Showing posts with label ফিচার. Show all posts
Showing posts with label ফিচার. Show all posts

Thursday, June 18

আখের রস না কি ডাবের পানি, গরমে কোনটি বেশি উপকারী?

আখের রস না কি ডাবের পানি, গরমে কোনটি বেশি উপকারী?

 


যখন গরম চরমে ওঠে, তখন আমরা বেশিরভাগই ঠান্ডা ও সতেজকারক কিছুর দিকে হাত বাড়াই। গ্রীষ্মের দুটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়- আখের রস এবং ডাবের পানি তাপমাত্রা বাড়লেই সর্বত্র পাওয়া যায়। উভয়ই শরীরকে আর্দ্র রাখে, উভয়ই শীতল অনুভূতি দেয় এবং উভয়ই প্যাকেটজাত চিনিযুক্ত পানীয়ের চেয়ে অনেক ভালো। কিন্তু আপনি যদি শরীরকে আর্দ্র রাখা, হজম বা সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য একটু বেশি সচেতনভাবে কোনো একটি বেছে নিতে চান, তবে এই দুটির মধ্যে পার্থক্যটি বোঝা জরুরি হয়ে পড়ে। যদিও আপাতদৃষ্টিতে দুটিকে একই রকম মনে হতে পারে, তবে এদের পুষ্টিগুণ এবং শরীরে প্রভাব ফেলার ধরন ভিন্ন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, গ্রীষ্মের জন্য আপনার কোন পানীয়টি বেছে নেওয়া উচিত-

আর্দ্রতা: কোনটি ভালোভাবে পূরণ করে?

‘স্পোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা অনুসারে, ডাবের পানিতে পটাসিয়াম এবং সোডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট রয়েছে যা ঘামের মাধ্যমে হারানো তরলের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে, ফলে এটি শরীরকে পুনরায় আর্দ্র করার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক স্পোর্টস ড্রিংকের সমতুল্য। এই কারণেই প্রচণ্ড গরমে বা শারীরিক পরিশ্রমের পরে ডাবের পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আখের রস সতেজকারক হলেও, এটি মূলত প্রাকৃতিক চিনির একটি উৎস এবং এটি একই রকম ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য প্রদান করে না।

চিনির পরিমাণ: যা জানা জরুরি

EAS জার্নাল অফ হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, আখের রস প্রাকৃতিক মিষ্টি হওয়া সত্ত্বেও, এর উচ্চ সুক্রোজ উপাদানের কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা লক্ষণীয়ভাবে বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই আখের রস পান করলে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি পাওয়া যায়, কিন্তু এটি নিয়মিত পানের জন্য আদর্শ নাও হতে পারে।

ডাবের পানিতেও প্রাকৃতিক চিনি থাকে, তবে তা কম পরিমাণে, যার ফলে এটি নিয়মিত পানের জন্য একটি হালকা এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শীতল অনুভূতি: কোনটি বেশি হালকা?

উভয় পানীয়কেই শীতল বলে মনে করা হয়, তবে ডাবের পানি সাধারণত পেটের জন্য বেশি সহজপাচ্য। এটি হালকা অনুভূত হয়, বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে এবং এটি পেট ভারি করার সম্ভাবনা কম। আখের রস কখনও কখনও কিছুটা ঘন মনে হতে পারে, বিশেষ করে যদি বেশি পরিমাণে বা ভরা পেটে পান করা হয়।

পুষ্টিগুণ: শুধু সতেজতার চেয়েও বেশি

ডাবের পানি ইলেক্ট্রোলাইট, অল্প পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে এবং শরীরের সামগ্রিক জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এটি সুপারিশ করা হয়।

আখের রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উদ্ভিদ যৌগ থাকে। অ্যানালস অফ ফাইটোমেডিসিন-এ প্রকাশিত ২০২৪ সালের একটি পর্যালোচনা অনুসারে, আখের রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত ফেনোলিক যৌগ রয়েছে, কিন্তু পুষ্টির দৃষ্টিকোণ থেকে এটি মূলত একটি চিনি-ভিত্তিক পানীয়।

ডাবের পানি বনাম আখের রস: গ্রীষ্মের জন্য কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

দৈনিক শরীরকে আর্দ্র রাখার জন্য ডাবের পানি আদর্শ, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বা ঘামের পরে।

আখের রস মাঝে মাঝে শক্তি বাড়ানোর জন্য বেশি কার্যকর, বিশেষ করে যদি আপনি ক্লান্ত বোধ করেন বা তাৎক্ষণিক সতেজতার প্রয়োজন হয়।

আপনি যদি স্বাস্থ্যকর গ্রীষ্মকালীন পানীয় খুঁজে থাকেন, তবে ডাবের পানিই সেরা পছন্দ। এটি কার্যকরভাবে শরীরকে আর্দ্র রাখে, শরীরের জন্য হালকা এবং নিয়মিত পান করা যায়। আখের রস সতেজকারক এবং উপভোগ্য হলেও, এর উচ্চ চিনির পরিমাণের কারণে পরিমিত পরিমাণে পান করাই ভালো।

অতিরিক্ত ডিম খেলে শরীরে কী ঘটে?

অতিরিক্ত ডিম খেলে শরীরে কী ঘটে?

 


সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে অন্যতম হলো ডিম, যা সহজেই প্রতিদিনের খাবারে রাখা যায়। এতে রয়েছে উচ্চ মানের প্রোটিন এবং ভিটামিন এ, ডি, ও বি১২-এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, সঙ্গে সেলেনিয়াম ও জিঙ্কের মতো খনিজ পদার্থ। নিয়মিত ডিম খেলে তা পেশী গঠনে সহায়তা করে, পেট ভরার অনুভূতি বাড়ায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে। এত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও খুব বেশি ডিম খাওয়া সবসময় ভালো নয়। যেকোনো খাবারের মতো ডিমও অতিরিক্ত খেলে হজমে অস্বস্তি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পরিমাণ ও রান্নার পদ্ধতির দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

অতিরিক্ত ডিম কীভাবে হজমে প্রভাব ফেলে?

ডিমে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর প্রোটিন থাকে। বেশি ডিম খেলে তা হজমতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের শরীর ফল, শাক-সবজি এবং শস্যদানা থেকে পর্যাপ্ত আঁশ ছাড়া অতিরিক্ত প্রোটিন হজম করলে তা পেট ফাঁপা, গ্যাস, অ্যাসিডিটি এবং খাওয়ার পর ভারী অনুভূতির মতো সমস্যার কারণ হতে পারে।

কারও কারও ক্ষেত্রে ডিমে হালকা অ্যালার্জি থাকতে পারে। এর ফলে বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা বা অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ডিম খাওয়ার পর যদি আপনি এই সমস্যাগুলো লক্ষ্য করেন, তবে ডিম খাওয়া কমিয়ে দিলে বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে উপকার হতে পারে।

অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যা

* অতিরিক্ত ডিম খেলে পেট ফাঁপা এবং পেটে অস্বস্তি হতে পারে, বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি সংবেদনশীল তাদের ক্ষেত্রে।

* কারও কারও ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব বা ত্বকে হালকা জ্বালাপোড়ার মতো অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

* প্রোটিনের জন্য ডিমের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করলে খাদ্যতালিকায় পুষ্টির বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে।

* যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগ আছে, তাদের ডিম খাওয়া সীমিত করার প্রয়োজন হতে পারে।

* বেশি পরিমাণে মাখন, পনির বা প্রক্রিয়াজাত মাংস দিয়ে ডিম রান্না করলে খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

দিনে কয়টি ডিম খাওয়া নিরাপদ

দিনে কয়টি ডিম খাবেন তা আপনার বয়স, জীবনযাপনের ধরন, রোগের ইতিহাস এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। পুষ্টিবিদদর মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা সুষম খাদ্যের অংশ হিসাবে সপ্তাহে প্রায় তিন থেকে চারবার নিরাপদে দিনে একটি করে ডিম খেতে পারেন।

শিশুরা সাধারণত প্রতিদিন একটি ডিম খেতে পারে, কারণ এটি প্রোটিন এবং পুষ্টি সরবরাহ করে যা সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করে। যাদের উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। প্রোটিন, ফল, শাক-সবজি এবং শস্যদানা মিশ্রিত একটি সুষম খাদ্যই সার্বিক সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।

ডিম রান্নার স্বাস্থ্যকর উপায় বেছে নিন

আপনি কীভাবে ডিম রান্না করছেন, সেটিও একটি বড় বিষয়। খুব বেশি মাখন, ক্রিম বা চিজ ব্যবহার করলে ডিম ভারী হয়ে যেতে পারে এবং হজম করা কঠিন হতে পারে। এর পরিবর্তে অল্প তেলে ডিম সেদ্ধ, পোচ বা হালকা করে স্ক্র্যাম্বল করলে তা হালকা এবং স্বাস্থ্যকর থাকে।

Tuesday, June 16

প্রদাহ থেকে হতে পারে এই ৩ রোগ, যেভাবে সুস্থ থাকবেন

প্রদাহ থেকে হতে পারে এই ৩ রোগ, যেভাবে সুস্থ থাকবেন

 


ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদরোগের নেপথ্যে একটি পরিচিত কারণ রয়েছে, সেটি হলো আমাদের বাড়তি ওজন। যে কারণে অনেকেই মনে করেন ওজন কমালে বেশিরভাগ বিপাকীয় স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যদিও স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা অবশ্যই সহায়ক, তবে আধুনিক গবেষণা দেখাচ্ছে যে পর্দার আড়ালে আরেকটি কারণ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেটি হলো দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ। বিপাকীয় প্রদাহ হলো মৃদু, দীর্ঘস্থায়ী এবং নীরব। সাধারণত অনুভব করা যায় না, কিন্তু এটি ধীরে ধীরে শরীরের শর্করা প্রক্রিয়াজাতকরণ, চর্বি জমা করা এবং রক্তনালী রক্ষা করার কাজকে প্রভাবিত করে।

লিভার, রক্তে শর্করা এবং হৃদপিণ্ড কীভাবে সম্পর্কিত?

ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদরোগ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই রোগগুলো একসঙ্গে বিকশিত হয় কারণ এদের বিপাকীয় পথগুলো একই। এই প্রক্রিয়ায় আমাদের যকৃত একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। শরীর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিশোধিত শর্করা, চিনি এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি নিয়মিত গ্রহণ করলে যকৃত এই অতিরিক্ত শক্তিকে চর্বিতে রূপান্তরিত করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে যকৃতের কোষগুলোতে চর্বি জমা হতে থাকে, যা ফ্যাটি লিভার রোগের কারণ হয়।

ফ্যাটি লিভার শুধু চর্বিই জমা করে না, এটি এমন রাসায়নিক সংকেতও নির্গত করে যা সারা শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে তোলে। এই প্রদাহজনক সংকেতগুলো ইনসুলিনের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করে, ফলে শরীরের পক্ষে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স যত বাড়তে থাকে, অগ্ন্যাশয়কে তত বেশি কাজ করতে হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই প্রদাহজনক প্রক্রিয়াগুলো রক্তনালীর ভেতরের আস্তরণকে প্রভাবিত করে। এর ফলে ধমনীগুলো ক্ষতি এবং প্লাক গঠনের জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

আমরা যে খাবার খাই এবং যেভাবে জীবনযাপন করি, তা শরীরের প্রদাহের মাত্রার ওপর শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। সঠিকভাবে খাবার গ্রহণ করা হলে তা শরীরকে শান্ত করতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, পরিশোধিত ময়দার তৈরি খাবার এবং ঘন ঘন চিনিযুক্ত পানীয় প্রদাহ বাড়িয়ে দিতে পারে।

এই খাবারগুলো রক্তে শর্করা এবং ইনসুলিনের মাত্রা বারবার বাড়িয়ে দেয়, যা ধীরে ধীরে লিভারে চর্বি জমা করে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সকে আরও খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, শাক-সবজি, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম, বীজ এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবার ভারসাম্যপূর্ণ বিপাকীয় পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই খাবারগুলো ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উপকারী চর্বি সরবরাহ করে যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। যা প্রদাহ কমানোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

এ কারণেই আধুনিক পুষ্টি নির্দেশিকাগুলো শুধুমাত্র ক্যালোরি গণনার চেয়ে খাবারের গুণমানের ওপর জোর দেয়। শুধুমাত্র ওজন নিয়ে কথা বললে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিপাকীয় রোগ শুধুমাত্র অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আপনি প্রদাহ মোকাবিলার জন্য ছোট ও সাধারণ পরিবর্তনের ওপর মনোযোগ দিতে পারেন, যা কেবল দৈনন্দিন অভ্যাস এবং দীর্ঘমেয়াদী উপকারে আসে।

প্রদাহ দূর করতে কী করবেন

প্রোটিন গ্রহণ বাড়ান: ভালো মানের প্রোটিন যেমন মসুর ডাল, শিম, সয়া পণ্য, ডিম, দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম এবং বীজ খাদ্যতালিকায় যোগ করুন। এই খাবারগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে এবং পেশীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট সীমিত করুন: সাদা ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার, চিনিযুক্ত মিষ্টি এবং মিষ্টি পানীয় কমালে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বারবার বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করা যায়।

প্রতিটি খাবারে ফাইবার যোগ করুন: শাক-সবজি, ফল, গোটা শস্য এবং ডাল অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য যোগায় এবং ক্ষুধা ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট অন্তর্ভুক্ত করুন: বাদাম, বীজ, অলিভ অয়েল এবং তৈলাক্ত মাছে এমন ফ্যাট থাকে যা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং প্রদাহ কমায়।

শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন: নিয়মিত নড়াচড়া ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে এবং লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এমনকী প্রতিদিন হাঁটলেও অনেকটা পরিবর্তন আসতে পারে।

ঘুমের যত্ন নিন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন: অপর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ প্রদাহ সৃষ্টিকারী হরমোন বাড়াতে পারে এবং বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই আপনার ঘুমের যত্ন নিন ও মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

Monday, June 15

শুধু ত্বক নয়, সূর্যের ক্ষতি থেকে চুলও বাঁচাবে সানস্ক্রিন

শুধু ত্বক নয়, সূর্যের ক্ষতি থেকে চুলও বাঁচাবে সানস্ক্রিন

 


গরমে ত্বকের যত্নে আমরা সবাই সানস্ক্রিন ব্যবহার করি, কিন্তু একই রোদের নিচে থাকা চুলের সুরক্ষার কথা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।

ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুধু ত্বক নয়, প্রতিদিন চুলেরও মারাত্মক ক্ষতি করছে। রোদের তাপে কালো চুল ধীরে ধীরে তামাটে হয়ে যাওয়া, রুক্ষ ও প্রাণহীন দেখায়,মূলত অতিরিক্ত সূর্যালোকের প্রভাব। তাই এখন চুলের জন্যও দরকার এসপিএফ বা সান প্রোটেকশন।

সূর্যের রশ্মি কীভাবে চুলের ক্ষতি করে

চুল মূলত কেরাটিন নামের একটি শক্ত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এই প্রোটিনই চুলকে শক্তি ও নমনীয়তা দেয়। কিন্তু তীব্র রোদের ইউভি রশ্মি কেরাটিনের বন্ধনকে দুর্বল করে দেয়। ফলে চুল তার স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা হারায় এবং সহজেই ভেঙে যায়।

শুধু তাই নয়, সূর্যের তাপ চুলের ভেতরের প্রাকৃতিক তেল এবং আর্দ্রতা শুষে নেয়। এর ফলে চুল ধীরে ধীরে শুষ্ক, রুক্ষ এবং প্রাণহীন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে চুলের প্রাকৃতিক মেলানিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে কালো চুল ধীরে ধীরে বিবর্ণ বা তামাটে রং ধারণ করে।

বিশেষ করে যাদের চুলে রং, হাইলাইট বা ডাই করা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতি আরও দ্রুত হয়। রোদের প্রভাবে চুলের রং ফিকে হয়ে যায় এবং চুল আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

বর্তমানে চুলের সুরক্ষার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের হেয়ার সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। এগুলো মূলত পাউডার, স্প্রে এবং ক্রিম তিন ধরনের হয়ে থাকে।

পাউডার সানস্ক্রিন সাধারণত মাথার তেলতেলে ভাব কমিয়ে ভলিউম বাড়াতে সাহায্য করে। স্প্রে সানস্ক্রিন দ্রুত ব্যবহারযোগ্য এবং রুক্ষ চুলে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে। অন্যদিকে ক্রিম বা লোশন টাইপ সানস্ক্রিন মাথার ত্বককে গভীরভাবে সুরক্ষা দেয় এবং ইউভি রশ্মির ক্ষতি কমায়।

রোদ থেকে চুল বাঁচানোর উপায়

রোদে বের হওয়ার আগে চুলের সঠিক যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। বাইরে যাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে এসপিএফ যুক্ত লিভ-অন কন্ডিশনার বা হালকা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করা উচিত। এরপর এসপিএফ প্রোটেকশন স্প্রে ব্যবহার করলে চুলের ওপর একটি অদৃশ্য সুরক্ষার স্তর তৈরি হয়, যা সূর্যের ক্ষতি কমায়।

এছাড়া ফিজিক্যাল প্রোটেকশনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। চড়া রোদে ছাতা ব্যবহার করা, হালকা সুতির স্কার্ফ বা টুপি পরা চুলকে সরাসরি ইউভি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। এই সহজ অভ্যাসগুলো ধুলাবালি ও দূষণ থেকেও চুলকে বাঁচায়।

চুলে যত্নে ঘরোয়া উপাদান

রোদে ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে পুনরায় প্রাণবন্ত করতে সপ্তাহে অন্তত একদিন হাইড্রেটিং হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। দামি প্রসাধনী না হলেও ঘরোয়া উপাদান যেমন টকদই, মধু, ডিম এবং অলিভ অয়েল চুলের হারানো আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এছাড়া মেহেদি চুলের ওপর একটি প্রাকৃতিক স্তর তৈরি করে, যা ধুলোবালি, দূষণ এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চুলকে রক্ষা করে।

সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার চুলে মেহেদি ব্যবহার করা ভালো। আগে থেকে তেল না দিয়ে পরিষ্কার চুলে ৪ ঘণ্টা মেহেদি রেখে দিলে এটি চুলকে ভালোভাবে কভার করে। এরপর শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং পরদিন শ্যাম্পু করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো চুলকে গভীরভাবে পুষ্টি দেয় এবং রুক্ষতা কমায়। নিয়মিত ব্যবহারে চুল আবার নরম ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

চুল আমাদের সৌন্দর্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু আমরা অনেক সময় এর সুরক্ষাকে অবহেলা করি। শুধু ত্বক নয়, চুলের জন্যও প্রয়োজন নিয়মিত সুরক্ষা ও যত্ন। তাই এখন থেকেই রোদে বের হওয়ার আগে ত্বকের পাশাপাশি চুলের এসপিএফ নিয়েও সচেতন হওয়া জরুরি।

সূত্র: ভোগ, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হেলথশটস

Wednesday, January 7

নতুন বছরে শরীরে শক্তি বজায় রাখতে যে ৫ পরিবর্তন আনবেন

নতুন বছরে শরীরে শক্তি বজায় রাখতে যে ৫ পরিবর্তন আনবেন

 


নতুন বছরের শুরুতে আমরা বড় বড় অনেক লক্ষ্য ঠিক করি। যেমন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, বেশি ব্যায়াম করা, ভালো ঘুমানো। কিন্তু যখন সারাদিন সতেজ ও ক্লান্তিহীন থাকার জন্য কী করতে হবে, সেকথা আমরা খুব কমই ভেবে থাকি। অতিরিক্ত কফি বা উচ্চ মাত্রার চিনির মতো দ্রুত সমাধানের পেছনে না ছুটে, অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এখন ধারাবাহিকতা, পুষ্টি এবং সময় নির্ধারণের ওপর জোর দেন। দৈনন্দিন শক্তির মাত্রা উন্নত করার জন্য ৫টি খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জেনে নিন-

১. অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে আনুন

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার সুবিধা, শেলফ লাইফ এবং তাৎক্ষণিক তৃপ্তির জন্য তৈরি করা হয়, কিন্তু এ ধরনের খাবার স্থিতিশীল শক্তি বজায় রাখতে যথেষ্ট নয়। প্যাকেটজাত রুটি, প্রোটিন বার, স্বাদযুক্ত দই, রেডি স্মুদি, মিষ্টি কফির মতো খাবারে ফাইবার কম এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। এতে অতিরিক্ত চিনিও থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিয়ে তার বদলে স্বাস্থ্যকর কিছু খাওয়ার অভ্যাস করুন।

২. উচ্চ প্রোটিনযুক্ত নাস্তাকে অগ্রাধিকার দিন

জ্যাম, চিনিযুক্ত সিরিয়াল, পেস্ট্রি ইত্যাদির মতো অনেক সাধারণ নাস্তায় প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে কিন্তু প্রোটিন এবং ফাইবার থাকে না। যদিও এগুলো দ্রুত শক্তির উৎস হতে পারে, তবে এই বৃদ্ধি খুব কমই স্থায়ী হয়। প্রোটিন সমৃদ্ধ নাস্তা হজম প্রক্রিয়া ধীর করতে, রক্তে শর্করার পরিমাণ স্থিতিশীল করতে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ডিম, টক দই, বিনস বা টোফু স্ক্র্যাম্বলের মতো সহজ খাবার বেছে নিতে পারেন।

৩. সবুজ শাক-সবজি খান

প্রতিটি খাবারে সবুজ শাক-সবজি যোগ করা উচ্চাভিলাষী শোনাতে পারে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদী শক্তি এবং স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী অভ্যাসসের মধ্যে একটি। পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি ফাইবার, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম এবং প্রদাহ-বিরোধী যৌগ সমৃদ্ধ। গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন একবার পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি খেলেও মস্তিষ্কের অবক্ষয় ধীর হয়ে যায়।

৪. প্রতি খাবারে তিন ভাগ ফল বা সবজির লক্ষ্য রাখুন

এই অভ্যাসটি সীমাবদ্ধতা থেকে সংযোজনের দিকে মনোযোগ পরিবর্তন করে। কী বাদ দেবেন তা জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে আরও কী যোগ করতে পারেন সেদিকে মনোযোগী হতে পারবেন। প্রতি খাবারে তিন ভাগ ফল বা সবজির ব্যবহার আপনাকে সারাদিন ধরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

৫. আগেভাগে রাতের খাবার খান

দেরিতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস আছে অনেকেরই। বিশেষ করে দীর্ঘ কর্মদিবসের পর দ্রুত রাতের খাবার খাওয়া অনেকের জন্যই সম্ভব হয়ে ওঠে না। যার ফলে হজম, ঘুম ইত্যাদিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সম্ভব হলে বিকেল ৫টা বা ৬টার দিকে (অথবা কমপক্ষে ৭টার মধ্যে) রাতের খাবার শেষ করার লক্ষ্য রাখুন।

অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, সতর্ক বিশেষজ্ঞদের

অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, সতর্ক বিশেষজ্ঞদের

 


মানবদেহের সুস্থতা ও স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ঘুমের গুরুত্ব কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। পর্যাপ্ত ঘুম শুধু শারীরিক বিশ্রামই দেয় না, বরং হরমোনের ভারসাম্য, বিপাকক্রিয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

ভারতের বিখ্যাত পুষ্টিবিদ ‘দীপশিখা জৈন’ জানান, নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি শরীরে একাধিক জটিল সমস্যা ডেকে আনতে পারে, যার অনেকগুলোই শুরুতে চোখে পড়ে না। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। না হলে নীরবে তৈরি হতে থাকে জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি। যেমন-

শরীরে প্রদাহ বেড়ে যায়

ঘুমের অভাবের সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর প্রভাবগুলোর একটি হলো প্রদাহের মাত্রা বৃদ্ধি। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইনের উৎপাদন বেড়ে যায়, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। দীর্ঘদিন এমন অবস্থা চললে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে

হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য

ঘুমের সময়ই মূলত পাচনতন্ত্র বিশ্রাম পায় এবং নিজেকে পুনর্গঠনের সুযোগ পায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে অন্ত্রে বর্জ্য পদার্থের চলাচল ধীর হয়ে যায়, যার ফলে সকালে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

নিয়মিত কম সময় ঘুমাতে থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোন ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে শরীরকে ইনসুলিন প্রতিরোধী করে তোলে। ফলস্বরূপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

ঘুমানোর ভঙ্গিও স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে​​​​​

সতর্কতা

শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমানোর ভঙ্গিও স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই নিজের শরীরের সংকেত বুঝে ঘুমানোর ভঙ্গি নির্বাচন করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

তাই সুস্থ থাকতে শুধু খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়াম নয়, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ ভালো ঘুমই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার অন্যতম চাবিকাঠি।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Friday, January 2

শীতের সবুজ মটরশুঁটি সারা বছর রাখার সহজ কৌশল

শীতের সবুজ মটরশুঁটি সারা বছর রাখার সহজ কৌশল

 


শীত এলেই বাজার ভরে ওঠে টাটকা সবুজ মটরশুঁটিতে। মিষ্টি স্বাদ আর নরম দানার জন্য এই সবজি ভাজি থেকে শুরু করে পোলাও-ফ্রায়েড রাইস-সবখানেই আলাদা মাত্রা যোগ করে। শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও মটরশুঁটি সমৃদ্ধ। এতে থাকা আয়রন, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ ও কপার শরীরকে শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে। শীতকালে কম দামে ভালো মানের মটরশুঁটি পাওয়ায় অনেকেই এখনই কিনে দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করতে চান। তবে সঠিক পদ্ধতি না জানলে রং ও স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে সহজেই মটরশুঁটি দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়।

এবার একটি পাত্রে পানি ফুটাতে দিন। পানি ফুটে উঠলে তাতে সামান্য চিনি (প্রায় দুই চা চামচ) যোগ করুন। এই চিনি মটরের স্বাভাবিক সবুজ রং ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফুটন্ত পানিতে ধোয়া মটরশুঁটি দিয়ে ঠিক দুই মিনিট রাখুন-এর বেশি নয়। এতে মটর হালকা সেদ্ধ হবে, কিন্তু নরম হয়ে যাবে না।

দুই মিনিট পরই দ্রুত মটরশুঁটি তুলে নিয়ে ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে দিন। এতে রান্না প্রক্রিয়া থেমে যাবে এবং দানার রং উজ্জ্বল থাকবে। এরপর পানি ঝরিয়ে পরিষ্কার কাপড় বা টিস্যুর ওপর ছড়িয়ে দিন। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে বায়ুরোধী পাত্রে ভরে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করুন।

এই পদ্ধতিতে রাখা মটরশুঁটি দীর্ঘদিন সবুজ, সতেজ ও স্বাদে অটুট থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী সারা বছরই এসব মটরশুঁটি দিয়ে নানা রান্না করা যাবে। শীতের এই সহজ প্রস্তুতি আপনাকে সারা বছরের ঝামেলা থেকে মুক্তি দেবে-স্বাদ ও পুষ্টি দুটোই থাকবে একসঙ্গে।