Showing posts with label সংস্কৃতি. Show all posts
Showing posts with label সংস্কৃতি. Show all posts

Thursday, September 12

কিংবদন্তি শাহ আবদুল করিমের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কিংবদন্তি শাহ আবদুল করিমের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রখ্যাত বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিমের দশম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১২ সেপ্টেম্বর। ২০০৯ সালের এই দিনে মারা যায় তিনি।

শাহ আবদুল করিম বাংলা বাউল গানের একজন কিংবদন্তি। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তার জন্ম।
সুনামগঞ্জের কালনী নদীর তীরে বেড়ে ওঠা শাহ আব্দুল করিমের গান ভাটি অঞ্চলে জনপ্রিয় হলেও শহরের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায় তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রায় পাঁচ শতাধিক গান লিখেছেন।
বাংলা একাডেমির উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়। শাহ আব্দুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। 
শাকুর মজিদ তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছেন ভাটির পুরুষ নামে একটি প্রামাণ্য চিত্র। এছাড়াও সুবচন নাট্য সংসদ তাকে নিয়ে শাকুর মজিদের লেখা মহাজনের নাও নাটকের ৮৮টি প্রদর্শনী করেছে।

Saturday, August 17

কবি শামসুর রাহমানের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কবি শামসুর রাহমানের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক::

কবি, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক শামসুর রাহমানের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শামসুর রাহমান স্মৃতিপরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশের পরপরই সচেতন পাঠকমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। তার পরবর্তী গ্রন্থগুলো পাঠকদের ক্রমেই তার প্রতি আকৃষ্ট করে তোলে।
কবি শামসুর রাহমানের ৬০টির বেশি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও শিশুতোষ, অনুবাদ, ছোটগল্প, উপন্যাস, আত্মস্মৃতি, প্রবন্ধ-নিবন্ধের গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি সাংবাদিক হিসেবে ১৯৫৭ সালে কর্মজীবন শুরু করেন দৈনিক মর্নিং নিউজ-এ। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭-তে সামরিক সরকারের শাসনামলে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তিনি অধুনা নামে একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শামসুর রাহমান আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন।
১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্ম নেয়া এই কবিকে তার ইচ্ছানুযায়ী ঢাকার বনানী কবরস্থানে, মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

Sunday, June 2

আবু সালেহ্ মো: মাছুমের ঈদের ছড়া

আবু সালেহ্ মো: মাছুমের ঈদের ছড়া

ঈদের ছড়া


ঈদ এলে হয় সবাই খুশি 
আমি কিন্তু না।
ব্যর্থ আমি ছেলে মেয়ের 
পূরণে বায়না।

নতুন জামা নতুন জোতা
বায়না আরো কত।
বউ চায় জামদানী শাড়ি 
আমার মাথা নত।

মাসের শেষে পকেট খালি 
কেমনে তাদের বলি?
কেউ বুঝেনা অল্প আয়ে
কেমন করে চলি।

রমজান মাস থাকলে ভালো 
সারা বছরময়।
খানা পিনার থাকতো লিমিট 
রোধ হত অপচয়।

Saturday, May 11

 সাহিত্য সাধনায় কানাইঘাট

সাহিত্য সাধনায় কানাইঘাট

মিলন কান্তি দাস::
সিলেট জেলার অন্যতম একটি উপজেলা হচ্ছে কানাইঘাট। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সুরমা নদীর তীরঘেষা উপজেলা কানাইঘাট। সমাজ, শিক্ষা, সাহিত্য, অর্থনীতি প্রতিটি ক্ষেত্রে কানাইঘাট এগিয়ে যাচ্ছে।

কানাইঘাটের তরুণদের একটি অংশ বর্তমানে সাহিত্যচর্চায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। অংশটা সংখ্যাগত দিক থেকে হয়তো নগণ্য, তবে তাদের কর্মতৎপরতা ও লক্ষ্য অবশ্যই অগ্রগণ্য, ইতিবাচক ও ফলপ্রসু। 

কানাইঘাটের বর্তমান প্রজন্মের তরুণ কবি ও সাহিত্যিকরা কানাইঘাটের সাহিত্যাঙ্গনে ইতিমধ্যেই নবজাগরণের সৃষ্টি করেছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও আগামীর কানাইঘাট অবশ্যই আজকের সাহিত্যিকদের কর্মসাধনার সুফল ভোগ করবেন। বিগত শতাব্দীতে কানাইঘাটের কৃতিসন্তানদের মধ্যে সাহিত্য সাধনায় যাদের নাম পাওয়া যায় তাদের মধ্যে গীতিকবি মরহুম শাহ ইব্রাহীম তশনা, মরহুম আব্দুল মতিন জালালাবাদী, মরহুম ফয়জুর রহমান, গীতিকবি মরহুম ক্বারী সোলায়মান, মরহুম ডাঃ মোঃ শামসউদ্দিন প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

বর্তমান সময়ের যারা সাহিত্যজগতে পদচিহ্ন রেখে চলেছেন, তাদের মধ্যে কবি খলিলুর রহমান, ড্রাগ সুপার (অব) আব্দুল জলিল চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ মহি উদ্দিন, পুলিশ কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন, কবি আব্দুল মতিন, কলামিস্ট অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী, কবি সরওয়ার ফারুকী, গবেষক মোশতাক চৌধুরী, কবি আব্দুল কাহির, কবি ও কলামিস্ট মিলন কান্তি দাস, রম্য লেখক মাহবুবুর রশিদ, সাংবাদিক লুৎফুর রহমান তোফায়েল, গবেষক আসিফ আযহার, কলামিস্ট জাকারিয়া আল হেলাল, লেখক হারুনুর রশীদ, কবি শামসীর হারুনুর রশীদ, গবেষক আব্দুর রহিম, প্রকাশক নাসির উদ্দিন, প্রকাশক আলমগীর চৌধুরী, কবি শিপুল আমিন চৌধুরী, কবি মিনহাজ বিন এবাদ, কবি আল আমিন সিদ্দিকী, ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যিক রোমান হাফিজ, প্রকাশক জুনায়দুর রহমান, কবি রিয়াজ উদ্দিন, লেখক এহসানুল হক জসিম, প্রবাসী কবি হেলাল ইসহাক, লন্ডন প্রবাসী ইকবাল আহমদ, সাংবাদিক তাওহীদুল ইসলাম, প্রবাসী উপন্যাসিক এম এ পলাশ, সাংবাদিক ও কবি শাহীন আহমদ, কবি আতিকুর রহমান মনজু, কদর উদ্দিন শিশির, আমিন উল্লাহ আখতার, কবি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, গীতিকার শাহজাহান শাহেদ, গীতিকার সোলায়মান আল মাহমুদ, কবি আব্দুল বাসিত, ছড়াকার ইমরান চৌধুরী, কবি ও সাংবাদিক সুজন চন্দ অনুপ, কবি এম ইউ শাকিল, আব্দুল্লাহ আল হাসান, আরিফ উর রহমান, জাহেদ হোসেন জয় এর নাম উল্লেখযোগ্য।

  • কানাইঘাট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখির জগতে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ‘দৃষ্টিপাত’, স্রষ্টা যেথায় সৃষ্টি মাঝে’ অন্যতম। বর্তমানে তিনি অবসর জীবন যাপনের পাশাপাশি লেখালেখি অব্যাহত রেখেছেন। তাঁর জন্মস্থান কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের বীরদল (আগফৌদ) গ্রামে। 

  • ড্রাগ সুপার (অব) আব্দুল মতিন কানাইঘাটের একজন সাহিত্যিক। তাঁর লেখা উপন্যাসের নাম- ‘কোয়ালালামপুরে যখন বৃষ্টি নামল’। তাঁর জন্মস্থান ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ঝিঙ্গাবাড়ী কোনাগ্রামে।

  • উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন চাকুরী জীবনের পাশাপাশি সাহিত্য সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শমূলক একটি বই লিখে ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছেন। তাঁর জন্মস্থান কানাইঘাট পৌরসভার ধর্মপুর গ্রামে। 

  • নিয়মিত লিখালিখি করে যাচ্ছেন চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী। অনলাইন শিক্ষা বিষয়ক পত্রিকা ‘দৈনিক শিক্ষা’তে তিনি নিয়মিত শিক্ষামূলক কলাম লিখে যাচ্ছেন।

  • শিক্ষাবিদ আব্দুল মতিন কানাইঘাট সড়কের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন সাহিত্য সাধনায়। ২০১৯ সালের একুশে বইমেলায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ব্যাতিক্রমী অভিনিবেশ’ প্রকাশিত হয়।

  • গবেষক মোশতাক চৌধুরী চাকুরী জীবনের পাশাপাশি নিজেকে নিয়মিত নিয়োজিত রেখেছেন সাহিত্য সাধনায়। ইতিমধ্যেই এই গবেষকের গবেষণাধর্মী তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো হলো ‘জৈন্তা রাজ্যের ইতিবৃত্ত’, ‘কাছাড়ের ইতিহাস ঐতিহ্য ও নান্দনিকতা’, ‘মরমী কবি শাহ ইব্রাহীম তশনা’। মোশতাক চৌধুরীর জন্ম কানাইঘাট দীঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের ধনমাইর মাটি গ্রামে। 

  • সাহিত্য চর্চায় আরেক নিবেদিত নাম আব্দুর রহিম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাহিত্যচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ- ‘কানাইঘাটের উলামায়ে কেরাম’। তাঁর জন্ম কানাইঘাট দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গড়াইগ্রামে। 
  • কানাইঘাটের সাহিত্য বোদ্ধাদের একজন কবি সরওয়ার ফারুকী। সরওয়ার ফারুকী’র মৌলিক কবিতাগুলি ইতিমধ্যে বৃহত্তর সিলেটের সাহিত্যাঙ্গনে পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তার তিনটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হলো ‘রুদ্ধ রুহের স্বর’, ‘মাটিতে মাটির চিন’ সরওয়ার ফারুকীর প্রোপিতামহ মরমী সাধক, ইসলামী চিন্তাবিদ ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা শাহ ইব্রাহীম তশনা। ইতিমধ্যে তিনি ‘শাহ ইব্রাহীম তশনা’র বাউল গানের সংকলন’ গ্রন্থ সংকলন করেছেন। গ্রন্থটি দেশীয় লোকগীতি ও বাউলগীতি গবেষণা ও চর্চায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সরওয়ার ফারুকীর জন্ম কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের বাটইশাইল গ্রামে।

  •  নিরবে নিভৃতে সাহিত্য সাধনা চালিয়ে যাচ্ছেন বুলবুল চৌধুরী। বর্তমানে তিনি একুশে টেলিভিশনে কর্মরত। তার পাশাপাশি তিনি পেন্সিল নামের একটি জনপ্রিয় প্রকাশনার অন্যতম কর্ণধার। তার বাড়ি কানাইঘাট পৌরসভার বায়মপুর গ্রামে।
  • কাব্যচর্চায় আরেক অগ্রজ ব্যক্তিত্ব আব্দুল কাহির। সুদীর্ঘ প্রবাস জীবনে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে নিয়মিত কবিতা লিখতেন। ইতিমধ্যে কবি আব্দুল কাহির এর ৬টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো হলো স্বাধীনতার প্রাণ, শতাঞ্জলি, ব্যথাঞ্জলি, প্রেমাঞ্জলি, প্রণয়োল্লাস, বিজয় পথ। আব্দুল কাহিরের জন্ম কানাইঘাট সাতবাক ইউনিয়নের ভাড়ারীমাটি গ্রামে।


  • ছড়াকার ও কলামিস্ট মিলন কান্তি দাস ২০১৯ সালের একুশে বইমেলায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন’ প্রকাশিত হয়। তিনি কানাইঘাট পৌরসভার ডালাইচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি সাহিত্য চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

  • রম্য লেখক মাহবুবুর রশিদ। তার দুইটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো হলো ‘দাঁত খুলে হাসি’ ও ‘খালি পেটে হাসি’। তিনি কানাইঘাটের প্রথম অনলাইন সংবাদ কানাইঘাট নিউজ ডট কম এর সম্পাদক। তার জন্ম কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের গোসাইনপুর গ্রামে।

  • মাওলানা শামসীর হারুনুর রশীদ মাদ্রাসা শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন থেকে তিনি সাহিত্য সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। বিগত ২০১৯ সালের একুশে বই মেলায় তাঁর প্রকাশিত ‘কাব্যে মহানবী ও নিবেদিত কবিতা’ ব্যাপক প্রশংসিত হয়। 

  • লন্ডন প্রবাসী উপন্যাসিক এম.এ পলাশ লেখালেখির জগতে বেশ প্রশংসিত। তিনি ইতিমধ্যে কয়েকটি উপন্যাস লিখে পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তাঁর উপন্যাসগুলো হলো- দ্যা চার্মিং কিলার, অদৃশ্য মানবী, ময়নাপাখি, রহস্যময় রমণী। তাঁর জন্মস্থান কানাইঘাট পৌরসভার বায়মপুর গ্রামে। 

  • জাহিদ হোসেন রাহীন- কানাইঘাটের আরেকজন সম্ভাবনাময় তরুণ। যিনি একধারে একজন সফল সাহিত্য সংগঠক, প্রচ্ছদ ডিজাইনার, ক্যালিওগ্রাফার। শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত এই সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক সৃজনশীলতার পরিচয় রেখে চলেছেন।
  •  সাহিত্য সংগঠক নাসির উদ্দিন। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘ত্রৈমাসিক অনুপ্রাণন’ পত্রিকাটি কানাইঘাটের ইতিহাস ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মারকগ্রন্থ। তিনি অনুপ্রাণন সম্পাদক ও কানাইঘাট সাহিত্য সংসদের সাহিত্য সম্পাদক। তার পৈতৃক নিবাস কানাইঘাট লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মমতাজগঞ্জ গ্রামে।

  •  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কৃতি ছাত্র সাংবাদিক এহসানুল হক জসীম সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য ও গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তার প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ- ‘বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির ব্যাবচ্ছেদ’। 

  • তাওহীদুল ইসলাম পেশায় একজন সাংবাদিক। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি নিজেকে লিখালিখির কাজেও নিয়োজিত রেখেছেন। তার লেখা দুইটি বই ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ‘কানাইঘাট ইনডেক্স’ ও ‘আলোকিত কানাইঘাট’, ‘মায়ের ভালোবাসার যত অবহেলা’।

  •  আলমগীর চৌধুরী অনুপ্রাণন পত্রিকার উপসম্পাদক। তার বাড়ি মমতাজগঞ্জ গ্রামে। ছড়াকার লুৎফুর রহমান তোফায়েল পেশায় সাংবাদিক। দৈনিক বিজয়ের কন্ঠ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক। সাংবাদিকতার পাশাপাশি প্রচ্ছদ শিল্পী হিসাবেও তার ব্যাপক পরিচিতি। তার প্রথম প্রকাশিত ছড়াগ্রন্থ হচ্ছে- ‘ছন্দ ছড়ায় মনের কথা’। তার বাড়ি কানাইঘাট লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের কাড়াবাল্লায়। 


  • শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী আসিফ আযহার। যিনি ইতিমধ্যে ইতিহাস বিষয়ে গবেষণা বই প্রকাশ করেছেন। তার লেখা প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো- ‘ইতিহাসের পাঠশালায়’ (প্রাচীন যুগ), ‘ইতিহাসের পাঠশালায়’ (মধ্যযুগ), ‘সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ’ (প্রাচীন যুগ), ‘খেলাফতের ইতিবৃত্ত’, খ্রীস্টধর্মের গোড়ার কথা, ‘রোমান সভ্যতার ইতিকথা’। দ্যা ওয়ান মিনিট ম্যানেজার (অনুবাদ গ্রন্থ)।

Sunday, February 18

বইমেলায় সাইফুল ইসলাম জুয়েলের দুটি বই

বইমেলায় সাইফুল ইসলাম জুয়েলের দুটি বই

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:
অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তরুণ লেখক সাইফুল ইসলাম জুয়েলের রহস্য-রোমাঞ্চ উপন্যাস ‘চাঁদনী’ ও শিশুতোষ গল্পের বই ‘পিংকুর গাছবন্ধু’। গত চার বছরের ধারায় এবারও তিনি বড়দের ও ছোটদের—এই দুই ক্যাটাগরিতে একটি করে বই বের করেছেন।

উপন্যাসটি সম্পর্কে লেখক সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘গতবছর একই প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ বইটির ব্যাপক সাড়ার পর আবারও উপন্যাস লেখায় হাত দিই। তবে আমার প্রতিটি বইয়ের মধ্যে কিছুটা মৌলিক পার্থক্য থাকে। গতবারের রোমান্টিক উপন্যাসের পর এবার তাই লিখলাম এক রহস্যময় অভিযান নিয়ে। যে অভিযানের প্রতি পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে রোমাঞ্চ আর টানটান উত্তেজনা। চাঁদনী উপন্যাসটিতে রয়েছে বাস্তবতার সাথে কিছুটা কল্পনার মিশেল। মূলত দুই আদিবাসী তরুণ-তরুণীর প্রণয় ও তার পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ নিয়ে কাহিনি সাজানো হয়েছে। আশা করছি উপন্যাসটি পাঠকের মন জয় করতে পারবে।’
বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ। প্রকাশক অনিন্দ্য প্রকাশ। ১২৮ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ২০০ টাকা। রহস্য ও রোমাঞ্চকর ধাঁচের এ বইটির পাওয়া যাবে বইমেলার ১৩ নম্বর প্যাভিলিয়নে।
"/
এ উপন্যাসটি ব্যতিতও লেখকের আরও একটি বই এবার বাজারে আসছে। শিশুতোষ গল্পের বই ‘পিংকুর গাছবন্ধু’—এর প্রকাশক সিটি পাবলিশিং। উপহার হিসেবে গাছ পেলে কেমন হয়? গাছ কী করে মানুষের বন্ধু হতে পারে? শুধু কি অক্সিজেন সরবরাহ করে, এজন্যই? নাকি অন্য কোনো বিষয়ও থাকতে পারে! ‘পিংকুর গাছবন্ধু’ বইটি মেলায় পাওয়া যাবে ৫৫৩ নং স্টলে। সোহেল আশরাফের প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণে রয়েল সাইজের সম্পূর্ণ রঙিন আট পৃষ্ঠার বইটির মূল্য পঞ্চাশ টাকা।
এ নিয়ে সাইফুল ইসলাম জুয়েলের মোট বইয়ের সংখ্যা পৌঁছালো দশে। অন্য বইগুলো হলো—বৃত্তের ভেতর বাহির, ভালোবাসি বলেই, তপুর গোয়েন্দাগিরি, প্রেম বালিকা, কোথায় খুঁজি তারে, তপুর গোয়েন্দাগিরি-২: হিরামন পাহাড়ের রহস্য, এলিয়েন ভূত এবং দূর দ্বীপবাসিনী।
দৈনিক ইত্তেফাকের ফান সাপ্লিমেন্ট ‘ঠাট্টা’র বিভাগীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন এ সময়ের সম্ভাবনাময় তরুণ লেখক সাইফুল ইসলাম জুয়েল। গল্প, উপন্যাস ছাড়াও রম্যজগতে তার দখল রয়েছে।

Wednesday, February 14

বইমেলায় মাহবুব এ রহমানের "মুমু ও তার ফুলপরি বন্ধুরা"

বইমেলায় মাহবুব এ রহমানের "মুমু ও তার ফুলপরি বন্ধুরা"

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে মাহবুব এ রহমানের শিশুতোষ গল্পের বই ‘মুমু ও তার ফুলপরি বন্ধুরা’। চারটি ভিন্ন স্বাদের গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত লেখক মাহবুব এ রহমানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাটে। এটি তাঁর দ্বিতীয় বই। এর আগে ২০১৬ সালের বইমেলায় ‘ফুলপাখিদের মেলা’ নামে তাঁর একটি শিশুতোষ ছড়ার বই প্রকাশিত হয়েছিল। ‘মুমু ও তার ফুলপরি বন্ধুরা’ প্রকাশ করেছে সিলেটের পাপড়ি প্রকাশ। প্রচ্ছদ করেছেন ইউসুফ কবিয়াল। ম্যাগাজিন সাইজ ১৬ পৃষ্ঠার বইটির দাম রাখা হয়েছে ৫০ টাকা। পাওয়া যাবে একুশ বইমেলায় ৬১৮ নং স্টলে (পায়রা প্রকাশ) এবং সিলেটে চলমান প্রথম আলো বন্ধু সভার বইমেলায়।

Monday, February 12

আব্দুল কাহির-এর ছড়া

আব্দুল কাহির-এর ছড়া

                                                                    যুবক


যুবক তোমার যুয়ানির দিকে সমাজ তাকিয়া আছে
দেশ ও জাতি কল্যাণ চাহে যুবক তোমার কাছে।
তোমার সঠিক সাহসী কাজে সমাজ থাকবে ঠিকে
কর্মখ্যাতির সুবাস বাতাসে নেবে তোর দিকে দিকে।
তব যুয়ানির বীর মনবল মঙ্গলের তলোয়ার
চরনের তলে পড়ে কুকর্ম কাঁদিয়া মানবে হার।
মৃত্যু তুচ্ছ ভেবে হে যুবক নীতিকে করাবে দাড়
কোন দুর্ণীতির শক্তিকে ভাই তুমি নাহি দেবে ছাড়।
যুবক তুমি উত্তরসুরি অতীতের বিজয়ীর
তোমার সুনাম তুমি ধরে রেখে উর্ধে তুলবে শির।
ভরা যুয়ানি মানেই হলো জীবনের মূল কাল
যুয়ানি দিয়ে জীবন তোমার করিয়া রাখবে লাল।
সময়ের গোলা সময়ে ভরবে কর্মের অর্জন
দেহবল আর জ্ঞান শক্তিকে দিতে হবে বিসর্জন।
মনের জোরকে উজাড় করি করবে কাজে প্রয়োগ
কত অনাগত স্বেচ্ছায় হবে তোর পুঁজিতে যোগ।
দেহ বলে তৃমি থাকতে বলীয়ান করে যাবে সংগ্রাম
ভর যৌবনে ফুটিয়ে তুলবে জীবনের নামদাম।
যুয়ানি বেকারের মানেই হলো জীবনের অপমান
যুবক তোমাকে রাখতে হবে তোমার আত্মসম্মান।
তুমি জেনে রেখো জোর ভরা দেহ মহান আল্লার দান
আল্লার আদেশে চালালে যুয়ানি স্বর্গে উঠার সোপান।

Thursday, February 8

একুশে বইমেলায় শামসুল হক শামস্ এর নতুন দুটি বই

একুশে বইমেলায় শামসুল হক শামস্ এর নতুন দুটি বই

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:
অমর একুশে বইমেলায় রম্যলেখক শামসুল হক শামস্ এর  দুটি নতুন বই পাওয়া যাচ্ছে। শিশুতোষ গল্পের বই"খেজুর গাছে এলিয়েন ভূত"। বইটি প্রকাশ করেছে বাবুই বইমেলা। প্রচ্ছদ করেছেন মদন কুমার। বইটি পাওয়া যাচ্ছে ৫৩৮ নম্বর স্টলে। বইটির দাম ধরা হয়েছে ১০০ টাকা। এছাড়া ৩০টি গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে"প্যারাডক্সিক্যাল হাসি" নামে রম্য বই। বইটি প্রকাশ করেছে দেশ পাবলিকেশন্স। প্রচ্ছদ করেছেন  রবিউল ইসলাম সুমন বইটি পাওয়া যাচ্ছে ৪৫২-৪৫৩নম্বর স্টলে।

সাহিত্যের সকল শাখায় শামসুল হক শামস্ এর সাবলীল বিচরণ  থাকলেও রম্যলেখক হিসেবে দেশ
বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন তিনি।   দীর্ঘ দিন ধরে পত্রপত্রিকায় লিখলেও অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬ তে প্রকাশিত হয়েছে লেখকের প্রথম বই ‘রম্য এক্সপ্রেস’। সে সময় দেশে বিদেশে ঝড় তুলে এক চেটিয়া পাঠক প্রিয়তা পেয়ে বেস্ট সেলারে তালিকা ভুক্ত হয়েছিল বইটি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে রম্য এক্সপ্রেস বগি নাম্বার-২ প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৮ সালে হাজির হয়েছেন রম্যগল্পের তৃতীয় বই প্যারাডক্সিক্যাল হাসি নিয়ে। তাছাড়াও এবার আসছে লেখকের শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ খেজুরগাছে এলিয়েন ভুত। 

চাকরির সুবাদে কুয়েতে অবস্থানের সময় লেখালেখিতে ‘বাংলার বার্তা সম্মাননা পদক’ পেয়েছেন ২০১৫ সালে। ২০১৬ সালে রম্যলেখক ক্যাটাগরীতে ম্যানপাওয়ার ডেভলপমেন্ট সম্মাননা পদক
পেয়েছেন। সমকালের দশ তরুণ লেখকের সাহিত্যকর্ম পাঠউৎসব কালের ধ্বনি সম্মাননা স্মারক-২০১৬ অর্জন করেছেন রম্যলেখক হিসেবে। জীবন ছোট কিন্তু সুন্দর। তাই হাসতে হয়, হাসাতে হয়। এই লক্ষ্যেই রম্য লেখায় অনুপ্রবেশ। প্রদায়ক হিসেবে দুহাত ভরে লিখছেন জাতীয় দৈনিকের ফান ট্যাবলয়েডগুলোতে।


বইমেলায় ইমন চৌধুরী'র নতুন উপন্যাস 'রোদ পড়েছে ডানায়'

বইমেলায় ইমন চৌধুরী'র নতুন উপন্যাস 'রোদ পড়েছে ডানায়'

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হলো ইমন চৌধুরী'র নতুন উপন্যাস 'রোদ পড়েছে ডানায়'। উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে সাহিত্যদেশ। প্রকাশক জানান, মেলার প্রথম সপ্তাহ থেকেই পাঠকরা এটি হাতে পাচ্ছেন। উপন্যাসটি রচিত হয়েছে দেশভাগ এবং দাঙ্গার উত্তাল সময়ে কলকাতা থেকে পালিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নেওয়া এক মুসলিম যুবকের পরিবারকে কেন্দ্র করে। উপন্যাসের পটভূমি সম্পর্কে ইমন চৌধুরী বলেন, 'এই উপমহাদেশে দেশভাগ এবং ধর্মীয় দাঙ্গা একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বহু মানুষকে শিকড় বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এই দেশভাগ। সেই উত্তাল সময়ে কলকাতা থেকে পালিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নেওয়া এক মুসলিম যুবকের টিকে থাকার সংগ্রাম এই উপন্যাসের মূল পটভূমি। ধীরে ধীরে এই দেশটিও তার হয়ে ওঠে। তারও পরিবার হয়। বেড়ে ওঠে দ্বিতীয় প্রজন্ম। দ্বিতীয় প্রজন্ম একসময় এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে ওঠে। তাদের ক্যারিয়ার, প্রেম এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে এগুতে থাকে কাহিনী। সবমিলিয়ে আশা করি পাঠকদের ভালো লাগবে উপন্যাসটি।' বইটির প্রচ্ছদ করেছেন তরুণ প্রচ্ছদশিল্পী সোহানুর রহমান অনন্ত। মূল্য ১৫০ টাকা।

Monday, January 8

শীতের ছড়া

শীতের ছড়া

 আব্দুল কাহির

সময়ের সু খবর,সময়ের সু খবর
গোসল করতে ঠান্ডা পানির খুব ডর।
বিষম শীতে আত্মরক্ষার অস্ত্র
জ্যাকেট, মাপলার,মোজা শীত বস্ত্র।
দেহের সাথে ঢেকে রাখি কান,মাথা
রাতের আরামে কম্বল,লেপ,কাঁথা।
নিত্য কর্মে শীত আনিয়াছে অলসতা
কুয়াশা ভেজা ভোরে বস্তির নিরবতা।
সাদার আড়ালে থাকে সূর্যালয় ঢাকা
কোথা ছিল এতো শীত জমা করে রাখা।
ছোট বড় সকলের মনে শীতভয়
গরমের সাথে যেনো নাহি পরিচয়।
শীতে কাঁদে জনতা,শীতে কাঁদে দেশ
শীতকালে মন খুঁজে পিঠা ও পায়েস।

Saturday, December 9

আমরা নবীণ অভিযাত্রীর সাধারণ সভা ও সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত

আমরা নবীণ অভিযাত্রীর সাধারণ সভা ও সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদক: আমরা নবীণ অভিযাত্রী সংগঠনের উদ্যোগে সাধারণ সভা ও সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় কানাইঘাট উপজেলার সড়কের বাজার সংগঠনের কার্যালয়ে এ সাধারণ সভা ও সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি, আবুল হোসেন একাডেমির অধ্যক্ষ কবি আল-আমিন সিদ্দিকির সভাপতিত্বে ও লুৎফুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আতিক হাসানের উপস্থাপনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি রোটারিয়ান শাহজাহান সেলিম বুলবুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, আমাদের ডাক সম্পাদক কবি আলিম উদ্দিন আলম, ডাঃ নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, বিশিষ্ট সমাজসেবী নিজাম আহমদ চৌধুরী। কবিতা পাঠ করেন- আমাদের ডাক পাঠক ফোরাম কানাইঘাট উপজেলা সভাপতি শিপুল আমিন চৌধুরী, নবারুণ সাহিত্য ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা এম এম ইউ শাকিল, উক্ত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহমদ-আল মনজুর, হাফিজ মতিউর রহমান, আমির আব্দুল্লাহ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম সহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে কবি সাহিত্যিকরা এ দেশের মানুষকে অনুপ্রেরনা দিয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। বর্তমানে আমাদের যুব সমাজ ও নতুন প্রজন্ম সাহিত্য চর্চায় আগ্রহী হয়েছে দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। আমাদের সবাইকে এভাবে সাহিত্য ও কবিতা চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আমরা নবীন অভিযাত্রী সংগঠনের সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানান।

Friday, July 28

আহমদ ছফার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আহমদ ছফার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আহমদ ছফার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: আজ ২৮ জুলাই প্রখ্যাত লেখক, সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক আহমদ ছফার ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০১ সালের এই দিনে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন।

আমৃত্যু তিনি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কলাম লেখা অব্যাহত রেখেছিলেন। তার লেখায় বাংলাদেশি জাতিসত্তার পরিচয় নির্ধারণ প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

গল্প, গান, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনী মিলিয়ে ৩০টির বেশি বই রয়েছে তার। তার প্রথম উপন্যাস 'সূর্য তুমি সাথী'। ১৯৬৭ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বই হিসেবে মুক্তধারা থেকে প্রকাশিত হয় এটি।

তার উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ হলো- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭), উদ্ধার (১৯৭৫), একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯), অলাতচক্র (১৯৯০), ওঙ্কার (১৯৯৩), গাভীবৃত্তান্ত (১৯৯৪), অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬), পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ (১৯৯৬) আহমদ ছফার উপন্যাস এবং নিহত নক্ষত্র (১৯৬৯)।

জাগ্রত বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা : রাজনীতির আলোকে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা, বাঙালি মুসলমানের মন, শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ এবং রাজনীতির লেখাসহ বহু প্রবন্ধ-বই লিখেছেন।

কবিতার বইয়ের মধ্যে জল্লাদ সময়, দুঃখের দিনের দোহা, একটি প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা, লেনিন ঘুমোবে এবার উল্লেখযোগ্য। উপন্যাসের মধ্যে ওংকার, একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন, মরণবিলাস, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী অন্যতম।

২০০২ সালে সাহিত্যে (মরণোত্তর) একুশে পদক দেওয়া হয় তাকে।

Wednesday, July 19

হুমায়ুন আহমেদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

হুমায়ুন আহমেদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

হুমায়ুন আহমেদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: আজ ১৯ জুলাই, বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কথাশিল্পী, চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাতা হুমায়ুন আহমেদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের এইদিনে সৃষ্টিশীল ও জনপ্রিয় এই লেখক যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ইন্তেকাল করেন।

দিবসটি উপলক্ষে কথাশিল্পী হুমায়ুন আহমেদের পরিবারের পক্ষ থেকে নুহাশ পল্লীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রকাশকরা নুহাশ পল্লীতে কথাশিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাবেন এবং হুমায়ুন আহমেদ প্রতিষ্ঠিত ‘শহীদ স্মৃতি বিদ্যালয়ে’ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

হুমায়ুন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকেনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ফয়েজুর রহমান। একাত্তরে পাকবাহিনী তাকে হত্যা করে। মা আয়েশা ফয়েজ। স্কুল জীবনে হুমায়ুন আহমেদকে পিতার চাকুরীস্থল কুমিল্লা, সিলেট, বগুড়া ও পঞ্চঘরসহ বিভিন্ন জেলায় বসবাস করতে হয়।

হুমায়ুন আহমেদ ১৯৬৭ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (রাজশাহী বিভাগে মেধাতালিকায় দ্বিতীয়), ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ছাত্র জীবনেই তার লেখালেখি শুরু।

১৯৭২ সালে তার প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' প্রকাশ পায়। তখন তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় উপন্যাস 'শংখনীল কারাগার'। এই দু'টি বই প্রকাশের পর হুমায়ুন আহমেদ একজন শক্তিশালী কথাশিল্পী হিসেবে পাঠকমহলে সমাদৃত হন। সেই থেকে জীবিতকালে তার দুই শতাধিক বই প্রকাশিত হয়।

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি লেখালেখির সাথে যুক্ত ছিলেন। তার লেখায় বাঙালি সমাজ ও জীবনধারার গল্পমালা ভিন্ন আঙ্গিকে এবং রসাত্বক ও বিজ্ঞানস্মতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। গল্প বলায় ভাষার ব্যবহারে নিজস্ব একটা কৌশল এবং বর্ণনায় লোকজধারাকে প্রাধান্য দেন।

বাস্তবতা থেকেই উঠে এসেছে তার প্রতিটি সৃষ্টিকর্ম। বাংলা সাহিত্যের কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যে তাকে পথিকৃৎ বলেছেন সমালোচকরা। তিনি উপন্যাস, গল্প, জীবনী, নাটক ও চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার লেখা বেশ কয়েকটি উপন্যাস, কয়েকটি নাটক, কয়েকটি চলচ্চিত্র কালজয়ী কর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং লেখালেখিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষকতা থেকে তিনি অবসর নেন। শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে হুমায়ুন আহমেদ গাজীপুরে প্রতিষ্ঠা করেন ‘নুহাশ পল্লী’। এই প্রতিষ্ঠানই ছিল তার সকল কাজের আঙ্গিনা। ২০১০ সালে সরকার হুমায়ুন আহমেদকে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ করে।

হুমায়ুন আহমেদের ১১৮টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে অন্যপ্রকাশ। এই সংস্থার স্বত্তাধিকারী মাজহারুল ইসলাম বলেন, হুমায়ুন আহমেদ গত শতকের অন্যমত জনপ্রিয় লেখক। তার সৃষ্টিশীলতার জন্যই তিনি এই জনপ্রিয়তা পান। মৃত্যুর পরও পাঠকরা তার বই ক্রয় করছেন। তরুন সমাজ ও নতুন পাঠকরা এখনও তার বইগুলা কিনছেন। তার বই বিক্রয় খুব বেশি কমেনি। পুরনো বইগুলো এখন বিভিন্ন বয়সের পাঠক সংগ্রহ করছেন। বাংলাসাহিত্যে এই লেখকের সৃষ্টি অনাদিকাল ধরে অক্ষয় থাকবে।

তার প্রকাশিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে, জোছনা ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন, হিমুর আছে জল, লীলাবতী, হরতন ইশকাপন, হিমুর বাবার কথামালা, আমিই মিসির আলি, হিমু রিমান্ডে, মিসির আলির চশমা, দিঘির জলে কার ছায়া গো, আজ হিমুর বিয়ে, লিলুয়া বাতাস, কিছু শৈশব, হুমায়ুন আহমেদের ভৌতিক অমনানিবাস, আগুনের পরশমনি, শ্রাবন মেঘের দিন।

তার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে শংখনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া প্রভৃতি।

সাহিত্যে অবদানের জন্য হুমায়ুন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন।

Thursday, June 22

৭৩-এ পা রাখলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ 

৭৩-এ পা রাখলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ 

৭৩-এ পা রাখলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ 

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: ‘জন্মের সময় আমি খুব কেঁদেছিলাম,এখন আমার সব কিছুতেই হাসি পায়/ আমি জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয়েছিলাম,এখন মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় হচ্ছি ।’ আধুনিক কাব্য সাহিত্যের দিকপাল কবি নির্মলেন্দু গুণ জন্ম এবং মৃত্যু সম্পর্কে এভাবেই বলেছেন তার স্ববিরোধী কবিতার শেষাংশে। সত্য ও সুন্দরের উপাসক কবি গুণ তার কবিতায় যথার্থই বলেছেন। প্রত্যেকটা মানুষই জন্মের প্রয়োজনে ছোট থাকে। আর মৃত্যুর প্রয়োজনেই বড় হন। বড় হতে হতে যখন আর বড় হওয়ার জায়গা থাকে না তখনই তিনি অনিবার্য ঠিকানায় চলে যান। আর এ সব দেখে কবির বড্ড হাসি পায় যেমনটা কান্না পেয়েছিল জন্মের সময়।

গতকাল ২১ জুন। ছয় ফুট দীর্ঘ, উন্নত নাসিকা, রবীন্দ্রনাথের মতো শশ্রুমণ্ডিত, তীব্র-তীক্ষ্ণ চোখ আজীবন ঢোলা পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত কবি নির্মলেন্দু গুণ ৭৩’এ- পা রাখলেন। এ কথা অস্বীকার করার কোনো জো নেই যে, কবি নির্মলেন্দু গুণই বাংলাদেশে জীবিতদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পাঠকনন্দিত কবি। কবিতার পেছনেই তিনি লেখক জীবনের প্রায় পুরো অংশই নিয়োগ করেছেন। এই কবিতাই তার ধ্যান জ্ঞান সাধনা। কবিতা গুণদাকে সব দিয়েছে। ঢেলে দিয়েছে। তিনি সফলতার শীর্ষে আরোহন করেছেন যৌবন শুরু হওয়ার বেশ আগেই।

১৯৬৮ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণ তার বোন সোনালীকে এক চিঠিতে লিখেছিলেন ‘আমার কাছে আমার কবিতা আমার চোখের মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার আত্মার মতো। আমার কাছে আমার কবিতা আমার রক্তের মতো প্রিয়। আর কবিতাও আমাকে ভালোবাসে বলেই হয়তো ষাট দশকের যেসব কবি পূর্ববঙ্গে জন্ম নিয়েছে তাদের মধ্যে যদি পাঁচজনেরও নাম করতে হয় – তবে আমার নাম অপরিহার্য।’ গুণদা সারাটা জীবনই তার লেখনীতে সত্য আর সুন্দরের উপাসনা করেছেন। যদি তাকে ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয় কিংবা জিহবা কেটে দেওয়া হয় তবুও তিনি কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। নেননি কখনো। প্রবল আত্মবিশ্বাসী এ কবি চরম সত্য কথাকে যে কোনো ভর-মজলিশে অকপটে বলে যেতে পারেন। নিজের বিপক্ষে গেছে অথচ অকপটে লিখেছেনও এমন নানা সত্য কথা। যেমন – হোটেলে খেয়ে টাকা না থাকার জন্য দৌড়ে পালিয়েছেন, কলেজে হোস্টেল ম্যানেজার নির্বাচিত হয়ে টাকা চুরি করেছেন, সে টাকা দিয়ে জুয়া খেলেছেন।

গুণদা তার আত্মজীবনী আমার কন্ঠস্বর-এ লিখেছেন ‘ দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করে আমি হোস্টেলের ছাত্রদের ম্যানেজার নির্বাচিত হই। ম্যানেজার হয়ে আমি শুরু করি টাকা মারা। পঞ্চাশ টাকার মাছ কিনে বলি ষাট টাকা। একশ টাকার মাংস কিনে বলি, একশ বিশ। এইভাবে মহানন্দে দিন চলতে থাকে। ইতিমধ্যে টেডি জুতো আর আকাশী নীল কেরোলিন শার্ট কেনা সম্পন্ন। দিনে আয় করি, রাতে ঐ টাকা দিয়ে বসি জুয়া খেলতে। দিনের উপার্জন রাতে হারাই। ফলে পরের দিন বাজারের টাকা থেকে চুরি করাটা আমার জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়। আমার জীবন ধারণের মান যতো ঊর্ধমুখী হয় ছাত্রদের খাদ্যের মান খুব স্বাভাবিক নিয়মেই নিম্নমুখী হতে থাকে।’ নিজের চৌর্যবৃত্তি কিংবা জুয়া খেলার কথা এতো সহজ করে আর কে আছেন বলতে পারেন। এটা বলার সাহস একমাত্র গুণদারই আছে।

কবিতাই একদিন তাঁকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করেছিল, কবি হওয়ার জন্য এসেছিলেন শহরে । তিনি কবি হয়েছেন, শুধু কবিই নন, বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গুটি কয়েক জনপ্রিয় কবির মধ্যে তাঁর নামটি সবার শীর্ষে। তার ভাষায় ‘কবিতার জন্য আমি একদিন গ্রাম ছেড়েছিলাম এখন আবার গ্রামে ফিরে যেতে চাই। কবিতা লেখার কারণে আমি মানুষের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি আমার কবি জীবনে। এখন আমার জন্ম ভিটা বারহাট্টার কাশবনে গিয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আমি অভিভূত, আমি তৃপ্ত’।

১৯৪৫ সালের এই দিনে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার কাশবন গ্রামে সুখেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরীর ঔরসে মাতা বীণা পাণী গুণের গর্ভে তাঁদের চতুর্থ সন্তান কবি নির্মলেন্দু গুণ জন্ম গ্রহণ করেন। চার বছর বয়সে মাতৃহারা হবার পর নতুন মা চারুবালার হাতে তিনি লালিত পালিত হন। কাশতলা নামক গ্রামে জন্ম গ্রহণ করলেও পরবর্তীকালে কবি তাঁর গ্রামের নাম রাখেন ‘কাশবন’। সেই থেকে গোটা কাশতলা গ্রাম কাশবন হয়ে যায়। সেই কাশবন এখন গুণ-তীর্থে পরিণত হয়েছে। স্কুল করেছেন। রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, মাইকেল কিংবা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। তৈরি করেছেন দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার। সেই কাশবন এখন দেশের শীর্ষ একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

ষাটের দশক থেকে শুরু করে এখনও চলছে তাঁর কবিতা লেখার নিরন্তর প্রয়াস। কবিতা তাঁর প্রাণ সবকিছু। শুধু কী কবিতা ? না- নির্মলেন্দু গুণের গদ্য সম্ভারও কম নয়। তাঁর কাব্যসমগ্র যেমন তিন খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে তেমনি তার গদ্য সমগ্র হয়েছে তিন খন্ডে। পৃষ্ঠার সংখ্যা বিচারে বরং তার গদ্যের পরিমাণই বেশি। শুরুতে তিনি নাটক রচনায় প্রয়াসী হয়েছিলেন। তাঁর রচিত প্রযুক্তি-নির্ভর নাটক ‘এ যুগের আকবর’ ১৯৬৭ সালে মঞ্চস্থ হয়। এ নাটকে রেডিও, টিভি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান টিভিতে তাঁর লেখা নাটক প্রচারিত হয়। ওই নাটকে তিনি নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। প্রেমাংশুর রক্ত চাই কাব্যগ্রন্থ দিয়ে কবির সাড়া জাগানো আত্মপ্রকাশ।

১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষিত হবার পর বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনে যুক্ত হন তিনি। পরে একটি ডাকাতি মামলায় জড়িত করে তাঁর নামে হুলিয়া জারি করা হয়। তার নামে চুরির মামলাও হয়েছে। শুরু হয় তাঁর ফেরারী জীবন। ১৯৬৯ সালে তিনি লেখেন তার জনপ্রিয় কবিতা ‘হুলিয়া’। ১৯৭১ সালে ভারতে আশ্রয় নেন এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলে কবি গ্রামে ফিরে যান। পরে ঢাকায় ফিরে এলে সেনাবাহিনী তাঁকে পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতার করলে কিছু দিন হাজত বাসের পর মুক্তি পান। ১৯৭৭ সালে নীরা লাহিড়ীর সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন কবি নির্মলেন্দু গুণ। তাঁর রয়েছে মৃত্তিকা গুণ নামে এক কন্যা। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা একশ ছাড়িয়ে গেছে। তিনি ভারত, নেপাল, যুগোশ্লাভিয়া, ভিয়েতনাম, লন্ডন, নিউইর্য়ক, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন । দেশের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, ব্র্যাক ব্যাংক সমকাল সাহিত্য পুরস্কার, সিটি আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার, জেমকন সাহিত্য পুরস্কার, হুমায়ুর কবির স্মৃতি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পদকসহ দেশ এবং দেশের বাইরের শতাধিক পুরস্কার পেয়েছেন তাঁর এই লেখক জীবনে। কবি’র জন্মদিনে রইলো অনেক অনেক প্রীতি আর শুভেচ্ছা।

ইজাজ আহমেদ মিলন
প্রাবদ্ধিক ও কবি।

Friday, May 26

হুমায়ূন আহমেদ-এর ১৫৮টি মূল্যবান উক্তি

হুমায়ূন আহমেদ-এর ১৫৮টি মূল্যবান উক্তি

১. পৃথিবীতে আসার সময় প্রতিটি মানুষই একটি করে আলাদিনের প্রদীপ নিয়ে আসে…কিন্তু খুব কম মানুষই সেই প্রদীপ থেকে ঘুমন্ত দৈত্যকে জাগাতে পারে।
২. পৃথিবীতে অনেক ধরনের অত্যাচার আছে। ভালবাসার অত্যাচার হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ানক অত্যাচার। এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে কখনো কিছু বলা যায় না, শুধু সহ্য করে নিতে হয়।
৩. এই পৃথিবীতে প্রায় সবাই, তার থেকে বিপরীত স্বভাবের মানুষের সাথে প্রেমে পড়ে|
৪. তরুণী মেয়েদের হঠাৎ আসা আবেগ হঠাৎ চলে যায়। আবেগকে বাতাস না দিলেই হলো।আবেগ বায়বীয় ব্যাপার, বাতাস পেলেই তা বাড়ে। অন্য কিছুতে বাড়ে না |
৫. সবাই তোমাকে কষ্ট দিবে, কিন্ত তোমাকে এমন একজনকে খুজে নিতে হবে, যার দেয়া কষ্ট তুমি সহ্য করতে পারবে|
৬. অধিকাংশ মানুষ কল্পনায় সুন্দর, অথবা সুন্দর দুর থেকে। কাছে এলেই আকর্ষণ কমে যায়। মানুষই একই। কারো সম্পর্কে যত কম জানা যায়, সে তত ভাল মানুষ।
৭. বাস্তবতা এতই কঠিন যে কখনও কখনও বুকের ভিতর গড়ে তোলা বিন্দু বিন্দু ভালবাসাও অসহায় হয়ে পড়ে।
৮. যখন মানুষের খুব প্রিয় কেউ তাকে অপছন্দ, অবহেলা কিংবা ঘৃণা করে তখন প্রথম প্রথম মানুষ খুব কষ্ট পায় এবং চায় যে সব ঠিক হয়ে যাক । কিছুদিন পর সে সেই প্রিয় ব্যক্তিকে ছাড়া থাকতে শিখে যায়। আর অনেকদিন পরে সে আগের চেয়েও অনেকবেশী খুশি থাকে যখন সে বুঝতে পারে যে কারো ভালবাসায় জীবনে অনেক কিছুই আসে যায় কিন্তু কারো অবহেলায় সত্যিই কিছু আসে যায় না।
৯. পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ সম্ভবত কষ্ট পাবার জন্যই জন্মায়। টাকা পয়সার কষ্ট নয়- মানসিক কষ্ট।- হুমায়ূন আহমেদ মায়ের গায়ে কোন দোষ লাগে না। ছেলে-মেয়ে মায়ের ত্রুটি দেখবে না। অন্যেরা হয়ত দেখবে, সন্তান কখনও না।
১০. কিছু কিছু মানুষ ভাগ্যকে নিজের হাতে গড়ে, আবার কারো কারো কাছে ভাগ্য আপনি এসে ধরা দেয়!
১১. সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে কেউ মিথ্যা বলতে পারে না। মিথ্যা বলতে হয় অন্যদিকে তাকিয়ে !
১২. বয়সকালেই মানুষ ছোট খাট ভুল করতে থাকে। ছোটখাটো ভুল করা যখন অভ্যাস হয়ে যায় তখন করে বড় ভুল !
১৩. কখনো কখনো তোমার মুখটা বন্ধ রাখতে হবে। গর্বিত মাথাটা নত করতে হবে এবং স্বীকার করে নিতে হবে যে তুমি ভুল। এর অর্থ তুমি পরাজিত নাও, এর অর্থ তুমি পরিণত এবং শেষ বেলায় জয়ের হাসিটা হাসার ন্য ত্যাগ স্বীকারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
১৪. কাজল ছাড়া মেয়ে দুধ ছাড়া চায়ের মত।
১৫. ভদ্র ছেলেদের জন্য মেয়েদের মনে কখনও প্রেম জাগে না। যা জাগে সেটা হল সহানুভূতি |
১৬. মানুষ ট্রেইনের মত এক লাইনে চলে। তবে বিশেষ ঘটনার পর নতুন লাইন পাওয়া যায়।
১৭. প্রতিটি দুঃসংবাদের সঙ্গে একটি করে সুসংবাদ থাকে।
১৮. মানুষ শুধু যে মানুষের কাছ থেকে শিখবে তা না। পশু পাখির কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়।
১৯. যে একদিন পড়িয়েছে সে শিক্ষক । সারাজীবনই শিক্ষক। আবার যে একদিন চুরি করেছে সে কিন্তু রাজীবনই চোর না, তাহলে পৃথিবীর সব মানুষই চোর হত ।
২০. সমুদ্রের জীবনে যেমন জোয়ার-ভাটা আছে, মানুষের জীবনেও আছে। মানুষের সঙ্গে এই জায়গাতেই সমুদ্রের মিল।
২১. পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ সম্ভবত কষ্ট পাবার জন্যই জন্মায়। টাকা পয়সার কষ্ট নয়- মানসিক কষ্ট।
২২. মেয়েদের স্বভাবই হচ্ছে হালকা জিনিস নিয়ে মাতামাতি করা।
২৩. একজন মানুষকে সত্যিকারভাবে জানার উপায় হচ্ছে তার স্বপ্নটা জানা।
২৪. বাবা-মা’র প্রথম সন্তান হচ্ছে চমৎকার একটি জীবন্ত খেলনা। এই খেলনার সবই ভালো। খেলনা যখন হাসে, বা-মা হাসে। খেলনা যখন কাঁদে বাবা-মা’র মুখ অন্ধকার হয়ে যায়।
২৫. চট করে কারো প্রেমে পড়ে যাওয়া কাজের কথা না। অতি রূপবতীদের কারও প্রেমে পড়তে নেই। অন্যেরা তাদের প্রেমে পড়বে, তা-ই নিয়ম।
২৬. মাঝে মাঝে তুচ্ছ বিষয় চোরাকাঁটার মত মনে লেগে থাকে… ব্যথা দেয় না,অস্বস্তি দেয়….
২৭. লাজুক ধরনের মানুষ বেশীর ভাগ সময়ই মনের কথা বলতে পারেনা। মনের কথা হড়বড় করে বলতে পারে শুধু মাত্র পাগলরাই। পাগলরা মনে হয় সেই কারণেই সুখী।
২৮. বাস্তবতা এতই কঠিন যে কখনও কখনও বুকের ভিতর গড়ে তোলা বিন্দু বিন্দু ভালবাসাও অসহায় হয়ে পড়ে।
২৯. যে সব মানুষের নাক সেনসেটিভ হয় তাদের কান কম সেনসেটিভ হয়। প্রকৃতি একটা বেশী দিলে অন্যটা কমিয়ে দেয়।
৩০. মানুষের মন বিচিত্র জিনিস। সমস্ত নক্ষত্র পূঞ্জে যে জটিলতা ও রহস্য তার থেকেও রহস্যময় মানুষের মন।
৩১. মেয়েরা গোছানো মানুষ পছন্দ করে না। মেয়েরা পছন্দ করে অগোছালো মানুষ”- রোদনভরা এ বসন্ত ; কিছু কিছু মানুষ সত্যি খুব অসহায়.. তাদের ভালোলাগা মন্দলাগা, ব্যথা বেদনা গুলো বলার মত কেউ থাকে না.. তাদের কিছু অবাক্ত কথা মনের গভীরেই রয়ে যায় .. আর কিছু কিছু স্মৃতি – এক সময় পরিনত হয় — দীর্ঘ শ্বাসে
৩২. মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলোই ধরণীর আসল রূপ দেখতে পায়।
৩৩. গভীর প্রেম মানুষকে পুতুল বানিয় দেয়। প্রেমিক প্রেমিকার হাতের পুতুল হন l কিংবা প্রেমিকা হয় প্রেমিকের পুতুল। দুজন এক সঙ্গে কখনো পুতুল হয় না। কে পুতুল হবে আর কে হবে সূত্রধর তা নির্ভর করে মানসিক ক্ষমতার উপর। মানসিক ক্ষমতা যার বেশী তার হাতেই পুতুলের সুতা।
৩৪. কিছু কিছু পুরুষ আছে যারা রূপবতী তরুণীদের অগ্রাহ্য করে একধরনের আনন্দ পায়। সচরাচর এরা নিঃসঙ্গ ধরনের পুরুষ হয়, এবং নারী সঙ্গের জন্যে তীব্র বাসনা বুকে পুষে রাখে।
৩৫. তুমি একটা খারাপ কাজ করেছো তার মানে তুমি একজন মানুষ, তুমি সেই খারাপ কাজটার জন্য অনুতপ্ত তার মানে তুমি একজন ভাল মানুষ।
৩৬. সব মানুষের জীবনেই অপূর্ণতা থাকবে। অতি পরিপূর্ণ যে মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করলে সে ও অতি দুঃখের সঙ্গে তার অপূর্ণতার কথা বলবে। অপূর্ণতা থাকে না শুধু বড় বড় সাধক ও মহা পুরুষদের |
৩৭. সব মানুষকেই বিনয়কে এদেশে দুর্বলতা মনে করা হয়, বদমেজাজকে ব্যক্তিত্ব ভাবা হয়।
৩৮. মানুষ খুবই স্বাধীন প্রাণী কিন্তু অদ্ভুত কারণে সে ভালবাসে শিকল পরে থাকতে।
৩৯. দুঃসময়ে কোনো অপমান গায়ে মাখতে হয় না। ভালোবাসা ও ঘৃনা দুটাই মানুষের চোখে লিখা থাকে!
৪০. যুদ্ধ এবং প্রেমে কোনো কিছু পরিকল্পনা মতো হয় না। ভালবাসাবাসির জন্যে অনন্তকালের প্রয়োজন নেই।একটি মুহূর্তই যথেষ্ট…
৪১. বেঁচে থাকার মত আনন্দ আর কিছুই নেই। কত অপূর্ব দৃশ্য চারিদিকে। মন দিয়ে আমরা কখনো তা দেখি না। যখন সময় শেষ হয়ে যায়, তখনি শুধু হাহাকারে হৃদয় পূর্ণ হয়।
৪২. মেয়েদের স্বভাবই হচ্ছে হালকা জিনিস নিয়ে মাতামাতি করা।
৪৩. ভাল লাগা এমন এক জিনিস যা একবার শুরু হলে সব কিছুই ভালো লাগতে থাকে।
৪৪. মিথ্যা হলো শয়তানের বিয়ের মন্ত্র। মিথ্যা বললেই শয়তানের বিয়ে হয়। বিয়ে হওয়া মানেই সন্তান-সন্ততি হওয়া। একটা মিথ্যার পর আরো অনেকগুলি মিথ্যা বলতে হয় এই কারণেই।পরের মিথ্যাগুলি শয়তানের সন্তান।
৪৫. মানুষের স্বভাব হলো, কেউ যখন ভালোবাসে তখন নানান কর্মকাণ্ড করে সেই ভালোবাসা বাড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে, আবার কেউ যখন রেগে যায় তখন তার রাগটাও বাড়িয়ে দিতে ইচ্ছা করে।
৪৬. ভালবাসার মানুষের সাথে বিয়ে না হওয়াটাই বোধ হয় ভাল।বিয়ে হলে মানুষটা থাকে ভালবাসা থাকে না।আর যদি বিয়ে না হয় তাহলে হয়ত বা ভালবাসাটা থাকে,শুধু মানুষটাই থাকে না। মানুষ এবং ভালবাসা এই দুয়ের মধ্যে ভালবাসাই হয়ত বেশি প্রিয়।
৪৭. শিকল দিয়ে কাউকেই বেঁধে রাখা হয় না । তারপরেও সব মানুষই কোনও – না – কোনও সময় অনুভব করে তার হাত – পায়ে কঠিন শিকল । শিকল ভাঙতে গিয়ে সংসার – বিরাগী গভীর রাতে গৃহত্যাগ করে । ভাবে ,মুক্তি পাওয়া গেল । দশতলা বাড়ির ছাদ থেকে গৃহী মানুষ লাফিয়ে পরে ফুটপাতে । এরা ক্ষণিকের জন্য শিকল ভাঙার তৃপ্তি পায় ।
৪৮. বিবাহ এবং মৃত্যু এই দুই বিশেষ দিনে লতা-পাতা আত্মীয়দের দেখা যায়। সামাজিক মেলামেশা হয়। আন্তরিক আলাপ আলোচনা হয়।
৪৯. কেও কারও মত হতে পারে না। সবাই হয় তার নিজের মত। তুমি হাজার চেষ্টা করেও তোমার চাচার বা বাবার মত হতে পারবে না। সব মানুষই আলাদা।
৫০. যে মানব সন্তান ক্ষুদ্র কামনা জয় করতে পারে সে বৃহৎ কামনাও জয় করতে পারে।
৫১. হাসিতে খুব সহজেই মানুষকে চেনা যায় ।সব মানুষ একই ভঙ্গিতে কাঁদে কিন্তু হাসার সময় একেক জন একেক রকম করে হাসে
৫২. মেয়েদের অনেক গুণের মধ্যে বড় গুণ হলো এরা খুব সুন্দর করে চিঠি লিখতে পারে। কথাবার্তায় নিতান্ত এলোমেলো মেয়েও চিঠি লেখায় গোছানো। মেয়েদের চিঠিতে আরেকটা ব্যাপার থাকে – বিষাদময়তা। নিতান্ত আনন্দের সংবাদ দিয়ে লেখা চিঠির মধ্যেও তারা জানি কী করে সামান্য হলেও দুঃখ মিশিয়ে দেয়। কাজটা যে তারা ইচ্ছা করে করে তা না। প্রকৃতি তাদের চরিত্রে যে বিষাদময়তা দিয়ে রেখেছে তাই হয়তো চিঠিতে উঠে আসে।
৫৩ . দিনকাল পাল্টে গেছে, এখন আর মানুষ আগের মতো নাই।মওলানা ধরনের মানুষের দিকে এখন আর আগের মতো ভয়-মিশ্রিত শ্রদ্ধার চোখে কেউ তাকায় না। মওলানাও যে বিবেচনায় রাখার মতো একজন, কেউ তাও বোধহয় মনে করে না। ছল্টুফল্টু ভাবে।”― এই মেঘ, রৌদ্র-ছায়া
৫৪ . আমাদের সবার ভুবনই আলাদা। এই ভুবনও একদিন ভাঙবে। আমরা অচেনা এক বৃত্তের দিকে যাত্রা শুরু করব। সেই বৃত্ত কেমন কে জানে! পৃথিবীতেই এত রহস্য। না জানি কত রহস্য অপেক্ষা করছে অদেখা ভুবনে।
৫৫. প্রেমে পড়া মানে নির্ভরশীল হয়ে পড়া। তুমি যার প্রেমে পড়বে সে তোমার জগতের একটা বিরাট অংশ দখল করে নেবে। যদি কোনো কারণে সে তোমাকে ছেড়ে চলে যায় তবে সে তোমার জগতের ঐ বিরাট অংশটাও নিয়ে যাবে। তুমি হয়ে পড়বে শূণ্য জগতের বাসিন্দা
৫৬. হিমু কখনও জটিল পরিস্থিতিতে পড়ে না। ছোটখাট ঝামেলায় সে পড়ে। সেই সব ঝামেলা তাকে স্পর্শও করে না। সে অনেকটা হাসেঁর মত। ঝাড়া দিল গা থেকে ঝামেলা পানির মত ঝরে পড়ল।
৫৭. আমার খুব শখ বড় রকমের ঝামলায় পড়লে সে কি করে। কাজেই হিমুর জন্য বড় ধরনের একটা সমস্যা আমি তৈরি করেছি। এবং খুব আগ্রহ নিয়ে তার কান্ড-কারখানা দেখেছি।
৫৮. বিপদ যখন আসে একটার পর একটা আসে। বিপদরা পাঁচ ভাইবোন। এদের মধ্যে খুব মিল। এই ভাইবোনরা কখনো একা কারো কাছে যায় না। প্রথম একজন যায়, তারপর তার অন্য ভাইবোনরা উপস্থিত হয়।
৫৯. আমার সমস্যার কথা রুপাকে কি আমি বলতে পারি? আমি কি বলতে পারি – আমার বাবার স্বপ্ন সফল করার জন্য সারাদিন আমি পথে পথে ঘুরি। মহাপুরুষ হবার সাধনা করি. যখন খুব ক্লান্তি অনভব করি তখন একটি নদীর স্বপ্ন দেখি। যে নদীর জল ছুয়ে ছুয়ে এক জন তরুনি ছুটে চলে যায়. এক বার শুধু থমকে দাড়িয়ে তাকায় আমার দিকে। তার চোখে গভীর মায়া ও গাঢ় বিষাদ। এই তরুনীটি আমার মা. আমার বাবা যাকে হত্যা করেছিলেন।
৬০. এই সব কথা রুপাকে বলার কোনো অর্থ হয় না. বরং কোনো-কোনো দিন তরঙ্গিনী স্টোর থেকে টেলিফোন করে বলি – রুপা, তুমি কি এক্ষুনি নীল রঙের একটা সারি পরে তোমাদের ছাদে উঠে কার্নিশ ধরে নিচের দিকে তাকাবে? তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। একটুখানি দাড়াও। আমি তোমাদের বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে হেটে চলে যাব.আমি জানি রুপা আমার কথা বিশাস করে না, তবুও যত্ন করে সারি পরে. চুল বাধে। চোখে কাজলের ছোয়া লাগিয়ে কার্নিশ ধরে দাড়ায়। সে অপেক্ষা করে. আমি কখনো যাই না.আমাকে তো আর দশটা ছেলের মত হলে চলবে না. আমাকে হতে হবে অসাধরণ।আমি সারাদিন হাটি। আমার পথ শেষ হয় না. গন্তব্যহীন যে যাত্রা তার কোনো শেষ থাকার তো কথাও নয় ।
৬১. সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে হলো, আসাদুল্লাহ সাহেবের নীলপদ্ম থিউরি ঠিক আছে. এই তরুণী তার সমস্ত নীলপদ্ম হিমু নামের এক ছেলের হাতে তুলে দিয়ে তীব্র কষ্ট ও যন্ত্রণার ভেতর বাস করছে। এই যন্ত্রণা, এই কষ্ট থেকে তার মুক্তি নেই
৬২. মেয়েরা ভয়ঙ্কর দুর্যোগেও সাজ ঠিক রাখতে ভোলে না।
৬৩. ভালোবাসা আর ঘৃণা আসলে একই জিনিস। একটি মুদ্রার এক পিঠে “ভালোবাসা” আরেক পিঠে লেখা ঘৃণা। প্রেমিক প্রেমিকার সামনে এই মুদ্রা মেঝেতে ঘুরতে থাকে। যাদের প্রেম যতো গভীর তাদের মুদ্রার ঘূর্ণন ততো বেশি। এক সময় ঘূর্ণন থেমে যায় মুদ্রা ধপ করে পড়ে যায়। তখন কারো কারোর ক্ষেত্রে দেখা যায় “ভালোবাসা” লেখা পিঠটা বের হয়েছে, কারো কারো ক্ষেত্রে ঘৃণা বের হয়েছে। কাজেই এই মুদ্রাটি যেন সবসময় ঘুরতে থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ঘূর্ণন কখনো থামানো যাবে না।”― দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই ।
৬৪ . ওর কিছু নিজস্ব বিচিত্র লজিক আছে। সে ঐ লজিকে চলে । অন্য কারো কথাই শোনেনা । আমার কথাও শুনবেনা ।
৬৫. চাঁদের বিশালতা মানুষের মাঝেও আছে, চাঁদ এক জীবনে বারবার ফিরেআসে…ঠিক তেমন মানুষ প্রিয় বা অপ্রিয় যেই হোক,একবার চলে গেলে আবার ফিরে আসে ।
৬৬. কয়েক মুহুর্তের জন্যে আমার ভেতর এক ধরনের বেভ্রম তৈরী হল. মনে হল আমার আর হাটার প্রয়োজন নেই। মহাপুরুষ না, সাধারণ মানুষ হয়ে মমতাময়ী এই তরুনিতির পাশে এসে বসি। যে নীলপদ্ম হাতে নিয়ে জীবন শুরু করেছিলাম, সেই প্দ্ম্গুলি তার হাতে তুলে দেই. তারপরেই মনে হলো – এ আমি কি করতে যাচ্ছি! আমি হিমু – হিমালয়।
৬৭. পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নেই।
৬৮. যে ভালোবাসা না চাইতে পাওয়া যায়, তার প্রতি কোনো মোহ থাকে না
৬৯. গল্প-উপন্যাস হলো অল্পবয়েসী মেয়েদের মাথা খারাপের মন্ত্র।
৭০. ঝর বৃষ্টির রাত হলেই এলিটা আমার সঙ্গে পক্খিমানবের সন্ধানে বের হয়.মানব জাতির সমস্যা হচ্ছে তাকে কোনো না কোনো সন্ধানে জীবন কাটাতে হয়. অর্থের সন্ধান, বিত্তের সন্ধান, সুখের সন্ধান, ভালবাসার সন্ধান, ইশ্বরের সন্ধান।আমি আর এলিটা সন্ধান করছি সামান্য পক্খিমানবের।
৭১. হিমু ভাই!”বল”যাবার আগে আপনি কি বলে যাবেন আপনি কে?’ আমি বললাম, ‘মারিয়া, আমি কেউ না. I am nobody.’ আমি আমার এক জীবনে অনেককে এই কথা বলেছি – কখনো আমার গলা ধরে যায়নি, বা চোখ ভিজে অঠেনি। দুটা ব্যাপারী এই প্রথম ঘটল.
৭২. আমার সঙ্গে কি আছে জানিস? পদ্ম। নীলপদ্ম। পাচটা নীলপদ্ম নিয়ে ঘুরছি। কি অপূর্ব পদ্ম। কাউকে দিতে পারছিনা। দেয়া সম্বব নয়. হিমুরা কাউকে নীলপদ্ম দিতে পারে না।
৭৩. হিমুর প্রতিটি কথা ভুয়া। সত্যি কথা সে অতীতে কোনোদিন বলেনি। ভবিষ্যতেও বলবে না।
৭৪. জোছনা দেখতে দেখতে, আমার হটাৎ মনে হলো, প্রকৃতির কাছে কিছু চাইতে নেই, কারণ প্রকৃতি মানুষের কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ রাখে না ।
৭৫. চানসোনা জবাব দিলো না. যেভাবে বসেছিল সেভাবেই বসে রইল । কতকাল আগে এক শ্রাবণ মাসে তের বছরের চানসোনা এই গ্রামে এসেছিল্ । লম্বা ঘোমটার ফাঁকে অবাক হয়ে দেখেছিল ভাটি অচ্ঞল । অজানা এই জায়গাটার জন্য কেমন এক ধরনের মমতা জন্মেছিল্। আজ এই মমতা বহুগুণে বেড়ে তাকে ভাসিয়ে নিতে চাইছে। এতটুকু মাত্র শরীর মানুষের এই মমতা সে কোথায় ধারণ করে?
৭৬. দিতে পার একশ’ ফানুস এনে আজন্ম সলজ্জ সাধ, একদিন আকাশে কিছু ফানুস উড়াই।
৭৭. জানালার ওপাশের অন্ধকার থেকে আমার সঙ্গীরা আমায় ডাকে। একদিন যাদের সঙ্গ পেয়ে আজ নিঃসঙ্গতায় ডুবছি।
৭৮. দরিদ্র পুরুষদের প্রতি মেয়েদের একপ্রকার মায়া জন্মে যায়,আর এই মায়া থেকে জন্মায় ভালোবাসা।
৭৯.বন্ধুত্ব তখনই গাঢ় হয় যখন কেউ কাউকে চিনে না।
৮০. বিবাহ এবং মৃত্যু এই দুই বিশেষ দিনে লতা-পাতা আত্মীয়দের দেখা যায়। সামাজিক মেলামেশা হয়। আন্তরিক আলাপ আলোচনা হয়।
৮১. আমি কখনো অতিরিক্ত কিছুদিন বাঁচার জন্য সিগারেটের আনন্দ ছাড়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমি ভেবে রেখেছিলাম ডাক্তারকে বলব, আমি একজন লেখক। নিকোটিনের বিষে আমার শরীরের প্রতিটি কোষ অভ্যস্ত। তোমরা আমার চিকিৎসা করো, কিন্তু আমি সিগারেট ছাড়ব না। তাহলে কেন ছাড়লাম? পুত্র নিনিত হামাগুড়ি থেকে হাঁটা শিখেছে। বিষয়টা পুরোপুরি রপ্ত করতে পারেনি। দু-এক পা হেঁটেই ধুম করে পড়ে যায়। ব্যথা পেয়ে কাঁদে। একদিন বসে আছি। টিভিতে খবর দেখছি। হঠাৎ চোখ গেল নিনিতের দিকে। সে হামাগুড়ি পজিশন থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে। হেঁটে হেঁটে এগিয়ে আসছে আমার দিকে। তার ছোট্ট শরীর টলমল করছে। যেকোনো সময় পড়ে যাবে এমন অবস্থা। আমি ডান হাত তার দিকে বাড়িয়ে দিতেই সে হাঁটা বাদ দিয়ে দৌড়ে হাতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বিশ্বজয়ের ভঙ্গিতে হাসল। তখনই মনে হলো, এই ছেলেটির সঙ্গে আরও কিছুদিন আমার থাকা উচিত। সিগারেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত সেই মুহূর্তেই নিয়ে নিলাম।
৮২. বেশিরভাগ রূপবতী মেয়ে নকল হাসি হাসে। হাসার সময় ঢং করার চেষ্টা করে। তাদের হাসি হায়েনার হাসির মতো হয়ে যায়।
৮৩ . আমার সমস্যার কথা রুপাকে কি আমি বলতে পারি? আমি কি বলতে পারি – আমার বাবার স্বপ্ন সফল করার জন্য সারাদিন আমি পথে পথে ঘুরি। মহাপুরুষ হবার সাধনা করি। যখন খুব ক্লান্তি অনভব করি তখন একটি নদীর স্বপ্ন দেখি। যে নদীর জল ছুয়ে ছুয়ে এক জন তরুনি ছুটে চলে যায়। এক বার শুধু থমকে দাড়িয়ে তাকায় আমার দিকে। তার চোখে গভীর মায়া ও গাঢ় বিষাদ। এই তরুনীটি আমার মা। আমার বাবা যাকে হত্যা করেছিলেন। এই সব কথা রুপাকে বলার কোনো অর্থ হয় না। বরং কোনো-কোনো দিন তরঙ্গিনী স্টোর থেকে টেলিফোন করে বলি – রুপা, তুমি কি এক্ষুনি নীল রঙের একটা সারি পরে তোমাদের ছাদে উঠে কার্নিশ ধরে নিচের দিকে তাকাবে? তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। একটুখানি দাড়াও। আমি তোমাদের বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে হেটে চলে যাব। আমি জানি রুপা আমার কথা বিশাস করে না, তবুও যত্ন করে সারি পরে, চুল বাধে। চোখে কাজলের ছোয়া লাগিয়ে কার্নিশ ধরে দাড়ায়। সে অপেক্ষা করে। আমি কখনো যাই না। আমাকে তো আর দশটা ছেলের মত হলে চলবে না। আমাকে হতে হবে অসাধরণ।আমি সারাদিন হাটি। আমার পথ শেষ হয় না। গন্তব্যহীন যে যাত্রা তার কোনো শেষ থাকার তো কথাও নয়।
৮৪. ঝর বৃষ্টির রাত হলেই এলিটা আমার সঙ্গে পক্খিমানবের সন্ধানে বের হয়। মানব জাতির সমস্যা হচ্ছে তাকে কোনো না কোনো সন্ধানে জীবন কাটাতে হয় । অর্থের সন্ধান, বিত্তের সন্ধান, সুখের সন্ধান, ভালবাসার সন্ধান, ইশ্বরের সন্ধান। আমি আর এলিটা সন্ধান করছি সামান্য পক্খিমানবের।
৮৫. কয়েক মুহুর্তের জন্যে আমার ভেতর এক ধরনের বেভ্রম তৈরী হল । মনে হল আমার আর হাটার প্রয়োজন নেই. মহাপুরুষ না, সাধারণ মানুষ হয়ে মমতাময়ী এই তরুনিতির পাশে এসে বসি । যে নীলপদ্ম হাতে নিয়ে জীবন শুরু করেছিলাম, সেই প্দ্ম্গুলি তার হাতে তুলে দেই. তারপরেই মনে হলো – এ আমি কি করতে যাচ্ছি! আমি হিমু – হিমালয়।
৮৬. তুমি আমাকে যে চিটি লিখেছিলে আমি তার জবাব লিখে এনেছি। সাংকেতিক ভাষায় লিখে এনেছি।’ মারিয়া হাত বাড়াল। তার চোখে চাওয়া কৌতুক ঝকমক করছে। মনে হচ্ছে যে কোনো মুহুর্তে হে খিলখিল করে হেসে ফেলবে । যেন সে অনেক কষ্টে হাসি থামাচ্ছে। ‘সাংকেতিক চিঠিটাই কি লেখা পড়তে পারছ?’ ‘পারছি। এখানে লেখা I hate you.’ ‘I Love you – ও তো হতে পারে।’ ‘সংকেতের ব্যাখ্যা সবাই তার নিজের মত করে করে, আমিও তাই করলাম। আপনার আটটা তারার অনেক মানে করা যাই, যেমন – I want you. I miss you. I lost you. আমি আমার পছন্দ মত একটা বেছে নিলাম।
৮৭. কষ্টের সাথে যাদের বসবাস রাতটা তাদের জন্য যে কি কষ্টের সেটা শুধু তারাই জানে। সারাদিন কষ্ট গুলো বুকের মাঝে চেপে রাখলেও রাতে যেন কোনো ভাবেই ঠেকানো যায় না। বুক ফেটে কষ্ট গুলো বের না হলেও, চোখ ফেটে বের হয়ে আসে অশ্রু |
৮৮. ভালো মানুষের রাগ থাকে বেশি। যারা মিচকা শয়তান তারা রাগে না। পাছায় লাথি মারলেও লাথি খেয়ে হাসবে।
৮৯. রতিটি মেয়েই নিষ্ঠুর হবার অসীম ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়।
৯০. দুনিয়াতে খুব অল্প কিছু মানুষ আছে,যারা আসলেই আলাদা, সারা জীবনেও তারা কারও আপন হতে পারে না, তাদের কেউই বুঝে না, তাদের সব থেকেও আসলে শূন্যতা ছাড়া কিছুই থাকে না, তারা একা আসে, একা ঘুরে, একাই থাকে, একাই চলে যায়!
৯১. মেয়েদের চরিত্রের একটা বিশেষ দিক হল, যেই মুর্হূতে তারা অপর পক্ষের আগ্রহ টের পায়, সেই মুর্হূতে তারা দপ করে নিভে যায়।
৯২. বিভ্রম তৈরীর খেলা প্রকৃতির খুবই প্রিয় খেলা ।
৯৩. আবেগ লুকাতে হয় । অতি আবেগ মানুষকে সামনে এগুতে দেয় না ।
৯৪. এক জন মানুষ সবচেয়ে বেশী ভান করে তার চিঠিতে । যে এই ভানের ওপরে উঠে আসতে পারে, তাকে তার প্রাপ্য সন্মান দিতে হয় ।
৯৫. ভয়ংকর ভয়ের স্বপ্নে মানুষের ঘুম ভাঙে আবার অস্বাভাবিক আনন্দের স্বপ্নেও মানুষের ঘুম ভাঙে ।
৯৬. মেয়ে জাতটাই হচ্ছে মায়াবতীর জাত ।
৯৭. একটি মেয়ে খুব সহজে কাঁদতে পারে। কারণ তারা মাঝে মাঝেই একটু কষ্ট পেয়েই কেঁদে অভস্ত। কিন্তু একটি ছেলে তখনই কাঁদে যখন সে তার কষ্ট কে ধরে রাখতে পারে না। ওই মুহর্তে তার কান্নাটা এতো টাই তীব্র হয়। যে পৃথিবীর সমস্ত সুখ ও যদি এনে দেওয়া হয় কারো ক্ষমতা নেই সেই কান্নাটুকু থামানোর।
৯৮. প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করে বলেই শ্রেষ্ঠ সন্তান মানুষকে নানান রহস্য দিয়ে পৃথিবীতে পাঠায়। সারাজীবন প্রতিটি মানুষ তার রহস্যের খেলা খেলে। কিন্তু প্রকৃতি দাঁড়িপাল্লায় মেপে সবাইকে সমান রহস্য দেন না ।
৯৯ . যারা বেশি কথা বলে তারা মানুষ হিসেবে ভাল হয়।
১০০ . একখণ্ড বিশাল মেঘ চাঁদটিকে ঢেকে দিয়েছে।চাঁদের আলো এখন আর চোখে লাগছে না। চারদিক কি সুন্দর লাগছে। কি অসহ্য সুন্দর। হতাশা,গ্লানি, দুঃখ ও বঞ্চনার পৃথিবীকে এত সুন্দর করে বানানোর কি প্রয়োজন ছিল কে জানে ?
১০১ . সত্যি । মাঝে মাঝে প্রকৃতির এত্ত সৌন্দর্য দেখলে ঠিক থাকতে পারি না । মনে হয়, প্রকৃতির সাথে মিশে একাকার হয়ে যাই । আল্লাহ্ পৃথিবীতেই যদি এত সুখ দিয়ে রাখে, বেহেস্তে কী দিবে?
১০২ . তুমি আমার জন্যে দু’ফোটা চোখের জল ফেলেছ–তার প্রতিদানে আমি “জনম জনম কাঁদিব।
১০৩ . মানুষ মৃত বেক্তিদের জন্য অপেক্ষা করে না। জীবিতদের জন্য অপেক্ষা করে।
১০৪ . অন্ধকার বলে কিছু নেই, আলোর অনুপস্থিতিকে অন্ধকার বলে। তেমনি কষ্ট বলেও কিছু নেই, সুখের সাময়িক অনুপস্থিতিকে কষ্ট বলে।
১০৫ . ফেলে আসা দিনগুলোই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেশি সুন্দর হয়। যেমন ধরুন আপনার স্কুল লাইফ। সত্যিই সেই দিনগুলো দারুন ছিলো।
১০৬ . আমার বাবা তাঁর সমস্ত আত্মীয়স্বজনের বিয়েতে প্রীতি-উপহার দেয়াকে অবশ্যকর্তব্য মনে করতেন। রাত জেগে নিজেই লিখতেন।বিয়ের আসরে এই ‘কাব্য’ আমাকেই পাঠ করে শুনাতে হতো। পাঠ শেষে জনে জনে টা বিলি করা হতো। তারপর আমাকে প্রীতি উপহার নিয়ে পাঠানো হতো মেয়েমহলে।কনেকে ঘিরে থাকতো তার বান্ধবীরা।তারা তখন আমাকে নিয়ে নানান রঙ্গ-রসিকতা করতো।আমি যথেষ্ট আবেগ দিয়ে প্রীতি-উপহার পড়ছি,এর মধ্যে কেউ একজন বলে বসল, ‘এই বান্দর,চুপ কর’। মেয়েরা সবাই হেসে এ ওর গায়ে গড়িয়ে পড়ত।আমি চোখ মুছতে মুছতে বিয়ের আসরে ফিরতাম।
১০৭ . মেয়েদের সবচে বেশি আনন্দ হয়, যখন ঝগড়াতে স্বামীকে হারাতে পারে। স্বামীর পরাজিত মুখ স্ত্রীর কাছে যুদ্ধে জয়ের মতো।
১০৮. জীবনটা আসলেই অনেক সুন্দর! এতো বেশি সুন্দর যে, মাঝে মাঝে অসহ্য লাগে।
১০৯ . হয়তো আমরা আমাদের চারপাশের সবার কাছে থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়ে থাকি, কিন্তু কোনো ভালোবাসা পিতামাতার ভালোবাসার মত নয়।
১১০ . না পাওয়া ভালোবাসা গুলো সব সময় সত্যি মনে হয়, পাবার পর কত জন মূল্য দিতে পারে?
১১১ . আমরা মানুষের জটিলতা দেখে অভ্যস্ত, সারল্যকে আমরা ভয় করি। কারো ভেতরে ঐ ব্যাপারটি দেখলে থমকে যাই, এবং আমাদের মনের একটি অংশ বলতে থাকে নিশ্চয়ই কোন একটা রহস্য আছে।
১১২ . সব মানুষের মধ্যে একটা ইষ্টিশন থাকে। সেই ইষ্টিশনের সিগন্যাল ডাউন করা। ইষ্টিশনে সবুজ বাতি জ্বলছে। আনন্দময় ট্রেনের জন্যে অপেক্ষা। কারো কারো ষ্টেশনে ট্রেন সত্যি সত্যি এসে থাকে। কারো কারো ষ্টেশনে আসে ঠিকই, কিন্তু মেলট্রেন বলে থামে না। ঝড়ের মতো উড়ে চলে যায়।
১১৩ . শহরের সাথে গ্রামের এই বুঝি পার্থক্য। শহরে দৃষ্টি আটকে যায়। গ্রামে যায় না।
১১৪. জীবনের গভীরতম বোধকে আমি অনুভব করতে পারি। জোছনার অপূর্ব ফুলকে আমি দেখতে পাই – কিন্তু তারা অন্তরের এতই গভীরে যে, আমি তুলে আনতে পারি না। বার বার হাত ফসকে যায়। দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী জেগে আমি অপেক্ষা করি। কোন দিন কি পারব সেই মহান বোধকে স্পর্শ করতে ? নিজেকে বোঝাই – ভাগ্যে যা আছে তা হবে। Every man’s fate We have fastened On his own neck. (সূরা বনি ইসরাঈল) আমরা কি করব না করব সবই পূর্ব-নির্ধারিত। কি হবে চিন্তা করে? নিয়তির হাতে সব ছেড়ে-ছুড়ে দিয়ে অপেক্ষা করাই ভালো। আমি অপেক্ষা করি।
১১৫. সব মানুষের মাঝে একজন মহাপুরুষ বাস করে। তাঁরা কখনো প্রকাশিত হন। কখনো হন না।
১১৬. মেয়ে জাতটা বড় অদ্ভুত। কী বললে পুরুষ মানুষের মন ভালো হয় সেটা যেমন জানে, আবার কী বললে পুরুষ মানুষের মাথা খারাপ হয়ে যায় সেটাও জানে।
১১৭. করুণাও এক ধরনের ভালোবাসা, তবে তা ক্ষতিকারক ভালোবাসা। এই ভালোবাসা মানুষকে অসুস্হ করে দেয়
১১৮. মানুষ হয়ে জন্মানোর সবচেয়ে বড় কষ্ট হচ্ছে মাঝে মাঝে তার সবকিছু পেছনে ফেলে চলে যেতে ইচ্ছা করে, কিন্তু সে যেতে পারে না। তাকে অপেক্ষা করতে হয়। কিসের অপেক্ষা তাও সে ভালমত জানে না।
১১৯. তুমি যদি কাউকে হাসাতে পার, সে তোমাকে বিশ্বাস করবে. সে তোমাকে পছন্দও করতে শুরু করবে!
১২০. আমরা কাউকেই হারাতে চাই না, কিন্তু সবাইকেই হারাতে হয়।
১২১. কষ্ট মানুষকে পরিবর্তন করে, আবার কষ্ট মানুষকে শক্তিশালীও করে ।
১২২. সব ক্ষমতা নিয়ে একজন দূরে বসে আছেন। ভুল বললাম দূরে না, কাছেই বসে আছেন। খুব বেশি কাছে বলেই তাকে দেখা যায় না।
১২৩. পুরুষ মানুষ দিনরাত স্ত্রীর আঁচলে বাঁধা থাকলে বুঝতে হবে সে পুরুষ মানুষই না। তার কোন সমস্যা আছে।
১২৪. পৃথিবীতে আনন্দ এবং দুঃখ সব সময় থাকবে সমান সমান। বিজ্ঞানের ভাষায়- Conservation of আনন্দ। একজন কেউ চরম আনন্দ পেলে, অন্য জনকে চরম দুঃখ পেতে হবে।
১২৫. অতিরিক্ত রূপবতীরা বোকা হয়, এটা জগতের স্বঃতসিদ্ধ নিয়ম।
১২৬. কষ্টের বেপার গুলো মানুষের ভাল মনে থাকে না।সে কখনো মনে রাখতে চায় না।কিন্তু, সুখের বেপারে খুব ভালভাবে মনে থাকে।কারন,এগুলো নিয়ে প্রায়ই ভাবা হয় ।
১২৭. মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামে। একঘেয়ে কান্নার সুরের মত সে শব্দ। আমি কান পেতে শুনি। বাতাসে জামগাছের পাতায় সরসর শব্দ হয়। সব মিলিয়ে হৃদয় হাহাকার করে ওঠে। আদিগন্ত বিস্তৃত শূন্যতায় কী বিপুল বিষণ্নতাই না অনুভব করি। জানালার ওপাশের অন্ধকার থেকে আমার সঙ্গীরা আমায় ডাকে। একদিন যাদের সঙ্গ পেয়ে আজ নিঃসঙ্গতায় ডুবছি।
১২৮. যখন কেউ কারো জন্য কাঁদে, সেটা হলো আবেগ। যখন কেউ কাউকে কাঁদায়, সেটা হলো প্রতারণা। আর যখন কেউ কাউকে কাঁদিয়ে নিজেও কেঁদে ফেলে, সেটাই হলো প্রকৃত ভালোবাসা ।
১২৯. বড় বোকামিগুলি বুদ্ধিমান মানুষরাই করে।
১৩০. পৃথিবীতে ফিনিক ফোটা জোছনা আসবে। শ্রাবন মাসে টিনের চালে বৃষ্টির সেতার বাজবে। সেই অলৌকিক সঙ্গীত শোনার জন্য আমি থাকব না।
১৩১ . ভালোবাসার মাঝে হালকা ভয় থাকলে, সেই ভালোবাসা মধূর হয়।কেননা, হারানোর ভয়ে প্রিয়য়জনের প্রতি ভালোবাসা আরো বেড়ে যায়!!
১৩২ . পৃথিবীর কিছু মানুষ জন্ম থেকে অতৃপ্ত । এদেরকে তৃপ্ত করার চেষ্টা করাও বোকামি । ওরা অতৃপ্ত থেকেই তৃপ্ত হয় ।
১৩৩ . বাঙ্গালী মেয়েদের গায়ের রঙের একটা মাত্রা আছে। কোনও মেয়ে যদি সেই মাত্রা অতিক্রম করে যায় তখন আর ভালো লাগে না। তার মধ্যে বিদেশী বিদেশী ভাব চলে আসে। তাকে আর আপন মনে হয় না।
১৩৪ . সম্পর্কের বন্ধন ঠিক পেরেকের প্যাঁচের মত। একবার যদি প্যাঁচ কেটে যায়, তা আর যত চেষ্টাই করনা কেন তা আর আগের মত মজবুত হয়না। হয়তো কৌশলে বা বল প্রয়োগে তা দেখতে আগের মত থাকবে কিন্তু ভেতরটা দেখলে একদম নড়বড়ে।
১৩৫ . আমি ঘর ছাডিয়া বাহির হ্ইয়া, জোছনা ধরিতে যাই। হাত ভর্তি চাদের আলো, ধরতে গেলেই নাই।
১৩৬ . মানুষের বিপদে এখন আর মানুষ এগিয়ে আসে না। এই যুগের নীতি হচ্ছে বিপদ্গ্রস্ত মানুষের কাছ থেকে দুরে চলে যাওয়া । যে যত দুরে যাবে তত ভাল থাকবে।
১৩৭ সাধারণ মেয়েরা ছালবাকল নেই ছেলের প্রেমে কখনো পড়বে না। তারা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার খুঁজবে। টাকা-পয়সা খুঁজবে। ঢাকায় বাড়ি আছে কি-না দেখবে। কিন্তু অতি বিত্তবান মেয়েরা ছালবাকল নেই ছেলেদের প্রতি এক ধরনের মমতা পোষণ করবে। অসহায়ের প্রতি করুণা। সেই করুণা থেকে প্রেম।
১৩৮ সারা জীবন পাশাপাশি থেকেও এক সময় একজন অন্যজনকে চিনতে পারে না। আবার এমনও হয়, এক পলকের দেখায় একে অন্যকে চিনে ফেলে।
১৩৯ . প্রত্যেক ভালবাসায় দুইজন সুখী হলেও তৃতীয় একজন অবশ্যই কষ্ট পাবেই, এটাই হয়তো প্রকৃতির নিয়ম |
১৪০. সুন্দরী মেয়েদের হাতের লেখা সুন্দর হয়।এটা হল নিপাতনে সিদ্ধ।সুন্দরীরা মনে প্রাণে জানে তারা সুন্দর। তাদের চেষ্টাই থাকে তাদের ঘিরে যা থাকবে সবই সুন্দর হবে।
১৪১. পৃথিবীতে সবচে’ সুখী মানুষ কে?’ ‘যার কাছে ঘুম আনন্দময় সে-ই পৃথিবীর সবচে’ সুখী মানুষ’।
১৪২. মেয়েরা হচ্ছে জন্মদাত্রী জননী। হাজার ভুল করলেও এদের উপর রাগ করতে নেই। এদের উপর রাগ করাটাই কাপুরুষতা।
১৪৩. ‘বাবা’ সম্বোধনে লেখা চিঠি অগ্রাহ্য করা কোন পুরুষের পক্ষেই সম্ভব না। মেয়েদের পক্ষে ‘মা’ সম্বোধনের চিঠি অগ্রাহ্য করা খুবই সম্ভব। তারা ‘মা’ ডাক শুনে অভ্যস্ত। পুরুষরা বাবা শুনে অভ্যস্ত না। কেউ বাবা ডাকলেই সেই ডাক পুরুষদের মাথার ভেতর ডুকে যায়।
১৪৪. জীবন সহজও নয় জটিলও নয়। জীবন জীবনের মতো। আমরাই একে জটিল করি- সহজ করি।
১৪৫. পৃথিবীর সবচেয়ে অসুন্দর দৃশ্য হল লোভে চকচক করা চোখ। আর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য গভীর মমতায় আদ্র প্রেমিকার চোখ।
১৪৬. অতিকাছের মানুষের অবহেলা সহ্য করার ক্ষমতা মানুষের নেই মানুষ বড় অভিমানি প্রাণী ||
১৪৭. হাসি সবসময় যে সুখের প্রকাশ তা নয়, আপনি কতটা দু:খ লুকাতে পারেন তাও বুঝায়
১৪৮. খুব ভাল লাগবে যদি শুনি আমি চলে যাবার পরও কেউ হিমু হয়ে খালি পায়ে রাস্তায় হাটে।
১৪৯. আমাদের সবার ভুবনই আলাদা। এই ভুবনও একদিন ভাঙবে। আমরা অচেনা এক বৃত্তের দিকে যাত্রা শুরু করব। সেই বৃত্ত কেমন কে জানে! পৃথিবীতেই এত রহস্য। না জানি কত রহস্য অপেক্ষা করছে অদেখা ভুবনে।
১৫০. শেকসপীয়ারের মতো মানুষও কিন্তু ভূত বিশ্বাস করতেন | তিনি হ্যামলেটে বলেছেন___ There are many things in heaven and Earth.
১৫১. বর্তমানটাই সত্যি । অতীত কিছু না, ভবিষ্যৎ তো দূরের ব্যাপার । আমরা বাস করি বর্তমানে, অতীতেও না, ভবিষ্যতেও না ।
১৫২. কিছু মানুষের উপর আপনি কখনোই আস্থা রাখতে পারেন না। এরা নিজের সুখের জন্য ঝুলন্ত অবস্থায় পাহাড়ের চূড়া থেকে আপনার হাত ছেড়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না।
১৫৩. পৃথিবীর সবথেকে কঠিন ভাষা হলো চোখের ভাষা, এই ভাষা পড়ার জন্য মনে গভীর ভালবাসার দরকার হয়।
১৫৪. স্বপ্নদৃশ্য সবসময় হয় সাদা-কালো| স্বপ্ন বর্ণহীন|
১৫৫. যে-কোনো মেয়ের বিয়ের দিন বিবাহিত মেয়েদের মন খুশি খুশি থাকে| নিজের বিয়ের কথা মনে পড়ে এই জন্যে|
১৫৬. মাঝে মাঝে রেগে যাওয়া ভাল | রাগলে শরীরের রোগ জীবানু মরে যায় |
১৫৭. পাঁচ হচ্ছে ম্যাজিকেল নাম্বার। কোন মেয়েকে যদি কখনো পাঁচটা গোলাপ দেয়া যায় তাহলে সে জন্মের মত কেনা হয়ে যায়।
১৫৮. পুরোপুরি নিশ্চিন্ত, নির্ঝঞ্ঝাট জীবন যাপন সম্ভব না । সব জীবনেই কিছু ঝামেলা থাকবে । কাবাব যতই ভালই হোক,কাবাবের এক কোণায় ছোট হাড্ডির টুকরো থাকবেই।
সম্পাদনায় : আবু রায়হান মিকাঈল