Previous
Next

সর্বশেষ


Tuesday, June 30

মা-বাবাহীন কিশোর আহাদ চিরনিদ্রায়, ঘাতক সায়েম এখনো অধরা

মা-বাবাহীন কিশোর আহাদ চিরনিদ্রায়, ঘাতক সায়েম এখনো অধরা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

মা নেই, বাবা থেকেও যেন নেই। যে বয়সে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, সে বয়সেই সংসারের অভাব-অনটনের কারণে জীবিকার ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিল ১৬ বছর বয়সী কিশোর আহাদ আহমদ। কিন্তু জীবনযুদ্ধের সেই সংগ্রাম থেমে গেল এক নির্মম হামলায়। কানাইঘাটে স্ক্রু-ড্রাইভারের আঘাতে নিহত আহাদ আহমদকে মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাদ মাগরিব নিজ গ্রামের দলইমাটি জামে মসজিদে অশ্রুসিক্ত পরিবেশে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

জানাজার নামাজে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, স্বজন ও প্রতিবেশীরা  অংশ নেন। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে আহাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে ছোট বোন, নানা-নানিসহ স্বজনদের আহাজারিতে শোকের মাতম নেমে আসে। একমাত্র ভাইকে হারিয়ে ছোট বোনের কান্নায় উপস্থিত অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

জানা গেছে, গত রোববার (২৮ জুন) রাত প্রায় ৮টার দিকে কানাইঘাট উপজেলা রোডের একটি ওয়ার্কশপে সায়েম আহমদ নামে এক যুবকের সঙ্গে আহাদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দোকানে থাকা একটি স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে আহাদের মাথায় আঘাত করে সায়েম। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সোমবার (২৯ জুন) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আহাদের জীবন ছিল সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। তালাকপ্রাপ্ত মায়ের মৃত্যুর পর ছোট বোনকে নিয়ে সে নানা-নানির আশ্রয়ে বড় হচ্ছিলেন। নানা-নানির অভিযোগ, বাবা জীবিত থাকলেও সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নিতেন না। সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে অল্প বয়সেই একটি ওয়ার্কশপে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলো আহাদ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

তবে ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত সায়েম আহমদ গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘাতককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন অনেকে।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


কানাইঘাটে পাঁচ প্রবাসীর শেষ বিদায়, জানাজায় মানুষের ঢল

কানাইঘাটে পাঁচ প্রবাসীর শেষ বিদায়, জানাজায় মানুষের ঢল


নিজস্ব প্রতিবেদক :

অবশেষে স্বজনদের কাছে ফিরলেন তারা। তবে জীবিত নয়, পাঁচটি নিথর দেহ হয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের শাহানিয়া এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ৫ প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

​আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ২টার দিকে স্থানীয় আকুনি মাদ্রাসা মাঠে একসঙ্গে জানাজার নামাজ শেষে নিজ নিজ গ্রামের কবরস্থানে তাদেরকে দাফন করা হয়। নিহতদের শেষবারের মতো দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ মাঠে সমবেত হন। একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো কানাইঘাট উপজেলায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

​নিহত প্রবাসীরা হলেন-ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদির আহমদ।

​এর আগে আজ মঙ্গলবার সকালে পাঁচ প্রবাসীর কফিনবন্দী লাশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

​পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ৫টি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি আর বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার বাতাস। প্রিয়জনকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তানেরা।

​উল্লেখ্য, গত রোববার (২১ জুন) কাতারের শাহানিয়া এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ছয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

​স্থানীয়রা জানান, বিদেশে গিয়েছিলেন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে আর বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের সেই স্বপ্নগুলো কফিনবন্দী হয়ে ফিরল। রেমিট্যান্স যোদ্ধা এই পাঁচ যুবকের অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু পাঁচটি পরিবারকেই ধ্বংস করে দেয়নি, বরং পুরো কানাইঘাটবাসীকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।

কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসী যুবকের মরদেহ বাড়িতে, শোকে স্তব্ধ জনপদ

কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসী যুবকের মরদেহ বাড়িতে, শোকে স্তব্ধ জনপদ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

অবশেষে স্বজনদের কাছে ফিরলেন তারা। তবে জীবিত নয়, পাঁচটি নিথর দেহ হয়ে। কাতারের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী যুবকের মরদেহ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি, মায়ের বুকফাটা কান্না, স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়দের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার বাতাস। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে কানাইঘাট।

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চার বছর আগে কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন কাদের আহমদ (৩৩)। আগামী মাসেই ছিল তার জীবনের প্রথম দেশে ফেরার কথা। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। জীবনের সব স্বপ্ন থেমে গেল এক নির্মম সড়ক দুর্ঘটনায়।

অন্যদিকে, মাত্র দুই মাস আগে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন জুবায়ের আহমদ (২৮)। নিয়তির কী নির্মম পরিহাস—১২ বছর আগে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন তার বাবা মড়া মিয়া। আজ একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনাই কেড়ে নিল ছেলের জীবনও। একই পরিবারের বুকে আবারও নেমে এলো শোকের কালো ছায়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার যোহরের নামাজের পর আকুনি মাদরাসা মাঠে একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার (২১ জুন) কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ছয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

নিহতরা হলেন—ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ।

বিদেশে গিয়েছিলেন পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তারা ফিরলেন কফিনবন্দী হয়ে। তাদের এই অকাল মৃত্যু শুধু পাঁচটি পরিবার নয়, পুরো কানাইঘাটবাসীকেই শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে।




কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কানাইঘাটের ৫ প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছাল সিলেটে

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কানাইঘাটের ৫ প্রবাসীর মরদেহ পৌঁছাল সিলেটে


নিজস্ব প্রতিবেদক: 

সিলেটে পৌঁছেছে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ কানাইঘাটের প্রবাসীর মরদেহ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহগুলো পৌঁছায়। এর আগে গত ২১ জুন রোববার সকালে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশী প্রবাসী নিহত হন। 

নিহতরা হলেন-ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদির । 

শ্রম কল্যাণ উইং জানায়, নিহতদের মরদেহ সোমবার (২৯ জুন) কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২২৬ নম্বর ফ্লাইটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। ফ্লাইটটি মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Monday, June 29

কিশোর আহাদের নির্মম বিদায়, অভিযুক্ত সায়েমকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি

কিশোর আহাদের নির্মম বিদায়, অভিযুক্ত সায়েমকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি


নিজস্ব প্রতিবেদক :

জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছিল ১৬ বছর বয়সী কিশোর আহাদ আহমদ। মা নেই, বাবা থেকেও যেন নেই। যে বয়সে তার স্কুলে পড়াশোনা করার কথা, সে বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে একটি ওয়ার্কশপে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বন্ধুর পরিচয়ে আসা সায়েম আহমদের হামলায় ঝরে গেল তার প্রাণ।

জানা যায়, আহাদ আহমদের গ্রামের বাড়ি কানাইঘাট পৌরসভার দলইমাটি গ্রামে। তিনি রিকশাচালক ছালেহ আহমদের ছেলে। তালাকপ্রাপ্ত মা আফতারুন বেগমকে নিয়ে মহেষপুর এলাকায় নানার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রায় এক বছর আগে তার মা মারা যান। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেলেও ছোট বোনকে নিয়ে নানা-নানির আশ্রয়েই দিন কাটছিল আহাদের। বাবা জীবিত থাকলেও কখনো সন্তানদের খোঁজখবর নেননি।

সংসারের অভাব ঘোচাতে আহাদ কানাইঘাট উপজেলা রোডের তাজু নামে এক ব্যক্তির ওয়ার্কশপে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

রবিবার (২৮ জুন) রাত প্রায় ৮টার দিকে একই এলাকার পরিচিত সায়েম আহমদ (২১) ওয়ার্কশপে যান। কথাবার্তার একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হলে সায়েম দোকানে থাকা একটি স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে আহাদের মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে আহাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আহাদ মারা যান।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহাদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি। তবে অভিযুক্ত সায়েম আহমদকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত পৌরসভার রায়গড় গ্রামের সায়েম আহমদ দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা আরও দাবি করেন, সায়েমের বাবা এনাম উদ্দিন ভান্ডারীও এলাকায় একজন চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত। 

আহাদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘাতক সায়েমকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কানাইঘাটে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

কানাইঘাটে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় পার্টনার ফিল্ড স্কুল (পিএফএস) কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

কংগ্রেসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক-কৃষাণীরা অংশগ্রহণ করেন। পার্টনার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত পিএফএসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রশিক্ষণবঞ্চিত কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি এবং কৃষিপণ্যের মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলার বিষয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহদী হাসান শাকিলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায়।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার শাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন এবং উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি আমানুর রশিদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কৃষক প্রতিনিধিরা।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সিলেট অঞ্চলের মাটি কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হলেও প্রতিবছর হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদী পড়ে থাকে। ফলে খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে এ অঞ্চল এখনও কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। অনাবাদী জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকারের উদ্যোগে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেসের মতো কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।



কানাইঘাটে বন্ধুর স্ক্রু ড্রাইভারের আঘাতে অপর বন্ধুর মৃত্যু

কানাইঘাটে বন্ধুর স্ক্রু ড্রাইভারের আঘাতে অপর বন্ধুর মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্ক্রু ড্রাইভারের আঘাতে আহত আহাদ আহমদ (১৬) নামে এক কিশোর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে উপজেলা রোডের একটি ওয়ার্কশপে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কানাইঘাট উপজেলা রোডে তাজুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি ওয়ার্কশপে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো আহাদ। ঘটনার সময় সেখানে তার বন্ধু পৌরসভার রায়গড় গ্রামের এনাম ভান্ডারীর ছেলে সায়েম আহমদ (২১) আসে। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজিত হয়ে সায়েম ওয়ার্কশপে থাকা একটি স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে আহাদকে আঘাত করে। এতে আহাদ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

পরে ওয়ার্কশপে উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে রেফার করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত আহাদ আহমদের বাড়ি কোথায় তা জানা যায়নি,তবে ইউএনও অফিসের পাশে একটি ভাড়া বাসায় সে তার নানার সাথে থাকতো বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, নিহত আহাদ ও অভিযুক্ত সায়েম পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় সংবাদ লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার আগে দুই বন্ধুর মধ্যে কথা কাটাকাটির একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসীর ম,র দেহ আগামীকাল দেশে পৌঁছাবে

কানাইঘাটের পাঁচ প্রবাসীর ম,র দেহ আগামীকাল দেশে পৌঁছাবে


নিজস্ব প্রতিবেদক :

কাতারের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী যুবকের মরদেহ আগামীকাল মঙ্গলবার দেশে পৌঁছাবে। সোমবার রাতে কাতার থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর। তিনি জানান, বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের জন্য নিহতদের স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।

এ সময় সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসানও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে, মঙ্গলবার যোহরের নামাজের পর ঝিংগাবাড়ী  ইউনিয়নের আকুনি মাদরাসা মাঠে নিহত পাঁচ প্রবাসীর যৌথ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত রোববার(২১ জুন) কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় পুরো উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন-ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাদির ।

বিদেশের মাটিতে জীবিকার সন্ধানে যাওয়া এসব তরুণের অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি আর শোকাহত মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে কানাইঘাটের আকাশ-বাতাস। 

Sunday, June 28

সিলেটে শিক্ষামন্ত্রীর হুশিয়ারি: নকল হলে ছাড় পাবেন না কেন্দ্রসচিবও'

সিলেটে শিক্ষামন্ত্রীর হুশিয়ারি: নকল হলে ছাড় পাবেন না কেন্দ্রসচিবও'


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস কিংবা প্রশ্নফাঁসের গুজব কোনোটিই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষাকে বিতর্কিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো কেন্দ্রে নকল ধরা পড়লে কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

রবিবার (২৮ জুন) সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র প্রধানদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত কয়েকটি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। অথচ বাস্তবে কোনো প্রশ্নফাঁস হয়নি। তারপরও কিছু ব্যক্তি ও গণমাধ্যম কোনো প্রকার যাচাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে। এবার এমন কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও যোগ করেন, প্রশ্নফাঁস না হলেও প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোও একটি বড় অপরাধ। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে কেউ ভাইরাল হবে, আর সরকার চুপ করে বসে থাকবে—তা আর হতে দেওয়া হবে না।
পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল ঠেকাতে কেন্দ্র প্রধানদের কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে ড. মিলন বলেন, পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রের ভেতরে নকলের কোনো উপকরণ পাওয়া গেলে দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

কেন্দ্র প্রধানদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কেন্দ্র আপনার দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে। সুতরাং, সেখানে কোনো প্রকার অনিয়ম হলে কাউকে না কাউকে জবাবদিহি করতেই হবে।
পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবার সিসিটিভি ক্যামেরাসহ ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়াও ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষগুলোকেও স্মার্ট মনিটরিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

ড. মিলন জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রই নয়, শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে পর্যায়ক্রমে প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে।

মতবিনিময় সভায় সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র প্রধান ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Thursday, June 25

কানাইঘাটে আলোচনায় কালেমা খচিত পতাকা

কানাইঘাটে আলোচনায় কালেমা খচিত পতাকা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় কানাইঘাটের বিভিন্ন স্থানে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি ও পর্তুগালসহ নানা দেশের পতাকা উড়তে দেখা গেলেও এবার দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার, সেতু ও জনসমাগমস্থলে কালেমা খচিত সাদা-কালো পতাকার পাশাপাশি উড়ছে বাংলাদেশের লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। বিদেশি দলের পতাকার পরিবর্তে এসব পতাকা স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গত কয়েকদিন ধরে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ কানাইঘাট উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এসব পতাকা স্থাপন করাছেন। পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি আগ্রহভরে দেখছেন। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। 

এ বিষয়ে ছাত্র জমিয়ত কানাইঘাট পৌর শাখার সহ-সভাপতি আলবাব হুসাইন বলেন, “পবিত্র কালেমা তাইয়্যিবা মুসলমানদের ঈমান ও বিশ্বাসের অন্যতম প্রতীক। কালেমার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ এবং দ্বীনি চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যেই আমাদের এ উদ্যোগ।”

ছাত্র জমিয়ত কানাইঘাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক এন. এইচ. এনায়াত উল্লাহ বলেন, “সম্প্রতি ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে কিছু তরুণ কালেমার পতাকা স্থাপন করেছিলেন। পরে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদ এবং কালেমার মর্যাদা সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে আমরা এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, খেলাধুলা আনন্দ ও বিনোদনের বিষয় হলেও জাতীয় পরিচয়, দেশপ্রেম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ফুটবল উন্মাদনার আবহে কানাইঘাটের এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিদেশি দলের পতাকার ভিড়ে জাতীয় পতাকা ও কালেমা খচিত পতাকা উত্তোলনের এ আয়োজন অনেকের কাছে দেশপ্রেম ও ধর্মীয় চেতনার প্রতীকী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


টরন্টোয় শাহজালাল এসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী, আত্মপ্রকাশ করল নতুন আহ্বায়ক কমিটি

টরন্টোয় শাহজালাল এসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী, আত্মপ্রকাশ করল নতুন আহ্বায়ক কমিটি


কানাডা প্রতিনিধি :

কানাডার টরন্টোতে বসবাসরত সিলেটবাসীর অন্যতম সামাজিক সংগঠন শাহজালাল এসোসিয়েশন অব টরন্টো-এর উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও নতুন আহ্বায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৭ জুন টরন্টোর বাংলা টাউনের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী সিলেটি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফ উদ্দিন রুবেল-এর সভাপতিত্বে এবং সংগঠক সাইদুর রহমান শামীম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, এশিয়ান টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও রোটারিয়ান শাহজাহান সেলিম বুলবুল পিএইচএফ।


বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যাংকার সাইফুল আলম শিকদার, ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম, রোটারিয়ান আবুল হোসেন এবং সংগঠক ফুজেল আহমদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজাহান সেলিম বুলবুল বলেন, “সামাজিক সংগঠনের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত নিঃস্বার্থ সমাজসেবা ও মানবিক কল্যাণ। প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের শিকড়, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ তুলে ধরতে এবং পিছিয়ে পড়া প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “প্রবাসে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি সিলেটি কমিউনিটির ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এ সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” এ সময় তিনি নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন মো. ইকবাল হোসেন, আফজাল হোসেন সায়েম, নাসির আহমদ, মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, ময়নুল হক, মোবারক হোসেন তুহিন, সালাউদ্দিন আহমদ, রুহেল আহমদ, সুমন বকসি, সৈয়দা তাহমিদা, আদনান আহমেদ প্রমুখ।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আশরাফ উদ্দিন রুবেলকে আহ্বায়ক এবং সাইদুর রহমান শামীমকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে নবনির্বাচিত আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন রুবেল উপস্থিত সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “সিলেটি কমিউনিটির সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এ সংগঠনের পথচলা। আমরা আশা করি, এই আহ্বায়ক কমিটি একটি সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সংগঠনকে আরও গতিশীল করবে।”

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে উপস্থিত অতিথি ও সদস্যদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। ঈদ পুনর্মিলনীর প্রাণবন্ত পরিবেশে প্রবাসী সিলেটবাসীর মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।

টরন্টোয় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সাধারণ সভা সম্পন্ন

টরন্টোয় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সাধারণ সভা সম্পন্ন


কানাডা প্রতিনিধি:

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নির্বাচনী উত্তেজনা এবং নানা আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সাধারণ সভা। গত সোমবার (২২ জুন) টরন্টোর ড্যানফোর্থ এলাকার একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের গৌরবময় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে অতীতের সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে সদ্য বিদায়ী সভাপতি মাহবুব চৌধুরী রনি বলেন, “ব্যক্তিগত কিংবা নির্বাচনী মতপার্থক্য কখনো সংগঠনের স্বার্থের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন আমাদের সবার প্রাণের সংগঠন। এর উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমরা সবসময় পাশে থাকব।”

নবনির্বাচিত সভাপতি এবাদ চৌধুরী সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “নির্বাচন একটি সাময়িক প্রক্রিয়া, কিন্তু সংগঠনের উন্নয়ন একটি চলমান যাত্রা। আমরা কোনো বিভাজনে বিশ্বাস করি না। সবার পরামর্শ ও সহযোগিতায় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী এবং জবাবদিহিমূলক সংগঠনে পরিণত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

সংগঠনের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমদের সভাপতিত্বে এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সাবেক সভাপতি সাদ চৌধুরী বলেন, “আজকের এই মিলনমেলা আমাদের সংগঠনের শক্তি ও সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। এখানে উপস্থিত সবাই কোনো না কোনো সময় সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। জ্যেষ্ঠ ও নবীন নেতৃত্বের এই ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”

সভায় বক্তারা বিগত নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকাণ্ড ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে আরও নিরপেক্ষ, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য নতুন কমিটির প্রতি আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য কমিউনিটির সদস্যদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ।

সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সাংগঠনিক উন্নয়ন এবং কমিউনিটির কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি আব্দুল আহাদ খন্দকার, মিজানুর রহমান চৌধুরী, দেবব্রত দে তমাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুদীপ সোম রিংকু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান নির্বাহী সভাপতি মেহেদী মারুফ, সহ-সভাপতি তাহমিনা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ১৭ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর নির্বাচনে এবাদ চৌধুরী সভাপতি, রাসেল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক এবং মেহেদী মারুফ নির্বাহী সভাপতিসহ ২৯ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি নির্বাচিত হয়।

মাধবীলতার সংসার : প্রেম, দ্রোহ ও জীবনবোধের কাব্য

মাধবীলতার সংসার : প্রেম, দ্রোহ ও জীবনবোধের কাব্য


সরওয়ার ফারুকী:

মাধবীলতার সংসার—কবি সালেহ আহমদ খসরুর তৃতীয় বই, দ্বিতীয় কাব্য। নানান রঙের অনুভব ও অনুভূতিকে কবি রূপকার্থে মাধবীলতার সঙ্গে মিলিয়ে এ কাব্য গেঁথেছেন। বাগান যেমন একটি ফুলের ডালি দিয়ে গড়ে ওঠে না, জীবনও তেমনি—সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, দ্রোহ-আনুগত্যসহ বহুমাত্রিক অনুভূতির এক বৃহৎ সংকলন। মাধবীলতার রূপে কবি সালেহ আহমদ সেই অনুভূতিগুলোর সংসার গড়েছেন এ কাব্যে।


বিচ্ছেদাশ্রিত প্রেমানুভূতি নিয়ে এ কাব্যের সূচনা। শিরোনাম কবিতা ‘মাধবীলতার সংসার’ গ্রন্থাশ্রিত অনুভূতির এক পূর্ণাঙ্গ সংসার নির্মাণের মধ্য দিয়ে কাব্যের সুন্দর সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। ২৪-০৪-২০২৫ তারিখে রচিত কাব্যের প্রথম কবিতা ‘ফিরে আসি পৃথিবী ছেড়ে’; আর ২১-০৯-২০২৫ তারিখে রচিত শেষ কবিতা ‘মাধবীলতার সংসার’। মাত্র পাঁচ মাসের সাধনায় কবিতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পঁয়ষট্টিতে। কবিতার আকুতি প্রাণে না ঝরলে কাব্যের সংসার পাতবার জন্য এ ক’মাস সময় যথেষ্ট নয়। কবি খসরুর প্রাণে যে কবিতার উথাল-পাথাল ঢেউ, দ্রুতগামী অশ্বের মতো কাব্যের প্লাবন যে তার বুক জুড়ে ওঠছে—এ তারই প্রমাণ।

 

এ কাব্যের প্রাণ মূলত প্রেম। তবুও কাব্যে শুধু প্রেম নয়; আছে বিচ্ছেদের অশ্রু, দ্রোহের আগুন, অবিশ্বাসের দাগ, সন্দেহের বীজ, বিশ্বাসের শক্তি, পুতুলনাচের নাটাই, বৃষ্টিমুখর ভোর, সন্ধ্যারাতের তারা, অন্ধকারের দ্বন্দ্ব, মাটির মোহ ছাড়াও দেশপ্রেমের আবেশ আছে—সর্বোপরি জীবনবোধের বর্ণিল প্রকাশ আছে।

 

কবি যখন হাঁটেন, কথা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ত থাকেন, স্লোগানে স্লোগানে পাথর ভাঙেন—তখনও তিনি ভেতরে ভেতরে একাকীত্বে ভোগেন। এই একাকীত্ব কবিকে মহাজাগতিক বিস্তারে উড়িয়ে নিয়ে যায়; তিনি তখন অদ্ভুত সব কল্পচিত্র আঁকেন। কবি ও অকবিদের এখানেই এক অবধারিত অন্তরায়। এই অন্তরায়ের এপারে পাঠক, ও পারে কবি।

 

কবি সালেহ আহমদ খসরু বহুমাত্রিক চরিত্র। লেখক-পরিচয়ে প্রকাশক যথার্থই বলেছেন—“সালেহ আহমদ খসরু বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব; একাধারে কবি, সমাজচিন্তক, বাচিকশিল্পী এবং তুখোড় রাজনীতিবিদ। তাঁর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা তাঁকে স্বতন্ত্র পরিচয়ে উদ্ভাসিত করেছে। তাঁর দরাজ কণ্ঠ সিলেটের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।”

 

মাধবীলতার সংসার কাব্যে কবি খসরু কল্পদৃষ্টিতে যে চিত্রমালা এঁকেছেন, তা তাঁকে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত করেছে। প্রেম থেকে অগ্নি, ফুল থেকে ঘ্রাণ, প্রাণ থেকে যৌবন আহরণ করতে যে সাংসারিক দৌড়ঝাঁপের প্রয়োজন, কবি এ কাব্যে তার সবটাই ঢেলেছেন। নাকফুলের খোঁজে পথে নেমেই কবি দীঘল বাঁকের উর্মিমালায় ঘোমটাপরা আঁখির দেখা পান; বুকের ভেতর অনুভব করেন অল্পস্বল্প অম্লমধুর টান। আবার গহিন-গভীর অন্ধকূপের পানশালায় বেহিসেবি, বেশুমার শরাব-বিলাসেও মত্ত হন।

 

এ কাব্যে কবি খসরুর তাড়াহুড়োর ছাপ রয়েছে। এ ছাপ অস্পষ্ট নয়; বরং এ তাড়াহুড়োই হয়তো কবির স্মারক হিসেবে তাঁকে আগামীতে চিহ্নিত করতে ভূমিকা রাখবে। কবিতার চিরায়ত যে রূপ, মাধবীলতার সংসার কাব্যে তা অনেকটাই ম্রিয়মাণ। ছন্দ, মাত্রা ও অন্ত্যমিলের যে ঐতিহ্যিক রূপ, এ কাব্যে সচেতনভাবেই কবি তার আশ্রয় নেননি; অনেকটাই ইচ্ছাস্বাধীন থেকেছেন। কবি নিজে একজন খ্যাতিমান বাচিকশিল্পী; যেকোনো কবিতা পাঠে তিনি নিজেকে সেভাবেই সঁপে দেন। সম্ভবত এ কারণেই তাঁর কবিতায় ঐতিহ্যিক ধারার বিপরীতে একটি খাপছাড়া স্বতঃস্ফূর্ততা থেকেছে। এ কবির দুর্বলতা, না স্বকীয়তা—সে বিচার অনাগত দিনের পাঠকরা করবেন।


কবি সালেহ আহমদ খসরু ১৯৫৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পুলিশ পরিদর্শক বাবার চাকরির সুবাদে সিলেটের এ কবির জন্ম হয়ে সাতক্ষীরা জেলায়। কবির আদিনিবাস বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চন্দরপুর গ্রামে। বর্তমানে সিলেট শহরের আম্বরখানার চাষনীপীর রোডে বসবাস করছেন।

 

এ বই ছেপেছে দোআঁশ, রঙমহল টাওয়ার, সিলেট। দোআঁশ ইতিমধ্যে সিলেটের প্রকাশনা শিল্পে নানন্দিক চর্চায় সুনাম কুড়াচ্ছে, যদিও মাধবীলতার সংসার কাব্যের প্রচ্ছদ অতটা আকর্ষণীয় নয়!