কবি সওয়ার ফারুকী একজন আপাদমস্তক আধ্যাত্মিক কবি: ভাষাসৈনিক মাসউদ খান

Written By Kanaighat News on Monday, April 27, 2015 | 10:53 PM

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:
ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেছেন, কবি সওয়ার ফারুকী একজন আপাদমস্তক আধ্যাত্মিক কবি। আধ্যাতিকতার মূল সুর তার কবিতায় বেজে ওঠে। তার পূর্ব পুরুষ ছিলেন শক্তিমান ও কালোত্তীর্ন কবি। উত্তরাধিকার সূত্রে তার রক্তে তিনি বহন করছেন আধ্যাত্মিকতা। আমরা যে ধরনের কবিতা প্রত্যাশা করি সে ধরনের কবিতা তিনি লিখেছ্নে। ‘একটি শব্দের জন্য’ কাব্যগ্রন্থটি একটি সময়পযোগী গ্রন্থ। এজন্য তাকে এসময়ের অন্যতম কবি বলা যায়। কৈতর সিলেট-এর উদ্যোগে কবি সরওয়ার ফারুকীর কাব্যগ্রন্থ ‘একটি শব্দের জন্য’-র প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। শনিবার নগরীর দরগাহ গেইটস্থ দেশের প্রাচীনতম সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে এ প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবীন শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আশির দশকের শক্তিমান কবি মুকুল চৌধুরী। কৈতর প্রকাশন, সিলেটের গল্পকার সেলিম আউয়ালের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সাহিত্য সম্পাদক আইনজীবি কবি আব্দুল মুকিত অপি। গীতিকার কবি সাইয়িদ শাহীন ও কবি মামুন হোসেন বিলালের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবীন শিক্ষাবিদ লে. কর্নেল (অব:) সৈয়দ আলী আহমদ, রাগিব রাবেয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. এম এ জলিল, মাসিক বিশ্ববাংলা সম্পাদক কবি মুহিত চৌধুরী, নগর সম্পাদক কবি সৈয়দ মবনু, কবি বেলাল আহমদ চৌধুরী, প্রভাষক কবি নাজমুল আনসারী, আইনজীবি আব্দুস সাদেক লিপন, প্রভাষক কবি মামুন সুলতান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আব্দুর রহিম, অধ্যক্ষ কবি বাছিত ইবনে হাবীব প্রমুখ। কবি আব্দুল কাদির জীবনের পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন, কবি তাজুল ইসলাম, কবি উম্মে সুমাইয়া তাজবিন নীলা, কবি মিনহাজ ফয়সল, কবি আমিনা শহীদ চৌধুরী মান্না, কবি নাইমা চৌধুরী, কবি জান্নাতুল শুভ্রা মনি, কবি তাসলিমা খানম বীথি, কবি আলমগীর হোসেন, মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে কবি মুকুল চৌধুরী বলেন, কবি সওয়ার ফারুকীর একজন মুগ্ধ পাঠক হলাম আমি। চর্যাপদ থেকে শুরু করে বাংলা কবিতার যে ঐতিহ্য রয়েছে সে ঐতিহ্যের একজন ধারক হচ্ছেন এই কবি। তার কবিতার ভাষা অনেক সহজ ও সরল। মনের সুন্দর অনুভুতি দিয়ে তিনি তার কবিতাকে রাঙ্গিয়ে তোলেন। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ বলেন, সিলেটের একজন আলোকিত কবি হলেন সওয়ার ফারুকী। ইদানিং আমার পড়া আধুনিক কবিতার বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় বইগুলোর মধ্যে তার কবিতার বই অন্যতম। তার কবিতায় রুহের যে ক্রন্দন রয়েছে তা শুনা যায়। তার কবিতার মধ্যে আধ্যাত্মিকতার পতাকা উড়ে। শিক্ষাবিদ লে. কর্নেল (অব:) সৈয়দ আলী আহমদ বলেন, একজন কবি সারাজীবন অনেক কষ্ট সাধনা করে ‘একটি শব্দের জন্য’ কবিতা লিখেন। এই কাব্যগ্রন্থে প্রচুর পরিমান আবেগ ও ভাবের গভীরতা রয়েছে। তার মাঝে নজরুলের মতো বিদ্রোহী কন্ঠ রয়েছে। এভাবেই কবি পাঠকদের আরো চমৎকার কবিতা উপহার দেবেন। কবি মুহিত চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত সুন্দর ধর্মীয় মূল্যবোধ লালন করেন কবি সওয়ার ফারুকী। আরবি ও ফার্সি ভাষার চমৎকার ব্যবহারে তিনি পুরনো ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। কবির কবিতায় মানবতার কথা যেমনি এসেছে ঠিক তেমনি চলমান রাজনৈতিক অস্থীরতার কথাও চমৎকারভাবে এসেছে। তিনি একজন প্রতিক্রিয়াশীল কবি। এই প্রতিক্রিয়া শব্দটাকে যারা খারাপ চোখে দেখেন আমি তাদের দলে নই। মানবতার কষ্ট দেখে যে কবির মন কাঁদেনা সে কবি একজন পরগাছা কবি। কবির অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কবি বলেন, আমার বইটি পাঠক পড়ে যদি উপকৃত হন তবেই লেখা স্বার্থক হবে। আমি চেষ্টা করেছি পাঠককে ভালো কিছু উপহার দিতে। আমাকে যারা বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। স্বাগত বক্তব্যে গল্পকার সেলিম আউয়াল বলেন, কবি সরওয়ার ফারুকী একজন ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান। তার পিতামহ ইব্রাহীম তসনা ফার্সি ভাষায় কাব্যচর্চা করেছেন। প্রবাসের এই যান্ত্রিক জীবনে থেকেও কবি তার সাহিত্যসাধনা অব্যাহত রেখেছেন। এভাবে সাহিত্যসাধনা অব্যাহত রাখলে বাংলা সাহিত্য উপকৃত হবে। কবি মামুন সুলতান বলেন, কবির এই কাব্যগ্রন্থের মোট ৮২টি কবিতা যেন একজায়গায় বসেই পড়ে ফেলা যায়। তার কবিতার মধ্যে চমৎকার গতিময়তা লক্ষ্য করা যায়। পাঠক কখনোই কবিতা পড়া শেষ না করে উঠতে পারবেনা। একজাতীয় কোন শব্দ বা পংক্তি বারবার তার কবিতায় আসেনা। যা আমরা সহজেই বলতে পারিনা এমন অনেক জটিল কথাবার্তা তার কবিতায় এসেছে। কবি সৈয়দ মবনু বলেন, কবি সওয়ার ফারুকী আমাদের মাঝে নতুন কেউ নন। তিনি অতি পরিচিত একজন লেখক। তার কবিতার শেখড় অনেক গভীর। কবির এই কাব্যগ্রন্থে তার পূর্বপুরুষের কবিতার প্রতিধ্বনী পাওয়া যায়। প্রভাষক কবি নাজমুল আনসারী বলেন, বইটির প্রচ্ছদ খুবই চমৎকার। যে কেউই বইটিকে প্রথম দেখে কিনে ফেলবে। কবি তার কবিতায় অনেক পরিমিত বোধের পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি একজন সচেতন ও শিল্পউত্তির্ন কবি। সমাজে তার প্রচার ও প্রসার খুবই প্রয়োজন। কবির একটি বই তার সন্তানতুল্য। উল্লেখ্য, সভায় বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আব্দুল গফফারকে তার পাঠাগারের জন্য কৈতর সিলেট-্এর পক্ষ থেকে দুই শতাধিক বই উপহার দেয়া হয়।

নিজ স্ত্রীর উশৃঙ্খল জীবন যাপন, জায়গা জমি নগদ কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জৈন্তাপুরের এক সৌদি প্রবাসী দিশেহারা


নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হাজারী ভাইটগ্রাম গ্রামের এক সৌদি প্রবাসীর কষ্টার্জিত নগদ অর্থ ও খরিদা জমি নিজ স্ত্রী কর্তৃক আত্মসাত এবং স্ত্রীর উশৃঙ্খল জীবন যাপনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কানাইঘাট থানায় কয়েক মাস পূর্বে প্রবাসীর ভাই এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেও কোন প্রতিকার পাননি। থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার ভাইট গ্রামের হাজী আব্দুল মতিনের পুত্র সৌদি প্রবাসী সাইদুজ্জামান সুহেল (৩০) ২০১১ সালে কানাইঘাট উপজেলার দুর্গাপুর উত্তর গ্রামের ওয়াহাব আলীর মেয়ে সীমা আক্তার (২৫) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের পর কিছু দিন সিমা আক্তার তার স্বামী সৌদি প্রবাসী সাইদুজ্জামান সুহেলের বাড়ী অর্থাংশ শ্বশুড়ালয়ে অবস্থান করেন। একপর্যায়ে সীমা আক্তার সে আর শ্বশুড়ালয়ে থাকবে না, স্বামীকে নিয়ে আলাদা ঘর সংসার করবে এমন ছলছাতুরীর আশ্রয় নিলে স্বামী সাইদুজ্জামান স্ত্রী সীমা আক্তারের নামে শ্বশুড় বাড়ী দুর্গাপুর উত্তর গ্রামে কয়েক লক্ষ টাকা মূল্যের ৬ শতক ভূমি দলিল মূলে খরিদ করে সেখানে পাকা ছামি ঘর তৈরি করে স্ত্রীকে নিয়ে কয়েক মাস বসবাস করে সাইদুজ্জামান। এরপর সাইদুজ্জামান সৌদি আরব তার কর্মস্থলে ফিরে গিয়েও নিয়মিত ভাবে স্ত্রী সীমা আক্তারকে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা পাটাতেন। একপর্যায়ে স্বামীকে নানা ভাবে প্রভাবিত করে সীমা আক্তার কয়েক লক্ষ টাকা নানা অযুহাতে হাতিয়ে নেয়। সৌদি আরবে চলে যাবার পর থেকে স্বামী সাইদুজ্জামান তার পরিবার ও শ্বশুড়বাড়ী এলাকার লোকজনদের কাছ থেকে জানতে পারেন স্ত্রী সীমা আক্তার চরম ভাবে উশৃঙ্খল জীবন যাপন শুরু করেছে। পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে বখাটে ছেলেদের নিয়ে নানা ফস্টিনস্টি করছে। একপর্যায়ে প্রবাসীর ভাই কামরুজ্জামান ভাবি সীমা আক্তারকে নিজ বাড়ীতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করেন। এতে সীমা আক্তার আরো বেপরোয়া হয়ে শ্বশুড় বাড়ীর লোকজনদের লাঞ্চিত ও তাদের চোখের সামনে পর পুরুষদের নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। সীমা আক্তারের উশৃঙ্খল জীবন যাপনে অতিষ্ট হয়ে এবং প্রবাসী স্বামী সাইদুজ্জামানের জায়গা জমি ও নগদ কয়েক লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের ঘটনায় প্রবাসীর ভাই কামরুজ্জামান ১৫/১২/২০১৪ইং তারিখে ভাবি সীমা আক্তার সহ ৫ জনকে আসামী করে কানাইঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু কোন প্রতিকার তারা পাননি। বর্তমানে সীমা আক্তার সৌদি আরবে অবস্থানরত স্বামী সাইদুজ্জামানকে নানা ভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। সৌদি আরব থেকে টেলিফোনে সমূহ অভিযোগ সত্য উল্লেখ করে সাইদুজ্জামান কানাইঘাট নিউজ ডট কমকে জানিয়েছেন স্ত্রী সীমা আক্তার তার মান সম্মান সহ সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে জায়গা জমি, নগদ কয়েক লক্ষ টাকা, আত্মসাত করে, তাকে নানা ভাবে বর্তমানে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এর প্রতিকার তিনি চান।

ভূমিকম্প হচ্ছে কী না জানাবে স্মার্টফোন


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: পর পর দু' দিন শহর কেঁপে উঠেছে ভূমিকম্পে। এ খবর এখন পুরনো হয়ে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু কম্পনের সময় অনেকে টের পাননি। অনেকের মনে হয়েছে হয়তো সামান্য মাথা ঘুরছে। পরে ইন্টারনেট এবং বৈদ্যুতিক মাধ্যমের সৌজন্যে ভূমিকম্পের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। জানেন কি, আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন আপনাকে জানিয়ে দেবে ভূমিকম্প হচ্ছে কী না এবং এর জন্য কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না। এখন যে স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটগুলি পাওয়া যায় তাতে বেসিক সিসমোমিটার দেওয়া থাকে। তাই যদি সমান জায়গায় ফোনটি রাখা থাকে তা হলে সামান্য কম্পনও খুব সহজেই মোবাইলফোনে ধরা পড়ে। এর জন্য আলাদা করে কোনও অ্যাপের প্রয়োজন নেই, মোবাইলের ওয়েব ব্রাউজারের সাহায্যেই এ কাজ করা যেতে পারে। ব্রাউজার খুলে সেখানকার অ্যাড্রেস বারে গিয়ে টাইপ করুন http://ctrlq.org/earthquakes/seismograph.html। ব্রাউজারেই একটি উইন্ডো খুলে যাবে। সেখানেই আপনি দেখতে পারেন একটা ওয়েভফর্ম চলছে। সামান্য নড়াচড়াতেও তা কেঁপে উঠবে এবং সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের মতো তা রেকর্ড করতে থাকবে। বেসিক সিসমোগ্রাফ জাভা-স্ক্রিপ্টের সাহায্যেই তৈরি করা যায়। এখনকার স্মার্টফোনে বিল্ট-ইন অ্যাক্সেলেরোমিটার এবং জাইরোস্কোপ থাকে। ফলে সামান্য নড়াচড়াও ফোনের ব্রাউজার মাপতে পারে। পরে তা গ্রাফের আকারে স্ক্রিনে ফুটে ওঠে। আপনি ডেস্কটপ কম্পিউটারেও এটা পরখ করে দেখতে পারেন। তবে শর্ত একটাই, ব্রাউজার হিসাবে আপনাকে গুগল ক্রোমের ব্যবহার করতে হবে। সেটিংসে গিয়ে ক্রোম ডেভেলপমেন্ট টুলস-এ গিয়ে অ্যাক্সেলারেটর অপশনটি অন করতে হবে।

বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী


ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাথে দেখা করতে বঙ্গভবনে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছান। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া সফর করেছেন। সফর থেকে ফেরার পর নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।

নেপাল থেকে দেশে ফিরেছে ২ হাজার ভারতীয়


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: ভূমিকম্পে নরকে পরিণত হওয়া নেপাল থেকে এক হাজার ৯৩৫ জন ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারত সরকার। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় নেপালের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে থাকার মধ্যেই প্রচুর শিশুসহ প্রায় দুই হাজার ভারতীয়কে আজ রোববার বিমানে করে সরিয়ে নেয় ভারতীয় বিমানবাহিনী। হিমালয়ের দেশটির বর্তমান অবস্থা ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা। প্রসঙ্গত, গত শনিবার নেপালে রিখটার স্কেলে ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ৮০ কিলোমিটার পূর্বে পোখারায় ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল। ওই ভূমিকম্পে প্রকম্পিত হয়েছে পাশ্ববর্তী বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন ও হিমালয়ের অংশও। ৮০ বছরের ইতিহাসে নেপালে সবচেয়ে ভয়াবহ ওই ভূমিকম্পটির পর ধারাবাহিকভাবে আরো বেশ কয়েকটি ভূমিকম্পে বারবার আক্রান্ত হয়েছে গোটা অঞ্চলটি।

নেপালে বাংলাদেশিরা নিরাপদে আছেন


ঢাকা: ভূমিকম্প-আক্রান্ত নেপালে থাকা বাংলাদেশিরা সবাই নিরাপদে আছেন এবং অনেকেই দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। নেপালের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় নেপালে থাকা বাংলাদেশিদের অনেকের সাথেই দূতাবাস কর্মকর্তাদের যোগাযোগ হয়েছে এবং তারা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন। খবর বিবিসির। তিনি জানান, নেপালে প্রায় একশ' বাংলাদেশি পরিবার স্থায়ীভাবে বাস করেন যারা নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান কর্মরত। এছাড়া কিছু ছাত্রও আছেন। রাষ্ট্রদূত জানান, মাত্র একজন বাংলাদেশি নাগরিক ভূমিকম্পের কারণে পায়ে আঘাত পেয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন, তবে তিনি ইতিমধ্যে দেশে ফিরে গেছেন। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংএ বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত কাঠমান্ডুতে ভূমিকম্পে নিহতদের মধ্যে দুজন বিদেশি আছেন বলে জানা গেছে - যার একজন ভারতীয় এবং অপরজন চীনা। নেপালের কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারাও দূতাবাস কম্পাউন্ডের ভেতরে তাঁবু খাটিয়ে পরিবারের সদস্যসহ ঘরের বাইরে রাত কাটাচ্ছেন বলে তিনি জানান। রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস জানান, প্রায় ২২০ জন বাংলাদেশি ইতিমধ্যে বিমানে করে দেশে ফেরত গেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে জরুরি চিকিৎসা দল নিয়ে একটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান নেপালে এসেছিল, যাতে করে ৪৯ জন বাংলাদেশিকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। তিনি বলছিলেন, প্রায় দেড়শ বাংলাদেশি যারা এই ভূমিকম্পের কারণে নেপালে আটকা পড়েন, তারা দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তাদের দেশে ফেরত যাবার ব্যাপারে এখন দূতাবাস সহায়তা করছে। আজ সোমবার ৮০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কয়েকটি ফ্লাইটে ঢাকা ফিরে যাবেন বলে জানান রাষ্ট্রদূত।

দেশের বিভিন্ন স্থানে আবারও ভূমিকম্প


ঢাকা: রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সোমবার আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আজ তিন দিন ধরে দফায় দফায় ভূমিকম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে ভীষণ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। আজও যথারীতি মানুষজন ঘর ও ভবন থেকে বের হয়ে আাসে। আজ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের হিতুরায় এবং এর মাত্রা ছিল ৫.১। এর আগে গত শনিবার নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ভূমিকম্প আঘাত হানে। রংপুর, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ,রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, সাভার, ও গাজীপুরেও প্রতিনিধি জানান, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত লোকজন বাসাবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় পুকুরের পানিও নড়ে ওঠে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের হিতুরা অঞ্চলে। রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ২ মাত্রায়। এদিকে ভারতের পাটনা, বিহার, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে। এর আগে শনিবার দুপুরে সারাদেশে দুই দফায় শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ওই ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে মানুষ বাড়িঘর, অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। রিখটার স্কেলে ৭.৯ মাত্রার এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের বারপাক অঞ্চলে। রবিবার দুপুরে ফের ভূকম্পন অনুভূত হয়। রবিবার দুপুর ১টা ১১ মিনিটে ফের ভূকম্পন অনুভূত হয়। প্রায় ৩০ সেকেন্ড ব্যাপ্তির এ ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত লোকজন বাসাবাড়ি, অফিস আদালত ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। দুদিনের ভূমিকম্পে বাংলাদেশে সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হন কয়েক শ’। গতকাল রবিবারও নেপাল ও বাংলাদেশে অনুভূত হয়। এরপর আজ সোমবার পরপর তৃতীয় দিনের মত ভূমিকম্প আঘাত হানলো। নেপালে শনিবারের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৯। ওইদিনের ভূমিকম্পে নেপালে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে।
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : সাউদিয়া মার্কেট,দোকান নং-২,কানাইঘাট উত্তর বাজার,সিলেট। +৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩