনের সব স্বপ্ন থেমে গেল এক নির্মম সড়ক দুর্ঘটনায়।

অন্যদিকে, মাত্র দুই মাস আগে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন জুবায়ের আহমদ (২৮)। নিয়তির কী নির্মম পরিহাস—১২ বছর আগে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন তার বাবা মড়া মিয়া। আজ একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনাই কেড়ে নিল ছেলের জীবনও। একই পরিবারের বুকে আবারও নেমে এলো শোকের কালো ছায়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার যোহরের নামাজের পর আকুনি মাদরাসা মাঠে একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার (২১ জুন) কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ছয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

নিহতরা হলেন—ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।

বিদেশে গিয়েছিলেন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তারা ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে। তাদের এই অকাল মৃত্যু শুধু পাঁচটি পরিবার নয়, পুরো কানাইঘাটবাসীকেই শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।