Showing posts with label মুক্তিযুদ্ধ. Show all posts
Showing posts with label মুক্তিযুদ্ধ. Show all posts

Thursday, December 4

কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ

কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ


মাহবুবুর রশিদ :

জ ৪ ডিসেম্বর। কানাইঘাট মুক্ত দিবস। উপজেলাবাসীর জন্য একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত হয় এ জনপদ। সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাটকে হানাদার মুক্ত করেন। এরপর থেকে এই দিনটি কানাইঘাট মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। 

বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে আলাপ করে জানা যায় , ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর কানাইঘাটকে পাক-হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধারা ৩ ডিসেম্বর রাতে পাক-হানাদার বাহিনীকে বিভিন্ন দিকে থেকে ঘেরাও করেন। ৪ ডিসেম্বর ভোর রাতে পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তি বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেই যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর পক্ষে নেতৃত্ব মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) আর পাক বাহিনীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন বসারত। মুখোমুখি লড়াইয়ের একপর্যায়ে পরাজয় বরণ করে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। আর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাট উপজেলাকে হানাদার মুক্ত করে বিজয় উল্লাসে ফেটে পড়েন। 

মুক্তিযুদ্ধকালের অন্যতম স্মরণীয় যুদ্ধ হলো কানাইঘাটের যুদ্ধ। কানাইঘাটে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে। সম্মুখ যুদ্ধে নিহত অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর ও স্মৃতিসৌধ এখানে রয়েছে।

১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে বীরত্বের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা বহু মা-বোনের ইজ্জত হরণ করার পাশাপাশি শত শত বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়। কিন্তু থেমে থাকেনি মুক্তিকামী জনতা। ৪ ডিসেম্বর শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করে কানাইঘাটকে মুক্ত করে বিজয়ের স্বাদ পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন।

কানাইঘাট উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজমুল হক বলেন,'১৯৭১ সালের ৩ডিসেম্বর রাতে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ হয়,দীর্ঘ সময়ে যুদ্ধ করে শত লাশের বিনিময়ে ৪ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় কানাইঘাট।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল ইসলাম বলেন,'১৯৭১ সালে আমি প্রায়ত মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্তের (সি আর দত্ত) এর অধীনে ৪ নং সেক্টরে যুদ্ধ করি। সিলেটের কানাইঘাট,গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় ভারি অস্ত্র নিয়ে আমার যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন,'সেদিন আমার সাথে আব্দুল খালিক ও মকবুল হোসেন নামে আমাদের এলাকার দুইজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন,আমাদের ক্যাম্প ছিলো লালাখাল। ৪ ডিসেম্বর আমরা কমান্ডারের নির্দেশে বড়বন্দ এলাকার হাজি মুছব্বির সাহেবের বাড়ি থেকে অপারেশন চালাই। পাক হানাদার বাহীনির সাথে আমাদের তুমুলযুদ্ধ হয়,একপর্যায়ে তারা পিছু হটলে মুক্ত হয় কানাইঘাট।

প্রতি বছর এই দিনে কানাইঘাট মুক্ত দিবস স্মরণে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়ে থাকে।


Tuesday, August 13

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হলেন ফারুক-ই-আজম

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হলেন ফারুক-ই-আজম

 


মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। 

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ ১৪ উপদেষ্টা শপথ নেন। এরপর রোববার আরো দুই উপদেষ্টা শপথ নেন। 

যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কারণে গত ৮ আগস্ট শপথ নিতে পারেননি ফারুক-ই-আজম। তিনি রোববার রাতে দেশে পৌঁছেছেন।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের জেরে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু হয়।

Monday, October 10

কানাইঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ আলীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

কানাইঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ আলীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাট দিঘীরপাড় ইউনিয়নের সর্দারমাটি মৌনগর গ্রাম নিবাসী বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মাহমুদ আলীর লাশ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্য জনীত কারণে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার(৯ অক্টোবর)  রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ আলী(ইন্নানিল্লাহি...রাজিউন)। 

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তিনি ৩ ছেলে, ৩ মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। 

এলাকার প্রবীণ মুরব্বী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ আলীর জানাজার নামাজ  সোমবার(১০ অক্টোবর)  সকাল ১১টায় স্থানীয় সাতবাঁক হাফিজিয়া মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে দিঘীরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী, লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বীরমুক্তিযোদ্ধাগণ সহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ শরীক হন। জানাজা নামাজের পূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জির উপস্থিতিতে, গার্ড অব অনার শেষে পুর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঈদগাহ গুরুস্তানে বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ আলীকে সমাহিত করা হয়। 

এদিকে দিঘীরপাড় ইউপি শাখা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনের পিতা এলাকার প্রবীণ মুরব্বী বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ আলীর মৃত্যুতে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা সহ শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক এম তাজিম উদ্দিন, দিঘীরপাড় ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী হোসেন কাজল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল ইসলাম, দিঘীরপাড় ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহাব উদ্দিন সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 


Monday, March 25

গণহত্যা দিবসে কানাইঘাটে আলোচনা সভা

গণহত্যা দিবসে কানাইঘাটে আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা সোমবার সকাল ১১ টায় উপজেলা সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুসিকান্ত হাজং এর পরিচালনায় গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান। 

গণহত্যার বর্ণনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, কানাইঘাট সরকারি কলেজের উপাধক্ষ্য লোকমান হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা কাজী আনোয়ার হোসেন, মৎস্য কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার, বাণীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার আফতাব উদ্দিন, থানার সেকেন্ড অফিসার স্বপন চন্দ্র সরকার, সহকারী প্রকৌশলী সাহিদ আহমদ, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সাবেক সম্পাদক এখলাছুর রহমান, কানাইঘাট পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহীন রেজা ফরাজী, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এনামুল হক, শ্রমীকলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ২৫শে মার্চের কালো রাত্রিতে সেদিন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতাকামী নিরস্ত্র জনতার উপর তৎকালীন পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠী যে গণহত্যা চালিয়েছিল তা পৃথিবীর ইতিহাসে এক জগন্যতম অধ্যায়। এ গণহত্যার প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী জাতির মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে আপামর জনতা পাকিস্তানী সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হন। বীর শহীদরা যে স্বপ্ন নিয়ে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে আমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অর্জন আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধরে রাখতে হবে বলে বক্তারা সকলের প্রতি আহবান জানান।

কানাইঘাট নিউজ ডটকম/২৫ মার্চ ২০১৯ ইং

Tuesday, December 4

কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ

কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ৪ ডিসেম্বর কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বরে এই দিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর কবল থেকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাট উপজেলাকে হানাদার মুক্ত করে বিজয় উৎসবে ফেটে পড়েন। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা কানাইঘাট উপজেলা। কানাইঘাটে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে। সম্মুখ যুদ্ধে নিহত অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর ও স্মৃতিসৌধ এখানে রয়েছে। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে বীরত্বের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোষররা বহু মা-বোনের ইজ্জত হরণ করার পাশাপাশি শত শত বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়। কিন্তু থেমে থাকেনি মুক্তিকামী জনতা। ৪ ডিসেম্বর শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করে কানাইঘাটকে মুক্ত করে বিজয়ের স্বাধ পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন। 

কানাইঘাট নিউজ ডটকম/০৪ ডিসেম্বর ২০১৮

Friday, August 31

 কানাইঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত

কানাইঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ৩য় খন্ড গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ(৭০) বার্ধক্যজনিত কারণে গত বৃহস্পতিবার নিজ বাড়ীতে ইন্তেকাল করিয়াছেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ৩ মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ শুক্রবার বাদ জুম্মা বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের জানাজার নামাজ গ্রামের জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সহ সর্বস্তরের লোকজন শরীক হন। জানাজা শেষে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরহুমের লাশ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেছেন, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ সিলেট-৫ আসনের এমপি সেলিম উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জেমস লিওফারগুশন নানকা, সাতবাঁক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ পলাশ, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাজমুল হক, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি রোটারিয়ান শাহজাহান সেলিম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন প্রমুখ। 
কানাইঘাট নিউজ ডটকম/৩১আগস্ট ২০১৮ ইং

Saturday, December 23

কানাইঘাটের এক মুক্তিযোদ্ধার আকুতি!

কানাইঘাটের এক মুক্তিযোদ্ধার আকুতি!


জসিম উদ্দিন : আহমদ আলী। সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৮নং ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের (গাছবাড়ী) ফখরচটি গ্রামে তাঁর জন্ম। মৃত মোছন আলীর ছেলে। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সবার মত দেশের টানে, মায়ের মান বাঁচাতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বীরত্বের সাথে তিনি যুদ্ধ করেছেন। ১৯৭১ সালে ৭ ই মার্চের শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে তিনি আর ঘরে বসতে থাকতে পারেন নি, বের হয়ে পড়েন স্বাধীনতার জন্য। পাকিন্তানি পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে হাতে তুলে নেন অস্ত্র। কাদে তুলে নেন লাটি। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ভারতে গিয়ে। তারপর পাক সেনাদের বিরুদ্ধে শুরু করেন এ্যাকশন। খতম করেন অনেক পাক বাহিনীদের। নিজেও পাকসেনাদের দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হন। এভাবেই মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা বর্ণনা করেন বীর এই মুক্তিযুদ্ধা। যৌবনের এক সাহসী যুবক আহমদ আলী আজ বৃদ্ধ বয়সে আকাশে মেঘ দেখলেই ভয়ে আতংকিত হয়ে উঠেন। ১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশমাতৃকাকে রক্ষা করার যুদ্ধে। দীর্ঘ ৯ মাস সম্মুখ যুদ্ধ করে অনেক কষ্টের বিনিময়ে এই দেশকে স্বাধীন করেতে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। মনে মনে ভাবতেন আমরা আর পরাধীন থাকব না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বীরের মত চলব। কিন্তু অভাবের তাড়নায় আজ বৃদ্ধ বয়সে সে সবই তাঁর কাছে শুধুই স্মৃতি। বাবার রেখে যাওয়া ৯শতক জায়গায় কোন রকম দুটি ছোট ঘরে বাস করেন। বাড়ীতে ঘরের জমিটুকু ছাড়া সহায় সম্বল বলতে আর কিছুই নেই। সরকারের দেয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ১০ হাজার টাকাই আয়ের একমাত্র উৎস। আজ নড়বড়ে টিনের ঘরে মেঘলা আকাশ দেখে আতংকিত হয়ে উঠেন সেই বীরমুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলী। বয়সের ভারে যৌবনের সেই সাহস আজ আর নেই। টিন দিয়ে তৈরী লাকড়ীর ঘরটিতে বসতঘর হিসাবে ঠাঁই মিলেছে বীরমুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলীর। বাঁশ-বেতের তৈরী বেড়া উঁই পোকা খেয়ে ফেলেছে।কালবৈশাখী ঝড়ে বৃষ্টিতে ভেজা বিছানায় রাত্রি কাটান তিনি। ঝড়, তুফান, কালবৈশাখীতে তিনি ভয়ে এখন আতংকিত হয়ে উঠেন, কখন জানি উড়িয়ে নিয়ে যায়। এ প্রতিনিধিকে তিনি আরও জানান, বীরমুক্তিযোদ্ধা শব্দটি ছেলে-মেয়েদের নিকট এখন অর্থহীন একটি শব্দ। আমি ওদের কি দিতে পেরেছি? হয়ত আর ক’দিন পরেই মরে যাব, লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বিউগল বাজিয়ে আমার দাফন কার্য শেষ হবে। এতে আমার সন্তানদের কি লাভ? যাদের দু’বেলা ভাত দিতে পারিনি। আমি মুক্তিযোদ্ধা বাবা হিসাবে ওরা কেন গর্ববোধ করবে? দাম্পত্য জীবনে ২ ছেলে আর ১ মেয়ের জনক।মেয়েকে বিয়ে দিতে অনেক অর্থ ঋণ করেছেন,বর্তমানে সে ও স্বামীর বাড়ী ছেড়ে বাবার বাড়ীতে থাকে। এসব কথা বলতেই দু’চোখের জল চলে আসে বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলীর। । ১৯৭১ সালে ২০ বছরের টগবগে যুবক এই সেই আহমদ আলী ঝাপিয়ে পড়লেন পাকা হানাদার বহিনীর বিরোদ্ধে। তিনি জানান,ভারতের করিমগঞ্জ হয়ে টাউন হলে ৩ দিন থেকে ৪নং সেক্টর কমান্ডার শীর দত্ত বাবুর নেতৃত্বে লোহার বন ক্যাম্পে ২১ দিন উ”চতর ট্রেনিং গ্রহণ করেন। পরে কানাইঘাটের আটগ্রাম,মস্তাজ গঞ্জ,জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত,লাতু এলাকাসহ বেশকিছু এলাকায় পাকহানাদারের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। আহমদ আলীর মুক্তিবার্তার লাল বই নম্বর-০৫০১০৬০২৪৪। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেট নং-৪১৯৮,তাং ২৬-০৭-২০০৬। আহমদ আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু নিজের শরীরে মরণব্যাদি ক্যান্সার বাঁধায় আজ হেরে গেছি। এক বছর ধরে অসুস্থ্য থেকে সব সঞ্চয় দিয়ে চিকিৎসা চালাই। কিন্তু‘ তার পরও সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারিনি।’ দীর্ঘ ৯ মাস খেয়ে না খেয়ে রাত দিন নিদ্রাবিহীন বিরাম হীন কষ্ট করে শত্রুর মোকাবিলা করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম, কারো পরাধীনতায় না থেকে স্বাধীন ভাবে বেচে থাকার জন্য। একটি লাল সবুজের পতাকার স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। অভাবের তাড়নায় পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে লেখাপড়া করতে পারিনি। বাবারও কোন সহায় সম্পত্তি ছিলনা। অভাবের তারনায় নিজের ছেলে মেয়েদেরকেও ভাল ভাবে লেখাপড়া করাতে পারিনি। আমি নিজেও অসুস্থ অর্থের অভাবে ভাল কোন চিকিৎসা নিতে পারিনা। নিজের কোন অর্থ সম্পদ না থাকায় সরকারের দেওয়া মাসিক ১০ হাজার ভাতা নিয়ে কোন রকম বেঁচে আছি। মরার আগে একটি শক্ত ঘরে নির্ভয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলী। মরার আগে যদি সরকার আমার জরার্জীন বসত ঘরটি মেরামত করে দিত তা হলে মরে গিয়েও এ দেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বার্থক হতাম। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ ধনাঢ্য ব্যক্তিদের নিকট শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করার অাবেদন জানান তিনি।

Thursday, December 15

সিলেট হানাদারমুক্ত দিবস আজ

সিলেট হানাদারমুক্ত দিবস আজ


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: আজ ১৫ ডিসেম্বর। সিলেট মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হানাদার বাহিনীর কবল থেকে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সিলেট মুক্ত হয়েছিল। স্বাধীনতার লক্ষ্যে সারা দেশের মত সিলেটও ছিল ঐক্যবদ্ধ, অবিচল। পাকিস্তানী দোসররা বাঙালি জাতির ওপর বর্বর শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তেই রুখে দাঁড়িয়েছিল সিলেটের মানুষ। একটি স্ফুলিঙ্গের মত জ্বলে উঠেছিল মুক্তিকামী মানুষ। দৃশ্যপটের এই শহরে সেদিন বইছিল ভিন্ন বাস্তবতা। চারদিকে, জ্বলছিল আগুনের লেলিহান শিখা। বোমার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল আলী আমজাদের ঘড়ি। ক্বীণব্রিজ হয়েছিল দ্বিখন্ডিত। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল বিভিন্ন নির্মাণ, আবাস ভূমি। ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেবার পর ভারতীয় বোমারু বিমান সিলেট শহরে প্রচন্ড হামলা চালায়। এই হামলা ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধারা বীরের মতো শহরে আসতে শুরু করেন। অন্যদিকে শহর থেকে পালাতে শুরু করে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর আলবদর, রাজাকার, আলশাসম বাহিনীর সদস্যরা। ১৫ ডিসেম্বর সকালে মুক্ত হয় সিলেট। শহরবাসী মাইকের মাধ্যমে গোটা সিলেটে প্রচার করতে থাকেন ‘সিলেট হানাদার মুক্ত’ ‘সিলেট হানাদার মুক্ত’। সেই থেকে ১৫ ডিসেম্বর সিলেট মুক্ত দিবস পালিত হয়ে আসছে। সিলেটভিউ২৪ডটকম

Tuesday, December 13

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হলেও জীবন যুদ্ধে আজও পরাজিত লাল মিয়া

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হলেও জীবন যুদ্ধে আজও পরাজিত লাল মিয়া


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায় হলেও মুক্তিযুদ্ধের পর জীবিকার টানে চলে আসেন নরসিংদীর শিল্পাঞ্চল খ্যাত পলাশ উপজেলায়। বর্তমানে এই এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া। তার সনদ নম্বর ম.১৪০৪৪০, তারিখ ২২.১০.২০০৯, আইডি নম্বর ০৭০৩১০০৩৪৯, গেজেট ৩৬০৭, তারিখ ২৪.১১.২০০৫। দীর্ঘ আলাপচারিতায় জানালেন তার জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার গল্প। ১৪-১৫ বছর বয়স থেকেই তিনি বাবার সঙ্গে অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। ১৯ বছর বয়সে চাচার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্বরপুর থানার চাঁন্দারগাঁও গ্রামে বেড়াতে যান তিনি। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন এলাকায় যুবকদের আনসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ/নিয়ম অনুযায়ী জন্মস্থানের ঠিকানা দিয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া যাবে না। তাই চাচার বাড়ির ঠিকানা দিয়ে প্রশিক্ষণ নেন লাল মিয়া। প্রশিক্ষণ শেষে জীবিকার টানে চাচার বাড়িতে থেকেই কৃষি শ্রমিক হিসেবে অন্যের জমিতে কাজ শুরু করেন। এরই মধ্যে পাকিস্তানিরা এদেশে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। একপর্যায়ে দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা আসে। ২০ বছর বয়সী লাল মিয়া বাবা-মাকে না জানিয়েই সুনামগঞ্জে চাচার বাড়ি থেকেই যুদ্ধে চলে যান। ৫ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে চীনাকান্দি বিডিআর ক্যাম্পে ফজলুর রহমান, কাসেম আলী, মন্নান, তারা চাঁন, মনসুর আলী, সিরাজ, আলী হোসেন, আ. আলীম, রশিদ, সাত্তার, ওমর আলী, বাবু, দুলু, বিসম্বর, খালেক, গফুর, বারেক ও সিরাজসহ অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে ক্যাম্পে অবস্থান শুরু করেন আনসার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লাল মিয়া। এখান থেকে ভাতেরটেক, সুরমা নদীর পাড়ে লালপুর, উড়াকান্দা, বেরিগাওঁ, মঙ্গলকাটা, টুকেরঘাট ও শালবন এলাকায় পাক সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেন।যুদ্ধকালীন সময়ে লালপুর গ্রামের সুরমা নদীর পাড়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ সময়ব্যাপী সংঘটিত সম্মুখ যুদ্ধের স্মৃতি ভুলতে পারেন না তিনি। সেদিন নদীর একপাড়ে লাল মিয়াসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান অপর পাড়ে পাকবাহিনী। পাকিস্তানি বাহিনীকে ধ্বংস করতে প্রাণপণ লড়াই চলছিল মুক্তিযোদ্ধাদের। পাকবাহিনী নদীর ওই পাড় থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের হঠাতে বোমা বর্ষণ শুরু করে। বোমাবর্ষণে সেই স্থানে সৃষ্ট বিশাল গর্তে চাপা পড়ে শহীদ হয়েছিলেন দুই সহযোদ্ধা। কমান্ডারের নির্দেশে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে প্রাণে বাঁচেন লাল মিয়াসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা।দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে জেনারেল আতাউল গনি ওসমানি স্বাক্ষরিত সনদ হাতে নিয়ে জন্মভূমি কিশোরগঞ্জে ফেরেন লাল মিয়া। বাড়ি ফিরে পরলোকে চলে যাওয়ায় বাবাকে দেখতে পাননি তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া। বিয়ের পর হাতে ছিল না তেমন কোনও কাজ, অন্যের বাড়িতেও কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। দুঃখ, দুর্দশার সংসার জীবনে চার সন্তানের জনক হন তিনি। পরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে বাম হাত ও বাম পায়ের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এরপর তার জীবন সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে জীবিকার টানে চলে আসেন নরসিংদীর শিল্পাঞ্চল পলাশ উপজেলায়। এখানে এসেও শারীরিক অক্ষমতার কারণে কোনও কাজ জোটেনি তার ভাগ্যে। পাশে নেই কষ্টে লালনপালন করা সন্তানরাও। চার সন্তানের তিনজনই বিয়ে করে সংসার করছে কিন্তু নিজেদের অভাব অনটনের কারণে বাবার খোঁজ নিতে পারেন না। এলাকার সচেতন মহলের কাছে হাত বাড়িয়েও কোনও ফল পাননি লাল মিয়া। বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে হয় তাকে। ঘোড়াশাল ইউরিয়া সারকারখানার গেটে বসে এখনও চলছে তার ভিক্ষাবৃত্তি। বর্তমানে পলাশ উপজেলার গাবতলী গ্রামে বশির উদ্দিনের বাড়িতে মাসিক এক হাজার টাকা ভাড়ায় একটি মাটির ঘরে বসবাস মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়ার। শত কষ্টেও ছোট সন্তান রাইজুল ইসলামকে পলাশ থানা সেন্ট্রাল কলেজে লেখাপড়া করাচ্ছেন। এরইমধ্যে সরকার থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হলে ওই তালিকায় নাম উঠে আসে লাল মিয়ার। কিন্তু ভাতা গ্রহণ করতে হয় সুনামগঞ্জ জেলা থেকে। পলাশ থেকে যাতায়াত খরচ হিসেবে চলে যায় এক হাজারেরও বেশি টাকা। অন্যান্য খরচ মিটিয়ে শেষ পর্যন্ত তার হাতে ভাতা বাবদ যে টাকা থাকে তা দিয়ে সংসার চলে না এই মুক্তিযোদ্ধার। কলেজ পড়ুয়া ছেলেটির লেখাপড়া শেষ করাতে পারলে ছোটখাট একটি চাকরি জুটবে সেই প্রত্যাশায় দিন কাটে এই মুক্তিযোদ্ধার।মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া বলেন, দেরিতে হলেও এই দেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, এতে আমি খুবই আনন্দিত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

Wednesday, December 7

আজ নোয়াখালী মুক্ত দিবস

আজ নোয়াখালী মুক্ত দিবস

আজ নোয়াখালী মুক্ত দিবস
কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: আজ ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক-হানাদার মুক্ত হয় নোয়াখালী জেলা। মুক্তিসেনারা এইদিন জেলা শহরের পিটিআইতে হানাদার ও রাজাকারদের প্রধান ঘাঁটির পতন ঘটিয়ে নোয়াখালীর মাটিতে উড়িয়েছিলেন বিজয়ের পতাকা।

২৫ মার্চের পর মুক্তিযোদ্ধারা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নোয়াখালীকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরপর বহুকষ্টে পাকিস্তানী সেনারা ২৩ এপ্রিল নোয়াখালী দখল করে নেয়। দখলদার বাহিনী জেলা শহরের শ্রীপুর, সদরের রামহরিতালুক, গুপ্তাংক, বেগমগঞ্জের কুরিপাড়া, গোপালপুর ও আমিশ্যাপাড়ায় নির্বিচারে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এ সময় হায়নাদাররা হত্যা করে অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিশুকে। গান পাউডার দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এরপর দেশের অভ্যন্তরে ও ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আবার অস্ত্র হাতে মাঠে নামে মুক্তিযোদ্ধারা। কোম্পনীগঞ্জের বামনী, তালমাহমুদের হাট, ১২ নং স্লুইস গেইট, সদরের ওদারহাট, করমবক্স, বেগমগঞ্জের ফেনাকাটা পুল, রাজগঞ্জ, বগাদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা।

নোয়াখালীকে হানাদার মুক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রস্তুতি যখন প্রায় চুড়ান্ত, ঠিক তখনই ৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে মাইজদী পিটিআই ও বেগমগঞ্জ টেকনিক্যাল হাইস্কুল ক্যাম্প ছেড়ে কুমিল্লা সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যেতে থাকে পাকিস্তানী মিলিটারি ও মিলিশিয়ারা। এ সময় বেগমগঞ্জ-লাকসাম সড়কের বগাদিয়া ব্রিজ অতিক্রম করতেই সুবেদার লুৎফুর রহমান ও শামসুল হকের নেতৃত্বাধীন মুক্তি বাহিনীর হামলায় অসংখ্য পাক মিলিটারি ও মিলিশিয়া নিহত হয়।

মুক্ত দিবসের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাম্মেল হক মিলন, মুক্তিযোদ্ধা এবিএম ফজলুল হক বাদল ও মুক্তিযোদ্ধা এনাম আহসান জানান, ৭ ডিসেম্বর ভোররাত থেকে মুক্তিযোদ্ধারা নোয়াখালীকে শত্রুমুক্ত করার চুড়ান্ত অপারেশন শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা একযোগে চতুর্দিক থেকে আক্রমন চালিয়ে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তার টেকনিক্যাল হাইস্কুলের রাজাকার ক্যাম্প মুক্ত করে।

একইদিন জেলা শহরের মাইজদি কোর্ট ষ্টেশন, জিলা স্কুল, দত্তেরহাট নাহার মঞ্জিল মুক্ত করে অকুতভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এদিন সকাল ৯টার দিকে পাক আর্মি ও রাজাকারদের প্রধান ঘাঁটি মাইজদি পিটিআই চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলেন মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান টের পেয়ে পিটিআই ক্যাম্পের ভেতরে অবস্থানরত রাজাকাররা এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পার্শ্ববর্তী সরকারি আবাসিক এলাকার এক ব্যক্তি মারা যান। পাল্টা গুলি চালায় মুক্তিযোদ্ধারাও। গুলির শব্দে কেঁপে উঠে পুরো শহর।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে অন্ধকার নেমে আসার সাথে সাথে ক্যাম্প ছেড়ে পালাতে থাকে রাজাকাররা। বিপরীত দিক থেকে গুলি বন্ধ হলে মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাম্পের ভেতরে গিয়ে দেখতে পান সেখানে বহু রাজাকারের লাশ পড়ে আছে। আরো কয়েকজন রাজাকার ধরা পড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে। এভাবে ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় নোয়াখালী জেলা।

তবে স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গনকবর আজও সংরক্ষিত হয়নি । বিশেষ করে মাইজদি পিটিআই হানাদারদের ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতাকামীদের হত্যার পর জেনারেল হাসপাতালের পেছনে গর্ত করে পুঁতে রাখা হত। তাদের কবরগুলি আজও সংরক্ষিত হয়নি।

এদিকে আজ নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করবে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এ উপলক্ষে মাইজদি পিটিআই সংলগ্ন বিজয় মঞ্চে আলোচনা সভা, মুক্তিযুদ্ধের গান ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত হবে।
আজ সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভুটান

আজ সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভুটান

আজ সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভুটান

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রতিটি দিন ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ইতিহাসে পরাধীনতার গ্লানি মুছে স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্নপ্রকাশের মাস এই ডিসেম্বর। এ মাসের শুরু থেকেই পাকিস্তানি বাহিনীর কাছ থেকে একে একে দেশের বিভিন্ন জেলা মুক্তিবাহিনীর দখলে চলে আসতে থাকে।

ভারত সরকারের স্বীকৃতি দেওয়ার পরের দিন ৭ ডিসেম্বর স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভুটান। অন্যদিকে, ভারতকে অর্থনৈতিক সাহায্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বাতিল করার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। আর কোনো ধরনের বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া পাকিস্তান-ভারত সংঘর্ষের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান সোভিয়েত নেতা ব্রেজনেভ।

৭ ডিসেম্বর ভোরে ভারতীয় বাহিনী সিলেটের নিকটবর্তী বিমানবন্দর শালুটিকরে চারদিক থেকে পাকিস্তানি ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালায়। মিত্রবাহিনীর আক্রমণে দুপুরের মধ্যেই আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি বাহিনী। এমনকি পালানোর সময় পাকিস্তানি বাহিনী বিপুল অস্ত্রশস্ত্র, রেশন এবং কন্ট্রোল রুমের সামরিক মানচিত্রও ফেলে যায়। শত্রুমুক্ত হয় যশোরের কেশবপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহ ও মধুপুর।

এদিন নোয়াখালীর মাইজদী পিটিআইয়ের নিয়ন্ত্রণে নেয় যৌথ বাহিনী। বিকেলের দিকে মুক্তিবাহিনীর দখলে আসে বগুড়া-রংপুর সড়কের করতোয়া সেতু। আত্মসমর্পণ করে সেখানে থাকা রাজাকার ও আলবদর। এদিন ভারতীয় বেতার কেন্দ্র থেকে হিন্দি, উর্দু ও পশতু ভাষায় বাংলাদেশে দখলদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান ভারতের জেনারেল মানেকশ।

রাত ১০টায় আকাশবাণী থেকে তিনি বলেন, ‘তোমাদের বাঁচার কোনো পথ নেই। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য তোমাদের ঘিরে রেখেছে। তোমরা যে নিষ্ঠুর আচরণ করেছ, তারা তার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। অনেক দেরি হওয়ার আগেই তোমরা আত্মসমর্পণ কর।’

Sunday, December 4

একাত্তরের এই দিনে

একাত্তরের এই দিনে

একাত্তরের এই দিনে
কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মাস ডিসেম্বর। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদ আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর শমশেরনগর বিমানবন্দর এবং আখাউড়া রেলস্টেশন দখল করে মুক্তিবাহিনী। একই দিনে লক্ষীপুর হানাদার মুক্ত হয়।

১১ নং সেক্টরে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানিদের শক্ত ঘাটি কামালপুর বিওপি দখল করে যৌথ বাহিনী। পাকিস্তান নৌ-বাহিনীর সাবমেরিন পিএনএস গাজী বিশাখাপত্তম বন্দরের কাছে আক্রান্ত হয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গা থেকে পালানোর পথ খুঁজতে থাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

এই দিনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সিনিয়র জর্জ বুশ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে পাক-ভারতের মধ্যেকার যুদ্ধ হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করেন। যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দাবি করে যে, এই মূহুর্তে ভারত ও পাকিস্তান নিজ নিজ সীমান্তের ভেতর সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

চরম উৎকন্ঠাময় অবস্থায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে লিখিত এক পত্রে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের আহবান জানান তৎকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। অন্যদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো প্রদানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে ভেস্তে যায়।
 কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ

কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ


নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর সূর্য ওঠার আগেই কানাইঘাটে মুক্তিবাহিনী ও পাক-হানাদার বাহিনীর মধ্যে মুখোমুখি লড়াই শুরু হয়। চারিদিকে গুলির বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে মুক্তিপাগল সাধারণ মানুষের। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে ব্যর্থ হয়ে আত্মসমর্পণ করে পাক হানাদার বাহিনী। এরপর থেকে এই দিনটি কানাইঘাট মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ২৫ মার্চ মধ্য রাতে পাক হানাদার বাহিনী বাঙালিদের ওপর হামলা চালালেও মূলত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হামলা শুরু করে জুনের মাঝামাঝি সময়ে। দীর্ঘ সময়ে যুদ্ধ করে শত লাশের বিনিময়ে অবশেষে ৪ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় কানাইঘাট উপজেলা। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহীনিকে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাধ্য করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাটকে শত্রু মুক্ত ঘোষণা করেন।

Monday, December 14

 সিলেট নগরীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ করার দাবি

সিলেট নগরীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ করার দাবি

সিলেট, সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ :: ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, আমাদের  মনে করিয়ে দেয় মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগ্রামী সকল চরিত্রকে। আর স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে সকল আন্দোলন সংগ্রামের শহীদদের স্মরণের জন্য আমাদের স্মৃতিসৌধ। অথচ স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও আমাদের সিলেটে নেই কোন স্মৃতিসৌধ। শিশু কিশোর মেলা সিলেটে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবি তুলছে।

আজকের দিনে চারিদিকের যে নোংরামি প্রতিনিয়ত শিশু কিশোরদের গ্রাস করতে চাইছে, তার বিপরীতে চিন্তা মননে সবদিকে সুস্থ রাখতে গেলে অতীতের সকল বড় মানুষদের যারা জীবন দিয়েছেন আদর্শের জন্য, সত্যের জন্য সেইসব সংগ্রামী চরিত্রকে নিয়ে আসতে হবে তাদের সামনে।  মুক্ত মানুষ হতে গেলে চাই মুক্ত পরিবেশ। কিন্তু সিলেট শহরে নেই কোনো পার্ক, যেখানে শিশু কিশোররা প্রাণ খুলে দৌড়াতে পারে, খেলতে পারে, অভিভাবকেরা স্বস্তিতে নিয়ে যেতে পারেন নিজের সন্তানদের।

শিশু কিশোর মেলা ধারাবাহিকভাবে গত ২৬ শে মার্চ থেকে সিলেটে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবিতে বিভিন্ন কাজ করছে শিশু কিশোর মেলা। সিলেটের বর্তমান কারাগারটি অতিদ্রæত স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছে। ঐ স্থানে (জেলরোডে) শহরের প্রাণকেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ও শিশুদের বিকাশ উপযোগী পার্ক নির্মাণ করার দাবি জানাই। সেই দাবিতে আমরা ইতিমধ্যেই প্রায় তিনশ স্কুল ছাত্রের উপস্থিতিতে স্মৃতিসৌধের মডেল নির্মাণ প্রতিযোগিতা, প্রায় দশ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়।

আগামী ১৬ ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে সকাল ১১ টায় এই দাবিকে আবার সামনে নিয়ে আসার লক্ষ্যে শহর জুড়ে সাইকেল র‌্যালি করা হবে। উক্ত আয়োজনে সবাইকে অংশগ্রহণ করার আহŸান জানানো হয়।

সাদিয়া নোশিন তাসনিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

Thursday, December 3

কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস শুক্রবার

কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস শুক্রবার


নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামীকাল শুক্রবার কানাইঘাট উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহীনিকে আত্ম সমর্পণের মাধ্যমে বাধ্য করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাটকে শক্রু মুক্ত ঘোষণা করেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হক কানাইঘাট নিউজকে জানিয়েছেন, এই দিনে কানাইঘাট উপজেলা হানাদার মুক্ত করা হয়। এ উপলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদের উদ্যোগে শুক্রবার উপজেলা সদরে বিজয় র‌্যালী সহ দিনভর নানা অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয়েছে। বিজয় র‌্যালীতে সবাইকে তিনি অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

Wednesday, December 17

বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিই

বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিই


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মৌলবি মোহাম্মদ আবুল কাশেম কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার কাজীয়াতল গ্রামে ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় কাজীয়াতল গ্রামের মাদরাসা-ই-ফ্রি ফোরকানিয়ার মাধ্যমে। এরপর তিনি কিছুদিন এ মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। তিনি সাধারণ শিক্ষাও গ্রহণ করেন। পরবর্তী জীবনে জড়িয়ে পড়েন ব্যবসায়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও রণাঙ্গনের সরাসরি যোদ্ধা। যুদ্ধে যাওয়ার প্রেক্ষাপট ও রণাঙ্গনের স্মৃতি নিয়ে তিনি আলোকিত বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেন। মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর পরিকল্পনায় আমানুল্লাহ নোমানের নেয়া সাক্ষাৎকারের আলোকে বিজয়ের এ মাসে মুক্তিযুদ্ধে আলেমসমাজ নিয়ে আমাদের বিশেষ আয়োজনে আজ থাকছে ১২তম পর্ব। আলোকিত বাংলাদেশ : মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা কীভাবে পেলেন? মোহাম্মদ আবুল কাশেম : পাকবাহিনী অমাদের ওপর অনেক অত্যাচার করেছে, যা ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়। বিশেষ করে আমাদের মা-বোনদের ওপর যেসব অত্যাচার করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এসব দেখে আমি ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর এক ভাষণে আমি শুনেছিলাম তিনি সেখানে বলেছেন, কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না। মূলত বঙ্গবন্ধুর এ কথা আমাকে মুক্তিযুদ্ধে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। সরাসরি যুদ্ধে কীভাবে জড়ালেন? ** প্রথমে আমরা কয়েক বন্ধু মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিই। আমরা একসঙ্গে ২৬ জন ট্রেনিং নেয়ার জন্য ভারতের পালাটোনায় এবং মেলাঘরে যুদ্ধের ট্রেনিং নিই। ট্রেনিং শেষে আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। যেখানে পাকবাহিনীর বড় একটি ঘাঁটি ছিল। বাংলাদেশে ঢুকতেই আমরা পাকবাহিনীর আক্রমণের মুখে পড়ি। এর পরে আমরা আমাদের থানায় চলে আসি। আমরা আমাদের এলাকায় পীর কাশিমপুরনামক স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করি। যুদ্ধের কিছু স্মৃতি বলুন? ** রণাঙ্গনে আমরা বেশ কয়েকবার পাকবাহিনীর মুখোমুখি হই। প্রথম মুখোমুখি হই আমাদের থানার পান্তিবাজারনামক স্থানে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য যুদ্ধে মুখোমুখি হই কুমিল্লা জেলার হোমনা থানায়। সেখানে কয়েক দিন যুদ্ধ চলে। অবশেষে পাকবাহিনী পরাজিত হয়, কিন্তু আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। অনেক যোদ্ধা সেখানে শহীদ হন। আমাদের যুদ্ধ দেখে এলাকার সবাই আশান্বিত হয়। যুদ্ধের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাটি বলুন? ** মুরাদনগর থানা আক্রমণ যুদ্ধের স্মরণীয় একটি ঘটনা। বিনা রক্তপাতে আমরা মুরাদনগর থানা দখল করি। শুধু কৌশলের কারণে আমরা জিতে যাই। আমরা ৪০০ মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। সবাই একটি করে বাংকার করি। এসব দেখে পাকবাহিনী ঘাবড়ে যায়। আমাদের হাতে ছিল দুটি এলএমজি, ১০০ থ্রি নট রাইফেল, আর ১০-১৫টি গ্রেনেট। আমাদের কমান্ডার যখন বললেন, ফায়ার। আমরা সবাই একযোগে ফায়ার করি। এতে ভয় পেয়ে পাকবাহিনী থানা ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিনা রক্তপাতে আমরা থানা দখল করে ফেলি। মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনাদের ধর্মীয় অনুভূতি কেমন ছিল? হহ মৃত্যুর কথা নিশ্চিত জেনেই আমরা যুদ্ধে যেতাম। গোসল করে পবিত্র হয়ে যুদ্ধে যেতাম। বিসমিল্লাহ বলে রাইফেলের টিগারে টিপ দিতাম। আক্রমণ করে আমরা তাকবির দিতাম। আমাদের ক্যাম্পের সবাই নামাজি ছিল। কোন কমান্ডারের অধীনে যুদ্ধ করেছেন? ** আমি যুদ্ধ করেছি দুই নম্বর সেক্টরে। আমার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর হায়দার। থানা কমান্ডার ছিলেন কামরুল হাসান ভূঁইয়া। কয়েকজন সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধার নাম বলুন? হহ আঃ ওয়াদুদ, আঃ সাত্তার, আঃ মান্নান, নেপালচন্দ্র সূত্রধর, খোরশেদ আলম, বকবির হোসেন ও ইদ্রিস সরকার। এদের অনেকেই এখনও জীবিত আছে। সনদ পেয়েছেন? ** হ্যাঁ, পেয়েছি। ভাতাও পাচ্ছি। আমার সনদ নং-ম-৮১৫২০। ওসমানী সাহেবেরও সার্টিফিকেট পেয়েছি। যুদ্ধের সময় অস্ত্র, টাকা-পয়সা ও খাবারের জোগান কীভাবে হতো? ** অস্ত্রের বেশিরভাগ পেতাম যুদ্ধ জয় দিয়ে। পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র আমাদের প্রধান সম্বল হয়ে দাঁড়ায়। খাবার এলাকাবাসী খাওয়াত। যে এলাকায় যুদ্ধ করতে যেতাম, সে এলাকার লোকেরা খাবারের ব্যবস্থা করত। আর টাকা-পয়সাও লোকজন দিয়ে যেত। স্বাধীনতার স্বপ্ন কি পূরণ হয়েছে? ** না, যেমন বাংলাদেশ চেয়েছি তেমনটা পাইনি। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকার আর কী করতে পারে? হহ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফ্রি চিকিৎসা, ফ্রি ভ্রমণ ব্যবস্থা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় কথা হলো_ বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নষ্ট রাজনীতি চলছে। এসব বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। শাহবাগের গণজাগরণ সম্পর্কে কিছু বলুন? ** শাহবাগে প্রথমে সাধারণ মানুষের আন্দোলন ছিল। পরে এটি অন্য পথে মোড় নেয়। একটি চক্র মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে দাঁড় করাতে চায়। অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন মুসলিম। তারা ধর্মপ্রাণ ছিলেন। কেউ ইসলামবিরোধী ছিলেন না। আপনি অবশ্যই দেখেছেন শাহবাগে বঙ্গবন্ধুর ছবি স্থান পায়নি। তারা বঙ্গবন্ধুকে শুধু আওয়ামী লীগের সম্পদ বানিয়ে রেখেছে। অথচ বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির পিতা। তার হাত ধরেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তিনি সর্বজনীন নেতা। তিনি যদি এ আন্দোলনে স্থান না পান, তাহলে আর কে পেতে পারেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে কিছু বলুন? ** যুদ্ধাপরাধের বিচার একটি ক্রিটিক্যাল বিষয়। ৪৩ বছর আগের বিচার বর্তমান সময়ে করতে অনেক সচেতন হওয়া প্রয়োজন। যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে রাজনীতি করলে একসময় মানুষ মুক্তিযুদ্ধকে ভুল বুঝবে। তাই যুদ্ধাপরাধের বিচারে সাবধানি হওয়া দরকার। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কিছু বলুন। ** বঙ্গবন্ধু মহান নেতা, তার নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ি। তিনি ইসলামপ্রেমিক ছিলেন। তিনি সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। ওআইসিতে যোগদান করেন। মুসলিমবিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে জোরালো ভূমিকা রাখেন। মুসলিমবিরোধী ইসরাইলের সঙ্গে প্রথম থেকেই কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিরত থাকেন। বঙ্গবন্ধু এ দেশের রেডিও-টেলিভিশনে কোরআন তেলাওয়াত করা চালু করেন। তিনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। আলোকিত বাংলাদেশ : নতুন প্রজন্মের জন্য কিছু বলুন। আবুল কাশেম : নতুন প্রজন্মের সন্তানদের বলতে চাই, তোমরা দেশকে ভালোবাস। স্বাধীনতা অর্জন করা যতটা কঠিন ততটা কঠিন হচ্ছে রক্ষা করা। আজকের বাংলাদেশ গঠনে তোমাদের ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। সর্ব ক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হতে হবে।

Tuesday, December 9

কানাইঘাটে মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালী

কানাইঘাটে মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালী


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার কানাইঘাট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে ও উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালিটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কানাইঘাট বাজার ত্রিমোহনীতে এসে পথসভায় মিলিত হয়। র‌্যালী পরবর্তী পথসভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া, সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার ও কানাইঘাট সদর ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা কমান্ডের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা জেমস্ লিও ফারগুসন নানকা, জেলা কমান্ডের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার (অব.) আফতাব উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম রানা, কানাইঘাট থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম, কানাইঘাট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নুরুল হক, বর্তমান কমান্ডার নজমুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান প্রমুখ।

Thursday, November 6

অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে ফেনীতে মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমর দুটি স্মৃতিস্তম্ভ

অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে ফেনীতে মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমর দুটি স্মৃতিস্তম্ভ


আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী: ফেনীর পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়নের সলিয়া ও ছাগলনাইয়ার শুভপুর এলাকায় ‘মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমর স্মৃতিস্তম্ভ’ দুটি অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদারের ভাষ্যমতে স্মৃতিস্তম্ভ দুটির নির্মাণ কাজ শেষ। শুধু রংয়ের কাজ বাকী রয়েছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্মৃতিস্তম্ভ দুটি এখনো হস্তান্তর হয়নি। কিন্তু কাজের সমুদয় বিল পরিশোধ করা হয়েছে। জেলা গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, সরকার ২০০৫ সালে সমগ্র দেশবাসীসহ নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করতে এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষনের জন্য ১৯৭১ সালে দেশের যে সব স্থানে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছে সে সব স্থানে সম্মুখ লড়াইয়ের স্মৃতি ফলক নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করে। তারই ধারাবাহিকতায় ফেনীর পরশুরামের বিলোনীয়া সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম বাউরখুমা এবং ছাগলনইয়া উপজেলার শুভপুর পুলের পাশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের জন্য স্থান নির্বাচন করে। ফেনী গণপূর্ত বিভাগ ২০০৯ সালের প্রথমে বিলোনীয়া স্মৃতি স্তম্ভের জন্য ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার একটি প্রাক্কলন তৈরী করে। একই বছর সংশোধিত প্রাক্কলন তৈরী করা হয় ৫০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। ২০১০ সালে সংশোধিত প্রকল্পে বিলোনীয়া স্মৃতি স্তম্ভের জন্য ৩০ লাখ ২০ হাজার এবং শুভপুর স্মৃতিস্তম্ভের জন্য ৩০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা অনুমোদিত হয়। ২০১০ সালে বাউরখুমা গ্রামের স্মৃতিস্তম্ভের দরপত্র আহ্বান করে কাজটি দেয়া হয় ‘অমি এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু এরপরই বাউরখুমার নির্বাচিত স্থানের জমি সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেয়। ফলে পুনরায় স্মৃতিস্তম্ভের জন্য স্থান নির্বাচন করা হয় চিথলিয়া ইউনিয়নের ‘সলিয়া’ গ্রামে। এতে শুধু স্থান পরিবর্তনই হয়নি, নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারও পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০১১ সালে সলিয়া স্মৃতিস্তম্ভের নির্মান কাজ ২৭ লাখ ২৯ হাজার টাকায় মেসার্স একরামুল হককে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কাজের মেয়াদ কাল দেয়া হয় বার মাস বা এক বছর। ফেনীর গণপূর্ত বিভাগ সলিয়া ও শুভপুর স্মৃতিস্তম্ভ দুটির জন্য পৃথক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কার্যাদেশ প্রদান করে। কাজের সামগ্রিক তদারকির দায়িত্বও ছিল গণপূর্ত বিভাগের। মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ লড়াইয়ের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের জন্য উভয় স্থানে প্রথমে ৫০ শতাংশ করে জমি নেয়ার কথা থাকলেও পরে ২৬ শতক করে জমি নেয়া হয়। সলিয়া এলাকায় ২৬ শতক জমি অধিগ্রহনের ব্যয় হয় ১০ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৮ টাকা। তবে শুভপুর এলাকায় সড়ক বিভাগের জমিতে হওয়ায় জমি অধিগ্রহনের প্রয়োজন পড়েনি। এদিকে ছাগলনাইয়ার শুভপুর পুলের কাছাকাছি ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের পাশে স্মৃতি স্তম্ভের নির্মানের জন্য মাহবুবল হক রিপনের মালিকীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাধনা এন্টারপ্রাইজকে ১৯ লাখ ১৭ হাজার টাকায় ১৩/০৯/০৯ ইং তারিখ কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কাজের সময়সীমা ছিল ৬ মাস। শুভপুরে প্রথম বার দরপত্রে কাজের কিছু অংশ বাদ পড়ায় পরবর্তীতে ১৫/৬/১১ ইং আলাদা দরপত্রের মাধ্যমে ৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয় মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের মালিক বাবুল চৌধুরীকে। কিন্তু শুভপুরের প্রথম ও দ্বিতীয় দফার কাজ মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ ও আরাধনা এন্টারপ্রাইজ পেলেও কাজ সম্পন্ন করার দায়িত্ব নেয় মেসার্স একরামুল হক। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে শুভপুর স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, স্মৃতি স্তম্ভ সম্পূর্ন অযতেœ-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এটি দেখাশোনার কেউ নেই। স্মৃতি স্তম্ভের একটি অংশ আগাছা আর লতাপাতায় ঢেকে গেছে। স্মৃতি স্তম্ভের গায়ে অথবা সামনে মুক্তিযুদ্ধের কোন কথাই লেখা নেই। গ্রামের মাধ্যমিক স্কুলে পড়ুয়া আবুল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী এবং করিম উল্যা নামে একজন বয়স্ক লোককে স্মৃতি স্তম্ভটি দেখিয়ে সেটা কি জানতে চাওয়া হয়ে তারা দুই জনের কেউ কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। তাদের দুজনের বক্তব্যে জানা গেল- স্মৃতি স্তম্ভটিতে বসার মত সুন্দর স্থান হওয়ায় বিকেলে বা সন্ধ্যায় স্থানীয় কিছু যুবকের আড্ডা দেয়ার সুবিধা হয়েছে। এতে বুঝা গেল মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমর স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং ইতিহাস জানানোর সরকারের প্রকল্প কোন কাজেই আসেনি। শুভপুর ও চিথলিয়ার সলিয়াতে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মান ও হস্তান্তরে দেরী হওয়ার কারন প্রসঙ্গে ফেনী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান জানান, দরপত্র ও কার্যাদেশ দেয়ার পর ঢাকা থেকে স্মৃতি স্তম্ভের মূল ডিজাইন পেতে দেরী হয়েছে। তিনি জানান, কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বিলও পরিশোধ করা হয়েছে। তবে রংয়ের কাজটা বাকী রয়েছে। রংয়ের কাজ শেষ করে সহসাই ঠিকাদার থেকে স্মৃতি ফলক দুটি বুঝে নেয়া হবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স একরামুল হকের ব্যবস্থাপক শম্ভু বৈষ্ণব বলেন, কাজ শেষ, কর্তৃপক্ষ যখন চাইবে- তখনই রংয়ের কাজ শেষ করে হস্তান্তর করা হবে।

Friday, October 31

মুক্তিযোদ্ধার বয়স পুনর্নির্ধারণ হচ্ছে

মুক্তিযোদ্ধার বয়স পুনর্নির্ধারণ হচ্ছে


ঢাকা: ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে মুক্তিযোদ্ধার বয়স (মুক্তিযুদ্ধকালীন) পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য নূ্যনতম বয়স ১৩ বছর নির্ধারণ করা হতে পারে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) আগামী সভায় পুনর্নির্ধারিত বয়স চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনের সময়সীমা দু-এক দিন বাড়ানো হতে পারে। পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা অনুসারে আজ রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণের কথা ছিল। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য নূ্যনতম বয়সসীমা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। জামুকার পরবর্তী সভায় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, বয়স যা-ই নির্ধারণ করা হোক না কেন, এ কারণে কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হবেন না। জামুকার পরবর্তী সভা আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হতে পারে বলে জানা গেছে। গত ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জামুকার ২৫তম সভায় ১৯৭১ সালে যাঁদের বয়স নূ্যনতম ১৫ বছর ছিল, তাঁদেরই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওই সভায় মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা এবং ক্রাইটেরিয়াও নির্ধারণ করা হয়। এর পরই নূ্যনতম বয়সের বিষয়টি ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। বীরপ্রতীক খেতাব পাওয়া ১৩ বছর বয়সী শহীদুল ইসলাম লালু, ১৪ বছর বয়সী তারামন বিবি ও আবু সালেকদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির কী হবে- এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনেক মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধকালে তাঁদের বয়স ১৫ বছরের বেশি হলেও এসএসসির সার্টিফিকেটে তাঁদের বয়স কম দেখানো হয়েছে। এসব কারণে ওই সভার সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হয়নি। এদিকে জামুকার সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত ২৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে একাত্তরের ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের ভারতীয় তালিকা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের লাল মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত তালিকা ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত সনদ ব্যতীত অন্য সব মুক্তিযোদ্ধার সনদ যাচাই-বাছাইয়ের কাজ নভেম্বর মাসের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হওয়ার কথা। এখনো যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হননি তাঁদের আবেদনও একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই হওয়ার কথা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির আবেদনের সময়সীমা আজ (৩১ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে। জমুকার মহাপরিচালক শ্যামাপদ দেব জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অনলাইনে এক লাখ সাত হাজার আবেদন জমা পড়েছে। হাতে হাতে জমা পড়েছে আরো প্রায় ১০ হাজারের মতো আবেদন। এই আবেদনগুলো উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির আবেদনের সময়সীমা আর বাড়ানো হবে কি না জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানান, যেহেতু নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এক দিন হরতাল পড়েছে, এ ছাড়া ডাকে আসা আবেদনও পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তাই আবেদন গ্রহণের সময়সীমা আরো দু-এক দিন বাড়ানো হতে পারে।

Monday, March 10

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বস্তিতে থাকে

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বস্তিতে থাকে

ঢাকা: ‘আগে বুঝতে পারলে জীবন বাজি রেখে এই বাংলা স্বাধীন করতাম না। রক্ত দিয়ে যে বাংলা স্বাধীন করেছি সেই বাংলার দেখা পাইনি আজো’ কথা গুলো বলছিলেন বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাঝি(৭৫)। নিজের তরুন বয়সে যে যুদ্ধ তিনি শুরু করেছিলেন পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে, আজ জীবনের অন্তিম সময়ে এসেও তাকে লড়াই করতে হচ্ছে নিত্য অভাব আর অনটনের সঙ্গে। 
 
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর নদী ভাঙ্গার কারণে জীবনের শেষ সম্বল হারায় সুলতান মাঝি। সঙ্গে তার অন্ত:সত্বা স্ত্রী। তাকেই নিয়েই ভাগ্যের সন্ধানে শহর ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি। ঢাকার মিরপুরের একটি পরিত্যক্ত দোকান নিয়ে শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই আর সংসার জীবন। তবে বেশিদিন এই কাজ করতে হয়নি তাকে। টোলারবাগে চলে আসার পর আনসারের চাকরি পেয়ে যান তিনি। যদিও মাত্র ৬ বছরের মাথায় তার চাকরিও চলে যায়। 
 
এরপর রাজধানীর কল্যানপুর বস্তিতে এসে শুরু হয় তার জীবনের তৃতীয় যুদ্ধ। দুই ছেলে আর এক মেয়ের সংসারে ছেলে মেয়েদের বিয়ে করিয়ে বৃদ্ধ বয়সে কোনরকমে দিন গুজরান করছেন তিনি। ছেলে এবং মেয়ে কেউ দেখতে আসে বৃদ্ধ মা,বাবাকে।
 
তিনি যে দোকানে থাকেন সেখানেই পরিবার নিয়ে রাত কাটাতে হয় তাকে। প্যরালাইসড হয়ে পরে আছেন দোকানের একপাশের চৌকিতে। তার দোকান বলতে সবই আছে কিন্তু নেই কোনো মালামাল। দোকানের অবস্থা এমন কেন জানতে চাইলে সুলতান মাঝি বলেন, আমার চিকিৎসা করার খরচ যোগাতে দোকান খালি হয়ে গেছে।  সরকারের ভাতার দুই হাজার টাকাই এখন ভরসা। 
 
সুলতান মাঝি ক্ষোভ প্রকাশ করে চোখ মুছতে মুছতে বলেন , ‘সরকারের কাছে আমার একটি কথা বলার আছে, সরকার কথায় কথায় বলে আমরা নাকি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আমি বস্তিতে থাকি আমার খারাপ লাগে না কিন্তু এই কথাটা শুনলে আমার লজ্জা লাগে । সবাই যখন বলে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বস্তিতে থাকে।’
 
কথার মাঝে ক্রন্দনরত সুলতান বলেন, আমি ভিক্ষাও করতে পারি না। সবাই জানে আমি মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু ভিক্ষা ছাড়া আমার আর উপায় নাই। আমার বয়স তখন ৩৩, আমি নতুন বিয়ে করেছি তখনই গন্ডোগোল শুরু। একদিকে নতুন জীবনের হাতছানি অন্যদিকে দেশের ডাক। দেশের ডাকে সারা দিয়ে নতুন বউ রেখে যোগ দিলাম যুদ্ধে। ৯ নং সেক্টরে আব্দুল জলিলে নেতৃত্বে ভোলার বাংলাবাজার, গুন্ডার হাট, দোওলত খাঁসহ বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ করেছিলাম আমি। 
 
একদিন সকাল ৯ টার দিকে আমাদের কাছে খবর আসে আমাদের অবস্থান লক্ষ করে পাকিস্তানি বাহিনী আর কিছু রাজাকার আসছে। আমরা জানতে পারি পাকিস্তানি সেনার একটি কমান্ডো বাহিনী আসছে। আমরাও সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তুত হতে শুরু করি। আমাদের কমান্ডার আব্দুল জলিল ১৭ জনের বাহিনীকে তিন ভাগে ভাগ করে অবস্থান নিতে বলেন। পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমন এমন ভাবে শুরু করে আমারা কল্পনাও করতে পারিনি। কিন্তু কৈাশলগত কারণে আমরা তাদেরকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলি। ফলে তারা এক পাশ দিয়ে পালাতে শুরু করে। এই যুদ্ধে আমাদের তিন জন প্রাণ হারান এবং ৪ থেকে ৫ জন গুলিতে আহত হন। আর পাকিস্তানি বাহিনীর ২১ জন সেনা নিহত হয়।
   
বাংলামেইল২৪ডটকম/