Showing posts with label সারাদেশ. Show all posts
Showing posts with label সারাদেশ. Show all posts

Saturday, July 18

নতুন পৌরসভার পথে জৈন্তাপুর

নতুন পৌরসভার পথে জৈন্তাপুর


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

দেশে আরও একটি নতুন পৌরসভা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার নির্ধারিত পল্লী এলাকাগুলোকে শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায় জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখা থেকে এসআরও নং ২৮১-আইন/২০২৬ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এটি প্রকাশ করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব ড. আশফিকুন নাহার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ধারা ৩-এর উপধারা (১) অনুযায়ী সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার তফসিলে উল্লেখিত পল্লী এলাকাগুলোকে শহর এলাকা ঘোষণার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে সরকার।


এতে আরও বলা হয়, আইনটির ধারা ৩-এর উপধারা (৩) অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ থেকে এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চাইলে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে লিখিত আপত্তি জানাতে পারবে।

এ ছাড়া ধারা ৩-এর উপধারা (৪) অনুযায়ী, উত্থাপিত আপত্তি থাকলে সরকার তা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে।

উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে বিএনপিকে সম্পৃক্ত করতে হবে: জকিগঞ্জে শাম্মী আক্তার

উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে বিএনপিকে সম্পৃক্ত করতে হবে: জকিগঞ্জে শাম্মী আক্তার

 


দলীয় ঐক্য জোরদার, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং অপরাধ দমনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ


নিজস্ব প্রতিবেদক, জকিগঞ্জ:

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার শনিবার জকিগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই দিনে তিনি উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিকেলে জকিগঞ্জ শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাম্মী আক্তার বলেন, সিলেট-৫ আসনের মানুষের সুখ-দুঃখে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

শাম্মী আক্তার বলেন, জকিগঞ্জ যেন কোনোভাবেই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্য নিয়েই তিনি কাজ করছেন। ভুল বোঝাবুঝি ও বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এলাকার উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিকে উপেক্ষা করে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত হবে না। উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সিলেট-৫ আসনের মানুষের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে গিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তদবির করবেন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন বিএনপি নেতা হিফজুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শরীফ লস্কর।

সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওলি চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ইকবাল আহমদ তাপাদার, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান হাসান আহমদ, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মাসুক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আহমদ রনি, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম লেইছ, পৌরসভা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রাজন, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাহেদুজ্জামান, পৌরসভা কৃষক দলের আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রায়হান আহমদ, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জবরুল হোসেন ইমনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন শাম্মী আক্তার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজিত কুমার চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ দাস সঞ্চালনা করেন।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বক্তব্য দেন জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইকবাল আহমদ তাপাদার, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী, সাবেক আহ্বায়ক শরীফ লস্কর, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হোসেন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমদসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

সভায় শাম্মী আক্তার বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় জকিগঞ্জে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক। মাদক নির্মূলে বিএনপি সরকারের অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'। প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করে সুশিক্ষিত, নৈতিক ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে বিএনপিকে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

প্রশাসনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দলের কোনো নেতাকর্মী অপরাধে জড়ালে তার দায় সরকার বা দল নেবে না। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। যে-ই অপরাধ করুক, প্রশাসনকে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

Thursday, July 16

ঢাকা-সিলেট রুটে চালু হচ্ছে বিরতিহীন ট্রেন 'টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস'

ঢাকা-সিলেট রুটে চালু হচ্ছে বিরতিহীন ট্রেন 'টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস'


এহসানুল হক জসীম:

ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাপ সামাল দিতে ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে খুব শীঘ্রই এক জোড়া নতুন বিরতিহীন ইন্টারসিটি ট্রেন সার্ভিস চালু হতে যাচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যে এই বিরতিহীন ট্রেনটির অনুমোদন দিয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে 'টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস'। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটের জন্য 'টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস' নামের এক জোড়া নতুন বিরতিহীন ইন্টারসিটি ট্রেন চালুর অনুমোদন দিয়েছেন।"

তবে নতুন এই ট্রেন সার্ভিসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বর্তমান রেল বহরের ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের কারণে কিছুটা সময় নেবে। নতুন ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহের পরই এটি চূড়ান্তভাবে চালু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এই রুটে চার জোড়া ট্রেন চলে, টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস চালু হলে তখন পাঁচ জোড়া হবে। 

রেলপথ মন্ত্রী জানান, ২০০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নে 'রেলওয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি' প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) কেনার জন্য আরেকটি পৃথক ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব রোলিং স্টক (ইঞ্জিন ও কোচ) হাতে পাওয়া মাত্রই নতুন ট্রেনটি লাইনে নামানো হবে।

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের এক প্রশ্নের জবাবে এই রুটে ব্রডগেজ ট্রেন চালুর বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা-সিলেট রুটে বর্তমানে মিটারগেজ লাইন চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে এই রেললাইনটিকে ডুয়াল-গেজ বা ব্রড-গেজ সিস্টেমে রূপান্তর করা এবং প্রয়োজনীয় রোলিং স্টক সংগ্রহ করা হলে ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, ২০০টি মিটারগেজ কোচ এবং এআইআইবি-র অর্থায়নে ৩০টি ইঞ্জিন সংগ্রহের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ঢাকা-কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটেও একটি নতুন ইন্টারসিটি ট্রেন চালু করা হবে।

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, খুলনা-যশোর রুটের পুরোনো ট্র্যাক সংস্কার এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের কাজ চলছে।

ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর সেকশনে ডুয়াল-গেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন হয়েছে।

Tuesday, July 7

জকিগঞ্জে সুরমার ভয়াল ভাঙন: বিলীনের পথে ১২১ বছরের বিদ্যালয়, আতঙ্কে পাঁচ গ্রামের মানুষ

জকিগঞ্জে সুরমার ভয়াল ভাঙন: বিলীনের পথে ১২১ বছরের বিদ্যালয়, আতঙ্কে পাঁচ গ্রামের মানুষ


হাফিজ আহমদ সুজন:

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। ভাঙনের তীব্রতায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে নদীপাড়ের কয়েকটি গ্রাম, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। প্রতিনিয়ত নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। নতুন করে ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সুরানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী এই বিদ্যালয়টি বর্তমানে নদীভাঙনের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি সুরমা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

বিদ্যালয়টিতে মানিকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর, দুধরচক, শিবেরচক, হরাইচক ও সুরানন্দপুর-এই পাঁচটি গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থাও বড় সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

মানিকপুর ইউনিয়নের সুরানন্দপুর প্রবাসী ফোরামের সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক, পর্তুগাল প্রবাসী জুবায়ের আহমদ বলেন, “সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো চরম হুমকির মুখে রয়েছে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সুরমা নদীর ভাঙনে এই জনপদের মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় বছর বছর একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Sunday, June 28

সিলেটে শিক্ষামন্ত্রীর হুশিয়ারি: নকল হলে ছাড় পাবেন না কেন্দ্রসচিবও'

সিলেটে শিক্ষামন্ত্রীর হুশিয়ারি: নকল হলে ছাড় পাবেন না কেন্দ্রসচিবও'


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস কিংবা প্রশ্নফাঁসের গুজব কোনোটিই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষাকে বিতর্কিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো কেন্দ্রে নকল ধরা পড়লে কেন্দ্রসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

রবিবার (২৮ জুন) সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র প্রধানদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত কয়েকটি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। অথচ বাস্তবে কোনো প্রশ্নফাঁস হয়নি। তারপরও কিছু ব্যক্তি ও গণমাধ্যম কোনো প্রকার যাচাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে। এবার এমন কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও যোগ করেন, প্রশ্নফাঁস না হলেও প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোও একটি বড় অপরাধ। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে কেউ ভাইরাল হবে, আর সরকার চুপ করে বসে থাকবে—তা আর হতে দেওয়া হবে না।
পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল ঠেকাতে কেন্দ্র প্রধানদের কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে ড. মিলন বলেন, পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় তল্লাশি নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রের ভেতরে নকলের কোনো উপকরণ পাওয়া গেলে দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

কেন্দ্র প্রধানদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কেন্দ্র আপনার দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে। সুতরাং, সেখানে কোনো প্রকার অনিয়ম হলে কাউকে না কাউকে জবাবদিহি করতেই হবে।
পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবার সিসিটিভি ক্যামেরাসহ ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়াও ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষগুলোকেও স্মার্ট মনিটরিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

ড. মিলন জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রই নয়, শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে পর্যায়ক্রমে প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে।

মতবিনিময় সভায় সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র প্রধান ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।