Monday, October 12

চেক জালিয়াতির মামলায় কারাগারে কানাইঘাটের ইউপি সদস্য ময়নুল হক

চেক জালিয়াতির মামলায় কারাগারে কানাইঘাটের ইউপি সদস্য ময়নুল হক


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সাতবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ময়নুল হকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার চেক জালিয়াতির একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ বিচারক শুনানি শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

মামলার এজাহার ও বাদীপক্ষের সূত্রে জানা যায়, সাতবাঁক ইউনিয়নের পীরনগর গ্রামের বাসিন্দা আলী আহমদ চেক জালিয়াতির অভিযোগ এনে ইউপি সদস্য ময়নুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৩৭৮/২৪)। বাদীর অভিযোগ, ময়নুল হক তাকে আড়াই লক্ষ টাকার একটি চেক প্রদান করেছিলেন, যা পূবালী ব্যাংক কানাইঘাট শাখা থেকে নগদায়নের কথা ছিল। কিন্তু ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার জানান, চেকটি ময়নুল হকের নিজ নামের অ্যাকাউন্টের নয়, বরং এটি তার ছেলে সুজন আহমদের অ্যাকাউন্টের। প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী আলী আহমদ আদালতের আশ্রয় নেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ময়নুল হকের বিরুদ্ধে চোরাচালান, পাথর চুরি ও জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি একাধিকবার কারাভোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

আদালতের নির্দেশে ইউপি সদস্য ময়নুল হককে কারাগারে পাঠানোর খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Sunday, October 11

কানাইঘাটে হেলথ কার্ডের নামে প্রতারণা, দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার

কানাইঘাটে হেলথ কার্ডের নামে প্রতারণা, দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে হেলথ কার্ড ও ভুয়া চুক্তিনামার মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) উপজেলার ৫ নং বড়চতুল ইউনিয়নের চতুল বাজারে হাজী ফখরুল ইসলামের মার্কেট থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা গ্রামের আব্দুল মুকিতের ছেলে মোহাম্মদ নোমান মিয়া (২৭) এবং বরিশালের উজিরপুর উপজেলার যুগিহাটি গ্রামের আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে আব্দুল আহাদ হাওলাদার (৩১)। 

পুলিশের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাঁদের সহযোগীদের নিয়ে কানাইঘাটের বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ব্যবহার করে হেলথ কার্ড ও লিফলেট বিতরণ করতেন। পাশাপাশি ‘নিরাময় এক্সপ্রেস’ নাম ব্যবহার করে ভুয়া চুক্তিনামা তৈরি করে গোল্ড ও সিলভার মেম্বারশিপ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া চুক্তিনামা তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। 

এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। এদিকে, হেলথ কার্ডের নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্বাস্থ্যসেবা কার্ডের সদস্যপদ গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কানাইঘাটে ৯৬০ কেজি সালফার জব্দ, গ্রেপ্তার ১

কানাইঘাটে ৯৬০ কেজি সালফার জব্দ, গ্রেপ্তার ১


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৯৬০ কেজি সালফার টুকরাভর্তি পিকআপ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জাকির আহমদ (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জব্দ করা সালফারের আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এ সময় অপর এক আসামি পালিয়ে যায়।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ৩টা ৫ মিনিটের দিকে উপজেলার ৫ নং বড়চতুল ইউনিয়নের চতুল বাজার এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের প্রায় ১০০ গজ পশ্চিমে পাকা সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় উপপরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সালফার টুকরাভর্তি পিকআপসহ জাকির আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অপর এক আসামি কৌশলে পালিয়ে যায়।

গ্রেপ্তার জাকির আহমদ কানাইঘাট উপজেলার বাউরভাগ ১ম খণ্ড এলাকার আব্দুস শুক্কুর ও হেলেনা বেগমের ছেলে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার জাকির আহমদ ও পলাতক আসামির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি)/২৫ডি ধারায় কানাইঘাট থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ১১ অক্টোবর দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ৬।

মামলার তদন্তভার উপপরিদর্শক সুব্রত চন্দ্র দাসের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কানাইঘাটে প্রভাতীর বৃত্তি পেল দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী, পুরস্কার দিলেন এমপি আবুল হাসান

কানাইঘাটে প্রভাতীর বৃত্তি পেল দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী, পুরস্কার দিলেন এমপি আবুল হাসান


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাটে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি, নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দিয়েছে বৃহৎ সামাজিক সংগঠন প্রভাতী সমাজ কল্যাণ যুব সংঘ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের বোরহান উদ্দিন বাজারস্থ ইকবাল কনভেনশন হলে এ শিক্ষাবৃত্তি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রভাতী সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং মরহুমা ফারহানা রহমান মসজিদভিত্তিক বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

প্রভাতী সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের সভাপতি মাওলানা বিলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ছালিম আছলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এখলাছুর রহমান, খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা মখলিছুর রহমান, ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন এবং খেলাফত মজলিস কানাইঘাট উপজেলা শাখার সেক্রেটারি আমিমুল এহসান শামীম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন গাছবাড়ি সামিট মাদরাসার অধ্যক্ষ মুখতার আহমদ, প্রভাতী সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের উপদেষ্টা জালাল উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম ও সাইদুর রহমান এবং সংগঠনের সম্মানিত সদস্য মাওলানা আব্দুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষানুরাগী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান বলেন, “প্রভাতী সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের মতো সংগঠনগুলোই সমাজের আলোকবর্তিকা। তারা মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে যে মহতী উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শিক্ষাই একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে।”

তিনি আরও বলেন, আজকের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের পড়ালেখায় আরও মনোযোগী হতে হবে। মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে বই-পুস্তকে বেশি সময় দিতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দেন। আয়োজকদের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ জোগানোর পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কানাইঘাট সীমান্তে উদ্ধার শাহিনের লা শ হস্তান্তর, অভিযোগ করেনি পরিবার

কানাইঘাট সীমান্তে উদ্ধার শাহিনের লা শ হস্তান্তর, অভিযোগ করেনি পরিবার


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া গুলিবিদ্ধ যুবক শাহিন আহমদের (২৫) লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি জানান, সীমান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে, শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের সোনারখেওড় সীমান্তসংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ এলাকা থেকে শাহিন আহমদ নামের ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। রোববার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

নিহত শাহিন আহমদ কানাইঘাট উপজেলার কেউটি হাওর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের ছেলে। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিশ্বজয়ী দুই হাফেজে গর্বিত কানাইঘাট, উজ্জ্বল বাংলাদেশের মুখ!

বিশ্বজয়ী দুই হাফেজে গর্বিত কানাইঘাট, উজ্জ্বল বাংলাদেশের মুখ!


মাহবুবুর রশিদ :

বছর দুয়েক আগে কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে একটি হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ এহতেশামুল হক হীরার সুমধুর কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত শুনে আবেগে আপ্লুত হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা আজও হৃদয়ে গেঁথে আছে। কে জানত, সেদিনের সেই মুগ্ধতা একদিন বিশ্বজয়ের আনন্দে রূপ নেবে!

যতদূর জানি, হীরার বাবা-মা দুজনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁরা নিজেদের সন্তানকে কোরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তুলেছেন এবং হৃদয়ে লালন করেছেন একটি সুন্দর স্বপ্ন,একদিন তাঁদের সন্তান কোরআনের আলোয় আলোকিত করবে চারপাশ। আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। হীরা শুধু তাঁর বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করেনি, আলোকিত করেছে পুরো কানাইঘাটকে, গর্বিত করেছে সিলেটবাসীকে, সম্মান বাড়িয়েছে বাংলাদেশের।

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার হিফজুল কোরআন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে গৌরবান্বিত করেছে হাফেজ এহতেশামুল হক হীরা। এর আগেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে সে।

হীরার গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ফালজুর গ্রামে। তাঁর পিতা মাস্টার আনোয়ারুল হক। একজন সন্তানের এমন সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা, দোয়া ও নিরলস প্রচেষ্টা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, হীরার অর্জন যেন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আনন্দের এখানেই শেষ নয়, কানাইঘাটের গৌরবগাথায় যুক্ত হয়েছে আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায়! গত মাসে কাতারে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে আমাদের উপজেলার আরেক গর্বিত সন্তান হাফেজ কামরুজ জামান কামিল। তাঁর এই অসাধারণ অর্জনে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা।

একটু ভেবে দেখুন, একই উপজেলার দুই তরুণ হাফেজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন! তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে পবিত্র কোরআনের বাণী, তাঁদের সাফল্যে উজ্জ্বল হচ্ছে বাংলাদেশের নাম। এটি শুধু দুজন ব্যক্তির অর্জন নয়; এটি তাঁদের পরিবার, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান, এলাকাবাসী এবং সমগ্র দেশবাসীর জন্য এক অনন্য গৌরবের উপলক্ষ।

জানামতে, হাফেজ হীরা ও হাফেজ কামিল,দুজনেরই শিকড় রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে। তাই রাজাগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান, এই দুই বিশ্বজয়ী কোরআনের হাফেজকে ঘিরে আয়োজন করা হোক একটি বর্ণাঢ্য ও সম্মানজনক সংবর্ধনা। তাঁদের সাফল্যকে যথাযথ সম্মান জানানো হোক, তাঁদের অর্জন ছড়িয়ে দেওয়া হোক নতুন প্রজন্মের মাঝে। এমন আয়োজন ভবিষ্যতে আরও অনেক শিশুকে পবিত্র কোরআন হিফজ করতে, জ্ঞান অর্জন করতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে অনুপ্রাণিত করবে।

হীরা ও কামিল, তোমরা কানাইঘাটের গর্ব, সিলেটের অহংকার, বাংলাদেশের গৌরব!

তোমাদের কণ্ঠে কোরআনের সুমধুর তেলাওয়াত ছড়িয়ে পড়ুক পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তোমাদের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে বারবার উচ্চারিত হোক বাংলাদেশের নাম। মহান আল্লাহ তোমাদের ইলম, আমল, ইখলাস ও নেক হায়াতে বরকত দান করুন। কোরআনের খেদমতে তোমাদের জীবনকে কবুল করুন এবং ভবিষ্যতেও এমন সাফল্য অর্জনের তাওফিক দান করুন।

কানাইঘাটের মাটি থেকে বিশ্বমঞ্চে-কোরআনের আলোয় আলোকিত হোক আগামীর বাংলাদেশ।

দুজনের জন্য রইল অফুরন্ত ভালোবাসা, আন্তরিক দোয়া ও প্রাণঢালা শুভকামনা।

Saturday, October 10

বিশ্বসেরা কানাইঘাটের হাফেজ হিরা

বিশ্বসেরা কানাইঘাটের হাফেজ হিরা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হিফজুল কোরআন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন সিলেটের কানাইঘাটের কৃতী সন্তান হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা। তাঁর অসাধারণ এ সাফল্যে গর্বিত কানাইঘাটবাসীসহ পুরো বাংলাদেশ।

হিরা ঢাকার মিরপুর-১-এ অবস্থিত মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামীর শিক্ষার্থী। শনিবার (১০ অক্টোবর) তাঁর এ অনন্য অর্জনের তথ্য নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি মাসুম ফয়েজী।

তিনি জানান, গত ৬ থেকে ১০ অক্টোবর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিযোগী অংশ নেন। কয়েক ধাপের বাছাইপর্ব পেরিয়ে ৩৮টি দেশের প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে হিফজুল কোরআন বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা।

আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শনিবার অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান।

হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরার গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ফালজুর গ্রামে।তার পিতার নাম মাস্টার আনোয়ারুল হক।

পবিত্র কোরআন হিফজের সাধনা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি নিজ জন্মভূমি কানাইঘাটসহ পুরো বাংলাদেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।

তাঁর এ সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের কোরআন শিক্ষার ঐতিহ্য ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এক অনন্য গৌরবের উপলক্ষ। বিশ্বমঞ্চে হিরার এ বিজয় নতুন প্রজন্মের কোরআনের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

কানাইঘাট সীমান্তে গু'লি'বি'দ্ধ যুবকের লা*শ উদ্ধার

কানাইঘাট সীমান্তে গু'লি'বি'দ্ধ যুবকের লা*শ উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সোনারখেওড় সীমান্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহিন আহমদ (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সীমান্তের ১৩২৮ নম্বর পিলারসংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে কে বা কারা তাঁকে গুলি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের সোনারখেওড় সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিন আহমদ উপজেলার কেউটি হাওর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে শাহিন আহমদ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। পরদিন শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন সোনারখেওড় গ্রামের সীমান্তবর্তী কৃষিজমিতে তাঁর গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁরা বিষয়টি নিহতের পরিবারকে জানান। খবর পেয়ে তাঁর বড় ভাই জসিম উদ্দিন কানাইঘাট থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহিন আহমদ মাঝেমধ্যে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের খাসিয়া পুঞ্জিতে শ্রমিকের কাজ করতে যেতেন। তাঁদের ধারণা, শুক্রবার রাতে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ অথবা সীমান্ত এলাকার অস্ত্রধারী খাসিয়াদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সোনারখেওড় সীমান্ত এলাকা থেকে শাহিন আহমদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে। তাঁর পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে কে বা কারা তাঁকে গুলি করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নিহতের বড় ভাই জসিম উদ্দিন জানান, শাহিন আহমদ দিনমজুরের কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী ও দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি এক যুবকের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।

কানাইঘাটে ক্রীড়া উৎসবে মাতল গাছবাড়ী মডার্ণ একাডেমি

কানাইঘাটে ক্রীড়া উৎসবে মাতল গাছবাড়ী মডার্ণ একাডেমি


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গাছবাড়ী মডার্ণ একাডেমিতে উৎসবমুখর পরিবেশে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। দিনব্যাপী নানা ক্রীড়া ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।

একাডেমির সিনিয়র শিক্ষক মো. হানিফ ও রফিকুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির সভাপতি ও সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল বাসিত। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি সুস্থ, মেধাবী ও যোগ্য জাতি গঠনে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে না; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, যারা এবার বিজয়ী হতে পারেনি, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাই বড় বিষয়। অধ্যবসায় ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আগামী দিনে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে একাডেমির পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যের কাছে একটি আইসিটি ভবন নির্মাণ, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ভরাট ও পাকাকরণ এবং একাডেমির মসজিদে অজুর সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। জবাবে সংসদ সদস্য মুফতি মাওলানা আবুল হাসান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস, ৮ নং ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার আবু বকর, ৭ নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার লোকমান উদ্দিন, ৮ নং ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট জেলা শাখার সহসভাপতি মাওলানা মখলিছুর রহমান, গাছবাড়ী আইডিয়্যাল কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি জাকারিয়া আল মামুন, আলহাজ্ব বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন এবং গাছবাড়ী সমাজ কল্যাণ যুব সমিতির সভাপতি এনামুল হক।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাছবাড়ী সামিট মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুখতার আহমদ, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি তাওহীদুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক জয়নাল আজাদ, গাছবাড়ী মেরিট গার্ডেনের প্রধান শিক্ষক বোরহান উদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।


অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দিনব্যাপী বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে অতিথিবৃন্দ পুরস্কার তুলে দেন। পাশাপাশি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হওয়া এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চা, সুস্থ প্রতিযোগিতা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

কানাইঘাটের সাতবাঁকে জাসাসের নতুন কমিটির অভিষেক

কানাইঘাটের সাতবাঁকে জাসাসের নতুন কমিটির অভিষেক


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সাতবাঁক ইউনিয়নে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নবগঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় স্থানীয় ভবানীগঞ্জ বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাতবাঁক ইউনিয়ন জাসাস।

সাতবাঁক ইউনিয়ন জাসাসের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন ও ছাত্রদল নেতা জাহেদ হাসানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল করিম শাহীন, সাতবাঁক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফখর উদ্দিন, দিঘীরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ফারুক আহমদ, উপজেলা জাসাসের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, জেলা যুবদল নেতা গিয়াছ উদ্দিন ও রুবেল আহমদ।

এছাড়াও বক্তব্য দেন উপজেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, সহ-সভাপতি সাহেদ আহমদ, ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মামুন মেম্বার, বিএনপি নেতা আলী আহমদ, এমসি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাফিজ আহমদ সুজন, দিঘীরপাড় ইউনিয়ন জাসাসের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জুয়েল, লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন জাসাসের সভাপতি সালেক আহমদ, ইউপি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আমিনুর রশিদ ও যুবদল নেতা জহির উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানান এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আদর্শ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সাতবাঁক ইউনিয়ন জাসাসের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাতসহ কমিটির প্রায় সব নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

Thursday, October 8

কুড়ারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি ফের আব্দুল্লাহ

কুড়ারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি সভাপতি ফের আব্দুল্লাহ


নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বড় চতুল ইউনিয়নের কুড়ারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে দ্বিতীয়বারের মতো বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. আব্দুল্লাহ।

নবগঠিত কমিটিতে মো. জয়নাল আবদীনকে সহ-সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সজল চক্রবর্তীকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর মো. আব্দুল্লাহ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে চান।

তিনি বলেন, “এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া কামনা করছি।”

দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।


সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি হলেন অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিক

সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি হলেন অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিক


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নতুন অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কানাইঘাটের সন্তান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিক।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের (জিপি-পিপি শাখা) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে সিলেট জেলার বিভিন্ন আদালতের আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অব্যাহতির তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত সব সরকারি আইনজীবীর নিয়োগাদেশ বাতিল করে তাদের নিজ নিজ পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে Code of Criminal Procedure, 1898-এর Section 492 এবং Legal Remembrancer's Manual, 1960-এর ক্ষমতাবলে অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিক আদালতের বিচারিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিক কানাইঘাট উপজেলার ৭ নং দক্ষিণ বানিগ্রাম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কান্দিগ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবী এবং কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ডা. আবু শহিদ শিকদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র।

তিনি ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবনে যোগ দেন। আইন পেশায় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসার ধারাবাহিকতায় এবার সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি।

তার এই নিয়োগে কানাইঘাটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, নতুন দায়িত্বে অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন সাদিক সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

কানাইঘাটে দুই শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা

কানাইঘাটে দুই শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

কানাইঘাট পৌরসভার মোতাহের আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ও হোসেইন আহমদকে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি,এলাকাবাসী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

 বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকবাল আহমদের সভাপতিত্বে প্রাক্তন শিক্ষার্থী খাজা শামীম আহমদ শাহীন ও তুষার সালের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব‌্য রাখেন কানাইঘাট সরকারি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান  ফরিদ আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম.এ হান্নান,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মিফতাহুজ্জামান,ইউপিইটিসি ইন্সট্রাক্টর মনজুরুল ইসলাম,উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জহিরুল ইসলাম,প্রভাষক আহমদ হোসেইন, কানাইঘাট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী এ.কে.এম ওলিউল্লাহ,কানাইঘাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম,উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ,সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিহার রঞ্জন বর্ধন,আমেরিকা প্রবাসী মাস্টার শামসুল ইসলাম , দলইমাটি মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা মুহিবুর রহমান। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বক্তব‌্য রাখেন আবু বক্কর,জামিল আহমদ,বুলবুল আহমদ প্রমূখ।

এ সময় সংবর্ধিত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ও হোসেইন আহমদ তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তারা।

পরে অবসরপ্রাপ্ত দুই শিক্ষককে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, এলাকাবাসী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, এলাকাবাসী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।