Previous
Next

সর্বশেষ


Wednesday, August 12

কানাইঘাটে এসএসসির ফলাফলে শীর্ষে বীরদল এন. এম. একাডেমি

কানাইঘাটে এসএসসির ফলাফলে শীর্ষে বীরদল এন. এম. একাডেমি


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে বীরদল এন. এম. একাডেমি। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৬২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ (এ প্লাস) অর্জন করেছে। বিদ্যালয়টির মোট পাসের হার ৯৭ শতাংশ।

ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে তারা একে অপরকে অভিনন্দন জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল হক বলেন, “বীরদল এন. এম. একাডেমি কানাইঘাট উপজেলার একটি স্বনামধন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রেখে আসছে। বিগত বছরগুলোতেও পাবলিক পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করেছে।”

তিনি জানান, বিদ্যালয়টি ২০২২ ও ২০২৫ সালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কানাইঘাট উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত হয়। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও বিদ্যালয়টি ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালে কানাইঘাট উপজেলার মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের পর ২০২৫ ও ২০২৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রথম স্থান অধিকার করে।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, “এই সাফল্যের পেছনে এলাকাবাসীর অবদান, অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতা, শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও সুচিন্তিত পরামর্শ প্রয়োজন। সবাই বিদ্যালয়ের উন্নয়নে এগিয়ে এলে খুব শিগগিরই বিদ্যালয়টি এলাকার মানুষের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত কার্যক্রমের সমন্বিত ফল হিসেবেই এই সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষার মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

বীরদল এন. এম. একাডেমির এ সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও আনন্দ ও সন্তোষ বিরাজ করছে।

Tuesday, August 11

নজরুল একাডেমী সিলেটের সহ-সভাপতি এম এ হান্নান

নজরুল একাডেমী সিলেটের সহ-সভাপতি এম এ হান্নান


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন নজরুল একাডেমী সিলেটের আগামী তিন বছরের জন্য ৬১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়।

নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সরকারি মদনমোহন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফরিদ আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আহমদ জুলকারনাইন।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক সিলেট বাণীর নির্বাহী সম্পাদক ও সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এম এ হান্নান। তিনি কানাইঘাট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সিলেটে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা ও এর প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ হান্নান নজরুল একাডেমী সিলেটের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানাইঘাট প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। তারা আশা প্রকাশ করেন, এম এ হান্নানের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নজরুল একাডেমীর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তর্কে-যুক্তিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কানাইঘাটের শিক্ষার্থীরা

তর্কে-যুক্তিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কানাইঘাটের শিক্ষার্থীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক: 

‘অভাব নয়, সীমাহীন লোভই দুর্নীতির প্রধান কারণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কানাইঘাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬। দুর্নীতি দমন কমিশনের সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, কানাইঘাট উপজেলা শাখার উদ্যোগে উপজেলার তিনটি ভেনুতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বিতর্কের মঞ্চে শিক্ষার্থীরা যুক্তি, তথ্য ও বুদ্ধিদীপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে দুর্নীতির কারণ ও প্রতিরোধ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মহি উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বীরদল এন এম একাডেমির প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার শাখাওয়াত হোসেন, কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দীপালি বিশ্বাস, সিনিয়র শিক্ষক হোসেইন আহমদ, উপজেলা স্কাউটসের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শুকুর, আলহাজ বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক অভিজিৎ, কমিটির সদস্য মো. ইয়াহইয়া, মুহিবুর রহমান মনির, শিক্ষক তাহমিনা আক্তার সুমি প্রমুখ।

চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতায় তুমুল যুক্তিতর্কের পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। আর রানার্সআপ হয় বীরদল এন এম একাডেমি।

এর আগে উপজেলার তিনটি ভেনুতে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে মোট ৯টি বিদ্যালয় অংশ নেয়। গাছবাড়ী মর্ডাণ একাডেমি ভেনুতে ৩টি, বীরদল এন এম একাডেমি ভেনুতে ২টি এবং কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ভেনুতে ৪টি বিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

বক্তারা বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নয়; ব্যক্তির সীমাহীন লোভ, অনৈতিক মানসিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ও দুর্নীতির অন্যতম বড় কারণ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সততা ও দুর্নীতিবিরোধী চেতনা গড়ে তুলতে বিতর্কের মতো সৃজনশীল আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।



Monday, August 10

সুরমার বালুমহাল নিয়ে উ'ত্তেজনা!  উত্তোলনে বাধা, ফেসবুকে হুমকি-অপপ্রচার

সুরমার বালুমহাল নিয়ে উ'ত্তেজনা! উত্তোলনে বাধা, ফেসবুকে হুমকি-অপপ্রচার


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুরমা নদীর নওয়াগাঁও বালুমহাল ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য ভ্যাট-করসহ ২ কোটি ৫ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়ার পর বালু উত্তোলনে বারবার বাধার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ করেছেন ইজারাদার চন্দন তালুকদার। তাঁর অভিযোগ, কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমানে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী জাবের আশরাফ চৌধুরীর লোকজন বালু উত্তোলনে বাধা, শ্রমিকদের মারধর, যন্ত্রপাতি ক্ষতিসাধন এবং ফেসবুকে হুমকি ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

ইজারাদার সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নওয়াগাঁও বালুমহালটি ইজারাদারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এরপর ইজারার শর্ত মেনে সুরমা নদীর নির্ধারিত অংশ থেকে বালু উত্তোলন শুরু করা হয়। তবে এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ইজারাদারের।

চন্দন তালুকদারের দাবি, জাবের আশরাফ চৌধুরী তাঁর স্বার্থ হাসিলের জন্য স্থানীয় কিছু লোককে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা দিচ্ছেন। তাঁর পক্ষের লোকজন অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের নামে লোকজন জড়ো করে ইজারাদারের শ্রমিকদের মারধর, ড্রেজারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ক্ষতিসাধন এবং বালুবাহী নৌকা আটকের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইজারাদারের আরও দাবি, এসব ঘটনার কারণে বারবার বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তবে নওয়াগাঁও বালুমহালটি জকিগঞ্জ উপজেলার সুরমা নদীর অংশে অবস্থিত হলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলনে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন ইজারাদার। তাঁর অভিযোগ, কানাইঘাটের কিছু লোকজনের মাধ্যমে বালুমহালটি কানাইঘাটের সুরমা নদীর অংশে পড়েছে,এমন অভিযোগ তুলে প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একের পর এক অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ইজারাদার চন্দন তালুকদার বলেন, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টাস্কফোর্স, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসন কয়েক দফা বালুমহাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে। তাঁর দাবি, অভিযানে নওয়াগাঁও বালুমহালের নির্ধারিত এলাকা ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এদিকে জাবের আশরাফ চৌধুরীকে ঘিরে অতীতের বালু ব্যবসা নিয়েও অভিযোগ করেছেন ইজারাদার। তাঁর দাবি, বিগত সরকারের সময়ে কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সুরমা নদীর কানাইঘাট-রাজাগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বৈধ-অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় জাবের আশরাফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ওই মামলার পর তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান বলেও দাবি করেন চন্দন তালুকদার।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাবের আশরাফ চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ইজারাদার চন্দন তালুকদারের অভিযোগ, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে জাবের আশরাফ চৌধুরী তাঁর নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নওয়াগাঁও বালুমহালের ইজারাদারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করছেন। এসব পোস্টে ইজারাদার ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য, গুজব, উসকানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চন্দন তালুকদার। তাঁর দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে ইজারা নেওয়ার পরও যদি এভাবে বাধা, হামলা ও অপপ্রচারের শিকার হতে হয়, তাহলে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে বালুমহাল পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জাবের আশরাফ চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

Sunday, August 9

আইইএলটিএস কৃতীদের সাফল্যে হেক্সাসে উৎসব

আইইএলটিএস কৃতীদের সাফল্যে হেক্সাসে উৎসব


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে আইইএলটিএস ও লাইফ স্কিল শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।

রোববার সকালে মেজরটিলাস্থ হেক্সাস এডুকেশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইইএলটিএস পরীক্ষায় ৮.০, ৭.৫, ৭.০, ৬.৫ ও ৬.০ ব্যান্ড স্কোর অর্জনকারী প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি লাইফ স্কিল কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্নকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার ও সনদ।

হেক্সাস এডুকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাদির সুমনের সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক তাহমিনা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের হিসাব ব্যবস্থাপক মো. মুহিব উর রহমান, হিসাব সহায়তা কর্মকর্তা তানজিম সুলতানা তান্নি, মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের প্রশিক্ষক সৈয়দ নাকিব সাদীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফলতার জন্য ভালো আইইএলটিএস স্কোরের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা ও বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন জরুরি। নিয়মিত অনুশীলন ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব বলেও জানান তারা।

অনুষ্ঠান শেষে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা, পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। (প্রেস বিজ্ঞপ্ত) 


Saturday, August 8

লোভাছড়ায় প্রশাসনের নজরদারির মাঝেও চলছে জব্দ করা পাথর লুট

লোভাছড়ায় প্রশাসনের নজরদারির মাঝেও চলছে জব্দ করা পাথর লুট

 


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটের লোভাছড়া পাথর কোয়ারিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের জব্দ করা পাথর চুরির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাথর চুরির খবর প্রকাশের পর চুরি ঠেকাতে কোয়ারি এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রাম বাজারের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ ক্রাশার জোন বন্ধেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে আটগ্রামের পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিনগুলো বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যেই প্রশাসনের নজর এড়িয়ে লোভাছড়া কোয়ারিতে জব্দ করে রাখা পাথর চুরির অভিযোগ উঠেছে। পাথর চুরি ঠেকাতে কোয়ারি এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি থাকলেও পুলিশের ডিউটির ফাঁকে একটি চক্র গভীর রাতে ও ভোরে নদীপথে জব্দ পাথর জকিগঞ্জের আটগ্রামে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

গত বুধবার বিকেলে লোভাছড়া কোয়ারিতে জব্দ করা পাথর দুটি স্টিলের বলগেটে বোঝাই করে আটগ্রামে নেওয়া হচ্ছিল বলে খবর পায় কানাইঘাট থানা পুলিশ। পাথর ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন ওই বলগেট দুটির মাধ্যমে পাথর নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ বলগেট দুটি আটকের চেষ্টা করে। তবে এর আগেই সেগুলো সরিয়ে অন্যত্র লুকিয়ে ফেলা হয় বলে জানা গেছে।


বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, লোভাছড়া পাথর কোয়ারির একটি চক্র জব্দ করা পাথর চুরি করে আটগ্রামে বিক্রির জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা থেকে অর্ধশতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা কোয়ারি এলাকায় নিয়ে এসেছে। এসব নৌকার দৈর্ঘ্য ২০০ থেকে ২৫০ ফুট বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব নৌকা ব্যবহার করেই জব্দ পাথর সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


স্থানীয় বাসিন্দা সালমান আহমদসহ কয়েকজন জানান, হাজার ফুট ধারণক্ষমতার বেশ কয়েকটি স্টিলের বলগেট ব্যবহার করেও জব্দ পাথর চুরি করা হচ্ছে। পরে এসব পাথর নদীপথে জকিগঞ্জের আটগ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এ অবস্থায় লোভাছড়ার জব্দ পাথর চুরি বন্ধে জকিগঞ্জের আটগ্রামে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সেখানে মজুত থাকা কয়েক লাখ ঘনফুট চোরাই পাথর জব্দ এবং অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ক্রাশার মেশিনগুলো ধ্বংসের দাবি জানান তারা।


কোয়ারি এলাকার বাসিন্দা বাশার আহমদ বলেন, ‘পাথর চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, লোভাছড়া পাথর কোয়ারি একেবারে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। জব্দকৃত পাথর দেখভাল করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হলে পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।


ওসি বলেন, ‘সম্প্রতি একটি পাথর বোঝাই বলগেট এবং পাথরবাহী দুইটি ট্রাক আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলাও হয়েছে।’ তবে এখন আর পাথর চুরি হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোয়ারি এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান ওসি।


এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর লোভাছড়ার পাথর জব্দ করেছে কিন্তু এখন এই পাথরের মালিক হচ্ছে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুারো (বিএমডি)। এখন যদি জব্দকৃত পাথর চুরি হয়ে থাকে তবে বিএমডি কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবে। আমরা তাদের সহযোগিতা করব।’

Friday, August 7

কানাইঘাটকে একটি সুন্দর জনপদ হিসেবে গড়তে চাই: নবাগত ইউএনও সুমাইয়া

কানাইঘাটকে একটি সুন্দর জনপদ হিসেবে গড়তে চাই: নবাগত ইউএনও সুমাইয়া


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাট উপজেলার রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনদের সাথে বিশেষ মতবিনিময় করেছেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নবাগত ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, যোগদানের পর রাজনৈতিক দল ও সুধীজনদের নিয়ে এটিই আমার প্রথম বৈঠক। আপনাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ নিয়ে আমি কানাইঘাট উপজেলাকে একটি সুন্দর জনপদে পরিণত করতে চাই। সরকারের সমস্ত সেবা মানুষের দোরগোড়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে পৌঁছে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমি সবার সহযোগিতা কামনা করি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত উপজেলা বিএনপি, জামায়াত, জমিয়ত ও খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ নবাগত ইউএনওকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। নেতৃবৃন্দ কানাইঘাট পৌর শহরের সৌন্দর্যবর্ধন, যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং হাট-বাজারের সংস্কারে দুর্নীতমুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া তারা মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষারের উপস্থিতিতে সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা ফয়সল আহমদ, কেন্দ্রীয় জমিয়ত নেতা মাওলানা আবুল হোসেন চতুলী এবং জেলা খেলাফত মজলিশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শিব্বির আহমদ।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার আফতাব উদ্দিন, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আমানুর রশিদ চৌধুরী, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল করিম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাস্টার শলিল চন্দ্র দাসসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

Thursday, August 6

৫৫ বছরের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি, ভালোবাসায় সিক্ত মাওলানা গোলাম ওয়াহিদ

৫৫ বছরের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি, ভালোবাসায় সিক্ত মাওলানা গোলাম ওয়াহিদ


নিজস্ব প্রতিবেদক
:

টানা ৫৫ বছর মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করে দ্বীনি শিক্ষা ও ইসলামের খেদমতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বীরদল আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবীণ আলেম মাওলানা গোলাম ওয়াহিদকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ‘আল-ওয়াহিদ আবনা, ফুজালা, হুফ্ফাজ পরিষদ’ এবং বীরদল এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিলে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, মাওলানা গোলাম ওয়াহিদ দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বীরদল আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, আদর্শবান আলেম ও হাফেজ গড়ে তোলা এবং সমাজে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রচারে নিরলস ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার সুনিপুণ তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অসংখ্য হাফেজ ও আলেম বের হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় শিক্ষা, ইমামতি, খতিব ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষানুরাগী, আদর্শ শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে মাওলানা গোলাম ওয়াহিদের অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তারা তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দ্বীনি খেদমতের ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাইখুল হাদি মাওলানা শফিকুল হক সুরইঘাটী, সিলেটের বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মোশতাক আহমদ খান, শায়খুল হাদিস মাওলানা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী, মুফতি মাসউদ আহমদ (শাহবাগ জামিয়া), মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা মুতাছিম আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ,  বীরদল এন এম একাডেমির সাবেক প্রধান শিক্ষক জার উল্লাহ, বর্তমান প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল করীম, মাওলানা আজমত উল্লাহ, মাওলানা জামিল আহমদ, মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মাওলানা গোলাম ওয়াহিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং সম্মাননার অংশ হিসেবে ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার দীর্ঘ ৫৫ বছরের দ্বীনি খেদমত, শিক্ষা বিস্তার এবং কর্মময় জীবন নিয়ে প্রকাশিত একটি স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সবশেষে দেশ, জাতি ও উম্মাহর কল্যাণ এবং মাওলানা গোলাম ওয়াহিদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও দ্বীনি খেদমতের ধারাবাহিকতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সুরমা-কুশিয়ারায় নতুন করে ভাঙন, আতঙ্কে কানাইঘাট-জকিগঞ্জের নদীপাড়ের মানুষ

সুরমা-কুশিয়ারায় নতুন করে ভাঙন, আতঙ্কে কানাইঘাট-জকিগঞ্জের নদীপাড়ের মানুষ


ভয়াবহ নদীভাঙন রোধে ১ হাজার ২৭৩ কোটি টাকার প্রকল্প; বাস্তবায়নের অপেক্ষায় কানাইঘাট-জকিগঞ্জ।

মাহবুবুর রশিদ:

সিলেটের সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ। এই দুই উপজেলা নিয়েই গঠিত জাতীয় সংসদের সিলেট-৫ আসন। উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলেছে সুরমা ও কুশিয়ারা নদী,যে নদী একসময় এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই নদীই এখন পরিণত হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগের প্রতীকে। প্রতি বর্ষায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেই শুরু হয় ভয়াবহ নদীভাঙন। নাব্যতা সংকট, তীব্র স্রোত ও অপরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনার কারণে বছরের পর বছর ধরে ভাঙনের কবলে পড়ে শত শত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।

ভারতের বরাক নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী অমলশীদ পয়েন্টে এসে নদীটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়। একটি শাখা সুরমা এবং অপরটি কুশিয়ারা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরপর দুটি নদী কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ হয়ে সিলেট জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কিন্তু নদীর এই স্বাভাবিক প্রবাহ এখন সীমান্ত এলাকার ভূপ্রকৃতিতেও পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে জকিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অব্যাহত নদীভাঙনের ফলে বাংলাদেশ-ভারতের সীমারেখাও বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙন চললেও স্থায়ী কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত একর ফসলি জমি, বসতভিটা, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও সরকারি স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

নদীভাঙনের পুরনো ক্ষত শুকানোর আগেই সম্প্রতি সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর নতুন করে বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি যেন "কাটা গায়ে নুনের ছিটা"। ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনই নদী কয়েক ফুট করে গ্রাস করছে জনপদ। ফলে আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের হাজারো মানুষের।

কানাইঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোসাইনপুর গ্রাম বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অন্যতম। সম্প্রতি সেখানে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিক। পরে সরকার সেগুলো পুনর্নির্মাণ করলেও বর্তমানে সেগুলোও আবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের খুলুরমাটি ও জিতপুর গ্রাম, নয়াগ্রাম, পৌরসভার ডালাইচর, বায়মপুর, সাতবাক ইউনিয়নের চরিপাড়া এবং লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের উজান বারাফৈইত এলাকায়ও নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে জকিগঞ্জ উপজেলায়ও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। উপজেলা সদরের জকিগঞ্জ বাজার এলাকায় নদীভাঙনের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। এছাড়া লালগ্রাম, ভাখরশাল, পৌরসভার বাজার এলাকা, মাইজকান্দি গ্রাম এবং বীরশ্রী ইউনিয়নের পীরনগর, পিয়াইপুর ও মাঝরগ্রাম এলাকায়ও নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এসব এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, নদীর পাড়ে বসবাস এখন যেন প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয়ের সঙ্গে বসবাস। তারা বলেন, প্রতি বছর বর্ষা এলেই আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। কখন যে নদী তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি কিংবা জীবন-জীবিকার শেষ সম্বলটুকু গ্রাস করবে, সেই অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন তারা।

জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কে এম মামুন বলেন, "কুশিয়ারা নদীর অব্যাহত ভাঙনে জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, জনপদ, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে সুলতানপুর ইউনিয়ন, বারঠাকুরি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার বাজারসংলগ্ন এলাকাসহ একাধিক স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই ভাঙনের কারণে জকিগঞ্জ উপজেলার ভৌগোলিক সীমানাতেও পরিবর্তন এসেছে। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার ভূপ্রকৃতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।"

সদর ইউনিয়নের গোসাইনপুর গ্রামের বাসিন্দা লোকমান উদ্দিন বলেন, "সুরমা নদীর ডাইকে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। যে কোনো সময় ডাইকটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ডাইকের পাশেই একটি নবনির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে, সেটিও এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে আছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবে।"

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। 

তবে আশার খবরও রয়েছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে প্রায় ১ হাজার ২৭৩ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান বলেন, "সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর বেশ কয়েকটি ভয়াবহ ভাঙনকবলিত এলাকা আমি ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি পানি সম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে গ্রহণ করা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।"


Wednesday, August 5

কানাইঘাটে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

কানাইঘাটে গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত


নিজস্ব প্রতিবেদক :

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভাসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস। সভা পরিচালনা করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সুমন মিয়া।

আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায়, কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশিদ মামুন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাস্টার সাজ উদ্দিন সাজু, পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাজী জসিম উদ্দিন ও হাজী আলমাছ উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিন, পৌর জামায়াতের সভাপতি মাওলানা আব্দুল করিম, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এহতেশামুল হক, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক আহমদ, উপজেলা ছাত্র জমিয়তের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি মিম সালমান এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক রুবেল আহমদ।

এ সময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি, জামায়াত, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

Tuesday, August 4

কানাইঘাটে যুবদলের শক্তি প্রদর্শন, তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির বিরুদ্ধে বি/ক্ষো/ভ

কানাইঘাটে যুবদলের শক্তি প্রদর্শন, তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির বিরুদ্ধে বি/ক্ষো/ভ


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী যুবদল কানাইঘাট উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা এবং পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে অনুষ্ঠিত পথসভায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাজ উদ্দিন সাজু সভাপতিত্ব করেন।

পথসভা যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক আহমদ এবং পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন রশিদ মামুন।

সভায় বক্তব্য রাখেন কানাইঘাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক রুবেল আহমদ ও যুবদল নেতা শহিদ আহমদ। বক্তারা তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আলম (মেম্বার), শামিম আহমদ বাদল, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল আহমদ, মারুফ আহমদ, রুহুল আমিন, উপজেলা যুবদলের সাইফুর ইসলাম, দেলওয়ার হোসেন, মানিক উদ্দিন, রুবেল তালুকদার, খায়রুল ইসলাম, সুমন আহমদ, কুতুব সরকার, রহিম উদ্দিন, শামিম আহমদ, সালেক আহমদ, সাহাব উদ্দিন, সামিম আহমদ, সাদেকুর রহমান, বাবলু, দুলাল তালুকদার, পাপ্পু, এনাম উদ্দিনসহ উপজেলা ও পৌর যুবদলের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পৌর যুবদলের মাতাব, সেলিম, আছবেল, হাছান, সাকিল, মারুফসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বন্ধ লোভাছড়া পাথর কোয়ারী নিয়ে নতুন আশার আলো, মাঠে ডিএমডি পরিচালক

বন্ধ লোভাছড়া পাথর কোয়ারী নিয়ে নতুন আশার আলো, মাঠে ডিএমডি পরিচালক


নিজস্ব প্রতিবেদক :

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী দেশের অন্যতম প্রাচীন লোভাছড়া পাথর কোয়ারী। কোয়ারীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশগত পরিস্থিতি এবং জব্দকৃত পাথরের অবস্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (ডিএমডি)-এর পরিচালক মো. রুহুল আমীন। একই সঙ্গে আয়োজিত গণশুনানিতে ব্যবসায়ী, শ্রমিক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা এক কণ্ঠে লোভাছড়া পাথর কোয়ারী দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

সোমবার (৩ আগস্ট) পরিচালক মো. রুহুল আমীন লোভাছড়া কোয়ারী এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের জব্দ করা বিপুল পরিমাণ পাথরের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার এবং উপজেলা ভূমি অফিসের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে পাথর ব্যবসায়ী, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা লোভাছড়া পাথর কোয়ারী পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, কোয়ারী বন্ধ থাকায় হাজারো শ্রমিক ও ব্যবসায়ী চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ লিখিত ও মৌখিকভাবে তাদের মতামত তুলে ধরেন। অধিকাংশ বক্তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় লোভাছড়া পাথর কোয়ারী পুনরায় চালুর আহ্বান জানান।

জানা গেছে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে লোভাছড়া পাথর কোয়ারীর লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উত্তোলিত প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ ঘনফুট পাথর পরিবেশ অধিদপ্তর জব্দ করে। একই সময় সরকারি সিদ্ধান্তে লোভাছড়াসহ দেশের সব পাথর কোয়ারী বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর জব্দকৃত পাথরের মালিকানা ও নিলাম নিয়ে একাধিক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন।

এদিকে, গত বছর জব্দকৃত পাথরের মধ্যে ৪৪ লাখ ঘনফুট পাথর তিন মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে সব পাথর উত্তোলন করতে না পারায় ক্রেতা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় লোভাছড়া পাথর কোয়ারী চালুর বিষয়ে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমডির পরিচালক মো. রুহুল আমীন বলেন, “সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে দেশের সব পাথর কোয়ারী চালুর বিষয়ে আন্তরিক। লোভাছড়া পাথর কোয়ারীর বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে আইনি জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে দ্রুত লোভাছড়া পাথর কোয়ারী পুনরায় চালু হবে। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্থানীয় অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন এবং সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

কানাইঘাটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের আলোচনা সভা

কানাইঘাটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের আলোচনা সভা


নিজস্ব প্রতিবেদক
:

“জীবনের টেকসই সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান, কার্যকর উদ্যোগসমূহকে করি বেগবান” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কানাইঘাটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে কমিউনিটি মোবিলাইজেশন প্রোগ্রাম ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় কানাইঘাট পৌরসভার রামপুরে সীমান্তিক অফিসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গর্ভবতী ও নবজাতকের মায়েদের মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব, শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সুষম পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আলোচনা সভায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য রাখেন কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আবুল হারিছ। তিনি বলেন, জন্মের পরপরই শিশুকে মায়ের শালদুধ খাওয়ানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ পান নিশ্চিত করা শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির (এসএমসি) অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় এবং সীমান্তিকের বাস্তবায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এইচএ আমিনুল ইসলাম, এএইচআই সাইদ আহমদ, প্যারামেডিক তাহমিনা আক্তার সেবি, উপজেলা সুপারভাইজার মো. আবুল কালাম এবং সিএম মিলি রানী দাস।

অনুষ্ঠানে গর্ভবতী ও নবজাতকের মায়েসহ প্রায় ৩০ জন নারী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, মাতৃদুগ্ধের পুষ্টিগুণ এবং শিশুর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং জেএমপি পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টির অবস্থা নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা প্রদান করা হয়।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।