Thursday, June 18

সিলেট-৫ আসনের এমপির প্রশ্নে প্রবাসীদের জন্য সরকারের নতুন পরিকল্পনা জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের জন্য আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে অধিক প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে নতুন বাংলাদেশ মিশন স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলোতে বিশেষায়িত ‘লিগ্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড প্রবাসী সার্ভিস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য তাঁর প্রশ্নে জানতে চান, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের আইনি সহায়তা পেয়ে থাকেন এবং এসব সেবাকে আরও কার্যকর করতে সরকারের কোনো বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে কি না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লিখিত উত্তরে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিয়মিত বহুমুখী আইনি ও কনস্যুলার সেবা প্রদান করে আসছে।

আইন সহকারী ও আইনজীবী নিয়োগ

বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড’-এর আওতায় আইন সহকারী নিয়োজিত রয়েছেন। কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবী নিয়োগে সক্ষম না হলে আদালত বা দূতাবাসের উদ্যোগে আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়।

দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ আদায়

কর্মক্ষেত্র বা অন্য কোনো দুর্ঘটনায় কোনো বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হলে তার পরিবারের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ (দিয়ত বা ব্লাড মানি) নিশ্চিত করতে দূতাবাস স্থানীয় ল’ ফার্মের সহায়তায় শ্রম আদালতে আইনি লড়াই পরিচালনা করে।

স্বাভাবিক মৃত্যু ও মরদেহ দেশে প্রেরণ

স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণকারী কর্মীদের বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণ আদায়ে নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। পাশাপাশি পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী সরকারি খরচে মরদেহ দেশে পাঠানো অথবা স্থানীয়ভাবে দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হয়।

চুক্তি ও শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণ

নিয়োগকর্তার সঙ্গে সম্পাদিত কর্মচুক্তি দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়ন করা হয়। এর মাধ্যমে কর্মীদের বৈধ আবাসিক অনুমতিপত্র (ইকামা), স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যান্য শ্রম অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়তা করা হয়।

নারী কর্মীদের সুরক্ষা

প্রবাসী নারী গৃহকর্মীদের নির্যাতন, শোষণ বা হয়রানির শিকার হলে আইনি সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ মিশনের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (সেফ হোম) আবাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়।

কারাগার ও ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন

বাংলাদেশ মিশনগুলো নিয়মিত বিভিন্ন দেশের কারাগার ও ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য সংগ্রহ, মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং আইনি সহায়তা প্রদান করে। সাজা শেষে দেশে ফেরার জন্য দ্রুত ট্রাভেল পারমিট বা ট্রাভেল পাস ইস্যুর ব্যবস্থাও করা হয়।

বকেয়া বেতন ও পাওনা আদায়

চাকরিজনিত জটিলতা বা বকেয়া বেতন-ভাতা আদায়ের ক্ষেত্রে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সমস্যার দ্রুত সমাধানে কাজ করে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

প্রবাসীদের জন্য আইনি সহায়তা আরও সহজলভ্য, কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে সরকার বেশ কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • অধিক প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে নতুন বাংলাদেশ মিশন স্থাপন।
  • বিদ্যমান মিশনগুলোর জনবল ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
  • গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলোতে ‘লিগ্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড প্রবাসী সার্ভিস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা।
  • প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় স্বাগতিক দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর ও শক্তিশালীকরণ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, “প্রবাসীদের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা কেবল একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সব ধরনের কূটনৈতিক, কনস্যুলার ও আইনি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”


শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়