Previous
Next

সর্বশেষ


Sunday, July 12

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে কানাইঘাটে উৎসবমুখর আয়োজন, সম্মাননা পেলেন শ্রেষ্ঠ কর্মীরা

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে কানাইঘাটে উৎসবমুখর আয়োজন, সম্মাননা পেলেন শ্রেষ্ঠ কর্মীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক : 

“তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সিলেটের কানাইঘাটে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং শ্রেষ্ঠ কর্মী ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের মাঝে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিবার পরিকল্পনা হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আবুল হারিছ।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক তানভীর জাহান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমএসি’র পিও-সিএম (কমিউনিটি মবিলাইজেশন প্রোগ্রাম) মো. হুমায়ুন কবির।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মুজিবুর রহমান, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নাহিদ আহমদ শিব্বির, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শাহরিয়া আক্তার, সীমান্তিকের উপজেলা সুপারভাইজার মো. আবুল কালাম এবং কানাইঘাট প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সুজন চন্দ অনুপ।

আলোচনা সভায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের সাফল্য, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পরিবার পরিকল্পনা সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ মাতৃত্ব, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার কল্যাণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কর্মী ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

এ বছর শ্রেষ্ঠ কর্মী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সোহেল আহমদ, দিঘীরপাড় পূর্ব মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা চন্দনা রানী চন্দ, রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ সহকারী অর্পনা রানী চক্রবর্তী এবং ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার জাবেদ আহমদ।

অন্যদিকে, পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে দিঘীরপাড় পূর্ব মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং সাতবাঁক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র।

Saturday, July 11

গ্লোবাল লিডারশিপ সামিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কানাইঘাটের জয় দাস

গ্লোবাল লিডারশিপ সামিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কানাইঘাটের জয় দাস


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটের তরুণ শিক্ষাবিদ ও নেতৃত্ব বিকাশক জয় দাস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। তিনি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল লিডারশিপ সামিট (GLS) ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

আগামী ১০ ও ১১ জুলাই মালয়েশিয়ার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি (APU)-তে অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন। “Leading Leaders, Lighting Legacies” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশ্বের ১৪টি দেশের ৩৫০-এর বেশি তরুণ প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর ১৭টি লক্ষ্য অর্জনে তরুণ নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য একটি কার্যকর বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জয় দাস নেতৃত্ব বিকাশ, নেগোশিয়েশন, পাবলিক স্পিকিং, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধান ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিংসহ সমসাময়িক নেতৃত্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বহুজাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক নেতৃত্বের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে জয় দাসের এই অংশগ্রহণ কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি দেশের তরুণ সমাজের মেধা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনারও স্বীকৃতি। তাঁর এই সাফল্য কানাইঘাটসহ দেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে জয় দাসের অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্বের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি করবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

Friday, July 10

বাবার বিদায়ের ১৮ দিন পর পৃথিবীর আলো দেখল জুবায়েরের নবজাতক কন্যা

বাবার বিদায়ের ১৮ দিন পর পৃথিবীর আলো দেখল জুবায়েরের নবজাতক কন্যা


মাহবুবুর রশিদ:

যে দিনটি হওয়ার কথা ছিল জীবনের সবচেয়ে আনন্দের, সেই দিনটিই হয়ে উঠল বেদনার প্রতীক। প্রথম সন্তানের মুখ দেখার স্বপ্ন ছিল কাতারপ্রবাসী জুবায়ের আহমদের। হয়তো দূর প্রবাস থেকে বারবার ফোন করে স্ত্রী ও পরিবারের খোঁজ নিতেন, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন ছোট্ট সন্তানটিকে প্রথমবারের মতো বুকে জড়িয়ে নেওয়ার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বাবার মুখ দেখার আগেই পৃথিবীর আলো দেখল জুবায়েরের নবজাতক কন্যা।

কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের বাসিন্দা জুবায়ের আহমদ গত ২১ জুন কাতারে সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। একই দুর্ঘটনায় আরও চার কানাইঘাটী প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো কানাইঘাটজুড়ে।

গত ৩০ জুন জুবায়েরসহ পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছায়। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায়, জুবায়েরের মৃত্যুর মাত্র ১৮ দিন পর, তার ঘর আলো করে জন্ম নেয় এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। যে শিশুকে ঘিরে একজন বাবার হাজারো স্বপ্ন, ভালোবাসা আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা থাকার কথা ছিল, সেই শিশুই পৃথিবীতে এলো বাবার স্নেহ, স্পর্শ ও মুখ না দেখেই।

একদিকে নবজাতকের জন্মে পরিবারে এসেছে নতুন জীবনের আনন্দ, অন্যদিকে এই আনন্দের মধ্যেও রয়ে গেছে এক গভীর শূন্যতা। শিশুটির প্রথম কান্না যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল-তার বাবা আর কোনোদিন তাকে কোলে নিতে পারবেন না, আদর করে ডাকতে পারবেন না কিংবা তার বেড়ে ওঠার সাক্ষী হতে পারবেন না।

এই পরিবারের বেদনার ইতিহাস আরও দীর্ঘ। প্রায় ১২ বছর আগে সৌদি আরবে এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জুবায়েরের বাবা আহসান উল্লাহ। বাবাকে হারানোর সেই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই একই পরিণতির শিকার হলেন জুবায়ের। যেন একই পরিবারের বুকে বারবার আঘাত হেনেছে নির্মম নিয়তি।

পরিবারের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কাতারে গিয়েছিলেন জুবায়ের। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই থামিয়ে দেয় তার সব স্বপ্ন। রেখে যান অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, শোকাহত স্বজন এবং এমন এক কন্যাসন্তানকে, যে সারাজীবন বাবার গল্প শুনেই বড় হবে-কিন্তু কোনোদিন বাবাকে দেখার সৌভাগ্য হবে না।

ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর বলেন, “বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জুবায়ের আহমদের ঘরে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। আমি নবজাতককে দেখতে এবং পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়িতে যাচ্ছি।”



Thursday, July 9

কানাইঘাটে আহাদ হ*ত্যা: জেলে সায়েম, রি’মা’ন্ডে’র আবেদন পুলিশের

কানাইঘাটে আহাদ হ*ত্যা: জেলে সায়েম, রি’মা’ন্ডে’র আবেদন পুলিশের


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার কিশোর শ্রমিক আহাদ আহমদ (১৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েম আহমদ (২৩) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সিলেটের কানাইঘাট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণের পর আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সায়েম আহমদ পৌরসভার রায়গড় গ্রামের এনাম উদ্দিন উরফে ভান্ডারী’র ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সে পলাতক ছিলো। 

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েম আহমদকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করছিল। নিজের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে সে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান ওসি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কানাইঘাট উপজেলা রোডের তাজ উদ্দিন (তাজু) পরিচালিত একটি ওয়ার্কশপে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সায়েম আহমদ স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে কিশোর শ্রমিক আহাদ আহমদের মাথায় আঘাত করেন। এতে আহাদ গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সে মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের চাচা রশিক উদ্দিন বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় সায়েম আহমদসহ তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত আহাদ আহমদ পৌরসভার মহেষপুর গ্রামের একটি টিনশেডের বাসায় তার দুই বোন ও নানার সঙ্গে বসবাস করতো। প্রায় এক বছর আগে তার মা মারা যান। সে পৌরসভার উত্তর দলইমাটি গ্রামের রিকশাচালক সালেহ আহমদের ছেলে । পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই জীবিকার তাগিদে ওয়ার্কশপে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো।

Tuesday, July 7

কানাইঘাটে জাহাঙ্গীর হ*ত্যা মা’ম’লা’র ৩ আ’সা’মি কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার

কানাইঘাটে জাহাঙ্গীর হ*ত্যা মা’ম’লা’র ৩ আ’সা’মি কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক:
 

কানাইঘাটে পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত জাহাঙ্গীর আলম হত্যা মামলার তিন আসামিকে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত রোববার (৫ জুলাই) রাতে কক্সবাজার শহরে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি নিহতের ভায়রা ভাই শামীম উদ্দিন (৪৫), তার ভাই ডালিম উদ্দিন (৩৫) এবং ভাগ্নে তারেক উদ্দিন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, জাহাঙ্গীর আলম নিহত হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক দল আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। তবে আসামিরা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় তাদের গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি। মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার বাদী ও নিহতের ছোট ভাই আলমগীর হোসেন তিন আসামির গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করে কানাইঘাট থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তার ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এজাহারভুক্ত পলাতক অপর তিন আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত বুধবার স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের জেরে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ৩য় খণ্ড গ্রামের বাসিন্দা মৃত মুসা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে স্থানীয় করুনা সুন্দরী দিঘীর সড়কের পাশে তার ভায়রা ভাই শামীম উদ্দিন ও সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে কিশোর শ্রমিক আহাদ আহমদ হত্যা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক চৌকস দল দিন-রাত কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মামলার প্রধান আসামি সায়েম আহমদকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

কানাইঘাটে নি'খোঁ'জে'র দুই দিন পর সুরমা নদীতে ভেসে উঠল যুবকের লা/শ

কানাইঘাটে নি'খোঁ'জে'র দুই দিন পর সুরমা নদীতে ভেসে উঠল যুবকের লা/শ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সুরমা নদী থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম মো. ইকবাল হুসেন (১৯)। সে উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের নিজ রাজাগঞ্জ গ্রামের মখলিছ মিয়ার ছেলে।  ইকবাল মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলো বলে জানা গেছে। 

জানা যায়, দুই দিন আগে ইকবাল বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সুরমা নদীর চান্দের বাজার এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি ইকবাল হুসেনের বলে শনাক্ত করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান চুনু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ইকবাল হুসেন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। দুই দিন আগে তিনি নিখোঁজ হন। আজ সুরমা নদী থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।”


জকিগঞ্জে সুরমার ভয়াল ভাঙন: বিলীনের পথে ১২১ বছরের বিদ্যালয়, আতঙ্কে পাঁচ গ্রামের মানুষ

জকিগঞ্জে সুরমার ভয়াল ভাঙন: বিলীনের পথে ১২১ বছরের বিদ্যালয়, আতঙ্কে পাঁচ গ্রামের মানুষ


হাফিজ আহমদ সুজন:

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। ভাঙনের তীব্রতায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে নদীপাড়ের কয়েকটি গ্রাম, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। প্রতিনিয়ত নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। নতুন করে ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সুরানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী এই বিদ্যালয়টি বর্তমানে নদীভাঙনের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি সুরমা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

বিদ্যালয়টিতে মানিকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর, দুধরচক, শিবেরচক, হরাইচক ও সুরানন্দপুর-এই পাঁচটি গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থাও বড় সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

মানিকপুর ইউনিয়নের সুরানন্দপুর প্রবাসী ফোরামের সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক, পর্তুগাল প্রবাসী জুবায়ের আহমদ বলেন, “সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো চরম হুমকির মুখে রয়েছে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সুরমা নদীর ভাঙনে এই জনপদের মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় বছর বছর একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Monday, July 6

কানাইঘাট হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপিসহ শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

কানাইঘাট হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপিসহ শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান। সোমবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর বিভাগ ঘুরে দেখা হয় এবং চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাংসদ আবুল হাসানের আমন্ত্রণে পরিদর্শনে অংশ নেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. আখলাক উদ্দিন, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম, সহকারী পরিচালক (রোগ নির্ণয়) ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত।

হাসপাতালে পৌঁছালে অতিথিদের স্বাগত জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান শাকিল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবল চন্দ্র বর্মণসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়রা হাসপাতালের জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সভায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর উদ্যোগেই স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চপর্যায়ের এ পরিদর্শনের আয়োজন হয়েছে। তিনি জানান, সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীর বিপুলসংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং খুব শিগগিরই কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকট ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ৫০ শয্যার হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা ইতোমধ্যে তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই পরিদর্শনের মাধ্যমে হাসপাতালের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান এবং চিকিৎসাসেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সবাইকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ সময় সিলেট জেলা ও কানাইঘাট উপজেলা খেলাফত মজলিশের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Sunday, July 5

‘আমের মৌসুম চলে যাচ্ছে, অথচ কেউ এক কেজি ল্যাংড়া আমও পাঠাল না’

‘আমের মৌসুম চলে যাচ্ছে, অথচ কেউ এক কেজি ল্যাংড়া আমও পাঠাল না’

রম্য :

কানাইঘাট নিউজের মুখোমুখি মেসি


সম্প্রতি এক গভীর রাতে স্বপ্নযোগে কানাইঘাট নিউজ অফিসে হাজির হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ঘুম ভাঙার পর তড়িঘড়ি করে তার কাল্পনিক সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে-মাহবুবুর রশিদ

কানাইঘাট নিউজ : কেমন আছেন মেসি ভাই?

মেসি : আর কেমন থাকি ভাই! একটা গোল বলকে গোল করার জন্য সারা জীবন দৌড়াদৌড়ি করে যাচ্ছি। মানুষ ভাবে আমি ফুটবল খেলি, আসলে তো আমি বলটারে গোল করি!

কানাইঘাট নিউজ  : আপনার পায়ে কী এমন জাদু আছে যে বল পায়ে গেলেই গোল হয়ে যায়?

মেসি : জাদু-টাদু কিছু নারে ভাই। বলটা আমার পায়ে আসার পর আর যেতে চায় না। চুম্বকের মতো আটকে থাকে। শেষে বিরক্ত হয়ে একটা জোরালো লাথি মেরে গোলপোস্টে পাঠিয়ে দিই!

কানাইঘাট নিউজ  : গতদিন আস্ত একটা পেনাল্টি মিস করলেন যে?

মেসি : আসলে পেনাল্টি আর পোল্ট্রি মুরগি দুটোই আমার খুব অপছন্দ! আমি মাগনা গোল দিতে পছন্দ করি না। ঘাম ঝরিয়ে, ডিফেন্ডারদের ঘুরিয়ে গোল দিতে বেশি মজা পাই।

কানাইঘাট নিউজ  : জানেন তো, বাংলাদেশে আপনার অসংখ্য অন্ধ ভক্ত আছে?

মেসি : কীভাবে জানব বলেন? আমের মৌসুম চলে যাচ্ছে, অথচ কেউ এক কেজি ল্যাংড়া আমও পাঠাল না! শুধু ফেসবুকে লাভ ইউ মেসি লিখলে তো হবে না, মাঝে মাঝে আম-কাঁঠালও পাঠাতে হয়!

কানাইঘাট নিউজ : বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আপনি শীর্ষে। গোল্ডেন বুট জেতার সম্ভাবনাও প্রবল। কী বলবেন?

মেসি : দেখেন, আমি শুধু গোল্ডেন বুটের জন্য খেলছি না। আমি তো আবার মোজা ছাড়া বুটই পরতে পারি না। তাই গোল্ডেন বুটের সঙ্গে একটা গোল্ডেন মোজাও দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি!

কানাইঘাট নিউজ : যদি সত্যিই গোল্ডেন বুট জিতে যান, তাহলে সেটা নিয়ে কী করবেন?

মেসি : এ প্রশ্নের উত্তর একটু আবেগের সঙ্গে দিতে চাই। বিয়ের সময় অর্থনৈতিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তাই স্ত্রীকে ইমিটেশনের গয়না দিয়েই বিয়ে করেছিলাম। এখন তিন সন্তানের বাবা হয়ে গেছি, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুযোগ পেলেই সেই ইমিটেশনের গল্প তুলে খোঁচা দেয়! তাই ভাবছি, যদি গোল্ডেন বুটটা পাই, সরাসরি জুয়েলারি দোকানে নিয়ে গিয়ে গলিয়ে ফেলব। তারপর সেই সোনা দিয়ে স্ত্রীকে একটা সুন্দর নাকফুল বানিয়ে উপহার দেব।

কানাইঘাট নিউজ  : আচ্ছা, আপনার সবচেয়ে বড় ভয় কী?

মেসি : খেলা চলাকালে ভয় পাই না। তবে ভয় লাগে যখন দেখি আর্জেন্টিনা ম্যাচ হারলে বাংলাদেশে কিছু সমর্থক এক সপ্তাহের জন্য ফেসবুকে নিখোঁজ হয়ে যায়!

কানাইঘাট নিউজ : শেষ প্রশ্ন। বাংলাদেশের ভক্তদের জন্য কিছু বলবেন?

মেসি : অবশ্যই। তোমরা আমাকে এত সাপোর্ট কর, এত পতাকা ওড়াও, এত তর্ক কর-এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তবে একটা অনুরোধ, বিশ্বকাপ শেষে পরিবার-পরিজনের সঙ্গেও একটু সময় দিও। আর আমের মৌসুমে এক-দুই কেজি আম পাঠাতে ভুলো না!

কানাইঘাট নিউজ  : ধন্যবাদ মেসি ভাই, কানাইঘাট নিউজকে সময় দেওয়ার জন্য।

মেসি : কানাইঘাট নিউজকেও ধন্যবাদ, আম পাঠানোর ঠিকানা ইনবক্সে দিচ্ছি কিন্তু।

Saturday, July 4

কানাইঘাটে আহাদ হ'ত্যা'র প্রতিবাদে শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের মানববন্ধন

কানাইঘাটে আহাদ হ'ত্যা'র প্রতিবাদে শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় আহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কানাইঘাট উপজেলা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন (রেজি. নং: সিলেট-৯২)-এর উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার(৪ জুলাই) কানাইঘাট বাজার পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিব আহমদ। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন এবং ক্রীড়া সম্পাদক হাফিজ ইয়াহিয়া। 

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন সমাজসেবা সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া।

মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে নিহত আহাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস কানাইঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি ও শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা আমানুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কানাইঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি ও ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা হাফিজ ফয়েজ আহমদ, ট্রেড ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ইউসুফ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবী এবং ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা আব্দুল গফুর, কানাইঘাট বাজার সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, দোকান শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি সিপুল আমিন চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী এবং ট্রেড ইউনিয়নের উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন এবং সাবেক ছাত্রনেতা আম্বিয়া।

বক্তারা আহাদ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে শ্রমিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এ সময় বক্তারা কানাইঘাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও জোর দাবি জানান।



কানাইঘাটে জাহাঙ্গীর হ*ত্যা*কা*ণ্ডে ভায়রাসহ ৬ জন আসামি

কানাইঘাটে জাহাঙ্গীর হ*ত্যা*কা*ণ্ডে ভায়রাসহ ৬ জন আসামি


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় দাম্পত্য কলহের জেরে জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নিহত হওয়ার ঘটনায় তার ভাই বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম। মামলার বাদি নিহত জাহাঙ্গীর আলমের ভাই মো. আলমগীর হোসেন। মামলায় জাহাঙ্গীরের ভায়রাসহ ৬জনকে আসামি করা হয়েছে । জাহাঙ্গীরের বাড়ি পশ্চিম লক্ষিপ্রসাদ ইউনিয়নের বড়বন্দ তৃতীয়খন্ড গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রায় দুই মাস আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তাকে ফিরিয়ে আনতে তিনি তার ভায়রা ভাই শামীম উদ্দিনের সহযোগিতা চান।

বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেল ২টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে জাহাঙ্গীর আলম সেখান থেকে চলে যান।

অভিযোগ রয়েছে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বড়বন্দ বাজারে যাওয়ার পথে করুনা সুন্দরী দীঘির পাশে আগে থেকেই ওঁৎপেতে থাকা শামীম উদ্দিন, তার ভাই ডালিম উদ্দিন ও নাইম উদ্দিন, ভাগ্নে তারেক আহমদ ও শাহেদ আহমদসহ কয়েকজন জাহাঙ্গীর আলমের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।


কাতারের শোক না কাটতেই সৌদিতে কানাইঘাটের আরও এক প্রবাসীর মৃত্যু

কাতারের শোক না কাটতেই সৌদিতে কানাইঘাটের আরও এক প্রবাসীর মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক :

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে একসঙ্গে পাঁচ প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় কানাইঘাটজুড়ে শোকের আবহ এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক আহমদ(২৪) নামে আরও এক রেমিট্যান্সযোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর এসেছে।

নিহত তারেক আহমদ উপজেলার ৫ নম্বর বড়চতুল ইউনিয়নের মুক্তাপুর গ্রামের ফয়েজ আহমদের ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারেক ড্রাইভিং শিখছিলেন। এ সময় তিনি সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (৩ জুলাই)  বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তারেকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৫ নং বড় চতুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হোসেন চতুলী। তিনি জানান, পরিবারের স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশায় মাত্র দেড় বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তারেক। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রবাসেই ঝরে গেল তার তরতাজা প্রাণ।

তার এই অকাল মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই মুক্তাপুর গ্রামসহ পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্তানের মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তারেকের বাবা-মা। 

Thursday, July 2

কানাইঘাটে এক সপ্তাহে দুই হ*ত্যা*কাণ্ড: আসামিরা অধরা, জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ

কানাইঘাটে এক সপ্তাহে দুই হ*ত্যা*কাণ্ড: আসামিরা অধরা, জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুটি ঘটনাতেই এক কিশোর ও এক যুবক নিহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলার আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে এলাকাজুড়ে জনমনে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ বুধবার (১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বড়বন্দ ৩য় খণ্ড গ্রামের করুণা সুন্দরী দিঘীর পাশে পারিবারিক বিরোধের জেরে নৃশংস হামলায় নিহত হন জাহাঙ্গীর আলম (২৮)। তিনি ওই গ্রামের মৃত মুসা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে প্রায় দুই মাস আগে পাশের বড়চতুল ইউনিয়নের কুল্লার লখাইর গ্রামে তার পিত্রালয়ে চলে যান। স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভায়রা ভাই শামীম আহমদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।

ঘটনার দিন বিকেল ২টার দিকে একই বিষয় নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম ভায়রা ভাই শামীম আহমদের বাড়িতে গেলে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে শামীম আহমদ ও তার পরিবারের লোকজন তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ধাওয়া দিলে তিনি পালিয়ে যান।

এরই জেরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাহাঙ্গীর আলম বাড়ি থেকে বড়বন্দ বাজারের দিকে যাওয়ার পথে করুণাসুন্দরী দিঘীর পাশে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা শামীম আহমদ, তার ভাই ডালিম উদ্দিন, নাঈম উদ্দিন, ভাগ্নে তারেক আহমদ ও সাহেদ আহমদসহ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে একই উপজেলায় কিশোর আহাদ আহমদ (১৬) হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, পৌরসভার উত্তর দলইমাটি গ্রামের দরিদ্র কিশোর আহাদ আহমদ উপজেলার রোডের একটি ওয়ার্কশপে কাজ করত। কর্মরত অবস্থায় কথাকাটাকাটির জেরে সায়েম আহমদ তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের চাচা রশিক উদ্দিন ফেড়াই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় রায়গড় গ্রামের সায়েম আহমদ, ওয়ার্কশপ মালিক তাজ উদ্দিন তাজু ও জামিল উদ্দিনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের পরও আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় কানাইঘাটে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।