Kanaighat News : First Online Newspaper in Kanaighat
Headlines News :

সর্বশেষ সংবাদ

কানাইঘাটে “লোভাছড়া ট্যুরিস্ট ক্লাবের” আত্নপ্রকাশ

Written By Shimanter Dak on Thursday, July 10, 2014 | 11:50 AM

কানাইঘাট প্রতিনিধিঃবাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত অসংখ্য ছোট বড় নদী বিধৌত অপূর্ব শোভায় শোভিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মন্ডিত জনপদের নাম হচ্ছে কানাইঘাট। এ উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র “লোভাছড়াকে” দেশ-বিদেশে পরিচিত করে তুলতে আতœপ্রকাশ ঘটেছে “লোভাছড়া ট্যুরিষ্ট ক্লাব” নামে একটি সংগঠনের। সাংবাদিক মাহবুবুর রশিদ-কে সভাপতি ও সাংবাদিক নিজাম উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট  নবগঠিত ‘লোভাছড়া ট্যুরিস্ট ক্লাবের’ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সহ-সভাপতি আব্দুন নূর, সাংবাদিক জামাল উদ্দিন, কাওছার আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল আহমদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান, অর্থসম্পাদক ফয়সল আহমদ চৌধূরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু সালেহ মোঃ মাছুম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহেদ শরীফ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জাবেদুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য কারিমা বেগম, মাহফুজ সিদ্দীকী, সুজন চন্দ অনুপ, শাখাওয়াত হোসেন সাজু, দিলদার হোসেইন জুবের, আহসান হাবিব, ফরহাদ কবীর। কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাশে অবস্থিত লোভাছড়া পর্যটন এলাকাকে দেশ বিদেশে তুলে ধরাসহ কানাইঘাটের যে কোন তথ্য আদান প্রদান ও পর্যটন সম্ভাবনাময় উপজেলা অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত এলাকাকে তুলে ধরার পাশাপাশি সকল প্রকার সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকান্ডে নবগঠিত এ সংগঠনটি কাজ করে যাবে।

জমি বিক্রির টাকায় আমজাদের জার্মানির পতাকা

Written By Shimanter Dak on Monday, June 30, 2014 | 7:16 AM

শফিকুল ইসলাম শফিক, মাগুরা : বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় পিছিয়ে নেই বিশ্বসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের জন্মস্থান মাগুরা। ব্রাজিল সমর্থকরা যেমন বিশাল আকৃতির হাতি নিয়ে শহরে র‌্যালি বের করেছে। তেমনি আর্জেন্টিনা সমর্থকরাও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে। সব কিছু ছাপিয়ে গেছে জার্মান সমর্থক কৃষক আমজাদ হোসেনের ৩ কিলোমিটার লম্বা জার্মানির পতাকা।
পতাকা দেখতে আমজাদের বাড়িতে প্রতিদিন ভিড় করছে নানা বয়সী ফুটবল প্রেমীরা। ধানী জমি বিক্রি করে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল এক জার্মান পতাকা তৈরি করে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কৃষক আমজাদ হোসেন। পাগল এই সমর্থকের বাড়ি মাগুরা পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের ঘোড়ামারা গ্রামে। ৫৯ বছর বয়সী আমজাদ হোসেনের ধ্যান জ্ঞান শুধু জার্মান ফুটবল দলকে নিয়ে। ব্রাজিল আর্জেন্টিনার সমর্থক বেশি হলেও জার্মানের খেলার দিন নিজ খরচে গরু জবাই দিয়ে নৈশ ভোজের মাধ্যমে বলতে গেলে এলাকার অনেককে জার্মান সমর্থক বানিয়ে ফেলেছেন তিনি।
ফুটবল পাগল আমজাদ কিভাবে জার্মানির সমর্থক বনে গেছেন সে ব্যাপারে জানিয়েছেন দ্য রিপোর্টকে। তিনি বলেছেন, ২০০৫ সালে তার পুরুষাঙ্গে পাথর ধরা পড়লে বহু ডাক্তারের ওষুধে কাজ না হওয়ায় সে নিশ্চিত মৃত্যুর পথে ছিলেন। অবশেষে মাগুরা নতুন বাজার এলাকার কবিরাজ মৃত মনোরঞ্জন বসু জার্মানির তৈরি হোমিও ওষুধ দিয়ে তাকে সেই কঠিন রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলেন। এর পর থেকেই জার্মানির সমর্থক।
২০০৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে জার্মানি দলের সমর্থনে ২৮০ গজের পতাকা তৈরি করেছিলেন আমজাদ। ২০১০ সালের বিশ্বকাপে সে পতাকা বাড়িয়ে ২১২০ গজে রূপান্তর করেন। এ বছর ২০১৪ বিশ্বকাপ ফুটবলে ৩৫৫০ গজ কাপড় দিয়ে ৩ কিলোমিটার লম্বা জার্মান পতাকা তৈরি করেছেন। এ জন্য তার খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। ৫০ শতাংশ ধানী জমি বিক্রি করে এই অর্থ সংগ্রহ করেছেন তিনি।
ছোট বেলা থেকে আমজাদ হোসেন ভাল ফুটবল খেলায় জেলার বিভিন্ন মাঠে নানা দলের হয়ে হায়ারে খেলতেন। বয়সের ভারে নিজে ফুটবল খেলতে না পারলেও অল্প বয়সী ছেলেদের ৪টি ফুটবল কিনে দিয়ে তাদের সঙ্গে অধিকাংশ সময় পার করেন। বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় সৌর বিদুৎতের মাধ্যমে ১৭ ইঞ্চি সাদাকালো টেলিভিশনে খেলা দেখেন তিনি। শুধু জার্মান দলের খেলা দেখতে শহর থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করে ডিশ লাইন নিয়েছেন তিনি।
আমজাদের প্রত্যাশা তার দল এবারের বিশ্বকাপ জিতবে। প্রিয় খেলোয়াড় মুলার, ওজিল, ফিলিপ লাম, ক্লোসা। গ্রামের ইলাহী মোল্ল্যা, তোতা মিয়া ও আনছার আলী তার পতাকা প্রদর্শনে সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। জার্মান দল সেমিফাইনালে ওঠলে শহরে কয়েক হাজার লোক সমাগম ঘটিয়ে পতাকা প্রদর্শন করবেন বলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন তিনি।
মাগুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার একাধিকবার নির্বাচিত সেক্রেটরি হাজী মকবুল হোসেন বলেছেন, কৃষক আমজাদ হোসেনের জার্মান পতাকা তৈরিই ফুটবলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে। ৩ কিলোমিটার লম্বা পতাকা গিনিজ বুকে স্থান পেতে পারে।
- See more at: http://www.thereport24.com/article/43341/index.html#sthash.DsB3j1Wf.dpuf

বড় জয়ে শুরু কলম্বিয়ার

Written By Shimanter Dak on Saturday, June 14, 2014 | 11:51 AM

স্পোর্টস ডেস্ক : দুর্ভেদ্য রক্ষণ গড়ে এক দশক আগে ইউরো জিতেছিল গ্রিস। একইভাবে বিশ্বকাপেও দারুণ কিছু করে দেখাতে চেয়েছিল দলটি। কিন্তু গ্রিক রক্ষণদুর্গ ভেঙে ব্রাজিল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত সূচনা করেছে কলম্বিয়া। শনিবার বেলো হরিজন্তের স্তাদিও মিনেইরাওয়ে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে গ্রিকদের ৩-০ গোলে হারায় কলম্বিয়া। জয়ী দলের পক্ষে একটি করে গোল করেন পাবলো আরমেরো, তিওফিলো গুতিয়েররেস ও জেমস জেমস রদ্রিগেস। চোটের কারণে বিশ্বকাপে নেই মোনাকোর ফালকাও। তবে সেরা তারকাকে ছাড়াই প্রতিপক্ষকে আক্রমণে আক্রমণে পর্যদুস্ত করে তোলে কলম্বিয়া। জিততেও কোনো সমস্যায় হয়নি তাদের। বাছাইপর্বের ১০ ম্যাচে মাত্র চারবার নিজেদের জাল থেকে বল কুড়িয়ে আনা গ্রিস বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে এসে পঞ্চম মিনিটেই গোল হজম করে বসে। গ্রিকদের চুপসে দিয়ে গোল করে বসেন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার পাবলো আরমেরো। গ্রিক রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে মিডফিল্ডার হুয়ান কাদরাদো দারুণ কৌশলে বল বাড়ান ডি বক্সের মাঝে ঢুঁকে পড়া আরমেরোকে। বল পেয়েই সোজাসুজি শট নেন আরমেরো। তবে ওই শটে গোল নাও হতে পারতো, কারণ গ্রিক গোলরক্ষক বলের লাইনেই ছিলেন। কিন্তু এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে দিক পাল্টে বল জালে জড়িয়ে যায়। গ্রিক রক্ষণের শক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল অনেকদিন ধরেই। প্রথমার্ধে সেই রক্ষণভাগকে কঠিন ফেলেছিল হোসে পেকারমানের শিষ্যরা। আর সেই পরীক্ষায় উৎরাতে পারেনি ইউরোপের দলটি। ২৮তম মিনিটে ম্যাচে ফেরার একটা সুযোগ পেয়েছিল গ্রিস। কিন্তু ফরোয়ার্ড দিমিত্রিস সালপিনগিদিসের ক্রস থেকে মিডফিল্ডার পানাইওটিস কোনের শটটি ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করে গ্রিস। কিন্তু ডি বক্সের বাইরে থেকে নেয়া বোলোনিয়ার কোনের দুর্দান্ত শটটি অসাধারণ দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন ওরেস্টিস কারনেজিস। দ্বিতীয়ার্ধেও মাঠ দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে লাতিন আমেরিকার দলটি। ব্যবধান দ্বিগুণ করতেও দেরি হয়নি তাদের। ৫৮তম মিনিটে দারুণ গোলটি করেন তিওফিলো গুতিয়েররেস। মিডফিল্ডার জেমস রদ্রিগেসের কর্নারে ডি বক্সের মাঝে ছুটন্ত অবস্থায় আলতো টোকা দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ফরোয়ার্ড গুতিয়েররেস। ৬৩তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর আরেকটি ভালো সুযোগ পায় গ্রিস। কিন্তু কোনের জোরালো শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ‘ইনজুরি’ সময়ে কলম্বিয়ার জয় নিশ্চিত করা গোলটি করেন ২২ বছর বয়সী রদ্রিগেস। বিশ্বকাপে এটাই তার প্রথম গোল। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে এটা কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় জয়।

সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি

সফিকুল হাসান সোহেল:ঢাকা: বিশ্বের সবচেয়ে র্দুবেদ্য ও রহস্যময়ী বন আমাজনের মাঝেই গড়ে উঠেছে মানাউস। ব্রাজিলের ১২টি স্টেডিয়ামের ভেতর সবচেয়ে সুন্দর স্টেডিয়ামের অবস্থান সেখানে। আর সেখানেই মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্বের সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন ইটালী ও ইংল্যান্ড। এর ভেতর ইটালি আবার চারবার এবং ইংল্যান্ড একবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ব্রাজিলের পর সর্বোচ্চ ৪বার চ্যাম্পিয়ন আজ্জুরিরা। ফুটবল ম্যাচের আবহে আবহাওয়া ও কন্ডিশনের বড় ব্যাপার হয়ে ওঠাকে ব্যতিক্রমই মানতে হবে। এই কন্ডিশনে মানিয়ে নিতেই এই দুই সেরা দল আজ প্রথমবারের মতো ল্যাটিন আমেরিকান দেশটিতে মুখোমুখি হচ্ছে। ইউরোপিয়ান দেশগুলোর জন্য ব্রাজিলের কন্ডিশন যে খুব স্বস্তিদায়ক হবে না, সেটি জানা ছিল সবার। এর মধ্যে সবচেয়ে অস্বস্তিদায়ক আবার মানউস। আমাজন অঞ্চলের মাঝে আমাজোনিয়া স্টেডিয়ামের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা শীতপ্রধান মহাদেশের দেশগুলোর পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে নিশ্চিত। ড্রয়ের আগে সবারই তাই প্রার্থনা ছিল, ডি গ্রুপের খেলা অনুষ্ঠিত হবে যে মানাউসে, সেই গ্রুপে যেন না পড়ি। ইংল্যান্ড ক্যাম্প থেকে তো প্রকাশ্যেই বলা হয়েছিল তা। কী দুর্ভাগ্য, সেই ইংল্যান্ডই পড়ে গেল আমাজনের চক্করে। সবচেয়ে রহস্যময়ীর চক্করে। শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত চারটায় ম্যাচ শুরু হলেই বোঝা যাবে কন্ডিশন মানিয়ে নেয়ার লড়াইয়ে জিতবে কোন দল। ইতালি-উরুগুয়ে-ইংল্যান্ড সাবেক তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের দেখা হয়ে যাচ্ছে প্রথম পর্বেই। এদের মধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার অধিকার পাবে কেবল দুটি দল। এবারকার বিশ্বকাপে এটাকে ডেথ গ্রুপ বলা হচ্ছে। দুর্ভাগা ছাড়া নিজেদের আর কী ভাববে পরাশক্তি-ত্রয়। আর গ্রুপের চতুর্থ দল কোস্টা রিকা। ফুটবল-দেবতার অভিশাপ যে কেন তাদের উপর পড়ল, এই ভাবনাতেই শুরু করবে তারা বিশ্বকাপ। এমন গ্রুপে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। ইতালি-ইংল্যান্ডের সর্বশেষ দেখা যেমন দুই বছর আগের ইউরোতে। সেই ম্যাচটি টাইব্রেকার গড়ালেও ১২০ মিনিট জুড়ে আধিপত্য ছিল আজ্জুরিদের। বিশেষ করে আন্দ্রেয়া পিরলো যেভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের জাদুকরী পায়ে ধরে রেখেছিলেন, ইংলিশরা নিশ্চিতভাবেই তা ভোলেনি। সেই পিরলো আছেন এখনো। আছেন জানলুইজি বুফ্ফন ও দানিয়েল দে রস্সি। আট বছর আগের বিশ্বকাপ জয়ের তিন সেনানী। ইতালির শক্তির বড় এক একটা অংশ এই অভিজ্ঞ তিন জন। তবে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে বুফফন কে তুলছেন না প্রথম ডু অর ডাই ম্যাচে কোচ। সঙ্গে মারিও বালোতেল্লির প্রতিভার দীপ্তিতে উজ্জ্বল বেপরোয়া তারুণ্য। গত বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে তারা বাদ পরলেও ইউরোর ফাইনালে উঠে আবার ইঙ্গিত দিয়েছে কক্ষপথে ফেরার। গত বছরের কনফেডারেশন্স কাপের সেমিফাইনালেও উঠেছিল তারা। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের নিয়তি আটকা পড়ে আছে সেই দ্বিতীয় রাউন্ড আর কোয়ার্টার-ফাইনালেই। বিশ্বকাপ কিংবা ইউরো-সব টুর্নামেন্টে ফেভারিট হিসেবে শুরু করে দ্রুত বিদায় নেওয়াটা তাদের সাম্প্রতিককালের ইতিহাস। সে কারণেই কিনা, এবার আর ফেভারিটের তকমা জুড়ে নেই তাদের সাথে। ইতালির মতো অভিজ্ঞতায় আস্থা না রেখে তারুণ্যের জয়গানই রয় হজসনের স্কোয়াডে। গত বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ১-৪ গোলে জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নেওয়া একাদশের তিনজনই কেবল হয়তো আজ থাকবেন প্রথম একাদশে। ওয়েইন রুনি, স্টিভেন জেরার্ড ও গ্লেন জনসন। অ্যাডাম লালানা, রাহিম স্টার্লিং, ড্যানিয়েল স্টারিজ, জর্ডান হেন্ডারসনদের মতো তরুণ খেলোয়াড়রা আজ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি অগ্নিপরীক্ষায়। ব্রাাজিলের পর সবচেয়ে বেশি চার বার বিশ্বকাপ জেতা ইতালি যে তাদের প্রতিপক্ষ। তারপরও আশার কিন্তু কমতি নেই ইংল্যান্ড ক্যাম্পে। রুনির কণ্ঠে যেমন দিন কয়েক আগে শোনা গেছে আত্মবিশ্বাসী সুর, আমি যতগুলো ইংল্যান্ড স্কোয়াডে খেলেছি, তার মধ্যে এটি সম্ভবত সেরা। ইতালি দলের আত্মবিশ্বাসের পারদ আরো উঁচুতে। পিরলোর কথার তারই প্রতিফলন, বিশ্বকাপ জয়ের সামর্থ্য আমাদের আছে। গ্রুপ পর্ব কিংবা কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ হয়ে যাওয়াটা আমি মেনে নেব না। সব ধাপ পেরিয়ে শিরোপা জেতার শক্তি আছে ইতালির। সব ধাপ বলতে তো ফাইনাল পর্যন্ত সিঁড়ির সাতটি ধাপ। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো সহজ গ্রুপে পড়া দলগুলোর ক্ষেত্রে প্রথম তিনটি ধাপ কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। ইতালির জন্য তা নয়। বরং প্রথম ধাপ থেকেই তাদের খেলতে হবে নকআউট রাউন্ডের মতো। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি সুবিধা আছে তাদের-বিশ্বকাপে কখনোই এই দলটির কাছে হারেনি আজ্জুরি। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে স্লো স্টার্টার হিসেবে একটা তকমা তাদের গায়ে লেগে আছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে সেটিও ঝেড়ে ফেলার চ্যালেঞ্জ ইতালির। এখন খেলার মাঠে তার প্রমাণ দিতে হবে আজ্জুরিদের। আর দুই দলের জন্যই অভিন্ন চ্যালেঞ্জ? মানাউসের বিরুদ্ধ আবহাওয়ায় স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারা। সুতরাং দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কারা এগিয়ে যাবে আজকের ম্যাচ সেটাই দেখার বিষয়। -

উরুগুয়ের বিপক্ষে কোস্টারিকা

স্পোর্টস রিপোর্টার:ঢাকা: ২০তম ব্রাজিল বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ মাঠে নামছে উরুগুয়ে। এদিকে নিশ্চিতভাবেই মাঠে নামা হচ্ছে না লুইস সুয়ারেসের। তবে পরের ম্যাচগুলোতে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকারের খেলার সম্ভাবনা আছে বললেন কোচ অস্কার তাবারেস। স্বাগতিক হিসেবে ব্রাজিলে বিশ্বকাপ ব্রাজিলবাসীর কাছে অন্তহীন আক্ষেপের সমার্থক। উরুগুয়ের কাছে ব্যাপারটির মাত্রা আবার ভিন্নরকম। অনন্ত প্রেরণা হয়ে আসে তা তাদের কাছে। ১৯৫০ সালের সেই মারাকানাজো উপাখ্যানের রচয়িতা যে তারাই। ৬৪ বছর পর ব্রাজিলে আরেক বিশ্বকাপে উরুগুয়ের তাই আত্মবিশ্বাসেই মাঠে নামার কথা। কিন্তু শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ফরতালেজায় কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে অবস্থাটা ঠিক তেমন না। সুয়ারেসের চোটে এলোমেলো উরুগুয়ে শিবির। সদ্য সমাপ্ত ক্লাব মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মাতিয়ে লিভারপুলের জার্সিতে ৩৩ লিগ ম্যাচে সুয়ারেস করেছিলেন রেকর্ড ৩১ গোল। ৩৮ ম্যাচের ইপিএলে এটিই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। বিশ্বকাপে ইতালি-ইংল্যান্ডের সঙ্গে এক গ্রুপ পড়ে যাওয়াতেও তাই খুব একটা হাহাকার ওঠেনি উরুগুয়েতে। খেলা হবে নিজ মহাদেশে আর চেনা শত্রু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে সুয়ারেস। নকআউট পর্বে যেতে আর কী চাই। কিন্তু বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পে সুয়ারেস বাঁ হাঁটুর চোটে পড়লেই সর্বনাশের কারণ হয়ে দাড়ায়। ল্যাটিল আমেরিকান এই দেশটির।, টুর্নামেন্টে আর মাঠে নামা হচ্ছে না তার। পরে তাকে বিশ্বকাপের দলে রেখে দিলেও আজ প্রথম ম্যাচে খেলানোর ঝুঁকি হয়তো নেবেন না কোচ অস্কার তাবারেস। বিশেষত সামনের দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ যখন সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। প্রতিপক্ষ হিসেবে কোস্টারিকা তুলনামূলক সহজ। ফুটবল-ঐতিহ্য কিংবা ফুটবলীয় সামর্থ্য, কোনটিতেই উরুগুয়ের ধারে-কাছে নেই তারা। সুয়ারেসের চোট নিয়ে বিশ্বজুড়ে সোরগোল হলেও , কিন্তু একই দুর্ভাগ্যের শিকার তো কোস্টারিকাও। এভারটনে খেলা তাদের সেরা ডিফেন্ডার ব্রায়ান ওভিয়েদো এবং বাছাইপর্বে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা আলভারো সাবোরিও ইনজুরির কারণে ব্রাজিলেই যেতে পারেননি। প্রথম একাদশের রাইটব্যাক হেইনের মোরা গিয়েছিলেন। কিন্তু চোট দুর্ভাগ্যে তাকেও ফিরতে হয়েছে দেশে। হোর্হে লুই পিন্তোকে তাই নড়বড়ে এক একাদশই নামাতে হচ্ছে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টদের বিপক্ষে। ওই বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল পুরষ্কার জেতা দিয়েগো ফোরলান থাকছেন আজ উরুগুয়ের একাদশে। তার সঙ্গে এদিনসন কাভানির জুটি কোস্টারিকার রক্ষণ ভেঙেচুরে দিতে সক্ষম। আর সেটি উরুগুয়ের জন্য প্রয়োজনও। ইতালি-ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আছে গোলপার্থক্যে এগিয়ে থাকতে হবে যে। আর চোট কাটিয়ে ফেরার অপেক্ষায় থাকা সুয়ারেসের জন্য মঞ্চটাও তো প্রস্তুত রাখতে হবে। ডিনিউজবিডি/সোহেল

ব্রাজিল! আমিও আছি

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি সব সময় জয়ী দলের পক্ষে। ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচের দুটি গোল তিনি দেখেছেন। খেলার বাকি খবর নিয়েছেন সকালে। শনিবার গণভবনে চীন সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রশ্ন ছোড়া হয় বিশ্বকাপ নিয়েও। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে জয়ী দলের সমর্থক দাবি করে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান আপনারা কোন দলের সমর্থক? সেখানে থাকা উপস্থিত সাংবাদিক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অনেকে ব্রাজিল, ব্রাজিল বলে উচ্চারণ করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমিও আছি…।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে তালের শাস

এইচ আর তুহিন, যশোর : সারি সারি তালগাছ। রাস্তার দু’ধারে কিংবা বিলের আঁইলে এমন দৃশ্য এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। তাল গাছে ‘কানা বগীর ছা’ ও ‘বাবুই পাখির বাসা’ও নেই আগের মতো। কালের বিবর্তনে অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। তবে ‘এক পায়ে দাঁড়িয়ে’ থাকা তালগাছের কদর এখন বেড়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি তাল শাস ও পাকা তালের চাহিদা রয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত তাল শাসের চাহিদা রয়েছে। মওসুমি ফল হিসেবে ‘তাল শাস’ গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তালগাছ মালিক এবং তাল শাস ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এমনটিই জানা গেছে। এলাকা ভেদে একটি তাল শাস চার থেকে সাত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তাল শাস ব্যবসায়ী বাল্লক মল্লিক বলেন, একটি গাছের তাল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পাইকারি দরে কেনা হচ্ছে। ঢাকায় নিয়ে এক হাজার তাল শাস আট থেকে নয় হাজার টাকা বিক্রি করছি। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা খাজানূর বলেন, কেউ একটু তরল, কেউ একটু শক্ত শাস পছন্দ করেন। প্রতিদিন ৬০ থেকে ৮০ কাঁদি তাল বিক্রি করছি। সৈয়দ আবুল হোসেন জানান, এখন পুরোপুরি তাল শাসের মওসুম চলছে। একটি তাল পাঁচ থেকে সাত টাকা বিক্রি করছি। প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার তাল শাস বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত তাল শাস বিক্রি করা যাবে। এ বছর তালের ভালো ফলন হয়েছে জানিয়ে যশোর সদর উপজেলার তরফনোয়াপাড়া গ্রামের লিটন বিশ্বাস বলেন, তাল শাস খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাল শাসের কদর বেড়ে যাওয়ায় ‘পাকা তাল’ কমে যাচ্ছে। এতে করে ‘তালবড়া’, ‘পাতা পোড়া’, ‘চুষি’, ‘তালক্ষীর’, ‘তালমিছরি’সহ বিভিন্ন পিঠাপুলি তৈরি কমে গেছে। কবি ও ছড়াকার খান মুহম্মদ মঈনুদ্দীনের ‘কানা বগীর ছা’ ছড়ার প্রসঙ্গ টেনে নড়াইল রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুলের অধ্যক্ষ সাংবাদিক সুলতান মাহমুদ বলেন, ঐ দেখা যায় তাল গাছ/ ঐ আমাদের গাঁ/ ঐ খানেতে বাস করে/ কানা বগীর ছা। কবির এই অসাধারণ বর্ণনায় তালগাছ আরো জীবন্ত হয়েছে এবং এর প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। সুলতান মাহমুদ আরো বলেন, কবি রজনীকান্ত সেনের ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতায় তালগাছে বাবুই পাখির বর্ণনাও অসাধারণ। চিত্রশিল্পী বলদেব অধিকারী বলেন, গ্রাম ও শহর অঞ্চলে তালগাছ, তাল শাস ও পাকা তালের চাহিদা রয়েছে। তাই আমার অঙ্কিত ‘বাংলার বরোমাসি’ বর্ণনার ৬০ ফুট দৈর্ঘের ক্যানভাসে তালগাছ ও তাল পিঠার ঐহিত্য তুলে ধরেছি। যশোরের ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি তালে শাসে যে পরিমাণ পুষ্টিগুণ রয়েছে, ওই পরিমাণ ভাতেও সেই পুষ্টি নেই। তাল শাসে শর্করা, স্নেহ ও আমিষ জাতীয় গুণ ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিগুণ রয়েছে। আর পাঁকা তালে ভিটামিন ‘এ’সহ অন্যান্য উপাদান রয়েছে। বাজারজাতকৃত বিভিন্ন পানীয়, তথাপি ফাস্টফুড জাতীয় খাবার না খেয়ে ‘তাল শাস’ খাওয়া অনেক স্বাস্থ্যসম্মত ও উপকারি বলে মন্তব্য করেন তিনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ছবিহরি দাস বলেন, কাঁচা (শাস) ও পাঁকা তাল গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। তাছাড়া দুর্যোগ সহিষ্ণুতার কথা বিবেচনা করে দেশে বেশি বেশি তালগাছ লাগানো প্রয়োজন। -
 
Support : Creating Website | Johny Template | Mas Template
Copyright © 2011. Kanaighat News : First Online Newspaper in Kanaighat - All Rights Reserved
Template Created by Creating Website Published by Mas Template
Proudly powered by Blogger