Previous
Next

সর্বশেষ


Friday, July 24

কানাইঘাটে ঢাকনাবিহীন সেপটিক ট্যাংকে পড়ে ৫ বছরের শিশুর মৃ'ত্যু

কানাইঘাটে ঢাকনাবিহীন সেপটিক ট্যাংকে পড়ে ৫ বছরের শিশুর মৃ'ত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ী উত্তর বাজারে ঢাকনাবিহীন টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে আহবাফ হুমাইদি ইসরান (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় খেলাধুলার একপর্যায়ে অসতর্কতাবশত গাছবাড়ী উত্তর বাজারের একটি ঢাকনাবিহীন টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায় শিশু আহবাফ। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে আশপাশে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাসার পাশের একটি টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা খোলা দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পরে শিশুটিকে ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

নিহত আহবাফ হুমাইদি ইসরান গাছবাড়ী বাজারের সাবেক পাহারাদার আহমদ আলীর ছেলে।  সে স্থানীয় নারাইনপুর নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। এ মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুটির পরিবার, স্বজন ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাছবাড়ী উত্তর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান নাসির বলেন, যে ছেলেটি মারা গেছে সে আমাদের বাজারের সাবেক পাহারাদার আহমদ আলীর ছেলে। বাজারের পাশেই তারা একটা ভাড়া বাসা নিয়ে  থাকেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটির বাবা ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে বাসার পাশের একটি টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা খোলা দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে সে মারা যায়।

Thursday, July 23

জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি অধিবেশন ৩০ জুলাই

জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি অধিবেশন ৩০ জুলাই


সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে কানাইঘাটে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:
জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি অধিবেশন আগামী ৩০ জুলাই ২০২৬ ইং, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে এ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে।

গত ১৬ জুলাই ২০২৬ ইং, বৃহস্পতিবার বাদ যোহর জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মাওলানা নজরুল ইসলাম তোয়াকুলী দলের আমীর শায়খুল হাদিস আল্লামা আলিমুদ্দীন শায়খে দুর্লভপুরীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎ শেষে দলের কার্যক্রম বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আগামী ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রধান দফতর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাট মাদরাসা মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি অধিবেশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও হরিপুর বাজার মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা হিলাল আহমদ শায়খে হরিপুরী, সহ-সভাপতি মাওলানা আজমত উল্লাহ আকুনী, কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা মুবাশ্বির রামপ্রসাদী, কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল ও ঐতিহ্যবাহী লাফনাউট মাদরাসার নাযিম মাওলানা ফয়জুল করিম লামাকুটাপাড়ি, কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব ক্বারী মাওলানা হারুনুর রশীদ চতুলী এবং মাওলানা এনামুল হাসান সোনাপুরীসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য দায়িত্বশীলরা।( বিজ্ঞপ্তি)

আলিম বোর্ডে প্রথম, ২৭ দিনেই কোরআন মুখস্থ করেছিলেন মাওলানা আব্দুর রহীম

আলিম বোর্ডে প্রথম, ২৭ দিনেই কোরআন মুখস্থ করেছিলেন মাওলানা আব্দুর রহীম


রমজানের ২৭ দিনেই সম্পন্ন করেন পবিত্র কোরআনের হিফজ; পরে আলিম পরীক্ষায় বোর্ডসেরা হয়ে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় দ্বীনি শিক্ষার খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন।

সেলিম আউয়াল:

মাত্র সাতাশ দিনে পুরো কোরআন শরীফ মুখস্থ করে ফেললেন তিনি। তখন তাঁর বয়স চৌদ্দ বছর, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষা দিয়ে সমগ্র বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। মেধাবী এই মানুষ হচ্ছেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গাছবাড়ি জামিউল উলুম কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা আব্দুর রহীম।

মাত্র সাতাশ দিনে পবিত্র কোরআন হিফজ করার প্রসঙ্গ তুললে মাওলানা আব্দুর রহীম বলেন, এটি আল্লাহর মেহেরবানী। সিলেট নগরীর কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদের দোতলায় বসে কথা হচ্ছিলো পবিত্র রমজানের যোহরের নামাজের পর। পাশে বসা তাঁর ছাত্র বিশিষ্ট পুস্তক ব্যবসায়ী মাওলানা খলিলুর রহমান, হাফেজ মাওলানা মিফতাহুল ইসলাম, মাসিক ভিন্নধারা সম্পাদক জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও ক্বারী আব্দুল বাসিত মিলন।

ব্যক্তিগত জীবনে নিরহংকারী বিনয়ী মাওলানা আব্দুর রহীম আমাদের অনুরোধে তাঁর কোরআন হিফজের বিস্তারিত তুলে ধরলেন-সে বছরটিতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় সেদিনের পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে তিনি প্রথম হয়েছেন। রমজানের ছুটির জন্যে বাড়িতে চলে যান। বাড়িতে বসে জানতে পারেন তাদের দু‘বছরের সিনিয়র মাওলানা আবু সাঈদ (লন্ডনে বাস করছেন অনেক দিন থেকে) এক রমজান মাসে কোরআন হিফজ করে ফেলেছেন। মাত্র এক মাসে কোরআন হিফজ করার বিষয়টি মাওলানা আব্দুর রহীমকে বিস্মিত করে। তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তাঁর বন্ধু ও সহপাঠি পাশের ইউনিয়নের তিনচটি গ্রামের মাওলানা আলা উদ্দিনের সাথে। এতো কম সময়ে কোরআন হিফজ করার বিষয়টি তাঁদেরকে বিস্মিত করে।


সামনে রমজান আসছে। তাঁদেরও ইচ্ছে জাগে যদি এভাবে কোরআন হিফজ করা যেতো। দুই বন্ধু কাউকে কিছু না বলেই নিজেদের বাড়িতে চলে যান। রমজান এসে যায়, মাওলানা আব্দুর রহীম নিজের বাড়িতে বসে কোরআন মুখস্থ করতে শুরু করেন। বাড়িতে বাবা মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব একজন বড় আলেম। বাবাকে তাঁর স্বপ্নের কথা বলেননি। কিন্তু মুখস্ত করার কাজ চালিয়ে যেতে লাগলেন। 

প্রতিদিন এক পারা কোরআন শরীফ মুখস্ত করে পাশের বাড়ির একজন হাফিজ সাহেবের কাছে শুনাতেন। সবই চলছিলো কাউকে কিছুই না জানিয়ে। মাত্র সাতাশ দিন পর বাবা মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব-সহ এলাকাবাসী বিস্ময়ের সাথে জানলেন আব্দুর রহীম পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন। এদিকে তাঁর বন্ধু মাওলানা আলাউদ্দিনও তাঁর মতো কাউকে না জানিয়ে তিনিও হিফজ সম্পন্ন করেছেন। দু‘বন্ধু দু‘বন্ধুকে চমকে দিয়ে জানালেন মাত্র সাতাশ দিনে কোরআন হিফজ করার কথা। মাওলানা আলাউদ্দিন পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী হয়ে যান এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। যুক্তরাজ্যে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

হাফিজ মাওলানা আব্দুর রহীম ১৯৫২ সালের পহেলা মার্চ সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৭ নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের সরদারীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব এবং মাতা কুলসুমা বেগম। গ্রামের মক্তবেই তাঁর পড়ালেখা শুরু হয়। এরপর উমরগঞ্জ প্রাইমারী স্কুলে প্রাইমারী শিক্ষা শেষ করেন। পরবর্তীতে উমরগঞ্জ ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসায় মক্তবে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এই মাদ্রাসায় পাঁচ বছর পড়াশোনা সেরে তিনি গাছবাড়ী জামিউল উলূম কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এই মাদ্রাসা থেকে সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তান মাদ্রাসা এডুকেশন বোর্ড ঢাকা-এর অধীনে ১৯৬২ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম বিভাগে পাশ করেন। ১৯৬৬সালে আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাদ্রাসা বোর্ডে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং একই বছর মাত্র সাতাইশ দিনে পবিত্র কোরআন হিফজ করেন। ১৯৬৮ সালে ফাজিল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। ১৯৭০ সালে একই মাদ্রাসা থেকে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে কামিল (হাদিস) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। 

১৯৭০ সালে কামিল পরীক্ষার পর পরই এতিহ্যবাহী ঝিঙ্গাবাড়ি ফাজিল মাদ্রাসায় সেই সময়ের সুপার মাওলানা হাফিজ আব্দুল আজিজ তাঁর দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাওলানা আব্দুর রহীমকে নিয়োগ দেন। দেড় বছর সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনের পর শ্রদ্ধেয় পিতার বার্ধক্য জনিত অসুস্থতার কারনে চাকুরী হতে অব্যাহতি নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এবং সেই পাকা রাস্তা না থাকায় সর্দারীপাড়া গ্রাম থেকে ঝিংগাবাড়ীতে যাতায়াত একটু সময়ের ব্যাপার ছিলো। ফলে ঝিংগাবাড়ীতে দায়িত্ব পালন করে পিতার খেদমত করাও কঠিন ছিলো। যাহোক, ২৩ জুন ১৯৭৩ সালে পিতার ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ছিলেন। এই সময় স্থানীয় বড়দেশ মাদ্রাসার মুহতামীম ও এলাকাবাসীর অনুরোধে উক্ত মাদ্রাসায় হিফযুল কোরআন-সহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দান করে ছাত্র শিক্ষকদের প্রশংসা অর্জন করেন। 

মাওলানা আব্দুর রহীম ১৯৭৩ সালে ২৩ জুলাই গাছবাড়ী জামিউল উলূম কামিল মাদ্রাসায় সিনিয়র মাওলানা পদে যোগদান করেন। ১৯৮১ থেকে তিরমিযী শরীফ এবং ১৯৮৩ থেকে বুখারী শরিফের খেদমতে তাঁকে নিয়োজিত করা হয়। ১৯৮৬ সালে মুহাদ্দিস এবং ১৯৮৭ সালে তাঁকে সর্ব সম্মতিক্রমে উপাধ্যক্ষ পদের জন্য নির্বাচিত করা হয়। উপাধ্যক্ষের পাশাপাশি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। 

দায়িত্বে দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৪ সালে তাঁকে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ মাদরাসা শিক্ষক নির্বাচন করা হয়। দীর্ঘ ১২ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯৯ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে গাছবাড়ী জামিউল ঊলূম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৩ বছর ২ মাস অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনের পর ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর বয়স ৬০ বছর পূর্তিতে তিনি দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন। মাদরাসা পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী তাঁকে কোনভাবেই স্থায়ী বিদায় না দিয়ে পুণরায় অতিরিক্ত মুহাদ্দিস হিসাবে নিয়োগ দানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এ সিন্ধান্তকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করে ২০১২ সালের ২৪ মার্চ থেকে অতিরিক্ত মুহাদ্দিস হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৮ সালে বাবা-মা একমাত্র ছেলের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ীর প্রখ্যাত আলেম, পীরে কামিল শেখ হযরত মাওলানা নিছার আলীর তৃতীয় কন্যা আবিদা বেগমের সাথে ১৯৬৮ সালের জানুযায়ি মাসে মাওলানা আব্দুর রহীমের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মাওলানা আব্দুর রহীম ৬ সন্তানের জনক। তিন ছেলের এবং তিন মেয়ের প্রত্যেকেই মাদরাসা শিক্ষিত এবং বিবাহিত। ছোট মেয়ে কুরআনে হাফিজ ও দাওয়ায়ে হাদীস পাস। দুই ছেলে কুরআনে হাফেজ। বর্তমানে মাওলানা আব্দুর রহীম আমেরিকায় থাকেন। 

লেখক: প্রাবন্ধিক ও গল্পকার


Wednesday, July 22

 ফেসবুকে হার্টের ডাক্তারের খোঁজ, কয়েক ঘণ্টা পর নিথর দেহ

ফেসবুকে হার্টের ডাক্তারের খোঁজ, কয়েক ঘণ্টা পর নিথর দেহ


নিজস্ব প্রতিবেদক:

"হার্টের ডাক্তার কাহাকে দেখালে ভালো হবে" নিজের ফেসবুক আইডিতে করা এই ছোট্ট স্ট্যাটাসটি যে হবে জীবনের শেষ বার্তা, তা হয়তো কল্পনাও করেননি কানাইঘাট উপজেলার মামুন রশীদ। স্ট্যাটাস দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত মামুন রশীদ কানাইঘাট উপজেলার ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়কান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় সুরইঘাট বাজার সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের সভাপতি হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি লেখেন, "হার্টের ডাক্তার কাহাকে দেখালে ভালো হবে।" স্ট্যাটাসটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর সকালবেলা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদ্‌রোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে। 

মামুন রশীদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে  স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী এবং এলাকাবাসী তার অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন। অনেকেই লিখেছেন, কয়েক ঘণ্টা আগেও যিনি চিকিৎসকের খোঁজ করছিলেন, তাকেই এত দ্রুত বিদায় নিতে হবে-এটি কেউ ভাবতে পারেননি।

তার ফেসবুক প্রোফাইলের পরিচিতি অংশে লেখা ছিল "এমন জীবন তুমি করিও গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি, কাঁদিবে ভুবন।"  মৃত্যুর পর এই কথাগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, সত্যিই তার বিদায়ে আজ কাঁদছে স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজন।

বুধবার বাদ মাগরিব সুরইঘাট মাদ্রাসা মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুলসংখ্যক মুসল্লি, আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।


Monday, July 20

বাংলাদেশ যুবঐক্য পরিষদ কানাইঘাট উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন

বাংলাদেশ যুবঐক্য পরিষদ কানাইঘাট উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন


নিজস্ব প্রতিবেদক: 

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ যুবঐক্য পরিষদ-এর কানাইঘাট উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন সিলেট জেলা যুবঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

সিলেট জেলা যুবঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিদ্যুৎ কান্তি সেন ও সদস্য সচিব রজত কান্তি চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত সংগঠনের প্যাডে গত ১ জুন এ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নবগঠিত কমিটিতে বিপ্লব কান্তি দাসকে আহ্বায়ক এবং বাবুলাল সরকারকে সদস্য সচিব মনোনীত করা হয়েছে।

এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দেবরাজ রায়, বাবুল রায়, নিপুল চন্দ্র দাস, মানিক রায়, মিঠুন চৌধুরী, সুজন চন্দ অনুপ (সাংবাদিক), সুমন রাম দাস, শ্রীধাম দাস, রিপন চন্দ ও রুপন দাস।

কমিটির সদস্যরা হলেন অনিল চন্দ দাস, দিলীপ দাস, উষা দাস, শুক্লব রায়, সচীন বৈদ্য, লিটন কুমার দাস, সঞ্জয় শুক্লবৈদ্য, শ্যামল রায়, বিপ্লব রায়, বাবুল দাস, নয়ন দাস সবুজ, রনজিৎ বিশ্বাস টিটু, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, নিকিল দাশ, শিমুল বিশ্বাস, শুভজিৎ রায়, শান্ত দেবনাথ, সুমন দেবনাথ, বিমল কুমার দাস, অপু রায়, নরেন বিংমোন, অনিল মোহালী, রাজন চন্দ্র নাথ, মোহন চন্দ, গৌরাঙ্গ দাস, সজিব দাস, দিবশে দাস ও দিবান রায়। এছাড়া রত্না রানী দেকে মহিলা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নবগঠিত ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়ায় কানাইঘাট উপজেলা যুবঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ সিলেট জেলা যুবঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যাপক হামলায় আরও এক মার্কিন সেনা নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যাপক হামলায় আরও এক মার্কিন সেনা নিহত

 


মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ছোড়া একটি অবিস্ফোরিত ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও এক সেনা আহত হয়েছেন।

রোববার (১৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় এক সেনা নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ১৮ জুলাই ওই সেনা নিহত হন। এ সময় ড্রোনটি বিস্ফোরিত হলে আরও এক সেনা আহত হন। তবে নিহত সেনার নাম-পরিচয় জানানো হয়নি।

সবশেষ এ সেনার মৃত্যুর ফলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ সংঘাত শুরু হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার জর্ডানে ইরানি হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। সেন্টকম রোববার জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। এটি শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই পক্ষের হামলা তীব্রতর হয়েছে।

দুই পক্ষের এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে এবং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শত শত স্বল্পমূল্যে উৎপাদিত এবং অত্যন্ত বিস্ফোরক একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এ ধরনের ড্রোনকে শাহেদ ড্রোন বলা হয়।

সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিটি শাহেদ ড্রোন প্রায় ৩০ হাজার ডলার ব্যয়ে উৎপাদন করা যায়। ফলে হামলায় এগুলোর ব্যাপক ব্যবহার ইরানের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। অন্যদিকে, এগুলো ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার হতে পারে। অনেক সময় এসব ইন্টারসেপ্টর লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতেও ব্যর্থ হয়।

রোববার ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের কাছে এবং ইরাক সীমান্তবর্তী শাদেগানের কাছে হামলা চালিয়েছে। পরে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবাদানে একটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থাও দারখোভিনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বলেছে, তারা রাতভর হামলার ঘটনাটি তদন্ত করছে। কেন্দ্রটি নির্মাণের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলার জবাবে ইরান কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

কুয়েত সরকার জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একটি পানি পরিশোধন কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে স্থাপনাটিতে আগুন লেগেছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা।

বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, রোববার দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে। এদিকে জর্ডানে সাইরেন বেজে উঠেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে জর্ডান ইরানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে। - সূত্র: আল জাজিরা

ফাইনাল শেষে প্রতিপক্ষকে মেরে ‘লাল কার্ড’ দেখলেন মেসির সতীর্থ

ফাইনাল শেষে প্রতিপক্ষকে মেরে ‘লাল কার্ড’ দেখলেন মেসির সতীর্থ

 


বিশ্বকাপ ফাইনালের নাটকীয় সমাপ্তির পরও উত্তেজনা থামেনি মাঠে। শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে প্রতিপক্ষকে ধাক্কা দেওয়ায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার ও মেসির সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস লাল কার্ড দেখেন। ম্যাচ চলাকালেও একাধিকবার বিতর্কে জড়ানো এই মিডফিল্ডার শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বহিষ্কারের বিরল ঘটনার অংশ হয়ে যান।

ঘটনার সূত্রপাত হয় আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে স্পেনের এরিক গার্সিয়ার কথা কাটাকাটি থেকে। কিছুটা দূরে থাকা পারেদেস দ্রুত সেখানে ছুটে এসে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর দুই দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় সেই উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন।

টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, পারেদেস গাভির মুখেও আঘাত করেন। থিয়াগো আলমাদাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডারকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় কয়েক মিটার দূরেই দানি ওলমো হাঁটু গেড়ে নিকো উইলিয়ামসকে আলিঙ্গন করে শিরোপা উদযাপন করছিলেন। ঠিক তখনই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় রেফারি পারেদেসকে লাল কার্ড দেখান।

স্প্যানিশ সংবাদপত্র মার্কা জানিয়েছে, পারেদেস সবচেয়ে ঘৃণিত খেলোয়াড়দের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

মাঠে নামার পর থেকেই পারেদেস একাধিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বদলি হিসেবে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দানি ওলমোকে ধাক্কা দেওয়ার কারণে তিনি হলুদ কার্ড দেখেন।

দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের শেষ দিকে পেনাল্টি এলাকার ঠিক বাইরে আরেকটি ফাউল করলেও সে ঘটনায় রেফারি তাকে দ্বিতীয় কোনো কার্ড দেখাননি।

এটি এমন একটি ম্যাচ ছিল, যেখানে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে প্রথম হলুদ কার্ড পান এনজো ফার্নান্দেজ। পরে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে পাউ কুবারসিকে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এই মিডফিল্ডার।

চোটও ভোগায় আর্জেন্টিনাকে। প্রথমার্ধের শেষদিকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন। দ্বিতীয়ার্ধে একই কারণে খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি ক্রিস্টিয়ান রোমেরোও।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোও চোটে পড়েন। তবে তখন আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যে ১০ জনে নেমে গিয়েছিল এবং সব বদলি খেলোয়াড় ব্যবহার করে ফেলায় তাকে বাধ্য হয়ে মাঠেই খেলা চালিয়ে যেতে হয়।

রদ্রি পেলেন গোল্ডেন বল, এমবাপ্পে গোল্ডেন বুট: আর কার হাতে কোন পুরস্কার

রদ্রি পেলেন গোল্ডেন বল, এমবাপ্পে গোল্ডেন বুট: আর কার হাতে কোন পুরস্কার

 


কিলিয়ান এমবাপ্পে আর লিওনেল মেসি। ২০২২ সালে কাতারে দুজনের দ্বৈরথ শেষ হয়েছিল ফাইনালের মঞ্চে, টাইব্রেকারের নিষ্ঠুরতায়, মেসির পক্ষে। সেবার বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছিল মেসির আর্জেন্টিনা, তিনি নিজে জিতেছিলেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল। এমবাপ্পেকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট নিয়ে।

এবার যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার বিশ্বকাপেও জমে উঠেছিল দুজনের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। আর এবারও গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আলাদা করে লিখিয়ে নিলেন ফরাসি অধিনায়ক। মেসি এবার ফিরলেন খালি হাতে। বিশ্বকাপ ধরে রাখার আশায় মাঠে নেমে তাঁর দল আর্জেন্টিনা হলো রানার্সআপ। এমবাপ্পের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে হেরে মেসিকে সন্তুষ্ট থাকতে হলো সিলভার বুট নিয়ে।

ওদিকে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলের মিডফিল্ডার রদ্রি। চোখধাঁধানো গোল নেই, ঝলমলে ড্রিবলিং নেই—তবু গোটা টুর্নামেন্টে স্পেনের প্রতিটি জয়ের সুতো বাঁধা ছিল তাঁর পায়েই। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিমানবীয় খেলেছেন ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুবার গোল্ডেন বুট জেতার কীর্তি এমবাপ্পের আগে কারও ছিল না। ১০ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি শেষ করলেন টুর্নামেন্ট, ছাড়িয়ে গেলেন কাতারে করা তাঁর ৮ গোলের কীর্তি। ২২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন ফরাসি অধিনায়ক। ২১ গোল নিয়ে শেষ হলো মেসির বিশ্বকাপ-অধ্যায়। ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে এই রেকর্ড শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যান কে জানে!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৬-৪ গোলের পাগলাটে হারেও এমবাপ্পে জ্বলে ওঠেন জোড়া গোল করে, আর তাতেই সোনার বুট অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তাঁর। ফাইনালে মেসি নেমেছিলেন তাঁকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া ফাইনালে মেসির পা থেকে আর কোনো গোল বেরোল না। ৮ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট নিয়েই শেষ হলো তাঁর এবারের টুর্নামেন্ট।

এবার ব্রোঞ্জ বুট গেল ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের কারিগর জুড বেলিংহামের কাছে। ৭ গোল আর ১ অ্যাসিস্ট তাঁর। সমান ৭ গোল নরওয়ের আর্লিং হলান্ডেরও। তবে অ্যাসিস্টের হিসাবে বেলিংহাম এগিয়ে।

এমবাপ্পের ছুঁয়েছেন আরও একটা মাইলফলক। বিশ্বকাপের এক আসরে ১০ গোল—এমনটা এর আগে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৭০ সালে, জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার গড়েছিলেন সেই কীর্তি। ৫৬ বছর পর, আবার সেই সংখ্যায় পৌঁছালেন এমবাপ্পে। অবশ্য এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা এখনো অক্ষত। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সেরই জুস্ত ফন্তেইন করেছিলেন ১৩ গোল!

স্পেনের রক্ষণ নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসেই কথা হবে বহুদিন। টুর্নামেন্টে সাতটি ক্লিন শিট রেখে, মাত্র একটিমাত্র গোল হজম করে তাদের গোলরক্ষক উনাই সিমন জিতে নিলেন গোল্ডেন গ্লাভ। এই পথচলায় টানা ৬৪৯ মিনিট নিজের জাল অক্ষত রেখে বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড গড়েছেন বিলবাওয়ের গোলরক্ষক। আসলে প্রায় সব পুরস্কারে এবার স্পেনের জয়জয়কার। মাত্র ১৯ বছর বয়সী পাউ কুবারসি জিতেছেন এই বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার। টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেনের রক্ষণকে দুর্গ বানিয়ে রেখেছিলেন বার্সেলোনার এই ডিফেন্ডার।

৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে একটা নতুন রীতিও চালু হলো এবার। চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলকে ফিফা তুলে দিল চ্যাম্পিয়নশিপ রিং। সঙ্গে পাঁচ কোটি ডলার প্রাইজমানি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসেই সর্বোচ্চ।

বিদায়বেলায় গুরুর কাছে ক্ষমা চাইলেন এমবাপ্পে!

বিদায়বেলায় গুরুর কাছে ক্ষমা চাইলেন এমবাপ্পে!

 


বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে চতুর্থ স্থানে থেকে আসর শেষ করেছে ফ্রান্স। আর এই ম্যাচটির মধ্য দিয়েই অবসান ঘটলো ফরাসি ফুটবলে দীর্ঘ ১৪ বছরের এক সোনালী অধ্যায়ের। বিদায় নিলেন ‘লে ব্লুজ’দের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম।

ফরাসি ফুটবলের এই কিংবদন্তির বিদায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন দলটির অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে।

কোচের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এমবাপ্পে লিখেছেন, ‘আপনি আমাদের যা দিয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ। আমরা আপনাকে আরও সুন্দর একটি বিদায় উপহার দিতে পারতাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

১৪ বছর ধরে দেশম ফরাসি ফুটবলে যে অবদান রেখেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন উল্লেখ করে এমবাপ্পে বলেন, ‘এই দলের পুনরুত্থানে আপনার ভূমিকা কতটা বিশাল ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। মানুষ হয়তো সবসময় আপনার মহত্বকে মূল্যায়ন করতে পারেনি, কিন্তু সময় এবং ইতিহাস ঠিকই তার বিচার করবে… এতগুলো বছর ধরে দেশের হয়ে সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’

৫৭ বছর বয়সি এই মাস্টারমাইন্ড ২০১২ সালে লঁরা ব্লাঁ-র কাছ থেকে পিছিয়ে পড়া এক ফরাসি দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর ২০১৮ সালে দলকে এনে দেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি।

কোচের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোকে নিজের সৌভাগ্য উল্লেখ করে এমবাপ্পে আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দেশের অন্যতম সেরা এক কিংবদন্তির পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। আমরা একসঙ্গে যা কিছু অর্জন করেছি এবং পার করেছি, তার সবটুকুই আমার কাছে চমৎকার স্মৃতি হয়ে থাকবে। আপনার নতুন পথচলার জন্য শুভকামনা। এই জার্সির জন্য আপনি যা করেছেন, তার জন্য আবারও ধন্যবাদ। এই জার্সিটি আমাদের কাছে অনেক কিছু।’

১৪ বছরের এই দীর্ঘ মেয়াদে ফ্রান্সের ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়, ২০২১ সালের নেশনস লিগ জয় এবং বেশ কয়েকটি প্রধান টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার পেছনে দিদিয়ের দেশম অসাধারণ ধারাবাহিকতা রেখেছেন।

খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০০০ সালের ইউরো জয়ী এই অধিনায়ক, ঠিক ২০ বছর পর কোচ হিসেবেও ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে তাই তার স্থান অনন্য।

একপেশে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

একপেশে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

 


ম্যাচ চলতে চলতেই ধারাভাষ্যকার পিটার ড্রুরি প্রশ্ন করছিলেন, এর চেয়ে একপেশে ফাইনাল কি কখনো দেখেছে বিশ্বকাপ ফুটবল? আর্জেন্টিনার সমর্থকেরাও বোধ হয় ড্রুরির এই প্রশ্নের জবাবে ‘না’ বলতে পারবেন না আজ। পুরো ১২০ মিনিটেও গোলমুখে একটিও শট নিতে না পারা লিওনেল মেসির দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরলো স্পেন।

ম্যাচের একমাত্র গোলটি এসেছে ১০৬ মিনিটে বার্সেলোনা তারকা ফেরান তোরেসের পা থেকে। এর আগে স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী গোলটিও এসেছিলো আরেক বার্সা তারকা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পা থেকেই।

অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য, পুরো ম্যাচে স্পেনের ১১টি ‘অন টার্গেট’ শটের বিপরীতে একটি শটও অন টার্গেটে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। রীতিমতো প্রথম মিনিট থেকেই নিজেদের খোলসে বন্দী করে রাখা স্কালোনির দল এক মুহূর্তের জন্যও স্প্যানিশ রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করতে পারেনি। উল্টো সহজ কিছু সুযোগ হাতছাড়া না করলে ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বাধা হয়ে না দাঁড়ালে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত স্পেনের।

পুরো টুর্নামেন্টে আক্রমণভাগে যে ধার দেখা গেছে আর্জেন্টিনার, ফাইনালে তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেলো না। একে তো স্পেন নিজেদের পা থেকে বল ছেড়েছে খুব কম, তার উপর আর্জেন্টিনা যতবার বল পেয়েছে, সাইড পাস আর ব্যাক পাসেই তাদের বেশি মনোযোগী মনে হয়েছে। গোল করার কোন তাড়নাই দেখা যায়নি ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে চোট নিয়ে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ উঠে গেলে আরও গুটিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

আর্জেন্টিনাকে খোলসবন্দী দেখে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে উঠতে শুরু করে স্পেন। বেশ কয়েকবার গোলে শট নিয়েছেন লামিন ইয়ামাল-দানি ওলমোরা, কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তবে আর্জেন্টিনার পেরেকে শেষ কফিন হয়ে এসেছে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড। দশ মিনিটের ব্যবধানে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দুইটি হলুদ কার্ড দেখে দলকে আরও বিপদে ঠেলে দিয়ে মাঠ ছাড়েন এনজো। আর্জেন্টিনা তখন প্রাণপনে চেষ্টা করেছে ম্যাচ কোনোরকমে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার।

আকাশি-সাদাদের সেই পরিকল্পনা প্রায় ভেস্তে দিয়েছিলেন ইয়ামাল। ইনজুরি টাইমের একদম শেষ সময়ে তার দারুণ ফ্রি-কিক মার্টিনেজ তার স্বভাবসুলভ ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দিলে আরও একটি লাইফলাইন পায় স্কালোনির দল।

অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজকে তুলে মার্কোস সেনেসিকে নামানোর পর স্কালোনির ট্যাকটিকস আরও পরিষ্কার হয়ে যায়, কোনো রকমে খেলা টাইব্রেকার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। নিশ্চিত দুটি গোলের সুযোগ মিস করে আর্জেন্টিনার সেই স্বপ্ন জিইয়ে রেখেছিলেন নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনো। ৯৩ মিনিটে স্রেফ ঠিকমতো মাথা ছোঁয়াতে পারলেই গোল পেতেন নিকো উইলিয়ামস, কিন্তু তিনি পারেননি। ১০৩ মিনিটে আরও সহজ সুযোগ মিস করেছেন বদলি খেলোয়াড় মেরিনো, একদম ফাঁকায় দাঁড়িয়েও নিকোর ক্রস থেকে হেড করে বল জালে ঢোকাতে পারেননি। মাঝে ৯৬ মিনিটে একবার স্পেনকে গোলের আনন্দে মাতিয়েছিলেন নিকো উইলিয়ামস, কিন্তু ফাউলের কারণে গোল বাতিল হয়।

তবে শেষ পর্যন্ত যে এতগুলো গোল মিসের আক্ষেপে পুড়তে হয়নি স্পেনকে, সেটি ফেরান তোরেসের কল্যাণে। অতিরিক্ত সময়ের বিরতি থেকে ফিরে এক মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী গোলের দেখা পেয়ে যায় স্পেন। পেদ্রো পোরোর ক্রস দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পেছন দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন নিকো উইলিয়ামস। কিছুটা দৌঁড়ে এসে বাঁ পায়ের জোরালো শটে অবশেষে মার্টিনেজকে পরাস্ত করতে সক্ষম হন ফেরান।

আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মনে তখনো হয়তো ক্ষীণ আশা ছিল গোল শোধ দেয়ার। প্রতিটি নকআউট ম্যাচে এভাবেই তো ম্যাচে ফিরেছে তারা। কিন্তু আজ আর সেটি হওয়ার উপায় ছিল না। ম্যাচের একদম অন্তিম সময়ে সুযোগ পেয়েছিলেন বটে সিমিওনে, কিন্তু সেটি পোস্টের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারায় জয় নিশ্চিত হয় স্পেনের।

এই জয়ের মাধ্যমে অনন্য একটি রেকর্ডও হয়েছে স্পেনের। ইতিহাসের প্রথম দেশ হিসেবে পুরুষ ও নারী দুই বিশ্বকাপেই একসাথে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির এখন স্প্যানিশদের। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিলো স্পেনের নারী ফুটবল দল।

কানাইঘাটে শাম্মী আক্তারের বার্তা: বিএনপিকে সঙ্গে নিয়েই চলবে সব উন্নয়ন

কানাইঘাটে শাম্মী আক্তারের বার্তা: বিএনপিকে সঙ্গে নিয়েই চলবে সব উন্নয়ন


নিজস্ব প্রতিবেদক :

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কানাইঘাট-জকিগঞ্জ আসনের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক শাম্মী আক্তার বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে পাশ কাটিয়ে কোন ধরণের উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ড করা সম্ভব নয়। বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সরকারের সকল উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সিলেটের ১৯টি আসনের মধ্যে সিলেট-৫ আসন ছাড়া ১৮টি আসন বিএনপিকে উপহার দিয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। এ জন্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়নে অত্যান্ত আন্তরিক।

দীর্ঘদিন থেকে উন্নয়ন সহ সব দিক থেকে পিছিয়ে পড়া সিলেট-৫ আসনের উন্নয়নের তদারকির দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও প্রশাসনকে সাথে নিয়ে এ আসনের মানুষের আশা-আখাঙ্কা বাস্তবায়নে আমি নিরলস ভাবে কাজ করে যাবো। 

সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় কানাইঘাট উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যেগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। 

পৌরশহরের আজিজ কনভেনশন হলে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপত্বি করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশিদ মামুন।

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বিএনপিকে পাশ কাটিয়ে কানাইঘাটে বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হাসান ও স্থানীয় প্রশাসন সব ধরণের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ও সরকারী বরাদ্ধ একতরফা বিতরণ করে যাচ্ছেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। 

শাম্মী আক্তার এমপি নেতাকর্মীদের শান্তনা দিয়ে বলেন, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে এখন থেকে সরকারের সব ধরণের কর্মকান্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে করতে হবে, এর কোন ধরনের ব্যাত্যয় ঘটবে না। কানাইঘাটের রত্নগর্ব সন্তান বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক যুগ্ম মহাসচিব সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরীকে স্মরণ করে শাম্মী আক্তার বলেন, তিনি বিএনপির জন্য অনেক কিছু করেছেন, আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় নেতা ছিলেন তিনি। কানাইঘাটে সুরমা নদীর উপর সেতু করেছেন, তার নিজ এলাকায় উন্নয়নে তিনি সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। 

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়ছল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, সিলেট মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ও রেড-ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারী মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি)। 

বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, ঝিঙ্গাবাড়ি ইউপির চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আবু বকর, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শফিক আহমদ, উপজেলা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব সাহেদ আহমদ, উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন আল-আমীন। 

পরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন শাম্মী আক্তার এমপি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহদী হাসান শাকিলের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় বিএনপির নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, বিএনপির সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এখানে সরকারের সকল উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বিএনপিকে বাধ দিয়ে প্রশাসন করে যাচ্ছে। সরকারের সব ধরনের বরাদ্ধ একতরফা ভাবে বিতরণ করা হচ্ছে, বিএনপির নেতাকর্মীদের কোন ধরনের মুল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে তারা ক্ষোভ জানান। 

পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাম্মী আক্তার বলেন বর্তমানে যেসব উন্নয়ন হচ্ছে সবই বিএনপি সরকারের উন্নয়ন, সেজন্য বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে সকল উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের জন্য তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সকল কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। প্রশাসনের কাছে উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিএনপির কেউ অন্যায় অবদার করলে দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন সমস্যার কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহদী হাসান শাকিল এবং আইনশৃঙ্খলা বিষয় থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম তুলে ধরলে পর্যায়ক্রর্মে সব ধরনের সমস্য সমাধান করা হবে বলে এমপি শাম্মী আক্তার আশ^স্থ করেন এবং সেই সাথে তিনি জনসাধারনের জন্য নেওয়া সরকারের ফ্যামেলী কার্ড, কৃষি কার্ড ও অন্যান্য ভাতা সুযোগ সুবিধা সহ সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড নিষ্টার সাথে বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারী কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান।

    


Sunday, July 19

বিশ্বকাপ থেকে ফিফার রেকর্ড আয়ে ধামাচাপা পড়ছে বিতর্ক

বিশ্বকাপ থেকে ফিফার রেকর্ড আয়ে ধামাচাপা পড়ছে বিতর্ক


 চলতি বিশ্বকাপ থেকে ফিফা রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। এটি টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো শনিবার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে এই আয় বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। আসরের শুরুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, আয়ের বড় অংশ এসেছে হসপিটালিটি ও টিকিট বিক্রি, বিশেষ করে চড়া দামের সেকেন্ডারি মার্কেট (টিকিট পুনঃবিক্রয়ের বাজার) থেকে। সেকেন্ডারি মার্কেটে ফিফা ক্রেতার কাছে থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছে থেকে আরও ১৫ শতাংশ কেটে রাখে।

ধারণা করা হচ্ছে ফিফার এই বর্ধিত আয়ের সুফল পাবে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো। পাশাপাশি নানা বিতর্কে ঘেরা একটি আসর শেষ করার পর এই আয়ের মাধ্যমে ইনফান্তিনো নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করার সুযোগ পাবেন।

এদিকে বিতর্ক সত্ত্বেও আগামী মার্চ মাসে হতে যাওয়া পুনর্নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনো ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে থেকে ২০০টিরও বেশি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। রেকর্ড আয়ের পর বাড়তি তহবিল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কিছু অ্যাসোসিয়েশন হয়তো তাদের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আনা থেকেও বিরত থাকবে।

রাজস্বের এমন বিপুল জোয়ার নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিডের জন্য উন্মুক্ত থাকা পরবর্তী বিশ্বকাপটি হবে ২০৩৮ সালে। গত শুক্রবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও যুক্তরাষ্ট্রে আবার বিশ্বকাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের (ফিফা) আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়া উচিত। সেবার আমরা এককভাবে আয়োজক হবো। কানাডা ও মেক্সিকো থাকবে না।’

জানা গেছে, ২০২৯ সালের ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ আয়োজনের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিফার আলোচনা চলছে।