Previous
Next

সর্বশেষ


Sunday, June 14

ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ: জামায়াত আমীর

ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ: জামায়াত আমীর


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, মরহুম অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ ও মুখলিস দাঈ। সিলেট অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের প্রচার, প্রসার এবং সংগঠনকে মজবুত ও গতিশীল করার পেছনে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে সংগঠনের আদর্শকে সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। কুরআন ও দ্বীনের সুমহান খেদমতে তিনি ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ দ্বা’য়ি ইলাল্লাহ।

তিনি বলেন, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী একজন জনপ্রিয় ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি হিসেবে ব্যাপক সমাদৃত ছিলেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দির, ক্লাব ও পাঠাগারসহ অবহেলিত অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উদার ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নেক আমল ও ভালো কাজ তাঁকে আজীবন জনতার মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে।

তিনি রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ী জামেয় ইসলামিয়া ইউসুফিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। এর আগে তিনি মরহুম ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন এবং মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের,  কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা নায়েবে আমীর হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান ও অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, জেলা সেক্রেটারী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, ছাত্রশিবির সিলেট জেলা পূর্বের সভাপতি আবু আইয়ুব মঞ্জু ও পশ্চিম জেলা সভাপতি আবু যোবায়ের প্রমূখ।


কানাইঘাটে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ- ‘হামলাকারী নয়, প্রতিপক্ষকে আসামি করা হয়েছে’

কানাইঘাটে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ- ‘হামলাকারী নয়, প্রতিপক্ষকে আসামি করা হয়েছে’


নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রকৃত হামলাকারীদের আসামি না করে পূর্বের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে কানাইঘাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একটি ভুক্তভোগী পরিবার।

রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৩টায় কানাইঘাট প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার তিনচটি নয়াগ্রামের ফরিদ আহমদের পুত্র রুমেল আহমদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, একই গ্রামের মৃত নুর উদ্দিনের পুত্র আবু লেইছ দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছবাড়ি পশ্চিম বাজার সংলগ্ন সামিট মাদ্রাসার পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসত। এ নিয়ে এলাকাবাসী সোচ্চার হয়ে উঠলে গত ২৪ মে রাতে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা ওই স্থানে হামলা চালায়। এতে আবু লেইছ আহত হন।

রুমেল আহমদের অভিযোগ, হামলার প্রকৃত ঘটনার তদন্ত না করে আবু লেইছ পূর্বের জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার বাবা ফরিদ আহমদ, চাচা দুলাল আহমদ, ফাহাদ আহমদ, জয়নাল উদ্দিন, সালেহ আহমদ এবং চাচাতো ভাই জাফর, সুফিয়ান ও ফয়ছলকে আসামি করে কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আবু লেইছের পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। অভিযোগ করা হয়, বিরোধপূর্ণ জমির একটি অংশ জবরদখল করা হয়েছে এবং আরও কিছু জমি দখলের চেষ্টা চলছে। এসব বিষয় নিয়ে পূর্বেও থানায় অভিযোগ করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আবু লেইছ মাদকসেবনকালে সংঘটিত হামলায় আহত হলেও দায়ের করা মামলায় প্রকৃত হামলাকারীদের নাম উল্লেখ না করে প্রতিহিংসাবশত নিরীহ লোকজনকে জড়ানো হয়েছে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কানাইঘাট থানা, সিলেটের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন রুমেল আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মুতলিব, কুতুব উদ্দিন, আবু তাহের, সালেহ আহমদ এবং বীরদল আগকোপা গ্রামের আহমদ হোসেন।




শিক্ষক আব্দুল মালেকের মৃত্যুতে বীরদল এন.এম একাডেমি পরিবারের শোক

শিক্ষক আব্দুল মালেকের মৃত্যুতে বীরদল এন.এম একাডেমি পরিবারের শোক


নিজস্ব প্রতিবেদক :

কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বীরদল এন.এম একাডেমির সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ আব্দুল মালেকের আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয় গণিত শিক্ষককে হঠাৎ হারিয়ে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

বীরদল এন.এম একাডেমির ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকবৃন্দ এক যৌথ শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

পৃথক শোকবার্তায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, কানাইঘাট সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন এবং প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল হক বলেন, “মুহাম্মদ আব্দুল মালেক একজন দক্ষ, দায়িত্বশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সমগ্র শিক্ষা পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে বীরদল এন.এম একাডেমিতে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে একই দিন মাগরিবের নামাজের পর বীরদল এন.এম একাডেমি মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। 

“নাচ-গানের শিক্ষক নয়, প্রয়োজন পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষক”--জমিয়ত সভাপতি

“নাচ-গানের শিক্ষক নয়, প্রয়োজন পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষক”--জমিয়ত সভাপতি


নিজস্ব প্রতিবেদক :

নাচ-গানের শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে অবশ্যই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় এবং পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা সরকারের উচিত বলে মনে করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

এ বিষয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে সরকারের কাছে তিনি এ আহ্বান জানান।

নিচে জমিয়ত সভাপতির স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো।

"কিছুদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। তারা এসব পদে যোগ্য ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে চান। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এর কোন কার্যকর উদ্যোগ এখনো পরিলক্ষিত না হলেও সম্প্রতি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, তারা প্রাথমিকে ৫০-৬০ হাজার গানের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন।

সংস্কৃতি বিষয়টি হলো জাতিভেদে একটি আপেক্ষিক ব্যাপার। কোন জাতির সংস্কৃতি কী হবে, সেটা আবহমানকাল থেকে সেই জাতির চর্চিত কৃষ্টি-কালচার, ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি ও আচার-অনুষ্ঠানের উপর নির্ভর করে। সংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। এটি একটি জনপদের মানুষের আচার-আচরণ ও অনুভূতির উপর ভিত্তি করে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে ওঠে। 

আবহমানকাল থেকেই ইসলামী সভ্যতা ও অনুভূতিকে ধারণ করেই এই জনপদের মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছে। সুতরাং এই জনপদের মানুষের সংস্কৃতি নির্ধারণ হবে তাদের অনুভূতি ও বোধ-বিশ্বাস অনুযায়ী। এই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ালেখা করে নব্বই ভাগ ধর্মপ্রাণ মানুষের সন্তানেরা। তারা সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসকে ধারণ করে সবার উর্ধ্বে। যার ফলে নাচ-গানের শিক্ষার চেয়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব এই সমাজের মানুষের কাছে অনস্বীকার্য।

সুতরাং সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে নাচ-গানের শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে অবশ্যই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় এবং পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা সরকারের উচিত বলে আমরা মনে করি। কেউ যদি নির্দিষ্ট পরিসরে নাচ-গান করতে চায় তাহলে সেটা তার একান্ত বিষয়। কিন্তু সমাজের মুষ্টিমেয় একটা অংশের চিন্তা-চেতনা এবং চাওয়াকে পুরো প্রজন্মের উপর সংস্কৃতি হিসেবে চাপিয়ে দেয়াটা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চরিত্র হতে পারে না। ৫০-৬০ হাজার গানের শিক্ষক নয় বরং শিক্ষার প্রতিটি স্তরে (প্রাইমারী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক দীক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে লক্ষাধিক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।

অতএব, সরকার এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আগামী প্রজন্মের উন্নত চরিত্র ও নৈতিক মনন গঠনে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি দ্রুত নিশ্চিত করবে বলেই আমরা আশাবাদী।

Saturday, June 13

ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে কানাইঘাট উন্নয়ন পরিষদের গভীর শোক

ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে কানাইঘাট উন্নয়ন পরিষদের গভীর শোক


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেট-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, জননন্দিত নেতা এবং কানাইঘাট-জকিগঞ্জ তথা সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম রূপকার প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকালে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে কানাইঘাট উন্নয়ন পরিষদ।

এক শোকবার্তায় পরিষদের চেয়ারম্যান সরওয়ার ফারুকী ও সেক্রেটারি রিয়াজ উদ্দিনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, “মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সততা ও জনকল্যাণমূলক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শিক্ষক, আলেম ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা, উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব এবং নিরলস প্রচেষ্টার ফলে কানাইঘাট-জকিগঞ্জ অঞ্চলের শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।”

তারা আরও বলেন, “মরহুমের কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর ইন্তেকালে দেশ হারিয়েছে একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও নিবেদিতপ্রাণ জননেতাকে; সিলেট হারিয়েছে একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বকে; আর কানাইঘাট-জকিগঞ্জের মানুষ হারিয়েছে তাদের সুখ-দুঃখের অকৃত্রিম সহযাত্রীকে। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

শোকবার্তায় কানাইঘাট উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহর দরবারে মরহুমের সকল নেক আমল ও খেদমত কবুল করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দানের প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তাঁরা মরহুমের পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

পরিশেষে তারা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, তিনি যেন মরহুমকে জান্নাতবাসী করেন এবং তাঁর পরিবারকে এই শোক ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে বহন করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে কানাইঘাট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক

সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে কানাইঘাট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঐতিহ্যবাহী কানাইঘাট প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। এক শোকবার্তায় কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদসহ নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, কানাইঘাট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠালগ্নে অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসেবে প্রেসক্লাবের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। প্রেসক্লাবের সম্মানিত উপদেষ্টা হিসেবে তিনি সবসময় ক্লাবের উন্নয়ন এবং কর্মরত সাংবাদিকদের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছেন। সাংবাদিক সমাজের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা, শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার মনোভাব ছিল অনুকরণীয়।

তারা আরও বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কানাইঘাটের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর এসব অবদান কানাইঘাটবাসী চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে কানাইঘাট প্রেসক্লাব পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। তারা মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের দরবারে মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করার জন্য দোয়া করেন।



দলমত-নির্বিশেষে শেষ শ্রদ্ধায় চিরবিদায়, সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী

দলমত-নির্বিশেষে শেষ শ্রদ্ধায় চিরবিদায়, সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জানাজার নামাজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত কানাইঘাট জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আলেম-উলামা এবং সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজার নামাজ শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনেই তাঁকে দাফন করা হয়।

জানাজার পূর্বে মরহুমের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ওপর বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজাহারুল ইসলাম, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মরহুমের জামাতা ড. এনামুল হক চৌধুরী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, নায়েবে আমির আনওয়ার হোসাইন খান, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন ও লোকমান উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়ছল, সাংবাদিক এম. এ. হান্নান, অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম মাদানি, সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশীদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও দক্ষ সংগঠক। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার, ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তাঁরা আরও বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নীতিনির্ধারককে হারিয়েছে, যার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

উল্লেখ্য, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ী গ্রামে। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কানাইঘাটে জানাজা থেকে ফেরার পথে সুরমায় নৌকা ডুবি

কানাইঘাটে জানাজা থেকে ফেরার পথে সুরমায় নৌকা ডুবি


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জানাজা থেকে ফেরার পথে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৫ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। 

জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) সাড়ে ৪টায় সিলেটের কানাইঘাটে তার প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষ করে ফেরার পথে সুরমা নদীর তীরবর্তী স্থানে বাঁধা নৌকাটিতে সারিবদ্ধভাবে মুসল্লিয়ানরা উঠতে গেলে তখন নৌকাটি পানিতে তলিয়ে যায়। 

তীরবর্তী স্থানে হওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। 

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘জানাজা শেষ করে ফেরার পতে সুরমা নদীর তীরবর্তী স্থানে নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। তবে তীরবর্তী হওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ও ফায়ারসার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

উল্লেখ্য, শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিলেট নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ, অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী শেষ নিঃশ্বেষ ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার (১৩ জুন) সাড়ে ৪টায় সিলেটের কানাইঘাটে তার প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। 

জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের একমাত্র ছেলে নাজমুস সাকিব চৌধুরী। আরও দেখুন আইসিটি সংবাদ সুনামগঞ্জ সংবাদ হবিগঞ্জ সংবাদ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন বলেও জানা গেছে।

ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অভিভাবক হারালো জকিগঞ্জ-কানাইঘাট: চাকসু মামুন

ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অভিভাবক হারালো জকিগঞ্জ-কানাইঘাট: চাকসু মামুন


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাট-জকিগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট আলেম-রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া মামুনুর রশীদ (চাকসু) মামুন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “ভিন্ন আদর্শের মানুষ হলেও সাবেক এমপি, পরম শ্রদ্ধেয় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী সাহেবের মৃত্যু জকিগঞ্জ-কানাইঘাটকে রাজনৈতিক অভিভাবকহীন করে ফেলেছে, কথাটি নির্দ্বিধায় বলা যায়।”

তিনি আরও বলেন, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন এলাকার একজন গ্রহণযোগ্য ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রয়াণে জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

শোকবার্তায় চাকসু মামুন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা জানিয়ে বলেন, “আল্লাহ তাআলা যেন মরহুমকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই গভীর শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন।”

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।


সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে শাম্মী আক্তারের শোক

সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে শাম্মী আক্তারের শোক


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২২-এর সদস্য মোছাম্মাৎ শাম্মী আক্তার।

এক শোকবার্তায় তিনি সমাজ, শিক্ষা ও রাজনীতিতে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর অসামান্য অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। শাম্মী আক্তার বলেন, কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ী গ্রামের সন্তান ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন বর্ণাঢ্য, পুণ্যময় ও কর্মমুখর জীবনের অধিকারী একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর অমায়িক আচরণ, সততা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কর্ম ও অবদানের মধ্য দিয়ে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবেন মাটি ও মানুষের হৃদয়ে।

শাম্মী আক্তার মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য, অষ্টম জাতীয় সংসদের সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী শনিবার (১৩ জুন) রাত ১টা ৩০ মিনিটে সিলেট নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী সিলেট অঞ্চলের একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি সমাজ উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে অবদান রাখেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়েও তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।

তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকলেও অটুট ছিল ভ্রাতৃত্বের বন্ধন: মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক

রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকলেও অটুট ছিল ভ্রাতৃত্বের বন্ধন: মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেট-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “আমার খালাতো বড় ভাই মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের কৃতী সন্তান। চরিত্র, ব্যক্তিত্ব, সততা ও মানবিক গুণাবলির কারণে তিনি সর্বমহলে অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং একজন সফল অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা এবং মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা তাঁকে একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। রাজনৈতিক অঙ্গনে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও পারিবারিক ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক কখনোই ক্ষুণ্ন হয়নি। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার বন্ধন সবসময় অটুট ছিল।

আজ তিনি আমাদের ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছেন। তাঁর এই প্রস্থান আমাদের জন্য গভীর বেদনার। আমরা তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।

আল্লাহ তাআলা মরহুমকে ক্ষমা করুন, তাঁর কবরকে প্রশস্ত ও নূরময় করুন, তাঁর প্রতি অশেষ রহমত বর্ষণ করুন এবং জান্নাতুল ফেরদাউসে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনকে এই কঠিন শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিদায় জনপদের রূপকার: হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী

বিদায় জনপদের রূপকার: হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী


এহসানুল হক জসীম :

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী আর আমাদের মাঝে নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১টা ৩০ মিনিটে সিলেট নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং কানাইঘাট-জকিগঞ্জ তথা সমগ্র সিলেট অঞ্চলের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটল। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর পরিচয় একজন রাজনীতিবিদ বা সংসদ সদস্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে শিক্ষা, সমাজসেবা, ধর্মীয় নেতৃত্ব ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিস্তৃত ছিল।

তালবাড়ী থেকে নেতৃত্বের শিখরে

কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। তাঁর পিতা মাওলানা আবদুল হক চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত আলেম ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। শৈশব থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল সম্পন্ন করে তিনি এমসি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বিত ধারা তাঁর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বকে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতা।

ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ

ষাট ও সত্তরের দশকে তিনি সিলেট অঞ্চলের ছাত্ররাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। ইসলামী ছাত্রসংঘের জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি নেতৃত্বের যে দক্ষতা দেখিয়েছিলেন, পরবর্তীতে তা জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হয়।জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অঞ্চল পরিচালকের দায়িত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি আদর্শ ও জনকল্যাণের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে এক স্বর্ণযুগ

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কে অনেকেই সিলেট-৫ আসনের উন্নয়নের স্বর্ণযুগ হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিনের অবহেলিত কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে এ সময় যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসে।

উন্নয়নের স্থপতি

একসময় কানাইঘাট ছিল যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত দিক থেকে পিছিয়ে থাকা একটি জনপদ। কাঁচা রাস্তা, বিদ্যুতের অভাব এবং বিচ্ছিন্ন জনজীবন ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এই চিত্র বদলে দিতে নিরলসভাবে কাজ করেন।

তাঁর সময়েই ঐতিহাসিক বোরহানউদ্দিন সড়ক আধুনিক রূপ পায়। অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণ, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে বদলে যায় জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা। সুরইঘাট অঞ্চলের যোগাযোগ উন্নয়ন এবং জকিগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক নির্মাণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিদ্যুতায়নেও তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। তাঁর সময়েই কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যায়, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনে।

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এক মহানায়ক

রাজনীতির বাইরেও তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবে।তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন।

মিরাবাজার শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল, পাঠানটুলা শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, আল-আমীন জামেয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জালালাবাদ ইন্টারন্যাশনাল আলিম মাদ্রাসা এবং জালালাবাদ কলেজসহ বহু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নিজ গ্রাম তালবাড়ীতেও তিনি ব্যক্তিগত জমি দান করে একটি বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, যা আজও তাঁর দূরদর্শী চিন্তার সাক্ষ্য বহন করছে।

কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা

শিক্ষা ও রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তাও। সিলেটের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আল-হামরা শপিং সিটির প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের একজন হিসেবে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শত শত মানুষের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

প্রাজ্ঞ আলেম ও মুফাসসির

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন উচ্চমানের একজন আলেম ও মুফাসসিরে কুরআন। তাঁর তাফসির ও বয়ানে ছিল জ্ঞানের গভীরতা, প্রজ্ঞা ও সহজ উপস্থাপনা। তিনি কখনো আবেগনির্ভর জনপ্রিয়তার পথ বেছে নেননি; বরং যুক্তি, জ্ঞান ও কুরআনের আলোকে মানুষকে পথ দেখিয়েছেন। তাঁর বয়ান শুনে উপকৃত হয়েছেন হাজারো মানুষ।

সততা ও সৌজন্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক

রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ছিল না। ক্ষমতার দম্ভ নয়, বিনয় ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। দল-মত নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও তাঁর সততা, শালীনতা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করতেন।সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায়ও তিনি ছিলেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কিছু স্মৃতি, কিছু অনুভব

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল ও মানবিক। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, অসুস্থদের দেখতে যাওয়া কিংবা জানাজায় শরিক হওয়া ছিল তাঁর স্বভাবের অংশ। অনেকের মতো লেখকের জীবনেও তিনি রেখে গেছেন অমলিন স্মৃতি। একজন অভিভাবকের মতো তিনি তরুণদের উৎসাহ দিতেন, খোঁজখবর নিতেন এবং সম্ভাবনাময় মানুষদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করতেন।

জনপদের হৃদয়ে চিরজাগরুক

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যু একটি যুগের অবসান। তবে তাঁর কর্ম, সততা, উন্নয়ন ভাবনা, শিক্ষাবিস্তার এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে মৃত্যুর পরও জীবন্ত রাখবে। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের অসংখ্য রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু, বিদ্যুতের আলো এবং মানুষের স্মৃতিতে তিনি বেঁচে থাকবেন দীর্ঘকাল।

জনপদের এই রূপকার বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আলোকিত পথচিহ্ন আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে বহু বছর ধরে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন।

কানাইঘাটের শিক্ষাঙ্গনে শোক, জীবনের অঙ্ক শেষ করে চলে গেলেন শিক্ষক আব্দুল মালেক

কানাইঘাটের শিক্ষাঙ্গনে শোক, জীবনের অঙ্ক শেষ করে চলে গেলেন শিক্ষক আব্দুল মালেক


নিজস্ব প্রতিবেদক :

কানাইঘাটের শিক্ষা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জুমার দিনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বীরদল এন এম একাডেমির সহকারী শিক্ষক (গণিত) মুহা. আব্দুল মালেক (৩৫)।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে বীরদল এন এম একাডেমিতে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মৃত শিক্ষক আব্দুল মালেকের বাড়ি রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার সুবাদে তিনি পরিবারসহ কানাইঘাটে বসবাস করছিলেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়।

তার আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো শিক্ষা পরিবারে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সহকর্মীরা জানান, প্রতিদিনের মতোই তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছিলেন। কেউ কল্পনাও করেননি, এদিনই হবে তার জীবনের শেষ কর্মদিবস।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর বীরদল এন.এম একাডেমি মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।