সিলেটসহ সারাদেশে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি

Kanaighat News on Wednesday, May 4, 2016 | 11:18 PM


সিলেট, বুধবার, ০৪ মে ২০১৬ :: অবিলম্বে সিলেটসহ সারাদেশে গ্যাস সংযোগ চালু করার দাবি জানানো হয়েছে। গ্যাস সংযোগ বন্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন, সিলেট’র উদ্যোগে বুধবার বিকাল ৫টায় শহরতলীর শাহপরানে ও বিকাল সাড়ে ৫টায় টিলাগড় পয়েন্টে পৃথক সভায় এ দাবি জানানো হয়। গ্যাস সংযোগ বন্ধ প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা এডভোকেট মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক বাসদ জেলা সমন্বয়ক আবু জাফরের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি আবুল হোসেন, গণতন্ত্রী পার্টির জেলা সহ-সভাপতি বিপুল বিহারী দে, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সুমন, গনতন্ত্রী পাটির্র জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক গুলজার আহমদ, বাসদ জেলা নেতা জুবায়ের আহমদ সুমন, শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহজান আহমদ, বাসদ জেলা নেতা প্রণব জ্যোতি পাল , গনতন্ত্রী পাটির্র জেলা সমাজসেবা সম্পাদক আজিজুর রহমান খোকন, জালালাবাদ গ্যাস কন্ট্রাকটর ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন চঞ্চু লেন্দু দাস চঞ্চল, মন্জু লাল রায় প্রমূখ। সভায় বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদের মালিক দেশের জনগণ। কিন্তুবিভিন্ন মিথ্যা-ভূয়া, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে লুটপাঠের উদ্দেশ্যে এবারও গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বক্তারা গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে জনস্বার্থ বিবেচনা করে পূর্বের ন্যায় গ্যাস সংযোগ প্রদানের আহ্বান জানান। বক্তারা আরো বলেন, গ্যাস সংযোগ বন্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন দীর্ঘদিন থেকে সিলেটসহ সারাদেশে গ্যাস সংযোগের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে নানা কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু এরপরও সংশ্লিষ্টরা পুনরায় গ্যাস সংযোগ চালুর জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি। তাই গ্যাস সংযোগ বন্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন সিলেটের উদ্যোগে আগামি ৪ মে থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সিলেট শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন গুরুত্তপূর্ণ পয়েন্টে পথ সভা-সমাবেশ এবং আগামি ২১ মে সিলেট র্কোট পয়েন্টে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

বড়লেখার এক শিক্ষক দিয়ে ৫শ’ শিক্ষার্থীর পাঠদান


বড়লেখা প্রতিনিধি (মৌলভীবাজার) সিলেট, বুধবার, ০৪ মে ২০১৬ :: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বোবারথল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। দুই মাস ধরে ৫শ’ শিক্ষার্থীর পাঠদানের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক! দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে স্বাভাবিক শ্রেণী কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্কুল বিমূখ হয়ে পড়েছে। সূত্রমতে উপজেলায় এমনও স্কুল রয়েছে, যেখানে ছাত্র সংখ্যা ১শ’র নিচে অথচ শিক্ষক সংখ্যা পাঁচের অধিক। সেসব স্কুল থেকে ডেপুটেশনে শিক্ষক পদায়ন করে এ স্কুলের পাঠদান চালিয়ে নেয়া সম্ভব বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন। কিন্তু সেদিকে শিক্ষা অফিসের যথাযত নজর না দেয়ায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ-অসন্তোষ বিরাজ করছে। জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপির বোবারথল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যাটার্ণভুক্ত ৯ জন শিক্ষকের স্থলে বছরের পর বছর ৩ শিক্ষক দিয়ে শ্রেণী কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এক বছর আগে তিন শিক্ষকের একজন নিজ জেলায় বদলি হলে শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। গত ৭ মার্চ বাকী দুই শিক্ষকের এক শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিনও নিজ জেলা নেত্রকোনায় বদলী হলে প্রধান শিক্ষক আব্দুস শাকুর খানকে একাই ৯ শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সরেজমিনে গেলে প্রধান শিক্ষক আব্দুস শাকুর খান জানান, স্কুলের ৫শ’ শিক্ষার্থীকে তিনি একাই পড়ান। উপজেলা সদর হতে ২২ কিলোমিটার দুরবর্তী এ স্কুল থেকে সপ্তাহে ২দিন সমন্বয় সভাসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের কাজে তাকে শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। কোন শিক্ষকও না থাকায় বাধ্য হয়ে তখন স্কুল ছুটি দিতে হয়। এছাড়া সকালের শিফটের প্রাক-প্রাথমিকসহ তিনটি ক্লাস রয়েছে। এক ক্লাসে গেলে ফাঁকা দুই ক্লাসের শিক্ষার্থীর হাল¬া চিৎকারে পাঠদানতো দুরের কথা তাদের নিয়ন্ত্রণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় শিফটেও তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর তিনটি ক্লাসের একটিতে গেলে অপর দুই ক্লাসের শিক্ষার্থীরা পাগল করে তোলে। ঠিকমত ক্লাস না হওয়ায় ক্রমশ শিক্ষার্থীরা স্কুল বিমূখ হচ্ছে। সচেতন মহলের বক্তব্য হলো বোবারথল এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে যতক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বোবারথল প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক সংকট নিরসন সম্ভব হবে না। কারণ দুরবর্তী কোন শিক্ষক সেখানে যাওয়া আসা করে পাঠদান সম্ভব নয়। সূত্র জানায়, বোবারথল এলাকা থেকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার মত যোগ্যতা সম্পন্ন অনেক নারী-পুরুষ রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাদের চাকরি হয় না। এ ব্যাপারে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার অরবিন্দ কর্মকার জানান, বোবরথল স্কুলে শিক্ষক সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

পেনশন সহজ করে নতুন আদেশ জারি


ঢাকা: পেনশন নিয়ে স্বস্তি ফেরানোর আদেশ জারি করেছে অর্থ বিভাগ। এই আদেশ অনুযায়ী, অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পেনশন আবেদনের জন্য নানা দপ্তরে ঘুরে আর ‘না দাবি’ সংগ্রহ করতে হবে না। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী পেনশনের জন্য আবেদন করলে তার এক মাসের মধ্যে পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ ওই সব ‘না দাবি’ বা অনাপত্তিপত্র জোগাড় করে পেনশন দেবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মো. শাহজাহানের সই করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ পেনশন আবেদন প্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে না-দাবি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করিতে ব্যর্থ হইলে আবেদনকারীর কাছে কোনো দাবি নাই ধরিয়া তাহার পেনশন কেইস নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করিতে হইবে।’ একই সঙ্গে পেনশনের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর এক মাসের মধ্যে পেনশনের চেক হাতে পাবেন পেনশনাররা। এত দিন পেনশনারকে সশরীরে গিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে অনাপত্তিপত্র জোগাড় করতে হতো। এসব অনাপত্তিপত্র জোগাড় করতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বছর খানেক সময়ও লেগে যেত। বর্তমানে পিআরএলে যাওয়ার পর লাম্পগ্র্যান্ট বা ছুটি নগদায়ন মঞ্জুরি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ভবিষ্য তহবিলের অর্থ পান সরকারি চাকরিজীবীরা। নতুন আদেশে লাম্পগ্র্যান্ট ও ভবিষ্য তহবিলের চেক পিআরএলে যাওয়ার এক মাস আগেই কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য চাকরিজীবীকে একটি বিল দাখিল করতে হবে। তা পাওয়ার পর প্রাপ্য ছুটির (সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ) নগদায়নের অর্থ এবং সর্বমোট ভবিষ্য তহবিলের স্থিতি হিসাবরক্ষণ অফিস সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর পিআরএলে যাওয়ার দুই মাস আগে অগ্রিম তারিখের চেকের মাধ্যমে তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা অফিস প্রধানের কাছে পাঠাবে। নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা অফিস প্রধান পিআরএলে যাওয়ার এক মাস আগে ওই চেক চাকরিজীবীকে হস্তান্তর করবেন। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের নিজস্ব ভবিষ্য তহবিলে জমা অর্থের ওপর সুদ বা ইনক্রিমেন্ট দেয় সরকার। তবে অনেক চাকরিজীবী এর কোনোটিই গ্রহণ করতে রাজি হন না। তাদের জন্য সুদ বা ইনক্রিমেন্টের বদলে সরকার তাদের চাঁদা বা অনুদান দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০০৯ এ পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন ও সংযোজন’ শিরোনামে জারি করা পরিপত্রে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ও ন্যূনতম পাঁচ বছর চাকরি করা ব্যক্তিদের পেনশন চালু করার ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে, রাজস্ব খাতে স্থায়ী শূন্য পদের বিপরীতে অস্থায়ীভাবে নিয়োজিত এবং ন্যূনতম পাঁচ বছর চাকরি করেছেন এমন কর্মচারীদের পেনশনপ্রাপ্তির জন্য বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস সংশোধন করা হবে।

খালেদা জিয়ার নতুন কৌশল গুপ্তহত্যা: ইনু


ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জোটই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদের সভাপাতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশের মানুষকে ৯২ দিন পেট্রলবোমায় পুড়িয়ে এখন গুপ্তহত্যার নতুন কৌশল বেছে নিয়েছেন খালেদা।” আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের (এমএল) ‘মার্কসবাদ, লেনিনবাদ, মাও সে তুং চিন্তাধারার বিশ্বাসী নেতাকর্মীদের দলে যোগদান’ উপলক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, “যত দিন পর্যন্ত খালেদা জামায়াতের সঙ্গে থাকবেন, তত দিন দেশে সব জঙ্গি হামলার জন্য খালেদাকে আমি আমার সন্দেহের তালিকায় রাখব। কারণ জামায়াত হচ্ছে জঙ্গি তৈরির কারখানা।” ‘জঙ্গিবাদ ও খালেদা জিয়া আলাদা কিছু নয়’ বলে উল্লেখ করে জাসদের সভাপতি বলেন, “এই খালেদাকেই খুঁটি বানিয়ে জঙ্গিরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এদের ধ্বংস করাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্তব্য।” বিএনপির সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “ব্লগার হত্যাসহ সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া সব হত্যাকাণ্ডে খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপির ভূমিকা ন্যক্কারজনক।” এ সময় তিনি দেশের সব বাম দলকে শেখ হাসিনার ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড দিলীপ বড়ুয়া।

ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ হাস্যকর


ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপিকে কোণঠাসা করতে এই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ব্যাংকক থেকে চিকিৎসা শেষে বুধবার বিকালে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এসময় কুমিল্লায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফখরুল বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশে এই মামলা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সফলে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। একই ফ্লাইটে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়ে ব্যাংকক গিয়েছিলেন।

ছিটমহলবাসীর মধ্যে ভোটের আনন্দ

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে প্রথমবার ভোট দেবেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মশালডাঙ্গা গ্রামের ১০৩ বছর বয়সী আজগর আলি। মশালডাঙ্গা কোচবিহার জেলায় যুক্ত হওয়া এক সাবেক বাংলাদেশি ছিটমহল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী আজগর আলিই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সবথেকে বেশি বয়সের ভোটার। আজগর আলির পরিবারের তিন প্রজন্ম একসঙ্গেই সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র পেয়েছেন কদিন আগে। একই সঙ্গে ভোট দেবেন সাবেক ছিটমহলগুলোর প্রায় দশ হাজার মানুষ। নাগরিকত্বহীন অবস্থায় সাড়ে ছয় দশক কাটানো পরে এবারই প্রথম নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন তাঁরা। আরেকটা সাবেক ছিটমহল পোয়াতুরকুঠির বাসিন্দা মনসুর মিঞাঁর বয়স ৭৬ বছর। জন্মের পর থেকে ভারত, পূর্ব পাকিস্তান, শেষমেশ বাংলাদেশের ভূখন্ডে থাকতেন। কিন্তু সাড়ে ছয় দশক কোনও দেশের নাগরিকত্বের কোনও অধিকারই পান নি তিনি – ছিটমহলগুলোর অন্যান্য মানুষের মতো। কদিন আগে প্রথমবার হাতে পেয়েছেন নাগরিকত্বের প্রমাণ – ভারতের ভোটার কার্ড। “বাপ-দাদারা যা পায় নি, সেই নাগরিকত্বের প্রমাণই এবার হাতে পেলাম ৬৭-৬৮ বছর পরে। গর্ব হচ্ছে এই ভোটার কার্ড পেয়ে,” বলছিলেন মনসুর মিঞাঁ। প্রথমবার নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ – সচিত্র ভোটার কার্ড হাতে পেয়েছেন সাবেক ছিটমহলগুলোর ৯৭৭৬ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন ৫৭৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক – যারা বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতীয় ছিটমহলগুলি থেকে চলে এসেছেন মূল ভূখন্ডে, এখন তাদের রাখা হয়েছে কয়েকটা অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরে। দিনহাটা শহরে এরকমই একটা আশ্রয় শিবিরে রয়েছেন সাবেক ভারতীয় ছিটমহল দাশিয়াড়ছড়া আর ছোটগারালঝোরা থেকে ভারতে চলে আসা ভারতীয় নাগরিকেরা। দাশিয়ারছড়া থেকে ভারতে এসেছেন আশি বছর বয়সী ধীরেন্দ্র বর্মন। এই প্রথম ভোট দিতে যাবেন তিনি। তবে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা সাবেক বাংলাদেশি ছিটমহলগুলোর অনেক বাসিন্দাই আগে একবার ভোট দিয়েছেন। ১৯৭৮ -৭৯ সাল নাগাদ বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সেদেশ থেকে ভারতের মধ্যে দিয়ে ছিটমহলে ভোট করাতে এসেছিলেন আধিকারিকেরা। বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাবেক বাংলাদেশি ছিটমহলের অনেকে আবার ভারতের নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। রাজনৈতিক নেতাদের টাকা দিয়ে ভুয়া ভোটার কার্ড তৈরি করতে বাধ্য হয়েছিলেন এরা। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কথা বলতে রাজি হয়েছিলেন এরকমই কয়েকজন সাবেক ছিটমহলবাসী। তারা বলছিলেন, “ছিটের বাইরে গেলেই পুলিশ আর বিএসএফ হেনস্থা করত। তাই বাধ্য হয়েই বাপ-মায়ের পরিচয় লুকিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতের ভোটার কার্ড বানিয়েছিলাম। ভোটও দিয়েছি একবার। হাজার দশেক টাকা লেগেছিল কার্ড বার করতে। তবে এখন বৈধ ভোটার কার্ড পেয়ে গেছি সবাই।“ গ্রামের মানুষ যখন ৫ মে দল বেঁধে ভোট দিতে যাবেন, তাদের সঙ্গে ভোট দিতে যাওয়া হবে না মশালডাঙার তালেব আলির মতো সাবেক ছিটমহলগুলোর প্রায় শ তিনেক মানুষের। ভোটার তালিকায় নামই ওঠে নি এদের। তালেব আলির মতোই অবস্থা মশালডাঙার আরও দশটি পরিবারের – তাদেরও নাম ওঠে নি ভোটার তালিকায়। আবার পোয়াতুরকুঠিতে বহু সাবেক ছিটমহলবাসীর ভোটার পরিচয় পত্র ভুলে ভর্তি। কোথাও বাবার নামের জায়গায় স্বামীর নাম লেখা, কারও আবার নামটাই ভুল লেখা। প্রশাসন অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে ভুলত্রুটিগুলো পরে সংশোধন করে দেওয়া হবে, এবারে এই ভোটার কার্ড নিয়েই প্রথমবার ভোট দিতে পারবেন সাবেক ছিটমহলের মানুষ। প্রথমবার ভোট এদের , তাই আশ্বস্ত করার পাশাপাশি নির্বাচনী আধিকারিকরা নকল ভোটিং যন্ত্র নিয়ে গিয়ে সাবেক ছিটমহল বা অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরের সবাইকে প্রশিক্ষণও দিয়েছেন যে কীভাবে ভোট দিতে হবে। প্রশাসনের আধিকারিকেরা যেমন বারে বারে ভোটের কাজে যাচ্ছেন সদ্য ভারতে যুক্ত হওয়া সাবেক ছিটমহলগুলোতে, তেমনই যাচ্ছেন রাজনৈতিক নেতা, প্রার্থীরাও – ভোট চাইতে। “ভোট তো চাইতে আসছে সবাই, কিন্তু নয় মাস হয়ে গেল এখনও তো কোনও কাজই শুরু করল না ভারত সরকার। এখনও বিদ্যুৎ আসে নি, রাস্তা হয় নি, স্কুল হয় নি, জমির মালিকানা কী হবে সেটা জানি না!” ক্ষোভ কয়েকজন গ্রামবাসীর। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেই সাবেক ছিটমহল এলাকাগুলোতে ঢুকে পড়েছে রাজনীতিও। ছিটমহল বিনিময়ের দাবিতে সবাই যেমন আগে জোটবদ্ধ ছিলেন, সেই ঐক্যে চিড় ধরতে শুরু করেছে একটু একটু করে। কেউ ঝুঁকেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে, তো কেউ বামপন্থীদের দিকে – ঠিক যেমন দলাদলি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য গ্রামগুলোতেও।

কানাইঘাট থানায় পিকআপ দিলেন প্রবাসী এম এ শাকুর সিদ্দিকী


নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাজ্য প্রবাসী কানাইঘাট উপজেলার এম এ শাকুর সিদ্দিকী কানাইঘাট থানা পুলিশের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে একটি পিকআপ দিয়েছেন। বুধবার সকালে দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে সিলেট রেঞ্জের পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক-ডিআইজি মো মিজানুর রহমানের কাছে পিকআপটি হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা ও আরআরএফ সিলেটের কমান্ডেন্ট মাহমুদুর রহমানের উপস্থিতিতে এম এ শাকুর সিদ্দিকীর পক্ষে দৈনিক উত্তর পূর্বের প্রধান সম্পাদক আজিজ আহমদ সেলিম ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজিত চৌধুরী পিকআপটির চাবি ডিআইজির হাতে তুলে দেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুুপার (উত্তর) নয়মুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুজ্ঞান চাকমা, কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, বাংলা মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আল-আজাদ, কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ হান্নান, মোহনা টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান মুজিবুর রহমান ডালিম, ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল মালিক ছোটন, এপেক্সিয়ান জসিম উদ্দিন, দৈনিক উত্তরপূর্বের কানাইঘাট প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : শাপলা পয়েন্ট,কানাইঘাট পশ্চিম বাজার,কানাইঘাট,সিলেট।+৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩