নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পর এক তরুণীকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় মামলা দায়েরের পর এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) নাঈম উদ্দিন (২২) নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার নাঈম উদ্দিন কানাইঘাট উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের দনা পাত্তিছড়া গ্রামের আবদুর রহমান ডালুর ছেলে। মামলায় তাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, শেরপুর জেলার ওই তরুণী প্রায় নয় মাস আগে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে হায়দ্রাবাদে যান। সেখানে তিনি কাপড়ের ব্যবসা করতেন। গত ২০ আগস্ট জাহাঙ্গীর নামে তার এক মামার সহায়তায় তিনি বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করেন। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তরুণী ও তার মামা জাহাঙ্গীরকে আটক করে।
পরে তরুণীর কান্নাকাটির কারণে তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে সিলেটের কানাইঘাটের দনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাতে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশের পর দনা পাত্তিছড়া গ্রামের শানুর আহমদ (৩০), নাঈম উদ্দিন (২২), কাওছার আহমদ (৩০), দনা রাঙ্গিছড়া গ্রামের হুসাইন আহমদ (২৪), রিয়াজ উদ্দিন (৩০) এবং দনা রাতাছড়া গ্রামের ইকবাল আহমদ (২৮) তরুণীর সঙ্গে দেখা করেন। তারা তাকে নিজ বাড়ি শেরপুরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে শানুর আহমদের বাড়িতে নিয়ে যান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, সেখানে তরুণীকে প্রায় ১০ দিন আটকে রেখে অভিযুক্তরা ধর্ষণ করেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম মেম্বারের সহায়তায় তিনি সেখান থেকে মুক্ত হন। বুধবার কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী তরুণী।
মামলা দায়েরের পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নাঈম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়