কানিউজ ডেস্ক : স্বামীর আয়ে সংসার চলেনা, কিংবা স্বামী কোন কাজ করেন না। তাতে কি, পরিবার কি না খেয়ে কষ্ট করবে? মানতে পারেন না পাহাড়ি নারীরা। তাই নিজের কাজের পাশাপাশি পুরুষের কাজগুলোও তারা করে নেন। জীবিকা চালাতে কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন তারা।
জানা গেছে, পার্বত্য অঞ্চলের রাঙ্গামাটি জেলাধীন লংগদু ও বরকল উপজেলায় উপজাতীয় নারীরা এরকম চ্যালেঞ্জই গ্রহণ করেছেন। তারা শুধু ঘরের কাজই করেন না। ঘরের রান্নাবান্না থেকে শুরু করে কৃষি কাজ, নিজের জমি কিংবা পরের জমিতে ফল ও সবজির বাগান করা কিংবা বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করা এবং সেগুলো বাজারে বিক্রি করে টাকা রোজগার করাসহ সব ধরণের কাজই করেন পাহাড়ী নারীরা। এমনকি সংসারের জন্য টুকিটাকি কেনাকাটাও তারা করে থাকেন। পরিবারের কথা চিন্তা করেই সন্ধ্যা অবধি তাদের এই হাড়ভাঙ্গা খাটুনি।
লোকমুখে জানা যায়, লংগদু ও বরকলের প্রত্যন্ত এলাকার নারীরা সারাদিন ঘরের গৃহস্থালী কাজ শেষে বসে থাকেন না। নিজেদের কিংবা অন্যের বনে ও বাগানে গিয়ে বিভিন্ন কৃষিজাত কাজ করেন। এরপর বিকেলে উৎপাদিত ফল ও শাক-সবজি লংগদু উপজেলা শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ গলির আশপাশের এলাকা ও প্রধান সড়কের পাশে বসে বিক্রি করেন।
আর যাদের বাগান বা কৃষি কাজ করার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য নেই, তারা চৈত্রের প্রখর রোদের উত্তাপ ও খরা উপেক্ষা করেই বন থেকে কাঠ কেটে আনেন এবং তা বাজারে বিক্রি করেন। এভাবেই পুরো পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন নারীরা।
সাধারণত তারা বন থেকে মাশরুম, কলার মোচা, ঢেঁকির শাক, বাঁশকোরুল, কচুর লতাসহ বিভিন্ন শাক-লতা-পাতা সংগ্রহ করেন। এছাড়া শামুক, ঝিনুক ও কাকড়া উপজাতীয়দের অত্যন্ত প্রিয় খাবার। বাজারেও এসবের চাহিদা থাকায় ছোট নদী, খাল-বিল থেকে এসব সংগ্রহ করে বিক্রি করেন।
সারাদিন বিক্রি শেষে সন্ধ্যায় তারা ঘরে ফিরে আসেন। বিক্রিতে যে সামান্য টাকা আয় হয় তা দিয়েই পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নেন।
খবর বিভাগঃ
ফিচার

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়