Showing posts with label প্রতিবেদন. Show all posts
Showing posts with label প্রতিবেদন. Show all posts

Friday, December 13

 হলুদের উৎস গাঁদা ফুল

হলুদের উৎস গাঁদা ফুল

ঢাকা : শীতের দিনে হলুদের উৎস যে ফুলটি তার নামটি হচ্ছে গাঁদাফুল। অতি পরিচিত এই ফুলটির বৈজ্ঞানিক নাম Calendula officinalis. শীতকাল এলেই শহুরে বারান্দায়, ছাদে কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গনে হলুদ রঙের সমারোহ চোখে পড়বেই পড়বে।
দক্ষিণ ইউরোপে সর্বপ্রথম গাঁদাফুলের চাষ শুরু হলেও বর্তমানে এর ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান গাঁদাফুল ছাড়া যেন অসম্ভব বলেই মনে হয়। নারীরা প্রিয় জনের নজর কারতে খোঁপায় গুঁজে এ ফুলটি। শোভাবর্ধক হিসেবে মূলত এ ফুল ব্যবহৃত হলেও এ ফুলের রয়েছে অসংখ্য উপকারিতা। সেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে ক্ষতস্থান ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এন্টিসেপ্টিক হিসেবে গাঁদাফুল ও পাতা ব্যবহার করা হচ্ছে। কেটে যাওয়া স্থানে রক্ত পড়া বন্ধ করতে গাছের পাতা থেঁতলে ব্যবহার করা হয়। এ ফুলে রয়েছে প্রচুর ফ্ল্যাভিনয়েড ও ভিটামিন সি, কোন ফ্যাট থাকায় এটি ওজন কমাতেও সহায়ক। এক্ষেত্রে ফুলের পাঁপড়ি ভালো করে ধুয়ে মিক্সড সালাদে যোগ করা যায়। প্রচুর লাইকোপিন থাকায় হার্টের অসুখে ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
এছাড়াও ইনফ্লেমেটোরি ক্ষমতা থাকায় ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্যান্সার, হজমে সমস্যা ইত্যাদি প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। গরম পানিতে গাঁদাফুলের পাঁপড়ি দিয়ে ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে সেই পানি দিয়ে চা বানিয়ে খেলে তা মুখ ও পাকস্থলির আলসার প্রতিরোধ করে বলে গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে। স্তন ক্যান্সারের রোগীদের ক্যামোথেরাপীর পর চামড়ায় যে ডার্মাটোফাইটের আক্রমণ হয় তা কমাতে গাদাফুলের পেস্ট উপকারী। যা বাজারে Calendula ক্রীম হিসেবে পাওয়া যায়। গাঁধা ফুলে রয়েছে টার্পিনয়েড, এস্টার, ফ্ল্যাভোজেন্থিন। তাই ভেজিবেটল ডাই হিসেবেও এর রয়েছে বহুল ব্যবহার। পায়ের পাতার ফাঁকের ঘা নিরাময়ে এ ফুলের নির্যাস থেকে তৈরি তেল কার্যকরী। ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করতে গাঁদাফুল হতে পারে এক কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান। গরম পানিতে কয়েকটি পরিষ্কার তাজাফুল ভিজিয়ে রাখুন। প্রতিদিন সেই পানি মুখে মেখে দশমিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। গোসলের আগে গাঁদাফুলের পাঁপড়ি পরিষ্কার পানিতে ফুটিয়ে নিন। সেই পানি কুসুম গরম থাকতেই গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করে নিন। ভ্যাজিনাল ইনফেকশন, ব্লাডার ইনফেকশন, একজিমা প্রতিরোধ করবে।

Thursday, December 5

হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী শিল্প

হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী শিল্প

ঢাকা : হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী শিল্প স্বর্ণালংকার। হারিয়ে যাচ্ছেন স্বর্ণ কারিগররা। গত তিন বছরে স্বর্ণালংকার তৈরির পেশা ছেড়েছেন কমপক্ষে ২০ হাজার কারিগর। 
ব্যবসায় টানা মন্দার কারণে অনেকেই স্বর্ণের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলছেন। পেটের দায়ে পূর্বপরুর পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন স্বর্ণের কারিগররা। গত দশকজুড়ে স্বর্ণের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় স্বর্ণের বাজার দখল করে নিয়েছে বিদেশি অলঙ্কার। 
পুরান ঢাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  বর্তমানে স্বর্ণ কারিগরের সংখ্যা ৫০ হাজারের মতো। গত তিন বছরেই ২০ হাজারের বেশি কারিগর এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। ভরণপোষণের নিশ্চয়তা না থাকায় অনেকেই বংশানুক্রমিক এ পেশা ছেড়ে দিতে চাইছেন। গত বছর পর্যন্ত পূর্বপুরুষের পেশাটি ধরে রেখেছিলেন স্বর্ণ কারিগর নিখিল যাদব। বর্তমানে কাচামালের ব্যবসা করেন। বলেন, আগে একজন কারিগরের সম্মানের সঙ্গে স্বচ্ছলতাও ছিল। এখন সংসারই চলে না। অনেক মালিকই ব্যবসা গুটিয়ে ফেলছেন। পেটের দায়ে পেশাটি ছেড়েছেন।  তিনি জানান, সীতাহার বা মান্তাসার মতো ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণালঙ্কার তৈরি করতে একজন কারিগরের কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাত দিন লাগে। 
অথচ, এ জন্য এখনো তারা পারিশ্রমিক পান দিনে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। তারপরও হাতে অনেক কাজ থাকলে পুষিয়ে যেত। কিন্তু, মানুষ এখন খুব কমই স্বর্ণালঙ্কার তৈরি করছে। যারা টুকটাক স্বর্ণের গহনা পরেন তারা বেশিরভাগই রেডিমেড বিদেশি গহনার দিকে ঝুঁকছেন।

স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি স্বর্ণের বাজারে মন্দার প্রধান কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারের অস্থিরতা ও দেশের বাজারে বিদেশি স্বর্ণালংকারের দৌরাত্ম্য। আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে গিয়ে এ ব্যবসায় ধস নেমেছে। দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেনি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া স্বর্নালঙ্কার কিনছে না। আগে কোনো উৎসব ছাড়াও দোকানে ভিড় থাকত। একটা ছোট দোকানেও প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বেঁচাকেনা হত। এখন সেখানে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা বিক্রি হয়। কোনো দিন বিক্রিই হয় না। তাই ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই দায় হয়ে গেছে।

কারিগররা জানান, এক সময়ের জনপ্রিয় সীতাহার, মান্তাসা, হাঁসুলি, সিঁথি পাটির মতো অলংকার এখন আর কেউ তৈরি করাতে চান না। হাঁসুলি অনেক আগেই হারিয়ে গেছে। ঐতিহ্যবাহী এসব অলংকারের যে কোনোটি তৈরি করতে কমপক্ষে এক থেকে দেড় ভরি সোনা দরকার। দফায়-দফায় স্বর্ণের দামের উত্থান-পতনে মানুষ এখন আর এগুলো কিনতে আসে না।
বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে স্বর্ণের দাম প্রায় আটগুণ বেড়েছে। বর্তমানে উৎকৃষ্ট মানের সোনা (২২ ক্যারেট) প্রতি ভরির মূল্য ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা। গত তিন মাসে এই একই মানের স্বর্ণের দাম চারবার ওঠানামা করেছে। গত আগস্ট মাসে উৎকৃষ্ট মানের স্বর্ণ প্রতি ভরি বিক্রি হয়েছে ৪৮ হাজার ৬৩৮ টাকা। একই স্বর্ণ সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ভরিপ্রতি প্রায় দুই হাজার টাকা বেড়ে ৫০ হাজার ৭০০ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়।

Saturday, November 16

কফি আবিষ্কারের কাহিনী

কফি আবিষ্কারের কাহিনী

ঢাকা : শরীর-মন সতেজ করা পানীয় কফির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। অনেকে হয়তো কফি অনেক পছন্দও করো। কিন্তু কফি কবে, কোথায়, কীভাবে আবিষ্কার হয়েছিল, তা জানেন কজন? কফি আবিষ্কার নিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি কাহিনী। এর মধ্যে একটি কাহিনী বেশ মজার।

কফির আদি নিবাস ইথিওপিয়া। তবে আরবে ১৪ শতকের দিকে কফির চাষ করা হতো বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। আরবে প্রচলিত আছে, বহু শতাব্দী আগে কালদী নামের এক মেষপালক একদিন দেখলো যে তার মেষ ও ছাগলগুলো অদ্ভুত ধরনের আচরণ করছে। এই ঘটনা দেখে সে বোঝার চেষ্টা করলো কেন তারা এমন করছে। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখলো মেষ ও ছাগলগুলো সবুজ একপ্রকার উদ্ভিদের লালচে ফল খাচ্ছে এবং চারদিকে লাফালাফি ছোটাছুটি করছে।

মেষপালক দেখলো যে, বড় মেষগুলোও ছোট শাবকদের মতো লাফালাফি ছোটাছুটি, দুষ্টুমি করছে। এ ঘটনা দেখে মেষপালক নিজেই এ ফল খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। খাওয়ার পর নিজেকেও ওই মেষগুলোর মতো প্রাণবন্ত মনে হলো তার।

পরে কালদী তার মালিকের কাছে এ অভিজ্ঞতার কথা জানালো। তার মালিকও সেই ফল খেয়ে একই রকম অনুভব করলো। পরে জানা গেলো, এ ফল ছিল আসলে কফি ফল।

এ ঘটনার কোনো সত্য দলিল নেই। এটা গল্পই রয়ে গেছে। এমন গল্প রয়েছে আরও। ষোড়শ শতকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কফি পানের বিস্তার শুরু হয়। এর পর কফি পান ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে।

Tuesday, November 12

নারীলতা ফুল

নারীলতা ফুল


ঢাকা : অবিশ্বাস্য হলেও সত্য! নগ্ন নারীদেহের অবয়বে শ্বেতশুভ্র ডানাকাটা পরীরা গাছে ঝুলছে। এক বা দু'জন নয় অসংখ্য। আসলে পরী নয়, ফুল। আর এ ফুলের নাম নারীলতা। নগ্ন নারীদেহের মত দেখতে বলেই এ ফুলের নাম দেয়া হয়েছে "নারীলতা" ফুল। এমন বাহারী ফুল কিন্তু কারো বাগানের শোভা বাড়ায় না। পাহাড়ি বনফুল ওরা। গহীন বনেই ওদের অস্তিত্ব। মিথ হচ্ছে, ধ্যানমগ্ন কোন এক সাধু-যোগী তার গভীর ধ্যান ভঙ্গ করতে আসা স্বর্গের ঊর্বশীদের ইচ্ছাশক্তির বলে ঘনপত্রপল্লবিত গাছে লটকে দিয়েছে।

উপাখ্যান যাই হোক না কেন ফুলটি না দেখলে অনটকেরই হয়তো বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে। নারীলতা গাছে প্রতি বিশ বছর পর পর ফুল ফোটে। যে ফুলকে দেখলে অনেকেই ভাবতে পারেন এ গাছে মনে হয় পরীরা আস্তনা গেড়ে আছে।

তবে বাস্তবেই এমন ধরনের ফুলের অস্তিত্ব আছে পৃথিবীতে। এবং তা বেশি দূরে নয়। আমাদেরই প্রতিবেশী দেশ ভারতেও সন্ধান মিলেছে। সিকিম সংলগ্ন হিমালয় পর্বতের সারি সারি পাহাড়ের খাঁজে এদের জন্ম।

ভারতে এ গাছের নাম দেয়া হয়েছে নারীলতা (Nari Lota)। ভারত ছাড়াও থাইল্যান্ড এবং শ্রীলংকাতেও এ ফুল পাওয়া যায়। থাইল্যান্ডে  এর নাম “Nareepol” এবং  শ্রীলংকাতে ডাকা হয় “Liyathabara Mala” নামে।

প্রথমবার যারা এর সম্পের্ক পড়েন তাদের অধিকাংশই গাছ এবং ফুলটির অস্তিত্ব নিয়েই সন্দিহান হয়ে ওঠেন। কিন্তু তাদের জন্য তথ্য হচ্ছে, গাছটির বোটানিক পরিচয় আছে। এরা Orchidaceae পরিবারের Habenaria গোত্রভূক্ত উদ্ভিদ।

তবে এনিয়ে ভিন্নমতও পাওয়া যাচ্ছে। বেশির ভাগ মানুষ ইমেইল, ইন্টারনেটের মাধ্যমে এ ফুল বা ফলের বিষয়টি জানতে পারলেও নিজের চোখে কেউ তা দেখেছেন, এমন দাবি করেননি। একটি ইন্টারনেট সমীক্ষা ছবিগুলোকে 'অসাধারণ ফটোগ্রাফি' উল্লেখ করে নানা যুক্তি তুলে ধরে বলছে, এটি নিছক একটি ফটো এডিট ছাড়া কিছু নয়। তারা বলছে, সত্যিই যদি গাছটির অস্তিত্ব থাকত, তাহলে তা সারাবিশ্বে এতদিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠতো। তাছাড়া এসব ফুল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতো। কিন্তু, তা হয়নি। এমনকি, বিশ্বের জনপ্রিয় ট্রাভেল ওয়েবসাইটগুলোতেও এর কোনো উল্লেখ নেই। তাই 'চমকপ্রদ' এ ঘটনায় বিশ্বাস স্থাপন না করারই পরামর্শ দিয়েছে ওই সমীক্ষা।

তাহলে কি 'নগ্ননারী ফুল' অধরাই রয়ে গেল!---ডিনিউজ

Thursday, November 7

আলুর আলোয় উদ্ভাসিত উত্তর জনপদ: ফসলের বহুমুখীকরনে দিন বদল

আলুর আলোয় উদ্ভাসিত উত্তর জনপদ: ফসলের বহুমুখীকরনে দিন বদল

রংপুর : ফসলের বহুমুখীকরণ দিন বদলে দিচ্ছে, আগাম চাষের আমন ধান গোলায় তুলেই আগাম আলু বুনতে শুরু করেছেন উত্তরজনপথের কৃষক। ধানের পর আলু উত্তরের জনপদকে আলোয় উদ্ভাসিত করে তুলবে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা এখন কোন জমি আর পতিত ফেলে রাখছেন না। এক সময় মঙ্গা নামক এক দুঃসহ কাল কাটাতেন তারা। ফসল নেই, কাজ নেই, নেই খাবার। সেই মঙ্গাকে তাড়িয়ে দিয়েছে হাল আমলের আগাম ধান। আগাম ও স্বল্পমেয়াদী জাতের আমন ধান কর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকরা আলু রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। একদিকে চলছে ধানকর্তন, অন্যদিকে চলছে আলু রোপন। আবার কোথাও কোথাও আলুর গাছ গুলো লগলগ করে বেড়ে উঠছে। আলু রোপনকে ঘিরে প্রাণ ফিরে পেয়েছে উত্তরের নীলফামারী জেলা।
ক’দিন আগে ব্রি-৩৩, ব্রি-৩৯, ব্রি-৪৯, ব্রি-৫৬ ও বীণা-৭ জাতের ধান কেটেছেন কৃষক। সেই জমিতে এখন আগাম আলুর বীজ বুনছে, গত বছরের ভালো ফলন তাদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বাজারে আসবে এই আলু।
ফসলের মাঠে কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের বসে থাকার সময় নেই। প্রচুর কাজ হাতে। কাজ করে শেষ করতে পারছেনা। কৃষি শ্রমিকদের তাই পোয়া বারো। শ্রমের মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বছরের এই সময়টা যে কৃষি শ্রমিকরা রাজধানী বা অন্যান্য শহরে দিন মজুরি করতে যেতেন, তারা মাঠেই রয়ে গেছেন।

রংপুর কৃষি আঞ্চলিক অফিসের তথ্য মতে, চলতি বছরে এখনও আলু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়নি। তবে গতবছরের লক্ষমাত্রাকে সামনে নিয়ে অচিরেই আলু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ঘোষনা করা হবে। সুত্র মতে গত বছর এবার রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪৮ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরমধ্যে রংপুর জেলায় ৫০ হাজার ২১৮ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ৫ হাজার ৫৪২হেক্টর, লালমনিরহাটে ৪ হাজার ৭৫৬ হেক্টর, গাইবান্ধায় ৯ হাজার ৮৯ হেক্টর, নীলফামারীতে ১৮ হাজার ৯৯৪ হেক্টর, দিনাজপুরে ৩৫ হাজার ৪৭৭ হেক্টর, ঠাকুরগাঁয়ে ২২ হাজার ১৮৬ হেক্টর, পঞ্চগড়ে ৮ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে আলু রোপন করা হয়।
বাজারে যার আলু যত আগে উঠবে, তার লাভ তত বেশি। আগেভাগেই আলু আবাদ করছি নবান্নের বাজারটা ধরতে হবে।” আর দিনা কয়েক পরই আমন ধান কাটা শুরু হয়ে যাবে। এই ধান ঘরে তুলে গ্রামে শুরু হবে নবান্নের উৎসব। নবান্নে নানা ধরনের সবজির সঙ্গে আলু মিশিয়ে বাহারি তরকারির কদরও বেশি।জানালেন নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলু চাষী আলম হোসেন।
এবার আবহাওয়া অনুকূল, বীজের দাম কম। প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহও স্বাভাবিক। নীলফামারী জেলা সদর, কিশোরীগঞ্জ, সৈয়দপুর, জলঢাকা উপজেলায় আলু চাষ নিয়ে প্রচন্ডব্যস্ততা। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ কর্মব্যস্ত। নারী-পুরুষ সবাই মহাখুশী।
জিয়ারুল, শাবুল, বেলাল, টিটো, জহুরুল, খোকন, মানিক, প্রতিমা রায়, গোলাপী রানী রায়, রঞ্জিতা রাণী, রঞ্জিত এবং আরও অনেকেই কাজ করছেন আনন্দ নিয়ে। পারিশ্রমিক পাচ্ছেন দিনে ২০০ টাকা।বাড়ি ফিরে সন্তানের ক্ষুধার্ত চোখ দেখতে হবে না, এই ভাবনাতেই তাদের কাজের গতি যেন বেড়ে গেছে। তারা জানায় এবার ধর্মভেদে দূঁর্গা পূঁজো ও কোরবানীর ঈদটা তাদের ভালই কেটেছে।

রংপুর অঞ্চলের নীলফামারী,লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম,রংপুর সদর,গাইবান্ধায় এক সময় তীব্র অভাব ছিল। আগাম জাতের হাইব্রিট ধানের চাষ এসব এলাকার অন্ধকার দুর করেছে। মঙ্গাকে করেছে অতিত।নীলফামারীর জেলা সদরের চাপড়া গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, তিনি এবার সাত বিঘা জমিতে ব্রি-৩৩ ধান আবাদ করেছিলেন। ধান বিক্রি করেই আলু আবাদের খরচ বহন করছেন। বেড়াডাঙ্গার কৃষক কামরুজ্জামান ১৭ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করছেন। কিশোরীগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী, কালিকাপুর ও পানিয়ালপুকুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় অন্য রকম এক দৃশ্য। যতদূর চোখ যায় ততদূর 
শুধু আলু আবাদ চলছে।কিশোরীগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের গাংবের গ্রামের আলুচাষী আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ। জানালেন আগাম জাতের আমন ধান আবাদ করেছিলেন। সেই জমিতেই আলু করছেন। ফলন নিয়ে খুব আশাবাদী পানিয়ালপুকুর এলাকার আলুচাষী মোছারুল। তিনি গতবার পাঁচ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করলেও এবার দ্বিগুণ করেছেন। একই উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের আলুচাষী রবিউল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা গেল, কৃষকরা গ্রানুলা জাতের আলুই বেশি লাগাচ্ছে।এ ব্যাপারে জানতে নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহসীন রেজা বলেন, সবচেয়ে বেশি আগাম জাতের আলু চাষ হয় নীলফামারী,রংপুর লালমনিরহাট জেলায়। নীলফামারী জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৯৬ হেক্টরে আগাম আলু রোপন করেছে কৃষক। এখনও রোপনের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। তিনি আরো বলেন এখন পর্যন্ত নীলফামারীর শুধুমাত্র কিশোরীগঞ্জ উপজেলার ৪ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের গ্রানুলা আলু লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। এই উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতেই আলু করবে কৃষক।উত্তর জনপদ এবারও আলুর খুব ভালো ফলন হবে, বুকভরা আশা নিয়ে মাটির বুকে আলুর বীজ বুনছেন কৃষক। সেই বীজে মিশে আছে সোনালী দিনের স্বপ্ন।---ডিনিউজ

Monday, November 4

অজগর শাপ দিয়ে বডি মালিশ!

অজগর শাপ দিয়ে বডি মালিশ!

ঢাকা : মানুষ স্পা, বডি ‍ম্যাসাজ বা মালিশ করতে কত পদ্ধতিই না বের করেছে। মাছ, ইদুঁর এমনকি শামুক দিয়েও বডি ম্যাসাজ হয়েছে। বডি ম্যাসাজে আরো বৈচিত্র্য আনতে এবার অজগর সাপকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

অজগর সাপ, যাকে দেখলেই ভয়ে শরীর শিউরে ওঠে, সেই অজগরই এবার শরীরকে চাঙ্গা করে দিচ্ছে। আপনার শরীর মালিশ করে ফিরিয়ে আনবে সতেজতা। এজন্য ইন্দোনেশিয়ার জার্কাতায় খোলা হয়েছে ‘পাইথন ম্যাসাজ পার্লার’।

দোকানে ঢোকার মুখে অজগরের বড় একটা ছবি। শুরুতে দেখেই অনেকে ভয় পেয়ে যাচ্ছেন। তবে যারা সাহস করে যাচ্ছেন, বেরিয়ে এসে তাদের মুখে প্রশান্তি, আরাম আর সুখের হাসি।

অজগর মালিশ নেওয়ার পর ৩০ বছর বয়েসি এক মহিলা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, “প্রথমে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। যখন প্রথমে অজগর সাপটিকে গায়ের ওপর ফেলল, তখন তো চিত্‍কারও করে উঠলাম ভয়ে। কিন্তু একটু পরে বুঝতে পারলাম কত সুন্দরভাবে ও ম্যাসেজ করতে পারে। দারুণ একটা অনুভূতি হল আজ।''

এই ম্যাসাজ পার্লারের মালিক বলেন, “সারাদিন অনেক লোকেই আসছে। তবে অজগর সাপ দিয়ে ম্যাসাজ করানোর  ঝোঁক বিদেশি পর্যটকদের মধ্যেই বেশি।

অজগর সাপ দিয়ে ম্যাসাজ করাতে হলে খরচ করতে হচ্ছে ৩০ ব্রিটিশ পাউন্ড। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ হাজার ৮০০ টাকা। সেই হিসাবে দেখলে অজগর সাপের এই বৈচিত্রপূর্ণ মালিশ মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়ের কিছু নয়। যতই হোক অজগর বলে কথা..------ডিনিউজ

Saturday, November 2

গাছে ফলল সোনা!

গাছে ফলল সোনা!

ঢাকা : গাছ থেকে যদি সোনা পাড়তে বলা হয়, ঠাট্টা ভেবে হাসিতে ফেটে পড়বেন নিশ্চয়। সোনা কি গাছে ধরে নাকি, প্রশ্নকারীকেই উল্টো কুপোকাত করবেন নির্ঘাত। কিন্তু যদি শোনেন গাছে সোনা ফলার অনন্য নজির মিলেছে। তাহলে?

অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (সিএসআইআরও) বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একটি ইউক্যালিপটাস গাছের পাতা ও বাকলে সামান্য হলেও সোনার সন্ধান পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, গাছটির চারপাশের মাটিতেও মিলেছে সোনার নমুনা৷

যদিও গাছটির ত্রিসীমানায় কোনও সোনার খনি নেই৷ তাহলে রহস্যটা কী? জবাব দিলেন উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা। ইউক্যালিপটাসের মূলের গঠনই এই 'অঘটনের' কারণ। পানির সন্ধানে ইউক্যালিপটাস গাছের শিকড় মাটির বহু গভীর পর্যন্ত যেতে পারে৷ একটি ইউক্যালিপটাস গাছ ১০ মিটার দীর্ঘ হলে তার শিকড় গাছটির দৈর্ঘ্যরে চারগুণ বড় হতে পারে৷ অস্ট্রেলিয়ার গাছটির ক্ষেত্রেও এ ঘটনাই ঘটেছে৷ জলের সন্ধানে গাছটির শিকড় মাটির যে গভীরতায় গিয়েছে সেখানে সম্ভবত সোনার খনি রয়েছে৷

সিএসআইআরও-র ভূবিজ্ঞানী মেল লিনটার্ন জানিয়েছেন, মাটির গভীরে যে স্তরে গিয়ে গাছটি পানির সন্ধান পেয়েছে সেখানে সোনার খনি রয়েছে। পানির সঙ্গে সঙ্গে সামান্য পরিমাণ সোনাও শোষণ করেছে গাছটি৷ আর তাই গাছটির পাতার শিরা-উপশিরায় এবং বাকলে পাওয়া গেছে সোনার সামান্য নমুনা৷

কিন্তু এভাবে পানির সঙ্গে কতটা সোনা শোষণ করতে পারে ইউক্যালিপটাসের মতো একটি গাছ? বিজ্ঞানীরা এ হিসেবও কষে দেখেছেন। তাদের দাবি, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সোনার খনির থাকলে তার ওপর যদি এমন ৫০০টি গাছ জন্মায় তাহলে সেই গাছের পাতা ও বাকলে যতটা সোনা সঞ্চিত হবে তা দিয়ে একটি আংটি তৈরি করা যেতে পারে৷

চমকপ্রদ এ ঘটনায় বেশ উৎফুল্ল অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসন৷ গত ১২ বছরে সারা দুনিয়ায় সোনার দাম বেড়েছে হু হু করে৷ ২০০০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৩-র মার্চ মাসের মধ্যে প্রায় ৪৮২ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে সোনার দাম৷ একই সঙ্গে কমেছে সোনার সঞ্চয়ও৷ ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের হিসেবে, সভ্যতার শুরু থেকে ১ লাখ ৭৪ হাজার টন সোনা উত্তোলন করা হয়েছে৷ গোটা পৃথিবীতে আর মাত্র ৫১ হাজার টন সোনা অবশিষ্ট রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ এমন অবস্থায় নতুন একটি সোনার খনির খোঁজ আনন্দ কো দেবেই!---ডিনিউজ

Tuesday, October 29

ঘুরে আসুন মালদ্বীপ

ঘুরে আসুন মালদ্বীপ


ঢাকা: হাজারের বেশি দ্বীপের দেশ মালদ্বীপ৷ তাই পর্যটকদের কাছে ভীষণ প্রিয়৷ কিন্তু এতদিন শুধু টাকা-পয়সাওয়ালা পর্যটকরাই সেখানে যেতে পারতেন৷ বছর কয়েক আগে আইনে সংস্কার আনায় এখন কম খরচে সেখানে যাওয়া যাচ্ছে৷ সার্কের অন্তর্ভুক্ত দেশ মালদ্বীপের আয়ের একটা বড় অংশ আসে পর্যটন খাত থেকে৷ দ্বীপ রাষ্ট্র হওয়ার কারণে পশ্চিমা পর্যটকদের কাছে মালদ্বীপ খুবই আকর্ষণীয়৷ বিশেষ করে পশ্চিমা নবদম্পতিরা সেখানে যেতে খুব পছন্দ করেন৷
 
কিন্তু পশ্চিমা পর্যটক মানেই তাদের বিশেষ কিছু সুবিধা দিতে হয়৷ যেমন অবাধে পানীয় পানের সুযোগ, ইচ্ছামতো পোশাক আশাক পরা, নারী-পুরুষের বিয়ে বহির্ভূত যৌনমিলনের সুযোগ ইত্যাদি৷ কিন্তু এর কোনোটাই মুসলিম দেশ মালদ্বীপের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়৷
 
তাই আগে পর্যটকদের মনুষ্য বসতি আছে এমন কোনো জায়গায় যেতে দেয়া হতো না৷ রাজধানী মালের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর পর্যটকদের স্পিডবোটে বা এয়ার ট্যাক্সিতে করে বিভিন্ন দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হতো৷ সেসব দ্বীপে কোনো বসতি থাকত না৷ ফলে পর্যটকরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারতেন৷
 
২০০৯ সালে দেশটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর মোহাম্মদ নাশিদ একটি সংস্কার আনেন৷ এর ফলে মালেতে বসবাসকারীরা তাদের ‘গেস্টহাউস' বিদেশি পর্যটকদের কাছে ভাড়া দেয়ার সুযোগ পান৷
 
এতে করে যেটা হয়েছে তা হলো পর্যটকদের আর স্পিডবোট বা এয়ার ট্যাক্সির মতো ব্যয়বহুল যানে চড়তে হচ্ছে না৷ আর রাজধানীতে থাকতে পারার কারণে কম খরচে খাওয়া দাওয়ার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে৷ অথচ আগে এয়ার ট্যাক্সিতে করে যে দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হতো সেখানে মানুষজন না থাকায় খাবারের দাম হতো অনেক বেশি৷
 
একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে৷ বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ২৫ বছর বয়সি মালের এক যুবক কদিন আগে একটি গেস্টহাউস চালু করেছেন৷ সেখানে প্রতি রাতের ভাড়া ৩০ ডলার৷ অথচ দ্বীপগুলোতে যে রিসোর্ট রয়েছে সেখানে ভাড়াটা এর চেয়ে প্রায় ১০ গুন বেশি!
 
সুতরাং ভ্রমণপ্রিয় পাঠকরা সময় ও সুযোগ পেলে চলে যেতে পারেন মালদ্বীপে৷ মালদ্বীপের এয়ারলাইন্স ‘মালদিভিয়ান' সপ্তাহে দু'দিন ঢাকা থেকে মালেতে চলাচল করে৷---ডিনিউজ

Thursday, October 24

আগের মতো চোখে পড়ে না গুণ টানা নৌকার দৃশ্য

আগের মতো চোখে পড়ে না গুণ টানা নৌকার দৃশ্য

মহম্মদপুর (মাগুরা) : ‘সাবধানে যাইও-টাইনো গুণ জোরে, নৌকায় আছি বইসে-শক্ত হাল ধইরে’ এ রকম নানান কথামালার ছন্দে-মনের আনন্দে নদীর তীর ধরে গুণ টেনে নৌকা নিয়ে যাওয়া হতো উজানে। গুণ টেনে নৌকা উজানে পাড়ি জামনোর দৃশ্য একটা সময় হরহামেশায় চোখে পড়তো। কিন্তু কালের বিবর্তণে আগেকার বৈচিত্রময় সেসব দৃশ্য  এখন অতীত হয়ে গেছে। বাওলা বাসাতে ভাটিয়াটি গানের সুরে নদীর তীর ধরে সারিবদ্ধভাবে গুণ টেনে নেয়া নৌকার দৃশ্য বিলুপ্ত হতে চলেছে।

মাগুরার মহম্মদপুরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদীতে এক যুগ আগেও গুণ টানা নৌকার সরব যাত্রা ছিলো। সারিবদ্ধভাবে গুণ টেনে নৌকাগুলোকে উজানে নেয়া হতো। পণ্য পরিবহণেরও নদী পথে গুণ টানা নৌকার ব্যাপক কদর ছিলো। নদীর পাড় দিয়ে গুণ টেনে উজানে যেতেন গুণেনরা। অভিজ্ঞ মাঝি নিপুণ হাতে হাল ধরেতন। নদীবক্ষে অন্যরকম আবহ সৃষ্টি হতো। নদী পাড়ের মানুষরা সেসব দৃশ্য দু’চোখ ভরে উপভোগও করতেন।

শুধু যে গুণ টানা নৌকায় পণ্য আনা-নেয়া করা হতো তা কিন্তু নয়। এ ধরণের নৌকায় মাইক লাগিয়ে বিয়ে করেত নদী পথে বরযাত্রীও যেতেন। বর-বউ আনা নেয়ার কাজেও ব্যবহৃত হতো গুণ টানা নৌকা। নৌকার ভেতরে রান্নাবান্না, খাবার-দাবার ও ঘুমানোর আয়োজনও হতো।

জীবনের সঙ্গে যেমন নদীর আত্মীয়তা তেমনি নৌকা ও নদী একই সূত্রে বাঁধা। একটা সময় ছিলো যখন নৌকা ছাড়া একমুহূর্তও চলতো না। হাটবাজারগুলো গড়ে উঠেছিল নদীর ধারে। ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো নদী কেন্দ্রীক গড়ে ওঠায় নৌকার প্রচলণ ছিলো অপরিহার্য। পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে নৌকা ছিলো অন্যতম বাহন।

একটা নৌকা মানে- একটা জীবন, অজানা কথা, মায়ের আকুতি, বাবার মুখ, কত স্মৃতি, দু:খগাথা, ঘর-সংসার, সমাজ, বাস্তবতা, হাসি-আনন্দ, ক্ষুধা, দুর্যোগ-দুর্ভোগ তার সঙ্গে সংস্কৃতিও। কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পীরা একাত্ম হন এখানে। নদী ও নৌকার পেশাজীবীরা উঠে আসেন শৈল্পিকভাবে। নাটক ও সিনেমাতেও নদী ও নৌকার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে গুণ টানা নৌকার বিশেষত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সৃষ্টি হয় পদ্মা নদীর মাঝি কিংবা তিতাস একটি নদীর নাম’র মতো উপাখ্যান। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর প্রমোদতরী নিয়ে নদীতে কাটিয়েছেন দীর্ঘকাল। নামকরণ করেছেন বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সোনারতরী’।

বিজ্ঞানের ক্রম: উৎকর্ষ সাধণে নৌকা ও ট্রলারে ইঞ্জিন লাগানো হয়েছে। ফলে গুণ টানা নৌকা এখন বিলুপ্তির পথে। এখন আর আগেকার মতো এসব দৃশ্য চোখে পড়ে না। কচিৎ দেখা মেলে মহম্মদপুরের মধুমতি নদীতে। একজন বা দু’জন গুণ টেনে নদী পাড় বরাবর হাটছেন। মাঝি হাল ধরে বসে আছেন। গুণ টানা নৌকা প্রচলন যখন সরব ছিলো; তখন নদী তীরে হৈচৈ ছিলো। ছিলো ভালিয়াটি, মুর্শীদি গানের সুরসহ নানান গল্প, কবিতা ও ছন্দ। সেসব চিরন্তন প্রেক্ষাপট ও দৃশ্য আজ কেবলই অতীত। আগামী প্রজন্মের কাছে এসব বাস্তব বর্ণনা অনেকটা রূপকথার গল্পের মতোই মনে হবে।--ডিনিউজ

Monday, October 21

ফেনীতে ৯ পথশিশুর বাঁচার লড়াই

ফেনীতে ৯ পথশিশুর বাঁচার লড়াই

ফেনী: এক মুঠো ভাত একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য সারাদিন অসম্ভব পরিশ্রম করে নিজেদের খাবার নিজেরাই জোগাড় করে ফেনীর ৯ পথশিশু। ভালো খাবার কিংবা ভালো জামার প্রলোভনে ওদের মন টলেনা। রাস্তায় বের হলে দেখা যায় এই সকল পথশিশু। এদের কেউ ভিক্ষা করছে কেউ বা কাগজ কুড়াচ্ছে রাস্তায় পড়ে থাকা বিভিন্ন ধরনের বোতল সংগ্রহ করছে। আর এসব বিক্রি করে যে কয় টাকা আয় হয় তাই তাদের উপার্জন। মানুষের চলাচলে রাস্তা ঘাট, রেলস্টেশন,বাস টার্মিনাল, ফেরিঘাট ইত্যাদি স্থানে ওদের দেখা যায়।কিন্তু ফেনীর ৯ পথ শিশুর আয়ের ্ উৎসটা ভিন্ন রকম। 

ফেনী শহরের ময়লা আবর্জনা পঁচা বাসি খাবার হাসপাতালের নোংরা বর্জ্য মৃতু জীবজন্তু যেখানে ফেলা হয় অর্থ্যৎ দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা ড্যাম্পিং এই শিশুদের আয়ের প্রধান উৎস। সকাল হলেই কাঁধে বস্তা নিয়ে ছুটে যায় পৌরসভার ড্যাম্পিংয়ে। আর অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকে কখন ট্রাক ভর্তি পৌরসভা নতুন বর্জ্য আসবে। ট্রাক ভর্তি, দুর্গন্ধময় আবর্জনা ফেলার সাথে সাথে ছুটে যায় সেখানে। একমুঠো ভাত আর মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাতে তাদের সেই সুন্দর কচি হাত দিয়ে খুঁজতে থাকে লোহা-লঙ্কার, প্লাস্টিক এদের মধ্যে বরিশাল থেকে আসা আবদুল আউয়াল এর ৭ বছরের শিশুপুত্র রেজাউল হক, জামাল মিয়ার ১১ বছরের শিশুপুত্র মনির, আলমগীর এর ১২ বছর এর শিশুপুত্র আসলাম, বজলু মিয়ার ১২ বছরের শিশুপুত্র বাচ্চু, এছাড়াও খুলনা থেকে এসেছে ৮ বছরের ভুট্টু ও কামরুল, ১০ বছরের তানজিন, ১২ বছরের মহসিন, ১৩ বছরের আরিফ। দুর্গন্ধ ও আবর্জনার মধ্যে থাকতে থাকতে এদের অনেকই নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। একটি পোষাক একটানা মাসেরও অধিক গায়ে দিয়ে থাকে। দিন শেষে যা আয় করে তা দিয়ে নিজে খায় এবং আয়ের বড় একটি অংশ মা-বাবাকে দিতে হয়। আগামী ১৬ অক্টোবর পবিত্র ঈদুল আয্হা আর মাত্র ৮ দিন বাকি। ৯ পথশিশু জানায় ঈদ উপলক্ষ্যে পৌরসভার ড্যাম্পিংয়ে ২ দিন বর্জ্য খুঁজতে আসবেনা। তাই দিনের বড় একটি অংশ এখন ড্যাম্পিংয়ে ব্যয় করছে। পথশিশু তানজিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে। ঈদ আসলে বড় লোকেরা নতুন নতুন জামা-কাপড় পরে, ভালো-ভালো খাবার খায়, কিন্তু আমরা পথশিশু বলে আমাদের খবর কেউ নেয়না। 
৭ বছরের রেজাউল জানায়, আমাদের দেশে বিত্তশালীরা তাদের সন্তানদের জন্মদিন পালন করেন জমকালোভাবে। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যায় করে অনেক টাকা পয়সা। কিন্তু তারা যদি কিছু টাকা বাচিয়ে আমাদের পথশিশুদের মাঝে বস্ত্র, খাদ্য, কিংবা কিছু অর্থ ব্যয় করতেন তাহলে আমরা অনেক উপকৃত হতাম। 

আমরা এই সব পথশিশুদের দিকে একটুও ফিরে তাকাইনা। অথচ আমাদের একটু সাহায্য এদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। মনে রাখা উচিত এই সব পথশিশুরা আমাদের সমাজেরই সন্তান। তাই আসুন পথশিশুদের জন্য আমাদের সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিই।----আবদুল্লাহ আল-মামুন(ডিনিউজ)

Saturday, October 12

সন্ধ্যা নদী হয়ে ভুতের গাঁয়ে

সন্ধ্যা নদী হয়ে ভুতের গাঁয়ে

লিয়াকত হোসেন খোকন

ঢাকা: নদীর নাম ‘সন্ধ্যা’। নামটি এতোই ভাল লাগে সে জন্য আবারও সন্ধ্যা নদীর পূর্ব প্রান্তে পায়ে হেঁটে এলাম। নদীর এপার থেকে ওপার দেখা যাচ্ছে। মেঘলা আকাশ। পেছনে নারকেল সুপারির বাগান। সন্ধ্যা নদীর একদিকে স্বরূপকাঠি আরেকদিকে ইন্দেরহাট। বসে বসে দেখছি, ওই যে সূর্য অস্ত যাচ্ছে-নীড়ে ফিরছে কতনা পাখি। ওই সূর্যটা এই ৩েয ডুবছে-জীবন প্রদীপটাও একদিন এ ভাবেই নিভে যাবে। আকাশ পানে তাকাতে তাকাতে দেখি সূর্য অস্ত চলে গেছে, মনে হলো সন্ধ্যা নদীতেই বুঝি ডুবেছে সূর্যটা। দেখি এক নৌকো চালক-সামনেই হারিকেন, নদী তীর ঘেঁষে এগিয়ে আসছে। নৌকা চালানোর ঢংটাই বেশ ভিন্ন ওর। বৈঠা হাতে মাঝির কন্ঠে শুনতে পেলাম-‘আমার গহীন জলের নদী/আমি তোমার জলে রইলাম ভেসে জনম অবধি/তোমার বানে ভেসে গেল আমার বাঁধাঘর/চরে এসে বসলামরে ভাই ভাসহেল সে চর/এখন সব হারিয়ে তোমার জলেরে আমি ভাসি নিরবধি/আমার ঘর ভাঙ্গিলে ঘর পাব ভাই/ভাঙলে কেন মন/হারালে আর পাওয়া না যায় মনের মতন/জোয়ারে মন ফেরে না আররে/ভাটিতে হারায় যদি/তুমি ভাঙ যখন কূলরে নদী ভাঙ একই ধার/আর মন যখন ভাঙরে নদী দুই কূল ভাঙ তার/চর পড়ে না মনের কূলেরে/একবার সে ভাঙে যদি. . .’ গানটা শেষ হতেই—এই যে রঙিলা নায়ের মাঝি, কোথায় চলছো-নদীর বিরুদ্ধে তোমার এতো অভিযোগ কেন? মাঝি-এতো গানের কথা, মনের কথা নয়। কেন! আপনি কি জানেন না, কত না মানুষ অন্যের মন ভেঙে দেয়! বলুন তারা কী ভাল! নিশ্চয়ই না। বললাম, কোথায় তোমার বাড়ি, নামটি তোমার কী ই বা? হেসে-একটু খানি শ্যামল ঘেরা কুটিরে মোর বাড়ি। জানেন, সেখানে একদা দেখা দিতো ধানের শেষে ইশারাতে পিড়ি পেতে বসতো আর বাবা সবখানি মন উজাড় করে। দিতো তারে খানাপিনা আমার কিষানী মা সেই কাহিনী শোনাই শোন. . .। এবার গান ধরলো মাঝি—‘ঘুঘু ডাকা ছায়ায় ঢাকা/গ্রামখানি কোন মাথায় ভরে। শ্রান্তজনের হাত ছানিতে/ডাকতো তারে আদর করে সোহাগ ভরে/নীল শালুকে দোলন দিয়ে রঙ ফানুসে ভেসে/ঘুম পরা সে ঘুম পাড়াত এসে কখন যাদু করের/ভোমরা যেত গুণগুণিয়ে ফোটা ফুলের পাশে. . .।’ গানখানি শুনে যেনো মাঝির প্রেমে পড়ে গেলাম। এই নামটি বলোনা?-আমি যে রঙিলা নায়ের মাঝি, আমায় ‘রঙিলা’ নামে ডাকতে পারেন. . .। বললাম, এই যে রঙিলা নায়ের মাঝি, তোমার নৌকোয় বেড়ায়ে রাতটা কী আজ পার করা যায়? ওই যে দেখা যায়, আকাশেতে অগণিত তারা। শুয়ে শুয়ে না হয় গুণবো। কী নৌকায় নিবে? মাঝি— আসুন, আসুন উঠে বসুন। আপনি যে নামার মেহমান. . .।
শুয়ে শুয়ে দেখছি আকাশের লক্ষ তারা। গুণে কী আর শেষ করা যায়। কী সুন্দর পৃথিবী। এপার থেকে ওপার দেখা যায় না। এক তীরে দেখি গাছপালা-সর্বত্র নির্জন নিরিবিলি। নেই কোনো মানুষের পদচারনা। জোনাক পোকা জ্বলে জ্বলে নিভে যায়-মনে হয় এ যেনো ঝিকিমিকি তারার মিছিল। তখনতো মনে হলো—‘স্বপ্ন ভরা স্বপ্ন মায়ায়/নিবিড় কালো আঁধার ছায়ায়। সন্ধ্যা নামে নীল গগনে হায়/রাত্রি নামে ঐ জ্যোছনা ভরা. . .’ গানের কথাগুলিই। এই রঙিলা নায়ের মাঝি, নামটি কী বলবে না?-যখন রঙিলা বলে ডেকেছেন-ওটাই না হয় থাক। জিজ্ঞেসা- বয়স কতো হলো? সতেরো পেরিয়ে আঠারো পড়েছে ভাদ্র মাসের ১৫ তারিখ থেকে। ‘তা এবার কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছো?’ রঙিলা মাঝি-আকাশের তারা গুণতে থাকুন-একশ’ তারা গুণা শেষ হলেই ফিরিয়ে নিয়ে আসবো আপনার বসে থাকা সেই নদীর কূলেতে। বললাম, রঙিলা, আজ রাতটুকু না হয় তোমার বাড়িতেই রাখো। ভ্রমণটা বেশ জমবে! হাসলো রঙিলা নায়ের মাঝি। আরে কী যে বলেন, গরীবের বাড়ি যাবেনতো! নাকি তামাশা করছেন! বললাম, তা হবে কেন! তোমাকে দেখে খুউব ভালো লেগেছে বলেইতো তোমার নায়ে উঠলাম। এই যে ধরো দেখতে তুমি কী ইনা সুন্দর! তুমি যে নায়ের মাঝি-এটা তো বিশ্বাসই হয় না। কী যেনো ভাবলো রঙিলা মাঝি—জানিনা জানিনা আমার এ মন কেন রাঙালে! যার পথ চেয়ে দিন গুণেছি-আজও তার পদধ্বনি শুনেছি. . . সে কী আপনি-আপনি! ওর কথাগুলো শুনে বার বার অবাক হলাম। এই যে রঙিলা তুমি কী কাউকে ভাল বসো! “ও হ্যাঁ মনে পড়ছে ভালবাসার সেই মেয়েটির কথা।’ মেয়েটি অষ্টম শ্রেণীতে পড়তো। নামটি ছিল তার ‘চন্দনা’। আহা কী না ছিলো রূপ। ওকে প্রায়ই বলতাম, ‘চন্দন বনে মন হারাতে দোষ কোথায়! রেখেছি যে দু’টি ভিরু হাত তোমারই হাতে. . .।’ এ কথাগুলো বলতেই চন্দনা বেশ লজ্জা পেতো। আসলেই চন্দনা ছিলো লাজুক লতা। প্রায়ই ওকে নিয়ে সন্ধ্যা নদীতে নৌবিহার করতাম। চন্দনার বাবা-মা এটা মেনে নিতে পারেনি কখনও। যখনই তারা জেনেছে, ঘরের বাইরে ওকে আর যেতে দেয়নি। বহুবার মার খেয়েছে আমারই জন্যে। যাতনা সইতে না পেরে চন্দনা একদিন আত্মহত্যা করলো. . . কথাগুলো বলে রঙিলা মাঝি হাউমাউ করে কেঁদে উঠে আমার পাশে এসে বসলো। হাতটা স্পর্শ করে-বলুন, এখন আমি কী করবো? আমার জীবনটাই যে বৃথা! কেউ আমাকে বুঝলো না, জানতে চেষ্টাও করলো না। সে সময় যে কারোরই নেই. . .। পৃথিবীটা বড় নিষ্ঠুর। 
সন্ধ্যা নদীর ওপারে ইন্দেরহাটের কাছাকাছি নৌকো এসে গেছে। বললাম, তোমার গাঁয়ে নিয়ে চলো। দু’ চোখের জল মুছে— ঐ যে খালটা দেখছেন, এরই দেড় কিলোমিটার দূরে আমার বাড়ি। নির্জন কুটিরে একাই যে থাকি। কাছে পিঠে নেই কোনো বাড়িঘর। নিজেই রান্না করি-খেতে পারবেন তো? - কেন নয়? বললো, থাকবেনতো আমার সাথে!-কী যে বলো রঙিলা মাঝি। যাবো তোমার গাঁয়ে, দেখবো তোমার কুঠির! হাসলো রঙিলা, একটা গান শুনুন-‘আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি/তুমি এ ঘাট লাগায়ারে নাও/লিগুম কথা কইয়া যাও শুনি/তোমার ভাইটাল সুরের সাথে সাথে কাদে গাঙের পানি/ ও তার ঢেউ লাগিয়া যায়/ভাসিয়া কাঙ্খের কলসখানি/পূবালী বাতাসে তোমার নায়ের বাদাম ওড়ে. . .’ গানটা শেষ না করেই রঙিলা মাঝি বললো, ঐ যে দেখছেন বাগান-বাবা মারা যাওয়ার সময় ওটাই রেখে গেছেন। ওখানে রয়েছে কতনা ফুল গাছ। চলুন, দেখবেন। ওর পিছু পিছু চললাম. . .। ভাবলাম, গাঁয়ের বাগান রাতের আঁধারে ঘুরে দেখা সে কীইনা আনন্দের। এমন আনন্দ এ জীবনে কী আর পাবো! রঙিলা মাঝি— দেখুন ওই যে আম গাছে আম ফলে, সময় এলেই ফল ধরবে। জাম গাছেও জাম ধরে। বললাম, এই আঁধার রাতে এ সব কথা কেন, অন্য কথা শুনাও। কেন আপনি কী ঐ গানটা শোনেননি, “আম গাছে আম ফলে, জাম গাছে জাম হায়রে, জাম গাছে জাম আমি পথের পানে চাইয়া থাকি না আসিল শ্যাম প্রাণ-কোকিলারে. . . বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি মধ্যে নলের বেড়া. . .।’ হ্যাঁ শুনেছি-বাহ্ কতইনা চমত্কার এই গানটা। এবার আমার পানে চোখ দু’টো বড় বড় করে তাকিয়ে—সামনেই শ্মশান ঘাট। ওখানেই আমার বাবা-মা আর চন্দনাকে দাহ করা হয়েছিলো। কথাটা শুনে একটু ভয় ভয় লাগলো। শ্মশান ঘাট দেখাবে-এই রাতে, তা রাতের আঁধারে ভ্রমণে এসে কী ই না জ্বালায় পড়লাম। এ যে কোথায় এলাম- কোন মায়াপুলতে। এদিকেই বা কেন নিয়ে এলো. . .। ভয়ে বুকটা দূরু দূরু করছিলো। ঠিক সেই ক্ষণে রঙিলা মাঝি আমাকে বুজে জড়িয়ে-ভয় পাচ্ছেন কেন? রাতের আলো-আঁধারিতে গাঁয়ে ভ্রমণ— এ যে হবে আপনার জীবনে এক দারুণ স্মরণীয় ঘটনা। কী তাই না! ভয় নেই. . .। চলুন, কুঠিরে ফিরে যাই। রঙিলা মাঝিকে দেখে বার বার কেমন জানি মনে হলো। ভাবলাম কেনই যে ওর সঙ্গে দেখা, কেনই যে ওর সঙ্গে এই গাঁয়ে আসা! বুদ্ধি করে বললাম, ওই যে পথের ধারে কামিনী গাছটা দেখছি ওখান থেকে এক গুচ্ছ ফুল নিবো! জামিনী ফুল যে আমার খুব প্রিয়. . .। হঠাত্ দোিখ তিন জন লোক এগিয়ে আসছে। তারা আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করলো, কোথায় যাবেন? বললাম, ওই যে নৌকায় এক মাঝি আছে-নাম ‘রঙিলা’ ওর গাঁয়ে যাবো। একজন বললেন, কোথাওতো কোনো নৌকা নেই। বলুন, কীভাবে এলেন এই পথে।
সব কথা খুলে বলতেই একজন বললেন, সে কি আপনাকে ঐ বাগানে নিয়ে গিয়েছিলো. . .। ‘হ্যাঁ’ বলতেই ভদ্রলোক তিন জন এক বাক্যে বললেন, আপনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। ওদিকে যে শ্মশানঘাট। এই তো কিছুদিন আগে আত্মহত্যা করেছিলো একটি ছেলে, একটি মেয়ে—ওরা একে অপরকে ভালবাসতো। মেয়েটির নাম ‘চন্দনা’। ছেলেটির নাম ‘হৃদয়’। একজন হিন্দু, আরেকজন মুসলমান। সবাই বলে ওরা নাকি ভূত হয়ে গেছে। ঐ ভূতের সঙ্গেই যে আপনার দেখা। এখন আর ভয় নেই চলুন আমাদের বাড়িতে। রাতটা না হয় থাকবেন— কালকে চলে যেতে চাইলে যাবেন. . .। সকাল বেলা বাড়ির মালিক আমার সামনে ‘৬৪ জেলা ভ্রমণ’ বইটি দেখিয়ে বললেন-এই বইতো আপনি লিখেছেন, আপনি ভ্রমণ বিলাসী. . .আপনাকে আমার বাড়িতে কয়েকদিন থাকতেই যে হবে!

ভদ্রলোকের নাম আহম্মদ আলী -তিনি এক সময় সরকারি চাকরি করতেন। তাঁরই ছোট ছেলে সবুজের সঙ্গে চললাম, সবুজ গাঁও দেখতে। যে দিকে পথ চলা সেদিকেই চোখে পড়ছে নার্সারী আর নার্সারি। কামিনী, জবা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, হাসনা হেনা, জুঁই, চামেলি কতনা ফুল গাছ। ফুলে ফুলে ভরা সন্ধ্যা নদীর দুই কূল। সবুজ আমার হাতে একটি গোলাপ তুলে দিয়ে বললো, ‘ভ্রমণে এসেছেন দেবার কী আছে. . .এই টুকু ভালবাসা নিন. . .’ বলেই গানের ভাষায় জানালো—‘গোলাপের বুকে বিহগীর মুখে জাগে, ভুবনের পথে আমরা শুনেছি নতুনের আহ্বান. . .’। পায়ে হেঁটে এলাম সন্ধ্যা নদীর তীরে। দেখি এই কূলে ইন্দেরহাট আর ঐ কূলে স্বরূপকাঠি— নদী এঁকে বেঁকে চলে গেছে। মন জুড়ানো বাতাস তখন মনে করিয়ে দিলো—“ও নদীরে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে/বল কোথায় তোমার দেশ/তোমার নাই কি চলার শেষ ও নদীরে. . .” গানের এই কথাগুলি। বাহ্ কতই সুন্দর এই জনপদ!!
ইন্দেরহাট-স্বরূপকাঠি: সবুজ শ্যামল রূপ রয়েছে সন্ধ্যা নদীর এপার ওপার ইন্দেরহাট আর স্বরূপকাঠিতে। দক্ষিণের জনপদ এই দুই জায়গা থেকে বেড়িয়ে আসা যায়। যেদিকে যান না কেন সুপারি, নারকেল আর পেয়ারা বাগান। নার্সারি আর নার্সারি দেখে বলবেন, এ যে ফুল ও ফসলের দেশ। ঢাকার সদরঘাট থেকে ছাড়ে শহীদূত, রাজদূত, আঁচল, অগ্রদূত, টিপুসহ কয়েকটি লঞ্চ। বানারিপাড়ার পরেই ঈদের হাট-এখানেওই নামুন। স্বরূপকাঠি আর ইন্দেরহাটের সন্ধ্যা নদীতে এবং খাল-বিলে বেড়ানোর জন্য ডিঙ্গি, পানসি, বজরা নৌকা পাবেন। নার্সারিগুলো ঘুরে দেখার জন্য আরামকাঠি, মাহামুদকাঠি, কুড়িয়ানা, আটঘর প্রভৃতি গ্রামে যাবেন। কোড়িখাড়ায় গেলে দেখবেন এখানে তৈরি হয় ক্রিকেটের ব্যাট, কাছি, দড়ি, পাপোশ, ফ্লোর ম্যাট, ফুলের ঝাড়ু, নারকেল শলার ঝাড়ু, কাঠের লাঠিম। শুধু কৌড়িখাড়ায় নয়, সুঠিয়াকাঠি, সোহাগদল, রাজাবাড়ি, বরছাকাঠি, আলকির হাটে গেলেও এ সব তৈরির কারখানা দেখা হয়ে যাবে। কাঠের আড়ত আছে এই স্বরূপকাঠিতে। এখানকার নদী বন্দরে দেখবেন- সুন্দরবনের গোলপাতা দিয়ে সুন্দর সুন্দর ঘর। প্রতিটি বাড়িতে দেখবেন নারকেল-সুপারির বাগান। কৌড়িখাড়া রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ, কুমারখালী কালীমন্দিরও দেখার মতো, রাত যাপন করার জন্য সন্ধ্যা নদীর দুই পাড়ে আবাসিক হোটেলও রয়েছে। এই ভ্রমণে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা নিয়ে গেলেই চলবে। গাঁয়ের সীমানায় গেলে কারোবা জীবনে ঘটতে পারে রোমাঞ্চকর ঘটনা-এ জন্য মনটা চাই অবশ্যই রোমান্টিক।----ডিনিউজ

Tuesday, October 8

৬১ বছর বয়সের কনের ৮ বছরের বর!

৬১ বছর বয়সের কনের ৮ বছরের বর!


ঢাকা: এ জীবনটা কেমন লাগছে-এমন প্রশ্নের উত্তরে আট বছরের সানেল বলে, ‘খুবই ভালো লাগছে। ৬১ বচর বয়সী হেলেনকে বিয়ে করে আমি বেশ খুশি। যদিও আমার স্কুলের বন্ধুরা বিষয়টা নিয়ে হাসাহাসি করে। কিন্তু আমার নিজেকে একজন স্বামী বলেই মনে হয়।’

আট বছরের শিশুর মুখে এমন গুরুগম্ভীর কথা শুনতে বেশ পছন্দ করে তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের মতে, ছোট বয়সেই সানেলের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হয়েছে।

অবাক হবার বিষয়ই বটে। তবে এই অবাক করা ঘটনাটি ঘেেটছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। দক্ষিণ আফ্রিকার টিশোয়েনের আট বছরের বর সানেলে মাসিলেলা ও ৬১ বছরের হেলেন শাবাঙ্গুরের বিবাহিত জীবন নাকি বেশ ভালোই কাটছে। বিয়ের পরপরই এই অসম জুটি উদযাপন করেছে তাদের ঐতিহ্যবাহী তসওয়ানে উৎসব।

এ অনুষ্ঠানে রীতি অনুসারে সানেলে তার নতুন বৌকে ৫০০ পাউন্ড দিয়েছে। আর সানেলের বাবা-মা হেলেনকে দিয়েছে এক হাজার পাউন্ড। সানেল ও হেলেনের পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে থাকেন না।

তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উভয় পরিবার একসঙ্গেই উদযাপন করে। এমনকি মাঝেমধ্যে একে অন্যদের রাতের খাবার খাওয়ার জন্যও আমন্ত্রণ জানায়।

সানেলের ৪৬ বছর বয়সী মা পেশেনস মাসিলেলা বললেন, পরিবারে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম। দাদার নামেই নাম সানেলের। তাকে এভাবে বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছেটা মূলত তার দাদার ছিল। মৃত দাদার কথা রাখতেই সানেলের দাদি লুসি মাসুকু নাতির বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

Saturday, October 5

দুর্বার গতিতে মোটর বাইক

দুর্বার গতিতে মোটর বাইক

মুরসালিন তারিফ: “দিন যাচ্ছে গাড়ি বাড়ছে, তাই জ্যামের ফাঁদে আটকে পড়ছে মানুষ” দিনের পর দিন এই ফাঁদে আটকে থাকা মানুষগুলোর প্রতিদিনই অনেক সময় নস্ট হচ্ছে এই রাস্তাতেই। একটি পরিসংখায় দেখা গেছে রাজধানীর প্রায় সব মানুষই ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৫ ঘন্টাই কাটাতে হয় রাস্তায়। আর এই সময়গুলো সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এদেশ অনেকটাই এগিয়ে যেত। পক্ষান্তরে দিন দিন এই পরিস্থিতি ভয়ানক আকারে রুপ নিচ্ছে। তবে প্রতিটি জনগন এই অবস্থা হতে পরিত্রান পেতে উদগ্রীব, সমস্যা সমাধান না হওয়াতে নিচ্ছে বিকল্প ব্যবস্থা। যানজটের  কারণে নির্দিষ্ট সময় কর্মস্থলে পৌছানোর জন্য মটরবাইক বেশ কার্যকর ভুমিকা পালন করে।

দুই চাকার এই যান যেকোন আয়তনের রাস্তা দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে তবে কোন প্রকার বাধার সম্মুক্ষীনহতে হয় না । এর ফলে অতি মূল্যবান সময়ও অনেক সাশ্রয় হয়। দেশের অধিকাংশ স্থানে মোটর সাইকেলের শো-রুম মিলবে বংশাল,বাংলামোটর, মকবাজার, কাকরাইল ও উত্তরায়ও বেশ কেয়কটি জনপ্রিয় বাইকের দোকান রয়েছে। বংশাল এ আবস্থিত আব্দুল হালিম এন্ড ব্রাদার্স এ পাওয়া যাবে নতুন নতুন মডেলের প্রায় সকল বাইক। খুব সহজেই পছন্দের মত  সংগ্রহ করা যাবে।
মোটর বাইকের দাম: 
পালসার: ১৫০ সিসি- দাম:১,৯৯,৯০০ টাকা
ডিসকভার: ১০০ সিসি- দাম:১,৩৯,৯০০ টাকা
হিরো গ্ল্যামার: ১২৫ সিসি- দাম: ১,৫৬,০০০ টাক

হিরো হাঙ্ক: ২,০১,০০০ টাকায়
হিরো এক্সপ্লেনার প্লাস ১০০ সিসি ক্রয়ের জন্য লাগবে ১,২৫,০০০ ও ইয়ামাহা ফ্রেজার ১৫৩ সিসি ২,৫৫,০০০ টাকাতে। এছাড়াও ১,৫৮,০০০ টাকাতে মিলবে ডিসকভার ১২৫ সিসি। তাই আমরা বলতে পারি দ্রুত চলাচলের জন্য মোটর বাইকের কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে আবার বাইকের অতি দ্রুত গতি আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় কাল হতে পারে। তবে রাস্তায় নিরাপত্তার , ট্রাফিক আইনের রাস্তায় বাইক স্ট্যান্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষের বিনোদন প্রদানের উদ্দেশ্যে নিয়ে এগিয়ে এসেছে বেশ কিছু বাইক সংঘঠন। এদের মধ্যে হন্ট রাইডার, ড্রেড রাইডার্জ, গোস্ট রাইডার, বাইক বিডি ও বিডি মোটর সাইক্লিস্ট অন্যতম। সারাদেশের মোটর সাইকেলের স্ট্যান্ট নারীদের সঙ্গী করে ট্রাফিক আইনের বাস্তবায়ন নিরাপদ রাস্তার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

মানুষকে বিভিন্ন কলা-কৌশল প্রদর্শণের মাধ্যমে বিনোদন প্রদানের উদ্দেশ্যে নিয়ে ২০১২ সালের ৫ আগষ্ট ড্রেড রাইডারর্জ এর যাত্রা শুরু হয় পুরাণ ঢাকায় নায়েম, ইফতি, ইমু,জন,সাজিদ ও মিরাজুল ইসলাম এদের হাত দরে। তবে এরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য 
হলেও বর্তমানে নিয়মিত স্ট্যান্ড রাইডার আছেন ২৫ জন তালিকাভুক্ত সদস্য প্রায় শতকের অধিক । এদের মধ্যে অন্যতম সদস্য নায়েম তার স্বপ্নের কথা জানান, স্ট্যান্ট এর মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়। এর পাশাপাশি সড়ক দূর্ঘটনা কমবে এবং শিল্প বিঞ্জাপন, ফিল্ম বিষয় গুলোতেও অনেক ভুমিকা রাখতে পারে এই স্ট্যান্ট।  তাই স্ট্যান্টকে পপুলার করে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও স্বপ্ন। আমাদের একটু সচেতনতাই পারে দেশের বহু সংখ্যক দূঘর্টনা কমিয়ে আনতে পারে। এ জন্য মানতে হবে ট্রাফিক আইন তবেই কমবে মানুষ হত্যা।--ডিনিউজ

Friday, October 4

সবচেয়ে কম বয়সী মা !

সবচেয়ে কম বয়সী মা !


ঢাকা : লিনা মেদীনা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী মা, যে মাত্র পাঁচ বছর সাত মাস ১৭ দিন বয়সে মা হয়েছিলেন।


তিনি বর্তমানে পেরুর রাজধানী লিমাতে বসবাস করছেন। মেদীনাকে তার বাবা মা অস্বাভাবিক ভাবে পেট বড় হওয়ার কারণে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা তাকে সাত মাসের গর্ভবতী ঘোষণা করেন। কিন্তু তার বাবা মা ভেবেছিলেন তার পেটে বোধহয় টিউমার হয়েছে। সার্জারির আগে তার চিকিৎসক ডা. গেরারডো লোজাডা তাকে পেরুর রাজধানী লিমাতে নিয়ে যান অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সাথে নিশ্চিত হতে যে সে সত্যিই গর্ভবতী।


জন্মের সময় মেদীনার ছেলের ওজন ছিল ২.৭ কেজি এবং তার চিকিৎসকের নামে "গেরারডো" নাম রাখা হয় ছেলের। গেরারডো দশ বছর বয়স পর্যন্ত বিশ্বাস করতো মেদীনা তার বোন, কিন্তু তার পর সে তাকে মা বলে স্বীকার করে। সে সুস্থ ভাবেই বেড়ে ওঠে কিন্তু ৪০ বছর বয়সে বোনম্যারোর রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।


মেদীনা কখনোই তার সন্তানের পিতা এবং তার গর্ভধারণের রহস্য প্রকাশ করেননি। তবে ডা. স্কোমেল তার এক লেখায় উল্লেখ করেছিলেন যে, মেদীনা সত্যিকার্থে তার গর্ভধারণের রহস্য জানেনা। শিশু যৌন নিপীড়নের দায়ে তার বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ না পাওয়তে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এবং তার সন্তানের সত্যিকার বাবা কে তা অনেক চেষ্টার পরও এখনো উম্মোচন করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে আজও এর ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি যে, ৫ বছরের একটি শিশু কি করে গর্ভবতী হয়।

যৌবনে মেদীনা ডা. লোজাডার লিমা ক্লিনিকে সহকারীর চাকুরী করেন। ডা. লোজাডা তাকে এবং তার ছেলেকে শিক্ষিত করে তোলেন। ১৯৭২ সালে মেদীনা রাউল জরডো কে বিয়ে করেন।---ডিনিউজ

Tuesday, October 1

পুরুষ সেজে ৫২ বছর!

পুরুষ সেজে ৫২ বছর!


ঢাকা: ৫২ বছর ধরে পুরুষ সেজে ছিলেন আয়ারল্যান্ডের ডা. জেমস ব্যারি নামে এক ব্যক্তি। যেখানে সেখানে নয় খোদ সেনাবাহিনীতে পুরুষবেশে এ দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন তিনি।

ব্যারির জন্ম তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ১৭৮৯ সালে আয়ারল্যান্ডে জন্ম গ্রহণ করেন। শৈশবে তার নাম ছিল মার্গারেট এন বুলকেলি। তার আরও একটি পরিচয় আছে। সেটি হচ্ছে তিনি ছিলেন স্কটল্যান্ডের তৎকালীন লর্ডের নাতনি। তিনি কেন ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন এ ব্যাপারে অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

ছোটবেলায় তার জীবনে ঘটে যাওয়া একটি দুঃখজনক ঘটনা থেকেই তিনি নাকি এ ধরনের আত্মগোপন করে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন যতদিন তিনি জীবিত থাকবেন ততদিন পুরুষের ছদ্মবেশে থাকবেন। তাই তিনি ১৮১৩ সালে নিজের নাম পরিচয় পরিবর্তন করে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ডাক্তারি পেশায় চাকরি নেন। আর এভাবেই তিনি ছদ্মবেশে কাটিয়ে দেন ৫২টি বছর।

স্বভাবে ভয়ানক বদমেজাজি ডা. জেমস ব্যারি ছিলেন অবিবাহিত। সেনা সদস্য ছিলেন। পামাপাশি তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত ডাক্তার এবং একজন ভালো মুষ্টিযোদ্ধা। ১৮১২ সালে ডা. জেমস ব্যারি ইডেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৮১৩ সালের ২ জুলাই তিনি ইংল্যান্ডের বিখ্যাত রয়েল কলেজ অব সার্জনে চাকরি গ্রহণ করেন। এ সময় থেকেই তিনি ছদ্মবেশ ধারণ করেন বলে অনেকের ধারণা।

আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো তার ব্যক্তিগত গৃহকর্মী যে তার সাথে ৫০ বছর সময় কাটিয়েছে সেও কখনও তার আসল পরিচয় জানতে পারেনি! তার সত্যিকার পরিচয় ধরা পড়ে তার মৃত্যুর পর। ১৮৬৫ সালের ২৫ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পরই সবাই জানতে পারে ডা. জেমস ব্যারি আসলে পুরুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন নারী। আর এভাবেই বেরিয়ে আসে ডা. জেমস ব্যারি টানা ৫২ বছর তার পরিচয় গোপনের বিষয়টি।---ডিনিউজ

Wednesday, September 25

প্রাণ নেই মঙ্গল গ্রহে!

প্রাণ নেই মঙ্গল গ্রহে!


২০১২ সালের আগস্ট মাসে নাসার মার্স রোভার মঙ্গলগ্রহে নেমেছিল৷ পৃথিবীর সঙ্গে সেই গ্রহের মিল কতটা, সেটা পরীক্ষা করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য৷ শুধু আজ নয়, অতীতেও কোনো মিল ছিল কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাও জরুরি৷ কারণ এর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে প্রাণের সম্ভাবনার চাবিকাঠি৷
 
গত দশকে পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপের মাধ্যমে ও মঙ্গলগ্রহে যান পাঠিয়ে সেখানকার বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীদের ধারণা হয়েছিল, যে সেখানে মিথেন গ্যাস রয়েছে৷ ফলে অনুমান করা হয়েছিল, মঙ্গলগ্রহে হয় কোনো জৈবিক অথবা ভূ-তাত্ত্বিক কার্যকলাপ চলছে৷ দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় এই গ্যাস ভেঙে যায়৷
 
কিন্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৩০০ বছর ধরে থেকে যায় এই গ্যাস৷ মঙ্গলগ্রহের ক্ষেত্রে সেই মেয়াদ ২০০ বছর বলে ধরা হয়েছিলো৷ ২০০৩ সালের মার্চ মাসে মঙ্গলগ্রহে একটি মেঘের মধ্যেই ১৯,০০০ টন মিথেনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল৷
 
গত প্রায় ৮ মাস ধরে ‘কিউরিয়সিটি' মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল পরীক্ষা করে দেখেছে, যে কয়েক বছরের মধ্যেই মিথেন উধাও হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে৷ ফলে দেখা যাচ্ছে, বিজ্ঞানীরা এর আগে মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডলে ৬ গুণ বেশি মিথেন আশা করেছিলেন৷
 
এখন প্রশ্ন হলো, ‘কিউরিয়সিটি'-র পরিমাপই কি নিখুঁত? নাকি ভুলের অবকাশ রয়েছে? বিজ্ঞানীদের ধারণা, কোনো গ্রহের ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মিথেন দ্রুত গোটা বায়ুমণ্ডলেই ছড়িয়ে পড়ার কথা৷ অতএব স্থানভেদে পরিমাপে পার্থক্য থাকা উচিত নয়৷ নাসার বিজ্ঞানী ক্রিস্টোফর ওয়েবস্টার মনে করেন, ‘কিউরিয়সিটি' যেখানে অবতরণ করেছে, সেখান থেকে পরিমাপ নিলে তাতে ভুলের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যায় না বটে, কিন্তু তার সম্ভাবনা কম৷
 
তবে আশা পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা৷ ‘কিউরিয়সিটি' তার কাজ চালিয়ে যাবে৷ আরও নমুনা সংগ্রহ করবে৷ পৃথিবী থেকেও আরও টেলিস্কোপের মাধ্যমে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে৷---ডিনিউজ

Tuesday, September 24

হাঁস পালনে স্বাবলম্বী বাঞ্ছারামপুরের হাসিনা

হাঁস পালনে স্বাবলম্বী বাঞ্ছারামপুরের হাসিনা

ব্রাহ্মণবড়িয়া: অনেক দুঃখ আর কষ্ট পাড়ি দিয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এখন হাঁস পালনই হাসিনার মূখে হাঁসি ফুটিয়েছে। ব্রাহমনবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী কানাইনগড় গ্রামের হাসিনা বেগম। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে গুটি কয়েকটি হাঁস পালনের মাধ্যমে হাটি হাটি পা  পা করে আজ সাফল্যের দোর গোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছেন। কানাইরগড় গ্রামের মধ্যপাড়ায় ছোট্ট একটি জলাশয়ে শ তিনেক হাস পালন করছেন তিনি। গ্রামের মধ্যপাড়ার কৃষক রফিক মিয়ার নিঃসন্তান স্ত্রী হাসিনা বেগম হাসি (৪৫)। ৫ বছর পূর্বেও দাঁদনের টাকায় সংসার চলতো তাদের। ঘড়ে রয়েছে পালিত এক কন্যা। বিয়ের বয়স হয়েছে তার, সামর্থ্য ছিলো না টাকা-পয়সা ভেঙ্গে বিয়ে দেবার। হাসিনা বেগম ২০০৮সালে প্রথমে ৪টি হাঁসের ছাঁনা কিনেন ১’শ টাকায়। শাঁমুক কুঁড়িয়ে সন্তানস্নেহে পালন করতে থাকেন এগুলোকে। ৫ মাস পরই ডিম পাড়তে শুরু করে হাঁসগুলো। ডিম বিক্রি করে হাসি আরো ২০টি হাঁসের ছানা কিনেন। ঘটতে থাকে সংসারে নীরব বিপ্লব। ধীরে ধীরে স্বচ্ছলতা ফিরে আসে। সেই ২০টি হাঁসের ছানা বেড়ে ২০১৩ সালে হাসি বেগমের প্রায় ৩’শ হাঁস। দৈনিক ডিম আসে গড়ে প্রায় ১’শটি। যার বাজারমূল্য দৈনিক ৮/৯’শ টাকা। পরিবারে খরচ হয় দৈনিক মাত্র ৩’শ টাকা। বাদবাকী টাকা সঞ্চয় করে সম্প্রতি পালিত কন্যাকেও ভালো ঘড়ে বিয়ে দিয়েছেন তারা। স্বামীকে আসছে কোরবানী ঈদে ব্যবসার উদ্দেশ্যে দুটো ষাড় গরু কিনে দিয়েছেন ৬০ হাজার টাকায়। সবই হাসি বেগমের কষ্টার্জিত জমানো টাকা থেকে। হাঁসের খাবারের জন্য দৈনিক খরচ প্রায় ২’শ টাকা। এখন হাসিনা বেগম নিজেই বাড়ির সামনে জলাশয় তৈরী করেছেন। হাসিনা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন ‘আমার হাসগুলান দেইখ্যা অনেকের হিংসা হইতাছে। তাই ঝুকি নিমু না। বাড়ীর সামনেই পুকুরের মতো কইরা হাসগুলানরে চোখের সানে সন্তানের মতো আগলাইয়া রাখছি। কেউ যেন ক্ষতি করবার না পারে’।---ডিনিউজ

Sunday, September 22

পদ্মায় ভেসে দূর অজানা গাঁয়ে

পদ্মায় ভেসে দূর অজানা গাঁয়ে

লিয়াকত হোসেন খোকন: ঈশ্বরদীর পাশেই পদ্মা নদী। এ নদী রাজশাহীর দিকে চলে গেছে। আবার এ পদ্মাই পাবনার ৫ মাইল দক্ষিণ দিক হয়ে সুজানগরের পাশ দিয়ে গেছে দৌলতদিয়ার দিকে। তারপর মাওয়ার পাশ দিয়ে বয়ে মেঘনার সঙ্গে মিশেছে পদ্মা। ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে বসে আছি। দু’দিন আগেই ঢাকা থেকে এসেছি এখানে। সেখানেই পরিচয় হল কৃষ্ণ নামের একজনের সঙ্গে। আমার উদ্দেশ্য নৌকা ভ্রমণে বের হবÑ দূরে কোথাও যাব। গাঁও-গেরাম দেখে দেখে এক জায়গায় নেমে পাবনায় ফিরে আসব। তখন শরৎকাল। কাশবন দেখব, শেফালী ফুল নেব দু’হাত ভরেঃ। আমার ই”ছার কথাগুলো কৃষ্ণকে বলতেই ও বলল, আমি তো সুজানগর যাচ্ছি নৌকায় একত্রে চলুন। মিনিট পনেরো পর নৌকা পেয়ে গেলাম। নৌকার মাঝিও যাচ্ছে সুজানগরের দিকে। বয়সে সে তর“ণ। ভাবলাম, জমবে এবার ভ্রমণ। কৃষ্ণ জানায়, মন্দিরে মন্দিরে কীর্তন গান করি। মাঝির সঙ্গে শর্ত ছিল, মাঝে মধ্যে নৌকা কূলে ভিড়াতে হবে। নৌকাচালকের নাম বিষ্ণু দাস। সে একটু হেসে বেড়াবেন তা কাশবন দেখবেন তো। শরৎ মানেই তো কাশবন। কূলে নেমে দেখবেন ওখানে কত না গাছগাছালি।
পদ্মার তীর ঘেঁষে চলছে নৌকা। পদ্মার রূপ দেখে যা”িছ। ভাবছি অতীতের কতই না কথা। এ পদ্মায় প্রথম বেড়াতে এসেছিলাম ১৯৮৪ সালে। তখন আমার বন্ধু ছিল সোহেল রানা, রনি, ইমরানÑ তাদের দেখা সেই পদ্মা আজকের পদ্মার সঙ্গে কোনই মিল খুঁজে পা”িছ না। তখন ছিল কি-ই না বিশাল নদীÑ আর আজ চর পড়ে পড়ে নদী যেন ছোট হয়ে এসেছে। বিষ্ণু দাস বলল, ওই যে নদীতীরে দেখুন, শেফালী ফুল গাছঃ। নৌকা থেকে নেমে এলাম আমি ও কৃষ্ণ। শেফালী ফুল হাতে নিয়ে কৃষ্ণ গান ধরল। উঠে এলাম নৌকায়। চোখে পড়ে না পদ্মার বুকে জেলেদের নৌকা। কবে সেই দিনগুলোতে সোহেল ও আমি পদ্মায় নৌকায় ভেসে ভেসে হঠাৎ দেখেছিলাম, এক জেলে জাল ভরা ইলিশ উঠাল নৌকায়। আজ আর তাতো দেখি না! এদিন যে কোথায় চলে গেল! ইলিশ যদি নদীতে নাইবা মেলে তাহলে ইলিশ নিয়ে আমাদের এত গর্ব কেন!
নৌকায় বসে এ কথাগুলোই বারবার ভাবছিলাম। দেখলাম, পদ্মার যৌবন রূপ আর যে নেই। এদিকে-সেদিকে চর জেগে নদী তার নাব্যতা হারিয়েছে। কমে গেছে প্রশস্ততা। বিষ্ণু দাসকে জিজ্ঞেস করলাম এই যে বিষ্ণু, পদ্মায় ইলিশ-টিলিশ পাওয়া যায় কি না দেখ তো। ইলিশ যে খেতে ই”ছা করছেঃ। একটু হেসে বিষ্ণু বলল, ইলিশ পাবেন কোথায়। পদ্মা যে আজ ইলিশশূন্য। বুকে লালন করতে পারছে না ইলিশকে, এ জন্য পদ্মার কী কম কষ্ট! কথাগুলো বলতে বলতে বিষ্ণু গান ধরল।
পদ্মা পাড়ি দিয়ে নৌকা নিয়ে এলো কুষ্টিয়া জেলার দিকে। নৌকা ভিড়িয়ে বিষ্ণু বলল, ওই যে পথটা দেখছেন এরই মাইল দেড়েক দূরে কবিগুর“ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি। কূলে নেমে দেখি শিউলি গাছÑ গাছের তলে শিউলি ফুল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কৃষ্ণ ফুলগুলো তুলতে তুলতে বলল, শিউলি ফুলের মালা গাঁথব, সেই মালা পরিয়ে দেব সখীকে। জিজ্ঞাসা, তোমার প্রিয়তমার নাম কী? একটু হেসেÑ ‘অনুরাধা।
কৃষ্ণ আমার হাতটা স্পর্শ করে বলল, চলুন পদ্মায় ফিরে যাই। নৌকা চলছে। দু’কূলের দৃশ্য দেখে দেখে ‘শরৎ তোমার অর“ণ আলোর অঞ্জলি। ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলিঃ’ কবিতার এ দুটি লাইন বারবার মনে জাগল। দুপুর গড়িয়ে গেছে। বড্ড খিদে পেয়েছে। সেই ক্ষণে বিষ্ণু তীরে নৌকা রেখে বলল, চলুন কিছু দূর গেলেই বাজার। ওখানে দুপুরের খাওয়াটা সেরে নেবেন। ভাত পাওয়া যায় এমনি এক হোটেলে ঢুকে দোকানিকে জিজ্ঞেস করলাম ইলিশ আছে? দোকানি একটু গম্ভীর হয়ে বাবু, ইলিশ-টিলিশ নেই। এ জনমে পাবেন না আর ইলিশ। শুনেছি, একটা ইলিশের দাম দেড় হাজার টাকাঃ। কথাটা শুনে কৃষ্ণ মাথায় হাত রাখল। কি আর করা পুকুরে চাষ করা তেলাপিয়া মাছ দিয়ে খেলাম। এক পে¬ট ভাত আর তেলাপিয়া মাছ খেতে এক একজনের বিল নেয়া হল ৮০ টাকা করে। অর্থাৎ দিলাম ২৪০ টাকা। পদ্মার তীরে এসে দেখি ওই যে দূরে কাশবন। বাতাসে দুলছে। এ দৃশ্য দেখে কৃষ্ণ বলল, শরৎ দেখা যে সফল হল। এদিকে আকাশে তাকিয়ে দেখি সাদা মেঘের ভেলা। বিষ্ণু বলল, সুজানগর পৌঁছতে আর ঘণ্টা দুই সময় লাগবে। পথে আর কোথাও নৌকা ভিড়াব কি না! বললাম, তোমার খুশি। চোখে পড়ল ধু-ধু বালুচর। কত না পাখি উড়ে এসে বালুচরে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। এ দৃশ্য দেখে শ্যামল গাঁয়ের কাছে নৌকা আসতেই বিষ্ণু বলল, নৌকা রাখব নাকি! বললাম, সবই তো দেখতে পাচ্ছি। চোখে পড়ল হিজলগাছ। গাছে গাছে ফুল। সেই মুহূর্তে কৃষ্ণ ও আমার মনে লেগেছিল রং। দেখি নদীতে ভেসে যাচ্ছে হিজল ফুলের মালা।
শরতের একটা দিন এভাবে নৌকায় কেটে গেল আমাদের। কৃষ্ণই বলল, পদ্মায় শরৎ কাটানোÑ এ তো ভাগ্যের ব্যাপার। আমরা ততক্ষণে পৌঁছে গেছি সুজানগরের কাছে। এবার নৌকা থেকে নামার পালা। মাঝি বিষ্ণুকে একটা ৫০০ টাকার নোট দিতেই সে বলল, টাকা বড় নয়Ñ যা পেয়েছি তাতেই সš‘ষ্ট। দু’নয়ন ভরে পদ্মায় বসে শরৎকাল দেখেছি এটা কী কম ভাগ্যের কথা! কথাগুলো শুনে কূলে ওঠার সময় কৃষ্ণ আমার হাতটা স্পর্শ করেÑ চলুন আপনাকে পাবনার বাসে উঠিয়ে দিই। বাসে ওঠার আগে বলল, এই নিন একটা কাগজ এখানে আমার মোবাইল নাম্বার লেখা আছে। এ শরতেই তো হবে বিশ্বকর্মা পূজা, গণেশ পূজা। তারপর তো কার্তিকের শুর“তে হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। তখন আসবেন আমাদের গাঁয়ে দেখবেন পূজা-পার্বণ। আর শুনবেন রয়ানী কীর্তন। সেই ক্ষণে দেব আনন্দ, ভ্রমণও হবে সার্থক। বললাম, এ দিনের কথা ভুলি কেমনে!---ডিনিউজ

Thursday, September 19

বিছনাকান্দি: জল-পাথর আর মেঘপাহাড়ের হাতছানি

বিছনাকান্দি: জল-পাথর আর মেঘপাহাড়ের হাতছানি

:: রাশেদীন ফয়সাল ::
আকাশে শরতের দলছুট মেঘেদের ছোটাছুটি, ওপারে সারি সারি পাহাড় আর পাহাড়ের বুক চিরে পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ সবুজ জলে ভেসে ওঠা লাবণ্যপূর্ণ প্রাকৃতিক জলছবিই বলে দেবে এটা বিছনাকান্দি। যেখানে বড় বড় পাথরের ফাঁকে স্বচ্ছ জলের শক্তিশালী মায়া স্রোত আর সেই স্রোতের বুকে গা ভিজিয়ে রোমাঞ্চকর অনুভুতি আপনাকে দিতে পারে সাগরের ঢেউ খেলানো আনন্দ। পুরো সীমান্ত এলাকাই যেন এক মায়াবী সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি।

এখানে দাঁড়িয়ে দেখতে পাবেন এপাড়ের প্রকৃতি যেন ওপাড়ের পাহাড়ের সাথে মিতালী করছে গভীর মমতায়। কিন্তু সীমান্তহীন মেঘনীল আকাশ এখানে বড় উদার, নিজেকে মেলে ধরেছে উজাড় করে। সেই আকাশে সাদা বকেরা উড়ে যাচ্ছে নীলিমার খোঁজে, ছায়া দেখা যায় পিয়াইনের সবুজ জলে। রয়েছে পাথর আহরণের সারি সারি নৌকার ঝাঁক, সীমান্তবাসীরা এই পাথরের বোঝাই থেকেই জীবন চলার পাথেয় আহরণ করেন।

নদীর দু’পাড়েই বালিয়াড়ী হাঁসের ঝুপঝাপ-লাফালাফি, বিবাগী বাতাসে উদ্ভাসিত কলমী ফুলের হাসির ফাঁকে হঠাৎ চোখে পড়তে পড়ে কোন পল্লীবালা স্নান শেষে কলসী কাঁখে জল নিয়ে যাচ্ছে, আপনাকে দেখে সে লজ্জায় লাল হবে, আঁচল টেনে মুখ ঢাকবে। এখানে সারাদিন কেটে যায় গাঁয়ের দুষ্ট ছেলেদের পিয়াইনের বুকে সাঁতার কেটে। নদীর পাড়ে ধানের তে যেন ঢেউ খেলে যায় অবারিত সবুজের গালিচায়। এমন সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে আপনার মন আনমনে গেয়ে উঠবে “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি / সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি”...

অপার সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি সিলেটের প্রান্তিক জনপদ গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা বিছনাকান্দির প্রকৃতি যেন তার রূপ মেলে ধরেছে আরো উদার করে। বাংলাদেশ ও ভারতের মিলনস্থল এই এলাকার কিছু অংশ না-মানুষী এলাকা (নো-ম্যানস্ ল্যান্ড) হিসেবে পরিচিত।

সেই প্রকৃতির মাঝে অবগাহন করতে ভ্রমণপিপাসু সিলেট ভিউ পরিবার গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঘুরে এলো জল-পাথররাজ্য নামে খ্যাত বিছনাকান্দিতে। জিন্দাবাজারস্থ নেহার মার্কেটে সিলেট ভিউ অফিসের সামনে পূর্ব নির্ধারিত সকাল ৯টায় সবাই এসে উপস্থিত হন। দু’টি গাড়ি করে আমরা ছুটে চললাম জল-পাথর আর মেঘপাহাড়ের খোঁজে। সিলেট শহর থেকে বের হয়েই দেখা যায় সবুজের আস্তরে ঢাকা আঁকাবাঁকা পথ। যতই এগিয়ে চলেছি ততই সহযাত্রীরা ভোগছেন সীমাহীন আনন্দে। শুধু আনন্দে ভাটা পড়তো তখনই যখন জীর্ণ-ভঙ্গুর রাস্তার হেচকা টান পড়তো।

ঘন্টা খানিক চলার পর আমাদের গাড়ী থামলো গোয়াইঘাটের বঙ্গবীর এলাকার খাইরাই-এ। সিলেট ভিউ’র অন্যতম শুভাকাঙ্খী ও সিলেটের জনপ্রিয় কলামিস্ট জিবলু ভাই’র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জান্নাত ট্রেডিং এর সাইট অফিসের সামনে। জিবলু ভাইসহ অফিসের কর্মকর্তারা ভ্রমণযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানালেন। তাঁদের উষ্ণ ও আন্তরিক আতিথেয়তায় আমরা সকালের নাস্তা সারলাম। দুপুরের খাবারের নিমন্ত্রণও আমাদের গ্রহণ করতে হলো। নাস্তা পর্ব শেষ হতেই পীরেরবাজারের উদ্দেশ্যে আবারও গাড়ী চলতে শুরু করলো। ২০ মিনিট পর আমরা পৌঁছে গেলাম পীরেরবাজার।


বিছনাকান্দি যেতে হলে পীরেরবাজার থেকে নৌকায় যেতে হবে। যথারীতি আমরাও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে বসলাম। মাথার উপর প্রচন্ড রোদের মধ্যেও সিলেট ভিউ সম্পাদক নবেল ভাইয়ের দুই মেয়ে শ্যামা ও মৌমীকে প্রথম নৌকাভ্রমণে বেশ উচ্ছসিত মনে হলো। অনেকদিন পর নৌকাযাত্রী হয়ে বাকীরাও যে যার মতো আনন্দ করতে লাগলেন। কেউবা নৌকা থেকে হাত বাড়িয়ে পিয়াইন নদীর পানির সাথে দুষ্টুমি করতে লাগলেন।

সিলেট ভিউ’র আলোকচিত্রী সুজন ভাইয়ের ক্যামেরাও থেমে নেই। একের পর এক ক্লিক করে পিয়াইন নদীসহ তার আশপাশকে বন্দি করতে লাগলেন তার ক্যামেরায়। সবাই তখন সুজন ভাইয়ের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যস্ত, এমন মায়াময় প্রকৃতিতে নিজের একটি হলেও ছবি তোলার তাগিদ অনুভব করতে লাগলেন। নিবেদিতপ্রাণ সুজন ভাইও কাউকে নিরাশ করেননি, নৌকাপথের সময়টা তিনি ছবি তোলেই আনন্দ করতে লাগলেন।

ঘন্টাখানিকের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম কাঙ্খিত সীমান্তের কাছাকাছি বিছনাকান্দিতে। নৌকা থেকে নামার আগেই অনেকে কাপড় বদলাতে লাগলেন। আমরা ছুটতে লাগলাম না-মানুষী সীমানায়। কিছুদুর হেঁটে গিয়েই অনেকেই নিজেকে সঁপে দিলেন অবারিত আনন্দের ফটিক জল-পাথর আর ক্ষীপ্র স্রোতের শীতল বুকে। দীর্ঘণ রোদে পুড়ার পর সীমাহীন উচ্ছাসে ঝাঁপাঝাঁপিতে মত্ত হলেন সিলেট ভিউ পরিবারের সদস্যরা। বড় বড় পাথরের মাঝ দিয়ে স্রোত ভেসে আসছে উজানের দেশ ভারত থেকে। এই স্রোতের সাথে ভেসে আসে পাথর।

বিছনাকান্দির পানিতে নামতে হলে আপনাকে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ভারত থেকে আসা স্রোতের বেগ এতো বেশী ক্ষীপ্র থাকে যা স্বচ্ছ জলের জন্য ডাঙ্গায় থেকে পরিমাপ করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এজন্যই না বুঝে নেমে পড়লে প্রচন্ড স্রোতের বেগ আর পাথরের ফাঁকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক দূর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। এজন্য হালকা কাপড় (সুইমিং কষ্টিউম) নিয়ে নামতে পারেন। আমরাও সাবধানী পা দিয়ে ধীরে ধীরে পানিতে নেমে পড়লাম। জল খেলায় মেতে উঠলেন সবাই। বিছনাকান্দির জলখেলা দেখলে মনে হয় এটা কোন সমুদ্র সৈকতের ছবি।

সাংবাদিক ওহি আলম রেজা ভাই কিছুটা অসুস্থ থাকায় প্রথমে নামতে চাইলেন না, কিন্তু সবার উচ্ছ্বাস দেখে তিনিও হাঁটু ভেজালেন। সাথে নামলেন জিবলু ভাই। নবেল ভাই’র স্ত্রী অর্থ্যাৎ আমাদের প্রিয় ভাবী পাড়ের একটা পাথরে বসে মৌমীকে পানিতে দোল খাওয়াচ্ছেন। প্রচন্ড স্রোতের বেগ এক বিন্দু ভয় জাগাতে পারেনি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শ্যামাকে। বরং সে তার মায়ের সাবধানী চোখকে ফাঁকি দিয়ে বড় একটা পাথরে হেলান দিয়ে পানিতে বসে রইল।

আমি সুজন ভাই, মিসবাহ ভাই স্রোতের মাঝে পড়ে পাভেল ভাইয়ের উদ্দেশ্যে চিৎকার শুরু করলাম ছবি তোলার জন্য। বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী পোষাক লুঙ্গী পরে পানিতে নামায় সবার দৃষ্টি থাকে নবেল ভাই ও পাভেল ভাই এর উপর। কারণ এর আগে দুজনের কাউকেই লুঙ্গী পরিহিত দেখা যায়নি। সাত্তার বেশীণ পানিতে থাকতে পারলো না তার পায়ের তের জন্য।

দেবু’দা স্রোতের সাথে পেরে উঠতে পারেননি, পাথরের সাথে ধাক্কা লেগে হাতে চোট পান, তাতেও তিনি অখুশি নন বরং আরো কিছুণ পানিতে থাকার আবেদনও করেন, কিন্তু ঘড়ির কাঁটা সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।

দুই ঘন্টা পানিতে বিছনাকান্দির জল-পাথরের সাথে থাকা, অনেকাংশে অপূর্ণই বলা যায়। তবুও ফিরতে হবে। মাঝির নৌকা ছেড়ে হাল ধরে বসে রইলেন। একটু আগে ঘটে যাওয়া টুকরো টুকরো স্মৃতি নিয়ে সবাইকে বেশ উল্লাসিত মনে হলো। চোখে-মুখে সারাদিনের কান্তির ছাপ থাকলেও বিছনাকান্দির জল যেন সব ধুয়ে মুছে নিয়ে গেছে। আকাশে তখনও দুর্দন্ড প্রতাপে রৌদ্রদেব বিরাজমান। প্রখর রৌদ্রের তেজ প্রায় সবাইকে নিস্তেজ করে দিচ্ছে।

দুইবছর বয়েসী মৌমী তো কান্নাকাটি শুরু করলো। নৌকাযাত্রায় অর্ধেক আসার পর স্থানীয় বাজার থেকে ঠান্ডা পানীয় নেয়া হলো। সবার মধ্যে যেন নতুন করে প্রাণ সঞ্চারিত হলো ঠান্ডা পানীয়ের বদৌলতে। যাত্রাবিরতি শেষে যথারীতি নৌকা চলতে শুরু করলো এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা পীরেরবাজারে ফিরে এলাম। মাঝির কাছে থেকে বিদায় নিয়ে আমাদের গাড়ী চললো জিবলু ভাইয়ের অফিসের উদ্দ্যেশে। সেখানে আমাদের জন্য দুপুরের খাবার অপো করেছ। ক্ষুধার্ত থাকায় হুড়হুড় করে সবাই গাড়ী থেকে নেমেই খেতে বসলাম। চমৎকার এবং মজাদার সব আয়োজন ছিল খাবারে। খাওয়া শেষে তৃপ্তির ঢেকুর তুললেন সবাই। এমন আয়োজনের জন্য সবাই জিবলু ভাইকে অভিনন্দিত করলেন।

খাওয়া দাওয়া শেষে বাড়ী ফেরার জন্য চলতে থাকলো আমাদের গাড়ী। পরম তৃপ্তির নিয়ে বাড়ী ফিরছে আর পেছনে পড়ে রইলো উচ্ছ্বাসময় একটি দিনের স্মৃতিবিজড়িত বিছনাকান্দি।

ঐতিহ্যের পার্বতীপুর

ঐতিহ্যের পার্বতীপুর


পার্বতীপুর(দিনাজপুর): বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে দিনাজপুর জেলা সদর থেকে ঠিক পূর্ব দিকে ২৫.১৯ হতে ২৫.৪৭ ডিগ্রী অক্ষাংশ, ৮৮.৪৯ হতে ৮৯.০৫ ডিগ্রী  দ্রাঘিমাংশে পার্বতীপুর উপজেলা অবস্থিত। উপজেলার ভৌগোলিক পরিচিতি হচ্ছে পার্বতীপুর উপজেলার উত্তরে নিলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলা, দক্ষিণে ফুলবাড়ী ও নবাবগঞ্জ উপজেলা, পূর্বে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলা ও পশ্চিমে চিরিরবন্দর উপজেলা।
তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে রেল জনশ্রম্মবিহু উপজেলা পার্বতীপুর নামকরণের তথ্যভিত্তিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। তবে কেউ কেউ বলেন সুপ্রাচীনকালে হিন্দু অধ্যুষিত এই স্থানে ধুমধামের সাধে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পুজা পার্বন অনষ্ঠিত হতো। একই ধর্মের এক দেবতা ‘‘পার্বতী’’ ও নাম অনুসারে এ স্থানের নাম রাখা হয়েছিল পার্বতীপুর হয়। আবার  কেউ কেউ বলে এ ধরনের বলে যে, খোলাহাটির সন্নিকটে রাজা কিচকের অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে ছিল যার নাম পায়রাবতী। পায়রাবতী বাল্য বিধাব ছিল।
গড়ের অনতি দুরে ডিমালী নামক দীঘিতে দুর্বৃত্ত কর্তৃক অপহুত হবার পর তার শস্নীলতাহানী হয়। অতপর পায়রাবতী মনের দুখে ডিমালী দীঘির জলে আতœহত্যা করে। এই আতœহত্যাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে এ স্থানের নাম নাকি পার্বতীপুর হয় । তবে এসব কিংবদমত্মী, প্রবাদ বা জনশ্রম্মতি সমর্থিত নামকরনের পাশ্চাত্যে কোন ঐতিহাসিক সত্যতা নেই । পার্বতীপুর উপজেলার আয়তন হচ্ছে ৯৭৬১৭.৪০ একর, ১৫২.৫২ বর্গ মাইল, ৩৯৫.০৪বর্গ কিলোমিটারকে ঘির রয়েছে ১০টি ইউনিয়ন ১নং বেলাইচন্ডি, ২নং মনমথপুর, ৩নং রামপুর, ৪নং পলাশবাড়ী, ৫নং চন্ডিপুর, ৬নং মোমিনপুর, ৭নং মোস্তফাপুর, ৮নং হাবড়া, ৯নং হামিদপুর, ১০নং হরিরামপুর  ও ১টি পৌরসভা যার নাম পার্বতীপুর পৌরসভা। 
অত্র উপজেলার মধ্যে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৩৬৫১০৩ জন রয়েছে এর মধ্যে পুরুষ ৮৩৭৭২ জন, মহিলা ১৮১৩৩১ জন। বিভিন্ন ধর্মের মানুষও রয়েছে  মুসলিম ৩১৩৫৩৪ জন, হিন্দু ৪৬০৭৭ জন,  বৌদ্ধ ১১০ জন,  খ্রিষ্টান ২৭৫৩ জন ও অন্যান্য ২৬২৯ জন । এ উপজেলায় প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা রেল ও বাস পথের মাধ্যমে। রেল ও বাস পথে দিনাজপুর সদরের সাথে পার্বতীপুর উপজেলার যোগাযোগ। 
এছাড়া বাস যোগে সৈয়দপুর হয়ে নিলফামারী, রেল পথে বদরগঞ্জ উপজেলা হয়ে রংপুর সাথে পার্বতীপুরের যোগাযোগ। রেল ও বাস পথে ঢাকারসাথে সরাসরি যোগাযোগ পার্বতীপুর উপজেলার। রেল পথের দৈর্ঘ প্রায় ৮৫ কিলোমিটার, পাকা রাস্তা ১১২ কিলোমিটার, আধাপাকা রাস্তা ২৬ কিলোমিটার, কাঁচা রাস্তা ৬৭৫ কিলোমিটার। 
রেল ষ্টেশনের সংখ্যা ০৫ টি, বেলাইচন্ডি, মনমথপুর, খোলাহাটি, পার্বতীপুর ও ভবানীপুর। এছাড়াও গ্রাম অঞ্চলের সাথে বাই-সাইকেল, মটর-সাইকেল, রিক্সা, রিক্স-ভ্যান, অটো-রিক্সা অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম।
দর্ষনীয় স্থান ও খনিজ সম্পদের কথা না জানিয়ে বলেই পারছি না,  বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাথে রেলপথে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে কেন্দ্রবিন্দু, চর্তুমুখী রেল পথ, অন্যতম রেলওয়ে জংশন পার্বতীপুর,  পার্বতীপুর বাস টার্মিনাল থেকে ২ কি.মি. উত্তরে সৈয়দপুর রোডে পার্বতীপুর লোকোমোটিভ কারখানাটি অবস্থিত। এটি ১১১একর মাটির উপর বিস্তৃত একটি খারখানা যেখানে ট্রেনের ইঞ্জিন ঠিকের কাজ করা হয় এবং রেল ওযের বিশাল কারখানা রয়েছে। দর্শনীয় স্থান হিসাবে পর্যটকদের মন আকৃষ্ট করে এই স্থানটি। ঐতিহ্যবাহী স্থানে হিসাবে মনিরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চীনাছাদ বিশিষ্ট মসজিদের নাম চলে আসে। 

হরিরামপুর ইউনিয়নের অবস্থিত মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প। এটি ১০৬ একরের উপরে একটি বিস্তৃত কঠিন শিলা প্রকল্প। এখান থেকে প্রতি বছরে ১৬.৫ মেট্রিক টন বা প্রতিদিনে ৫,৫০০ মেট্রিক টন হাকেটিন শিলা উত্তোলন করা হয়। এখানে কালো, কিছু গোলাপী, সাদা ও অন্যান্য রঙের কঠিন শিলা পা ওয়া যায়। কঠিন শিলা উত্তোলন করার জন্য এখানে অনুসন্ধানে কুপ রয়েছে ১৬টি। 

পার্বতীপুর বাস টার্মিনাল থেকে ৪কি.মি. দক্ষিনে ফুলবাড়ী রোডে উত্তর পশ্চিম মৎস্য সম্প্রসারন প্রকল্পটি অবস্থিত। এখানে মাচের পোনা ও রেনু তৈরী করা হয়। এখানে রয়েছে ছোট বড় অনেক পুকুর। এই মৎস্য সম্প্রসারন প্রকল্পটির আয়তন ৫০ একর। এই প্রকল্পটি একটি মাত্র মৎস সম্প্রাসারন প্রকল্প যা উত্তর বঙ্গে ও পশ্চিমবঙ্গের পার্বতীপুর ছাড়া অন্য কোথা ও নেই।

হামিদপুর ইউনিয়নে বড়পুকুরিয় কয়লা খনি প্রকল্প, পার্বতীপুর বাস টার্মিনাল থেকে ১৯ কি. মি. দক্ষিনে ফুলবাড়ী রোডে বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি প্রকল্পটি অবস্থিত। এখানে মাটির নিচ থেকে কয়লা উত্তোলন করা হয়। বিশাল এলাকা নিয়ে এই প্রকল্পটি অবস্থিত। একই ইউনিয়নে বড় পুকুরিয়া কয়লাখনির ১কি.মি উত্তরে বড় পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ প্রকল্পটির অবস্থান। এখানে ৩৭৫ মেগাওয়াটের ক্ষমতা সম্পন্ন তাপ বিদুৎতের ২ট ইউনিট রয়েছে। যা বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির ৬৫ ভাগ কয়লা ব্যবহার করে বড় পুকুরিয়া তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে বিদুৎ উৎপন্ন করা হয়। এটই বাংলাদেশে প্রথম এবং একমাত্র তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে। বিশাল এলাকা নিয়ে প্রকল্পটি তৈরি হয়েছে। এতকিছু বাংলাদশের অন্যকোন উপজেলা আছে বলে মনে হয় না। এত ঐতিহ্যের ভরপুর আমাদের এই পার্বতীপুর। ---মো.নুরুন্নবী বাবু(dnews)