Showing posts with label মুক্তিযুদ্ধে কানাইঘাট. Show all posts
Showing posts with label মুক্তিযুদ্ধে কানাইঘাট. Show all posts

Wednesday, April 15

কানাইঘাটের মাটিতে চিরনিদ্রায় বীরেরা, স্মরণে ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান

কানাইঘাটের মাটিতে চিরনিদ্রায় বীরেরা, স্মরণে ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান


এহসানুল হক জসীম:

সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলায় ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর এক রক্তক্ষয়ী সম্মুখ যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে শহীদ হন ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান বীরউত্তমসহ আরও অনেকে। আজকের আলোচনায় আমরা স্মরণ করছি এই বীর সেনানীকে, যার আত্মত্যাগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

একাত্তরের সেই দিনেই তাঁকে সমাহিত করা হয় কানাইঘাট উপজেলার সাতবাক পরগনার ৩ নং দিঘীরপার ইউনিয়নের রামধরণেরমাটি (দিঘীরপার) এলাকায়, সাতবাক ঈদগাহ মাদ্রাসার কবরস্থানে। একই কবরস্থানে শায়িত আছেন ভাষাবিদ ইসমাইল আলম (ইব্রাহিম তশ্নার ভাই) এবং হাফিজ মাওলানা আব্দুন নুরসহ আরও কয়েকজন গুণী ব্যক্তি। এখান থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত হারিছ চৌধুরীর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি এতিমখানা, যার কম্পাউন্ডেই পুনরায় সমাহিত করা হয়েছে হারিছ চৌধুরীকে। গত ১২ এপ্রিল এই স্থানগুলো জিয়ারত করতে গিয়ে বীরউত্তম মাহবুবুর রহমানের কবরের সামনে থাকা ফলকের তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায় ২২ নভেম্বর নয়, ৪ ডিসেম্বরই কানাইঘাট মুক্ত হয়।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে কানাইঘাট বিজয় ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই বিজয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল পুরো সিলেট অঞ্চলের মুক্তি। কানাইঘাট মুক্ত হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা সিলেট শহরের দিকে অগ্রসর হন এবং শেষ পর্যন্ত সিলেটও শত্রুমুক্ত হয়। এই বিজয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম, শহীদ ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান বীরউত্তম, মেজর সি. আর. দত্ত, মেজর ওয়াকার হাসান এবং মেজর হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরপ্রতীক প্রমুখ।

১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর কানাইঘাটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নেন ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান। যুদ্ধ চলাকালীন একটি কামানের গোলা তাঁর শরীরে আঘাত হানলে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। কিন্তু মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও তিনি দমে যাননি। রক্তাক্ত অবস্থায়ও সহযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়ে লড়াই চালিয়ে যান এবং শত্রু বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ কানাইঘাট মুক্তির পথকে সুগম করে তোলে। পরবর্তীতে ধারাবাহিক যুদ্ধের মাধ্যমে ৪ ডিসেম্বর কানাইঘাট শত্রুমুক্ত হয়।

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা:

১৯৪৪ সালে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের পলাশবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাহবুবুর রহমান। তাঁর পিতা এ. এম. তাসিরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং মাতা জরিনা খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। দিনাজপুর জিলা স্কুল থেকে ১৯৬২ সালে এসএসসি এবং ১৯৬৪ সালে দিনাজপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর তিনি ঢাকা ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের দৃঢ় প্রত্যয়ে তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন।

সামরিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ:

১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন মাহবুবুর রহমান। ১৯৬৯ সালের ২০ এপ্রিল ৪০তম পিএমএ লং কোর্সের সঙ্গে কমিশন লাভ করে তিনি ২৪ ফ্রন্টিয়ার ফোর্সে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বাঙালি অফিসারদের সরিয়ে দেওয়ার কৌশলের অংশ হিসেবে তাঁকে যশোর সেনানিবাসে ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি করা হয়। পরে এই রেজিমেন্ট সিলেট অঞ্চলে স্থানান্তরিত হলে তিনি সেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি:

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘বীরউত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক পদক। তাঁর এই আত্মদান স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

কানাইঘাটের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত এই বীর সেনানী আমাদের গর্ব, আমাদের প্রেরণা। একই মাটিতে শায়িত আছেন আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা নিজাম উদ্দিনও। তাঁদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে যাবে চিরকাল।

Thursday, December 4

কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ

কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ


মাহবুবুর রশিদ :

জ ৪ ডিসেম্বর। কানাইঘাট মুক্ত দিবস। উপজেলাবাসীর জন্য একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত হয় এ জনপদ। সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাটকে হানাদার মুক্ত করেন। এরপর থেকে এই দিনটি কানাইঘাট মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। 

বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে আলাপ করে জানা যায় , ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর কানাইঘাটকে পাক-হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধারা ৩ ডিসেম্বর রাতে পাক-হানাদার বাহিনীকে বিভিন্ন দিকে থেকে ঘেরাও করেন। ৪ ডিসেম্বর ভোর রাতে পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তি বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেই যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর পক্ষে নেতৃত্ব মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) আর পাক বাহিনীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন বসারত। মুখোমুখি লড়াইয়ের একপর্যায়ে পরাজয় বরণ করে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। আর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাট উপজেলাকে হানাদার মুক্ত করে বিজয় উল্লাসে ফেটে পড়েন। 

মুক্তিযুদ্ধকালের অন্যতম স্মরণীয় যুদ্ধ হলো কানাইঘাটের যুদ্ধ। কানাইঘাটে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে। সম্মুখ যুদ্ধে নিহত অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর ও স্মৃতিসৌধ এখানে রয়েছে।

১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে বীরত্বের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা বহু মা-বোনের ইজ্জত হরণ করার পাশাপাশি শত শত বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়। কিন্তু থেমে থাকেনি মুক্তিকামী জনতা। ৪ ডিসেম্বর শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করে কানাইঘাটকে মুক্ত করে বিজয়ের স্বাদ পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন।

কানাইঘাট উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজমুল হক বলেন,'১৯৭১ সালের ৩ডিসেম্বর রাতে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ হয়,দীর্ঘ সময়ে যুদ্ধ করে শত লাশের বিনিময়ে ৪ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় কানাইঘাট।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল ইসলাম বলেন,'১৯৭১ সালে আমি প্রায়ত মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্তের (সি আর দত্ত) এর অধীনে ৪ নং সেক্টরে যুদ্ধ করি। সিলেটের কানাইঘাট,গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় ভারি অস্ত্র নিয়ে আমার যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন,'সেদিন আমার সাথে আব্দুল খালিক ও মকবুল হোসেন নামে আমাদের এলাকার দুইজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন,আমাদের ক্যাম্প ছিলো লালাখাল। ৪ ডিসেম্বর আমরা কমান্ডারের নির্দেশে বড়বন্দ এলাকার হাজি মুছব্বির সাহেবের বাড়ি থেকে অপারেশন চালাই। পাক হানাদার বাহীনির সাথে আমাদের তুমুলযুদ্ধ হয়,একপর্যায়ে তারা পিছু হটলে মুক্ত হয় কানাইঘাট।

প্রতি বছর এই দিনে কানাইঘাট মুক্ত দিবস স্মরণে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়ে থাকে।


Wednesday, December 4

৪ ডিসেম্বর যেভাবে হানাদার মুক্ত হয় কানাইঘাট

৪ ডিসেম্বর যেভাবে হানাদার মুক্ত হয় কানাইঘাট

 


মাহবুবুর রশিদ::

জ ৪ ডিসেম্বর। কানাইঘাট মুক্ত দিবস। উপজেলাবাসীর জন্য একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত হয় এ জনপদ। সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাটকে হানাদার মুক্ত করেন। এরপর থেকে এই দিনটি কানাইঘাট মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। 

বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে আলাপ করে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর কানাইঘাটকে পাক-হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধারা ৩ ডিসেম্বর রাতে পাক-হানাদার বাহিনীকে বিভিন্ন দিকে থেকে ঘেরাও করেন। ৪ ডিসেম্বর ভোর রাতে পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তি বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেই যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) আর পাক বাহিনীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন বসারত। মুখোমুখি লড়াইয়ের একপর্যায়ে পরাজয় বরণ করে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। আর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাট উপজেলাকে হানাদার মুক্ত করে বিজয় উল্লাসে ফেটে পড়েন। 

মুক্তিযুদ্ধকালের অন্যতম স্মরণীয় যুদ্ধ হলো কানাইঘাটের যুদ্ধ। কানাইঘাটে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে। সম্মুখ যুদ্ধে নিহত অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর ও স্মৃতিসৌধ এখানে রয়েছে।

১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে বীরত্বের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা বহু মা-বোনের ইজ্জত হরণ করার পাশাপাশি শত শত বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়। কিন্তু থেমে থাকেনি মুক্তিকামী জনতা। ৪ ডিসেম্বর শক্রু বাহিনীকে পরাজিত করে কানাইঘাটকে মুক্ত করে বিজয়ের স্বাদ পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন।

কানাইঘাট উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল হক বলেন,‘১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ হয়,দীর্ঘ সময়ে যুদ্ধ করে শত লাশের বিনিময়ে ৪ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় কানাইঘাট।’

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল ইসলাম বলেন,‘১৯৭১ সালে আমি প্রয়াত মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্তের (সি আর দত্ত) এর অধীনে ৪ নং সেক্টরে যুদ্ধ করি। সিলেটের কানাইঘাট,গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় ভারি অস্ত্র নিয়ে আমার যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন,‘সেদিন আমার সাথে আব্দুল খালিক ও মকবুল হোসেন নামে আমাদের এলাকার দুইজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন,আমাদের ক্যাম্প ছিলো লালাখাল। ৪ ডিসেম্বর আমরা কমান্ডারের নির্দেশে বড়বন্দ এলাকার হাজি মুছব্বির সাহেবের বাড়ি থেকে অপারেশন চালাই। পাক হানাদার বাহীনির সাথে আমাদের তুমুলযুদ্ধ হয়,একপর্যায়ে তারা পিছু হটলে মুক্ত হয় কানাইঘাট।’

প্রতি বছর এই দিনে কানাইঘাট মুক্ত দিবস স্মরণে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়ে থাকে।


Thursday, March 9

কানাইঘাটে যুদ্ধ করে পাচ্ছেন স্বাধীনতা পদক

কানাইঘাটে যুদ্ধ করে পাচ্ছেন স্বাধীনতা পদক


এহসানুল হক জসীম :

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কানাইঘাটের কয়েকটি জায়গায় সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করে এবং কানাইঘাটের বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কয়েক জন বীরউত্তম, বীরপ্রতীক, বীরপ্রতীক খেতাব পান। কানাইঘাটে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য এবার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদকে ভূষিত হলেন একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। কানাইঘাটে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য একজন শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধাকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করায় কানাইঘাটের একজন হিসেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। 

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, আঠারো ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে।

‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’ ক্ষেত্রে স্বাধীনতা এবার পুরস্কার পাচ্ছেন চার জন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ খাজা নিজামউদ্দিন ভূইয়া বীর উত্তম। কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণকারী খাজা নিজামউদ্দিন ভূইয়া ১৯৭১ সালে কানাইঘাট উপজেলার ১ নং লক্ষিপ্রাসাদ পুর্ব ইউনিয়নের নক্তিপাড়া, সড়কের বাজার এলাকাসহ এই উপজেলার বিভিন্ন অংশে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধে দক্ষতার পরিচয় দেন। ১৯৭১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আটগ্রামের কাছাকাছি সড়কের বাজার এলাকায় প্রায় ১০ ঘন্টাব্যাপী সম্মুখ যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। সম্মুখ যুদ্ধের সময় মূলত তিনি কটালপুর ব্রিজ ধ্বংস করতে গিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হন। ১ নং লক্ষিপ্রাসাদ পুর্ব ইউনিয়নের বড়খেওড় গ্রামে শায়িত আছেন এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ সরকার খাজা নিজামউদ্দিন ভূইয়াকে ‘বীর উত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে। সাবেক সেনা ও ইপিআরের মধ্যে একমাত্র বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তিনি। 

১৯৭১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ৮০০ মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন সাব-সেক্টর কমান্ডার খাজা নিজামউদ্দিন ভূঁইয়া। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যাতে আর এগুতে না পারে এই কারণে তিনি পরিকল্পনা করেন কটাল ব্রীজ বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার। রাতভর যুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধাদের এই দল ব্রিজ উড়িয়ে দেয়। তবে সম্মুখ যুদ্ধ পুরোপুরী থামেনি। থেমে থেমে গোলাগুলি হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি ফুরিয়ে গেলে নিরাপদে সরে যেতে লাগলেন সবাই। 

খাজা নিজামউদ্দিন ভূইয়া অনবরত গুলি ছুড়ছেন। হঠাৎ একটি গুলি এসে তাঁর হাতে লাগল। পরে আরেকটা গুলি আহত এই মুক্তিযোদ্ধার বুকে লাগলো। আরেকটি গুলি মাথায় বিদ্ধ হওয়ার পর তিনি আর পারলেন না। একপাশে ঢলে পড়লেন। ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ পড়ার শব্দ শুনে পেছন ফিরে তাকালেন সহযোদ্ধারা। এরই মধ্যে তিনি ইন্তেকাল করেন। সহযোদ্ধারা লাশ নিয়ে ফিরলেন। 

ভারতীয় সেনাবাহিনী চেয়েছিল,শহীদ খাজা নিজামউদ্দিন ভূইয়াকে ভারতেই মাটিতে সমাহিত করা হোক। তবে মুক্তিযোদ্ধারা নিজ দেশের মাটিতে কবর দেওয়ার জন্য অনঢ় রইলেন। অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক  সিলেটের কৃতিসন্তান এম এ জি ওসমানী বললেন, নিজাম বাংলাদেশে থাকবে। কানাইঘাট উপজেলার মমতাজগঞ্জ বাজারের পাশে বড়খেওড় গ্রামে পাতা শাহ মোকাম টিলার চূড়ায় তিন পীর হযরত লালশাহ, হযরত পাতাশাহ, হযরত গোলাপ শাহ (রহ.)-এর কবরের পাশেই সমাহিত করা হলো খাজা নিজামউদ্দিন ভূঁইয়াকে।

Sunday, December 4

আজ হানাদার মুক্ত হয় কানাইঘাট

আজ হানাদার মুক্ত হয় কানাইঘাট


মাহবুবুর রশিদঃ

আজ ৪ ডিসেম্বর। কানাইঘাট উপজেলাবাসীর জন্য একটি স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের আজকের এ দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাটকে হানাদার মুক্ত করেন। এরপর থেকে এই দিনটি কানাইঘাট মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। 

বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে আলাপ করে জানা যায় , ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর কানাইঘাটকে পাক-হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধারা ৩ ডিসেম্বর রাতে পাক-হানাদার বাহিনীকে বিভিন্ন দিকে থেকে ঘেরাও করেন। ৪ ডিসেম্বর ভোর রাতে পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তি বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সেই যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর পক্ষে নেতৃত্ব মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত) আর পাক বাহিনীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন বসারত। মুখোমুখি লড়াইয়ের একপর্যায়ে পরাজয় বরণ করে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। আর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাট উপজেলাকে হানাদার মুক্ত করে বিজয় উল্লাসে ফেটে পড়েন। 

মুক্তিযুদ্ধকালের অন্যতম স্মরণীয় যুদ্ধ হলো কানাইঘাটের যুদ্ধ। কানাইঘাটে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে। সম্মুখ যুদ্ধে নিহত অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর ও স্মৃতিসৌধ এখানে রয়েছে।

১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে বীরত্বের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা বহু মা-বোনের ইজ্জত হরণ করার পাশাপাশি শত শত বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়। কিন্তু থেমে থাকেনি মুক্তিকামী জনতা। ৪ ডিসেম্বর শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করে কানাইঘাটকে মুক্ত করে বিজয়ের স্বাদ পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন।

কানাইঘাট উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজমুল হক বলেন,'১৯৭১ সালের ৩ডিসেম্বর রাতে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ হয়,দীর্ঘ সময়ে যুদ্ধ করে শত লাশের বিনিময়ে ৪ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় কানাইঘাট।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল ইসলাম বলেন,'১৯৭১ সালে আমি প্রায়ত মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্তের (সি আর দত্ত) এর অধীনে ৪ নং সেক্টরে যুদ্ধ করি। সিলেটের কানাইঘাট,গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলায় ভারি অস্ত্র নিয়ে আমার যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফখরুল ইসলাম আরও
বলেন,'সেদিন আমার সাথে আব্দুল খালিক ও মকবুল হোসেন নামে আমাদের এলাকার দুইজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন,আমাদের ক্যাম্প ছিলো লালাখাল। ৪ ডিসেম্বর আমরা কমান্ডারের নির্দেশে বড়বন্দ এলাকার হাজি মুছব্বির সাহেবের বাড়ি থেকে অপারেশন চালাই। পাক হানাদার বাহীনির সাথে আমাদের তুমুলযুদ্ধ হয়,একপর্যায়ে তারা পিছু হটলে মুক্ত হয় কানাইঘাট।

প্রতি বছর এই দিনে কানাইঘাট মুক্ত দিবস স্মরণে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়ে থাকে।

Monday, October 10

কানাইঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ আলীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

কানাইঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ আলীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাট দিঘীরপাড় ইউনিয়নের সর্দারমাটি মৌনগর গ্রাম নিবাসী বীরমুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মাহমুদ আলীর লাশ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্য জনীত কারণে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার(৯ অক্টোবর)  রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ আলী(ইন্নানিল্লাহি...রাজিউন)। 

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। তিনি ৩ ছেলে, ৩ মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। 

এলাকার প্রবীণ মুরব্বী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ আলীর জানাজার নামাজ  সোমবার(১০ অক্টোবর)  সকাল ১১টায় স্থানীয় সাতবাঁক হাফিজিয়া মাদ্রাসার ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে দিঘীরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মুমিন চৌধুরী, লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বীরমুক্তিযোদ্ধাগণ সহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ শরীক হন। জানাজা নামাজের পূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন্ত ব্যানার্জির উপস্থিতিতে, গার্ড অব অনার শেষে পুর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঈদগাহ গুরুস্তানে বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ আলীকে সমাহিত করা হয়। 

এদিকে দিঘীরপাড় ইউপি শাখা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিনের পিতা এলাকার প্রবীণ মুরব্বী বীরমুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ আলীর মৃত্যুতে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা সহ শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক এম তাজিম উদ্দিন, দিঘীরপাড় ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী হোসেন কাজল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল ইসলাম, দিঘীরপাড় ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহাব উদ্দিন সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 


Saturday, December 4

 আজ কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস

আজ কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস



নিজস্ব প্রতিবেদক:

আজ ৪ ডিসেম্বর (শনিবার)। সিলেটের সীমান্ত উপজেলা কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস। আজকের এই দিনে সম্মুখযুদ্ধে টিকতে না পেরে পাকবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরপর থেকে এই দিনটি কানাইঘাট মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর সূর্য ওঠার আগেই কানাইঘাটে মুক্তিবাহিনী ও পাক-হানাদার বাহিনীর মধ্যে মুখামুখি লড়াই শুরু হয়। চারিদিকে গুলির বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে মুক্তিপাগল সাধারণ মানুষের। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে ব্যর্থ হয়ে আত্মসমর্পণ করে পাক হানাদার বাহিনী।

২৫ মার্চ মধ্য রাতে পাক হানাদার বাহিনী বাঙালিদের ওপর হামলা চালালেও মূলত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর হামলা শুরু করে জুনের মাঝামাঝি সময়ে। দীর্ঘ সময়ে যুদ্ধ করে শত লাশের বিনিময় অবশেষে ৪ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় কানাইঘাট উপজেলা।

সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাজমুল হক বলেন, সর্বশেষ তুমুল যুদ্ধ হয় উপজেলার নগলার ব্রিজ হতে ডাকবাংলো চাপনগর ও ভাড়ারি মাটিজুড়ে। এ সময় পাক বাহিনীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন বসারত আর মুক্তি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন ৪নং সেক্টর কমান্ডার সিআর দত্ত বীর বিক্রম।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় উপজেলার ১নং লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউপিকে ২য় ভারত বলা হতো আর মুক্তিযোদ্ধাদের দূর্গ ছিল লোভাছড়া চা-বাগান। আর বাগানের কারখানাটি ধ্বংস করা হয়েছিল ৪নং সেক্টরের ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রব সাদির নেতৃত্বে। কারণ দেশ ভাগের আগে বাগানটি শোষণ করত পাকিস্তানিরা।

Monday, March 25

গণহত্যা দিবসে কানাইঘাটে আলোচনা সভা

গণহত্যা দিবসে কানাইঘাটে আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা সোমবার সকাল ১১ টায় উপজেলা সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুসিকান্ত হাজং এর পরিচালনায় গণহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক সাবেক মেয়র লুৎফুর রহমান। 

গণহত্যার বর্ণনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, কানাইঘাট সরকারি কলেজের উপাধক্ষ্য লোকমান হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা কাজী আনোয়ার হোসেন, মৎস্য কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার, বাণীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদ আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার আফতাব উদ্দিন, থানার সেকেন্ড অফিসার স্বপন চন্দ্র সরকার, সহকারী প্রকৌশলী সাহিদ আহমদ, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সাবেক সম্পাদক এখলাছুর রহমান, কানাইঘাট পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহীন রেজা ফরাজী, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এনামুল হক, শ্রমীকলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ২৫শে মার্চের কালো রাত্রিতে সেদিন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতাকামী নিরস্ত্র জনতার উপর তৎকালীন পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠী যে গণহত্যা চালিয়েছিল তা পৃথিবীর ইতিহাসে এক জগন্যতম অধ্যায়। এ গণহত্যার প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী জাতির মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে আপামর জনতা পাকিস্তানী সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হন। বীর শহীদরা যে স্বপ্ন নিয়ে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে আমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অর্জন আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধরে রাখতে হবে বলে বক্তারা সকলের প্রতি আহবান জানান।

কানাইঘাট নিউজ ডটকম/২৫ মার্চ ২০১৯ ইং

Tuesday, December 4

কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ

কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ৪ ডিসেম্বর কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বরে এই দিনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর কবল থেকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাট উপজেলাকে হানাদার মুক্ত করে বিজয় উৎসবে ফেটে পড়েন। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা কানাইঘাট উপজেলা। কানাইঘাটে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাঁথা অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য রয়েছে। সম্মুখ যুদ্ধে নিহত অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর ও স্মৃতিসৌধ এখানে রয়েছে। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে বীরত্বের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোষররা বহু মা-বোনের ইজ্জত হরণ করার পাশাপাশি শত শত বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়। কিন্তু থেমে থাকেনি মুক্তিকামী জনতা। ৪ ডিসেম্বর শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করে কানাইঘাটকে মুক্ত করে বিজয়ের স্বাধ পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন। 

কানাইঘাট নিউজ ডটকম/০৪ ডিসেম্বর ২০১৮

Tuesday, October 30

ভালো নেই কানাইঘাটের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা অলিউর রহমান

ভালো নেই কানাইঘাটের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা অলিউর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী মুক্তিযোদ্ধের বহু স্মৃতি বিজড়িত গ্রাম কাড়াবাল্লা। এই গ্রামের মৃত মুবাশ্বীর আলীর পুত্র অলিউর রহমান (৬৬)। একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে  ১৮ বছরের একজন টগবগে তরুণ ছিলেন। যুদ্ধের শুরুতেই দেশমাতৃকার টানে অস্ত্র হাতে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। জীবন বাঁজি রেখে দেশের জন্য লড়াই করেন। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকহানাদার বাহিনীর মর্টার-শেলের আঘাতে আহত হলেও পিছপা হননি, সরে দাড়াননি যুদ্ধের ময়দান থেকে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করেন। কিন্তু অলিউর রহমান নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেননি। ঘর-বাড়ি নির্মাণ, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার চালাতে গিয়ে আজ নানা কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাকে। মুক্তিযুদ্ধার যে ভাতা পান, তা দিয়ে সংসারে দু’মুঠো ভাত জুটলেও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হয় ।
আবেগপ্রবণ কণ্ঠে যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধা অলিউর রহমান কানাইঘাট নিউজকে জানান, যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন হলেও নিজের ভাগ্য বদলাতে পারিনি। কারও দয়া বা অনুদান চাই না, সরকারের সহযোগিতায় সুদমুক্ত বা কম সুদে দীর্ঘ মেয়াদী ব্যাংক ঋণ চাই। বসত-ভিটা নদীর ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে। নতুন ঘর-বাড়ি নির্মাণ,ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ ও সংসারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যাংক ঋণের প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধচলাকালীন সময়ে ৪নং সেক্টরের অধীনে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেছেন। ৪নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব:) সি.আর দত্ত ও সাব-সেক্টর কমান্ডার মাহবুবুর রব সাদি’র রণকৌশল নিয়ে কানাইঘাট সদর, চতুল বাজার, জকিগঞ্জ সদর, আটগ্রাম, জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধের শেষ সময়ে ১লা আগষ্ট  দরবস্ত এলাকায় সমরযুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীর মর্টার-শেলের আঘাত তাঁর ডান পা ও হাতে লাগলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সহযোদ্ধারা তাঁকে উদ্ধার করে ভারতের শিলচরের মাছিমপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ডা. জয়ন্ত দত্তের অধীনে ২রা আগষ্ট থেকে ২৯ আগষ্ট পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে পুণরায় যুদ্ধে অংশ নেন। ৭১’র ১৬ই ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে লাল-সবুজের পতাকা বুকে জড়িয়ে বিজয় মিছিল করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ২৮ ডিসেম্বর সিলেট সদর হাসপাতাল (তৎকালীন সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল)-এ ভর্তি হন। অধ্যাপক কবির উদ্দিন আহমদের অধীনে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়ী কানাইঘাট গ্রামে ফিরেন যান। তাঁর যুদ্ধাহত কার্ড নং- ১৭৮৫, রেজি. নং-১৮১৩, লাল মুক্তিবার্তা নং-৫০১০৬০১৪৭, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধা যুদ্ধাহত গেজেট নং-২১৪৩, ভারতীয় তালিকা-২৩৭৫৮, বেসামরিক গেজেট- ৪১৬১। 

কানাইঘাট নিউজ ডটকম/৩০ অক্টোবর ২০১৮

Wednesday, September 26

কানাইঘাটে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমবায় সমিতির লভ্যাংশ বিতরণ

কানাইঘাটে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমবায় সমিতির লভ্যাংশ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্যদের মাঝে মুনাফার টাকা বিতরণ  বুধবার সকাল ১১টায় কানাইঘাট ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জেমসলিও ফারগুশন নানকার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাজমুল হকের পরিচালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আহাদ, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল হক, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সহ সম্পাদক আব্দুন নূর। সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আনোয়ারুল হক, ইব্রাহিম আলী, মজির আলী, নুরুল ইসলাম, আবু সিদ্দেক, নুরুল ইসলাম, এবাদুর রহমান প্রমুখ। প্রধান অতিথি আশিক চৌধুরী ও নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা, মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তাদের সমিতির মুনাফার টাকা বিতরণ অনুষ্ঠানে বলেন, যাদের রক্ত ও জীবন উৎসর্গের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি সেই জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানরা ও তাদের পরিবার পরিজন যাতে ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারেন এজন্য বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে অনেক মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সরকারের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সারাদেশে এ ভাবে সমবায় সমিতি গঠন করে পুঁজি গড়ে তোলার আহবান জানান তারা। অনুষ্ঠান শেষে সমিতির সদস্যদের মাঝে মুনাফার প্রায় ৩ লক্ষ টাকা বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। সভায় বিপুল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

কানাইঘাট নিউজ টকম/২৬সেপ্টেম্বর ২০১৮

Wednesday, September 19

কানাইঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরমান আলী'র ইন্তেকাল,রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

কানাইঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরমান আলী'র ইন্তেকাল,রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের ডাউকেরগুল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরমান আলী  ইন্তেকাল হয়েছেন(ইন্নালিল্লাহি....রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮বছর। আজ বুধবার সকাল ১০টায় নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন।  মৃত্যুকালে ২ছেলে ৪মেয়ে সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন।

বুধবার বিকেল ৫টায় ডাউকেরগুল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরমান আলীর জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় এলাকার সর্বস্থরের লোকজন ও বীরমুক্তিযোদ্ধারা অংশগ্রহণ করেন। জানাযা শেষে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এ বীরমুক্তিযোদ্ধাকে সমাহিত করা হয়।

কানাইঘাট নিউজ ডটকম/১৯সেপ্টেম্বর ২০১৮

Friday, August 31

 কানাইঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত

কানাইঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ৩য় খন্ড গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ(৭০) বার্ধক্যজনিত কারণে গত বৃহস্পতিবার নিজ বাড়ীতে ইন্তেকাল করিয়াছেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ৩ মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ শুক্রবার বাদ জুম্মা বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের জানাজার নামাজ গ্রামের জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সহ সর্বস্তরের লোকজন শরীক হন। জানাজা শেষে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরহুমের লাশ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেছেন, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ সিলেট-৫ আসনের এমপি সেলিম উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জেমস লিওফারগুশন নানকা, সাতবাঁক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ পলাশ, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নাজমুল হক, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি রোটারিয়ান শাহজাহান সেলিম বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন প্রমুখ। 
কানাইঘাট নিউজ ডটকম/৩১আগস্ট ২০১৮ ইং

Saturday, December 23

কানাইঘাটের এক মুক্তিযোদ্ধার আকুতি!

কানাইঘাটের এক মুক্তিযোদ্ধার আকুতি!


জসিম উদ্দিন : আহমদ আলী। সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৮নং ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের (গাছবাড়ী) ফখরচটি গ্রামে তাঁর জন্ম। মৃত মোছন আলীর ছেলে। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সবার মত দেশের টানে, মায়ের মান বাঁচাতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বীরত্বের সাথে তিনি যুদ্ধ করেছেন। ১৯৭১ সালে ৭ ই মার্চের শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ শুনে তিনি আর ঘরে বসতে থাকতে পারেন নি, বের হয়ে পড়েন স্বাধীনতার জন্য। পাকিন্তানি পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে হাতে তুলে নেন অস্ত্র। কাদে তুলে নেন লাটি। প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন ভারতে গিয়ে। তারপর পাক সেনাদের বিরুদ্ধে শুরু করেন এ্যাকশন। খতম করেন অনেক পাক বাহিনীদের। নিজেও পাকসেনাদের দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হন। এভাবেই মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা বর্ণনা করেন বীর এই মুক্তিযুদ্ধা। যৌবনের এক সাহসী যুবক আহমদ আলী আজ বৃদ্ধ বয়সে আকাশে মেঘ দেখলেই ভয়ে আতংকিত হয়ে উঠেন। ১৯৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশমাতৃকাকে রক্ষা করার যুদ্ধে। দীর্ঘ ৯ মাস সম্মুখ যুদ্ধ করে অনেক কষ্টের বিনিময়ে এই দেশকে স্বাধীন করেতে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। মনে মনে ভাবতেন আমরা আর পরাধীন থাকব না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বীরের মত চলব। কিন্তু অভাবের তাড়নায় আজ বৃদ্ধ বয়সে সে সবই তাঁর কাছে শুধুই স্মৃতি। বাবার রেখে যাওয়া ৯শতক জায়গায় কোন রকম দুটি ছোট ঘরে বাস করেন। বাড়ীতে ঘরের জমিটুকু ছাড়া সহায় সম্বল বলতে আর কিছুই নেই। সরকারের দেয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতার ১০ হাজার টাকাই আয়ের একমাত্র উৎস। আজ নড়বড়ে টিনের ঘরে মেঘলা আকাশ দেখে আতংকিত হয়ে উঠেন সেই বীরমুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলী। বয়সের ভারে যৌবনের সেই সাহস আজ আর নেই। টিন দিয়ে তৈরী লাকড়ীর ঘরটিতে বসতঘর হিসাবে ঠাঁই মিলেছে বীরমুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলীর। বাঁশ-বেতের তৈরী বেড়া উঁই পোকা খেয়ে ফেলেছে।কালবৈশাখী ঝড়ে বৃষ্টিতে ভেজা বিছানায় রাত্রি কাটান তিনি। ঝড়, তুফান, কালবৈশাখীতে তিনি ভয়ে এখন আতংকিত হয়ে উঠেন, কখন জানি উড়িয়ে নিয়ে যায়। এ প্রতিনিধিকে তিনি আরও জানান, বীরমুক্তিযোদ্ধা শব্দটি ছেলে-মেয়েদের নিকট এখন অর্থহীন একটি শব্দ। আমি ওদের কি দিতে পেরেছি? হয়ত আর ক’দিন পরেই মরে যাব, লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে বিউগল বাজিয়ে আমার দাফন কার্য শেষ হবে। এতে আমার সন্তানদের কি লাভ? যাদের দু’বেলা ভাত দিতে পারিনি। আমি মুক্তিযোদ্ধা বাবা হিসাবে ওরা কেন গর্ববোধ করবে? দাম্পত্য জীবনে ২ ছেলে আর ১ মেয়ের জনক।মেয়েকে বিয়ে দিতে অনেক অর্থ ঋণ করেছেন,বর্তমানে সে ও স্বামীর বাড়ী ছেড়ে বাবার বাড়ীতে থাকে। এসব কথা বলতেই দু’চোখের জল চলে আসে বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলীর। । ১৯৭১ সালে ২০ বছরের টগবগে যুবক এই সেই আহমদ আলী ঝাপিয়ে পড়লেন পাকা হানাদার বহিনীর বিরোদ্ধে। তিনি জানান,ভারতের করিমগঞ্জ হয়ে টাউন হলে ৩ দিন থেকে ৪নং সেক্টর কমান্ডার শীর দত্ত বাবুর নেতৃত্বে লোহার বন ক্যাম্পে ২১ দিন উ”চতর ট্রেনিং গ্রহণ করেন। পরে কানাইঘাটের আটগ্রাম,মস্তাজ গঞ্জ,জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত,লাতু এলাকাসহ বেশকিছু এলাকায় পাকহানাদারের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। আহমদ আলীর মুক্তিবার্তার লাল বই নম্বর-০৫০১০৬০২৪৪। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেট নং-৪১৯৮,তাং ২৬-০৭-২০০৬। আহমদ আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু নিজের শরীরে মরণব্যাদি ক্যান্সার বাঁধায় আজ হেরে গেছি। এক বছর ধরে অসুস্থ্য থেকে সব সঞ্চয় দিয়ে চিকিৎসা চালাই। কিন্তু‘ তার পরও সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারিনি।’ দীর্ঘ ৯ মাস খেয়ে না খেয়ে রাত দিন নিদ্রাবিহীন বিরাম হীন কষ্ট করে শত্রুর মোকাবিলা করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম, কারো পরাধীনতায় না থেকে স্বাধীন ভাবে বেচে থাকার জন্য। একটি লাল সবুজের পতাকার স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। অভাবের তাড়নায় পরিবারের হাল ধরতে গিয়ে লেখাপড়া করতে পারিনি। বাবারও কোন সহায় সম্পত্তি ছিলনা। অভাবের তারনায় নিজের ছেলে মেয়েদেরকেও ভাল ভাবে লেখাপড়া করাতে পারিনি। আমি নিজেও অসুস্থ অর্থের অভাবে ভাল কোন চিকিৎসা নিতে পারিনা। নিজের কোন অর্থ সম্পদ না থাকায় সরকারের দেওয়া মাসিক ১০ হাজার ভাতা নিয়ে কোন রকম বেঁচে আছি। মরার আগে একটি শক্ত ঘরে নির্ভয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলী। মরার আগে যদি সরকার আমার জরার্জীন বসত ঘরটি মেরামত করে দিত তা হলে মরে গিয়েও এ দেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বার্থক হতাম। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ ধনাঢ্য ব্যক্তিদের নিকট শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করার অাবেদন জানান তিনি।

Sunday, December 3

আগামীকাল কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস

আগামীকাল কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস


নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামীকাল ৪ ডিসেম্বর কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর পাকিস্থান হানাদার বাহিনীর কবল থেকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান অকুতভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা কানাইঘাট উপজেলাকে হানাদার মুক্ত করে বিজয় উৎসবে ফেটে পড়েন। পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় মুক্তিযুদ্ধের গৌরব গাঁথা কানাইঘাট উপজেলা। কানাইঘাটে মুক্তিযোদ্ধের গৌরব গাঁথা অনেক ইতিহাস ঐতিহ্য রয়েছে। সম্মুখ যুদ্ধে নিহত অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর ও স্মৃতিশৌধ এখানে রয়েছে। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্থান হানাদার বাহিনীর সাথে বীরত্বের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন, পাকিস্থান হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোষররা বহু মা-বোনের ইজ্জত হরণ করার পাশাপাশি শত শত বাড়ী ঘর জ্বালিয়ে দেয়। কিন্তু থেমে থাকেনি মুক্তিকামী জনতা। ৪ ডিসেম্বর শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করে কানাইঘাটকে মুক্ত করে বিজয়ের স্বাধ পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হন। ৪ ডিসেম্বরকে কানাইঘাট হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে সরকারী ভাবে ঘোষণার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরী মুক্তিযোদ্ধাদের আশা আকাঙ্খার প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

Friday, September 8

স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব : কানাইঘাটের প্রাক্তন এমপি মরহুম হাবিবুর রহমান

স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব : কানাইঘাটের প্রাক্তন এমপি মরহুম হাবিবুর রহমান


আলিম উদ্দিন আলিম : হাবিবুর রহমান কানাইঘাট উপজেলার চতুল পরগনার রতনপুর গ্রামে ১৯১৯ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন সমাজসেবী নাজির হাতিম আলী। হাতিম আলী বহু বৎসর যাবৎ উত্তর সিলেট লোকের বোর্ডের মেম্বার ছিলেন এবং জৈন্তা অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকান্ডে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। হাতিম আলীর তিন পুত্র সন্তানের মধ্যে হাবিবুর রহমান ছিলেন সবার বড়। স্থানীয় পাঠশালায় অধ্যয়ন শেষে ১৯৩২ সালে হাবিবুর রহমান কানাইঘাট এম.এ স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৩৯ সালে জৈন্তা হাইস্কুল থেকে বৃত্তিসহ মেট্টিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। হাবিবুর রহমান এম.সি কলেজ থেকে ১৯৪১ সালে আই.এ এবং ১৯৪৩ সালে বি.এ পাস করেন। বি.এ পাস করার পর আইন শাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য তিনি ঢাকা ল কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে প্রথম হয়ে ১৯৪৫ সালে এল.এল.বি ডিগ্রি অর্জন করেন ও স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। ১৯৪১ সালে আসাম প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্র ফেডারেশন গঠিত হয়। এর উদ্যোক্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তিনি ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ছাত্র ফেডারেশনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ১৯৪৬ সালে তিনি সিলেট জেলা বারে আইন ব্যবসা শুরু করেন। জৈন্তা অঞ্চলের তিনিই সর্বপ্রথম আইনজীবি। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সিলেট বারের সদস্য ছিলেন। ১৯৪৬ সালের নির্বাচন উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জৈন্তা নির্বাচনী এলাকা থেকে মুসলিমলীগের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্ধিতা করে জমিয়তুল উলামায়ে হিন্দের প্রার্থী মেীলভী ইব্রাহিম আলী চতুলীর কাছে পরাজিত হন। ১৯৪৯ সালে মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওর্দী, শেখ মুজিবুর রহমান সহ মুসলিমলীগের নেতা কর্মীগণ ‘মুসলিমলীগ’ পরিত্যাগ করে ‘আওয়ামী মুসলিমলীগ’ গঠন করেন। ১৯৫৪ সালে এর নাম হয় ‘আওয়ামীলীগ’। এসময় তিনি আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে সিলেট জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে তিনি আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট নির্বাচনী এলাকা থেকে এম.এন.এ নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তার সিলেটের বাসভবন পুড়িয়ে দেয়। এসময় তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়ে ভারতের শিলং চলে যান। শিলং হাসপাতালে চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে নির্বাচিত এম.এন.এ হিসাবে সিলেটের উত্তরাঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের তৎপরতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর তিনি সিলেট সদরের প্রশাসক নিযুক্ত হয়ে সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে হাবিবুর রহমান জৈন্তা এলাকা থেকে পুনরায় বাংলাদেশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৮ সালে হাবিবুর রহমান ৫৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। 
তথ্য সূত্র : জৈন্তিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

Sunday, March 5

কানাইঘাটের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুল হকের ইন্তেকাল : রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

কানাইঘাটের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুল হকের ইন্তেকাল : রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাটের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুল হক মারা গেছেন। উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির সোনাতন পুঞ্জি গ্রামের মৃত মছদ আলীর পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফয়জুল হক (৭০) বার্ধক্যজনিত কারণে আজ রবিবার বিকাল ২টায় নিজ বাড়িতে মৃত্যু বরণ করেন(ইন্নানিল্লাহি......রাজিউন}। মৃত্যুকালে তিনি এক স্ত্রী, দুই ছেলে, আত্মীয় স্বজন সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের জানাজার নামাজ আজ রাত ৮টায় গ্রামের জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতৃবৃন্দ সহ মরহুমের সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা গণ এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষ শরীক হন। পরে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার লাশ গ্রামের পঞ্চায়েতের কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুল হকের ইন্তেকালে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজমুল হক, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি সাবেক কমান্ডার নুরুল হক প্রমুখ২নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জেমস্ লিও ফারগুশন নানকা,কানাইঘাট উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কলামিষ্ট মাষ্টার মহি উদ্দিন,কানাইঘাট নিউজ ডট কম-এর সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক নিজাম উদ্দিন প্রমূখ।

Sunday, February 5

কানাইঘাটের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ের কাজ শেষ

কানাইঘাটের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ের কাজ শেষ


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাটের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই করার লক্ষ্যে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির নেতৃবৃন্দ কাজ শুরু করেছেন। গত শনি ও রবিবার দিনভর কানাইঘাট ইউনিক কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ফরম বিতরণ এবং তাদের তালিকা যাচাই বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই বাছাইয়ের পর আগামী দু’দিনের মধ্যে উপজেলার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। যাচাই বাছাই কালে নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল হক, সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহসিনা বেগম, উক্ত কমিটির সদস্য উপজেলা সহকারী কমান্ডার তথ্য ও প্রচার ফখরুল ইসলাম, জেমস্ লিও ফারগুসন নানকা, বর্তমান কমান্ডার নজমুল হক, সুবেদার আফতাব উদ্দিন। প্রসজ্ঞত যে, কানাইঘাটে মোট ৩১২ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতীয় লাল বার্তায় ১৬৭, ভারতীয় গেজেটে ১৩৪, বাংলাদেশী গেজেটে ১১ জনের নাম রয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহসিনা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা দু’এক দিনের প্রকাশ করা হবে। নতুন করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অর্ন্তভুক্তি হওয়ার জন্য দরখাস্ত দিয়েছেন বলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি নুরুল হক জানিয়েছেন।

Saturday, February 4

কানাইঘাটে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু

কানাইঘাটে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাটের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই করার লক্ষ্যে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির নেতৃবৃন্দ কাজ শুরু করেছেন। শনিবার দিনভর কানাইঘাট ইউনিক কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ফরম বিতরণ এবং তাদের তালিকা যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু করা হয়। আগামীকাল রবিবার যাচাই বাছাই কমিটি উপজেলার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত করবেন বলে জানা গেছে। যাচাই বাছাই কালে নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল হক, সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহসিনা বেগম, উক্ত কমিটির সদস্য উপজেলা সহকারী কমান্ডার তথ্য ও প্রচার ফখরুল ইসলাম, জেমস্ লিও ফারগুসন নানকা, বর্তমান কমান্ডার নজমুল হক, সুবেদার আফতাব উদ্দিন। প্রসজ্ঞত যে, কানাইঘাটে মোট ৩১২ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতীয় লাল বার্তায় ১৬৭, ভারতীয় গেজেটে ১৩৪, বাংলাদেশী গেজেটে ১১ জনের নাম রয়েছে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহসিনা বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কানাইঘাট নিউজকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা যাচাই বাছাইয়ের পর প্রকাশ করা হবে।

Tuesday, January 24

কানাইঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির অনুমোদন দিয়েছে জামুকা

কানাইঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির অনুমোদন দিয়েছে জামুকা


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট উপজেলার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই ০৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে গত ১৬ জানুয়ারী ৬ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির অনুমোদন লাভ করে। কমিটির দায়িত্ব প্রাপ্তরা হচ্ছেন উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল হক, সদস্য- উপজেলা সহকারী কমান্ডার তথ্য প্রচার ফখরুল ইসলাম, জেমস্ লিও ফারগুসন নানকা, বর্তমান কমান্ডার নজমুল হক, সুবেদার আফতাব উদ্দিন, সদস্য সচিব করা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। এদিকে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি সাবেক কমান্ডার নুরুল হককে এক পক্ষ মেনে নিতে পারছেন না। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারী উপজেলার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই বাছাই করবে এ কমিটি। ইতিমধ্যে যাচাই বাছাই কমিটির উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। যাচাই বাছাই কমিটির প্রধান নুরুল হক ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজমুল হক জানিয়েছেন কানাইঘাট উপজেলায় মোট ৩১২ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতীয় লাল বার্তায় ১৬৭, ভারতীয় গেজেটে ১৩৪, বাংলাদেশী গেজেটে- ১১ জনের নাম রয়েছে। তবে যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি নুরুল হক জানিয়েছেন মন্ত্রনালয় থেকে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। ঐক্যবদ্ধ ভাবে আমরা সবাই মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজ করে যাব।