Showing posts with label অপরাধ বার্তা. Show all posts
Showing posts with label অপরাধ বার্তা. Show all posts

Monday, August 17

কানাইঘাটে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ৮ রোহিঙ্গাসহ ৪ দালাল আটক

কানাইঘাটে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ৮ রোহিঙ্গাসহ ৪ দালাল আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ৮ রোহিঙ্গাসহ চার দালালকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি মাদ্রাসার সামনে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮ রোহিঙ্গাসহ ১২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আটক চার দালালের মধ্যে রয়েছেন-কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের এরালীগুল বাঙ্গীছড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে আছাদ আহমদ, বড়খেরড় গ্রামের বাতা মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন এবং দুই সিএনজি অটোরিকশাচালক সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাইকাপন গ্রামের মৃত হেদায়েতুল ইসলামের ছেলে রফিক আহমদ ও নেত্রকোনা সদর উপজেলার মইন নুরুলীয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশের ছেলে এলাছ উদ্দিন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট নগরীর কদমতলী এলাকা থেকে দুই সিএনজি অটোরিকশাযোগে ওই ৮ রোহিঙ্গাকে কানাইঘাটে নিয়ে আসা হয়। পরে তাদের দনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। কানাইঘাটের দনা সীমান্ত এলাকার কথিত দালাল সাদ্দাম হোসেন ও আছাদ আহমদের মাধ্যমে তাদের আনা হয় বলে জানা গেছে।

আটক ৮ রোহিঙ্গা হলেন-এনায়েত হোসেন (১৮), আব্দুল মুবিন (২৪), জুবের আহমদ (১৮), আজিদা বেগম (১৮), জামিলা বেগম (২০), ফাতেমা বিবি (১৮), নুর ফাতেমা (১৮) ও আজিদা (১৮)। তারা সবাই মিয়ানমারের নাগরিক এবং কক্সবাজারের উখিয়া থানার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কাজের সন্ধানে ওই রোহিঙ্গারা কুতুপালং ক্যাম্প থেকে বের হয়ে সাদ্দাম ও আছাদের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সাদ্দাম ও আছাদ দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তারা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে কানাইঘাটের বিভিন্ন সীমান্তপথে ভারতে পাচার এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা করে আসছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, রোহিঙ্গাদের দ্রুত দনা সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি গ্রামের বটরবাজার এলাকায় সুরমা নদীর ঘাটে একটি নৌকা ভাড়া করে রাখা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিএনজি থেকে নেমে নৌকাযোগে তাদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

তবে সাদ্দাম ও আছাদ রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসতে কিছুটা দেরি করায় নৌকার মাঝি একাধিকবার তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা কুওরেরমাটি মাদ্রাসার কাছে অবস্থান নেওয়া দুটি সিএনজি অটোরিকশায় থাকা রোহিঙ্গা ও দালালদের আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সীমান্ত এলাকার আরও কয়েকজন দালাল জড়িত রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “দালালসহ ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। তারা কক্সবাজারের উখিয়া থানার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কানাইঘাট হয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

Sunday, July 13

 কানাইঘাটে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রকে ব লা ৎ কা র : যুবক গ্রে ফ তা র

কানাইঘাটে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রকে ব লা ৎ কা র : যুবক গ্রে ফ তা র


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক

সিলেটের কানাইঘাট থানার বীরদল এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯ সদস্যরা। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম মো. জাকারিয়া (৩৫)। তিনি কানাইঘাট উপজেলার বীরদল (পুরানফৌদ) গ্রামের মৃত মুহিবুর রহমানের ছেলে। 

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন ৭নং নুরপুর ইউনিয়নের সুতাং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

তার বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রয়েছে।

Friday, July 4

কানাইঘাটে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের শিকার,আটক ৩

কানাইঘাটে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের শিকার,আটক ৩


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

সিলেটে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষনের ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মাইক্রোবাস চালক কানাইঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের উমাগড় গ্রামের নিখিল দাসের ছেলে শুভঙ্কর দাস (২৭), বীরদল কচুপাড়া গ্রামের ফরিদ আহমদের ছেলে ক্যারিকাভ চালক বাবুল আহমদ (২৮) ও ছোটদেশ গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে পিকআপ চালক ফাহাদ মিয়া (২৫)।


মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে মায়ের সাথে ঘুমাতে যান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ওই তরুণী। রাত ১টার দিকে মা ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান মেয়ে ঘরে নেই। ঘরের দরজা খোলা। পরদিন বুধবার সকালে কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের কায়স্থগ্রামের বালুচরে স্থানীয়রা জামাকাপড় ছেঁড়া অবস্থায় ওই তরুণীকে দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী জানায় তিন জন লোক তাকে ধর্ষন করেছে। 

স্থানীয় লোকজনও জানান, বীরদল খালোমোরা এলাকা থেকে গাড়িতে করে শুভঙ্কর, বাবুল ও ফাহাদ ওই তরুণীকে নিয়ে যেতে তারা দেখেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিবারের লোকজন ধর্ষিতাকে কানাইঘাট থানায় নিয়ে আসলে পুলিশ তাকে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠায়। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত তিনজনকে। 

তরুণীর মা জানান, তার মেয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। মাঝে মধ্যে সে কাউকে কিছু না বলে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে তাকে নিয়ে আসতেন। মঙ্গলবার রাতে একইভাবে সে ঘর থেকে বের হয়ে গিয়েছিল।

কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আউয়াল জানান, গ্রেফতারকৃত তিনজনকে গতকাল শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। ধর্ষনের ঘটনায় মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। 

Tuesday, March 11

 কানাইঘাটে সৌদি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা

কানাইঘাটে সৌদি প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাটে বসতবাড়ীতে রিংগ টিউবওয়েল বসানোকে কেন্দ্র করে আব্দুল মতিন নামে এক সৌদি প্রবাসীকে বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে প্রতিপক্ষ লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে। এসময় তার সাথে থাকা আরো ৭ জন হামলায় আহত হন। 

এ হত্যাকান্ডটি ঘটেছে গত রবিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী কান্দলা গ্রামে। নিহতের  আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায় ২ মাস আগে সৌদি আরব থেকে ছুটি নিয়ে দেশে  আসেন লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির ডাউকেরগুল গ্রামের মৃত জফুর আলীর পুত্র আব্দুল মতিন (৩৫)। বাড়ীতে আসার পর সম্প্রতি তিনি বসতবাড়ীতে একটি রিংগ টিউবওয়েল বসানোর জন্য কাজ শুরু করলে এতে বাধা প্রদান করে প্রবাসী আব্দুল মতিনের ফুফাতো ভাই একই বাড়ীর মৃত কছন মিয়ার পুত্র হাছন আহমদ সহ তার ভাইয়েরা এবং তাদের  আত্মীয় সাবেক ইউপি সদস্য জিয়া উদ্দীন। এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত শুক্রবার হাছন আহমদ গংরা প্রবাসী আব্দুল মতিনকে মারধর করলে তিনি কানাইঘাট থানায় বাদী হয়ে হাছন ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ  দেন। 

থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করলে এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে হাছনের পরিবারের লোকজন। তারা প্রবাসীকে দেখে নিবে বলে হুমকী দেয়। গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কয়েক জনকে সাথে নিয়ে প্রবাসী আব্দুল মতিন স্থানীয় কান্দলা মুলাগুল নয়া বাজার থেকে কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কান্দলা গ্রামের আলমাছ উদ্দীনের বাড়ীর পাশে আসা মাত্র পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকা হাছন আহমদ ও তার ভাই রুবেল আহমদ,সাওয়ন আহমদ,ঈসরাইল আহমদ,ইব্রাহিম আহমদ সহ আরো কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে প্রবাসী আব্দুল মতিন ও তার সাথে থাকা লোকজনের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রবাসীর মাথায় ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করলে তার মাথা কেটে মগজ বেরিয়ে আসে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পথে পতিমধ্যে মৃত্যুর কোলে ডলে পড়েন প্রবাসী আব্দুল মতিন। 

এ নির্মম হত্যা কান্ডের খবর পাওয়ার পর কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি অলক ক্লান্তি শর্মা ও থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। হত্যা কান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে সীমান্তবর্তী সহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের চিরুনী অভিযান অব্যহত থাকলেও হত্যাকারী কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করতে পারেনি পুলিশ। প্রবাসী আব্দুল মতিনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য রাতে পুলিশ সিলেট সিওমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছে। নিহত প্রবাসী পরিবারের  পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে উল্লেখ করে থানার ওসি আব্দুল আউয়াল জানান,আব্দুল মতিনের হত্যাকারীদের আটক করতে পুলিশের ষাড়াশি অভিযান চলছে। বসতবাড়ীতে রিংগ টিউবওয়েল বসানোকে কেন্দ্র করে এ হত্যা কান্ড ঘটেছে বলে তিনি জানান। 

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, প্রবাসী আব্দুল মতিনকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে যা এলাকার কেউ মেনে নিতে পারছেন না। হত্যাকারী হাছন আহমদ গংরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অপরাধী ও কুখ্যাত চোরাকারবারী। হাছন সহ তার ভাইদের বিরোদ্ধে একাধীক মামলা রয়েছে। প্রবাসীকে হত্যা করে তারা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Thursday, February 20

 কানাইঘাটে  পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা

কানাইঘাটে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাট দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের বড়দেশ নয়াগাঁও গ্রামে পূর্ব শক্রতার জের ধরে পাকা বসত ঘরের দরজা বাহির থেকে বন্ধ করে পেট্রোল ছিটিয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাত অনুমান দেড়টার দিকে বড়দেশ নয়াগাঁও গ্রামের মৃত ফয়জুল হকের প্রবাসী ফাহাদের বসত বাড়িতে। পাকা বসত ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে পাকা বসত ঘরে ক্ষতিসাধনের সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। 
ফয়জুল হকের ছেলে মঈন উদ্দিন জানান, তার তিন ভাই প্রবাসী হওয়ায় পাকা বসত ঘরে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পাকা বসত ঘরে বসবাস করেন।
বুধবার রাত দেড়টার দিকে পূর্ব শক্রতার জের ধরে তার তিন প্রবাসী ভাইয়েরদের পাকা বসত ঘরের প্রতিটি কক্ষের দরজার বাহির থেকে সিটকিনি লাগিয়ে বসত ঘরের পুড়িয়ে দেয়ার জন্য পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুনের তাপ অনুভব করে ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের সদস্য জেগে উঠে শোর চিৎকার শুরু করেন এবং দরজা বন্ধ থাকায় তারা বের হতে পারছিলেন না। তাদের শোর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে দরজার সিটকিনি খুলে উদ্ধার করেন এবং আগুন নেভাতে সক্ষম হন। পাকা ঘরের কিছু ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন জানান। 

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন। 

Saturday, January 4

কানাইঘাটে বিকাশ এজেন্টের টাকা ছিনতাই

কানাইঘাটে বিকাশ এজেন্টের টাকা ছিনতাই


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাট সড়কের বাজারে এক মোবাইল এক্সেসরিজ ব্যবসায়ী ও বিকাশ এজেন্ট ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ৩ দুর্বৃত্ত কর্তৃক তার কাছে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

অভিযোগে জানা যায়, কানাইঘাট দিঘীরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় সড়কের বাজারের মোবাইল এক্সেসরিজ ও বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ী আব্দুস শহিদ খান গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে বাজার থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলিনে।


পথিমধ্যে শাহাপুর গ্রামের পাকা রাস্তার বাট্টিমোরা নামক স্থানে পৌঁছালে পিছন থেকে একটি মোটরসাইকেল যোগে অজ্ঞাতনামা ৩ জন দুর্বৃত্ত তার সাইকেলের সামনে এসে গতিরোধ করে। এ সময় দুর্বৃত্তরা ব্যবসায়ী আব্দুস শহিদকে মারধর করে তার সাথে থাকা ব্যবসার নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ব্যবসায়ী আব্দুস শহিদ জানান, ছিনতাই কারী ৩ জনেই হেলমেট ও সাদা রং এর জ্যাকেট পরিহিত থাকায় তাদের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি। এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাতনামা ৩ জনকে আসামী করে গতকাল শুক্রবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে, টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন।

Friday, November 8

কানাইঘাটে চাচাতো ভাইকে গলাকেটে হত্যা

কানাইঘাটে চাচাতো ভাইকে গলাকেটে হত্যা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আপন চাচাতো ভাই হুসন আহমদকে(৬৫) গলাকেটে হত্যা করেছে চাচাতো ভাই সুলতান আহমদ(৪৮)। গ্রামবাসী সুলতানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। নির্মম এ হত‌্যাকান্ডটি ঘটেছে উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের বাউরভাগ নয়াগাউ গ্রামে। 

স্থানীয়রা জানান,নয়াগাউ গ্রামের আব্দুল লতিফ (লতই) এর ছেলে হুসন আহমদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল জলিল (জলই) এর ছেলে বখাটে সুলতান ও তার পরিবারের মধ‌্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। এর জের ধরে শুক্রবার(০৮) নভেম্বর ফজরের নামাজের পর নিহত হুসন আহমদ ও  সুলতানের মধ‌্যে কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে সকাল ৬টার দিকে সুলতান আহমদ দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হুসন আহমদকে কোপাতে থাকলে সে বাড়ির উঠোনে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে  ঘাতক সুলতান আপন চাচাতো ভাই হুসন আহমদকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে।

চাচাতো ভাইকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে ঘাতক সুলতান পালানোর চেষ্টা করলে গ্রামবাসী তাকে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং সুলতানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। 

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আব্দুল আউয়াল বলেন,‘হত‌্যাকান্ডের বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক সুলতানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি । এবং লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হবে।’

Thursday, September 26

কানাইঘাটে ব্যবসায়ীকে মারধর করে ৩ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

কানাইঘাটে ব্যবসায়ীকে মারধর করে ৩ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক ::

সিলেটের কানাইঘাটে আজির উদ্দিন (৭০) নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে তার কাছে থাকা ৩ লাখ ৭ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে কানাইঘাট পৌর শহরের আল-রিয়াদ রোডে এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের বড়দেশ উত্তর  গ্রামের মৃত আব্দুর রবের পুত্র কানাইঘাট উত্তর বাজারের কোহিনুর ক্যামিকেল ও রিদিসা কোম্পানির ডিলার আজির উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ ও ভোক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় ভুক্তোভোগী আজির উদ্দিন রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কোম্পানির বিক্রিত মালামালের ৩ লাখ ৭ হাজার টাকা নিয়ে ভাড়াটিয়া বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আল-রিয়াদ রোডের সিদ্দিকে আকবর জামে মসজিদের উত্তর পাশে পৌঁছালে মোটরসাইকেল নিয়ে ২ জন দুর্বৃত্ত এসে তার গতিরোধ করে। এসময় দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল থেকে নেমে আজির উদ্দিনের সাথে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে । তিনি বাধা দিতে গেলে অপরদিক থেকে আরেকটি মোটরসাইকেলে আরো ২ জন দুর্বৃত্ত এসে আজির উদ্দিনকে লোহার পাইপ দিয়ে মাথায় জোরালো আঘাত করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এসময় ব্যবসায়ী আজির উদ্দিনের চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষজন ছুটে এলে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। 

পরে স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় ব্যবসায়ী আজির উদ্দিনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। 

বাজারের ব্যবসায়ীরা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য থানা পুলিশের প্রতি আহবান জানান।

প্রসজ্ঞত যে, কয়েক মাস পূর্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কয়েকটি সংঘটিত অপরাধ কর্মকান্ড হলেও নতুন করে ব্যবসায়ী আজির উদ্দিনের টাকা লুটের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। 


Tuesday, June 11

কানাইঘাটে ছাগলের ক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত শাহিনের মৃত্যু

কানাইঘাটে ছাগলের ক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত শাহিনের মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক ::

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দিঘীরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের জয়ফৌদ কাদিরগ্রামে ছাগল কর্তৃক বাগানের সবজি খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত শাহিন আহমদ (২৭) নামে এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার(১১ জুন) সকালে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার দুপুর ১২টার দিকে জয়ফৌদ কাজিরগ্রামের আনছার আলীর পুত্র সুলেমানের সবজি ক্ষেতে একই গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনের চাচাতো ভাই বিলাল আহমদের গৃহপালিত ছাগল সবজি খেয়ে ক্ষতিসাধন করে। 

এ সময় সুলেমান ছাগলটিকে তাড়িয়ে নিয়ে বিলাল আহমদের বাড়িতে গেলে কথা কাটাকাটির জের ধরে বিলাল আহমদের বাড়ির লোকজন সুলেমানকে মারধর করেন। সুলেমান তার চাচাতো ভাই আবু বক্করকে ঘটনাটি জানালে আবু বক্কর স্থানীয় সড়কের বাজারে গিয়ে বিলাল আহমদের চাচাতো ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনের কাছে বিচারপ্রার্থী হন। 

এতে ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় লাঠি-সোটা নিয়ে আবু বক্করের হামলা চালালে তিনি প্রাণের ভয়ে দৌড়ে গিয়ে শাহজাহান কমপ্লেক্সের একটি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেন। এ সময় বাজারে অবস্থানরত আবু বক্করের ভাই গরু ব্যবসায়ী শাহিন আহমদ তার পরিবারের আরো কয়েকজন  হামলাকারীদের হাত থেকে আবু বক্করকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। তখন ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে তার বাড়ির লোকজন ধারালো দা, রুইল, রড, লাঠি-সোটা নিয়ে শাহিন আহমদ ও তার ভাইদের উপর অতর্কিত হামলা চালালে উভয় পক্ষ লাঠি-সোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন গংদের হামলায় শাহিন আহমদ সহ তার পরিবারের ৪ জনকে আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত শাহিন আহমদকে আশংকা জনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে শাহিন আহমদ মৃত্যুবরণ করেন। ময়না তদন্তের পর নিহত শাহিন আহমদের লাশ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসলে আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয়রা জানান, ৯ মাস পূর্বে শাহিন আহমদ বিয়ে করেন। তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা।

সংঘর্ষের ঘটনার পর পরই রবিবার রাতে আবু বক্কর বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করে।

নিহতের বড় ভাই আবু বক্কর সহ পরিবারের লোকজন জানান, বিগত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে নাজিম উদ্দিনকে তারা ভোট না দেয়ায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন তাদের উপর ক্ষিপ্ত ছিল। সবজি ক্ষেত ছাগলে খাওয়ার পর বিচার প্রার্থী হওয়ায় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব আক্রোশে তাদের উপর হামলার চালায়। তারা শাহিন আহমদ হত্যাকান্ডের মূল মদদদাতা নাজিম উদ্দিন সহ হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করার দাবী জানান।

সংঘর্ষে নিহত শাহিন আহমদের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলে থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানিয়েছেন এবং ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান।

Monday, February 26

কানাইঘাটে প্রতিবন্ধী পরিবারের জায়গা দখলের চেষ্টা!

কানাইঘাটে প্রতিবন্ধী পরিবারের জায়গা দখলের চেষ্টা!


নিজস্ব প্রতিবেদক: 

কানাইঘাট উপজেলার সাতবাঁক ইউপির পূর্ব পাত্রমাটি গ্রামে এক নিরীহ প্রতিবন্ধী পরিবারের বসত বাড়ির জায়গা জোরপূর্বক ভাবে জবর দখলের চেষ্টা করে ঘর নির্মাণ ও রাস্তা দেয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত দরখাস্ত দায়ের করা হয়েছে।


ইউএনও কার্যালয় থেকে দরখাস্তটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশের বরাবরে পাঠানো হলে থানার এএসআই মোসাহিদ মিয়া গত রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রতিবন্ধী পরিবারের বসতবাড়ির প্রায় ১০ শতক জায়গা জোরপূর্বক ভাবে একই গ্রামের আখলু মিয়ার পুত্র সামছুল হকের পরিবারের লোকজন কর্তৃক জবর দখলের চেষ্টার সত্যতা পান।


অভিযোগের বাদী পূর্ব পাত্রমাটি গ্রামের নিরীহ ফয়জুর রহমান জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারী প্রতিকার চেয়ে সামছুল হক গংদের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবরে বসত বাড়ির জায়গা জবর দখলের ঘটনায় দরখাস্ত দায়ের করেন।


এর আগে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এবং কানাইঘাট থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশি তদন্তের পর এলাকার জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মুরব্বীয়ানরা সার্ভেয়ার দ্বারা মাপযোগ করে সামছুল হক গংদের কবল থেকে তার বসত বাড়ির জায়গার সীমানা চিহ্নিত করে দিলেও এলাকার মুরব্বীয়ানদের সালিশনামা অমান্য করে তার বসত বাড়ির জায়গা জবর দখল সহ রাস্তা নির্মাণের অপচেষ্টার ঘটনায় সামছুল হক গংদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করেন। 


বিবাদীদের কবল থেকে তার বসত বাড়ির জায়গা দখলমুক্ত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Monday, June 12

কানাইঘাটে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বাঁধা উপেক্ষা করে বাল্য বিয়ে!

কানাইঘাটে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বাঁধা উপেক্ষা করে বাল্য বিয়ে!


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামে থানা পুলিশ ও জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বাঁধা নিষেধ উপেক্ষা করে বাল্য বিবাহ সম্পন্নের ঘটনায় বাল্য বিবাহ আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাল্য বিবাহ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে কনের পিতা মুসলিম উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, তার মেয়ে নাবিয়া বেগমের বিয়ে পূর্ব থেকে আগফৌদ নারাইনপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র কাতার প্রবাসী কুতুব উদ্দিনের সাথে ঠিক করা হয়। কুতুব উদ্দিন প্রবাস থেকে চলে আসার পর আমরা বিয়ের আয়োজন করি। মেয়ের বয়স ১৮ বছর থেকে কম হওয়ার কারনে জনপ্রতিনিধি ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য বলা হয়। আমি প্রশাসনের কথা রেখেছি, কিন্তু এলাকার কিছু মুরব্বীয়ানদের পরামর্শে মেয়ে নাবিয়া বেগমকে তার স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

প্রসঙ্গত, ইদানিং প্রশাসনের বাঁধা নিষেধ উপেক্ষা করে কানাইঘাটে বাল্য বিবাহ সম্পন্নের ঘটনা ঘটছে। প্রথমে প্রশাসনের বাঁধা নিষেধ মানা হলেও বিয়ের দিন অথবা পরের দিন চুপিসারে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের তাদের স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হচ্ছে। সম্প্রতি পৌরসভার শিবনগর গ্রামে বাল্য বিবাহের আয়োজন করা হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিনের বেলা বাল্য বিবাহ পন্ড করা হলেও রাতে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কনেকে তার স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।

Monday, January 2

কানাইঘাটের চতুল বাজারে সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আটক ১

কানাইঘাটের চতুল বাজারে সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আটক ১



নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার চতুল বাজারে মিশুক চালকের সাথে খারাপ আচরণের জের ধরে হামলায় জয়নাল আবেদীন (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। 

এ ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার(২ জানুয়ারি)  সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় চতুল বাজারের লালাখাল রোডের কামারহাটিতে। নিহত জয়নাল আবেদীন বড়চতুল ইউনিয়নের হারাতৈল উত্তর (উপর বড়াই) গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে। 

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে বাজারের ব্যবসায়ী আবুল আহমদ (৩০) কে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত পুলিশ সেখান থেকে আটক করে।

প্রত্যক্ষদর্শী, বাজারের ব্যবসায়ী ও নিহতের পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিহত জয়নাল আবেদীনের পুত্র মিশুক চালক সায়েম আহমদ (১৫) একই গ্রামের জিয়াউল হকের পুত্র আবুল আহমদকে মিশুকে নিয়ে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চতুলবাজার কামারহাটির হৃদয় আর্ট এন্ড কসমেটিক্স দোকানে আসার সময় মিশুক চালক সায়েমের পাশে বসে আবুল আহমদ তার সাথে খারাপ উদ্দেশ্যে অশ্লীল আচরণ করে। দোকানের সামনে আসার পর আবুল আহমদ ১০টাকা ভাড়ার স্থলে মিশুক চালক সায়েমকে ৫’শ টাকার নোট দিলে সে ভাংতি নেই জানালে আবুল আহমদ তাকে গালাগালি করে। 

পরে সায়েম আহমদ তার পিতা জয়নাল আবেদীনকে চতুল বাজারে বিষয়টি অবগত করে। জয়নাল আবেদীন আবুল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাকে ছেলের সাথে খারাপ আচরণের বিষয়টি জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে আবুল হোসেন ও তার সাথে থাকা দু’জন এবং জয়নাল আবেদীন ও তার ছেলে সায়েম দেশীয় রুইল, লাটি-সোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে মাথায় গুরুতর জখম হয় জয়নাল আবেদীনের। সংঘর্ষে আবুল হোসেনও আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কজেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে মারা যান গুরুতর আহত জয়নাল আবেদীন। 

নিহত জয়নাল আবেদীনের সালমান আহমদ সহ পরিবারের সদস্যরা জানান, সায়েম আহমদকে ব্যবসায়ী আবুল আহমদ কু-প্রস্তাব দিয়ে যৌন নীপিড়ন করে। এর প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিত ভাবে আবুল আহমদ ও তার সাথে থাকা আরো কয়েকজন মিলে তার প্রতিষ্ঠানের সামনে জয়নাল আবেদীনকে কাঠের রুইল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি মারা যান। 

ঘটনার খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি আব্দুল করিম, থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

এ ব্যাপারে থানার ওসি তাজুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ঘটনার সাথে জড়িত আবুল আহমদকে ওসমানী মেডিকেলে দায়িত্বরত পুলিশ আটক করেছে। ঘটনাটি আমরা তদন্ত করছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে সেই আলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে, মঙ্গলবার ময়না তদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। 


Wednesday, November 30

বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় কানাইঘাটের মঈনকে,৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় কানাইঘাটের মঈনকে,৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা




নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাটের মঈন উদ্দিন হত্যাকান্ডের ঘটনায় ৭ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বাবা উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বাউরভাগ প্রথমখন্ড (সিঙ্গারীপার) গ্রামে শফিকুল হক বাদী হয়ে তার ছেলে মঈন উদ্দিনকে কোপিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় কানাইঘাট থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত একই গ্রামের মৃত সিদ্দেক আলীর পুত্র আলিম উদ্দিন, তার ভাই আলী হোসেন সহ পরিবারের ৭ জনকে আসামী করে বুধবার(৩০ নভেম্বর)  এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং- ২১, তারিখ- ৩০/১১/২০২২ইং। 

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মঈন উদ্দিন প্রায়ই একই গ্রামের মৃত সিদ্দেক আলীর পুত্র আলী হোসেনের বসত বাড়িতে যাতায়াত করিত। এতে আলী হোসেনের স্ত্রী মমতা বেগমকে মঈন উদ্দিন ভাবি বলে ডাকার সুবাদে তাদের বাড়িতে যাওয়া-আসা করে। একপর্যায়ে তাদের বাড়িতে আলী হোসেনের ভাগ্নি তানিয়া বেগমের সহিত মঈন উদ্দনের সখ্যতা গড়ে উঠলে আলী হোসেন, আলিম উদ্দিন সহ তার পরিবারের লোকজন বিষয়টি ভালো চোখে দেখেনি। তারা মঈন উদ্দিনকে তাদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করে এবং তানিয়া বেগমের সাথে কথা না বলার জন্য গালাগালি করে। মঈন উদ্দিন এর প্রতিবাদ করলে সম্প্রতি তাকে আলিম উদ্দিন ও তার ভাই আলী হোসেন হত্যার হুমকি দেয়। এতে আলিম উদ্দিন, আলী হোসেন ও তাদের ভাগ্না মারজান গংরা মঈন উদ্দিনকে হত্যার পরিকল্পনা করে গত সোমবার রাতে মঈন উদ্দিনকে কৌশলে ফোন দিয়ে একই গ্রামের মারজানের বাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে মঈন উদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও গাড়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য তার লাশ গ্রামের সাধন দাসের বাড়ির পাশের ক্ষেতের মাঠে ফেলা রাখা হয়। 

থানার ওসি (তদন্ত) দিলীপ কান্ত নাথ জানান, মমতা বেগম ও তানিয়া বেগমের সাথে মঈন উদ্দিনের সখ্যতা থাকার কারনেই এ হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছে। তানিয়া বেগমের বাড়িতে মঈন উদ্দিনকে কৌশলে ডেকে নিয়ে সোমবার রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে হত্যা করার পর পাশর্^বর্তী ধান ক্ষেতের মাঠে তার ফেলে দেয়া হয়। এ হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার দায়ে এজাহার ভুক্ত আসামী আলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অপর আসামীদের গ্রেফতার করতে এলাকায় পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে

Tuesday, November 29

কানাইঘাটে যুবককে কুপিয়ে হত্যা,  লাশ উদ্ধার

কানাইঘাটে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, লাশ উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বাউরবাগ প্রথমখন্ড গ্রামে মঈন উদ্দিন (২৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা । 

স্থানীয়রা জানান,মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাউরবাগ প্রথমখন্ড গ্রামের সফিক আহমদের পুত্র মঈন উদ্দিনের রক্তাক্ত লাশ একই গ্রামের ক্ষেতের মাঠে দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেন। 

একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি আব্দুল করিম ও থানা অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম পিপিএম একদল পুলিশকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং মঈন উদ্দিনের লাশ পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসেন। 

নিহত মঈন উদ্দিনের মাথায় গভীর ধারালো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে। তবে কি কারণে মঈন উদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। পুলিশ এ গুপ্ত হত্যার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। 


এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম পিপিএম'র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার হত্যার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


Saturday, November 5

কানাইঘাটে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে যুবক খুন

কানাইঘাটে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে যুবক খুন


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মাসুম আহমদ নামে এক যুবক খুন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

শনিবার(৫ অক্টোবর)  সন্ধ্যায় উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের চতুল বাজার দরবস্ত সিএনজি স্টেশনের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবক পাশ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার ছাতারখাই গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধ্যায় চতুল বাজারে প্রতিপক্ষ কয়েকজনের সঙ্গে মাসুমের তর্ক হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোক মাসুমকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।  

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তাজুল ইসলাম পিপিএম।

Friday, October 28

কানাইঘাটে মামলার জেরে যুবককে মারধর, পিতা-পুত্র আটক

কানাইঘাটে মামলার জেরে যুবককে মারধর, পিতা-পুত্র আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জমিজমা ও মামলা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সিলেটের কানাইঘাটে মো. আব্দুল্লাহ (১৯) নামে এক যুবককে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুপিয়ে গুরুতর আহতের ঘটনায় পিতা ও পুত্রকে আটক করেছে থানা পুলিশ। 

এ ঘটনাটি ঘটেছে কা


নাইঘাট থানা থেকে অদূরে উপজেলা রোডের আব্দুল্লাহ আল-মুমিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে। আশংকাজনক অবস্থায় ঐ যুবককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত চাপনগর গ্রামের আব্দুল কাহিরের পুত্র ইউসুফ আহমদ ও তার পিতা আব্দুল কাহিরকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের পুত্র মোঃ আব্দুল্লাহ’র পরিবারের সাথে পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা মৃত রশিদ আহমদের পুত্র সেলিম আহমদ গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলার ঘটনায় পূর্বে সেলিম আহমদ গংদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলা দায়েরের পর গত ২১ আগস্ট মোঃ আব্দুল্লাহকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটক করে মারধর ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে বড় অংকের মুক্তিপণ আদায়ের পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ  ঘটনায় আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে অপহরণ ঘটনার সাথে জড়িত সেলিম আহমদসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামী করে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন (নং-৫ সিলেটে সি.আর মামলা নং-২৮৪/২০২২)। আদালত দরখাস্ত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সিলেট পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

মামলাটির তদন্ত থাকা অবস্থায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেলিম আহমদের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন আব্দুল্লার পাকা বসত বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়ে আব্দুল্লাহকে না পেয়ে তার মা কমলা বেগমকে মারধর সহ ঘরের মালামাল ভাংচুর সহ ক্ষতিসাধন করে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় আব্দুল্লার মা কমলা বেগম বাদী হয়ে সেলিম আহমদ, ইউসুফ আহমদ সহ ১০ জনকে আসামী করে কানাইঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে গত বৃহস্পতিবার মামলাটি রেকর্ড করে।

মামলার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় আসামী মৃত রশিদ আহমদের পুত্র মাহবুব মুর্শেদ, এনাম উদ্দিন, মঞ্জুর আহমদকে গ্রেফতার করে। 

এ তিন জনকে গ্রেফতারের পর তাদের স্বজনরা আব্দুল্লাহকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মামলার কাজে আব্দুল্লাহ থানায় এসে কানাইঘাট বাজারে রিক্সা দিয়ে ফেরার পথে চলন্ত রিক্সায় পিছন দিক থেকে এজাহার মামলার আসামী ইউসুফ আহমদ ধারালো চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঁধের নিচে আঘাত করলে রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল্লাহ প্রাণ বাঁচাতে দৌঁড়ে গিয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় পড়ে যায়। এ সময় পথচারী সহ আশপাশের লোকজন হামলাকারী ইউসুফ আহমদকে আটক করে কিছুটা উত্তম-মধ্যম দিলে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক তাকে আটক করে। এরপর অভিযান চালিয়ে ইউসুফ আহমদের পিতা আব্দুল কাহিরকে তার বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। 

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল্লাহর স্বজনরা জানিয়েছেন, অধিক রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা এখনও গুরুতর। রাত ১০টার দিকে তার অস্ত্রপচার করা হবে।

এ ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তাজুল ইসলাম পিপিএম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আব্দুল্লাহকে কুপিয়ে আহতের ঘটনায় জড়িত ইউসুফ আহমদ ও তার পিতা আব্দুল কাহিরকে আটক করা হয়েছে এবং আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

আব্দুল্লাহর মা কমলা বেগম জানান, তার ৫ ছেলের মধ্যে বড় ৪ ছেলে প্রবাসে থাকায় তাকে ও তার ছোট ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহকে বাড়িতে একা পেয়ে তাদের জমিজমা আত্মসাতের চেষ্টা সহ বিভিন্ন সময় হামলা করে। সর্বশেষ তারা আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। তিনি জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবী করেন। 

Wednesday, September 28

কানাইঘাটে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেফতার ১

কানাইঘাটে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেফতার ১


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে এক চিরাকাঠ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবীর ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে রুজেল আহমদ (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ। সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে অপহৃত ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে। 

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের হারাতৈল কাদিরগ্রামের করিম আলীর পুত্র আলমগীর হোসেন (৪৩) গত রোববার সকাল ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে স্থানীয় চতুল বাজারে যান। এরপর রাতে বাড়ি ফিরে না এলে এবং তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের লোকজন সব জায়গায় তাকে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে গত সোমবার থানায় নিখোঁজ আলমগীর হোসেনের ভাই মো. কাওছার বাদী হয়ে সাধারণ ডায়রী করেন। সোমবার বিকেল থেকে তার নম্বর থেকে তার ভাই কাওছারকে ফোন করে আলমগীরের উপর নির্যাতনের আর্তনাদ শোনানো হয় এবং মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবী করে দুটি বিকাশ নম্বর দেয় অপহরণকারীরা। 

তাৎক্ষণিক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অপহরণকারীদের আটক ও অপহৃত ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করার জন্য কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি আব্দুল করিম ও থানার ওসি (তদন্ত) দিলীপ কান্ত নাথ বেশ কয়েকটি পুলিশের টিমকে বিভিন্ন এলাকায় প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অভিযানে পাঠান। 

একপর্যায়ে মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবীর ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের সুতারগ্রামের তবারক আলীর পুত্র রুজেল আহমদকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অপরদিকে কানাইঘাট গাছবাড়ী বাজারের সুরমা নদীর অপরপার বিয়ানীবাজার থানার শিকারপুর গ্রামের রাস্তার পাশে অচেতন হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এ অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবীর ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে বিভিন্ন এলাকায় এখনও পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলে থানার ওসি (তদন্ত) দিলীপ কান্ত নাথ জানান। 

এ ঘটনায় থানায় ৫ জনকে আসামী করে অপহরণ ও চাঁদা দাবীর মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তিনি জানান (মামলা নং- ২২/২৭/০৯/২০২২)।

ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে রোববার রাতে পৌরসভার মহেশপুর এলাকা থেকে অপহরণ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। অপহরণকারীদের হাতে গুরুতর আহত এ ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পুরো শরীর জুড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

আলমগীর হোসেনের ভাই মো. কাওছার জানান, তার ভাই চতুল বাজারের একজন চিরাকাঠ ব্যবসায়ী। তিনি বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ ক্রয় করে বিক্রি করেন। তাকে অপহরণের পর তাদের কাছে অপহরণকারীরা ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে।