আকাশে পালতোলা নৌকা!

Written By Shimanter Dak on Sunday, December 21, 2014 | 10:25 PM


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: আকাশে বা পানির নীচে সাইকেল চালাবার অভিজ্ঞতা হয়েছে কি? এক ফরাসি উদ্ভাবক এমন সব প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকেন৷ আপাতত তিনি আকাশে পালতোলা নৌকা ওড়াতে ব্যস্ত৷ লক্ষ্য পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারলেও তাঁর প্রযুক্তি কাজ করছে৷ সম্প্রতি ফ্রান্সের দক্ষিণে কোৎ দাজুর উপকূলে নিজের তৈরি বিমানে নীরবে উড়ে বেড়িয়েছেন স্টেফান রুসঁ৷ তিনি একাধারে অ্যাডভেঞ্চারর ও উদ্ভাবক৷ এই প্রথম নিজের তৈরি বিমান আকাশে উড়িয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা অবিশ্বাস্য৷ আমরা অনেক কিছু পরীক্ষা করতে পারি৷ যেমন নৌকার উপর সেপেলিন ফোলানো, আরও অনেক কিছু৷ বেশ স্ট্রেস-এর ব্যাপার৷'' একদিন ভোর পাঁচটা নাগাদ নিস শহরের কাছে ভিলফ্রঁশ-সুয়র-ম্যার-এর বন্দরে যাত্রা শুরু হয়েছিলো৷ এক হাইড্রোফয়েল বোট থেকে শুরু হলো ‘এয়ারোসেল' নামের অভিযান, যার অর্থ আকাশের পালতোলা নৌকা৷ নৌকোয় রাখা হয়েছিলো সেপেলিন উড়োজাহাজের জন্য ১৯টি হিলিয়াম সিলিন্ডার৷ ছিলেন রুসঁ-এর সহকর্মী ডেনিস ডেক্ল্যার্ক৷ অভিযানের উদ্দেশ্য, নিজেদের তৈরি উড়োজাহাজ নিয়ে আকাশপথে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে কর্সিকা দ্বীপে পৌঁছানো৷ এই উদ্বোধনী যাত্রার সময় ধরা হয়েছিলো প্রায় ৫ ঘণ্টা৷ কিন্তু প্রস্তুতি পর্বেই সমস্যা দেখা যাচ্ছিল৷ স্টেফান রুসঁ বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের পেছনে প্রায় ১০ বছরের পরিশ্রম রয়েছে৷ আইডিয়াটা হলো, আমরা সেপেলিন-টিকে পালতোলা নৌকার মতো এগিয়ে নিয়ে যাবো৷ কিন্তু তাতে সমস্যা হলো, সেপেলিন ফোলানোর জন্য প্ল্যাটফর্ম, বন্দর বা বিমানবন্দরের মতো শান্ত পরিবেশ প্রয়োজন৷ কিন্তু আমাকে তার অনুমতি দেওয়া হয়নি৷ ফলে শেষ পর্যন্ত আমাকে সমুদ্রের বুকে প্রকল্পটি চালাতে হয়েছে৷'' সমুদ্রের একটি খাঁড়িতে বাতাসের ধাক্কা বাঁচিয়ে পাইলট ১৮ মিটার লম্বা সেপেলিন-এ হিলিয়াম ভরছেন৷ এই বেলুন খুবই নাজুক, এই অবস্থায় কোনো ধাক্কা লাগালে চলবে না৷ সেটি ফেটে গেলে অভিযানের দফারফা৷ কিন্তু স্টেফান ছাড়ার পাত্র নয় – তিনি এই প্রচেষ্টা চালিয়ে ইতিহাস গড়তে চান৷ স্টেফান রুসঁ বলেন, ‘‘এটি গত শতাব্দীর শুরুর দিকের দারুণ এক আইডিয়া৷ ১৯৯২ সালে প্রথম প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন জেরার ফেল্ডজার ও নিকোলা উলো৷'' স্টেফান রেকর্ডের পিছনে দৌড়াতে অভ্যস্ত৷ ২০০৮ সালে তিনি নিজেরই তৈরি প্যাডেল-চালিত সেপেলিন তৈরি করে ইংলিশ চ্যানেল পেরোনোর চেষ্টা করেছিলেন৷ কিন্তু সে বার তীরে এসে তরি ডুবেছিল৷ বছর তিনেক পর তিনি ‘স্কুবস্টার' নামের এক সাবমেরিন ডিজাইন করেন, যা একই ভাবে জলের নীচে চলতে পারবে৷ এর জন্য তিনি মার্কিন মেরিন-এর উদ্ভাবনী পুরস্কার পেয়েছেন৷ আকাশের পালতোলা নৌকা সেই প্রথম দুটি প্রচেষ্টারই বিবর্তনের ফল৷ স্টেফান বায়ুশক্তির উপর জোর দিয়েছেন৷ সেপেলিন-এর দিক পরিবর্তনের জন্য তৈরি করেছেন এক বৈঠা৷ সেটি জলে ডুবে থাকছে এবং দড়ির সাহায্যে বেলুনের সঙ্গে যুক্ত৷ স্টেফান রুসঁ বলেন, ‘‘এভাবে বাতাস বেলুনের সংস্পর্শে আসছে৷ আমি এই দড়ি টানলে সেপেলিন বাতাসের ধাক্কা খাচ্ছে৷ কিন্তু দড়িটি অন্যভাবে টানলে সেপেলিন অন্য দিকে ঘুরে যাচ্ছে৷'' ওড়ার ঠিক আগে শেষবারের মতো পরীক্ষা হয়৷ স্টেফান রুসঁ বলেন, ‘‘আমি সমুদ্রের উপর থাকলে এবং আমাকে ফিরিয়ে আনতে হলে তোমরা জলে বৈঠাটি অথবা দড়িটি ধরার চেষ্টা কোরো৷'' তারপর আকাশে ওড়ার পালা৷ বিনা সমস্যায় যাত্রা শুরু হলো৷ দীর্ঘমেয়াদি এই প্রকল্পে প্রায় ২০ লক্ষ ইউরো বিনিয়োগ করা হয়েছে৷ ১৫ মিটার উচ্চতায় পাইলট প্রথম বার কনট্রোল পরীক্ষা করে দেখেছেন৷ স্টেফান রুসঁ বলেন, ‘‘আমি প্রায় ৯০ শতাংশ সন্তুষ্ট৷ কিন্তু পূর্বাভাষ সত্ত্বেও বাতাস বড় কম৷ ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইলে আমাদের ভালো হতো৷'' বাতাসের অভাবে স্টেফান-কে ঘণ্টাখানেক পরেই যাত্রা শেষ করতে হয়৷ তা সত্ত্বেও ‘এয়ারোসেল' যানের প্রথম যাত্রাকে আংশিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি৷ প্রযুক্তি কাজ করেছে৷ আগামী বছর তিনি আবার চেষ্টা করবেন৷ যথেষ্ট বাতাস বইলে তিনি কর্সিকা পর্যন্ত উড়তে চান৷

কানাইঘাটে অশ্লীল যাত্রা গানের আসর পন্ড করে দিয়েছে পুলিশ

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট সদর ইউপির বীরদল (কচুপাড়া) হাওর এলাকায় অশ্লীল যাত্রা গানের আসর পন্ড করে দিয়েছে কানাইঘাট থানা পুলিশ। শনিবার রাতে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের বাধা উপেক্ষা করে বীরদল ও কচুপাড়া গ্রামের অসামাজিক কার্যকলাপের হুতা জয়নাল আহমদ, হেলাল আহমদ, মাহবুব, আনোয়ার, সেবুল, শরিফ উদ্দিন সহ কয়েকজন মিলে বীরদল হাওরে যাত্রা গানের নামে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন ও মদ-গাঁজার আসর বসানোর আয়োজন করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কানাইঘাট থানা পুলিশ সক্রীয় হয়ে উঠে। থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল চৌধুরীর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ রাত ১০টার দিকে বীরদল কচুপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পুলিশ যাত্রা গানের আসরস্থলে অভিযান চালালে গানের আয়োজনকারীরা দিকবিদিক পালিয়ে যায়। এতে পন্ড হয়ে যায় যাত্রা গানের আসর। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন বাউল গানের নামে এলাকার অসামাজিক কার্যকলাপের হুতারা নর্তকী এনে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন ছাড়াও মদ, গাঁজা সেবনের মত অসামাজিক কার্যকলাপ সংগঠিত করার জন্য চেষ্টা করলে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ এতে বাধা প্রদান করেন। আয়োজনকারীরা গানের আসর বসাবে এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। থানার ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করায় অপরাধীরা অসামাজিক কার্যকলাপ সংগঠিত করতে পারেনি। এজন্য এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এব্যাপারে থানার ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কতিপয় লোকজন বীরদল হাওরে গভীর রাতে প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে গানের আয়োজনের প্রস্তুতি নিলে খবর পেয়ে আমি নিজে ঐ এালাকায় রাতভর দায়িত্ব পালন করায় গানের আসর পন্ড হয়ে যায়। এ ধরনের কার্যকলাপ যাতে কেউ ভবিষ্যতে কোন এলাকায় সংগঠিত করতে না পারে তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও মুরব্বিয়ানদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। উল্লেখ্য যে, প্রতি শীত মৌসুমে ধান কাটার পর বিশেষ করে কানাইঘাটের দক্ষিণ অঞ্চলের হাওর এলকায় চিহ্নিত অসামাজিক কার্যকলাপের হুতারা এ ধরনের যাত্রা গানের আয়োজন করে থাকে। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি সহ গানের আয়োজন নিয়ে খুন-খারাবির মতো ঘটনা অতীতে বেশ কয়েকবার ঘটেছে।

পাকিস্তানে আরও ৪ জঙ্গির ফাঁসির কার্যকর


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক সেনা শাসক জেনারেল (অব.) পারভেজ মোশাররফের উপর হামলা মামলায় দেশটির ফয়সালাবাদ জেলা কারাগারে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আরো চার আসামির ফাঁসির রায় আজ রবিবার কার্যকর করা হয়েছে। রবিবার পাকিস্তান ভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। এরা ৪ জন হচ্ছে, জুবায়ের আহমেদ, রশিদ কুরাইশি, গুলাম সারওয়ার ভাট্রি এবং রুশ নাগরিক আখলাক আহমেদ। এদের গতকাল শনিবার ফয়সালাবাদ কেন্দ্রীয় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ফাঁসিতে ঝুলানোর পূর্বে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় ওই শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলা কারাগারের রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত মিলিটারি কন্টিনজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। গত শুক্রবার দেশটির সন্ত্রাস বিরোধী একটি আদালত আয়াতুল্লাহ ওরফে কাসিম এবং মুহাম্মদ আজম নামের দুই মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামির মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে। আগামী মঙ্গলবার এদের ফাঁসির রায় কার্যকরের দিন ধার্য করা হয়েছে। গত শুক্রবার সাবেক দুই সামরিক বাহিনীর সদস্য উসমান ও এরশাদ মেহমুদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। এ নিয়ে মোট ছয় জনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হলো। গত ১৬ ডিসেম্বর দেশটির পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে তালেবান জঙ্গিদের হামলায় ১৩২ শিক্ষার্থী সহ অন্তত ১৪১ জন নিহত হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ মৃত্যুদ- প্রাপ্ত আসামিদের উপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেন।

গুজরাটে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তর নিয়ে জোর বিতর্ক


ভারতের গুজরাট রাজ্যের ভালসাড জেলায় প্রায় শ’দুয়েক আদিবাসী খ্রীষ্টানকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করেছে কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, যাকে তারা বলছে ‘ঘরওয়াপসি’ বা ঘরে-ফেরার অভিযান। ভালসাড জেলার আরনাই গ্রাম এই ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটল এমন এক সময়ে যখন ধর্মান্তরের ইস্যু নিয়ে সারা দেশে তুমুল বিতর্ক চলছে, দিনের পর দিন তোলপাড় হচ্ছে সংসদও। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অবশ্য দাবি করছে, এটা আদতে ধর্মান্তরই নয়, যে হিন্দুরা খ্রীষ্টান মিশনারিদের ফাঁদে পা-দিয়ে আগে খ্রীষ্টান হয়ে গিয়েছিলেন তারাই আবার ‘নিজের ভুল বুঝতে পেরে স্বধর্মে ফিরে এসেছেন’ – অর্থাৎ ‘ঘরওয়াপসি’ করেছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জাতীয় সচিব ধর্মনারায়ণজি শর্মা অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। তিনি দাবি করেছেন, এই আদিবাসী খ্রীস্টানরা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় আবার হিন্দু হয়েছেন – তাদের কেউ জোর করেনি বা কোনও লোভও দেখায়নি। বিজেপি-শাসিত গুজরাট রাজ্য সরকারও ভালসাডের এই গোটা ঘটনা থেকে নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলেছে। রাজ্য সরকারের মুখপাত্র নিতিন প্যাটেল বলেছেন, ‘জোর করে কারও ধর্মান্তর করা হচ্ছে বলে আমরা কোনও খবর পাইনি। আর প্রত্যেকেরই নিজের ধর্ম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা আছে।’ এর আগে ডিসেম্বরের গোড়ায় আগ্রাতে প্রায় শ’দুয়েক গরিব বস্তিবাসী মুসলিমকে মিথ্যা টোপ দিয়ে হিন্দু বানানো হয়েছিল – আর সেখানেও অভিযোগের আঙুল ওঠে আরএসএস অনুসারী কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলোর দিকে। বড়দিনের দিন আলিগড়ে মোট প্রায় পাঁচ হাজার খ্রীষ্টান ও মুসলিমকে হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনার কর্মসূচীও ঘোষণা করা হয়েছিল – কিন্তু উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকার সেই অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। আগ্রার ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই বিরোধী দলগুলো সংসদে ধর্মান্তর প্রশ্নে সরকারের কৈফিয়ত দাবি করে আসছে। ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিন্তু এখনও ধর্মান্তর নিয়ে সংসদে মুখ খোলেননি – যদিও বিরোধীরা তাঁর বিবৃতির দাবিতে অনড় রয়েছেন।

হানিফ বললেন, খালেদার প্রস্তাবটি ধৃষ্টতাপূর্ণ


ঢাকা: শেরে বাংলা এ.কে.ফজলুল হক, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু ও জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে জাতীয় নেতা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, খালেদা জিয়া জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর কাতারে আনতে চাইছেন। তার এমন বক্তব্য ধৃষ্টতাপূর্ণ। রাজাকারদের সাহায্যকারী কখনও জাতীয় নেতা হতে পারে না। রবিবার আওয়ামী লীগের ধানম-ি কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের সাথে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আন্দোলন করবে এগুলো খালেদা জিয়ার মিথ্যাচার। তিনি ইতিহাস বিকৃতি করার জন্যে এগুলো বলেছেন। মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের কোনও অবদান নেই খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এটি মিথ্যাচার। কারণ ১৯৫২ সালের পরে বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। এরই ধারবাহিকতায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। হানিফ বলেন, বিএনপির আন্দোলনের হুমকি হাস্যকর। কারণ বিএনপি নেত্রী এমন হুমকি অনেকবার দিয়েছেন ঈদের পর আন্দোলন করবেন। জাতি তাদের এ আন্দোলন দেখেছে। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে তাদের আন্দোলন মোকাবেলার জন্যে প্রস্তুত আছি। খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন তালিকা করবেন এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এমন তালিকা অনেক করেছেন। অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিতর্কিত করেছেন। আর জনগণ জানে খালেদা জিয়া যদি আবার ক্ষমতায় আসে অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা বানাতে পারেন। এ জন্যে জনগণ তাকে ক্ষমতায় আনবে না। আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান মিয়া ভুইয়া ডাবলু, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রবিবার খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, কোনো মানুষই ত্রুটি-বিচ্যুতি, ভুল-ভ্রান্তি ও ব্যর্থতা থেকে মুক্ত নয়। কেউই সমালোচনার উর্ধ্বে নয়। এ সত্যকে মেনে নিয়েই আমরা সরকারে থাকতে আমি নিজে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, শেরে বাংলা এ.কে.ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, জাতির এই পাঁচ কৃতি-সন্তানকে জাতীয় নেতা হিসাবে মর্যাদা দিয়ে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখা হোক। দুর্ভাগ্যের বিষয় এতে তাদের সম্মতি মেলেনি।

ডা. মেহজাবিনের বাবার সংশয়


ঢাকা : ডা. শামারুখ মেহজাবিনের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তার বাবা ও গণপূর্ত বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য গঠিত কমিটি চাপের মধ্যে রয়েছে বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি। তাই এই ময়না তদন্তের প্রতিবেদন নিয়েও আমার মধ্যে সংশয় তৈরি হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সঠিকভাবে প্রদান ও মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন জানিয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। গত ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগ নেতা ও যশোর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খান টিপু সুলতানের রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসায় রহস্যজনক মৃত্যু হয় তার পুত্রবধূ ডা. শামারুখ মেহজাবিনের। এ ঘটনায় নূরুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শামারুখ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করায় আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত শামারুখের লাশ কবর থেকে তুলে ফের ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়। সংবাদ সম্মেলনে শামারুখের বাবা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহিলা পরিষদের নেত্রী হাবিবা শেফা, নিহত শামারুখের শিক্ষক যশোর বিএএফ শাহীন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন, আইডিইবি যশোর শাখার সভাপতি আবুল হোসেন প্রমুখ। গত ১৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে ডা. শামারুখ মেহজাবিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধানমন্ডির বাসভবন থেকে শামারুখকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বাসায় ডা. শামরুখ তাঁর শ্বশুর টিপু সুলতান, শাশুড়ি ডা. জেসমিন আরা ও স্বামী হুমায়ুন সুলতান সাদাব বসবাস করতেন। পরদিন, ১৪ নভেম্বর যশোরের কারবালা কবরস্থানে ডা. শামারুখের লাশ দাফন করা হয়। এরপর তার বাবার আবেদনে ২৫ নভেম্বর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম বিকাশ কুমার সাহা লাশ উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্তের আদেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে আদালত লাশের ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সিভিল সার্জনসহ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেন। এরপর লাশ উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ডা. শামারুখের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ওই প্রতিবেদনে শামারুখ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা শামারুখের বাবা প্রত্যাখান করেন।

শতভাগ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব, জুলাই থেকে কার্যকর


ঢাকা: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে পে-কমিশন। সচিবালয়ে রবিবার সকাল ৯টায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে প্রতিবেদন তুলে দেন কমিশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এতে সর্বনিম্ন বেতন আট হাজার ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি বছর ১জুলাই ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। কমিশনের চেয়ারম্যান ফরাসউদ্দিন প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর বলেন, এই কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। আর মাঝের গ্রেডগুলোতে বেতন বাড়বে বিভিন্ন পর্যায়ে। সেই সঙ্গে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। আগের ২০ গ্রেডের বেতন কাঠামোর বদলে প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কাঠামোতে ১৬টি গ্রেডে বেতন বিন্যাসের প্রস্তাব করেছে কমিশন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা সর্বনিম্ন ৪,১০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা ‘বেসিক’ ধরে বেতন পাচ্ছেন। নতুন বেতনকাঠামোর প্রতিবেদন পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ রিপোর্টটি পেয়েছি। এটি পর্যবেক্ষণ করব। আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর করা হবে। আগামী দিনের অর্থনীতি হবে আলাদা ধরনের অর্থনীতি। সেই অর্থনীতির জন্য একটি সেটিসফাইড (সন্তুষ্ট) প্রশাসন দরকার। আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।’ আগের সরকারি বেতন স্কেলগুলো চার বছর মেয়াদের জন্য করা হলেও নতুন এই স্কেল হবে ছয় বছরের জন্য। বাবা-মাসহ ছয় সদস্যের পরিবার এবং দুই সন্তানের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বাবদ ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এবারের বেতন কমিশন তাদের সুপারিশ করেছে, যেখানে আগের কাঠামোতে পরিবারের সদস্য সংখ্যা ধরা হয়েছিল ছয়জন। আগের বেতন কাঠামোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত বছরের ২৪ নভেম্বর ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের এই বেতন ও চাকরি কমিশন গঠন করা হয়। দায়িত্ব পাওয়ার প্রায় ১৩ মাস পর তারা প্রতিবেদন দিলেন। সরকারি চাকরিজীবীরা বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.এ হান্নান,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : সাউদিয়া মার্কেট,দোকান নং-২,কানাইঘাট উত্তর বাজার,সিলেট। +৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩