Showing posts with label বিশেষ খবর. Show all posts
Showing posts with label বিশেষ খবর. Show all posts

Tuesday, September 1

নতুন সম্ভাবনা নিয়ে টিকে আছে কানাইঘাট ডাকঘর

নতুন সম্ভাবনা নিয়ে টিকে আছে কানাইঘাট ডাকঘর


মাহবুবুর রশিদ: 

আজ ১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস। একসময় মানুষের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, আত্মীয়তার বন্ধন ও প্রয়োজনীয় সংবাদ আদান-প্রদানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল হাতে লেখা চিঠি। ডাকপিয়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনতেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারে সেই আবেগঘন চিঠির ব্যবহার এখন অনেকটাই কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ডাকঘরগুলোতেও। 

কানাইঘাট উপজেলা প্রধান ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রধান ডাকঘরসহ প্রায় ২০টি পোস্ট অফিস ও সাব-পোস্ট অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি ডাকঘরের কার্যক্রম বর্তমানে ভাড়া করা দোকানঘর থেকে পরিচালিত হচ্ছে। 

একসময় ডাকঘরের সামনে থাকা লাল রঙের দাঁড় করানো ডাকবাক্স ছিল পরিচিত ও আবেগময় এক দৃশ্য। এখন সেই ডাকবাক্সও অনেক জায়গা থেকে হারিয়ে গেছে। ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর, আদালত ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও চিঠিপত্র এখনো ডাক বিভাগের মাধ্যমেই আদান-প্রদান করা হয়। ফলে আগের মতো ব্যস্ততা না থাকলেও কানাইঘাটে সরকারি সেবা প্রদানে ডাক বিভাগের গুরুত্ব এখনো অটুট রয়েছে। 

ডাকঘর সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রাহকসেবা আধুনিক ও দ্রুত করতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ চালু করেছে স্পিড পোস্ট (এসডি) ও গ্যারান্টিড এক্সপ্রেস পোস্ট (জিইপি) সেবা। পাশাপাশি ডাক জীবন বীমা, সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ড এবং ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিসের মতো বিভিন্ন সেবাও নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে কানাইঘাট প্রধান ডাকঘরে। 

কানাইঘাট উপজেলা প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো. ফারুক আহমদ তাপাদার জানান, চিঠিপত্র আদান-প্রদানের পাশাপাশি ডাকঘরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া সল্প খরচে স্পিড পোস্ট সেবার মাধ্যমে মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পার্সেল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এ ডাকঘর থেকে।

তিনি আরও জানান, ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবার পাশাপাশি কানাইঘাট প্রধান ডাকঘরে পরিচালিত ডিজিটাল পোস্ট অফিস নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

কানাইঘাট ডিজিটাল পোস্ট অফিসের উদ্যোক্তা মো. মাহবুবুর রহমান জানান, সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এখানে কম্পিউটারের বেসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সরকারি নির্ধারিত সল্প খরচে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার প্রশিক্ষণার্থী সরকারি সনদ অর্জন করেছেন। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পেশায় সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন।

আন্তর্জাতিক চিঠি দিবসে কানাইঘাটের ডাকঘরের বর্তমান চিত্র ঘুরে দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্মের অনেকেরই হাতের লেখা চিঠি কিংবা ডাকঘরের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও ডিজিটাল পোস্ট অফিসের মাধ্যমে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে অনেকেই ভিড় করছেন ডাকঘরে।



Thursday, August 20

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব কানাইঘাটের এহসান-ই-এলাহী

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব কানাইঘাটের এহসান-ই-এলাহী


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস)-এর উপ-মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কানাইঘাটের কৃতী সন্তান মোঃ এহসান-ই-এলাহী। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এ নিয়োগে সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

মোঃ এহসান-ই-এলাহী বাংলাদেশ সরকারের একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা। জনপ্রশাসন, নীতি প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা, শ্রম ও অভিবাসন শাসন, মানবিক কার্যক্রম এবং সরকারি খাতের সংস্কারে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিব, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

কৌশলগত নেতৃত্ব, সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা, নীতি বাস্তবায়ন, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং দুর্যোগ ও মানবিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।

নতুন দায়িত্বে মোঃ এহসান-ই-এলাহী বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মানবিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, মানবিক সমন্বয়, সরকার ও অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিচালনগত কার্যকারিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এহসান-ই-এলাহীর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভে সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

Thursday, August 6

৫৫ বছরের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি, ভালোবাসায় সিক্ত মাওলানা গোলাম ওয়াহিদ

৫৫ বছরের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি, ভালোবাসায় সিক্ত মাওলানা গোলাম ওয়াহিদ


নিজস্ব প্রতিবেদক
:

টানা ৫৫ বছর মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করে দ্বীনি শিক্ষা ও ইসলামের খেদমতে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বীরদল আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবীণ আলেম মাওলানা গোলাম ওয়াহিদকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ‘আল-ওয়াহিদ আবনা, ফুজালা, হুফ্ফাজ পরিষদ’ এবং বীরদল এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিলে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, মাওলানা গোলাম ওয়াহিদ দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বীরদল আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার মাধ্যমে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, আদর্শবান আলেম ও হাফেজ গড়ে তোলা এবং সমাজে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রচারে নিরলস ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার সুনিপুণ তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অসংখ্য হাফেজ ও আলেম বের হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় শিক্ষা, ইমামতি, খতিব ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষানুরাগী, আদর্শ শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে মাওলানা গোলাম ওয়াহিদের অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তারা তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দ্বীনি খেদমতের ধারাবাহিকতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাইখুল হাদি মাওলানা শফিকুল হক সুরইঘাটী, সিলেটের বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মোশতাক আহমদ খান, শায়খুল হাদিস মাওলানা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী, মুফতি মাসউদ আহমদ (শাহবাগ জামিয়া), মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা মুতাছিম আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ,  বীরদল এন এম একাডেমির সাবেক প্রধান শিক্ষক জার উল্লাহ, বর্তমান প্রধান শিক্ষক মাহবুবুল করীম, মাওলানা আজমত উল্লাহ, মাওলানা জামিল আহমদ, মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মাওলানা গোলাম ওয়াহিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং সম্মাননার অংশ হিসেবে ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার দীর্ঘ ৫৫ বছরের দ্বীনি খেদমত, শিক্ষা বিস্তার এবং কর্মময় জীবন নিয়ে প্রকাশিত একটি স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সবশেষে দেশ, জাতি ও উম্মাহর কল্যাণ এবং মাওলানা গোলাম ওয়াহিদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও দ্বীনি খেদমতের ধারাবাহিকতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

Thursday, July 23

আলিম বোর্ডে প্রথম, ২৭ দিনেই কোরআন মুখস্থ করেছিলেন মাওলানা আব্দুর রহীম

আলিম বোর্ডে প্রথম, ২৭ দিনেই কোরআন মুখস্থ করেছিলেন মাওলানা আব্দুর রহীম


রমজানের ২৭ দিনেই সম্পন্ন করেন পবিত্র কোরআনের হিফজ; পরে আলিম পরীক্ষায় বোর্ডসেরা হয়ে দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় দ্বীনি শিক্ষার খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন।

সেলিম আউয়াল:

মাত্র সাতাশ দিনে পুরো কোরআন শরীফ মুখস্থ করে ফেললেন তিনি। তখন তাঁর বয়স চৌদ্দ বছর, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষা দিয়ে সমগ্র বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। মেধাবী এই মানুষ হচ্ছেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গাছবাড়ি জামিউল উলুম কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা আব্দুর রহীম।

মাত্র সাতাশ দিনে পবিত্র কোরআন হিফজ করার প্রসঙ্গ তুললে মাওলানা আব্দুর রহীম বলেন, এটি আল্লাহর মেহেরবানী। সিলেট নগরীর কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদের দোতলায় বসে কথা হচ্ছিলো পবিত্র রমজানের যোহরের নামাজের পর। পাশে বসা তাঁর ছাত্র বিশিষ্ট পুস্তক ব্যবসায়ী মাওলানা খলিলুর রহমান, হাফেজ মাওলানা মিফতাহুল ইসলাম, মাসিক ভিন্নধারা সম্পাদক জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও ক্বারী আব্দুল বাসিত মিলন।

ব্যক্তিগত জীবনে নিরহংকারী বিনয়ী মাওলানা আব্দুর রহীম আমাদের অনুরোধে তাঁর কোরআন হিফজের বিস্তারিত তুলে ধরলেন-সে বছরটিতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় সেদিনের পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে তিনি প্রথম হয়েছেন। রমজানের ছুটির জন্যে বাড়িতে চলে যান। বাড়িতে বসে জানতে পারেন তাদের দু‘বছরের সিনিয়র মাওলানা আবু সাঈদ (লন্ডনে বাস করছেন অনেক দিন থেকে) এক রমজান মাসে কোরআন হিফজ করে ফেলেছেন। মাত্র এক মাসে কোরআন হিফজ করার বিষয়টি মাওলানা আব্দুর রহীমকে বিস্মিত করে। তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তাঁর বন্ধু ও সহপাঠি পাশের ইউনিয়নের তিনচটি গ্রামের মাওলানা আলা উদ্দিনের সাথে। এতো কম সময়ে কোরআন হিফজ করার বিষয়টি তাঁদেরকে বিস্মিত করে।


সামনে রমজান আসছে। তাঁদেরও ইচ্ছে জাগে যদি এভাবে কোরআন হিফজ করা যেতো। দুই বন্ধু কাউকে কিছু না বলেই নিজেদের বাড়িতে চলে যান। রমজান এসে যায়, মাওলানা আব্দুর রহীম নিজের বাড়িতে বসে কোরআন মুখস্থ করতে শুরু করেন। বাড়িতে বাবা মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব একজন বড় আলেম। বাবাকে তাঁর স্বপ্নের কথা বলেননি। কিন্তু মুখস্ত করার কাজ চালিয়ে যেতে লাগলেন। 

প্রতিদিন এক পারা কোরআন শরীফ মুখস্ত করে পাশের বাড়ির একজন হাফিজ সাহেবের কাছে শুনাতেন। সবই চলছিলো কাউকে কিছুই না জানিয়ে। মাত্র সাতাশ দিন পর বাবা মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব-সহ এলাকাবাসী বিস্ময়ের সাথে জানলেন আব্দুর রহীম পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন। এদিকে তাঁর বন্ধু মাওলানা আলাউদ্দিনও তাঁর মতো কাউকে না জানিয়ে তিনিও হিফজ সম্পন্ন করেছেন। দু‘বন্ধু দু‘বন্ধুকে চমকে দিয়ে জানালেন মাত্র সাতাশ দিনে কোরআন হিফজ করার কথা। মাওলানা আলাউদ্দিন পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী হয়ে যান এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন। যুক্তরাজ্যে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

হাফিজ মাওলানা আব্দুর রহীম ১৯৫২ সালের পহেলা মার্চ সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার ৭ নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের সরদারীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আব্দুল ওয়াহাব এবং মাতা কুলসুমা বেগম। গ্রামের মক্তবেই তাঁর পড়ালেখা শুরু হয়। এরপর উমরগঞ্জ প্রাইমারী স্কুলে প্রাইমারী শিক্ষা শেষ করেন। পরবর্তীতে উমরগঞ্জ ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসায় মক্তবে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এই মাদ্রাসায় পাঁচ বছর পড়াশোনা সেরে তিনি গাছবাড়ী জামিউল উলূম কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এই মাদ্রাসা থেকে সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তান মাদ্রাসা এডুকেশন বোর্ড ঢাকা-এর অধীনে ১৯৬২ সালে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম বিভাগে পাশ করেন। ১৯৬৬সালে আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাদ্রাসা বোর্ডে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং একই বছর মাত্র সাতাইশ দিনে পবিত্র কোরআন হিফজ করেন। ১৯৬৮ সালে ফাজিল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। ১৯৭০ সালে একই মাদ্রাসা থেকে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে কামিল (হাদিস) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। 

১৯৭০ সালে কামিল পরীক্ষার পর পরই এতিহ্যবাহী ঝিঙ্গাবাড়ি ফাজিল মাদ্রাসায় সেই সময়ের সুপার মাওলানা হাফিজ আব্দুল আজিজ তাঁর দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাওলানা আব্দুর রহীমকে নিয়োগ দেন। দেড় বছর সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনের পর শ্রদ্ধেয় পিতার বার্ধক্য জনিত অসুস্থতার কারনে চাকুরী হতে অব্যাহতি নিয়ে বাড়ি চলে আসেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এবং সেই পাকা রাস্তা না থাকায় সর্দারীপাড়া গ্রাম থেকে ঝিংগাবাড়ীতে যাতায়াত একটু সময়ের ব্যাপার ছিলো। ফলে ঝিংগাবাড়ীতে দায়িত্ব পালন করে পিতার খেদমত করাও কঠিন ছিলো। যাহোক, ২৩ জুন ১৯৭৩ সালে পিতার ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ছিলেন। এই সময় স্থানীয় বড়দেশ মাদ্রাসার মুহতামীম ও এলাকাবাসীর অনুরোধে উক্ত মাদ্রাসায় হিফযুল কোরআন-সহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দান করে ছাত্র শিক্ষকদের প্রশংসা অর্জন করেন। 

মাওলানা আব্দুর রহীম ১৯৭৩ সালে ২৩ জুলাই গাছবাড়ী জামিউল উলূম কামিল মাদ্রাসায় সিনিয়র মাওলানা পদে যোগদান করেন। ১৯৮১ থেকে তিরমিযী শরীফ এবং ১৯৮৩ থেকে বুখারী শরিফের খেদমতে তাঁকে নিয়োজিত করা হয়। ১৯৮৬ সালে মুহাদ্দিস এবং ১৯৮৭ সালে তাঁকে সর্ব সম্মতিক্রমে উপাধ্যক্ষ পদের জন্য নির্বাচিত করা হয়। উপাধ্যক্ষের পাশাপাশি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। 

দায়িত্বে দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৪ সালে তাঁকে সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ মাদরাসা শিক্ষক নির্বাচন করা হয়। দীর্ঘ ১২ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯৯ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে গাছবাড়ী জামিউল ঊলূম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৩ বছর ২ মাস অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালনের পর ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর বয়স ৬০ বছর পূর্তিতে তিনি দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করেন। মাদরাসা পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী তাঁকে কোনভাবেই স্থায়ী বিদায় না দিয়ে পুণরায় অতিরিক্ত মুহাদ্দিস হিসাবে নিয়োগ দানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি এ সিন্ধান্তকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করে ২০১২ সালের ২৪ মার্চ থেকে অতিরিক্ত মুহাদ্দিস হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৮ সালে বাবা-মা একমাত্র ছেলের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ীর প্রখ্যাত আলেম, পীরে কামিল শেখ হযরত মাওলানা নিছার আলীর তৃতীয় কন্যা আবিদা বেগমের সাথে ১৯৬৮ সালের জানুযায়ি মাসে মাওলানা আব্দুর রহীমের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মাওলানা আব্দুর রহীম ৬ সন্তানের জনক। তিন ছেলের এবং তিন মেয়ের প্রত্যেকেই মাদরাসা শিক্ষিত এবং বিবাহিত। ছোট মেয়ে কুরআনে হাফিজ ও দাওয়ায়ে হাদীস পাস। দুই ছেলে কুরআনে হাফেজ। বর্তমানে মাওলানা আব্দুর রহীম আমেরিকায় থাকেন। 

লেখক: প্রাবন্ধিক ও গল্পকার


Friday, July 17

কানাইঘাটে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু

কানাইঘাটে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ব্লকে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ চলবে।

এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বড়চতুল ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে মিলনায়তনে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন বড়চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল হাসানের প্রতিনিধি ও জেলা খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শিব্বির আহমদ, বড়চতুল ইউনিয়ন খেলাফত মজলিসের সভাপতি মামুন আহমদ, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শামীম আহমদ বাদল, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা হবে। এর ফলে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও সেচ সুবিধা, কৃষি বীমা, কৃষিপণ্যের বাজার সংক্রান্ত তথ্য, প্রশিক্ষণ এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়া ও ফসলের রোগবালাই বিষয়ক তথ্য পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ সুবিধার আওতায় শুধু ফসল চাষিরাই নন, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ খামারিরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। অবহিতকরণ সভায় বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে উপজেলার একমাত্র বড়চতুল ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কৃষক কার্ড চালু হলে সরকারি কৃষিসেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে এবং প্রকৃত কৃষকেরা সরাসরি এর সুফল ভোগ করতে পারবেন। তারা আরও বলেন, কৃষকের ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার ফলে সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দ্রুত এবং সঠিকভাবে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আগামী শনিবার থেকে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্লকের সব কৃষককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য দিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে। প্রথম ধাপে বড়চতুল ইউনিয়নের ওই ব্লকে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ জন কৃষককে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে নিবন্ধনকালে কৃষকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তাদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।