Showing posts with label বিশেষ খবর. Show all posts
Showing posts with label বিশেষ খবর. Show all posts

Thursday, September 17

কাতারে বিশ্বজয় কানাইঘাটের হাফেজ কামরুজ জামানের

কাতারে বিশ্বজয় কানাইঘাটের হাফেজ কামরুজ জামানের


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কাতারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা–২০২৬-এ প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার কৃতি সন্তান হাফেজ কামরুজ জামান কামিল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই সাফল্যে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে তাঁর পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে।

হাফেজ কামরুজ জামান কামিল কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের খালপাড় পশ্চিম গ্রামের মরহুম হাফিজ আব্দুল মতিনের ছেলে। তাঁর এই আন্তর্জাতিক অর্জনে উজ্জ্বল হয়েছে কানাইঘাটের পাশাপাশি বাংলাদেশের নাম।

জানা গেছে, কামরুজ জামান কামিল রাজাগঞ্জের পারকুল জামেয়া আল-মুতলিব খয়রুন নেছা মাদরাসা থেকে পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করেন। পরে তিনি সিলেটের আল মাহাদুল আরাবি আল আলামি মারকায মাদিনাতুস সালাম মাদরাসায় ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি সেখানে ৮ম সমমান শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছেন। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই তিনি কাতারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান।

প্রতিযোগিতায় প্রায় ৪৬টি দেশের তিন শতাধিক হাফেজ অংশগ্রহণ করেন। একাধিক ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্ত পর্বে ওঠেন কামরুজ জামান কামিল। চূড়ান্ত পর্বে আট দেশের ৩০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন।

কাতার চ্যারিটির সহযোগিতায় দেশটির ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব মসজিদে এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে কামরুজ জামান কামিলকে ১০ হাজার কাতারি রিয়াল পুরস্কার ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ পুরস্কারের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন সাফল্য অর্জন করায় কামরুজ জামান কামিলকে নিয়ে গর্বিত তাঁর পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। তাঁর এ অর্জন কুরআন হিফজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাঁর এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থীকে পবিত্র কুরআন হিফজ ও কুরআনিক শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

Tuesday, September 1

নতুন সম্ভাবনা নিয়ে টিকে আছে কানাইঘাট ডাকঘর

নতুন সম্ভাবনা নিয়ে টিকে আছে কানাইঘাট ডাকঘর


মাহবুবুর রশিদ: 

আজ ১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস। একসময় মানুষের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, আত্মীয়তার বন্ধন ও প্রয়োজনীয় সংবাদ আদান-প্রদানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল হাতে লেখা চিঠি। ডাকপিয়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনতেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারে সেই আবেগঘন চিঠির ব্যবহার এখন অনেকটাই কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ডাকঘরগুলোতেও। 

কানাইঘাট উপজেলা প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রধান ডাকঘরসহ প্রায় ২০টি পোস্ট অফিস ও সাব-পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি ডাকঘরের কার্যক্রম বর্তমানে ভাড়া করা দোকানঘর থেকে পরিচালিত হচ্ছে। 

একসময় ডাকঘরের সামনে থাকা লাল রঙের দাঁড় করানো ডাকবাক্স ছিল পরিচিত ও আবেগময় এক দৃশ্য। এখন সেই ডাকবাক্সও অনেক জায়গা থেকে হারিয়ে গেছে। ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, আদালত ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও চিঠিপত্র এখনো ডাক বিভাগের মাধ্যমেই আদান-প্রদান করা হয়। ফলে আগের মতো ব্যস্ততা না থাকলেও কানাইঘাটে সরকারি সেবা প্রদানে ডাক বিভাগের গুরুত্ব এখনো অটুট রয়েছে। 

ডাকঘর সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রাহকসেবা আধুনিক ও দ্রুত করতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ চালু করেছে স্পিড পোস্ট (এসডি) ও গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট (জিইপি) সেবা। পাশাপাশি ডাক জীবন বীমা, সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড এবং ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের মতো বিভিন্ন সেবাও নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে কানাইঘাট প্রধান ডাকঘরে। 

কানাইঘাট উপজেলা প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো. ফারুক আহমদ তাপাদার জানান, চিঠিপত্র আদান-প্রদানের পাশাপাশি ডাকঘরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া সল্প খরচে স্পিড পোস্ট সেবার মাধ্যমে মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পার্সেল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এ ডাকঘর থেকে।

তিনি আরও জানান, ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবার পাশাপাশি কানাইঘাট প্রধান ডাকঘরে পরিচালিত ডিজিটাল পোস্ট অফিস নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

কানাইঘাট ডিজিটাল পোস্ট অফিসের উদ্যোক্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এখানে কম্পিউটারের বেসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সরকারি নির্ধারিত সল্প খরচে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার প্রশিক্ষণার্থী সরকারি সনদ অর্জন করেছেন। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পেশায় সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন।

আন্তর্জাতিক চিঠি দিবসে কানাইঘাটের ডাকঘরের বর্তমান চিত্র ঘুরে দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্মের অনেকেরই হাতের লেখা চিঠি কিংবা ডাকঘরের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও ডিজিটাল পোস্ট অফিসের মাধ্যমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে অনেকেই ভিড় করছেন ডাকঘরে।



Thursday, August 20

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব কানাইঘাটের এহসান-ই-এলাহী

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব কানাইঘাটের এহসান-ই-এলাহী


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)-এর উপ-মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কানাইঘাটের কৃতী সন্তান মোঃ এহসান-ই-এলাহী। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এ নিয়োগে সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

মোঃ এহসান-ই-এলাহী বাংলাদেশ সরকারের একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা। জনপ্রশাসন, নীতি প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা, শ্রম ও অভিবাসন শাসন, মানবিক কার্যক্রম এবং সরকারি খাতের সংস্কারে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিব, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

কৌশলগত নেতৃত্ব, সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা, নীতি বাস্তবায়ন, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং দুর্যোগ ও মানবিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

নতুন দায়িত্বে মোঃ এহসান-ই-এলাহী বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মানবিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, মানবিক সমন্বয়, সরকার ও অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিচালনগত কার্যকারিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এহসান-ই-এলাহীর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভে সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

Thursday, August 6

৫৫ বছরের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি, ভালোবাসায় সিক্ত মাওলানা গোলাম ওয়াহিদ

৫৫ বছরের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি, ভালোবাসায় সিক্ত মাওলানা গোলাম ওয়াহিদ


নিজস্ব প্রতিবেদক
:

টানা ৫৫ বছর মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করে দ্বীনি শিক্ষা ও ইসলামের খেদমতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বীরদল আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবীণ আলেম মাওলানা গোলাম ওয়াহিদকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ‘আল-ওয়াহিদ আবনা, ফুজালা, হুফ্ফাজ পরিষদ’ এবং বীরদল এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিলে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, মাওলানা গোলাম ওয়াহিদ দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বীরদল আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, আদর্শবান আলেম ও হাফেজ গড়ে তোলা এবং সমাজে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রচারে নিরলস ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার সুনিপুণ তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অসংখ্য হাফেজ ও আলেম বের হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় শিক্ষা, ইমামতি, খতিব ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষানুরাগী, আদর্শ শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে মাওলানা গোলাম ওয়াহিদের অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তারা তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দ্বীনি খেদমতের ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাইখুল হাদি মাওলানা শফিকুল হক সুরইঘাটী, সিলেটের বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মোশতাক আহমদ খান, শায়খুল হাদিস মাওলানা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী, মুফতি মাসউদ আহমদ (শাহবাগ জামিয়া), মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা মুতাছিম আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ,  বীরদল এন এম একাডেমির সাবেক প্রধান শিক্ষক জার উল্লাহ, বর্তমান প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল করীম, মাওলানা আজমত উল্লাহ, মাওলানা জামিল আহমদ, মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মাওলানা গোলাম ওয়াহিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং সম্মাননার অংশ হিসেবে ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার দীর্ঘ ৫৫ বছরের দ্বীনি খেদমত, শিক্ষা বিস্তার এবং কর্মময় জীবন নিয়ে প্রকাশিত একটি স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সবশেষে দেশ, জাতি ও উম্মাহর কল্যাণ এবং মাওলানা গোলাম ওয়াহিদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও দ্বীনি খেদমতের ধারাবাহিকতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

Thursday, July 23

আলিম বোর্ডে প্রথম, ২৭ দিনেই কোরআন মুখস্থ করেছিলেন মাওলানা আব্দুর রহীম

আলিম বোর্ডে প্রথম, ২৭ দিনেই কোরআন মুখস্থ করেছিলেন মাওলানা আব্দুর রহীম


রমজানের ২৭ দিনেই সম্পন্ন করেন পবিত্র কোরআনের হিফজ; পরে আলিম পরীক্ষায় বোর্ডসেরা হয়ে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় দ্বীনি শিক্ষার খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন।

সেলিম আউয়াল:

মাত্র সাতাশ দিনে পুরো কোরআন শরীফ মুখস্থ করে ফেললেন তিনি। তখন তাঁর বয়স চৌদ্দ বছর, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষা দিয়ে সমগ্র বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। মেধাবী এই মানুষ হচ্ছেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গাছবাড়ি জামিউল উলুম কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা আব্দুর রহীম।

মাত্র সাতাশ দিনে পবিত্র কোরআন হিফজ করার প্রসঙ্গ তুললে মাওলানা আব্দুর রহীম বলেন, এটি আল্লাহর মেহেরবানী। সিলেট নগরীর কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদের দোতলায় বসে কথা হচ্ছিলো পবিত্র রমজানের যোহরের নামাজের পর। পাশে বসা তাঁর ছাত্র বিশিষ্ট পুস্তক ব্যবসায়ী মাওলানা খলিলুর রহমান, হাফেজ মাওলানা মিফতাহুল ইসলাম, মাসিক ভিন্নধারা সম্পাদক জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও ক্বারী আব্দুল বাসিত মিলন।

ব্যক্তিগত জীবনে নিরহংকারী বিনয়ী মাওলানা আব্দুর রহীম আমাদের অনুরোধে তাঁর কোরআন হিফজের বিস্তারিত তুলে ধরলেন-সে বছরটিতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় সেদিনের পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে তিনি প্রথম হয়েছেন। রমজানের ছুটির জন্যে বাড়িতে চলে যান। বাড়িতে বসে জানতে পারেন তাদের দু‘বছরের সিনিয়র মাওলানা আবু সাঈদ (লন্ডনে বাস করছেন অনেক দিন থেকে) এক রমজান মাসে কোরআন হিফজ করে ফেলেছেন। মাত্র এক মাসে কোরআন হিফজ করার বিষয়টি মাওলানা আব্দুর রহীমকে বিস্মিত করে। তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তাঁর বন্ধু ও সহপাঠি পাশের ইউনিয়নের তিনচটি গ্রামের মাওলানা আলা উদ্দিনের সাথে। এতো কম সময়ে কোরআন হিফজ করার বিষয়টি তাঁদেরকে বিস্মিত করে।


সামনে রমজান আসছে। তাঁদেরও ইচ্ছে জাগে যদি এভাবে কোরআন হিফজ করা যেতো। দুই বন্ধু কাউকে কিছু না বলেই নিজেদের বাড়িতে চলে যান। রমজান এসে যায়, মাওলানা আব্দুর রহীম নিজের বাড়িতে বসে কোরআন মুখস্থ করতে শুরু করেন। বাড়িতে বাবা মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব একজন বড় আলেম। বাবাকে তাঁর স্বপ্নের কথা বলেননি। কিন্তু মুখস্ত করার কাজ চালিয়ে যেতে লাগলেন। 

প্রতিদিন এক পারা কোরআন শরীফ মুখস্ত করে পাশের বাড়ির একজন হাফিজ সাহেবের কাছে শুনাতেন। সবই চলছিলো কাউকে কিছুই না জানিয়ে। মাত্র সাতাশ দিন পর বাবা মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব-সহ এলাকাবাসী বিস্ময়ের সাথে জানলেন আব্দুর রহীম পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন। এদিকে তাঁর বন্ধু মাওলানা আলাউদ্দিনও তাঁর মতো কাউকে না জানিয়ে তিনিও হিফজ সম্পন্ন করেছেন। দু‘বন্ধু দু‘বন্ধুকে চমকে দিয়ে জানালেন মাত্র সাতাশ দিনে কোরআন হিফজ করার কথা। মাওলানা আলাউদ্দিন পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী হয়ে যান এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। যুক্তরাজ্যে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

হাফিজ মাওলানা আব্দুর রহীম ১৯৫২ সালের পহেলা মার্চ সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৭ নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের সরদারীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব এবং মাতা কুলসুমা বেগম। গ্রামের মক্তবেই তাঁর পড়ালেখা শুরু হয়। এরপর উমরগঞ্জ প্রাইমারী স্কুলে প্রাইমারী শিক্ষা শেষ করেন। পরবর্তীতে উমরগঞ্জ ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসায় মক্তবে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এই মাদ্রাসায় পাঁচ বছর পড়াশোনা সেরে তিনি গাছবাড়ী জামিউল উলূম কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এই মাদ্রাসা থেকে সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তান মাদ্রাসা এডুকেশন বোর্ড ঢাকা-এর অধীনে ১৯৬২ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম বিভাগে পাশ করেন। ১৯৬৬সালে আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাদ্রাসা বোর্ডে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং একই বছর মাত্র সাতাইশ দিনে পবিত্র কোরআন হিফজ করেন। ১৯৬৮ সালে ফাজিল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। ১৯৭০ সালে একই মাদ্রাসা থেকে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে কামিল (হাদিস) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। 

১৯৭০ সালে কামিল পরীক্ষার পর পরই এতিহ্যবাহী ঝিঙ্গাবাড়ি ফাজিল মাদ্রাসায় সেই সময়ের সুপার মাওলানা হাফিজ আব্দুল আজিজ তাঁর দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাওলানা আব্দুর রহীমকে নিয়োগ দেন। দেড় বছর সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনের পর শ্রদ্ধেয় পিতার বার্ধক্য জনিত অসুস্থতার কারনে চাকুরী হতে অব্যাহতি নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এবং সেই পাকা রাস্তা না থাকায় সর্দারীপাড়া গ্রাম থেকে ঝিংগাবাড়ীতে যাতায়াত একটু সময়ের ব্যাপার ছিলো। ফলে ঝিংগাবাড়ীতে দায়িত্ব পালন করে পিতার খেদমত করাও কঠিন ছিলো। যাহোক, ২৩ জুন ১৯৭৩ সালে পিতার ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ছিলেন। এই সময় স্থানীয় বড়দেশ মাদ্রাসার মুহতামীম ও এলাকাবাসীর অনুরোধে উক্ত মাদ্রাসায় হিফযুল কোরআন-সহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দান করে ছাত্র শিক্ষকদের প্রশংসা অর্জন করেন। 

মাওলানা আব্দুর রহীম ১৯৭৩ সালে ২৩ জুলাই গাছবাড়ী জামিউল উলূম কামিল মাদ্রাসায় সিনিয়র মাওলানা পদে যোগদান করেন। ১৯৮১ থেকে তিরমিযী শরীফ এবং ১৯৮৩ থেকে বুখারী শরিফের খেদমতে তাঁকে নিয়োজিত করা হয়। ১৯৮৬ সালে মুহাদ্দিস এবং ১৯৮৭ সালে তাঁকে সর্ব সম্মতিক্রমে উপাধ্যক্ষ পদের জন্য নির্বাচিত করা হয়। উপাধ্যক্ষের পাশাপাশি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। 

দায়িত্বে দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৪ সালে তাঁকে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ মাদরাসা শিক্ষক নির্বাচন করা হয়। দীর্ঘ ১২ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯৯ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে গাছবাড়ী জামিউল ঊলূম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৩ বছর ২ মাস অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনের পর ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর বয়স ৬০ বছর পূর্তিতে তিনি দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন। মাদরাসা পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী তাঁকে কোনভাবেই স্থায়ী বিদায় না দিয়ে পুণরায় অতিরিক্ত মুহাদ্দিস হিসাবে নিয়োগ দানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এ সিন্ধান্তকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করে ২০১২ সালের ২৪ মার্চ থেকে অতিরিক্ত মুহাদ্দিস হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৮ সালে বাবা-মা একমাত্র ছেলের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ীর প্রখ্যাত আলেম, পীরে কামিল শেখ হযরত মাওলানা নিছার আলীর তৃতীয় কন্যা আবিদা বেগমের সাথে ১৯৬৮ সালের জানুযায়ি মাসে মাওলানা আব্দুর রহীমের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মাওলানা আব্দুর রহীম ৬ সন্তানের জনক। তিন ছেলের এবং তিন মেয়ের প্রত্যেকেই মাদরাসা শিক্ষিত এবং বিবাহিত। ছোট মেয়ে কুরআনে হাফিজ ও দাওয়ায়ে হাদীস পাস। দুই ছেলে কুরআনে হাফেজ। বর্তমানে মাওলানা আব্দুর রহীম আমেরিকায় থাকেন। 

লেখক: প্রাবন্ধিক ও গল্পকার


Friday, July 17

কানাইঘাটে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু

কানাইঘাটে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ব্লকে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ চলবে।

এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বড়চতুল ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে মিলনায়তনে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন বড়চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল হাসানের প্রতিনিধি ও জেলা খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শিব্বির আহমদ, বড়চতুল ইউনিয়ন খেলাফত মজলিসের সভাপতি মামুন আহমদ, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শামীম আহমদ বাদল, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা হবে। এর ফলে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও সেচ সুবিধা, কৃষি বীমা, কৃষিপণ্যের বাজার সংক্রান্ত তথ্য, প্রশিক্ষণ এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়া ও ফসলের রোগবালাই বিষয়ক তথ্য পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ সুবিধার আওতায় শুধু ফসল চাষিরাই নন, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ খামারিরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। অবহিতকরণ সভায় বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে উপজেলার একমাত্র বড়চতুল ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কৃষক কার্ড চালু হলে সরকারি কৃষিসেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে এবং প্রকৃত কৃষকেরা সরাসরি এর সুফল ভোগ করতে পারবেন। তারা আরও বলেন, কৃষকের ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার ফলে সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দ্রুত এবং সঠিকভাবে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আগামী শনিবার থেকে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্লকের সব কৃষককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য দিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে। প্রথম ধাপে বড়চতুল ইউনিয়নের ওই ব্লকে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ জন কৃষককে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে নিবন্ধনকালে কৃষকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তাদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।


Saturday, July 11

গ্লোবাল লিডারশিপ সামিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কানাইঘাটের জয় দাস

গ্লোবাল লিডারশিপ সামিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কানাইঘাটের জয় দাস


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটের তরুণ শিক্ষাবিদ ও নেতৃত্ব বিকাশক জয় দাস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। তিনি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল লিডারশিপ সামিট (GLS) ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

আগামী ১০ ও ১১ জুলাই মালয়েশিয়ার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি (APU)-তে অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন। “Leading Leaders, Lighting Legacies” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশ্বের ১৪টি দেশের ৩৫০-এর বেশি তরুণ প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর ১৭টি লক্ষ্য অর্জনে তরুণ নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য একটি কার্যকর বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।

সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জয় দাস নেতৃত্ব বিকাশ, নেগোশিয়েশন, পাবলিক স্পিকিং, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, সমস্যা সমাধান ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিংসহ সমসাময়িক নেতৃত্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বহুজাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক নেতৃত্বের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে জয় দাসের এই অংশগ্রহণ কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি দেশের তরুণ সমাজের মেধা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনারও স্বীকৃতি। তাঁর এই সাফল্য কানাইঘাটসহ দেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে জয় দাসের অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্বের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি করবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

Thursday, June 18

মহানবীর (সা.) জীবন থেকে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

মহানবীর (সা.) জীবন থেকে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

 


মানব ইতিহাসের সবচেয়ে চমৎকার ভারসাম্যের উদাহরণ হলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি ছিলেন আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা, তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ নেতা। মানবীয় কোনো দুর্বলতা ছাড়াই তিনি ছিলেন একজন অনুকরণীয় মানুষ।

মহানবীর (সা.) সীরাত বা জীবনী পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, মহানবীর জীবন-ভারসাম্য শুধু কোনো তাত্ত্বিক কথা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি বাস্তব জীবনপদ্ধতি। পবিত্র কোরআনের সূরা আহযাবের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মাঝে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবনীতে এই ভারসাম্য ও মধ্যপন্থার অনবদ্য প্রতিফলন ঘটেছে। বিশৃঙ্খল এই পৃথিবীতে কীভাবে নিজের জীবনে স্থিতি ও ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, তার জীবন থেকে এমন ৭টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো:

১. ইবাদত ও জাগতিক দায়িত্বের সমন্বয়

মহানবী (সা.) সবসময় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। ইবাদতের পাশাপাশি তিনি শিখিয়েছেন ধর্ম মানুষের জন্য সহজ, কঠিন কিছু নয়। একবার তিনজন সাহাবী সারাজীবন রোজা রাখা, সারা রাত জেগে নামাজ পড়া এবং বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিলে নবীজী (সা.) তাদের এই ভুল ধারণা সংশোধন করে দেন।

বুখারী শরীফের একটি হাদিসে তিনি বলেন, আমি রোজা রাখি আবার তা ভঙ্গও করি, নামাজ পড়ি এবং ঘুমাাই, আর নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে আমার এই সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।

২. মানুষের অধিকার রক্ষা

জীবনে ভারসাম্য আনার জন্য যার যা প্রাপ্য বা অধিকার, তা সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি। হজরত সালমান ফারসি (রা.) যখন দেখলেন যে হজরত আবু দারদা (রা.) অতিরিক্ত ইবাদত করতে গিয়ে নিজের শরীর ও পরিবারের প্রতি অবহেলা করছেন, তখন তিনি তাকে বাধা দেন। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) সালমান (রা.)-এর এই বুদ্ধিমত্তাকে সমর্থন করে বলেন, তোমার শরীরের যেমন অধিকার আছে, তেমনি তোমার পরিবার এবং অতিথিদেরও তোমার ওপর অধিকার রয়েছে।

৩. দয়া ও কঠোরতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য

রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন দয়ার মূর্ত প্রতীক, তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অবিচল। ব্যক্তিগত কোনো অপমানের জন্য তিনি কখনো প্রতিশোধ নেননি। কিন্তু যখনই কোনো দুর্বল মানুষের অধিকার খর্ব করা হতো কিংবা আল্লাহর নির্ধারিত সীমার অবমাননা হতো, তখন তিনি কঠোর অবস্থান নিতেন।

তার জীবন থেকে শেখা যায় যে, দয়া করার অর্থ সত্যের সাথে আপস করা নয়, আবার দৃঢ় থাকার অর্থ নিষ্ঠুরতা নয়।

৪. কোমলতার সাথে ভুল সংশোধন

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা দেওয়ার মূল পদ্ধতিই ছিল মানুষকে তিরস্কার না করে সংশোধন করে দেওয়া। একবার এক বেদুইন মসজিদে নববীর ভেতরেই প্রস্রাব করে দিলে সাহাবীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কিন্তু নবীজী (সা.) তাদের শান্ত করেন। তিনি অপরাধীর আত্মসম্মান বজায় রেখে তাকে সঠিক নিয়মটি বুঝিয়ে দেন।

বর্তমান সময়ে সন্তান লালন-পালন বা শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও শাস্তি নয় বরং স্নেহের সাথে বোঝানোই হলো নববী আদর্শ।

৫. আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে শোক প্রকাশ

ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক আবেগ-অনুভূতিকে দমন করতে বলে না, বরং তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। নিজের শিশুপুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুর পর মহানবী (সা.)-এর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়েছিল।

তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, প্রিয়জনের বিদায়ে চোখ অশ্রুসিক্ত হতে পারে এবং হৃদয় ব্যথিত হতে পারে, তবে তা যেন ঈমানের গণ্ডি পেরিয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি কোনো ধরনের ক্ষোভ বা হতাশার রূপ না নেয়।

৬. পারিবারিক জীবনে ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতা

পারিবারিক জীবনে মহানবী (সা.) ঘরের মানুষদের থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ ছিলেন না। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সবসময় ঘরের কাজে স্ত্রীদের সাহায্য করতেন এবং সাংসারিক সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতেন। গভীর ভালোবাসার পাশাপাশি পরিবারের সবার মাঝে শতভাগ সমতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতেন তিনি।

৭. কৌশলগত নেতৃত্বে পরিকল্পনা ও আল্লাহর ওপর ভরসা

মহানবী (সা.) ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী মানুষ, কিন্তু তিনি কখনো হঠকারিতা দেখাননি। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় তিনি সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল ও পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী বেছে নিয়েছিলেন, দক্ষ পথপ্রদর্শক ভাড়া করেছিলেন এবং শত্রুকে ফাঁকি দিতে ভিন্ন পথ ব্যবহার করেছিলেন। নিজের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিখুঁত পরিকল্পনা সম্পন্ন করার পরই তিনি গুহার ভেতর সাহাবীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।

অর্থাৎ, নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সঠিক পরিকল্পনার সাথে আল্লাহর ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুলের মেলবন্ধনই হলো প্রকৃত ভারসাম্য।

শেষ কথা

আজকের আধুনিক যুগে যে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের জীবনে শান্তি ও স্থিতি খুঁজছে, তাদের জন্য মহানবী (সা.)-এর জীবনই একমাত্র বাস্তবমুখী পথপ্রদর্শক।

সমাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়েও কীভাবে একজন খাঁটি বিশ্বাসী হওয়া যায়, অহংকারী না হয়েও কীভাবে একজন শক্তিশালী নেতা হওয়া যায় এবং অন্যের দ্বারা প্রতারিত না হয়েও কীভাবে দয়ালু হওয়া যায়—তার অনন্য এক রূপরেখা পাওয়া যায় মহানবীর এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনদর্শনে।

Tuesday, June 16

শিশুকে নামাজে আগ্রহী করার ১০ উপায়

শিশুকে নামাজে আগ্রহী করার ১০ উপায়

 


শাহাদাহ বা কালিমার পর ইসলামে নামাজের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব দিতে হবে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং অভ্যাসে পরিণত করা প্রত্যেক মা-বাবার জন্য জরুরি।

শিশুরা যেন নামাজকে শুধু মা-বাবার আদেশ বা বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখে, বরং তাদের মনে যেন স্রষ্টার সঙ্গে কথা বলার গভীর আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় তা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। সন্তানকে কীভাবে নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলবেন, সে বিষয়ে ১০টি পরামর্শ তুলে ধরা হলো—

১. নিজেই উদাহরণ হোন

শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তারা যা দেখে তা-ই শেখে। তাই আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অজু করা এবং নামাজের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়গুলো আপনার সন্তানকে দেখতে দিন। আপনি যখন নামাজকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে গুরুত্ব দেবেন, আপনার সন্তানও বড় হওয়ার সাথে সাথে সেই শিক্ষাটিই মনে ধারণ করবে। তাকে বলতে পারেন,আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় হয়ে গেছে, দেরি করা যাবে না।

২. ছোট থেকেই শুরু করুন

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়স থেকেই নামাজের নির্দেশ দাও। ১০ বছর বয়সে তারা নামাজ না পড়লে শাসন করো। যদিও সাত বছরের আগে নামাজ ফরজ নয়, তবুও ছোটবেলা থেকেই বাড়ির পরিবেশ এমন রাখা উচিত যেন তারা নামাজের গুরুত্ব বুঝতে পারে।

৩. নামাজের নির্দিষ্ট স্থান বা মুসল্লা

সম্ভব হলে বাড়িতে নামাজের জন্য একটি আলাদা ঘর বা কক্ষের নির্দিষ্ট কোণ বরাদ্দ রাখুন। এতে শিশুরা বুঝবে যে নামাজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের শেখাতে হবে যে এই জায়গাটি শুধু নামাজের জন্য এবং এটি সবসময় পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখতে হবে।

৪. পুরস্কারের ব্যবস্থা

শিশুদের নামাজের গুরুত্ব বুঝান এবং তারা নামাজের প্রতি আগ্রহী হলে এবং নিয়মিত নামাজ পড়লে তাদেরকে পুরস্কার দিন।

৫. সাত বছর বয়সে নামাজের উৎসব

আপনার সন্তানের বয়স যখন সাত বছর পূর্ণ হবে, তখন তার জন্য একটি ছোটখাটো প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেন। তাকে নতুন জায়নামাজ, টুপি, হিজাব বা তসবিহ উপহার দিন। এতে সে নিজেকে বড় মনে করবে এবং গর্বের সাথে নিয়মিত নামাজ পড়ার প্রতি আগ্রহী হবে।

৬. আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরুন

আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে নামাজ শুধু একটি শারীরিক কসরত বা প্রথা মনে হতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে আল্লাহর অসীম কুদরত এবং করুণার গল্প শোনান। আল্লাহ যে আমাদের সব দিয়েছেন এবং আমাদের রক্ষা করেন—এই বোধ তাদের মনে আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সংযোগ তৈরি করবে।

৭. প্রিয় নবীকে (সা.) আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করা

সন্তানের সামনে নিয়মিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী বা সিরাত নিয়ে আলোচনা করুন। তিনি আমাদের জন্য যে রোল মডেল, তা গল্পের মাধ্যমে বুঝিয়ে বলুন। যখন তারা প্রিয় নবীকে ভালোবাসতে শিখবে, তখন স্বতস্ফূর্তভাবেই তারা নবীজির মতো নামাজ আদায় করতে চাইবে।

৮. ধীরে ধীরে শুরু করুন

হঠাৎ করেই দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে শুরু করুন। প্রথমে এক ওয়াক্ত, এরপর দুই ওয়াক্ত—এভাবে অভ্যস্ত করালে তাদের ওপর কোনো মানসিক চাপ তৈরি হবে না।

৯. ধারাবাহিকতা বজায় রাখা

অনেক সময় শিশুরা অলসতা করতে চায় বা নামাজ পড়তে অনীহা দেখায়। বিশেষ করে ১০ বছর বয়স হয়ে গেলে এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। মা-বাবা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো শত ব্যস্ততার মাঝেও যেন তারা নামাজ মিস না করে সেদিকে নজর রাখা। অভ্যাসে পরিণত করার জন্য ধারাবাহিকতার কোনো বিকল্প নেই।

১০. জামাতে বা পরিবারের সাথে নামাজ পড়া

পরিবারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির জন্য দিনে অন্তত একবার সবাই মিলে জামাতে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করুন। বাবা ইমামতি করবেন এবং ছেলে সন্তান বড় হলে তাকে আজান দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া নিয়মিত জুমার নামাজ এবং ঈদের নামাজে তাদের সাথে নিয়ে যান। বড় জামাতে সবাইকে একসাথে নামাজ পড়তে দেখলে তাদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয় এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।

Saturday, June 13

বিদায় জনপদের রূপকার: হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী

বিদায় জনপদের রূপকার: হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী


এহসানুল হক জসীম :

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী আর আমাদের মাঝে নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১টা ৩০ মিনিটে সিলেট নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

তাঁর মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং কানাইঘাট-জকিগঞ্জ তথা সমগ্র সিলেট অঞ্চলের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটল। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর পরিচয় একজন রাজনীতিবিদ বা সংসদ সদস্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে শিক্ষা, সমাজসেবা, ধর্মীয় নেতৃত্ব ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিস্তৃত ছিল।

তালবাড়ী থেকে নেতৃত্বের শিখরে

কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। তাঁর পিতা মাওলানা আবদুল হক চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত আলেম ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। শৈশব থেকেই ধর্মীয় ও নৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল সম্পন্ন করে তিনি এমসি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বিত ধারা তাঁর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বকে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতা।

ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ

ষাট ও সত্তরের দশকে তিনি সিলেট অঞ্চলের ছাত্ররাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। ইসলামী ছাত্রসংঘের জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি নেতৃত্বের যে দক্ষতা দেখিয়েছিলেন, পরবর্তীতে তা জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হয়।জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক ও অঞ্চল পরিচালকের দায়িত্বসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি আদর্শ ও জনকল্যাণের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে এক স্বর্ণযুগ

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কে অনেকেই সিলেট-৫ আসনের উন্নয়নের স্বর্ণযুগ হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিনের অবহেলিত কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে এ সময় যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসে।

উন্নয়নের স্থপতি

একসময় কানাইঘাট ছিল যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত দিক থেকে পিছিয়ে থাকা একটি জনপদ। কাঁচা রাস্তা, বিদ্যুতের অভাব এবং বিচ্ছিন্ন জনজীবন ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা।

সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এই চিত্র বদলে দিতে নিরলসভাবে কাজ করেন।

তাঁর সময়েই ঐতিহাসিক বোরহানউদ্দিন সড়ক আধুনিক রূপ পায়। অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণ, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে বদলে যায় জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা। সুরইঘাট অঞ্চলের যোগাযোগ উন্নয়ন এবং জকিগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক নির্মাণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিদ্যুতায়নেও তাঁর অবদান ছিল অসামান্য। তাঁর সময়েই কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুতের আলো পৌঁছে যায়, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনে।

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এক মহানায়ক

রাজনীতির বাইরেও তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবে।তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন।

মিরাবাজার শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল, পাঠানটুলা শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, আল-আমীন জামেয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জালালাবাদ ইন্টারন্যাশনাল আলিম মাদ্রাসা এবং জালালাবাদ কলেজসহ বহু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। নিজ গ্রাম তালবাড়ীতেও তিনি ব্যক্তিগত জমি দান করে একটি বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, যা আজও তাঁর দূরদর্শী চিন্তার সাক্ষ্য বহন করছে।

কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা

শিক্ষা ও রাজনীতির পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তাও। সিলেটের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আল-হামরা শপিং সিটির প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তাদের একজন হিসেবে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শত শত মানুষের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

প্রাজ্ঞ আলেম ও মুফাসসির

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন উচ্চমানের একজন আলেম ও মুফাসসিরে কুরআন। তাঁর তাফসির ও বয়ানে ছিল জ্ঞানের গভীরতা, প্রজ্ঞা ও সহজ উপস্থাপনা। তিনি কখনো আবেগনির্ভর জনপ্রিয়তার পথ বেছে নেননি; বরং যুক্তি, জ্ঞান ও কুরআনের আলোকে মানুষকে পথ দেখিয়েছেন। তাঁর বয়ান শুনে উপকৃত হয়েছেন হাজারো মানুষ।

সততা ও সৌজন্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক

রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ছিল না। ক্ষমতার দম্ভ নয়, বিনয় ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। দল-মত নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাও তাঁর সততা, শালীনতা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করতেন।সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায়ও তিনি ছিলেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কিছু স্মৃতি, কিছু অনুভব

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল ও মানবিক। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, অসুস্থদের দেখতে যাওয়া কিংবা জানাজায় শরিক হওয়া ছিল তাঁর স্বভাবের অংশ। অনেকের মতো লেখকের জীবনেও তিনি রেখে গেছেন অমলিন স্মৃতি। একজন অভিভাবকের মতো তিনি তরুণদের উৎসাহ দিতেন, খোঁজখবর নিতেন এবং সম্ভাবনাময় মানুষদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করতেন।

জনপদের হৃদয়ে চিরজাগরুক

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যু একটি যুগের অবসান। তবে তাঁর কর্ম, সততা, উন্নয়ন ভাবনা, শিক্ষাবিস্তার এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে মৃত্যুর পরও জীবন্ত রাখবে। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের অসংখ্য রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু, বিদ্যুতের আলো এবং মানুষের স্মৃতিতে তিনি বেঁচে থাকবেন দীর্ঘকাল।

জনপদের এই রূপকার বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আলোকিত পথচিহ্ন আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে বহু বছর ধরে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। আমিন।