মাহবুবুর রশিদ :বছর দুয়েক আগে কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে একটি হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ এহতেশামুল হক হীরার সুমধুর কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত শুনে আবেগে আপ্লুত হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা আজও হৃদয়ে গেঁথে আছে। কে জানত, সেদিনের সেই মুগ্ধতা একদিন বিশ্বজয়ের আনন্দে রূপ নেবে!
যতদূর জানি, হীরার বাবা-মা দুজনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁরা নিজেদের সন্তানকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তুলেছেন এবং হৃদয়ে লালন করেছেন একটি সুন্দর স্বপ্ন,একদিন তাঁদের সন্তান কোরআনের আলোয় আলোকিত করবে চারপাশ। আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। হীরা শুধু তাঁর বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করেনি, আলোকিত করেছে পুরো কানাইঘাটকে, গর্বিত করেছে সিলেটবাসীকে, সম্মান বাড়িয়েছে বাংলাদেশের।
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার হিফজুল কোরআন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে গৌরবান্বিত করেছে হাফেজ এহতেশামুল হক হীরা। এর আগেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে সে।
হীরার গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ফালজুর গ্রামে। তাঁর পিতা মাস্টার আনোয়ারুল হক। একজন সন্তানের এমন সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা, দোয়া ও নিরলস প্রচেষ্টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, হীরার অর্জন যেন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আনন্দের এখানেই শেষ নয়, কানাইঘাটের গৌরবগাথায় যুক্ত হয়েছে আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায়! গত মাসে কাতারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে আমাদের উপজেলার আরেক গর্বিত সন্তান হাফেজ কামরুজ জামান কামিল। তাঁর এই অসাধারণ অর্জনে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা।
একটু ভেবে দেখুন, একই উপজেলার দুই তরুণ হাফেজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন! তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে পবিত্র কোরআনের বাণী, তাঁদের সাফল্যে উজ্জ্বল হচ্ছে বাংলাদেশের নাম। এটি শুধু দুজন ব্যক্তির অর্জন নয়; এটি তাঁদের পরিবার, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান, এলাকাবাসী এবং সমগ্র দেশবাসীর জন্য এক অনন্য গৌরবের উপলক্ষ।
জানামতে, হাফেজ হীরা ও হাফেজ কামিল,দুজনেরই শিকড় রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে। তাই রাজাগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান, এই দুই বিশ্বজয়ী কোরআনের হাফেজকে ঘিরে আয়োজন করা হোক একটি বর্ণাঢ্য ও সম্মানজনক সংবর্ধনা। তাঁদের সাফল্যকে যথাযথ সম্মান জানানো হোক, তাঁদের অর্জন ছড়িয়ে দেওয়া হোক নতুন প্রজন্মের মাঝে। এমন আয়োজন ভবিষ্যতে আরও অনেক শিশুকে পবিত্র কোরআন হিফজ করতে, জ্ঞান অর্জন করতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে অনুপ্রাণিত করবে।
হীরা ও কামিল, তোমরা কানাইঘাটের গর্ব, সিলেটের অহংকার, বাংলাদেশের গৌরব!
তোমাদের কণ্ঠে কোরআনের সুমধুর তেলাওয়াত ছড়িয়ে পড়ুক পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তোমাদের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে বারবার উচ্চারিত হোক বাংলাদেশের নাম। মহান আল্লাহ তোমাদের ইলম, আমল, ইখলাস ও নেক হায়াতে বরকত দান করুন। কোরআনের খেদমতে তোমাদের জীবনকে কবুল করুন এবং ভবিষ্যতেও এমন সাফল্য অর্জনের তাওফিক দান করুন।
কানাইঘাটের মাটি থেকে বিশ্বমঞ্চে-কোরআনের আলোয় আলোকিত হোক আগামীর বাংলাদেশ।
দুজনের জন্য রইল অফুরন্ত ভালোবাসা, আন্তরিক দোয়া ও প্রাণঢালা শুভকামনা।