Showing posts with label দর্শনীয় স্থান. Show all posts
Showing posts with label দর্শনীয় স্থান. Show all posts

Saturday, September 28

সৌদি ভ্রমণে একাই যেতে পারবেন নারীরা

সৌদি ভ্রমণে একাই যেতে পারবেন নারীরা

 


মানুষ সামাজিক জীব হলেও প্রকৃতির সাথে মিশে থাকা বা একা থাকার প্রবণতা কম বেশি সবার মাঝেই লক্ষ করা যায়। আর যে কি না একা ভ্রমণ বা সোলো ট্রাভেলিং জীবনে একবার হলেও করেছেন, নিঃসন্দেহে এটি তার জীবনে সবচেয়ে আনন্দময় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হিসেবে মনের গভীরে দাগ কেটে থাকবে। তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একজন ছেলের জন্য একা ভ্রমণ যতটা না সহজ, একজন মেয়ের জন্য ঠিক ততটাই কঠিন। 

তবে সময়ের সাথে, মানসিক এবং সামাজিক সব বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসছেন নারীরা; বেরিয়ে পড়ছেন নতুন অভিজ্ঞতা খোঁজে। দেশে কিংবা বিদেশে, কোথাও বেড়াতে গেলে নারীরা সবার প্রথমে যেটা নিশ্চিত করেন তা হচ্ছে, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা। সে সব দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবকে এখন শীর্ষে রাখতেই হয়।  

চলুন, সৌদিতে নারীদের জন্য সুরক্ষিত এবং দর্শনীয় এমন কয়েকটি স্থানের নাম এবং সেখানকার অভিজ্ঞতার বিস্তারিত তথ্যাদি জেনে নেই।
  
ঐতিহাসিক জেদ্দা 
সৌদি আরবের প্রাচীন শহর জেদ্দা যেন আরবের বুকে এক লুকানো রত্ন। এটি পশ্চিম দিকে মক্কা থেকে মাত্র ঘণ্টাখানেক দূরে লোহিত সমুদ্রতীরে অবস্থিত। উপকূলীয় এই শহরটির আরেক নাম ‘মক্কার প্রবেশদ্বার’। অতীতের সব প্রাচীন বিস্ময় আর বর্তমানের জীবন্ত সংস্কৃতি যেন মিলেমিশে পথ চলছে জেদ্দায়। ইউনেস্কো স্বীকৃত সৌদির আটটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের একটি হিসেবে ২০১৪ সালে যুক্ত হয় জেদ্দা। এখানকার গোলকধাঁধার মতো ব্যস্ত রাস্তা থেকে সরু গলিগুলো ঘেরা চমৎকার প্রবাল-পাথরের দালানে। ‘রাওয়াশিন’ নামে পরিচিত বারান্দাগুলোর কাঠের জটিল নকশা। এখানকার প্রাচীন বাড়িগুলোর বেশিরভাগই আধুনিক আর্ট গ্যালারি কিংবা ক্যাফে।
এই বছরই ঐতিহাসিক জেদ্দায় একটি বুটিক হোটেল হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছে নাম, ‘বেইত জোখদার’। এক সময় সাধারণ জেদ্দাবাসীদের বসবাস ছিল এই বাড়িগুলোয়। প্রতিটি বাড়ি অত্যন্ত যত্ন সহকারে পুনরুদ্ধার করে পর্যটকদের বসবাসের উপযোগী করে তুলেছেন সেখানকার ইতিহাসবিদ, স্থানীয় শিল্পী, কারিগর এবং স্থপতিদের একটি দল। এখানকার অন-সাইট রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সৌদি খাবারের স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন অতিথিরা। আর ছাদের বারান্দায় বিশ্রাম নিতে নিতে উপভোগ করতে পারবেন সুস্বাদু কফি। 

পাথরের শহর হেগরা 
মরুভূমি ঘেরা হেগরা শহরের অবস্থান সৌদি আরবের আল-উলা প্রদেশে। শহরটি তৈরি করেছিল আরবের প্রাচীন জনপদ নাবাতেনরা। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত সৌদির সর্ব প্রথম স্থান এটি। প্রায় ২ হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী এখানকার ১১১টি সমাধি। প্রতিটিতেই দেখা মিলে পাথরে খোদাই করা আরবীয় শিলালিপির নকশা। দিনভর ঐতিহাসিক নানান জায়গা চষে বেড়াতে পারবেন হেগরায়। রাউইস নামে পরিচিত, স্থানীয় গল্পকারদের থেকে শুনতে পারবেন নাবাতিয়ানদের গল্প। আল-উলার ওল্ড টাউনে ঘুরে দেখতে পারবেন হাজার বছরের পুরানো কাদামাটির ভবনের ধ্বংসাবশেষ।  

এ বছর টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ স্থানগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে হেগরার ডার ট্যানটোরা হোটেল। এর অবস্থান, ওল্ড টাউনের সংস্কার করা একটি অংশে। ঐতিহ্যবাহী কাদামাটির কাঠামোকে ভেতরের দিক থেকে বুটিক স্টাইলের আবাসনে রূপান্তরিত করা হয়েছে। 

লোহিত সাগরের রাজ্য 
৯০টিরও বেশি দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জ, অপূর্ব সব সৈকতপ্রান্তর এবং ছোট-বড় নানা আকারের মরুভূমি টিলা, সব মিলিয়ে অপূর্ব রূপ সৌদির লোহিত সাগরের। এর তলদেশে ২৮ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে রয়েছে লুকানো এক রাজ্য। গাঢ় নীল পানির গভীরে রঙিন  এক বাস্তুতন্ত্রের বাস। সেখানে দেখা মিলে বিরল প্রজাতির প্রবালে ঘেরা প্রাচীর, সুপ্ত আগ্নেয়গিরি, প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং বিশাল পর্বতের গিরিখাত। এখানে হোটেলের নিজস্ব পুলতো পাবেনই, সাথে সত্যিকার অভিযান চাইলে অংশ নিতে পারেন সেইলিং, স্নরকেলিং, কায়াকিং, উইন্ডসার্ফিং এবং প্যাডেলবোর্ডিংয়ের মতো উত্তেজনাপূর্ণ বিভিন্ন জলক্রীড়ায়। লোহিত সাগরের বুকে একটি নির্জন ব্যক্তিগত দ্বীপে অবস্থিত স্ট. রেজিস রেড সি রিসোর্ট। পানির ওপর বিলাসবহুল ভিলায় ঘেরা এই রিসোর্ট থেকে সরাসরি চলে যেতে পারবেন সেরা সব ডাইভিং স্পটগুলোতে। ডুবে বেড়াতে পারবেন স্বচ্ছ সমুদ্রের তলদেশ। 

দিরিয়াহ 
সৌদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাস্থল দিরিয়াহ, যার আরেক নাম ‘পৃথিবীর শহর’। শহরটি অবস্থিত রিয়াদে প্রদেশে। শহরটির কেন্দ্রে অবস্থিত ইউনেস্কো  ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত আত-তুরাইফ। জায়গাটিকে সৌদি সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর বলা হয়। এখানকার প্রতিটি কাঠামো নিজস্ব গল্প বলে; প্রতিফলিত করে প্রাচীন সৌদি সভ্যতার উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও সহনশীলতা, জীবনযাপন এবং সমাজ গড়ে তোলার গল্প। ঐতিহাসিক থেকে আধুনিক নানা ধরনের আরবীয় খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে যেতে হবে, বুজাইরি টেরেসে। এখানকার দুইটি সাধারণ রেস্তোরাঁ, তকিয়া এবং মাইজ-এর কথা না বললেই নয়! স্থানীয় শিল্প ও নিদর্শনগুলো খুঁজে পাবেন গ্যালারিতে। ঐতিহাসিক আরবি ক্যালিগ্রাফি শিখে বিশেষ দিরিয়াহ ফন্টে লিখে নিতে পারেন আপনার নামও। 

দিরিয়াহ ভ্রমণের সবচেয়ে মোক্ষম সময় শীতকাল। থাকার জন্য বেছে নিতে পারেন, দিরিয়াহ-এর সবচেয়ে সুপরিচিত স্থাপত্য কিংডম সেন্টারের ফোর সিজনস হোটেলে। এছাড়াও, নির্মাণাধীন আছে বাব সামহান নামে আরও একটি হোটেল। 

নারীদের বিশেষ দল 
রিয়াদ থেকে আল-উলা হয়ে জেদ্দার সফরে একা যেতে চাইলে যোগ দিতে পারেন নারীদের বিশেষ একটি দলে। সৌদির বিভিন্ন প্রাকৃতিক বৈচিত্র এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট জুড়ে নারীদের জন্য একটি বিশেষ অভিজান চালু করেছে ইন্ট্রেপিড ট্রাভেলারস। সফরে আরবীয় ইতিহাসের পথ ধরে যেতে যেতে স্বাদ নিতে পারবেন মুখরোচক নানা খাবারের, পরিচিত হতে পারবেন স্থানীয় নারীদের সাথে। ঘুরে দেখতে পারবেন বিশেষ একটি লেবুর খামার, অংশ নিতে পারবেন রান্নার ক্লাসে। এছাড়াও আছে মাটির পাত্র তৈরির কর্মশালা। স্থানীয় নারী গাইডরা শোনাবে শহরগুলোর গল্প। আর জেদ্দায় দেখা হবে সৌদির প্রথম নারী গাইডের সাথে। থাকবে নৌভ্রমণ ও স্নরকেলিং এর মত আনন্দময় সব ব্যবস্থা।  

নির্দিষ্ট কোন পোশাকবিধি আছে কি? 
অনেকেরই ধারণা, সৌদিতে ঘুরতে গেলেই পরতে হবে আবায়া। তবে সেটি ঠিক নয়। সময়ের সাথে সাথে সৌদি আরবে ফ্যাশনেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। তবে সৌদি নারীরা সাধারণত শালীন পোশাক পরেন, যেমন হাতাসহ টপস এবং হাঁটুর নিচ অব্দি স্কার্ট বা প্যান্ট। এ ধরনের পোশাক সূর্যের তাপ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। লম্বা ঢিলেঢালা পোশাক, স্কার্ট, কার্ডিগান, ঢিলেঢালা সুতি শার্ট, লিনেন প্যান্ট, সানগ্লাস, সান হ্যাট, সানক্রিম এবং লিপ বাম সঙ্গে নিলেই চলবে। 
  
পরিকল্পনা ও যাতায়াত
ঝামেলাহীন পরিকল্পনার জন্য সৌদি ট্যুরিজম অথরিটি স্বাস্থ্যসেবা, কল করার উপায় এবং প্রয়োজনীয় নম্বরসহ নানা প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে। সৌদি আরবে যাতায়াত বেশ নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং সহজ। ট্যাক্সি ছাড়াও রাইড-শেয়ারিং অ্যাপ উবার এবং কারিম সর্বত্রই পাওয়া যায়। আর নিজে গাড়ি চালাতে চাইলে হার্টজ, বাজেট বা এভিসের মতো কোম্পানির কাছ থেকে সহজেই গাড়ি ভাড়া নিতে পারেন। শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ক্রেডিট কার্ড সাথে রাখতে হবে এবং বীমা কিনে নিতে হবে।

Friday, September 27

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: 

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হবে দিবসটি। শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘পর্যটন শান্তির সোপান’। পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এই দিবসের লক্ষ্য।

ভ্রমণপিপাসুরা বলছেন, স্পটগুলো পর্যটকদের কাছে নিরাপদ করে তুলে ধরতে পারলেই দেশের পর্যটন খাত আরও সমৃদ্ধ হবে। এমনকি দেশের বাইরে থেকেও আমাদের দেশে প্রচুর পর্যটক আসবে।

পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য নানা উদ্যোগ তারা নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো নিরাপদ করতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। সরকার এ বিষয়ে মনোযোগী হলে দেশের পর্যটকরা বিদেশের প্রতি আকৃষ্ট কম হবেন।

এদিকে, পর্যটন দিবসে সারা দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে এক ছাদের নিচে আনতে দিনব্যাপী বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এ উৎসবে এয়ারলাইন্স, হোটেল, রিসোর্ট, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ট্যুরিস্ট-ভেসেল, ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে। অংশগ্রহণ করবে বিভিন্ন জেলার পর্যটন পণ্য ও সেবা প্রদানকারীরা।

কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে, র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৭টায় আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সামনের সড়কে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হবে দিবসটি।

এছাড়া প্রতি বছরের মতো এবারও আলোচনা সভার আয়োজন করবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া জানান, বেবিচকের সদর দফতর অডিটোরিয়াম হলে এই দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করা হবে।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডব্লিউটিও) উদ্যোগে ১৯৮০ সাল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

    Friday, October 4

    পর্যটন ভিসায় সৌদি গিয়ে ভুলেও করা যাবে না যেসব কাজ

    পর্যটন ভিসায় সৌদি গিয়ে ভুলেও করা যাবে না যেসব কাজ

    সম্প্রতি প্রথমবারের মতো পর্যটন ভিসা চালু করেছে সৌদি আরব। ৪৯টি দেশের নাগরিকরা দেশটিতে ভ্রমণের সুযোগ পাবে। তবে দেশটিতে ভ্রমনে গিয়ে যে কাজগুলো ভুলেও করা যাবে না, সেগুলোর একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। 

    যৌনতা প্রকাশ পায় এমন আচরণ
    এমন কোনো আচরণ করা যাবে না যাতে যৌনতা প্রকাশ পায়। এই ধরনের অপরাধের জন্য গুণতে হবে তিন হাজার সৌদি রিয়াল। একই অপরাধ আবার করার জন্য জরিমানা ছয় হাজার ডলার।
    উচ্চ শব্দে গান বাজানো
    কোনো আবাসিক এলাকায় যথাযথ অনুমতি ছাড়া উচ্চ শব্দে গান বাজানো যাবে না। এক্ষেত্রে এক বা একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ জানালে দায়ীকে শাস্তি পেতে হবে। প্রথমবারের জন্য ৫০০ সৌদি রিয়াল আর পরবর্তীতে প্রত্যেক বারের জন্য এক হাজার রিয়াল করে গুণতে হবে।
    নামাজের সময়ে গান বাজানো
    নামাজের সময় কেউ গান বাজালে ১০০০ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে। একই অপরাধে পরবর্তীতে দিতে হবে ২০০০ রিয়াল করে।
    পোষা প্রাণীর বিষ্ঠা
    পোষা প্রাণীর বিষ্ঠা পরিষ্কার না করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য প্রথমবারের শাস্তি ১০০ রিয়াল জরিমানা, পরবর্তীতে ২০০ রিয়াল।
    যেখানে সেখানে থুথু ও ময়লা ফেলা
    নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া কেউ ময়লা ফেললে কিংবা যেখানে সেখানে থুথু ফেললে ৫০০ রিয়াল জরিমানা করা হবে। দ্বিতীয়বার একই কাজের জন্য ১০০০ রিয়াল গুণতে হবে।
    বয়স্ক আর প্রতিবন্ধীদের আসন
    গণপরিবহনে ভুল করে বয়স্ক আর প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে বসে গেলেই বিপদ। মাশুল দিতে হবে ২০০ ইউরো। দ্বিগুণ গুণতে হবে একই অপরাধ আবার করলে।
    পাবলিক প্লেসে বাধা অতিক্রম করলে
    পাবলিক প্লেসে কর্তৃপক্ষের ঘেরাও করা জায়গা অতিক্রম করলে একবারেই ৫০০ রিয়ালের জরিমানা। পরবর্তীতে হবে দ্বিগুণ জরিমানা।
    পাবলিক প্লেসে যথাযথ পোশাক পরা
    পাবলিক প্লেসে সৌদি আরবের ড্রেস কোডের সঙ্গে যায় না এমন পোশাক পরা যাবে না। এমনকি পোশাকে অপবিত্র আর অশ্লীল কোনো প্রতীকও থাকা চলবে না। কেউ অন্তর্বাস বা ঘোমানোর পোশাক পরে বাইরে বের হলেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই তিন ক্ষেত্রেই প্রথমবার ১০০ আর পরবর্তীতে ২০০ রিয়াল করে জরিমানা দিতে হবে।
    পোশাকে নগ্নতা
    পাবলিক প্লেসে আপনার পোশাকে এমন কোনো ভাষা, ছবি বা প্রতীক থাকা যাবে না যা বৈষম্য ও বর্ণবাদ, পর্নগ্রাফি বা মাদকের ব্যবহার উসকে দিতে পারে। এজন্য প্রথমবারই ৫০০ ইউরো গুণতে হবে।
    গণপরিবহন ও দেয়ালে লেখালেখি
    অনুমতি ছাড়া পাবলিক পরিবহন অথবা দেয়ালে লেখালেখি, আঁকাআঁকি করলে প্রথমবারের শাস্তি ১০০ রিয়াল জরিমানা। একই জরিমানা হবে বর্ণবাদী বা কোনো প্রচার সংক্রান্ত স্লোগান বা ছবি দিলেও। ১০০ রিয়াল মাশুল দিতে হবে বাণিজ্যিক প্রচারপত্র বিলি করার জন্যেও।
    কাউকে আক্রমণ করা
    শারীরিক বা মৌখিকভাবে কাউকে আক্রমণ করা যাবে না। এমন কর্মকাণ্ডে কেউ ভয় পেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১০০ রিয়াল গুণতে হবে।
    অগ্নি প্রজ্বলন
    ভুল করেও পাবলিক প্লেস বা পার্কে আগুন জ্বালিয়ে ফেললে শাস্তি ১০০ রিয়াল।
    লাইন ভাঙলে ৫০ রিয়াল
    অনুমতি ছাড়া পাবলিক প্লেসের অপেক্ষারত লাইন অতিক্রম করলে ৫০ রিয়াল জরিমানা গুণতে হবে।
    বৈদ্যুতিক বা লেজার বিম ব্যবহার
    বৈদ্যুতিক কোনো কিছু বা লেজার বিম ব্যবহার করে কাউকে ভয় দেখালে বা ক্ষতি করলে প্রথমবারের শাস্তি ১০০ রিয়াল, পরবর্তীতে ২০০ করে।
    ছবি বা ভিডিও তোলা
    অনুমতি ছাড়া কারো ছবি তুললে বা ভিডিও করলে বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একইভাবে অনুমতি ছাড়া তোলা যাবে না দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো ঘটনার ছবি। এসব ক্ষেত্রে প্রথমবারের শাস্তি ১০০০ রিয়াল। একই অপরাধ আবার করলে গুণতে হবে ২০০০ রিয়াল।
    সূত্র: ডয়েচে ভেলে

    Friday, September 13

    পূজার ছুটিতে পোখরা

    পূজার ছুটিতে পোখরা

    ভ্রমণ ডেস্ক  ::

    নেপাল ঘুরে আসবেন ভাবছেন? তাহলে কাঠমান্ডুর পরই গুনতে হবে পোখরা শহরকে। আরাম-আয়েশে ঘুরবেন কিংবা অভিযান চালাবেন, সব কাজেই দারুণ বন্ধুবৎসল এই শহর। কাঠমান্ডু থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরের শহরের নাম পোখরা। আসছে পূজার ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন পাহাড়ি শহরটিতে।

    পোখরাকে বলা হয় ‘মাউন্টেন ভিউ’। সত্যিই তো তাই! এই শহরের চূড়ায় দাঁড়ালেই দেখা দেয় হিমালয় পর্বতমালা। এখান থেকে হেলিকপ্টার ভাড়া করে যাওয়া যায় মুক্তিনাথে। সেখানে গেলে মন মুক্ত পাখির মতো ডানা মেলে উড়তে চায়। খানিকটা দূরত্বে রয়েছে ফেওয়া লেক। পোখরায় বেড়াতে গেলে নেই জায়গাটি হয়ে উঠবে মনোরঞ্জনের কেন্দ্রবিন্দু। ফেওয়া লেকের জলে নৌভ্রমণের আনন্দ নিন। লেকের জলেই পেয়ে যাবেন বারাহি মন্দির।
    ডেভিস ফল নামক একটি জায়গা আছে পোখরায়। এটির ধারে এসে দাঁড়ালে জলকণায় ভিজে যাবে শরীর। এর ঠিক অপর দিকেই রয়েছে মহেন্দ্র গুহা। চুনা পাথর দিয়ে গঠিত এটি। প্রচুর বাদুড়ের দেখা মেলে এখানে। এর কিছুটা দূরে চেমেরি গুহা অবস্থিত।
    রোমাঞ্চকর খেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম বাঞ্জি জাম্প। পোখরায় বাঞ্জি জাম্পের সুযোগ অনেক পুরনো আমল থেকেই চালু রয়েছে। দিন দিন তার জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। এছাড়া উপভোগ করতে পারবেন প্যারাগ্লাইডিং। পোখরায় রয়েছে এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সুযোগ। অবসর কাটাতে পোখরায় সাইক্লিং করতে পারেন। উপভোগের সঙ্গে দারুণ ব্যায়াম তো হবেই।
    আকাশ ও সড়কপথে নেপাল যাওয়া যায়। আকাশপথে খরচটা বেশি আর সময় ও শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা বেশি হবে সড়কপথে। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু এবং কাঠমান্ডু থেকে ঢাকা চলাচল করে প্রতিদিন। পৌঁছাতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো। কাঠমান্ডু ঘোরা শেষ হলে বাসেই যেতে পারেন পোখরা।

    Monday, August 19

    ঘুরে এলাম লোভাছড়া

    ঘুরে এলাম লোভাছড়া

    রাসেল আল-হাদীঃ
    দিনটি ছিলাে মঙ্গলবার। ঘড়ির কাটায় তখন সকাল ৯টা। সাহিত্য সংগঠন‌'মোহনা পাঠক ফোরাম'এর আয়োজনে আমরা প্রায় ১২০ জন সদস্যের একটি দল রওয়ান হই প্রাকৃতিক নৈসর্গের অপর নাম 'লোভাছড়া'য়। খাসিয়া জৈয়ন্তিয়া পাহাড়ের কোলজুড়ে সবুজ বর্ণিল গাছপালার ঘন রঙে আচ্ছাদিত হয়ে আছে মহান রাব্বুল আলামীন'র অপরুপ নিদর্শন,খনিজ সম্পদে ভরপুর  কানাইঘাটের মুলাগুল ও লোভাছড়া চা বাগান। ইঞ্জিন চালিত নৌকা হঠাৎ হঠাৎ ঢেউ খেলিয়ে চলে যাচ্ছে। নদী কিনারায় কানাইঘাটের বিখ্যাত শাক-সবজির বাগান। দূরে পাহাড়ের বুকে সূর্যরশ্মি। এসব মিলিয়ে যেন আমাদের এক অচীনপুরের দেশ ভ্রমণ। সুরমা পেরিয়ে আমাদের যাত্রা লোভাছড়ায়, শুরু হলো এক চঞ্চলতা, সামনে মনোরম সৌন্দর্য দেখলে চঞ্চলতা তো আসেই। রোদ্রের তাপে ছটফট, আবার নদীর পানি ছিটে ছিটে উঠছে নৌকায়, আছড়ে পড়ছে আমাদের চোখে-মুখে ও হাতে-শরীরে। যেন 'রোদ-মেঘ শিয়াল বুড়ির বিয়া'। এ যেমন আরো মুগ্ধকর বর্ণনাতীত স্বাদ। শুরুতেই হাফ নাস্তা করে সকাল ১১টায় নুনছড়া খাল হয়ে নৌকা ভিড়ে ঝুলন্ত ব্রীজ সংলগ্ন। সুরমা নদীর দু'প্রান্তে কাজ করছে শতশত শ্রমিক, মেশিনের মাধ্যমে উত্তোলন করছে পাথর। দেখার স্বাদই আলাদা। এবার চা বাগানের পথে,বেশ আনন্দ  উপভোগ করছি। ধোলা মাটির রাস্তা দিয়ে যত দূর এগোনো যায়, চোখে পড়ে চা বাগানের মাঝে গাছগুলো সারি সারি সাজানো। এর সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করবেনা তা হতেই পারেনা। কী সুন্দর লোভাছড়া! চারদিক সবুজের সমারোহ। সীমান্তের ওপারে মেঘালয়ের পাহাড়গুলো যেন আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। রহমতের বৃষ্টি পড়ায় চা'র গাছ হয়ে উঠছে সুজলা, সুফলা ও সবুজের রঙেমাখা। পথ চলতে নজরে পড়ে দুটি মাজার, দেখি শাহ মুখন ও শাহ দয়াল সাবের মাজার, যদিও তাঁদের সাথে পরিচিতি নেই, তবুও সালাম-তিলাওয়াত করে রওয়ানা দিই 'চিন্তারবাজার'র দিকে। কেন জানি বাজারের এ নাম! পথে ঠান্ডার আড্ডা শেষে আবারও নৌকাযোগে মুলাগোল নয়াবাজারের দিকে হারিছ চৌধুরী একাডেমিতে বালিশ / ফুটবল খেলার পর দুপুরের  খাবার ও স্কুলের হল রুমের জম্পেশ আড্ডা শেষে আবার নৌকা যোগে গন্তব্যের পথে।