Showing posts with label খেলাধুলা. Show all posts
Showing posts with label খেলাধুলা. Show all posts

Monday, July 20

ফাইনাল শেষে প্রতিপক্ষকে মেরে ‘লাল কার্ড’ দেখলেন মেসির সতীর্থ

ফাইনাল শেষে প্রতিপক্ষকে মেরে ‘লাল কার্ড’ দেখলেন মেসির সতীর্থ

 


বিশ্বকাপ ফাইনালের নাটকীয় সমাপ্তির পরও উত্তেজনা থামেনি মাঠে। শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে প্রতিপক্ষকে ধাক্কা দেওয়ায় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার ও মেসির সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস লাল কার্ড দেখেন। ম্যাচ চলাকালেও একাধিকবার বিতর্কে জড়ানো এই মিডফিল্ডার শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বহিষ্কারের বিরল ঘটনার অংশ হয়ে যান।

ঘটনার সূত্রপাত হয় আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে স্পেনের এরিক গার্সিয়ার কথা কাটাকাটি থেকে। কিছুটা দূরে থাকা পারেদেস দ্রুত সেখানে ছুটে এসে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর দুই দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় সেই উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন।

টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, পারেদেস গাভির মুখেও আঘাত করেন। থিয়াগো আলমাদাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডারকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় কয়েক মিটার দূরেই দানি ওলমো হাঁটু গেড়ে নিকো উইলিয়ামসকে আলিঙ্গন করে শিরোপা উদযাপন করছিলেন। ঠিক তখনই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় রেফারি পারেদেসকে লাল কার্ড দেখান।

স্প্যানিশ সংবাদপত্র মার্কা জানিয়েছে, পারেদেস সবচেয়ে ঘৃণিত খেলোয়াড়দের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

মাঠে নামার পর থেকেই পারেদেস একাধিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বদলি হিসেবে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দানি ওলমোকে ধাক্কা দেওয়ার কারণে তিনি হলুদ কার্ড দেখেন।

দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের শেষ দিকে পেনাল্টি এলাকার ঠিক বাইরে আরেকটি ফাউল করলেও সে ঘটনায় রেফারি তাকে দ্বিতীয় কোনো কার্ড দেখাননি।

এটি এমন একটি ম্যাচ ছিল, যেখানে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে প্রথম হলুদ কার্ড পান এনজো ফার্নান্দেজ। পরে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে পাউ কুবারসিকে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এই মিডফিল্ডার।

চোটও ভোগায় আর্জেন্টিনাকে। প্রথমার্ধের শেষদিকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন। দ্বিতীয়ার্ধে একই কারণে খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি ক্রিস্টিয়ান রোমেরোও।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোও চোটে পড়েন। তবে তখন আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যে ১০ জনে নেমে গিয়েছিল এবং সব বদলি খেলোয়াড় ব্যবহার করে ফেলায় তাকে বাধ্য হয়ে মাঠেই খেলা চালিয়ে যেতে হয়।

রদ্রি পেলেন গোল্ডেন বল, এমবাপ্পে গোল্ডেন বুট: আর কার হাতে কোন পুরস্কার

রদ্রি পেলেন গোল্ডেন বল, এমবাপ্পে গোল্ডেন বুট: আর কার হাতে কোন পুরস্কার

 


কিলিয়ান এমবাপ্পে আর লিওনেল মেসি। ২০২২ সালে কাতারে দুজনের দ্বৈরথ শেষ হয়েছিল ফাইনালের মঞ্চে, টাইব্রেকারের নিষ্ঠুরতায়, মেসির পক্ষে। সেবার বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছিল মেসির আর্জেন্টিনা, তিনি নিজে জিতেছিলেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল। এমবাপ্পেকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট নিয়ে।

এবার যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার বিশ্বকাপেও জমে উঠেছিল দুজনের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। আর এবারও গোল্ডেন বুট জিতে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আলাদা করে লিখিয়ে নিলেন ফরাসি অধিনায়ক। মেসি এবার ফিরলেন খালি হাতে। বিশ্বকাপ ধরে রাখার আশায় মাঠে নেমে তাঁর দল আর্জেন্টিনা হলো রানার্সআপ। এমবাপ্পের সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে হেরে মেসিকে সন্তুষ্ট থাকতে হলো সিলভার বুট নিয়ে।

ওদিকে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জিতেছেন চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলের মিডফিল্ডার রদ্রি। চোখধাঁধানো গোল নেই, ঝলমলে ড্রিবলিং নেই—তবু গোটা টুর্নামেন্টে স্পেনের প্রতিটি জয়ের সুতো বাঁধা ছিল তাঁর পায়েই। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিমানবীয় খেলেছেন ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুবার গোল্ডেন বুট জেতার কীর্তি এমবাপ্পের আগে কারও ছিল না। ১০ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি শেষ করলেন টুর্নামেন্ট, ছাড়িয়ে গেলেন কাতারে করা তাঁর ৮ গোলের কীর্তি। ২২ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন ফরাসি অধিনায়ক। ২১ গোল নিয়ে শেষ হলো মেসির বিশ্বকাপ-অধ্যায়। ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে এই রেকর্ড শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যান কে জানে!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৬-৪ গোলের পাগলাটে হারেও এমবাপ্পে জ্বলে ওঠেন জোড়া গোল করে, আর তাতেই সোনার বুট অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তাঁর। ফাইনালে মেসি নেমেছিলেন তাঁকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া ফাইনালে মেসির পা থেকে আর কোনো গোল বেরোল না। ৮ গোল আর ৪ অ্যাসিস্ট নিয়েই শেষ হলো তাঁর এবারের টুর্নামেন্ট।

এবার ব্রোঞ্জ বুট গেল ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের কারিগর জুড বেলিংহামের কাছে। ৭ গোল আর ১ অ্যাসিস্ট তাঁর। সমান ৭ গোল নরওয়ের আর্লিং হলান্ডেরও। তবে অ্যাসিস্টের হিসাবে বেলিংহাম এগিয়ে।

এমবাপ্পের ছুঁয়েছেন আরও একটা মাইলফলক। বিশ্বকাপের এক আসরে ১০ গোল—এমনটা এর আগে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৭০ সালে, জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার গড়েছিলেন সেই কীর্তি। ৫৬ বছর পর, আবার সেই সংখ্যায় পৌঁছালেন এমবাপ্পে। অবশ্য এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা এখনো অক্ষত। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সেরই জুস্ত ফন্তেইন করেছিলেন ১৩ গোল!

স্পেনের রক্ষণ নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসেই কথা হবে বহুদিন। টুর্নামেন্টে সাতটি ক্লিন শিট রেখে, মাত্র একটিমাত্র গোল হজম করে তাদের গোলরক্ষক উনাই সিমন জিতে নিলেন গোল্ডেন গ্লাভ। এই পথচলায় টানা ৬৪৯ মিনিট নিজের জাল অক্ষত রেখে বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড গড়েছেন বিলবাওয়ের গোলরক্ষক। আসলে প্রায় সব পুরস্কারে এবার স্পেনের জয়জয়কার। মাত্র ১৯ বছর বয়সী পাউ কুবারসি জিতেছেন এই বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার। টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেনের রক্ষণকে দুর্গ বানিয়ে রেখেছিলেন বার্সেলোনার এই ডিফেন্ডার।

৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে একটা নতুন রীতিও চালু হলো এবার। চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলকে ফিফা তুলে দিল চ্যাম্পিয়নশিপ রিং। সঙ্গে পাঁচ কোটি ডলার প্রাইজমানি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসেই সর্বোচ্চ।

বিদায়বেলায় গুরুর কাছে ক্ষমা চাইলেন এমবাপ্পে!

বিদায়বেলায় গুরুর কাছে ক্ষমা চাইলেন এমবাপ্পে!

 


বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে চতুর্থ স্থানে থেকে আসর শেষ করেছে ফ্রান্স। আর এই ম্যাচটির মধ্য দিয়েই অবসান ঘটলো ফরাসি ফুটবলে দীর্ঘ ১৪ বছরের এক সোনালী অধ্যায়ের। বিদায় নিলেন ‘লে ব্লুজ’দের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম।

ফরাসি ফুটবলের এই কিংবদন্তির বিদায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন দলটির অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে।

কোচের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এমবাপ্পে লিখেছেন, ‘আপনি আমাদের যা দিয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ। আমরা আপনাকে আরও সুন্দর একটি বিদায় উপহার দিতে পারতাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

১৪ বছর ধরে দেশম ফরাসি ফুটবলে যে অবদান রেখেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন উল্লেখ করে এমবাপ্পে বলেন, ‘এই দলের পুনরুত্থানে আপনার ভূমিকা কতটা বিশাল ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। মানুষ হয়তো সবসময় আপনার মহত্বকে মূল্যায়ন করতে পারেনি, কিন্তু সময় এবং ইতিহাস ঠিকই তার বিচার করবে… এতগুলো বছর ধরে দেশের হয়ে সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’

৫৭ বছর বয়সি এই মাস্টারমাইন্ড ২০১২ সালে লঁরা ব্লাঁ-র কাছ থেকে পিছিয়ে পড়া এক ফরাসি দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর ২০১৮ সালে দলকে এনে দেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি।

কোচের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোকে নিজের সৌভাগ্য উল্লেখ করে এমবাপ্পে আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দেশের অন্যতম সেরা এক কিংবদন্তির পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। আমরা একসঙ্গে যা কিছু অর্জন করেছি এবং পার করেছি, তার সবটুকুই আমার কাছে চমৎকার স্মৃতি হয়ে থাকবে। আপনার নতুন পথচলার জন্য শুভকামনা। এই জার্সির জন্য আপনি যা করেছেন, তার জন্য আবারও ধন্যবাদ। এই জার্সিটি আমাদের কাছে অনেক কিছু।’

১৪ বছরের এই দীর্ঘ মেয়াদে ফ্রান্সের ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়, ২০২১ সালের নেশনস লিগ জয় এবং বেশ কয়েকটি প্রধান টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার পেছনে দিদিয়ের দেশম অসাধারণ ধারাবাহিকতা রেখেছেন।

খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০০০ সালের ইউরো জয়ী এই অধিনায়ক, ঠিক ২০ বছর পর কোচ হিসেবেও ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে তাই তার স্থান অনন্য।

একপেশে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

একপেশে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

 


ম্যাচ চলতে চলতেই ধারাভাষ্যকার পিটার ড্রুরি প্রশ্ন করছিলেন, এর চেয়ে একপেশে ফাইনাল কি কখনো দেখেছে বিশ্বকাপ ফুটবল? আর্জেন্টিনার সমর্থকেরাও বোধ হয় ড্রুরির এই প্রশ্নের জবাবে ‘না’ বলতে পারবেন না আজ। পুরো ১২০ মিনিটেও গোলমুখে একটিও শট নিতে না পারা লিওনেল মেসির দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরলো স্পেন।

ম্যাচের একমাত্র গোলটি এসেছে ১০৬ মিনিটে বার্সেলোনা তারকা ফেরান তোরেসের পা থেকে। এর আগে স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী গোলটিও এসেছিলো আরেক বার্সা তারকা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পা থেকেই।

অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য, পুরো ম্যাচে স্পেনের ১১টি ‘অন টার্গেট’ শটের বিপরীতে একটি শটও অন টার্গেটে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। রীতিমতো প্রথম মিনিট থেকেই নিজেদের খোলসে বন্দী করে রাখা স্কালোনির দল এক মুহূর্তের জন্যও স্প্যানিশ রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করতে পারেনি। উল্টো সহজ কিছু সুযোগ হাতছাড়া না করলে ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজ বাধা হয়ে না দাঁড়ালে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত স্পেনের।

পুরো টুর্নামেন্টে আক্রমণভাগে যে ধার দেখা গেছে আর্জেন্টিনার, ফাইনালে তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেলো না। একে তো স্পেন নিজেদের পা থেকে বল ছেড়েছে খুব কম, তার উপর আর্জেন্টিনা যতবার বল পেয়েছে, সাইড পাস আর ব্যাক পাসেই তাদের বেশি মনোযোগী মনে হয়েছে। গোল করার কোন তাড়নাই দেখা যায়নি ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে চোট নিয়ে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ উঠে গেলে আরও গুটিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

আর্জেন্টিনাকে খোলসবন্দী দেখে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে উঠতে শুরু করে স্পেন। বেশ কয়েকবার গোলে শট নিয়েছেন লামিন ইয়ামাল-দানি ওলমোরা, কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তবে আর্জেন্টিনার পেরেকে শেষ কফিন হয়ে এসেছে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড। দশ মিনিটের ব্যবধানে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দুইটি হলুদ কার্ড দেখে দলকে আরও বিপদে ঠেলে দিয়ে মাঠ ছাড়েন এনজো। আর্জেন্টিনা তখন প্রাণপনে চেষ্টা করেছে ম্যাচ কোনোরকমে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার।

আকাশি-সাদাদের সেই পরিকল্পনা প্রায় ভেস্তে দিয়েছিলেন ইয়ামাল। ইনজুরি টাইমের একদম শেষ সময়ে তার দারুণ ফ্রি-কিক মার্টিনেজ তার স্বভাবসুলভ ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দিলে আরও একটি লাইফলাইন পায় স্কালোনির দল।

অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজকে তুলে মার্কোস সেনেসিকে নামানোর পর স্কালোনির ট্যাকটিকস আরও পরিষ্কার হয়ে যায়, কোনো রকমে খেলা টাইব্রেকার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া। নিশ্চিত দুটি গোলের সুযোগ মিস করে আর্জেন্টিনার সেই স্বপ্ন জিইয়ে রেখেছিলেন নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনো। ৯৩ মিনিটে স্রেফ ঠিকমতো মাথা ছোঁয়াতে পারলেই গোল পেতেন নিকো উইলিয়ামস, কিন্তু তিনি পারেননি। ১০৩ মিনিটে আরও সহজ সুযোগ মিস করেছেন বদলি খেলোয়াড় মেরিনো, একদম ফাঁকায় দাঁড়িয়েও নিকোর ক্রস থেকে হেড করে বল জালে ঢোকাতে পারেননি। মাঝে ৯৬ মিনিটে একবার স্পেনকে গোলের আনন্দে মাতিয়েছিলেন নিকো উইলিয়ামস, কিন্তু ফাউলের কারণে গোল বাতিল হয়।

তবে শেষ পর্যন্ত যে এতগুলো গোল মিসের আক্ষেপে পুড়তে হয়নি স্পেনকে, সেটি ফেরান তোরেসের কল্যাণে। অতিরিক্ত সময়ের বিরতি থেকে ফিরে এক মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী গোলের দেখা পেয়ে যায় স্পেন। পেদ্রো পোরোর ক্রস দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পেছন দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন নিকো উইলিয়ামস। কিছুটা দৌঁড়ে এসে বাঁ পায়ের জোরালো শটে অবশেষে মার্টিনেজকে পরাস্ত করতে সক্ষম হন ফেরান।

আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মনে তখনো হয়তো ক্ষীণ আশা ছিল গোল শোধ দেয়ার। প্রতিটি নকআউট ম্যাচে এভাবেই তো ম্যাচে ফিরেছে তারা। কিন্তু আজ আর সেটি হওয়ার উপায় ছিল না। ম্যাচের একদম অন্তিম সময়ে সুযোগ পেয়েছিলেন বটে সিমিওনে, কিন্তু সেটি পোস্টের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারায় জয় নিশ্চিত হয় স্পেনের।

এই জয়ের মাধ্যমে অনন্য একটি রেকর্ডও হয়েছে স্পেনের। ইতিহাসের প্রথম দেশ হিসেবে পুরুষ ও নারী দুই বিশ্বকাপেই একসাথে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির এখন স্প্যানিশদের। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিলো স্পেনের নারী ফুটবল দল।

Sunday, July 19

বিশ্বকাপ থেকে ফিফার রেকর্ড আয়ে ধামাচাপা পড়ছে বিতর্ক

বিশ্বকাপ থেকে ফিফার রেকর্ড আয়ে ধামাচাপা পড়ছে বিতর্ক


 চলতি বিশ্বকাপ থেকে ফিফা রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। এটি টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো শনিবার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে এই আয় বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। আসরের শুরুতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, আয়ের বড় অংশ এসেছে হসপিটালিটি ও টিকিট বিক্রি, বিশেষ করে চড়া দামের সেকেন্ডারি মার্কেট (টিকিট পুনঃবিক্রয়ের বাজার) থেকে। সেকেন্ডারি মার্কেটে ফিফা ক্রেতার কাছে থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছে থেকে আরও ১৫ শতাংশ কেটে রাখে।

ধারণা করা হচ্ছে ফিফার এই বর্ধিত আয়ের সুফল পাবে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো। পাশাপাশি নানা বিতর্কে ঘেরা একটি আসর শেষ করার পর এই আয়ের মাধ্যমে ইনফান্তিনো নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করার সুযোগ পাবেন।

এদিকে বিতর্ক সত্ত্বেও আগামী মার্চ মাসে হতে যাওয়া পুনর্নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনো ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে থেকে ২০০টিরও বেশি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। রেকর্ড আয়ের পর বাড়তি তহবিল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কিছু অ্যাসোসিয়েশন হয়তো তাদের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আনা থেকেও বিরত থাকবে।

রাজস্বের এমন বিপুল জোয়ার নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিডের জন্য উন্মুক্ত থাকা পরবর্তী বিশ্বকাপটি হবে ২০৩৮ সালে। গত শুক্রবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও যুক্তরাষ্ট্রে আবার বিশ্বকাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের (ফিফা) আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়া উচিত। সেবার আমরা এককভাবে আয়োজক হবো। কানাডা ও মেক্সিকো থাকবে না।’

জানা গেছে, ২০২৯ সালের ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ আয়োজনের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিফার আলোচনা চলছে।