51123কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক : ‘জ্ঞানের আলোয় অবাক সূর্যোদয়!/ এসো পাঠ করি/ বিকৃতির তমসা থেকে/ আবিস্কার করি স্বাধীনতার ইতিহাস’ স্লোগান নিয়ে সিলেটে শুক্রবার শুরু হলো অষ্টম বইপড়া উৎসবের।
যুগান্তর স্বজন সমাবেশ আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা রুখে দাঁড়াতে তরুণ প্রজন্মের ইতিহাস চর্চার কোন বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে একাত্তরের দ্রোহ, সংগ্রাম এবং ত্যাগের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
বক্তারা বলেন, পৃথিবীর যেকোন জাতির চেয়ে বাঙালি জাতির ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। এ ইতিহাসকে কখনো দ্বিখন্ডিত বা বিকৃত করা যাবে না। বইপড়া উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো চিরকাল আমাদের পথ দেখাবে। তাই সেই ইতিহাসে দীক্ষিত প্রজন্মের পথভ্রষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।
বক্তারা আরো বলেন, বই কখনো প্রবঞ্চনা করে না। মুক্তিযুদ্ধের বই আমাদের ইতিহাস পাঠের অনিন্দ্য পাঠশালা। তাই শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের বই পাঠে মনোযোগী হয়ে নিজেদের অন্তরকে আলোকিত করার পাশাপাশি দেশকেও আলোকিত করতে পারে।
বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বইপড়া উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর মো. সালেহ উদ্দিন, এভারেস্ট জয়ী প্রথম বাংলাদেশী মুসা ইব্রাহিম, যুগান্তর সিলেট ব্যুরো প্রধান রেজওয়ান আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তর সিলেট ব্যুরোর রিপোর্টার আব্দুর রশিদ রেনু, স্বজন সমাবেশের বিভাগীয় সম্পাদক হিমেল চৌধুরী ও বিভাগীয় সমন্বয়কারী প্রভাষক প্রণবকান্তি দেব। জেলা স্বজনের সভাপতি মবরুর আহমদ সাজুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুবিনয় আচার্য্যরে পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা স্বজনের সহ সভাপতি সুমন রায়।
এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, স্বজন সমাবেশের সাবেক সভাপতি লায়ন মেহেদী কাবুল, অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগি রাহুল বৈষ্ণব।
এর আগে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জাতীয় সঙ্গীতে নেতৃত্ব দেন বিভিন্ন শাখা স্বজনের শিক্ষার্থীরা। আলোচনা শেষে বইপড়া উৎসবের নির্বাচিত গ্রন্থ শওকত ওসমানের ‘দুই সৈনিক’ গ্রন্থটি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হয়।