Previous
Next

সর্বশেষ


Thursday, January 20

জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কানাইঘাট পৌর যুবদলের আলোচনা সভা ও দোয়া

জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কানাইঘাট পৌর যুবদলের আলোচনা সভা ও দোয়া


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :


জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কানাইঘাট পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল ও শীতবস্ত্র বিতরণ হয়েছে। বুধবার বাদ আসর কানাইঘাট আল-রিয়াদ কমিউনিটি সেন্টারে কানাইঘাট পৌর যুবদলের আহবায়ক রুবেল আহমেদের সভাপতিত্বে ও পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মামুন রশিদ মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্তিত ছিলেন কানাইঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি  নুরুল হোসেন বুলবুল। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ও বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাজ উদ্দিন সাজু।


বিশেষ অতিথি কানাইঘাট পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শফিক আহমেদ, যুগ্ম আহবায়ক আর এ বাবলু, পৌর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক জালাল আহমেদ জনি, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নুরুল আমিন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ও বদরুল আলম, উপজেলা ছাত্রলের আহবায়ক কাউন্সিলর মোয়াজ্জেম হোসেন আল আমিন, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক হেলাম আহমেদ, উপজেলা যুবদলের সদস্য শাহেদ আহমেদ, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মারুফ আহমেদ, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক আলিম উদ্দিন, যুগ্ম আহবায়ক রুহুল ইসলাম, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব প্রিন্স সোহেল।



দোয়া পরিচালনা করেন মৌলভী শফিক আহমেদ, উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএপির সাবেক আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. ইয়াহইয়া, সাবেক আহবায়ক কমিটির সদস্য জালাল আহমেদ, বিএনপি নেতা রুকন আহমেদ, বিএনপি নেতা মো. ওয়াসিম, তাজ উদ্দিন, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম আহমেদ, যুবদল নেতা মো. ইয়াহইয়া, বিএনপি নেতা মানিক উদ্দিন সহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি যুবদল ও ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ।


 

 

Sunday, January 16

কানাইঘাটে হত্যা মামলার সাক্ষী হওয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলা

কানাইঘাটে হত্যা মামলার সাক্ষী হওয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

হত্যা মামলার আসামিদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন সিলেটের কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি সাংবাদিক আব্দুর রব (৪৫)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ১ টার দিকে সাংবাদিক আব্দুর রব কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের লোহাজুরি জামে মসজিদের নির্মাণ কাজ দেখে নিজ বাড়ী এরালিগুল গ্রামে যাওয়ার পথে মসজিদের সামনের রাস্তার উপর তার উপর ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা চালান উপজেলার এরালীগুল গ্রামের মৃত হারিছ আলীর ছেলে আলা উদ্দিন মড়ই (৫৫) এবং স্থানীয় নজরুল ইসলাম নজু হত্যা মামলার আসামি জুনেদ আহমদ, মিকির পাড়া গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ূম ও মাহিন আহমদ, একই গ্রামের হাসন রাজার ছেলে আব্দুশ শহিদ, আলা উদ্দিনের ছেলে ফখর উদ্দিনসহ আরো ৪/৫জন। এসময় সাংবাদিক আব্দুর রবকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে উপর্যোপরি আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার চিৎকারে মসজিদের কাজে থাকা শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আব্দুর রবকে আশংকাজনক উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক আব্দুর রবের উপর হামলাকারী আলা উদ্দিন মড়ই এলাকায় প্রভাবশালী এবং তার ছেলে জুনেদ আহমদসহ হামলাকারীরা কয়েক মাস আগে এরালীগুল গ্রামের নজরুল ইসলাম নজুকে হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি। এ হত্যা মামলার স্বাক্ষী ছিলেন সাংবাদিক আব্দুর রব। যার কারণে মামলার আসামিরা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

আব্দুর রবের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নজরুল ইসলাম নজু হত্যা মামলার আসামিদের সেল্টারদাতা আলা উদ্দিন মড়ই গত শনিবার রাতে সাবেক ইউপি সদস্য মস্তাক আহমদে বাড়িতে একটি বৈঠকে এবং স্থানীয় মন্তাজগঞ্জ বাজারে প্রকাশ্যে আব্দুর রবের উপর হামলা করবে বলে ঘোষণা দেয়। এর পরদিনই (রবিবার) তাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে আলা উদ্দিন মড়ই-এর নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।

এদিকে সাংবাদিক আব্দুর রবের উপর হামলার খবর পেয়ে হামলাকারীদের আটক করতে পুলিশ পাঠান কানাইঘাট থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল হক। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে গিয়ে আব্দুর রবের চিকিৎসার খোঁজ নেন।

ওসি (তদন্ত) জাহিদুল হক জানান, হামলাকারীদের আটক করতে এলাকায় পুলিশি অভিযান চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা ধায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিক ও কানাইঘাট প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক আব্দুর রবকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


অপরদিকে, রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি আব্দুল করিম ও থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল হক।

Thursday, January 13

জৈন্তাপুরে মহরম চ্যারিটি অর্গানাইজেশনে উদ্যোগে মাদ্রাসা ভবনের ভিত্তি স্থাপন

জৈন্তাপুরে মহরম চ্যারিটি অর্গানাইজেশনে উদ্যোগে মাদ্রাসা ভবনের ভিত্তি স্থাপন


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নে অবস্থিত দার আল-কাউছার রাহমানিয়া হাফিজিয়া রামপ্রসাদ পূর্ব ফুলতলা মাদ্রাসার নতুন দ্বিতল ভবনের ভিত্তি প্রস্থরের স্থাপন উপলক্ষ্যে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বাদ জোহর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা শেষে মহরম চ্যারিটি অর্গানাইজেশন ইউকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী  কমিউনিটি নেতা ও দাতা মহরম আলীর অর্থায়নে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে এ মাদ্রাসার দ্বিতল ভবনের ভিত্তি স্থাপন করেন মাদ্রাসার সভাপতি মহরম আলী। 

মহরম চ্যারিটি অর্গানাইজেশন সিলেটের তদারকীর দায়িত্বশীল হাফিজ মাওলানা মামুন রশিদের পরিচালনায় ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী মহরম আলীর ছোট ভাই নরওয়ে প্রবাসী মনির আলী, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, মাওলানা মুফতি লুৎফুর রহমান, মাওলানা হাফিজ মাহমুদুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, অহিদুল ইসলাম, কামাল আহমদ, মাওলানা মুজম্মিল আলী, মাওলানা আব্দুল করিম সারিঘাটি, মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল মতিন, সমাজ সেবি আব্দুল খালিক, হাফিজ আব্দুর রহমান, নজরুল ইসলাম, আবুল কালাম, মুজম্মিল মেম্বার, ফয়জুল আলম, আজির উদ্দিন, আব্দুল হান্নান, আব্দুল কাদির সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আলেম উলামাবৃন্দ। 

মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মহরম আলী তার নিজস্ব অর্থায়নে দার আল-কাউছার রাহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতল ভবনের ব্যয়ভার বহনসহ এ দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মোবারকবাদ জানানো হয়। 

মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রবাসী মহরম আলী বলেন, তিনি তার সাধ্যনুযায়ী তার হাতে গড়া ট্রাস্টের মাধ্যমে দীর্ঘদিন থেকে আর্থ মানবতার কল্যানে দেশ বিদেশে মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। সিলেট অঞ্চলের অনেক দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে সাধ্যনুযায়ী সহযোগিতাসহ অসহায় দরিদ্র মানুষের কল্যানে কাজ করছেন। আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন মানুষের কল্যাণে আরো কাজ করার তাকে যেন তৌফিক দেন এজন্য সকলের কাছে দোয়া চান তিনি।

 প্রসঙ্গত যে, ১৯৮০ ইংরেজি থেকে যুক্তরাজ্য দানশীল ব্যক্তিত্ব মহরম আলী আর্থমানবতার কল্যানে কাজ করে প্রবাসী কমিউনিটিতে বেশ প্রশংসিত হয়ে আসছেন।  

 একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিদায়

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিদায়

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান
সারওয়ার কবির::

ফয়জুর রহমান ১৯৪২ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের ধলিবিল দক্ষিণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাজী আব্দুল খালিক ও মাতার নাম রুপিয়া বেগম। বড়দেশ নয়াগ্রাম মক্তবেই তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। ছোটদেশ জুনিয়র স্কুল, কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণি, বারহাল এহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে কানাইঘাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৫৭ সালে মেট্রিক পাশ করেন। ১৯৫৯ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে আইকম এবং ১৯৬৪ সালে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজ থেকে বিকম পাশ করেন তিনি। এসময় তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজ হোস্টেল জিএস ও নির্বাচিত হন। ফয়জুর রহমান, ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, চাকুরী জীবনের প্রথম দিকে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ছিলেন। ১৯৬৫/৬৬ সালে তিনি ছোটদেশ জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। 

 

লেখকের সাথে আলাপচারিতায় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান

১৯৬৭ /৬৮ সালে সিলেট এবং ঢাকা শহরে কাপড়ের ব্যবসা করনে। ১৯৬৯, ১৯৭০ সালে একজন রাজনীতি সচেতন ব্যক্তি হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন। সিলেটের ইসমত চৌধুরী, এনাম চৌধুরী, নুরুল হুসেন চঞ্চল, শাহ মুদব্বির আলী, লুতফুর রহমান, শাহ আজিজদের নেতৃত্বে সিলেটে বাংলাদেশের মুক্তির পক্ষে বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি জড়িয়ে পড়েন। 

 

১৯৭০ সালের নির্বাচনে কানাইঘাট-বিয়ানীবাজার -জকিগঞ্জের এমএনএ মরহুম হাবিবুর রহমান তোতা উকিলের পক্ষে কাজ করেন তিনি। তার নির্বাচনকালীন সময়ে কানাইঘাট-জকিগঞ্জের সর্বত্র তিনি তার সাথে ঘুরেছেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসের দিকে তিনি ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। তার পিতা  আব্দুল খালিক তখন শয্যাশায়ী ছিলেন,  ফয়জুর রহমান তার অসুস্থ পিতাকে জানিয়েই মুক্তিযুদ্ধে যান।যুদ্ধে যাওয়ার ২ মাস পর তিনি তার পিতাকে হারান। যুদ্ধে যাওয়ার জন্য, বাড়ি থেকে একা রওয়ানা দেন। ওইদিন জাফলং এ রাত্রিযাপন করেন। পরদিন জাফলং অতিক্রম করে ডাউকিতে গিয়ে পৌছান। ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি নামক স্থানে হাবিবুর রহমান তোতা উকিলের নেতৃত্বে কাজ শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন শরনার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং ক্যাম্পগুলো থেকে যুবক ছেলেদের যাচাই -বাছাই করে মুক্তিযুদ্ধের টেনিং ক্যাম্পে পাঠানোই ছিলো তার অন্যতম কাজ। একজন রিক্রুটিং এজেন্ট হিসেবে তিনি সেখানে কাজ করেন। শরনার্থী ক্যাম্পে কার কি লাগবে, ওষুধ, খাবার, বস্ত্র সংগ্রহ করে শরণার্থী ক্যাম্পে পৌছে দেওয়াসহ একজন সংগঠকের ভূমিকা রাখেন তিনি। অসুস্থ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিতসার ব্যবস্থা করা সহ নানাকাজে তিনি ছিলেন এগিয়ে। অফিসিয়াল যোগাযোগ তার মাধ্যমেই হতো। লিয়াজো মেইনটেইন, ইন্ডিয়ান অফিসিয়াল কাজ, শরনার্থী ক্যাম্প থেকে ক্যাপ্টেন এর কাছে তথ্যসহ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা জমা দিতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ৫নং সেক্টরে ক্যাপ্টন রাও এর নেতৃত্বে কাজ করেন। ৫ ডিসেম্বর জাফলং হয়ে বাংলাদেশের দিকে রওয়ানা দিয়ে দরবস্ত এসে পৌছান তিনি। ১১/১২ ডিসেম্বর ক্যাম্প বসান দরবস্ত বাজারের পাশে। জৈন্তা, গোয়াইনঘাট, চতুল, দরবস্ত অঞ্চলের দায়িত্ব তাঁর উপর ন্যাস্ত করেন দেওয়ান ফরিদ গাজী এমপি। তখনকার সময়ে তার সাথে ছিলেন আরও ৪ জন। প্রায় ২ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা দরবস্ত বাজারে তখন ক্যাম্পে ছিলেন। তখন পাক বাহিনি দরবস্ত থেকে বিভিন্ন ব্রীজ ভেঙ্গে সিলেটের দিকে রওয়ানা দেয়। সেসময় ভারতীয় সেনাবাহিনী জাফলং হয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করতে চাইলে নদীর উপর দিয়ে গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা সহ কোন অঞ্চলে কিভাবে যাবেন, কিভাবে অপারেশন করবেন সেগুলোও দেখিয়ে দেন ফয়জুর রহমান। জাফলং এ পাকিস্তান আর্মি এম্ব্যুস করলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কয়েকজন মারা যান। একসময় তারা শুনেন, বাংলাদেশ সীমান্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আক্রমণ করবে। তখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কাস্টম অফিস পাকিস্তানীরা দখলে নিয়ে নেয়। পরের দিন রাত ১১.০০ টার পর পাকিস্তানীদের উপর ভারতীয় সেনাবাহিনী আক্রমণ চালালে তারা চলে যায়। এতে হতাহত হন অনেকে। জনাব ফয়জুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত হলে তিনি দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। 

 

যুক্তরাজ্যস্থ কানাইঘাটবাসীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কানাইঘাট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকে'র প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৭ সালে তাকে কানাইঘাট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। 

ফয়জুর রহমান ১২ জানুয়ারি রাতে লন্ডনে তার নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন।(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। পরদিন ১৩ জানুয়ারি জানাজার নামাজ শেষে তাকে লন্ডনের হেইনল্ট কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। এই ক্ষনজন্মা মানুষের বিদায় দিনে শোক শ্রদ্ধা 

 

সারওয়ার কবির ,সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মী

Wednesday, January 12

কানাইঘাটের নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দের প্রতি শুভেচ্ছা

কানাইঘাটের নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দের প্রতি শুভেচ্ছা


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

সদ্য সমাপ্ত কানাইঘাট উপজেলার  নয়টি ইউনিয়ন পরিষদ  নির্বাচনে বিজয়ী সকল চেয়ারম্যান সদস্যবৃন্দকে  অভিনন্দন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন 'অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্রিয়েটিভ ডেভেলপমেন্ট (এসিডি)'র নেতৃবৃন্দ। 

এক শুভেচ্ছা বার্তায় (এসিডি)'র চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন আহমদ বলেন,    আমরা আশাবাদী যে, ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত ক্ষমতা সত্ত্বেও নবনির্বাচিত পরিষদ স্ব স্ব ইউনিয়নের উন্নয়নে সততা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবেন।  

বিশেষ করে সম্মানিত চেয়ারম্যানবৃন্দ সকল ধরণের চাটুকারিতা, লোভ-লালসা, স্বজনপ্রীতি দুর্নীতি থেকে মুক্ত থেকে কানাইঘাটের উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রেখে জননন্দিত হওয়ার প্রচেষ্টা করবেন। কানাইঘাটে ইউনিয়নসমূহের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরবর্তী বা সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে আছে শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা চিকিৎসায়।  

আশা করি নবীন চেয়ারম্যানবৃন্দ সমদৃষ্টিতে নিজ নিজ এলাকায় সাফল্যের সাথে জনগণের জন্য কাজ করে যাবেন। আমরা তাঁদের সকলের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু সাফল্য কামনা করছি                

কানাইঘাট নিউজ ডটকম/১০ জানুয়ারি ২০২২/প্রেবি      


Friday, January 7

কমিউনিটি নেতা আব্দুর রাহমানের ইন্তেকাল

কমিউনিটি নেতা আব্দুর রাহমানের ইন্তেকাল


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক :

কানাইঘাট এসোসিয়েশন ইউকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক ট্রেজারার, এবং বর্তমান উপদেষ্টা আলহাজ্ব আব্দুর রাহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি ) লন্ডনের একটি হাসপাতালে কোনো উপসর্গ ছাড়াই করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

আব্দুর রহমান ছিলেন কমিউনিটির একজন অভিভাবক। কমিউনিটির মানুষ বিশেষ করে কানাইঘাটের মানুষের সব সুখ-দুঃখের সাথি ছিলেন তিনি।

 

এদিকে একজন সমাজ হিতৈষীর মৃত্যুতে লন্ডনে প্রবাসী কানাইঘাট কমিউনিটি তথা বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে । 

কানাইঘাট এসোসিয়েসন ইউকে'র নেতৃবৃন্দ  তাঁর মৃত্যুতে  গভীর  শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


মরহুমের জানাজার নামাজ আজ বাদ জুমু’আ ইষ্ট লন্ডনে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সকলের  উপস্থিতি ও দোয়া কামনা করেছেন কানাইঘাট এসোসিয়েসন ইউকে'র সভাপতি নজিরুল ইসলাম,সেক্রেটারী মখলিছুর রাহমান ও ট্রেজারার আহমেদ ইকবাল চৌধুরী


 

Wednesday, January 5

কানাইঘাটে ৯ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা

কানাইঘাটে ৯ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। 

কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে জানা গেছে ১ নং লক্ষীপ্রসাদ পূ ইউনিয়নে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন অাওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী তমিজ উদ্দিন ( বর্তমান মেম্বার), 

২ নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মনোনীত খেজুর গাছ মার্কার প্রার্থী মাওলানা জামাল উদ্দিন, ৩ নং দিঘীরপাড় ইউনিয়নে কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন সতন্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোটরসাইকেল মার্কার অাব্দুল মোমিন চৌধুরী, ৪ নং সাঁতবাক ইউনিয়নে কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন সতন্ত চশমা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী অাবু ত্যায়িব শামীম,৫ নং বড়চতুল ইউনিয়নে কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে বিপুট ভোটে বিজয়ী হয়েছেন অানারস প্রতীকের সতন্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী অান্দু মালিক চৌধুরী, ৬ নং সদর ইউনিয়নে বিপুল ভোটে কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন অাওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী অাফসার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ৭ নং দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়নে কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন সতন্ত চেয়ারম্যান মোটরসাইকেল মার্কার মাস্টার লোকমান অাহমদ,৮ নং ঝিঙাবাড়ী ইউনিয়নে বিজয়ী হয়েছেন  অানারস মার্কার সতন্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী অাবু বক্কর এবং ৯ নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মনোনীত খেজুর গাছ মার্কার প্রার্থী মাওলানা শামসুল ইসলাম। 


কানাইঘাটে ৯ টি ইউপি নির্বাচনে দুটিতে নৌকা প্রার্থী বিজয়ী

কানাইঘাটে ৯ টি ইউপি নির্বাচনে দুটিতে নৌকা প্রার্থী বিজয়ী


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। 

কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে জানা গেছে ১ নং লক্ষীপ্রসাদ পূ ইউনিয়নে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন অাওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী তমিজ উদ্দিন ( বর্তমান মেম্বার), 

২ নং লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নে এগিয়ে রয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মনোনীত খেজুর গাছ মার্কার প্রার্থী মাওলানা জামাল উদ্দিন, ৩ নং দিঘীরপাড় ইউনিয়নে কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন সতন্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোটরসাইকেল মার্কার অাব্দুল মোমিন চৌধুরী, ৪ নং সাঁতবাক ইউনিয়নে কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন সতন্ত চশমা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী অাবু ত্যায়িব শামীম,৫ নং বড়চতুল ইউনিয়নে কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে বিপুট ভোটে বিজয়ী হয়েছেন অানারস প্রতীকের সতন্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী অান্দু মালিক চৌধুরী, ৬ নং সদর ইউনিয়নে বিপুল ভোটে কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন অাওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী অাফসার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ৭ নং দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়নে কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন সতন্ত চেয়ারম্যান মোটরসাইকেল মার্কার মাস্টার লোকমান অাহমদ,৮ নং ঝিঙাবাড়ী ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন চশমা মার্কার সতন্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা অাব্দুর রহমান এবং ৯ নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মনোনীত খেজুর গাছ মার্কার প্রার্থী মাওলানা শামসুল ইসলাম। 


পরবর্তী উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফল কন্ট্রোল রুম থেকে ঘোষণা করা হবে।

কানাইঘাটের ৯টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে

কানাইঘাটের ৯টি ইউপিতে ভোটগ্রহণ চলছে


নিজস্ব প্রতিবেদক :

পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ চলছে। বুধবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। নির্বাচন ঘিরে উপজেলাজুড়ে বইছে ভোটের আমেজ। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।


নির্বাচনে কোন প্রার্থী ও তার সমর্থকরা ভোট কেন্দ্রে বিশৃংখলা প্রদান ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসতে বাধা প্রদান, কেন্দ্র দখল ও ব্যালেট পেপার ছিনতাই ও ব্যালেটে হাত দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম পিপিএম জানিয়েছেন।


বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ প্রশাসন ও র্যািব, বিজিবি’র টিম টহল দিচ্ছে।


৯টি ইউনিয়নের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬৩জন সাধারন সদস্য পদে ৪২৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের সদস্য ১০১ জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে ৮৫টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ১লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৩ জন।

Monday, January 3

কানাইঘাটের 'বুলবুল একাডেমিতে' নিয়োগ

কানাইঘাটের 'বুলবুল একাডেমিতে' নিয়োগ


নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি


কানাইঘাট উপজেলার ৪ নং সাঁতবাক ইউনিয়নের বাংলাবাজার অবস্থিত 'বুলবুল একাডেমিতে'

ড্র‍য়িং,কম্পিউটার কাম অফিস এসিস্ট্যান্ট,  গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে পারদর্শী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাদানে দক্ষ একজন করে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। 


গণিত ও বিজ্ঞাণের শিক্ষকদের

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ বি এস সি  অনার্স /পাস। 

কম্পিউটার কাম ও অফিস এসিস্ট্যান্ট পদে শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ নূন্যতম এইচ.এ.সি

অভিজ্ঞ ড্রয়িং টিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। 


৮জানুয়ারি ২০২১ বেলা ২টায় সিভি ও মূল সনদপত্র সহ প্রার্থীগনকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে। 

সম্মানি- আলোচনা সাপেক্ষ। 

যোগাযোগ, 01711040353

Saturday, January 1

ইনামুর রহমানের রুহের মাগফিরাতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

ইনামুর রহমানের রুহের মাগফিরাতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকার উত্তরার ৭নং সেক্টরের স্থায়ী ভাবে বসবাসরত জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব পাতন গ্রাম নিবাসী অবসরপ্রাপ্ত উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা সমাজসেবী মরহুম আলহাজ্ব ইনামুর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া-মিলাদ মাহফিল ও সিন্নি বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
 
গতকাল শুক্রবার বাদ জুম’আ আলহাজ্ব ইনামুর রহমানের নিজ বাড়ীর জামে মসজিদ ও মালিগ্রাম বাজার জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 
 
পরে মরহুমের নিজ বাড়ী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব পাতন গ্রামে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল সহ সিন্নি বিরতণের আয়োজন করা হয়। 
 
এতে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন ,মরহুমের সুযোগ্য মেয়ে ঢাকা ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপিকা ড. দিলারা জামান, তার স্বামী ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাইনুল হক, অধ্যাপক হারুন রশিদ, চারিকাটা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েল, নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান সুলতান করিম, মরহুমের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাহবুবুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজসেবী আলহাজ্ব নুর উদ্দিন, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মারুফ আহমদ, মাষ্টার কামাল উদ্দিন, মাষ্টার আব্দুর রহমান, মাষ্টার শামীম আহমদ, মুফতি শাফি আহমদ, মাওলানা আব্দুর রহিম, মাওলানা নুর উদ্দিন সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। 
 
মিলাদ-দোয়া মাহফিলে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বলেন, সাবেক উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা মরহুম আলহাজ্ব ইনামুর রহমান জৈন্তাপুর উপজেলার একজন গুণী অত্যান্ত ধর্মবীরু ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সব সময় তার জন্ম ভূমি জৈন্তাপুর উপজেলার খোঁজ খবর রাখার পাশাপাশি এলাকার সমাজ সেবা মূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। তার মৃত্যুতে জৈন্তাপুরবাসী একজন প্রজ্ঞাবান গুণী ব্যক্তিকে হারিয়েছে যাহা সহজে পূরন হওয়ার মতো নয় আল্লাহ রাব্বুল আলাআমিন তাকে যেন জান্নাতবাসী নসিব করেন। মিলাদ-দোয়া মাহফিলে মরহুম ইনামুর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন মুফতি শাফি আহমদ আহমদ। 
 
প্রসঙ্গত যে, গত ১৮ নভেম্বর বার্ধক্যজনিত কারনে ঢাকার উত্তরার নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন ইনামুর রহমান। তার মৃত্যুর চল্লিশা উপলক্ষ্যে এ মিলাদ-দোয়া মাহফিল ও সিন্নি বিরতণের আয়োজন করা হয়।

 বছরজুড়ে কানাইঘাটের আলোচিত যত ঘটনা

বছরজুড়ে কানাইঘাটের আলোচিত যত ঘটনা

মাহবুবুর রশিদ::

কালের আবর্তে জীবন পঞ্জিকা থেকে বিদায় নিলো ২০২১ সাল। সবাই এখন ২০২২ সালকে বরণ করছে। তবে বিদায় নেওয়া ২০২১ সালে পাওয়া না পাওয়ার হিসাব ইতোমধ্যে কষা শুরু হয়েছে। নানা কারণে ২০২১ সাল ছিল কানাইঘাটবাসীর কাছে আলোচিত-সমালোচিত। বছরের শুরুটা পৌর নির্বাচনের আমেজে বেশ ভালো কাটলেও মাঝামাঝি এবং শেষ সময়ে কখনও খুন, কখনও ধর্ষণ, কখনো আবার সড়ক দুর্ঘটনায় সংবাদের শিরোনাম হয়েছে এই উপজেলা ।

 

বিশেষ করে সীমান্তে বিএসএফ এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত,বিয়ের সেন্টারে জোড়া লাশ,নানার হাতে নাতি,চাচার হাতে প্রতিবন্ধী ভাতিজা হত্যাসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনা বছরজুড়ে শুধু কানাইঘাটে নয় পুরো দেশজুড়ে ছিল আলোচিত। ২০২১ সালের ঘটে যাওয়া আলোচিত-সমালোচিত কয়েকটি ঘটনা ‘কানাইঘাট নিউজ’ পাঠকের জন্য ক্রমানুসারে তুলে ধরা হলো-

 

নানাকে পাথর ছুড়ে হত্যা করে নাতি::
নানাকে পাথর ছুড়ে হত্যার ঘটনাটি উপজেলাজুড়ে ছিলো বেশ আলোচিত। গত ০৬ এপ্রিল মঙ্গলবার দিনগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের এরালিগুল গ্রামে  ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাতি আব্দুল কাদিরকে (৩২) তখন গ্রেফতার করে কানাইঘাট থানা পুলিশ।
জানা যায়, এরালিগুল খাছাড়িপাড়া গ্রামের মৃত মরতুজ আলীর ছেলে আব্দুল কাদির স্ত্রী নিয়ে তার আপন নানির দ্বিতীয় স্বামী আব্দুল মালিক উরফে মলিক মিয়ার (৭৩) বাড়িতে থাকত। একসময় নানা-নাতির মাঝে মনোমালিন্য দেখা দিলে নানা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে নাতি আব্দুল কাদির নানাকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়লে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মলিক মিয়ার।
এ ঘটনায় মলিক মিয়ার ছেলে আবুল কাসিম বাদী হয়ে আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

বিষপানে শিশুর মৃত্যু::
মাত্র ১০ বছরের শিশু নাবিলের বিষপানে মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও কম মাতামাতি হয়নি কানাইঘাটে । গত ৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের কেরকেরি গ্রামের মৃত হারিছ উদ্দিনের পুত্র নাবিল আহমদ রাত সাড়ে ১২ টার দিকে পরিবারের অগোচরে বিষপান করে।  পরে তার আতœচিৎকারে বাড়ির লোকজন উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসার পতিমধ্যে মৃত্যু হয় নাবিলের। নাবিল আহমদের স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন থেকে নাবিল মানসিক রোগে ভুগছিল।

ট্রাক চাপায় ২ যুবকের মৃত্যু::
গত ৩ মে সোমবার  জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত-কানাইঘাট সড়কের প্রবেশ মুখে একটি ওয়ার্কসপে ট্রাক চাপায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় কানাইঘাটের দুই যুবকের। তাদের মধ্যে একজন  কলেজ শিক্ষার্থী সুলতান আহমদ মিনহাজ (২৬) ও অপরজন আশিক উদ্দিন (২৫)। দুই যুবকের মৃত্যুতে পুরো উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল।
জানা যায়, সুলতান আহমদ মিনহাজ ও তার প্রতিবেশী বন্ধু আশিক উদ্দিন রাতে নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে দরবস্ত-কানাইঘাট সড়কের প্রবেশ মুখে অবস্থিত একটি ওয়ার্কসপে গাড়ীর কাজ করাচ্ছিলেন। রাত ১টার দিকে একটি ইট বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওয়ার্কসপে ঢুকে পড়লে ট্রাকের চাকায় পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় সুলতান আহমদ মিনহাজ, আশিক উদ্দিন ও ওয়ার্কসপ মালিক গোলাপগঞ্জ উপজেলার সুহেল আহমদের।
 

ট্রাক্টরচাপায় ভাই-বোনের মৃত্যু::
গত ১১ মে মঙ্গলবার ট্রাক্টর চাপায় নাইম ও মাইশা নামের আপন ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। উপজেলার দিঘীরপার ইউনিয়নের লন্তিরমাটি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তারা ঐ গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের ছেলে নাইম আহমদ (৮) ও মেয়ে মাইশা বেগম (৫) । দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ট্রাক্টরের চালক শরীফ উদ্দিন। জানা যায়, লন্তিরমাটি গ্রামের শরীফ উদ্দিন ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছিলেন। তার পাশে বসা ছিল শিশু নাইম ও মাইশা। ট্রাক্টরটি ঘুরানোর একপর্যায়ে উল্টে গিয়ে শিশু নাইম ও মাইশার উপরে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যায়।

 

প্রতিপক্ষের কিল ঘুষিতে মারা গেলেন বৃদ্ধ::
গত ১৬ মে রবিবার তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের কিল-ঘুষিতে আতাউর রহমান (৬০) নামের এক বৃদ্ধ মারা যান। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ওপর ঝিঙ্গাবাড়ী হরিসিংমাটি গ্রামে । এ ঘটনায় তখন তিনজনকে আটক করে থানা পুলিশ।
জানা যায়, আতাউর রহমান তার ভাতিজাকে নিয়ে বসতবাড়ির পাশে একটি খালে পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ করছিলেন। এসময় মিরমাটি গ্রামের কুদরত উল্লা ও তার ছেলে লিমন আহমদ, সুমনসহ পরিবারের লোকজন আতাউর রহমানকে পানি নিষ্কাশনের কাজে বাধা দেয়। দুপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কুদরতের পরিবারের সদস্যরা আতাউর রহমানকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান। পরে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


প্রতিবন্ধীকে ঘাড় কেটে হত্যা ::
গত ১৪ জুন সোমবার কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের একটি টিলার উপর থেকে রুহুল আমিন (২৫) নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধীর  ঘাড় কাটা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ রুহুল আমিনের আপন চাচা সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের মৃত ইছরাক আলীর পুত্র  সামছুল হক ও তার পুত্র ইমরান আহমদকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে।
স্থানীয়রা জানান, গত ১৩ জুন রবিবার রাতে প্রতিবন্ধী যুবক রুহুল আমিন তার চাচা সামছুল হকের বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরদিন সোমবার সকাল ৮টার দিকে সামছুল হক এলাকায় চাউর করেন ভাতিজা রুহুল আমিনকে খোঁজে পাচ্ছেন না তিনি। একপর্যায়ে সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি করে শারীরিক প্রতিবন্ধী রুহুল আমিনের ঘাড় কাটা রক্তাক্ত লাশ টিলার একপাশে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে  নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রুহুল আমিনের বড় বোন কুলসুমা বেগম তার আপন চাচা সামছুল হক ও তার পুত্র ইমরান আহমদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
 

অবৈধ বিদ্যুতের তার ছিড়ে প্রাণ গেলো কিশোরের :
অবৈধ বিদ্যুতের তার ছিড়ে নিচে পড়ে গিয়ে রাজু আহমদ (১১) নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। গত ২৩ জুন বুধবার উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের বড়খেওড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজু বড়খেওড় গ্রামের দরিদ্র আব্দুল জলিলের ছেলে ।
স্থানীয়রা জানান, বড়খেওড় গ্রামের আলমগীর হোসেন তার বাড়ির পাশের মসজিদ থেকে অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের তার টেনে বাড়ীতে অবস্থিত একটি দোকান ঘরসহ করাতকলে সংযোগ দিয়ে ব্যবহার করে আসছিলেন।
গত ২৩ জুন ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের লাইন মাটিতে ছিড়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাজু তার একটি গরু আনতে গেলে বিদ্যুতের ছেড়া লাইনে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়।

দা হাতে যুবতী দেশজুড়ে ভাইরাল :
গত ৯ জুলাই শুক্রবার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বসতবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দা হাতে ভাইরাল হন কানাইঘাটের দুই তরুণী। প্রতিপক্ষের ঘরে হামলা-ভাঙচুর চালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। ঘটনাটি কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ পূর্র্ব ইউনিয়নের কাড়াবাল্লা গ্রামের।
জানা যায়, কাড়াবাল্লা গ্রামের মইন উদ্দিন লুকু ও সালেহা বেগম সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই-বোন। দীর্ঘদিন থেকে তাদের মধ্যে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধপূর্ণ জায়গায় একটি টিনের ঘর নির্মাণ করছিলেন মইন উদ্দিন লুকু। প্রতিপক্ষ সালেহা বেগম ও সন্তানেরা  মিলে দা, বাঁশ দিয়ে লুকুর টিনের ঘরে হামলা করে ভাঙচুর করেন। এসময় ওই জায়গার বিভিন্ন ধরনের গাছ-পালাও কেটে ফেলেন তারা। এ ঘটনায় মইন উদ্দিন বাদি হয়ে থানায় মামলা করলে পুলিশ ৫ জন তখন কে গ্রেফতার করে।

প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণ ঃঃ
গত ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেল ২ টার দিকে টিউশনি করে বাড়ি ফেরার পথে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ধর্ষিত হয়। জানা যায়, সদর ইউনিয়নের জন্তিপুর গ্রামের মৃত মুরাকিব আলীর পুত্র রিয়াজ উদ্দিন একই গ্রামের মৃত কবির উদ্দিনের পুত্র সুহেল আহমদ (২৫) ও রাধানগর গ্রামের ইয়ারীছ আলীর পুত্র ফয়ছল আহমদ (২০) ও সিদ্দিক আলীর পুত্র গিয়াস আহমদ (২৭), জন্তিপুর গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের বাড়িতে বসবাসরত তার ভাগ্না সুহেল উদ্দিন বসত ঘরে প্রবেশ করে শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুহেল আহমদ ও ফয়ছল আহমদকে গ্রেফতার করে।

বীমা কর্মীকে চলন্ত সিএনজিতে ধর্ষণ চেষ্টা::
গত ১৮ জুলাই রবিবার এক বীমা নারীকর্মীকে জোরপূর্বক ভাবে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দুই অটোরিকশা চালককে আটক করে জনতা। আটককৃতরা কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের বাখাইরপাড় গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র অটোরিকশা চালক দুদু মিয়া (২৫) ও একই গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের পুত্র সিএনজি চালক বশর (২১)। পরে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার থেকে জনতার হাতে আটক অবস্থায় র‌্যাব-৯ গ্রেফতার করে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এবং ধর্ষনের হাত থেকে রক্ষা পেতে সিএনজি থেকে লাফ দিয়ে পড়ে গুরুতর আহত মেয়েটিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

খাল থেকে মহিলার লাশ উদ্ধার ::
গত ২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার কানাইঘাটের আমরি নামক খাল থেকে সিমন বালা দাস (৪৫) নামে মহিলার লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। সিমন বালা দাস কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের নিপু রাম দাসের স্ত্রী। স্থানীয়রা জানান, কানাইঘাট লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের নিপু রাম দাসের স্ত্রীর সিমন বালা দাস (৪৫) গত ১ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিমন বালা দাসের পুত্র দিপক রাম দাস স্থানীয় আমরি খালের মধুখাল নামক স্থানে তার মায়ের পোষাক, জুতা, ছাতা পড়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে আমরি খালে ব্যাপক তল্লাশী চালিয়ে সিমন বালা দাসের লাশ ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মাছ ধরা নিয়ে হামলায় বৃদ্ধ নিহত::
গত ৫ সেপ্টেম্বর রবিবার খাল থেকে মাছ ধরা নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় আলকাছ পীর (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। জানা যায়, উপজেলার ৭নং দক্ষিণ বানীগ্রাম ইউনিয়নের লামা দলইকান্দি গ্রামের মৃত আবু বক্করের ছেলে আলকাছ পীর তার বাড়ীর উত্তর পাশে অবস্থিত খাল থেকে মাছ ধরতে গেলে একই গ্রামের ফয়জুল হকের ছেলে নাঈম ও তার চাচাতো ভাই রেজাউল বাধা প্রদান করলে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাঈম রাস্তার বেড়া থেকে একটি বাঁশের খুটি নিয়ে আলকাছ পীরের মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

তিন মাসে একাধিক আত্মহত্যা:
গত সেপ্টেম্বর,অক্টোবর  এবং নভেম্বর মাসে কানাইঘাটে একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ১২ বছরের কিশোরসহ সব বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যা বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে তরুণ-তরুণীদের সংখ্যা বেশি ছিল ।
 

প্রবাসীর মাকে যৌন হেনস্তা করে ভিডিও ইন্টারনেটে::
প্রবাসী দুই সন্তানের কাছে চাঁদা দাবি করে না পেয়ে তাদের মাকে যৌন হেনস্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি পুরো সিলেটজুড়ে ছিল বেশ আলোচিত।
গত ২৩ আগস্ট সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার আগতালুক গ্রামে নিজগৃহে হেনস্থার শিকার হন ওই নারী। ৬ মিনিট ১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ওই নারীকে যুবকের হাতে ধরে কাকুতি-মিনতি করতে দেখা যায়।
জানা যায় ঘটনাটি গত ২৩ আগস্ট ঘটলেও তার এলাকার পঞ্চায়েত নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে সালিশে সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা পুলিশের নজরে আসে। রাতে ওই নারীকে থানায় নিয়ে এসে মামলা করানো হয়। পরে পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত কানাইঘাট উপজেলার আগতালুক গ্রামের বরকত উল্লাহর ছেলে আব্দুল্লাহ ও একই গ্রামের রফিক আহমদের ছেলে সায়েদ উল্লাহ ও আব্দুল জব্বার(২৭) কে গ্রেফতার করে।

 

বিদ্যুৎপৃষ্টে দাদা নাতির মৃত্যু::
গত ৪ অক্টোবর সোমবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের নিজ চাউরা পূর্ব গ্রামে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে হয়ে দাদা ও নাতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। মৃতরা হলেন- নিজ চাউরা গ্রামের মাওলানা ফখরউদ্দিন (৭০) ও তার নাতি আরিফুল ইসলাম (৮)। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। জানা যায়,মাওলানা ফখর উদ্দিনের বাড়ির পাশে পল্লী বিদ্যুতের একটি লাইন ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। এলাকাবাসী ও মাওলানা ফখরউদ্দিন নিজে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে ফোন করে তার ছিঁড়ার বিষয়টি জানান। এরপরও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। মাওলানা ফখর উদ্দিনের নাতি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আরিফুল ইসলাম বাড়ি ফেরার পথে বিদ্যুতের ওই ছেঁড়া তারে জড়িয়ে পড়ে। নাতিকে এ অবস্থায় দেখে ফখর উদ্দিন বাঁচাতে গেলে উভয়ই বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যান।

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী নিহত::
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ভারত সীমান্তে দুই বাংলাদেশী নিহতের ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ দুই দিন পড়ে থাকার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।
গত ৩ নভেম্বর বুধবার বেলা ১১টার দিকে কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তের ভারত সীমান্ত অংশে অবস্থানকালে বিএসএফের গুলিতে মারা যান কানাইঘাটের লক্ষীপ্রসাদ এরালিগুল গ্রামের আসকর আলী ওরফে আছই (২৫) ও আরিফ মিয়া (২২)। নিহত দুজনের লাশ সীমান্তের ১৩৩১ নম্বর মেইন পিলারের পাশে একটি নালার পাশে পড়ে ছিল।
নিহত দুজনের লাশ উদ্ধার করতে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে কয়েক দফা পতাকা বৈঠক হয়। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ হত্যার দায় স্বীকার না করায় বিষয়টি অমীমাংসিত ছিল। পরে দু’দিন পর দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠকে শেষে লাশ দুটি বিজিবির পক্ষ থেকে বুঝে নেওয়া হয়।

ফারুক হত্যাকান্ডের আসামির মৃত্যুদন্ড::
কানাইঘাটে আলোচিত ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় ফখরুল ইসলাম (৪৮) নামে এক আসামির মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৭ নভেম্বর বুধবার সিলেট জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো.ইব্রাহিম মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিকে মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি আরও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারদন্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এ মামলায় জামিনে থাকা আরেক আসামি আব্দুস সাত্তারকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ফখরুল ইসলাম সিলেটের কানাইঘাট আগফৌদ পূর্ব গ্রামের মৃত জুয়াহির আলীর ছেলে। এছাড়া খালাস পাওয়া আব্দুস সাত্তার একই গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে।
২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টায় ভ‚মির নিষ্পত্তি করতে আসামিদের বাড়ির পাশে সুরই নদীর ডাইকে সালিশে যান ফারুক আহমদ। সালিশ চলাকালে সাক্ষী ফরিদ আহমদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় ফখরুল কোমর থেকে ছুরি বের করে ফরিদকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। তাকে আটকাতে চেষ্টা করেন ফারুক আহমদ। কিন্তু ফখরুল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সালিশ ব্যক্তিত্ব ফারুক আহমদের গলায় উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করেন।
উপস্থিত লোকজন ঘাতক ফখরুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও অপর আসামিরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মুহিবুর রহমান বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় ২/৩ জনকে আসামি করে কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কানাইঘাট থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) স্বপন চন্দ্র ওই বছরের ২১ অক্টোবর ২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (নং ১৫৬) দাখিল করেন আদালতে। মামলাটি আদালতে বিচারের জন্য পাঠালে দায়রা-৯৫৫/১৯ মূলে রেকর্ডের পর চার্জ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়ায় ২১ সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ও অ্যাডভোকেট রণজিৎ সরকার এবং বাদী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম।

 

প্রেমিককে হত্যা, দুজনের মৃত্যুদন্ড::
কানাইঘাটের বহুল আলোচিত  ইমরান হোসেন (২৫) নামের এক যুবককে হত্যার দায়ে দুজনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের বিনাশ্রম কারদন্ড প্রদান করা হয়। অভিযোগ সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বিচারক। গত ২৪ নভেম্বর বুধবার বিকেলে সিলেট জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. ইব্রাহম মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কানাইঘাট উপজেলার দুর্গাপুর দক্ষিণ নয়াগ্রামের সৌদিপ্রবাসী বদরুল ইসলামের স্ত্রী সুহাদা বেগম (২৫) ও সুহাদার প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয় জাহাঙ্গীর আলম (২৬)। এছাড়া অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সুহাদার ভাই ইমরান আহমদ (৩৩) ও দেবর মাসুম আহমদ (৩৫)।
জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন কানাইঘাট পৌর শহরে দর্জি ইমরান আহমদ। পৌর শহরের সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা ইমরানকে কথিত প্রেমিকা সুহাদার শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে নিখোঁজ হন ইমরান আহমদ। নিখোঁজের দুই দিন পরও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ইমরান আহমদের বাবা আবু বক্কর কানাইঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের চারদিন পর আবু বক্কর ২৩ সেপ্টেম্বর কানাইঘাট থানায় সুহাদা বেগম ও তার ভাই ইমরান আহমদ, দেবর মাসুম আহমদ ও লক্ষীপ্রসাদ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার পরই পুলিশ সুহাদা বেগম ও জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করে। পরবর্তী সময়ে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে সুহাদার শ্বশুরবাড়ির পুকুর থেকে ইমরান হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর হত্যাকান্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন কথিত প্রেমিকা সুহাদা।

 

বিয়ের সেন্টারে জোড়া লাশ ::
বছরের শেষে ডিসেম্বর মাসের শুরতেই বিয়ের সেন্টার থেকে জোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনা পুরো সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গত ১ ডিসেম্বর বুধবার সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী বাজারস্থ আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের একটি কক্ষ থেকে এক মহিলা ও এক পুরুষ বাবুর্চির লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত বাবুর্চিরা হলেন- কানাইঘাট উপজেলার নয়াগ্রামের মৃত রহমত উল্লাহ’র ছেলে সুহেল আহমদ (২৮) ও ওসমানীনগর উপজেলার তাহিরপুর গ্রামের মৃত আক্কাছ আলীর মেয়ে সালমা বেগম (৪০) এবং অসুস্থ বাবুর্চি হলেন কানাইঘাট উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রামের নাজিম উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রান্না শেষে রাত ৩টার দিকে তারা কমিউনিটি সেন্টারের ২য় তলার একটি ছোট কক্ষে শুয়ে পড়েন। পরদিন সকাল ৭টার দিকে ঘুম থেকে এ ৩জন না উঠলে বিয়ের আয়োজনকারী জসিম উদ্দিন তাদের ডাকতে গিয়ে  দেখতে পান- বাবুর্চি সুহেল আহমদ, নাজমা বেগম ও নাজিম এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এবং কক্ষের ভেতর ধোয়ায় আচ্ছন্ন। এসময় এ তিনজনকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ সুহেল ও সালমা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাজিম উদ্দিনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
একসঙ্গে এই দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় নানা কথা উঠলেও পুলিশের ধারণা ছোট বদ্ধ কক্ষে প্রচুর ধোয়ায় অক্সিজেনের অভাবে দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।


এছাড়াও বছরের শেষের দিকে ডিসেম্বর মাসে পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পুরো উপজেলা এখন নির্বাচনের আলাপ-আলোচনায় মুখরিত।