ভারতের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত এক গ্রাম মোহাম্মাদপুর উমারি। নিবাসী মাত্র ৬০০০। আশ্চর্যজনক হলেও এর মধ্যে ১০০ জোড়ারও বেশি যমজ। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এত বেশি যমজ জন্মগ্রহণ করাটা বিশেষজ্ঞদের মনেও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। গ্রামটি এতটাই প্রত্যন্ত যে এখানে বিদ্যালয়, হাসপাতাল কিছুই নেই। এমনকি নেই কোন ভাল রাস্তাঘাট। গত ৫০ বছরে ১০০ জোড়ারও বেশি যমজ জন্মগ্রহণে বিশেষজ্ঞরাও যারপরনাই আশ্চর্যান্বিত। এরকম দৃষ্টান্ত সচরাচর দেখা যায় না। এলাহাবাদ জেলার ধুমানগঞ্জ এলাকার এ গ্রামের এক বাসিন্দা মন্তব্য করেন যমজের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যেত যদি এখানে কোন হাসপাতাল থাকতো। গ্রামটিতে ৬০০০ জনের বসবাস হলেও এতগুলো মানুষের জন্য একটিও হাসপাতাল নেই। গ্রামে নিজস্ব ঘরবসতি জমিজমা আছে এমন লোক ব্যতীত বাকি সবাই জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমায় দিল্লি বা বোম্বেতে। এ গ্রামের ৮০ ভাগ মুসলিম ও ২০ ভাগ হিন্দুর বসবাস। উভয় গোত্রেই যমজের ছড়াছড়ি। বিশেষজ্ঞের কেউ কেউ মনে করেন বিষয়টা জিনগত নয় বরং স্থানীয়দের জীবন ব্যবস্থা ও পরিবেশগত প্রভাবই এর কারণ। স্থানীয় গ্রামসভার সদস্য ৭০ বছর বয়সী রউফ আলম জানান, তিনি তার বাপ দাদার কাছ থেকে শুনেছেন, ৯০ বছর আগে এই প্রথা শুরু হয়। তার আগে মাত্র তিন চার জোড়া যমজ ছিল। পরে বেশি বেশি যমজ শিশু জন্মগ্রহণ করে। গত ৫০ বছরে বিষয়টি নিয়মিত অভ্যাসের হয়ে দাঁড়িয়েছে। গর্ভবতী মায়েদের জন্য কোন প্রকার চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকার কারণে কমপক্ষে এ যাবত ৯০ জোড়া যমজ শিশু জন্মগ্রহণকালেই মারা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষজ্ঞরা এ গ্রামে এসেছেন, রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন। তাদের প্রচেষ্টায় কোন কার্যকারণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি-না তা এখনও অজানা। তবে হায়দ্রাবাদের সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বাইয়োলোজিস্টদের একটি দলের ধারণা- অনুযায়ী গ্রামের মাটির নিচে পানিতে মিশে থাকা কিছু খনিজের কারণেই গ্রামটিতে এত বেশি যমজের জন্ম হয়। মোহাম্মদ আসিফ নামক এক গ্রামবাসী মজার এক মন্তব্য করে বলেছেন, গ্রামের সবাই যমজ হলে কি দারুণই না-হতো। দারুণ হয়তো হতো। তবে বিশেষজ্ঞদের জন্য কার্যকারণ নিরূপণ আরও জটিল হতো বৈকি।
সিলেটের আলাপ.কম
খবর বিভাগঃ
দেশের বাইরে

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়