Showing posts with label দেশের বাইরে. Show all posts
Showing posts with label দেশের বাইরে. Show all posts

Monday, July 20

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যাপক হামলায় আরও এক মার্কিন সেনা নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যাপক হামলায় আরও এক মার্কিন সেনা নিহত

 


মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ছোড়া একটি অবিস্ফোরিত ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও এক সেনা আহত হয়েছেন।

রোববার (১৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় এক সেনা নিহত হয়েছেন। এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ১৮ জুলাই ওই সেনা নিহত হন। এ সময় ড্রোনটি বিস্ফোরিত হলে আরও এক সেনা আহত হন। তবে নিহত সেনার নাম-পরিচয় জানানো হয়নি।

সবশেষ এ সেনার মৃত্যুর ফলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ সংঘাত শুরু হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার জর্ডানে ইরানি হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। সেন্টকম রোববার জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। এটি শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই পক্ষের হামলা তীব্রতর হয়েছে।

দুই পক্ষের এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে এবং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শত শত স্বল্পমূল্যে উৎপাদিত এবং অত্যন্ত বিস্ফোরক একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এ ধরনের ড্রোনকে শাহেদ ড্রোন বলা হয়।

সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিটি শাহেদ ড্রোন প্রায় ৩০ হাজার ডলার ব্যয়ে উৎপাদন করা যায়। ফলে হামলায় এগুলোর ব্যাপক ব্যবহার ইরানের জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। অন্যদিকে, এগুলো ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার হতে পারে। অনেক সময় এসব ইন্টারসেপ্টর লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতেও ব্যর্থ হয়।

রোববার ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের কাছে এবং ইরাক সীমান্তবর্তী শাদেগানের কাছে হামলা চালিয়েছে। পরে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবাদানে একটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থাও দারখোভিনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বলেছে, তারা রাতভর হামলার ঘটনাটি তদন্ত করছে। কেন্দ্রটি নির্মাণের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলার জবাবে ইরান কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

কুয়েত সরকার জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একটি পানি পরিশোধন কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে স্থাপনাটিতে আগুন লেগেছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা।

বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, রোববার দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে। এদিকে জর্ডানে সাইরেন বেজে উঠেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে জর্ডান ইরানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে। - সূত্র: আল জাজিরা

Thursday, June 25

টরন্টোয় শাহজালাল এসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী, আত্মপ্রকাশ করল নতুন আহ্বায়ক কমিটি

টরন্টোয় শাহজালাল এসোসিয়েশনের ঈদ পুনর্মিলনী, আত্মপ্রকাশ করল নতুন আহ্বায়ক কমিটি


কানাডা প্রতিনিধি :

কানাডার টরন্টোতে বসবাসরত সিলেটবাসীর অন্যতম সামাজিক সংগঠন শাহজালাল এসোসিয়েশন অব টরন্টো-এর উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও নতুন আহ্বায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৭ জুন টরন্টোর বাংলা টাউনের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী সিলেটি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফ উদ্দিন রুবেল-এর সভাপতিত্বে এবং সংগঠক সাইদুর রহমান শামীম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, এশিয়ান টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ও রোটারিয়ান শাহজাহান সেলিম বুলবুল পিএইচএফ।


বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যাংকার সাইফুল আলম শিকদার, ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম, রোটারিয়ান আবুল হোসেন এবং সংগঠক ফুজেল আহমদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজাহান সেলিম বুলবুল বলেন, “সামাজিক সংগঠনের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত নিঃস্বার্থ সমাজসেবা ও মানবিক কল্যাণ। প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের শিকড়, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ তুলে ধরতে এবং পিছিয়ে পড়া প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি আরও বলেন, “প্রবাসে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি সিলেটি কমিউনিটির ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এ সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” এ সময় তিনি নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন মো. ইকবাল হোসেন, আফজাল হোসেন সায়েম, নাসির আহমদ, মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, ময়নুল হক, মোবারক হোসেন তুহিন, সালাউদ্দিন আহমদ, রুহেল আহমদ, সুমন বকসি, সৈয়দা তাহমিদা, আদনান আহমেদ প্রমুখ।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আশরাফ উদ্দিন রুবেলকে আহ্বায়ক এবং সাইদুর রহমান শামীমকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে নবনির্বাচিত আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন রুবেল উপস্থিত সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “সিলেটি কমিউনিটির সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এ সংগঠনের পথচলা। আমরা আশা করি, এই আহ্বায়ক কমিটি একটি সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সংগঠনকে আরও গতিশীল করবে।”

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে উপস্থিত অতিথি ও সদস্যদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। ঈদ পুনর্মিলনীর প্রাণবন্ত পরিবেশে প্রবাসী সিলেটবাসীর মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।

টরন্টোয় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সাধারণ সভা সম্পন্ন

টরন্টোয় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম সাধারণ সভা সম্পন্ন


কানাডা প্রতিনিধি:

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নির্বাচনী উত্তেজনা এবং নানা আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সাধারণ সভা। গত সোমবার (২২ জুন) টরন্টোর ড্যানফোর্থ এলাকার একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের গৌরবময় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে অতীতের সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে সদ্য বিদায়ী সভাপতি মাহবুব চৌধুরী রনি বলেন, “ব্যক্তিগত কিংবা নির্বাচনী মতপার্থক্য কখনো সংগঠনের স্বার্থের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন আমাদের সবার প্রাণের সংগঠন। এর উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমরা সবসময় পাশে থাকব।”

নবনির্বাচিত সভাপতি এবাদ চৌধুরী সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “নির্বাচন একটি সাময়িক প্রক্রিয়া, কিন্তু সংগঠনের উন্নয়ন একটি চলমান যাত্রা। আমরা কোনো বিভাজনে বিশ্বাস করি না। সবার পরামর্শ ও সহযোগিতায় জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী এবং জবাবদিহিমূলক সংগঠনে পরিণত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

সংগঠনের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমদের সভাপতিত্বে এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সাবেক সভাপতি সাদ চৌধুরী বলেন, “আজকের এই মিলনমেলা আমাদের সংগঠনের শক্তি ও সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। এখানে উপস্থিত সবাই কোনো না কোনো সময় সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। জ্যেষ্ঠ ও নবীন নেতৃত্বের এই ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”

সভায় বক্তারা বিগত নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকাণ্ড ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে আরও নিরপেক্ষ, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য নতুন কমিটির প্রতি আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য কমিউনিটির সদস্যদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ।

সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সাংগঠনিক উন্নয়ন এবং কমিউনিটির কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি আব্দুল আহাদ খন্দকার, মিজানুর রহমান চৌধুরী, দেবব্রত দে তমাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুদীপ সোম রিংকু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান নির্বাহী সভাপতি মেহেদী মারুফ, সহ-সভাপতি তাহমিনা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ১৭ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব টরন্টোর নির্বাচনে এবাদ চৌধুরী সভাপতি, রাসেল আহমেদ সাধারণ সম্পাদক এবং মেহেদী মারুফ নির্বাহী সভাপতিসহ ২৯ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি নির্বাচিত হয়।

Thursday, June 18

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পর বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পর বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম

 


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের কমতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর হুমকির কারণে সাময়িকভাবে বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, চুক্তির পর তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এশিয়ার বাজারে বৃহস্পতিবার সকালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগের অবস্থানে ফিরে আসে। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আগামী আগস্টে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট তেলের অগ্রিম চুক্তির দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ৭৮ দশমিক ০৭ ডলার। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগের তুলনায় তেলের দাম এখনও ৭ শতাংশ বেশি রয়েছে।

কয়েক দিন ধরে নিম্নমুখী থাকার পর বুধবার হঠাৎ ব্রেন্ট তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ইরান ‘সঠিক আচরণ’ না করলে পুনরায় বোমা হামলার হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার ওই মন্তব্যের পর বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।

তেলের বাজারে স্বস্তি ফেরার পাশাপাশি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই-২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি উভয়ই উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ দুই সূচক যথাক্রমে ২ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এছাড়া তাইওয়ানের তায়েক্স সূচকও ১ দশমিক ৩ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

মার্কিন শেয়ারবাজারের অগ্রিম সূচকেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

শিল্পোন্নত সাত দেশের জোটের সম্মেলন উপলক্ষে বর্তমানে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বুধবার রাজধানী প্যারিসের ভার্সাই প্রাসাদে নৈশভোজের আগে তিনি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার পাশে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পর তেহরানে নিজ কার্যালয়ে একই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও ওই স্বাক্ষরের ছবি প্রকাশ করেছে। - সূত্র : আল জাজিরা।

বাংলাদেশ-পাকিস্তানে হামাসের কার্যক্রম রয়েছে: ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ-পাকিস্তানে হামাসের কার্যক্রম রয়েছে: ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত

 


ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার দাবি করেছেন, হামাস পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেই সক্রিয় থাকতে পারে। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম এন-১২ নিউজে প্রকাশিত এক মন্তব্যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে হামাসের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে সতর্ক করেন।

রুভেন আজার বলেন, ‘আমরা জানি যে হামাস পাকিস্তান ও বাংলাদেশে সক্রিয়। এমন সম্ভাবনাও রয়েছে, তাদের কিছু সন্ত্রাসী কার্যক্রম সম্পর্কে আমরা এখনো অবগত নই। তারা ৭ অক্টোবরের সন্ত্রাসী হামলা থেকে অনুপ্রেরণা নেয়।’

এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন, হামাস-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের কার্যক্রম আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আজার পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নিরপেক্ষ কূটনৈতিক সেতু হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার ইসলামাবাদের প্রচেষ্টাকে ইসরায়েল সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

রাষ্ট্রদূতের দাবি, ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্ভাব্য হামাস-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছে।

তিনি বলেন, তাদের কিছু পর্যবেক্ষণ প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে হলেও, আরও কিছু কার্যক্রম সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

রুভেন আজার আরও বলেন, হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলাকে কিছু উগ্রপন্থি গোষ্ঠী ভবিষ্যৎ হামলার কৌশল হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। তিনি জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে ইসরায়েল ভারতের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করেছে।

১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত

১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত

 


১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বৃহস্পতিবার আমিরাতের মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও কানাডার মতো যেসব দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই তালিকায় যুক্ত হলো দেশটি।

মন্ত্রিসভার এক প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবশ্যই ১৫ বছরের কম বয়সীদের তৈরি করা অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ ও নিষ্ক্রিয় করতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা হলে আমিরাতে সেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে ১২ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের বরাত দিয়ে দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সর্বনিম্ন বয়স ১৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, এই কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট তৈরি, ব্যবহার কিংবা পরিচালনা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

‌‌‘‘তারা এসব প্ল্যাটফর্মের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা বা ফিচার ব্যবহারের সুযোগও পাবে না। এই শিশুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান, পোস্ট, মন্তব্য, শেয়ার করা এবং কোনও পাবলিক গ্রুপ, ওপেন চ্যানেল বা বড় কোনও ইন্টারেক্টিভ স্পেসেও যুক্ত হতে পারবে না।’’

গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পর আরও কয়েকটি দেশ এই পথ অনুসরণ করে। এর মধ্যে ব্রিটেনও চলতি সপ্তাহে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ডব্লিউএএম বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের গণমাধ্যম ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর কাছে কোনও প্ল্যাটফর্ম এই নিয়ম অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সতর্কবার্তা পাঠানো, প্ল্যাটফর্মটিকে আংশিক বা পুরোপুরি ব্লক করে দেওয়া কিংবা প্রযোজ্য প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা। - সূত্র: এএফপি।

Wednesday, June 17

আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণ, মুখে অ্যাসিড : ২ বিএসএফ সদস্যকে ৪২ বছরের কারাদণ্ড

আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণ, মুখে অ্যাসিড : ২ বিএসএফ সদস্যকে ৪২ বছরের কারাদণ্ড

 


৯ বছরের পুরনো এক মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিলেন ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামের এক জেলা আদালত। রাজ্যের এক আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণ ও তার মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপের দায়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ২ সদস্যকে ৪২ বছর করে কারাবাসের সাজা দিয়েছেন ওই আদালতের বিচারক সিলভি জোমুয়ানপুই।

২০১৭ সালে মিজোরামের এক আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণ ও অ্যাসিড হামলার অভিযোগ উঠেছিল দুই বিএসএফ সদস্য বিরুদ্ধে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কয়েকদিন আগেই তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত বিএসএফ সদস্যদের একজন বাঙালি, অপরজন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। গতকাল বুধবার রায় ঘোষণা করেছেন বিচারক।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই মিজোরামের সুপুরি বনে ওই আদিবাসী তরুণীকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে আসামিরা। পরে তার মুখে অ্যাসিডও ঢেলে দেয় তারা। এতে ওই তরুণীর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতি হয় মুখের ত্বকের।

ঘটনার সময় তরুণীর সঙ্গে ছিলেন তার এক বান্ধবী। ঘটনাটি ঘটার কয়েক দিন পর তার মৃত্যু হয়। তবে আদালত সেই খুনটির জন্য বিএসএফের ওই দুই সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেননি।

তবে ধর্ষণ ও অ্যাসিড হামলায় সাজা ঘোষণা করেছেন। বিচারকের রায় অনুসারে গণধর্ষণের জন্য ২০ বছর, ধর্ষণের মাধ্যমে শারীরিক ক্ষতির জন্য ১০ বছর এবং অ্যাসিড হামলার জন্য ১২ বছরের কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়েছে আসামিদের। এই তিন অপরাধের সাজা একই সঙ্গে ভোগ করতে দোষীদের।

এছাড়াও প্রতিটি অপরাধে ৬০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে তাদের। অনাদায়ে আরও ২ মাস করে কারাগারে থাকতে হবে।

জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জেলাশাসকের সামনে দুই দোষীকে সনাক্ত করেন নির্যাতিতা। শুরু হয় মামলার শুনানি। সব মিলিয়ে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত সাক্ষী দেন। তাদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি চিকিৎসকরাও ছিলেন।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন

Wednesday, January 7

যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া করা ট্যাংকারের সুরক্ষায় সাবমেরিন পাঠালো রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া করা ট্যাংকারের সুরক্ষায় সাবমেরিন পাঠালো রাশিয়া


 ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা একটি খালি ও পুরোনো তেলবাহী ট্যাংকারকে পাহারা দিতে সাবমেরিনসহ অন্যান্য নৌযান মোতায়েন করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের জব্দ ও তল্লাশির চেষ্টার পর থেকে আটক এড়িয়ে চলছিল ‘বেলা ১’ নামের ওই ট্যাংকারটি। ওই সময় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আওতায় তেল রপ্তানি ও আমদানিতে অবরোধ আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্য তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে জাহাজটির পেছনে ধাওয়া বন্ধ করার অনুরোধ জানায় রাশিয়া। তবে এই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নিয়মিত কর্মঘণ্টার বাইরে মন্তব্য জানতে চাওয়ায় হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

মঙ্গলবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ট্যাংকারটি ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি ‌‌উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।

লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম তদারককারী যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ওই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াতকারী নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন সংস্থা অংশীদারদের সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে পোস্টে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন কিংবা রুশ সাবমেরিনের বিষয়ে কোনও তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড জাহাজটিকে পূর্ব আটলান্টিক পর্যন্ত অনুসরণ করে যাচ্ছে। বর্তমানে এটি আইসল্যান্ড থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দক্ষিণে উত্তর সাগরের দিকে যাত্রা করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্যাংকারটি তার নাম পরিবর্তন করে ‘ম্যারিনেরা’ রেখেছে এবং নিবন্ধন রাশিয়ায় স্থানান্তর করেছে।

মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার ৫ কোটি ব্যারেল তেল পরিশোধন ও বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ভেনেজুয়েলাতেই আটকে ছিল এই তেল। গত সপ্তাহান্তে সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকে ওয়াশিংটন কারাকাসের সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। - সূত্র: রয়টার্স, এএফপি

ইউরোপে ব্যাপক তুষারপাতে ৬ মৃত্যু, শত শত ফ্লাইট বাতিল

ইউরোপে ব্যাপক তুষারপাতে ৬ মৃত্যু, শত শত ফ্লাইট বাতিল

 


ব্যাপক ও ভারী তুষারপাতে ইউরোপজুড়ে নিহত হয়েছেন ৬ জন এবং বিভিন্ন দেশে বাতিল হয়েছে শত শত ফ্লাইট। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

নিহতদের মধ্যে ৫ জনই ফ্রান্সের, বাকি একজন দক্ষিণপূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ বসনিয়া অ্যান্ড হার্জিগোভিনার রাজধানী সারায়েভোর। ফ্রান্সে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের সবারই মৃত্যুর কারণ সড়কের ওপরে জমা বরফে গাড়ির চাকা পিছলে যাওয়াজনিত দুর্ঘটনা। আর সারায়েভোতে যিনি নিহত হয়েছেন, গাড়ির ওপর গাছ উপড়ে পড়া তার মৃত্যুর কারণ।

বসনিয়া অ্যান্ড হার্জিগোভিনাসহ বলকান অঞ্চলের দেশগুলোতে তুষারপাতের পাশাপাশি চলছে ভারী বর্ষণও।

ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবহনমন্ত্রী ফিলিপ তাবারোত গতকাল এক বিবৃতিতে আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে বলেছেন, সামনে আরও কয়েক দিন তুষারপাত অব্যাহত থাকবে। নাগরিকদের খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার এবং বাড়িতে থেকে কাজ করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। আবহাওয়া দপ্তর ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের মোট ৯৬টি জেলার মধ্যে ৩৮টিতে তুষারপাতজনিত কমলা সতর্ক সংকেত জারি করে করেছে।

তুষারপাতের জেরে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের প্রধান বিমানবন্দর রোইসি-চার্লস ডি গাউল্লে গতকাল মঙ্গলবার ৪০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই দিন একই কারণে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামের প্রধান বিমানবন্দর শিফোল এয়ারপোর্ট বাতিল করেছে ৪ শতাধিক ফ্লাইট।

এসব ফ্লাইট বাতিলের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। স্পেনের নাগরিক জাভিয়ের সেপুলভেদা আমস্টারডাম থেকে নরওয়ে যাওয়ার জন্য শিফোল বিমানবন্দরে এসেছিলেন। কিন্তু আসার পর কয়েক হাজার যাত্রীর মতো তিনিও আটকা পড়েন।

রয়টার্সকে বলেছেন, আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্বেগের কারণে কোলাহলপূর্ণ, হতাশাজনক এবং বিরক্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বিমানবন্দরে।

সূত্র : বিবিসি

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে অভিশংসন করা হতে পারে, উদ্বিগ্ন ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে অভিশংসন করা হতে পারে, উদ্বিগ্ন ট্রাম্প

 


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অবশ্যই জিততে হবে। জিততে না পারলে ডেমোক্র্যাটরা তাকে অভিশংসিত করবেন। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান সদস্যদের এক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, 'আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আপনাদের জিততে হবে। আর না জিততে পারলে ওরা (ডেমোক্র্যাট) আমাকে অভিশংসন করার একটা কারণ খুঁজে পাবে।'

রয়টার্স অনলাইন ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিততে না পারলে ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভাটা পড়বে, এমনকি কংগ্রেসে তদন্তের মুখোমুখি হতে পারেন ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে তাই যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তিনি। জীবনযাপনের খরচ নিয়ে এরইমধ্যে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় ট্রাম্প চাইছেন, নিজেদের বিরোধ ভুলে রিপাবলিকানরা যেন হাত মেলান।

রিপাবলিকানদের সতর্ক করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, 'আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ৪৩৫ এবং সিনেটে ৩৩টি আসন অবশ্যই হাতে রাখতে হবে।'

তবে ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। সম্মলনে তিনি বলেন, 'আমরা মধ্যবর্তী জয় ছিনিয়ে আনতে যাচ্ছি, যা দিয়ে ইতিহাস গড়ব, রেকর্ড ভাঙব।'

জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে আলোচনা নেই

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে আনার ঘটনায় ট্রাম্পের ওপর নজর মার্কিন ভোটারদের। এ ঘটনার পর দেশের আভ্যন্তরীণ সমস্যা, যেমন মূল্যস্ফীতির দিকে নজর দেওয়ার জন্য চাপ বাড়ছে ট্রাম্পের ওপর। কিন্তু মঙ্গলবারের সম্মেলনে এসব ব্যাপারে ট্রাম্প কিছুই বলেননি। বরং তিনি দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটদের তৈরি করা ওসব সমস্যা এখন তার ঘাড়ে এসে পড়েছে।

৮৪ মিনিটের লম্বা বক্তব্যে অবান্তর অনেক কথা বলেন ট্রাম্প। যেমন তিনি বলেন, 'স্ত্রীর উপদেশে জনসম্মুখে নাচা বন্ধ করে দিয়েছি।' এছাড়া কিছু বানোয়াট আলাপও উঠে আসে এই বক্তব্যে। যেমন তিনি দাবি করেন, গত সাত মাসে ওয়াশিংটনে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। অথচ ২০২৫ সালে ১২৭ টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে সেখানে। এমনকি ৩১ ডিসেম্বর রাতেও একজন খুন হন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পুলিশ। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি গলফ খেলার সুযোগ পান না; অথচ গত রোববারও তাকে গলফ মাঠে দেখা গেছে।

বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, মিডটার্ম অর্থাৎ মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতবে, কিন্তু কিছু রিপাবলিকান সদস্য ঠিকঠাক পথে চলছেন না।

২০০৬ সাল থেকে প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে আসন খুইয়েছেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টরা। তাই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যখাতে মনোযোগ দিতে রিপাবলিকান সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান ট্রাম্প।

নিজের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়াতে চান ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবার যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন পর পর দুইবার অভিশংসনের মুখোমুখি হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্য এবারও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, যদিও তা অস্বীকার করে আসছে হোয়াইট হাউজে।

বর্তমানে পাঁচ ভোট বেশি নিয়ে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে রিপাবলিকানরা। এতো কম ব্যবধান নিয়ে টিকে থাকতে না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও স্পিকার মাইক জনসন। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন খাতে নিজের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এতদিন রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে খরচ এবং অন্যান্য বিষয়ে কংগ্রেসের ক্ষমতা অনেকটাই ট্রাম্পের হাতে ছেড়েছিলেন। তবে বর্তমানে তাদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। গত মাসে কলোরাডো এবং ফ্লোরিডার অবকাঠামো প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তে ভেটো দেন ট্রাম্প। এ সপ্তাহে তার সেই ভেটো খারিজ করতে একটি ভোটাভুটি হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, অনেক রিপাবলিকান এই ভোটে ট্রাম্পের পক্ষ নেবে না।

বাংলাদেশের কাছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চায় পাকিস্তান

বাংলাদেশের কাছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চায় পাকিস্তান

 


বাংলাদেশের কাছে চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি করা জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর দুই প্রধানের আলোচনা হয়েছে। অস্ত্র রপ্তানির পরিধি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে ইসলামাবাদ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গত বছরের মে মাসে চিরশত্রু ভারতের সঙ্গে সংঘাতে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সাফল্যকে কাজে লাগাতে চায় ইসলামাবাদ। তারই ধারাবাহিকতায় ইসলামাবাদে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর দুই প্রধানের ওই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সংঘাত ছিল পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী দেশের মাঝে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই।

পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খান চীন-পাকিস্তানের যৌথভাবে তৈরি করা যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার সংগ্রহ করা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের আইএসপিআর বলেছে, বাংলাদেশকে ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ইসলামাবাদ।

• উষ্ণ হচ্ছে ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক

যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার কেনার এই আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মাঝে সম্পর্ক উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত বছরের আগস্টে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক ভেঙে পড়েছে। এরপর থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাকিস্তানের আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‌‌এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শক্তিশালী ঐতিহাসিক সম্পর্ককে তুলে ধরেছে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার যৌথ সংকল্পের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

শেখ হাসিনার ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাঝে সরাসরি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক বৈঠকও হয়েছে।

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

• অস্ত্র বিক্রি বাড়াচ্ছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র তৈরি কর্মসূচির মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান। এই বিমান আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তিরও অংশ।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে দেশের অস্ত্র শিল্পের সাফল্য। দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে তিনি বলেন, ‌‌‘‘আমাদের বিমান পরীক্ষিত, আর আমরা এত অর্ডার পাচ্ছি যে ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের হয়তো আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রয়োজনই হবে না।’’ - সূত্র: রয়টার্স।