জমিয়তে উলামার ১০১ আলিমের বিবৃতি : মাওঃ আব্দুর রহমান হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি

Written By Shimanter Dak on Monday, October 20, 2014 | 9:04 PM


কানাইঘাটের বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন সরদারিপাড়া জামে মসজিদের ছানী ইমাম মাওঃ আব্দুর রহমানকে দুস্কৃতিকারী কর্তৃক নৃশংসভাবে হত্যাকান্ড আইয়্যামে জাহিলিয়াতকেও হার মানিয়েছে আখ্যায়িত করেছেন জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এক প্রতিবাদ লিপিতে জমিয়তে উলামার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, অনতিবিলম্বে মাওঃ আব্দুর রহমান এর সকল খুনীদের গ্রেফতার করে যদি সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা না হয় তাহলে কানাইঘাটের আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরীর উত্তরসূরীরা তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে তাওহীদি জনতাকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, কানাইঘাটের মাটি আলেম উলামার ঘাটি। এখানে আলেম হত্যাকারীদের রেহাই হবে না। বিবৃতি দাতারা হলেন, জমিয়তে উলামা বাংলাদেশেল কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা শায়খে লক্ষীপুরী, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আল্লামা মুফতি ইউসুফ শ্যামপুরী, কেন্দ্রীয় জমিয়তের সভাপতি আল্লামা আলিমুদ্দীন শায়খে দুর্লভপুরী, সহসভাপতি মাওঃ মাহদুদুল হাসান রায়গড়ী, সহসভাপতি মাওঃ শামছুদ্দীন দুর্লভপুরী, সহসভাপতি মাওঃ হিলাল আহমদ, কেন্দ্রীয় মহা সচিব মাওঃ নজরুল ইষলাম তোয়াকুলি, যুগ্ম মহাসচিব মাওঃ মুখলিছুর রহমান রাজাগঞ্জী, সহকারী মহা সচিব মাওঃ আব্দুল জব্বার, মাও মঈন উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওঃ ক্বারী হারুনুর রশীদ চতুলী, মাওঃ আজমত উল্লাহ, মাওঃ আব্দুল হক, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মাওঃ লুৎফুর রহমান, কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ মাওঃ হাফিজ হারুনুর রশিদ উজানীপাড়ী, মাওঃ খালিদ সাইফুল্লাহ, মাওঃ মুবশ্বির আলী, মাওঃ নুরুল হক, প্রচার সম্পদাক মাওঃ আব্দুল হুসাইন চতুলী, আইন বিষয়ক সম্পাদক জননেতা এডভোকেট মোহাম্মদ আলী, মাওঃ হাফিজ নজির আহমদ, মাওঃ নুরুল হক, মাওঃ আব্দুল হামিদ মখসুস, মাওঃ আব্দুশ শাকুর, মাওঃ আব্দুল মুছাব্বির জামডরী, সহসম্পাদক মাওঃ আহমদ কবির, সিলেট জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাওঃ লোকমান আহমদ তইপুরী, সদস্য সচিব মাওঃ মুফতি রশিদ আহমদ, সিলেট মহানগর কমিটির সভাপতি মাওঃ তহুরুল হক জকিগঞ্জী, সাধারণ সম্পাদক মাওঃ হাফিজ আহমদ সগির, কেন্দ্রীয় যুবনেতা মাওঃ আব্দুল্লাহ শাকির, মাওঃ হাফিজ দেলোওয়ার হোসেন, মাওঃ ইসলাম উদ্দিন, মাওঃ শরিফ আহমদ, মাওঃ নুরুল আলম, মাওঃ বদরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা হারিছ উদ্দিন, বদরুল ইসলাম আল ফারুক, গোলাম মাওলা নয়ন, ইয়াহিয়া শহীদ, হাফিজ জুবের আহমদ, হাফিজ বদরুল ইসলাম, আসাদ আহমদ, আসাদ আহমদ সহ ১০১জন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

কানাইঘাট সরকারী রাস্তা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট উপজেলার ১নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির মুলাগুল নয়া বাজারে একটি প্রভাবশালী মহল সরকারী রাস্তা (গোপাট) জোরপূর্বক দখল করে সেখানে প্রায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ ও বিদ্যালয়গামী ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে আব্দুল মতিন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছ্বেদের জন্য গত ১লা অক্টোবর বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির ২২৫নং জেএল স্থিত কান্দলা মৌজার ১৬১ নং দাগ ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারী রাস্তা রকম ভূমি। উক্ত রাস্তাটি পশ্চিম দিক থেকে এসে মুলাগুল নয়াবাজারের দক্ষিণ পাশ দিয়ে পূর্ব দিকে বাংলা টিলায় গিয়ে শেষ হয়েছে। এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল বাজারের ভিতর দিয়ে যাওয়া সরকারী রাস্তায় অবৈধভাবে প্রায় শতাধিক দোকানপাট নির্মাণ করে সাধারণ মানুষ ও বিদ্যালয়গামী ছাত্রছাত্রীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের লক্ষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পরপর তিনটি অভিযোগ কর্তৃপরে কাছে দিয়েও কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই। তাই জনস্বার্থে সরজমিন তদন্ত পূর্বক সরকারী রাস্তা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

জাতীয় স্যানিটেশন মাস উপলক্ষে কানাইঘাটে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা


নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় স্যানিটেশন মাস অক্টোবর ২০১৪ উপলক্ষে কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর এবং ব্র্যাক ওয়াশের সহযোগিতায় আজ সকাল ১১টায় কানাইঘাট উপজেলা সদরে বর্ণাঢ্য র‌্যালী পরবর্তী ইউটিডিসি হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়ার সভাপতিত্বে ও ব্র্যাকওয়াশ কর্মসূচির কানাইঘাটের সংগঠক মোবারক হোসেনের উপস্থাপনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম রানা, সাতবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার ফয়জুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাফকাত রিয়াজ, মৎস্য কর্মকর্তা ইমরান আহমদ চৌধুরী, চরিপাড়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্য মুজম্মিল আলী, কানাইঘাট থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (অতিঃ) নূরুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হাই রকেট, কানাইঘাট প্রেসকাবের সাধারণ সম্পাদক এখলাছুর রহমান। বক্তব্য রাখেন সীমান্তিকের ম্যানেজার আবুল হোসেন, ব্র্যাকওয়াশ ধর্মপুর গ্রাম কমিটির সভাপতি সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন, বড়দেশ গ্রাম কমিটির সভাপতি মখলিছুর রহমান মেম্বার, চটিগ্রাম গ্রাম কমিটির সচিব নাজিয়া বেগম। উপজেলার সার্বিক স্যানিটেশন কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, ব্র্যাকওয়াশের উপজেলা সিনিয়র ম্যানেজার হাবিবুর রহমান প্রমুখ। র‌্যালিতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক, এনজিও কর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ ও ব্র্যাকওয়াশ কর্মসূচির গ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হলে সবার আগে জনসচেনতার প্রয়োজন। শুধুমাত্র সরকারী ও এনজিও সংস্থার উদ্যোগে এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহারে সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি তুলে তাদেরকে আর্থিকভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে শতভাগ স্যানিটেশন বাস্তবায়ন সম্ভব বলে জানান।

আজান : ইতিহাস থেকে


মুফতি আবু বকর সিরাজী আজান প্রবর্তিত হওয়ার ইতিহাস ও তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক ও হাদিসবিশারদদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। এ ব্যাপারে মোট চারটি মতামত পাওয়া যায়। যথা_ * একদল আলেমের মতে, আজানের প্রবর্তন ঘটেছে মদিনায় হিজরতের আগে, মক্কায় থাকা অবস্থায়। তারা এ মতের সমর্থনে ওই হাদিস উল্লেখ করেন, যে হাদিসে বলা হয়েছে, 'জিবরাঈল (আ.) আজান শিখিয়েছিলেন তখনই, যখন নামাজ ফরজ হয়েছিল।' যেহেতু নামাজ ফরজ হয়েছে মক্কায় থাকতেই, তাই আজানও প্রবর্তিত হয়েছে মক্কায় থাকতেই। * কারও কারও অভিমত হচ্ছে, রাসূল (সা.) কে মেরাজের রাতে আজান শেখানো হয়েছিল। * কেউ কেউ বলেছেন, দ্বিতীয় হিজরিতে আজান প্রবর্তিত হয়েছে। * অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম, ঐতিহাসিক ও ফকিহদের মতে, আজান প্রবর্তিত হয়েছে প্রথম হিজরিতে মদিনায়। মক্কায় আজান প্রবর্তিত হওয়ার মতের স্বপক্ষে আরেকটি প্রমাণ হজরত ওমর (রা.) এর বর্ণিত হাদিস। তিনি বলেন, 'যখন রাসূল (সা.) কে ইসরা ও মেরাজ করানো হয় তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি আজানের হুকুম অবতীর্ণ করেন এবং তিনি সেই আজানের আদেশ নিয়ে অবতরণ করেন এবং বেলালকে তা শিক্ষা দেন।' (সুনানে তাবরানি)। বিখ্যাত হাদিসবিশারদ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ঐতিহাসিক এ বিতর্ক ও মতভেদের সমাধানকল্পে বলেন, যদিও একাধিক হাদিস প্রমাণ বহন করে, আজান প্রবর্তিত হয়েছে হিজরতের আগে মক্কায়। কিন্তু নির্ভরযোগ্য অভিমত হচ্ছে, আজান মদিনাতেই প্রবর্তিত হয়েছে। ইমাম কুরতুবী (রহ.), আল্লামা সুহায়লী (রহ.) প্রমুখ হাদিসবিশারদ ও মুফাসসির মক্কা এবং মদিনায় আজান প্রবর্তিত হওয়া সংক্রান্ত মতভেদের মধ্যে সামাঞ্জস্য সাধনকল্পে উল্লেখ করেন, যেসব হাদিসে মক্কায় থাকা অবস্থায় আজান শিক্ষা দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে শুধু তাঁকে আজান শোনানো হয়েছে। তখনও তা তাঁর ওপর শরিয়ত হিসেবে প্রবর্তিত হয়নি। শরিয়ত হিসেবে প্রবর্তিত হয়েছে মদিনায় গমনের পর। ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) এসব মতভেদকে অপ্রয়োজনীয় প্রয়াস বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন সহিহ হাদিস বিদ্যমান থাকতে সেটাই মেনে নেয়া উত্তম ও নিরাপদ। আর তা হচ্ছে, আজান প্রবর্তিত হয়েছে মদিনায় হিজরতের পর। (ফাতহুল বারি, ফাতহুল মুলহিম : ২/২)। তবে হিজরতের ঠিক কত বছর পর প্রবর্তিত হয়েছে তাতে মতবিরোধ রয়েছে। ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) এর মতে, আজান প্রবর্তিত হওয়ার ঘটনা হিজরতের দ্বিতীয়বর্ষে সংঘটিত হয়েছে। পক্ষান্তরে আল্লামা আইনীর (রহ.) মতে, এটি ছিল হিজরতের প্রথমবর্ষের ঘটনা। ইমাম বোখারি (রহ.) এর বর্ণনাভঙ্গি দ্বারাও বোঝা যায়, আজানের প্রবর্তিত হয়েছে হিজরতের পর খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে। আজান প্রবর্তিত হওয়ার ঘটনা শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলভী (রহ.) বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দেখলেন জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা সুন্নতে মোয়াক্কাদা আর একই স্থানে একই সময়ে কোনোরূপ ঘোষণা বা আহ্বান ছাড়া সমবেত হয়ে জামাতে নামাজ আদায় করা সহজ নয়। তাই তারা একই সময়ে সমবেত করার উপায় হিসেবে ঘোষণা বা নামাজে আহ্বান করার পদ্ধতি নিয়ে পরামর্শ করতে লাগলেন। কিন্তু সে সময় সবাইকে একত্রিত করার সর্বজন গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যম ছিল না। এজন্য রাসূল (সা.) তাদের নিয়ে পরামর্শ সভা করলেন। পরামর্শ সভায় চারটি প্রস্তাব এলো। * নামাজের সময় পতাকা উড়িয়ে দেয়া। * আগুন জ্বালানো। * নামাজের সময় শিঙ্গায় ফুঁক এবং * নামাজের সময় ঢোল বাজানো। উলি্লখিত প্রস্তাবগুলোর কোনো একটি প্রস্তাবও রাসূল (সা.) এর মনঃপূত হলো না। প্রথম প্রস্তাব এজন্য নয় যে, যারা কাজকর্মে ব্যস্ত থাকবে কিংবা দূরে অবস্থান করবে তারা পতাকা দেখতে পাবে না। দ্বিতীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলো আগুন জ্বালানো অগি্নপূজকদের কাজ বলে। তাই মুসলমানরা নিজেদের ইবাদত পালনের জন্য অগি্নপূজকদের কাজের অনুসরণ করতে পারে না। অপরদিকে শিঙ্গা ফুঁকানো খ্রিস্টানদের কাজ এবং ঢোল বাজানো ইহুদিদের কাজ। এ কারণে এ দুটি প্রস্তাবও গ্রহণযোগ্য হলো না। ফলে কোনোরূপ সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেদিনের পরামর্শ সভা মুলতবি হয়ে গেল। রাসূল (সা.) এর মতো সাহাবারাও এ নিয়ে চিন্তামগ্ন ছিলেন। এ চিন্তামগ্ন সাহাবিদের অন্যতম হলেন আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ (রা.)। ওই রাতে তিনি স্বপ্নে দেখলেন, 'এক ব্যক্তি শিঙ্গা নিয়ে যাচ্ছে। তিনি ওই লোককে বললেন এটি আমার কাছে বিক্রি করে দিন। এর সাহায্যে আমি মানুষকে নামাজের দিকে ডাকব। লোকটি বললেন, আমি আপনাকে নামাজের জন্য ডাকার উত্তম একটি পদ্ধতি শিক্ষা দেব কি? এ কথা বলে তিনি তাকে আজানের বাক্যগুলো শিখিয়ে দিলেন।' রাত পোহালে আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ (রা.) রাসূল (সা.) এর কাছে স্বপ্নটি প্রকাশ করলেন। স্বপ্নের বিবরণ শুনে রাসূল (সা.) বললেন_ নিশ্চয় এটি একটি সত্য স্বপ্ন। এরপর তিনি বেলাল (রা.) কে বললেন, হে বেলাল! ওঠো আবদুল্লাহ যা বলতে বলে তা শেখো এবং আজান দাও। আদিষ্ট হয়ে হজরত বেলাল (রা.) জোহরের আজান দেন। আজান শুনে হজরত ওমর (রা.) ছুটে আসেন এবং বলেন_ 'আমিও সেরূপ দেখেছি, যেরূপ দেখেছেন আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ।' তার কথা শুনে রাসূল (সা.) বললেন, তাহলে তুমি তা প্রকাশ করলে না কেন? উত্তরে তিনি বললেন, আবদুল্লাহ আমার চেয়ে অগ্রগামী হয়েছেন তাই লজ্জায় তা প্রকাশ করিনি। মুজামে আওসাতের এক রেওয়ায়েতে আছে, আবু বকর সিদ্দিক (রা.) কেও স্বপ্নে আজান শেখানো হয়েছিল। ইমাম গাজ্জালী (রহ.) 'আল-ওয়াসিত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, সে রাতে ১০ জনেরও বেশি সাহাবি একই রকমের স্বপ্ন দেখেছেন। (ফাতহুল বারি : ২/৬৩)। বস্তুত আজান প্রবর্তিত হওয়ার ঘটনায় রয়েছে ঐতিহাসিক শিক্ষা। এ ঘটনা দ্বারা পরিষ্কার হয়ে যায়, ইসলাম বিধর্মীদের কোনোরূপ ধর্মীয় প্রতীক গ্রহণ করার পক্ষে সায় দেয় না; বরং নিজস্ব প্রতীক ধারণ ও তা বুলন্দ করার নির্দেশ দেয়। এ কারণেই নামাজের জন্য সমবেত করার উদ্দেশ্য আগুন জ্বালানো, ঢোল পেটানো, কিংবা শিঙ্গা ফুঁকানো প্রভৃতি বিধর্মীদের আচরণ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং নিজস্ব শিআর বা ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রতীকস্বরূপ আজান প্রবর্তিত হয়েছে। আসলে আজান শুধু ইসলামী প্রতীকই নয়। এ অল্প কয়েকটি বাক্যের মধ্যে নিহিত রয়েছে তাওহিদ, রেসালাত, আখেরাতের বিশ্বাসসহ ইসলামের বুনিয়াদি বিষয়ের সুস্পষ্ট ঘোষণা। এ কারণেই ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন, আজানের অল্প কয়েকটি বাক্যের মধ্যেই সনি্নহিত রয়েছে আকিদা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়। কেননা, এর সূচনা হয় আল্লাহর বড়ত্বের বর্ণনার মধ্য দিয়ে। আর এতে স্বীকারোক্তি রয়েছে আল্লাহর একত্ববাদের, তাঁর পরিপূর্ণতার এবং সেইসঙ্গে তাঁর শরিকের অস্তিত্বহীনতা। এরপর রয়েছে রাসূল (সা.) এর রেসালাতের স্বীকারোক্তি। আরও আছে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজের প্রতি আহ্বান এবং তার ফলে পরকালীন সফলতার ঘোষণা। আজানের মাধ্যমে যুগপৎভাবে অর্জিত হয় নামাজের সময়ের ঘোষণা, জামাতের প্রতি আহ্বান এবং ইসলামের প্রতীকের প্রচার। (ফাতহুল বারি : ২/৯৬)।

দোকানদার থেকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট!


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: সাধারণ এক আসবাব বিক্রেতা থেকে ধীরে ধীরে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হলেন জোকো উইদোদো। দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সোমবার শপথ নিয়েছেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার পার্লামেন্টে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। এতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও আঞ্চলিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে জোকোউই নামে পরিচিত এই নেতা বলেন, মৎস্যজীবী, শ্রমজীবী, হকার, চালক, শিক্ষাবিদ, শ্রমিক, সৈনিক, পুলিশ, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের প্রতি আমার আহ্বান, চলুন, আমরা সবাই একসঙ্গে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কঠোর পরিশ্রম করি। কারণ এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৫৩ বছর বয়সী সাবেক আসবাব বিক্রেতা জোকো উইদোদো গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তিনি জাকার্তার গভর্নর ছিলেন। তার সাদাসিধে জীবনযাপন, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের গুণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিম্ন আয় ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়া। ২৫ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে ৯০ শতাংশ মুসলিম। দীর্ঘদিন স্বৈরশাসনের অধীনে ছিল দেশটি। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিক থেকে ইন্দোনেশিয়ায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়। ভাষণে দেশের উদার ও কার্যকর বৈদেশিক নীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। একই সঙ্গে তিনি ইরাক ও সিরিয়ায় আধিপত্য বিস্তারে নিয়োজিত জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের অংশগ্রহণ বন্ধে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন।

পাকিস্তানে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১০ আহত ২৫


কানিউজ ডেস্ক : পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সোমবার সকালে একটি যাত্রীবাহী বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় দুই নারীসহ অন্তত ১০ জন নিহত আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। খবর ডননিউজের। উথাল অঞ্চলে কোস্টগার্ডের নিরাপত্তা চৌকির কাছে কোয়েটা থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস ও গোয়াদার প্রদেশ থেকে আসা ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের করাচির হাসপাতালে পাঠান হয়েছে।

নাটোরের বড়াইগ্রামে ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩২


কানিউজ ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় দুইটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এখনও নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। বড়াইগ্রাম থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। ফলে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.এ হান্নান,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : সাউদিয়া মার্কেট,দোকান নং-২,কানাইঘাট উত্তর বাজার,সিলেট। +৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩