সুরঞ্জিতের বক্তব্য কল্পনাপ্রসূত: ছাত্রলীগ সভাপতি

Written By Shimanter Dak on Monday, November 24, 2014 | 9:52 PM


ঢাকা: নিজ সংগঠনের পদ বাণিজ্য নিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দেওয়া বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ নেতার ওই বক্তব্যকে অসত্য ও কল্পনাপ্রসূত বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। সোমবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক শেখ রাসেল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সোহাগ এ চ্যালেঞ্জ জানান। প্রসঙ্গত, রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সোমবার সকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে তদন্ত কমিটি করে দোষিদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান সুরঞ্জিত। তিনি বলেন, দলের প্রধান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী তদন্ত করে দেখুন ওখানে ছাত্রলীগের কতটা পদ বাণিজ্য, কতটা ভর্তি বাণিজ্য ও কতটা নীতি-আদর্শের ন্যায্যতা রয়েছে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সোহাগ বিবৃতিতে বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে তিনি যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমি এই বিষয়ে যে কোনো জায়গায় সকল গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে তার সঙ্গে বসতে চাই। তাকে প্রমাণ করতে হবে যে সিলেটের কমিটিতে বাণিজ্য হয়েছে নতুবা তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। বিবৃতিতে ছাত্রলীগ সভাপতি আরও বলেন, তিনি (সুরঞ্জিত সেন) একজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা এবং আমাদের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র। তার কাছ থেকে ছাত্রসমাজ এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশা করে না। তার উচিত ছিল একটু ভেবেচিন্তে বক্তব্য প্রদান করা।

রাষ্ট্রপতি হতে পারেন স্মৃতি ইরানি


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: লোকসভা ভোটে হেরেও দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী হয়েছেন স্মৃতি ইরানি। এখানেই শেষ নয়, যাত্রাপথে উন্নতিই শুধু অপেক্ষা করে নেই, রাষ্ট্রপতিও নাকি হতে পারেন তিনি। এমনই বলছেন জ্যোতিষী পন্ডিত নাথুলাল ব্যাস। লোকসভা নির্বাচনের আগে নাথুলাল স্মৃতির হাত দেখে বলেছিলেন, ভোটে হারলেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী হবেন স্মৃতি। বাস্তবে হয়েছেও তাই। রবিবার তাই স্বামী জুবিন ইরানির সঙ্গে রাজস্থানের কারোই গ্রামে নাথুলালকে ধন্যবাদ জানাতে যান স্মৃতি। চার ঘণ্টা ধরে নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রশ্ন করেন বলে জানা গেছে। তাই নিয়ে সংবাদমাধ্যমের অতি উৎসাহে বেশ কিছুটা বিরক্ত হয়েছেন স্মৃতি। তিনি বলেন, "ব্যক্তিগত জীবনে আমি কী করব তা নিয়ে ভাবা মিডিয়ার দায়িত্ব নয়। তবে আমাকে শিরোনামে রাখার জন্য ধন্যবাদ।" স্বাভাবিক ভাবেই দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী হয়ে জ্যোতিষের মতো বিষয়ে বিশ্বাস রাখায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্মৃতি। জনতা দল নেতা আলী আনোয়ার স্মৃতির সমালোচনা করে বলেন, “পরের বার দেখা হলে আমি ওনাকে একটা কথাই বলতে চাই যে, হাতের রেখায় এত বিশ্বাস রাখবেন না। ভাগ্য তাদেরও আছে যাদের হাত নেই।”

কানাইঘাটে জমিয়তে উলামার মিছিল-সমাবেশ!লতিফ সিদ্দীকীকে ২৪ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম


নিজস্ব প্রতিবেদক: জমিয়তে উলামা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি আল্লামা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী বলেছেন, যারা ছল ছাতুরির আশ্রয় নিয়ে কুখ্যাত নাস্তিক মুরতাদ আব্দুল লতিফ সিদ্দীকিকে নির্বিঘ্নে বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে তারা জাতির সাথে বেঈমানী করেছে। তিনি আরো বলেন, কোন টালবাহানা না করে নাস্তিক মুরতাদ লতিফ সিদ্দীকীকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তিনি আরো বলেন ব্লাশফেমি আইন জাতীয় সংসদে পাস করে নাস্তিক মুরতাদদের ফাঁসির আইন কার্যকর করতে হবে। গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফেরত আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবীতে আজ সোমবার বাদ আসর কানাইঘাট পৌর শহরে জমিয়তে উলামার কানাইঘাট শাখার উদ্যোগে এক বিরাট বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী ত্রিমোহনী পয়েন্টে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা শামসুদ্দীন দুর্লভপুরী উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। জমিয়তে উলামার অন্যতম নেতা মাওঃ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কানাইঘাট উপজেলা জমিয়তে উলামার সাধারণ সম্পাদক মাওঃ ক্বারী হারুনুর রশিদ চতুলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জমিয়তে উলামার কেন্দ্রীয় নেতা মাওঃ খালিদ সাইফুল্লাহ, যুব জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা মাওঃ আব্দুল্লাহ শাকির, মাওঃ হাফিজ দেলোয়ার হোসেন, মাওঃ বদরুল হাসান রায়গড়ী, মাওঃ ইসলাম উদ্দিন, মাওঃ হাফিজ নজির আহমদ, জমিয়তে তালাবার কেন্দ্রীয় নেতা হারিছ উদ্দিন, হাফিজ ইমদাদুর রহমান, বদরুল ইসলাম আল ফারুক, ইয়াহিয়া, শহিদ, শহর উল্লাহ, হাফিজ বদরুল ইসলাম, হাফিজ হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপি স্বেচ্ছাসেবক পার্টির কমিটি গঠন


নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির ২১সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এবাদুর রহমানকে আহ্বায়ক, আলী আহমদকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং যথাক্রমে বাবুল আহমদ, শাহনাজ উদ্দিন, হেলাল আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, আলমগীর হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন উপজেলা জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক মোঃ জয়নাল আবেদীন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এখলাছুর রহমান। কমিটির সদস্যরা হলেন, ছিফত উদ্দিন, জহির উদ্দিন, বাহার উদ্দিন, মঞ্জুর আহমদ, রুবেল উদ্দিন, মঞ্জুর উদ্দিন, শরিফ উদ্দিন, আবুল আহমদ, বদরুল ইসলাম, মখলিছ, আব্দুল্লাহ, রশিক উদ্দিন, কয়েস উদ্দিন, কামরুল ইসলাম।

লতিফ সিদ্দিকীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইলেন এরশাদ


ঢাকা : ইসলামের অবমাননাকারী সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই তাকে গ্রেফতার না করায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। আজ সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বলেন, লতিফ সিদ্দিকী ইসলামের অবমাননা করে শুধুমাত্র মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেননি, তিনি বাংলাদেশের সংবিধানকেও অবজ্ঞা করেছেন। এদেশের মানুষ তাকে কোনো দিনই ক্ষমা করবেনা। তারা বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও কী করে পুলিশের সামনে দিয়ে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে গেলেন তা বোধগম্য নয়। তিনি কী আইনেরও উর্দ্ধে? আমরা সরকারের এই ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব তাদের বিবৃতিতে বলেন, অবিলম্বে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা না হলে জাতীয় পার্টি জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় সফররত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ টেলিফোন বার্তায় লতিফ সিদ্দিকী প্রশ্নে তাঁর এই প্রতিক্রিয়া জানান।

লতিফকে নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি!


ঢাকা: লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেপ্তারের বিষয় নিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার বিকালে রাজধানী নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিএনপির কোন কর্মসূচি আছে কিনা- এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এই বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, লতিফকে নিয়ে সরকার নাটক করছে। এটা এক ধরনের প্রহসন। লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য আওয়ামী লীগের দর্শন ফুটে উঠেছে। রিজভী বলেন, সারাদেশে অবৈধ সরকারের দুর্নীতি ও অনাচার ডাকতেই লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে ক্ষমতাসীনরা ধূ¤্রজাল সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন দুর্নীতি করার পরও কেন তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন হওয়ার এত লুটপাটের পরও তিনি নীরব রয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত সরকারের চোখ রাঙ্গানী, কঠিনভাবে সাজানো প্রশাসনের অত্যাচার ও দুর্নীতির মধুর হাড়ি ভোগ করার জন্যই আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে করবে পাঠিয়েছে।

লতিফের আগমন নিয়ে সংশয়, তবুও বাড়িতে আলো!


টাঙ্গাইল:পবিত্র হজ ও মহানবীকে (স.) নিয়ে কটূক্তি করায় মন্ত্রিত্ব হারানো ও দল থেকে বহিষ্কার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর দেশে ফেরা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করছে তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষ। তাঁর ঢাকা আসার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও লতিফ সিদ্দিকীর ঢাকা আসার ছবি কোনো মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়নি। এমনকি টিভি মিডিয়াতেও তাঁর দেখা মেলেনি। আজ সোমবার আগাম জামিন নিতে তাঁর হাইকোর্টে যাওয়া নিয়েও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে অনলাইন মিডিয়ায়। তবে তাঁর দেখা পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকরা হন্যে হয়ে তাকে খোঁজলেও তার নাগাল পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আসলেই কি লতিফ সিদ্দিকী ঢাকায় ফিরেছেন? লতিফ সিদ্দিকীর ঢাকায় আসা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তার নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের লোকজনও। এমনকি জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মাঝেও এ ব্যাপারে সংশয় দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, লতিফ সিদ্দিকীর ঢাকা আসার সংবাদটি ¯্রফে গুজব। তাদের ধারণা, এ ধরনের গুজব সৃষ্টি করে দেশের সাধারণ মানুষের মনোভাব বিশ্লেষণ করছেন তিনি। মনোভাব ইতিবাচক দেখলে তিনি হয়তোবা দেশে ফিরবেন। এদিকে মন্ত্রীর গ্রামের বাড়ি কালিহাতীর বাসভবনে দীর্ঘদিন পাহারাদার শূন্য থাকলেও সোমবার সন্ধ্যায় বাড়িতে আলো জ্বলতে দেখা যায়। তবে কে আলো জ্বালিয়েছে তা জানা যায়নি। উল্লেখ্য, পবিত্র হজ, তাবলীগ জামাত ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে। পরে আওয়ামী লীগ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে লতিফ সিদ্দিকীর কালীহাতির বাসভবনে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির তত্ত্বাবধানের জন্য হাসান আলী হাসু নামে একজনকে দায়িত্ব দেয়া হলেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। মিডিয়ার বিভিন্ন প্রশ্ন থেকে বাঁচতে তিনি নিজেকে আড়াল করে রেখেছেন। সোমবার লতিফের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতের বেলায়ও বাড়ির পাহারাদারদের দেখা যায়না। সন্ধ্যার পর বাসায় আলো জ্বালানোর মতো কাউকে লক্ষ্য করা যায় না। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কালিহাতি শহরের সন্নিকটে তার বাড়িতে তালা ঝুলছে। দীর্ঘ সময় সদর দরজায় নাড়া দেয়ার পরও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পথচারীরা জানালেন, মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যতো দূরের কথা নাইটগার্ড ও কেয়ারটেকারও বাসায় থাকছে না। এদিকে মন্ত্রীর এ অবস্থায় তার কাছের লোকজনও কোনো তথ্য দিতে নারাজ। স্থানীয়রা জানান, বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে হাসু নামের একজনকে রাখা হলেও এখন তাকে বাসার দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়না। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলো মাঝি জয়দেব রাজবংশীর কাছে। মন্ত্রী কালিহাতী আসলেই যিনি মন্ত্রীর পছন্দের মাছ বাসায় সরবরাহ করতেন। অথচ তিনিও মুখ খুলতে নারাজ। তিনবার যোগাযোগ করার পর তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে মন্ত্রীর বাসার লোকদের কোনো যোগাযোগ নাই। বাসায় নাইটগার্ড ও কেয়ারটেকারও থাকে না। সংবাদ পেলেই আমি আপনাদের জানাবো।’ ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু সংযোগ মহাসড়কের পাশেই মন্ত্রীর ছেলে অনিক সিদ্দিকী দেড় হাজার বিঘা জমির ওপর গড়া ম্যাজেস্টিকা হোল্ডিং প্রজেক্ট। প্রতি সপ্তাহে প্রজেক্ট দেখতে হেলিকপ্টারে করে তিনি দু’একবার আসতেন। অথচ গত দুই মাসের মধ্যে তিনি একবারও প্রজেক্ট দেখতে আসেননি। তবে একটি সূত্র জানায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। এ কারণে আসছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রভাবশালী সাবেক এই মন্ত্রীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৮৮ সালে দুর্নীতির অভিযোগে মামলায় পড়ে। টাঙ্গাইল আর্টিজেনের পরিচালক থাকার সময় তিনি সুঁতা বিক্রির কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। সুঁতা বিক্রির দুর্নীতির কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এই মামলায় তার ১৩ বছরের জেল হয়। ১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকারের আমলে টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তার স্ত্রী লায়লা সিদ্দিকী। স্ত্রীর দৌঁড়ঝাঁপের কারণে এইচ এম এরশাদ কারাভোগ থেকে লতিফকে অব্যাহতি দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, বউয়ের কারণে এরশাদ সরকার তাকে বাঁচিয়েছিল। এখন তার পাশে কে দাঁড়াবে। শুনেছি তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। এখন পরিবারের সদস্যদের কাউকে বাড়িতে দেখা যায় না। লতিফ সিদ্দিকী দেশে আসবেন কি না তা নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যেও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে কালিহাতী উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার মোল্লা জানান, ‘আমার সঙ্গে লতিফ সিদ্দিকীর কোনো যোগাযোগ নাই। তবে এই আসনে উপনির্বাচনের কানাঘুষায় মন্ত্রীর ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীই ইতিবাচক বা নেতিবাচক কথা বলছে না। এ ব্যাপারে তারা সবাই নিশ্চুপ রয়েছেন।’
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.এ হান্নান,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : সাউদিয়া মার্কেট,দোকান নং-২,কানাইঘাট উত্তর বাজার,সিলেট। +৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩