এহসানুল হক জসীম:
ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাপ সামাল দিতে ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে খুব শীঘ্রই এক জোড়া নতুন বিরতিহীন ইন্টারসিটি ট্রেন সার্ভিস চালু হতে যাচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যে এই বিরতিহীন ট্রেনটির অনুমোদন দিয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে 'টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস'। বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটের জন্য 'টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস' নামের এক জোড়া নতুন বিরতিহীন ইন্টারসিটি ট্রেন চালুর অনুমোদন দিয়েছেন।"
তবে নতুন এই ট্রেন সার্ভিসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বর্তমান রেল বহরের ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের কারণে কিছুটা সময় নেবে। নতুন ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহের পরই এটি চূড়ান্তভাবে চালু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এই রুটে চার জোড়া ট্রেন চলে, টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস চালু হলে তখন পাঁচ জোড়া হবে।
রেলপথ মন্ত্রী জানান, ২০০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নে 'রেলওয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি' প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) কেনার জন্য আরেকটি পৃথক ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব রোলিং স্টক (ইঞ্জিন ও কোচ) হাতে পাওয়া মাত্রই নতুন ট্রেনটি লাইনে নামানো হবে।
সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের এক প্রশ্নের জবাবে এই রুটে ব্রডগেজ ট্রেন চালুর বিষয়ে কথা বলেন মন্ত্রী। শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা-সিলেট রুটে বর্তমানে মিটারগেজ লাইন চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে এই রেললাইনটিকে ডুয়াল-গেজ বা ব্রড-গেজ সিস্টেমে রূপান্তর করা এবং প্রয়োজনীয় রোলিং স্টক সংগ্রহ করা হলে ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, ২০০টি মিটারগেজ কোচ এবং এআইআইবি-র অর্থায়নে ৩০টি ইঞ্জিন সংগ্রহের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ঢাকা-কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটেও একটি নতুন ইন্টারসিটি ট্রেন চালু করা হবে।
খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, খুলনা-যশোর রুটের পুরোনো ট্র্যাক সংস্কার এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের কাজ চলছে।
ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর সেকশনে ডুয়াল-গেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন হয়েছে।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়