কানাইঘাটে খালে নবজাতকের লাশ! নিষ্পাপ শিশুটি কার পাপের ফসল?

Written By Kanaighat News on Tuesday, May 26, 2015 | 10:03 PM

 নিজস্ব প্রতিবেদক:
কানাইঘাট উপজেলার ৬নং সদর ইউনিয়ের বীরদল ছোটফৌদ গ্রামের বীরদল খালে এক নবজাতকের লাশ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,মঙ্গলবার মাছ ধরার জন্য এক যুবক খালে নামলে এ নবজাতকের লাশ দেখতে পায়।  এ ঘটনায় এলাকায় নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, নিষ্পাপ শিশুটি কার পাপের ফসল?

কানাইঘাটে কাবিখার চাল আত্মসাত, মারামারি!থানায় মামলা রেকর্ড


নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাইঘাট সদর ইউপির নিজ চাউরা উত্তর বড়কান্দি পূর্ব জামে মসজিদের সংস্কারের জন্য সিলেট-৫ আসনের এমপি আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন কর্তৃক কাবিখা প্রজেক্ট থেকে বরাদ্ধকৃত ৬ টন চাউলের টাকা আত্মসাতের কেলেংকারী নিয়ে সংঘর্ষে আম্বিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড হয়েছে। থানার মামলা নং- ০৭ তাং- ১৬/০৫/১৫ইং। জানা যায়, নিজ চাউরা উত্তর বড়কান্দি জামে মসজিদের সংস্কার ও সোলারের জন্য স্থানীয় এমপি সেলিম উদ্দিন কয়েক মাস পূর্বে কাবিখা প্রজেক্ট থেকে ৮টন চাউল বরাদ্ধ দেন। সম্প্রতি উক্ত চাউলের ডিও লেটার উত্তোলন করে চাউল বিক্রির টাকা প্রজেক্ট কমিটির সভাপতি বড়কান্দি গ্রামের আলা উদ্দিন বরই আত্মসাত করেছেন এমন অভিযোগ এনে গত ১৫ মে বড়কান্দি জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের পর একই গ্রামের আমির আলীর পুত্র প্রজেক্ট কমিটির সদস্য আম্বিয়া (৩৫) এর সাথে আলা উদ্দিন বরইর কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ঐ দিন রাত ১০টার দিকে আম্বিয়া স্থানীয় সুরাইঘাট বাজারে গেলে আলা উদ্দিন বরই ও তার দুই পুত্র তাকে মেঘ লাইট দিয়ে পিটিয়ে মাথায় গুরুতর জখম করে। গুরুতর আহত আম্বিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ সিলেট ওমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় প্রজেক্ট কমিটির সেক্রেটারী নিজ উচারা উত্তর বড়কান্দি গ্রামের মৃত বশির আহমদের পুত্র শরিফ উদ্দিন (২৬) বাদী হয়ে মসজিদের সংস্কারের জন্য বরাদ্ধকৃত কাবিখা চাউলের টাকা আত্মসাত এবং আম্বিয়াকে গুরুতর জখমের ঘটনায় থানায় আলা উদ্দিন বরই (৫২) তার পুত্র হুমায়ুন রশিদ (২২), ইমরান আহমদ (২০) কে আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত পূর্বক মামলাটি এফআইআর করে।

সিলেটে স্থাপন হচ্ছে ১১টি ফায়ার স্টেশন


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: সিলেটে আরও ১১টি নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নগরীতে চার ও উপজেলায় হবে সাতটি স্টেশন। বর্তমানে পাঁচটি ফায়ার সার্ভিস পুরো জেলার সেবা দিতে হিমশিম খাওয়া জরুরি ভিত্তিতে এই ১১টি স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরমধ্যে তিনটির নির্মাণ কাজ চলছে। বাকি ৮টি পরিকল্পনা ও জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সিলেট ফায়ার সার্ভিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সিলেট ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে ফেঞ্জুগঞ্জ উপজেলার ফায়ার স্টেশন। এছাড়া বটেশ্বর সেনানিবাস, জৈন্তাপুর দু’টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। এছাড়া, নগরীর আম্বরখান, মদীনা মার্কেট, শিবগঞ্জ ও শাহজালাল উপশরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আর অন্য উপজেলার মধ্যে বিশ্বনাথ, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাটে ফায়ার স্টেশনের জন্যে জমি অধিগহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট বিভাগে বর্তমানে ১৬টি ফায়ার স্টেশন চালু রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৫টি। সেগুলো হলো, নগরীর তালতলায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় ফায়ার স্টেশন, দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও জকিগঞ্জ স্টেশন। সিলেটের ৬টি মেট্রোপলিটন থানার দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রথম দুটি স্টেশনই ভরসা। এই দুটি ফায়ার স্টেশনই নগরীর প্রায় ৫০ হাজার ভবনের অগ্নি নির্বাপণে একমাত্র ভরসা। অভিযোগ রয়েছে, দিনে দিনে বহুতল ভবন নির্মাণ বেড়ে চলায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্টেশন দুটি। নগরীতে আরও কয়েকটি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে উঠে। এমন প্রেক্ষাপটেই ২০১০ সালে নগরীর আম্বরখান, মদীনা মার্কেট, শিবগঞ্জ ও শাহজালাল উপশরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে। সে ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত কিছু জানায়নি মন্ত্রণালয়। তবে, ইতোমধ্যে তিনটি উপজেলায় নির্মাণ কাজ শুরু ছাড়াও ৪টিতে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সূত্র জানিয়েছে, নানাবিধ সমস্যায় সিলেট ফায়ার সার্ভিস। এখানে প্রথম শ্রেণীর ফায়ার স্টেশন একটি। সিলেট ফায়ার সার্ভিসই বিভাগের একমাত্র প্রথম শ্রেণীর স্টেশন। এছাড়া আর সবকটি স্টেশনই দ্বিতীয় শ্রেণীর। এগুলোর সবক’টি স্টেশনেরই গাড়ির সংখ্যাও দু’তিনটি করে। বড়ধরণের দুর্ঘটনা ঘটলে নির্ভর করতে হয় সিলেট ফায়ার সার্ভিসের উপর। সিলেট ফায়ার সার্ভিসের ৮টি গাড়ির বিভাগের দুর্যোগ মোকাবেলায় একমাত্র ভরসা। সংশ্লিষ্টদের মতে, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি হয় সবচে বেশি ও দ্রুত সময়ে। আগুন লেগে গেলে মুহূর্তে ছাই হয়ে যায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ। তালতলাস্থ সিলেট ফায়ার স্টেশনের পর ২০০৬ সালে দক্ষিণ সুরমা ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হযেছিলো। এর সক্ষমতাও খুব দুর্বল। মাত্র তিনটি গাড়িই এই স্টেশনের মূল সহায়। ফলে তালতলাস্থ ফায়ার স্টেশনই একমাত্র ভরসা। সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ড্রিফেন্স এর সহকারী পরিচালক শহিদুর রহমান বলেছেন, আমরা চেষ্টা করছি অগ্নিকা- ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে। এক্ষেত্রে সেবা বাড়ানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ। এই লক্ষে বটেশ্বর সেনানিবাস, জৈন্তাপুরে ফায়ার স্টেশন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার স্টেশন। এছাড়া জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে বিশ্বনাথ, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার ফায়ার স্টেশনের জন্যে। পরিকল্পনায় রয়েছে, নগরীর আম্বরখান, মদীনা মার্কেট, শিবগঞ্জ ও শাহজালাল উপশরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন।

অবৈধ বিলবোর্ড ভেঙে ফেলার ঘোষণা আনিসের


ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, উত্তরের দুই-তৃতীয়াংশ বিলবোর্ডই অবৈধ। আমি সবসংস্থাকে বলেছি আমরা সব অবৈধ বিলবোর্ড ভেঙে ফেলব। মঙ্গলবার দুপুরে ডিএনসিসির ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০নং ওয়ার্ড পরিদর্শনের সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আনিসুল হক। আনিসুল হক বলেন, কাল রাতে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। গুলশানের এ এলাকায় ওয়াসার কোনো স্যুয়ারেজ লাইন নেই। তাহলে কিভাবে এলাকার পানি যাবে? এভাবে চলতে দেয়া যায় না। ওয়াসাকে বিনীত অনুরোধ- আসুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি। এলাকার স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা সচল করি। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আমরা কোথায় বর্জ্য ফেলবো তা খোঁজে পাচ্ছি না। বর্জ্য ফেলার কোনো জায়গা নেই। এজন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে লিখেছি। তাদের বহু জায়গা বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে। তারা আমাদেরকে অন্তত দুই বছরের জন্য দুই-তিন কাঠা জমি বরাদ্দ দিক। তাহলেই আমরা আমাদের কমিটমেন্ট বাস্তবায়ন ‍করতে পারবো। মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাসুদ আহসান প্রমুখ।

যে কারণে ভারতের কৃষকেরা আত্মহত্যা করে


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টিতে চাষ করা তুলা ধ্বংস হয়ে যাবার পর এবছরের ফেব্রুয়ারিতে রাম রাও নারায়ণ পঞ্চলেনভর বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। মহারাষ্ট্র প্রদেশের এই কৃষক তার জমি থেকে আয়ের আশা হারিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন। এনিয়ে টানা তৃতীয় বছরের মতো তার জমিতে ফসল হয়নি। প্রথম বছর খরার কারণে এবং পরবর্তী দুবছর অসময়ে বৃষ্টির কারণে। কৃষিকাজ এবং মেয়ের বিয়ের জন্য নেয়া প্রায় ৩৫ হাজার ডলারের সমান ঋণে এখন ডুবে আছেন পঞ্চলেনভর। জানেন না কিভাবে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াবেন। তিনি আশায় আছেন, কর্তৃপক্ষ হয়তো তার মতো কৃষকদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে। পঞ্চলেনভর বলেন, ‘সরকারের উচিত কৃষকদের ঋণ মওকুফ করে দেয়া। এখন আমরা যে ক্ষতিপূরণ পাচ্ছি তা তিনগুণ করা উচিত। সরকার যে দামে ফসল কিনে নেয়, সেই দামেই ফসল বিক্রি করতে তিনি বাধ্য। অন্তত তার আত্মহত্যার চেষ্টাটা ব্যর্থ হয়েছে, সবাই তার মতো ভাগ্যবান নয়।’ ভারতের অপরাধ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে, গত ২০ বছরে দেশটিতে প্রায় ৩ লাখ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। অসময়ে বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির কারণে গত কয়েক সপ্তাহে ভারতের বিভিন্ন অংশে অনেক ফসল ধ্বংস হয়েছে, দারিদ্র্যপীড়িত কৃষকরা পড়েছেন আরো হতাশায় এবং তাদের অনেকে নিজেকে ঠেলে দিয়েছেন মৃত্যুর মুখে। রাজ্য সরকারের হিসাবে, এবছরের প্রথম চার মাসেই মহারাষ্ট্রের ২৫৭ জন কৃষক নিজেদের জীবন কেড়ে নিয়েছেন। মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এর পরের গ্রামটির বাসিন্দা, জানাবারি ঘোদাম সেই ব্যথা এখন টের পাচ্ছেন। তার স্বামী রমেশ ঘোদাম দুমাস আগে আত্মহত্যা করেছেন। ঘোদাম বলেন, অর্থচিন্তাই তার স্বামীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। তার প্রায় তিন হাজার ডলারের ঋণ ছিল এবং তার ফসলও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এখন অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করেই তাকে জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার জীবনে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। জমির ফসল ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন সেটি একটি শূন্য জমি এবং এ মৌসুমেও নতুন করে চাষ করা যাবে না। বাড়িতে রান্না করার মতো খাবার নেই বললেই চলে। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে একা হয়ে পড়েছি আমি। এমনকি ঘোদামের ঘরটি অন্ধকার। গত দুমাস যাবত বিদ্যুৎ বিল দিতে না পারায় সংযোগও কেটে দেয়া হয়েছে। আর ২০ বছর বয়সী কন্যাসন্তানের বিয়ে দেয়ার মতোও কোন টাকা তার কাছে নেই। পঞ্চলেনভারের গ্রামে একদল কৃষক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এখানকার প্রধান কৃষিপণ্য তুলা, কিন্তু বিশ্ববাজারে তুলার দাম কমে যাওয়া এবং চীনের তুলার চাহিদার কারণে তাদের আশা খুব ক্ষীণ। সরকার এবং মিল মালিকদের বেঁধে দেয়া দামের বাইরে তাদের যাবারও উপায় নেই। ওই দলের একজন কৃষক, ভাস্কর দেওভালভার ব্যাখ্যা করে বলছিলেন যে, পুরো গ্রামটি নির্ভর করে কৃষিকাজের ওপরে। অধিকাংশ কৃষকই স্থানীয় মহাজনদের কাছে দেনাগ্রস্থ, যারা ২৫ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়ে থাকে। তার স্বপ্ন এখন কলেজপড়ুয়া ছোট ছেলেকে নিয়ে। দেওভালভার প্রার্থনা করেন, তার পুত্র যেন পড়ালেখা করে শহরে একটি চাকরি পায়। তিনি বলেন, কৃষিকাজ করে কোন ভবিষ্যৎ নেই, অনেক বিনিয়োগ করেও কোন লাভ নেই এখানে। জমিতে কোন উৎপাদন নেই, অপরদিকে ব্যাংক এবং মহাজনদের চাপের মুখে কৃষকদের জন্য নিজেদের জীবন কেড়ে নেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না।

'সালাহ উদ্দিন কোন সাক্ষাৎকার দেননি'


নিউজ ডেস্ক: বিএনপির যুগ্ম-মহাসিচব সালাহ উদ্দিন আহমেদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেশি-বিদেশি কোনো গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেননি' বলে জানিয়েছেন দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও দলটি মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন। মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশি একটি দৈনিককে সালাহ উদ্দিন সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এমন সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ড. আসাদুজ্জামান বলেন, "ভারতে আইনের শাসন রয়েছে। তাদের নিয়ম-নীতির বাইরে কোনো সাক্ষাৎকার দেয়া সম্ভব নয়। হাসপাতালে আনা-নেয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কিছু কথা বলেছেন। ওই কথার ওপরেই কিছু তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে।" ‘সালাহ উদ্দিন সাহেবের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং আমাদের দলের দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি আমাদের নিশ্চিত করেছেন তিনি কোনো সাক্ষাৎকার দেননি’ যোগ করেন তিনি। বিএনপি মুখপাত্র বলেন, "ঢাকার কিছু পত্রপত্রিকায় তার সাক্ষাৎকারের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। সঠিক তথ্য ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে সালাহ উদ্দিন সাহেব ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। উনি নিখোঁজ হওয়ার পর আপনারা যেভাবে মানবিক দিক বিবেচনা করে সংবাদের গুরুত্ব দিয়েছেন। এখনো মানবিকভাবে বিষয়টা বিবেচনা করবেন।" এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা গতকাল এই বিষয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছি এবং দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে আলদাভাবে প্রতিবাদ পাঠিয়েছি। তাদেরকে বলেছি- সালাহ উদ্দিন আহমেদের সাক্ষাৎকারের বিষয়টা সত্য নয়।" সংবাদ সম্মেলনে সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি বলেন, "শিলং হাসাপাতালে সালাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়। ভারত সরকার তার নিরাপত্তার বিষয়ে যথেষ্ট যত্নশীল।" তিনি বলেন, "ওই হাসপাতালটি হাই-সিকিউরিটি সম্পন্ন। ওখানে প্রবেশ করতে হলে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে শরীর স্কানিং করতে হয়। সাংবাদিক, পত্রিকা, কলম-কাগজ ও মোবাইলসহ পাবলিকের কোনো বিষয় নিয়ে প্রবেশ করতে পারে না।" জনি বলেন, "সালাহ উদ্দিন সাহেবকে ভারত সরকার আশ্রয়, নিরাপত্তা ও উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।"

মরণ একদিন আসবেই


ইসলাম ডেস্ক: মরণ থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। প্রত্যেক জীবিত প্রাণীর মরণ অপরিহার্য। মরণ হতে কেউ পরিত্রান পেলে সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি মুহাম্মাদ (ছাঃ) ই পেতেন। তাকেও মরণ স্বীকার করতে হয়েছে। মরণ আল্লাহর পক্ষ হতে সৃষ্টিকুলের জন্য অবধারিত। আল্লাহর তা’আলা বলেনঃ “নিশ্চয়ই আপনারও মরণ হবে এবং তাদেরও মরণ হবে”। (যুমার-৩০) অত্র আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, সৃষ্টির সেরা এবং সকল নবীর মধ্যমণি হওয়া সত্ত্বেও রাসূল (ছাঃ) মরণের আওতা বর্হিভূত নন। অতএব, কোন মানুষ মরণের আওতার বাইরে যেতে পারে না। আরও প্রতীয়মান হয় যে, সকলকেই পরকালের চিন্তায় মনযোগী হতে হবে, এবং পরকালের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। আল্লাহ তা’আল অন্যত্র বলেনঃ “আপনার পূর্বেও আমি কোন মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং আপনার মরণ হলে তারা কি চিরজীবি হবে? প্রত্যেককে মরণের স্বাদ আস্বাদন করতে হবে, আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভাল দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি, এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে”। (আম্বিয়া-৩৪-৩৫) আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, পূর্বাপর কোন মানুষ চিরদিন থাকবে না একদিন না একদিন তাকে মরণের বিশেষ কষ্ট অনুভব করতেই হবে। আর অসুখ-বিসুখ, দুঃখ-কষ্ট এবং শরীরের সুস্থতা ও নিরাপত্তা উভয়ই পরীক্ষার মাধ্যম। আল্লাহ তা’আলা অন্যত্র বলেনঃ “প্রত্যেক প্রানীকে মরণের স্বাদ আস্বাদন করতে হবে, আর তোমরা ক্বিয়ামতের দিন পরিপূর্ণ বদলা পাবে। তারপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে সফলতা লাভ করবে, আর পার্থিব জীবন একমাত্র ধোঁকার সম্পদ”। (আল ইমরান-১৮৫) অত্র আয়অত দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, কোন প্রণী মরণের হাত থেকে রেহাই পাবে না। অবশ্যই কর্মের ফল পাবে। আর পার্থিব জীবন একমাত্র ধোঁকার সম্পদ। আল্লাহ তা’আলা অন্যত্র বলেনঃ “যদি আল্লাহ লোকদেরকে তাদের অন্যায় কাজের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভূপৃষ্ঠে চলমান কোন কিছুকেই ছাড়তেন না। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুত সময় পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন । অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহুর্তও বিলম্বিত কিংবা তরান্বিত করতে পারবে না”। (নাহল-৬১) মহান আল্লাহ বলেনঃ “হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত”। (মুনাফিক্বন-৯) “ইবনে উমর (রাঃ) বলেন, একবার রাসূল (ছাঃ) আমার শরীরের এক অংশ ধরে বললেন, পৃথিবীতে অপরিচিত অথবা পথযাত্রীর ন্যায় জীবনযাপন কর। আর প্রতিনিয়ত নিজেকে কবরবাসী মনে কর”। ( বুখারী, ৫০৪৪) “আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলতেন, যখন সন্ধ্যায় অবস্থান করছ তখন আর সকালের জন্য অপেক্ষা কর না; আর যখন সকালে অবস্থান করছ তখন সন্ধ্যার জন্য অপেক্ষা কর না। তোমরা সুস্থতার মধ্য হতে কিছু সময় অসুস্থতার জন্য রেখে দাও এবং তোমার জীবদ্দশায় মৃত্যর পাথেয় যোগার করে নাও”। (বুখারী, রিয়াযুছ ছালেহীন ৫৭৪) অত্র হাদীসদ্বয়ে বলা হয়েছে, (১) দুনিয়াতে অপরিচিত অবস্থায় থাকা ভাল। (২) পথিক যেমন গাছের ছায়ায় আরামের জন্য অল্প সময় বসে মানুষের জীবন তেমন। (৩) প্রত্যেককে কবরের সদস্য মনে করা উচিত। (৪) সকাল হলে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা হলে সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা করা যায় না। মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “আল্লাহর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংস হবে। চূড়ান্ত সিন্ধান্ত তাঁর হাতেই থাকবে এবং তাঁর নিকটেই ফিরে যেতে হবে”। ( সূরা, ক্বাছাছঃ ৮৮) উল্লেখিত আয়াত হতে বুঝা যায় যে, আল্লাহ ব্যতীত সব কিছুই ধ্বংসশীল। আল্লাহ ব্যতীত পৃথিবীর কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহ তা’আলা অপর এক আয়াতে বলেন, “পৃথিবীর সব কিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। একমাত্র আপনার মিহিমান্বিত প্রতিপালক ছাড়া”। (রাহমান ২৬-৩৭) আয়াতের অর্থ এই যে, ভূপৃষ্ঠে যত পরাক্রমশালী রাজা বাদশাহ, জিন মানব রয়েছে সব কিছুই ধ্বংসশীল। সবার মরণ একদিন আসবেই। একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত পৃথিবীর কোন কিছুই চিরস্থায়ী থাকার যোগ্যতা রাখে না। আল্লাহ তা’আলা অন্য এক আয়াতে বলেন, “মরণ তোমাদেরকে ধরবেই, যদিও তোমরা সুদৃঢ় দুর্গের ভিতর অবস্থান কর না কেন”। ( নিসা ৭৮) এ থেকে বুঝা যায়, মানুষ মরণের ভয়ে যত মযবুত প্রসাদে থাকুক না কেন, মরণ তাকে গ্রাস করবেই। আল্লাহ তা’আলা অন্যত্র বলেন, “আপনি বুলন, তোমরা যে মরণ থেকে পলায়ন করতে চাও, সেই মরণ তোমাদের মুখামুখি হবেই”। (জুম’আঃ ৮) উক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, মরণ অবশ্যই আসবে আজ নয়তো কাল। সুতরাং মরণ থেকে পলায়ন করার সাধ্য কারো নেই। এ ব্যাপারে হাদীসে এসেছে “ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী করিম (ছাঃ) বলেছেন, আপনার উচ্চ মর্যাদার মাধ্যমে আমি আশ্রয় চাই। আপনি ব্যতীত কোন সত্তা নেই। আপনি এমন সত্তা যার মরণ নেই অথচ জিন মানুষের মরণ রয়েছে”। (বুখারী, ২/১০৯৮ পৃঃ তাওহীদ অধ্যায়)। অত্র হাদীস দ্বারা প্রমানিত হয় যে, জিন ও মানুষের মরণ হবেই। মরণের কোন বিকল্প নেই। মরণের নির্ধারিত সময় রয়েছে। মানুষের মরণ নির্ধারিত সময়ের আগে-পিছে হবে না। স্বভাবিক মরণ অথবা নিহত হওয়া অথবা ডুবে যাওয়া অথবা যানবাহন র্দূঘটনায় মারা যাওয়া অথবা পুড়ে মারা যাওয়া কিংবা কোন প্রাণী খেয়ে ফেলা, এক কথায় যেভাবেই মরণ ঘটুক না কেন: তা পূর্ব হতেই নির্ধারিত। যেখানে যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে সেভাবেই ঘটবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মরণের একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে, যখন তাদের নির্ধারিত সময় এসে যাবে, তখন তারা এক মূহুর্ত পিছেও যেতে পারবে না আগেও যেতে পারবে না”। (ইউনুসঃ ৪৯) আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেন, “আল্লাহর আদেশ ছাড়া কেউ স্বেচ্ছায় মরতে পারে না। মরণের জন্য একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে (যা আগে পিছে হয় না)”। (আলে ইমরানঃ ১৪৫) প্রত্যেক মানুষের মরণ আল্লাহ তাআলার কাছে মরণের দিন, তারিখ, সময়, স্থান ও পদ্ধতি লিপিবদ্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পূর্বে ও পরে কারও মৃত্য হবে না। এমতাবস্থায় মরণের ব্যাপারে কারও হতবুদ্ধি হয়ে পড়ার কোন অর্থ নেই সূরা ইউনুস ৪৯, হিজর ৫, মুমিনুন ৪৩, মুনাফিকূন ১১ ও নাহল ৬১ নং আয়াতে অনুরুপ আলোচনা রয়েছে। “আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা তার প্রার্থনায় বললেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার স্বমী আল্লাহর রাসূল, আর আমার পিতা আবু সুফিয়ান ও আমার ভাই মুয়াবিয়ার সাথে বেঁচে থাকার ও সুখ ভোগ করার সুযোগ দান কর। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, তখন নবী করিম (রাঃ) বললেন, তুমি আল্লাহর নিকট নির্ধারিত সময় নির্ধারিত দিন ও নির্ধারিত রুযির বৃদ্ধি চাইলে, অথচ নির্ধারিত রুযি দিন ও সময়ের এক মুহুর্ত পরে ও আল্লাহ কোন কিছু ঘটাবেন না। তুমি যদি আল্লাহর নিকট জাহান্নামের শাস্তি এবং কবরের শাস্তি হতে পরিত্রান চাইতে তাহলে তোমার জন্য উত্তম হত”। (মুসলিমঃ ২/৩৩৮পৃঃ)। অত্র হাদীসে বলা হয়েছে যে, মানুষের বেচে থাকর নির্ধারিত যে সময় রয়েছে তার এক মুহুর্ত আগ পিছে হবে না। যেকোন মুহুর্তে মরণ ঘটতে পারে, কাজেই জীবনের আশা ভরসা ত্যাগ করে, সর্বদা আল্লাহর নিকট কবর ও জাহান্নামের শাস্তি হতে পরিত্রাণ চাওয়া উচিত।
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : সাউদিয়া মার্কেট,দোকান নং-২,কানাইঘাট উত্তর বাজার,সিলেট। +৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩