কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ব্লকে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ চলবে।
এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বড়চতুল ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে মিলনায়তনে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন বড়চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল হাসানের প্রতিনিধি ও জেলা খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শিব্বির আহমদ, বড়চতুল ইউনিয়ন খেলাফত মজলিসের সভাপতি মামুন আহমদ, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শামীম আহমদ বাদল, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা হবে। এর ফলে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি যন্ত্রপাতি ও সেচ সুবিধা, কৃষি বীমা, কৃষিপণ্যের বাজার সংক্রান্ত তথ্য, প্রশিক্ষণ এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়া ও ফসলের রোগবালাই বিষয়ক তথ্য পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ সুবিধার আওতায় শুধু ফসল চাষিরাই নন, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ খামারিরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। অবহিতকরণ সভায় বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে উপজেলার একমাত্র বড়চতুল ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কৃষক কার্ড চালু হলে সরকারি কৃষিসেবা আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে এবং প্রকৃত কৃষকেরা সরাসরি এর সুফল ভোগ করতে পারবেন। তারা আরও বলেন, কৃষকের ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার ফলে সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দ্রুত এবং সঠিকভাবে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আগামী শনিবার থেকে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্লকের সব কৃষককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য দিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে। প্রথম ধাপে বড়চতুল ইউনিয়নের ওই ব্লকে প্রায় ১ হাজার ৬৫০ জন কৃষককে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে নিবন্ধনকালে কৃষকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তাদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়