Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

Thursday, July 23

জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি অধিবেশন ৩০ জুলাই

জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি অধিবেশন ৩০ জুলাই


সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে কানাইঘাটে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:
জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি অধিবেশন আগামী ৩০ জুলাই ২০২৬ ইং, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে এ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়েছে।

গত ১৬ জুলাই ২০২৬ ইং, বৃহস্পতিবার বাদ যোহর জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মাওলানা নজরুল ইসলাম তোয়াকুলী দলের আমীর শায়খুল হাদিস আল্লামা আলিমুদ্দীন শায়খে দুর্লভপুরীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎ শেষে দলের কার্যক্রম বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আগামী ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রধান দফতর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাট মাদরাসা মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি অধিবেশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও হরিপুর বাজার মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা হিলাল আহমদ শায়খে হরিপুরী, সহ-সভাপতি মাওলানা আজমত উল্লাহ আকুনী, কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা মুবাশ্বির রামপ্রসাদী, কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল ও ঐতিহ্যবাহী লাফনাউট মাদরাসার নাযিম মাওলানা ফয়জুল করিম লামাকুটাপাড়ি, কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব ক্বারী মাওলানা হারুনুর রশীদ চতুলী এবং মাওলানা এনামুল হাসান সোনাপুরীসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য দায়িত্বশীলরা।( বিজ্ঞপ্তি)

Thursday, June 18

জুবাইদা রহমান রাষ্ট্র গঠনে প্রধানমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করছেন

জুবাইদা রহমান রাষ্ট্র গঠনে প্রধানমন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করছেন

 


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ডা. জুবাইদা রহমান আপন মেধায় এবং মননে উদ্ভাসিত এক মহীয়সী নারী।

ডা. জুবাইদা রহমান জন্মদিনের আড়ম্বরতা বা জাঁকজমক আয়োজন সমর্থন করেন না জানিয়ে মঈন খান আরও বলেন, আজকের এই জন্মদিনেও সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে। জুবাইদা রহমান মেধাবী প্রজন্ম তৈরিতে সব সময়ই জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণ এবং রাষ্ট্র গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছায়াসঙ্গী হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দিনটি উপলক্ষ্যে রাজধানীর মহাখালী টি অ্যান্ড টি মহিলা কলেজ মিলনায়তনে কোরআন খতম, শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, পথ শিশুদের মধ্যে খাবার বিতরণ এবং গাছের চারা রোপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরে ড. আব্দুল মঈন খান কলেজ মাঠে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে নিম গাছ রোপন করেন। পথশিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ সম্পাদক ডাক্তার পারভেজ রেজা কাঁকন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক কৃষিবিদ মাহবুবুল হক বাচ্চু, ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার উমাশা উমায়ুন চৌধুরী, সাংবাদিক হাফিজ আল আসাদ সাইদ খান।

এর বাইরে যুবদলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার গালিব হাসান, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) যুগ্ম মহাসচিব ডাক্তার ফারুক আহমেদ, ড্যাবের আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. এম আর হাসান, ড্যাবের সহ প্রচার সম্পাদক ডা. ইকরামুল ইসলাম সৌরভ, ডাক্তার মেহেদী হাসান, সরকারি মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডা. তানজিম রুবায়েদ আফিফ, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্য মাহমুদুল হাসানসহ তিনটি মহিলা কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Wednesday, June 17

পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, অথচ জামায়াত এমপি জন্মেছেন ১৯৮১ সালে!

পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, অথচ জামায়াত এমপি জন্মেছেন ১৯৮১ সালে!

 


জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংসদে দেওয়া তার নিজের দাবি এবং নির্বাচনী হলফনামায় উল্লিখিত জন্মতারিখের মধ্যে এক বিশাল ও অবাস্তব অসঙ্গতি প্রকাশ পাওয়ায় এই বিতর্কের সূত্রপাত।

মূল ঘটনার সূত্রপাত ঘটে জাতীয় সংসদের একটি অধিবেশনে মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলের ওপর আলোচনার সময়। ওই অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীকে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আইনগতভাবে চিহ্নিত করার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এমন প্রেক্ষাপটে সংসদে নিজের অবস্থান ও বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে এমপি আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নিজের পরিবারের অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদান রয়েছে।

গত ১৪ জুন সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে দেওয়া সেই বক্তব্যে তিনি বলেন, 'আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।'

এই চাঞ্চল্যকর বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সচেতন মহল ও অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিরা তার নির্বাচনী হলফনামা এবং ব্যক্তিগত নথিপত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করেন। আর তাতেই বেরিয়ে আসে এক অবিশ্বাস্য ও গাণিতিকভাবে অসম্ভব এক বৈপরীত্য। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামা এবং উন্মুক্ত তথ্যকোষ উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম তারিখ উল্লেখ রয়েছে ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি।

নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে এই সংসদ সদস্য নিজেও বলেন, তার জন্ম ১৯৮১ সালে।

এই জন্মসাল সামনে আসার পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তার বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনা ও ট্রল করে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যদি তার পিতা শহীদই হয়ে থাকেন, তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার দীর্ঘ ১০ বছর পর অর্থাৎ ১৯৮১ সালে আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা হিসাব কষে বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের হিসাব অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ৪৪ বছর ১১ মাস, যা ১৯৮১ সালের জন্মতারিখের সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বা যুদ্ধে শহীদ হওয়া কোনো পিতার পক্ষে ১৯৮১ সালে সন্তান জন্ম দেওয়া কেবল অলৌকিক বা গাণিতিকভাবেই অসম্ভব নয়, বরং এটি একটি চরম ও হাস্যকর মিথ্যাচার।

সংসদে দেওয়া এই স্ববিরোধী বক্তব্য নিয়ে এখন পর্যন্ত জামায়াত নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বা তার দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

Tuesday, June 16

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনোই একসঙ্গে যায় না: মির্জা ফখরুল

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনোই একসঙ্গে যায় না: মির্জা ফখরুল

 


আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র কখনো একসঙ্গে যায়নি এবং যাবেও না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি বিপ্লবী দল নয়, এটা লিভারেল ডেমোক্রেট পার্টি। যা সবাইকে ধারণ করে।

এসময় বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদপত্র পুনরায় চালুর চেষ্টা করতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিতে কাজ করছে। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের লোকেরা অনেক সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করছেন।

তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপি ও সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চলাচ্ছে। সবাই মিলে এসব অপপ্রচার রুখে দিতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এসময় ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারে বিশেষ কমিটি চায় বিরোধী দল

সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারে বিশেষ কমিটি চায় বিরোধী দল

 


বিদ্যমান সংবিধানে আংশিক সংশোধনের পরিবর্তে সামগ্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি চায় বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার সংবিধান সংস্কার কমিটির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলে তবেই বিরোধী দল এতে অংশ নেবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংসদ বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এ কথা বলেন তিনি। এ সময় বিরোধী দলের উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই সনদ’ সংসদে বাস্তবায়ন করা না হলে তা রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করা হবে। আমরা নরম বিরোধী দলও না, আবার গরম বিরোধী দলও না। জনগণ একটি যৌক্তিক বিরোধী দলের ভূমিকা দেখতে পাবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দল সংসদে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের সংকট, প্রবাসীদের সমস্যা এবং সীমান্তে পুশ ইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশ দিয়েছে। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, মার্চে উপস্থাপনের কথা থাকলেও জুনে সম্পূরক বাজেট পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে বিপুল অর্থ ব্যয় অপচয় ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়। অর্থবছর জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে ডিসেম্বর-জানুয়ারি করলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল হলেও এ বিষয়ে সংসদে দেওয়া নোটিশ নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে। এমনকি একপর্যায়ে নোটিশটি সংসদের কার্যসূচি থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপ্রয়োজনীয় প্রশংসা বা স্তুতি করে সংসদের সময় নষ্ট করা উচিত নয়। জনগণের পক্ষে কথা বলাই সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব। অতীতে দেশে একদিকে সরকারনির্ভর বিরোধী দল, অন্যদিকে সংসদ বর্জন ও সংঘাতমুখী বিরোধী দলের চর্চা দেখা গেছে। এ দুই ধারার কোনোটি অনুসরণ করবে না জামায়াতে ইসলামী। জনগণের স্বার্থে যৌক্তিক বিষয়ে সরকারকে সমর্থন দেওয়া হবে, প্রয়োজনে সমালোচনাও করা হবে। আমরা বগলদাবা বিরোধী দল হবো না, আবার এমন আচরণও করব না যাতে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। প্রয়োজনে ওয়াকআউট করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংসদ বর্জনের পথে না যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

Monday, June 15

সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে কী করে বাজেট বাস্তবায়ন হবে

সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে কী করে বাজেট বাস্তবায়ন হবে

 


বাংলাদেশে ঘাটতি বাজেটের একটি সংস্কৃতি আছে এবং এই ঘাটতি পূরণ হয় অনেক বেশি হারে সুদে দেশি-বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণের মাধ্যমে। সেটি পরিশোধের চাপ থাকে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে কী করে এই বাজেট বাস্তবায়ন করবেন বলে প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস‌্য রুমিন ফারহানা।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে, সম্পূরক মঞ্জুরি দাবির ওপর দেওয়া ছাটাই প্রস্তাবে দেওয়া বক্তব‌্যে রুমিন ফারহানা এ প্রশ্ন তোলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস‌্য রুমিন ফারহানা বলেন, পরিসংখ্যান দিয়ে শুরু করি। বাংলাদেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ কোটি টাকা। জিডিপির প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। খেলাপি ঋণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যেটা টাকার পরিমাণে এসে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে মূলধনের পর্যাপ্ততা ঋণাত্মক এগিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটি এখন ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশ। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে ২২ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে। বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে এবং হয়ে দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার, যেটি ইন্ডিকেট করে রপ্তানির হ্রাস এবং আমদানির বৃদ্ধিকে, আগে যেটা ছিল ২২ শতাংশ।

রুমিন ফারহানা বলেন, শ্বেতপত্র বলছে বাংলাদেশ থেকে গত ১৫ বছরে পাচার হয়ে গেছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। অন্যদিকে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি বলছে ওভার এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার দেশ থেকে বাইরে গেছে। বাংলাদেশের ব্যাংককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে গত ১৫ বছরে ব্যবহার করা হয়েছে। যাদের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা নাই তাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে। পরিবারের হাতে ব্যাংকগুলোকে একটির পর একটি তুলে দেওয়া হয়েছে।

‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সুদের হার ও ডলারের দাম ঠিক করা হয়েছে। ডলারের ওপর চাপ কমাতে দাম ধরে রাখা হয়েছে, অন্যদিকে ১৮ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার এই খাত থেকে বিদেশে চলে গেছে। শেয়ার বাজার এবং কর ব্যবস্থাপনা উন্নত না হলে পুরো চাপ গিয়ে পড়বে ব্যাংক খাতের ওপরে। আমরা জানি, বাংলাদেশে ঘাটতি বাজেট দেওয়ার একটি সংস্কৃতি আছে। এবং এই ঘাটতি পূরণ হয় দেশের ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণ বা অনুদানের মাধ্যমে।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ব্যাংক খাত যেখানে অলরেডি খেলাপি ঋণ বা মন্দ ঋণ মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে সেখানে এই ব্যাংকগুলো আর ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য কোনো ঋণ দেওয়ার অবস্থায় আছে কিনা সেটা একটি বড় প্রশ্ন। আইএমএফ সম্প্রতি জানিয়েছে যে তারা বাংলাদেশে যে ঋণের চুক্তি হয়েছিল তার পরবর্তী কিস্তিগুলো নতুন সরকারকে আর দেবে না, তারা নতুন করে চুক্তি করতে বলছে। সুতরাং এখন ঋণের দিকে আমাদের তাকাতে হবে চীন বা এরকম কোনো দেশের দিকে। আমরা যখন কোনো ভিন্ন দেশ থেকে ঋণ নিই, এডিবি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা আইএমএফের বাইরে গিয়ে তখন দেখা যায় সেখানে সুদের হার অনেক বেশি থাকে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটি পরিশোধেরও একটা চাপ থাকে। সো এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে অর্থমন্ত্রী কী করে এই বাজেট বাস্তবায়ন করবেন।

Saturday, May 30

কানাইঘাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

কানাইঘাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী পালিত


নিজস্ব প্রতিবেদক :

হীদ প্রেসিডেন্ট ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সিলেটের কানাইঘাটে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৪টায় কানাইঘাট পৌরসভাস্থ আল-রিয়াদ কমিউনিটি সেন্টারে কানাইঘাট পৌর বিএনপির উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কানাইঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক এমএ হান্নান, সহ-সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা হাজী জসিম উদ্দিন, আলমাছ উদ্দিন চৌধুরী, আব্দুর রহমান, সিলেট ল’ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা জাকারিয়া আহমদ, ইমেজ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা বেলাল আহমদ, উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক কাওছার আহমদ বাঙ্গালী এবং পৌর বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা আবু শহিদ।

এছাড়াও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি নেতা শাহাজাহান আহমদ, জাকারিয়া সিদ্দিকী লিটন, আব্দুর রব, ইসলাম উদ্দিন, বশির আহমদ, তোতা মিয়া, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল মেম্বার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন আল-আমীন, সদস্য সচিব রাসেল চৌধুরী, পৌর জাসাসের সহ-সভাপতি ডালিম আহমদ, ছাত্রদল নেতা সিয়াম আহমদ ফাহিম, সেলিম উদ্দিনসহ অনেকে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শাহাদাৎবরণ করেন। তবে তাঁর মৃত্যু হলেও দেশের মানুষের হৃদয়ে তিনি আজও অমর হয়ে আছেন। বক্তারা আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল বিএনপি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং কোনো ষড়যন্ত্রই বিএনপির অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির মধ্যে কানাইঘাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ময়না মিয়া বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগদান করেন।

সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং মরহুম আরাফাত রহমান খোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

Sunday, April 12

সংরক্ষিত নারী আসনে জোরালো আলোচনায় হারিছকন্যা সামীরা তানজীন

সংরক্ষিত নারী আসনে জোরালো আলোচনায় হারিছকন্যা সামীরা তানজীন



কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

সিলেট থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে যারা আলোচনায় রয়েছেন তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার সামীরা তানজীন চৌধুরী অন্যতম। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য তার বড় শক্তি। ব্যারিস্টার সামীরা প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর কন্যা।

তিনি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সিনিয়র কোর্টের প্র্যাকটিসিং সলিসিটর এবং ব্রিটিশ সরকারের আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে মানবাধিকার, সিভিল লিটিগেশন ও গভর্ন্যান্স বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিনি দলের ত্যাগী রাজনীতির উত্তরসূরি।

তিনি সংসদ সদস্য হতে পারলে শিক্ষার উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, আইনের শাসন ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন বলে ইচ্ছা পোষণ করেছেন।

কানাইঘাট–জকিগঞ্জ (সিলেট-৫) আসন থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে একজন প্রতিনিধি হিসেবে সামীরা তানজীন চৌধুরীর মনোনয়ন পাওয়া অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী বলে মনে করেন ওই এলাকার মানুষ।

স্থানীয়রা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিগত ১৭ বছরের ত্যাগ তিতিক্ষার মূল্যায়ন চায় এলাকাবাসী। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে এই আসনটি বর্তমান সরকারের প্রতিনিধিত্ব নেই, বিধায় দীর্ঘদিনের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এই এলাকায় সরকারের উন্নয়ন পলিসি বাস্তবায়নের জন্য এই আসন থেকে সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য মনোনয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, জিওবি অথবা ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের অর্থায়নে এই এলাকার জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও বাস্তবায়নে যে মেধা, প্রজ্ঞা এবং পারিবারিকভাবে প্রাপ্ত শিক্ষা প্রয়োজন তা সামীরা তানজীন চৌধুরীর মধ্যে বিদ্যমান আছে।

মন্ত্রণালয় ও ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিগত দক্ষতা ও ক্যারিশমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যা হারিছ চৌধুরীর সুযোগ্য কন্যার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। তিনি নির্বাচনে সিলেট-৫ এ দল মনোনীত জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন এবং জাতীয়ভাবে টেলিভিশন টকশোতে দলকে ও দলীয় আদর্শকে সুন্দর সঠিক ও সুচারুভাবে উপস্থাপন করেছেন।

স্থানীয় রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিরা বলেন, সর্বজন শ্রদ্ধেয় হারিছ চৌধুরীর পর বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে এই অঞ্চলে আর কেউ সেইভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি। বাবার রেখে যাওয়া সেই শূন্যস্থান সামীরা তানজীন চৌধুরীর বিগত দিনের সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব বলে আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি।

সামীরা তানজীন চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা দল ও দেশপ্রেমিক এবং ’৭১- এর রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি বিএনপি তথা দেশের মানুষের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন। এলাকায় প্রচুর রাস্তা-ঘাট-ব্রিজ, স্কুল-কলেজ নির্মাণ করেছেন। তার সময়ে তার এলাকার এমন কোনো মসজিদ নেই, যেটা সরকারি বরাদ্দ পায়নি। তার আরও উন্নয়ন পরিকল্পনা ছিল। ১/১১ সরকার ও পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাবা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারেননি। সেই সময়ে আমাদের এলাকা অত্যন্ত বঞ্চিত ছিল। তখন তিনি আড়ালে থেকেও নীরবে দানকার্য চালিয়ে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চাইনি, কিন্তু একটি সেবামূলক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাবার কাজের ধারা ধরে রাখতে চেষ্টা করেছি। নির্বাচনে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। সংরক্ষিত নারী আসনে দলের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পেলে আব্বুর করে রেখে যাওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী এলাকার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, আইনের শাসন ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করব।’

সৌজন্যে : সারাবাংলা


Wednesday, January 7

তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে ‍নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে: হুমায়ুন কবির

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে: হুমায়ুন কবির


বাংলাদেশের নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে আগত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কীভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন করা যায় সে ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে হুমায়ুন কবির বলেন, বৈঠকে মূলত আগামী দিনে কীভাবে দেশের উন্নয়নে চায়না ও বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, তারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রস্তুত। নির্বাচন পরবর্তী দেশ ও দেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা কী হতে পারে সে বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে মতামত নিয়েছেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন।

Wednesday, December 10

জাতীয় ছাত্রশক্তির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে তাওফীক এলাহী তাকরীম

জাতীয় ছাত্রশক্তির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে তাওফীক এলাহী তাকরীম


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আদর্শিক ও সহযোগী ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়েছে। নবঘোষিত কমিটিতে সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (AIUB)-এর শিক্ষার্থী তাওফীক এলাহী তাকরীম।

গত ৩ ডিসেম্বর গঠিত পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিতে দেশকে ১০টি বিভাগে ভাগ করে সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। এর মধ্যে সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাওফীক এলাহী তাকরীমকে। তিনি এর আগে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দায়িত্ব প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে তাওফীক এলাহী তাকরীম বলেন,“২৪-এর অভ্যূত্থানের পর নতুন দেশ ও নতুন ছাত্ররাজনীতির প্রত্যাশায় আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।”

তিনি আরও জানান, গ্রুপিং-বিহীন, শিক্ষার্থী-বান্ধব রাজনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তিনি সিলেট বিভাগে কাজ করবেন এবং দেশের নতুন পথচলায় জাতীয় ছাত্ররাজনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে চান।

বর্তমানে তিনি AIUB-এর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত। ২৪-এর অভ্যূত্থানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

তাওফীক এলাহী তাকরীমের গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোটদেশ গ্রামে।

Sunday, September 21

ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করতে ঘরে ঘরে যাওয়ার আহ্বান চাকসু মামুনের

ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করতে ঘরে ঘরে যাওয়ার আহ্বান চাকসু মামুনের


নিজস্ব প্রতিবেদক ::

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কানাইঘাট-জকিগঞ্জ উপজেলায় কর্মীসভা, সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ, মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন।

এরই ধারাবাহিকতা রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় কানাইঘাট পৌরশহরের ইউনিক কমিউনিট সেন্টারে কানাইঘাট উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে এক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দলের নেতাকর্মীদের সকল ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। বিএনপির বিরুদ্ধে নানাভাবে একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের এ সকল অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের আদর্শকে তুলে ধরতে এবং গঠনমূলক প্রচার-প্রচারচনা চালাতে হবে। এখন থেকে ঘরে ঘরে বিএনপির দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে, এজন্য গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে আমাদের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে পৌঁছাতে হবে।

তিনি আরো বলেন, কানাইঘাট-জকিগঞ্জ স্বাধীনতা পরবর্তী কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। এ জনপদের উন্নয়ন করতে হলে বিএনপির কোন বিকল্প নেই। ধানের শীষের প্রার্থী এ আসন থেকে জয়ী হলে এ অঞ্চলের মানুষের প্রাপ্তি প্রত্যাশা পূরণ হবে। মামুনুর রশিদ বলেন, বিএনপি আমাকে এ আসন থেকে মনোনয়ন দিলে মানুষের আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো। এছাড়াও তিনি বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় কানাইঘাটের প্রত্যেকটি মন্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের যেতে হবে এবং পূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভাইদের সহযোগিতা ও তাদের পাশে থাকতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি মন্ডপ পাহাড়া দিতে হবে, কারন বাংলাদেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের একটাই পরিচয় আমরা বাংলাদেশী।

উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ডাঃ ইয়াকুব আলীর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক খসরুজ্জামান পারভেজের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ওয়েছ আহমদ, জেলা কৃষকদলের সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান, লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব, লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি বিএনপির সভাপতি কামাল আহমদ মেম্বার, বড়চতুল ইউপি বিএনপির সভাপতি আব্দুন নুর, সাধারণ সম্পাদক সুলেমান রশিদ।

কর্মী সভায় দলকে ঢেলে সাজানো এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি এবং ৬টি ইউনিয়ন ইউপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

কর্মী সভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মামুনুর রশিদ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কর্মী সভায় জেলা বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক জালাল খানের মৃত্যুতে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

Wednesday, April 16

অতি শিগগির আ.লীগ নিয়ে সিদ্ধান্তে আসুন: হাসনাত আবদুল্লাহ

অতি শিগগির আ.লীগ নিয়ে সিদ্ধান্তে আসুন: হাসনাত আবদুল্লাহ

 


ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে দলটির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তমূলক অবস্থানে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন ঘটে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন হাসনাত। সম্প্রতি সেই প্লাটফর্মের অগ্রভাগের সংগঠকদের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে এনসিপি।

হাসনাত বলেন, যেদিন থেকে আমাদের আওয়ামী বিরোধী অবস্থান এবং কম্প্রোমাইজের (আপস) রাজনীতির বিরোধিতাকে ‘শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই আওয়ামী লীগের মিছিল বড় হতে শুরু করেছে। যারা কম্প্রোমাইজের রাজনীতি করছেন, তাদের সতর্ক করছি—অতি শিঘ্রই আওয়ামী লীগ নিয়ে সিদ্ধান্তে আসুন। না হলে আপনারা করবেন কম্প্রোমাইজের রাজনীতি, আর আমি করব শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ।

‘আমি শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ শুরু করলে নিতে পারবেন না। সাবধান হয়ে যান। ’, যোগ করেন হাসনাত।

এনসিপির এই নেতা গত ১২ মার্চ আরেক পোস্টে আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছিলেন।

সেই পোস্টে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনেই আওয়ামী লীগকে ফেরানোর পরিকল্পনা চলছে। ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগ নামে নতুন একটি ‘টেবলেট’ নিয়ে শীঘ্রই হাজির হবে। যারা এই পরিকল্পনা করছেন, আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, এখানে কোনো ‘ইফস’ এবং ‘বাটস’ নেই। বিচারের পূর্বে আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের পুনর্বাসনের চেষ্টার আলাপ দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে। ”

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, “সুতরাং ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের টেবলেট নিয়ে হাজির হবেন না। আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত হওয়ার পূর্বে আর কোনো আলাপ নয়। ফুলস্টপ। ”

গত জুলাইতে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। প্রথমে এই আন্দোলন ছিল একেবারেই শান্তিপূর্ণ। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তার ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে শিক্ষার্থীদের দমনে মাঠে নামালে সহিংসতার শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের শেখ হাসিনা ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে কটূক্তি করলে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অগ্নিগর্ভ হলে আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে হাসিনার সরকার। একইভাবে নামানো হয় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের। রাজপথে একের পর এক লাশ পড়তে থাকে। এক পর্যায়ে আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতনের এক দফা দাবিতে। তীব্র জনরোষের মুখে শেখ হাসিনা আর টিকতে পারেননি। পালিয়ে যান ভারতে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাই-আগস্টে অভ্যুত্থান চলাকালে এক হাজার ৪শর বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো সামরিক অস্ত্র ও শটগানের গুলিতে মারা যান। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা গুরুতর আহত হয়েছেন। পঙ্গু হয়েছেন অনেকেই। অনেকের দুই চোখ, কারো কারো এক চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। ১১ হাজার সাতশর বেশি মানুষকে র‍্যাব ও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

Tuesday, April 15

রাষ্ট্রের গুণগত মৌলিক পরিবর্তন না হলে জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হবে: নাহিদ

রাষ্ট্রের গুণগত মৌলিক পরিবর্তন না হলে জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হবে: নাহিদ

 


রাষ্ট্র যদি গুণগত মৌলিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে না যায়, যদি একই রাষ্ট্র থেকে যায় তাহলে আমাদের জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ইস্কাটন গার্ডেনের নেভি গলিতে ‘এনসিপি বৈশাখ উদযাপন ১৪৩২’ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, নববর্ষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হচ্ছে নবায়ন করা, হালখাতার মাধ্যমে ধার-দেনা শোধ করা। আমরা চাই রাষ্ট্রেরও নবায়ন হউক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই নবায়নের সূচনা হয়েছে। জুলাই বিপ্লব আমাদের নতুন রাষ্ট্র, নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা আমাদের মধ্যে তৈরি করেছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ইতোমধ্যে দেখছি, জুলাই বিপ্লবকে, আকাঙ্ক্ষাকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিসমূহ সমভাবে ধারণ করছে না। আমরা স্পষ্টভাবেই জুলাই বিপ্লবের সময়ও বলেছিলাম, আমাদের ঘোষণা ছিল ফ্যাসিবাদের বিলোপ, একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিষ্ঠা। এই গণঅভ্যুত্থান কেবল কোনো ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য না, দলের পরিবর্তনের জন্য না। রাষ্ট্রের আমূল কাঠামো পরিবর্তন, মানুষের ন্যায় বিচার পাবার অধিকার ও একটি ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন।

সংস্কারের ধারাবাহিকতা দ্রুত কার্যকর করা উচিৎ মন্তব্য করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, নাগরিক পার্টি বিচার, সংস্কার এবং গণপরিষদ নির্বাচনের এজেন্ডা সামনে নিয়ে আগাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আমরা বিচার এবং সংস্কার কার্যক্রম দেখতে চাই। বিচার এবং সংস্কারের রোডম্যাপ চেয়েছি সরকারের কাছে। যা সংস্কারের মধ্য দিয়েই গণপরিষদ এবং আইন সভার দিকে আগাতে চাই। আমরা মনে করে এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতিগত নবায়ন সম্ভব।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, রাষ্ট্র যন্ত্রের যে সব বিষয়ে সংস্কার প্রয়োজন, যা না হলে সাংবিধানিক পর্যায়ে যে স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসার সুযোগ পায় সে সব বিষয়ে অবশ্যই অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং পরবর্তী সরকার যে সমস্ত সংস্কারকে অব্যাহতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আমরা অনেকক্ষেত্রেই বাংলা সনকে ভুলে যাই অথচ আমাদের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা এখনো চাষাবাদের আয়োজন বাংলা মাসের হিসেবেই করেন। অনেক ক্ষেত্রে বাংলা সনকে অবহেলার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমরা আশা করবো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যেন আমরা বাংলা সনের গুরুত্ব অনুধাবন করি।

Monday, April 14

এয়ারকন্ডিশনের ভেতরে বড় বড় দামি অফিসে বসে তারা সংস্কারের কথা বলছে: তারেক রহমান

এয়ারকন্ডিশনের ভেতরে বড় বড় দামি অফিসে বসে তারা সংস্কারের কথা বলছে: তারেক রহমান

 


‘বড় বড় জায়গায় বসে, এয়ারকন্ডিশনের ভেতরে বসে, বড় বড় দামি দামি অফিসে বসে তারা সংস্কারের কথা বলছে। আজকে যারা সংস্কারের কথা বলছে, এরা সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে অর্থাৎ সরকার তাদের গাড়ি দিচ্ছে, তাদেরকে বেতন–বোনাস, ভাতা দিচ্ছে, তার ওপর তারা বসে সংস্কারের কথা বলছে,’ কথাগুলো বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (১৩ এপ্রিল) বিএনপি ঘোষিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের রূপরেখার ৩১ দফা ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এ কথাগুলো বলেন।

সংস্কার আগে ও নির্বাচন পরে—যারা এ কথা বলছেন, তাদের সমালোচনা করে ওই বক্তব্য দেন তারেক রহমান। বিএনপি সংস্কার করবে কি না, সেই সন্দেহ–সংশয়ের কথা যারা বলছেন, তাদের সেই সংশয় নাকচ করেছেন তিনি।

নিজের এই বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি এসব সুবিধার ভেতর থেকে সংস্কারের কথা বলেনি। বিএনপি যখন সংস্কারের কথা বলেছে, তখন বিএনপি রাজপথে স্বৈরাচারের সাথে যুদ্ধ করছে একদিকে, আন্দোলন করছে আর আরেক দিকে বিএনপি দেশ গঠনের চিন্তা করছে।’

এখন যারা আগে সংস্কারের কথা বলছেন, তাদের মধ্যে কতজন স্বৈরাচার শেখ হাসিনার চোখে চোখ রেখে কথা বলেছেন, সেই সময় রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছেন, সেসব প্রশ্নও তুলেছেন তারেক রহমান।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দেশজুড়ে হাজার হাজার নেতা–কর্মী যখন কারাবন্দী, লাখ লাখ নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা এবং তারা যখন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, সেই সময় বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারে ৩১ দফা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

তাই বিএনপি ক্ষমতায় এলেই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে দেশে সংস্কার করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন, ‘হতে পারে আমাদের ভুলত্রুটি আছে, হতে পারে আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে, হতে পারে আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কোনো কোনো অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় ক্রেডিট হচ্ছে, কেউ যদি অন্যায় করে থাকে, তাহলে আমরা কোনো ডিনায়ালের (অস্বীকার) মধ্যে নেই।’

এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমরা এখনো দেখছি, অনেক রাজনৈতিক দল আছে, কারও নাম বলব না, তাদের বিভিন্ন জনের বিভিন্ন বিষয়ের খবর, তাদের সদস্যদের আপনারা দেখছেন, আকাশে বাতাসে কান পাতলেই আমরা শুনতে পাচ্ছি। বাট, কাউকে কি দেখেছেন, যারা অন্যায় করেছে, অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে? তারা তাদের অন্যায়কারী সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।’

সেখানে বিএনপি অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে যারা দলের ভেতরে থেকে অন্যায় করছে, যেটা সামনে আসছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘ আমরা ডিনায়ালে নেই। কারণ, আমরা বলেছি, অন্যায়কারী কোনো দলের সদস্য হতে পারে না। অন্যায়কারীর পরিচয় সে অন্যায়কারীই। অন্যায়কারীর সাথে আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই না।’

বিএনপির লক্ষ্য এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, এ কথা উল্লেখ করে দলীয় নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশের জন্য বেটার (আরও ভালো) কিছু করা। কিন্তু দল একা পারবে না। আপনাদের সকলকে নিয়ে এই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। কাজেই আপনারা প্রত্যেকটি মানুষ যখন এগিয়ে আসবেন, তখনি আমাদের পক্ষে সম্ভব ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা।’