Showing posts with label ফিচার পাতা. Show all posts
Showing posts with label ফিচার পাতা. Show all posts

Saturday, June 29

শিবসা ও হাড়িয়া নদী মৃত্যুর পথে

শিবসা ও হাড়িয়া নদী মৃত্যুর পথে

পাইকগাছা (খুলনা): কপোতাক্ষ পর খুলনার পাইকগাছা উপজেলার শিবসা ও হাড়িয়া নদী মৃত্যুর পথে। শিবসা নদীর বক্ষে পলি পড়ে উচু হতে শুরু করেছে। জোয়ারের পানি নদীতে ধারণ করতে না পেরে প্লাবিত করছে পৌর বাজারসহ আশে-পাশের নিম্নাঞ্চল। আর এ অবস্থা চলছে গত ৪/৫ বছর। বিশেজ্ঞদের অভিমত, এমনটি অব্যাহত থাকলে আগামী ৫/৬বছরের মধ্যে শিবসা নদী মৃত্যু হয়ে ইতিহাসের পাতায় উঠবে। খরস্রোতা প্রমত্তা কপোতাক্ষ নদ নিজের রুদ্র মুর্তি হারিয়ে পরিণত হয়েছে ধু-ধু বালুময় প্রান্তরে। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও বিশ্ববরণ্য বিজ্ঞানী আশ্চর্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদ কালের গর্ভে বিলীন হয়ে আজ নিশ্চহ্ন প্রায়। উপজেলার বৃহৎ তিন নদ-নদী (কপোতাক্ষ, শিবসা ও হাড়িয়া) মৃত্যুর সাথে বিলুপ্ত হতে চলেছে প্রায় দু’শতাধিক সংযোগ খালের। নিশ্চিহ্ন প্রায় অধিকাংশ খাল। ইতিমধ্যে নদ-নদী ও খালের চরভরাটি জায়গা প্রভাবশালীরা দখল নিয়ে সেখানে গড়ে তুলেছে বসতিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। 
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, ওয়াপদার উন্নয়ন প্রকল্পগুলোই নদ-নদীগুলোকে গলাটিপে হত্যা করেছে। আর বিশেষজ্ঞ বলছেন, নদীর ওপর বিশ্বব্যাংক ইউএসএইড ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে পানি উন্ননের নামে যে স্থাপনা তৈরী করে তা দেশের নদ-নদীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ, শিবসা ও হাড়িয়া নদের ভরাটের কারনে ২টি উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভার প্রায় ৫ লাখ মানুষের জন্য চরম দূর্বিষহ জীবন-যাপন অপেক্ষা করছে। নদ-নদী গুলো খননে ভ্রান্তনীতির ফলে এ অঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছে সাধারণ মানুষ।
ভারতের ফারাক্কার ফাঁদ, বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত ভেড়িবাঁধ, স্লুইসগেট ও ব্রিজ নির্মাণ। এ ছাড়া অবৈধ দখলদারদের সীমাহীন অত্যাচারে উপজেলার নদ-নদীগুলো গতিপথ পরিবর্তন করেও বাঁচতে পারেনি। এর ফলে মৃত্যুর শেষ প্রহর গুনছে ঐ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিন নদ-নদীসহ দু’শতাধিক সংযোগ খাল। 
নদ-নদীগুলোর তীর ঘেষে উপজেলার ৩৮৩.৮৭ বর্গ কি. মি. (সুন্দরবনসহ) এলাকায় ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে ১৩২টি গ্রামে বাস করছে প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ। একদিকে বৃষ্টির পানি প্রবাহের মূল উৎসহ রূদ্ধ হচ্ছে অন্যদিকে জোয়ারে উগরে দেয়া পানি প্লাবিত করছে নদের দু’তীর। আর পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার মানুষের জন্য অপেক্ষা করছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। নদী বাঁচাও আর ভূমি দস্যু ঠেকাও এ স্লোগানকে সামনে রেখে সোচ্চার হচ্ছে পরিবেশবাদী সংগঠনসহ ভূক্তভোগী মানুষ। এ দিকে কপোতাক্ষ, শিবসা ও হাড়িয়া নদীর চর ভরাটি জায়গা দখলের প্রতিযোগীতায় নেমেছে ভুমি দস্যুরা। অন্যদিকে সরকারি সম্পত্তি দখল ও ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে একটি চক্র হাঁতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। 
উপজেলায় ২২৫ কিঃমিঃ ভেড়ী বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৯টি পোল্ডার এবং ১৫১টি স্লুইচ গেট রয়েছে। ঐ সকল  স্লুইচ গেট ও ভেড়ী বাঁধ অবৈধ ভাবে কেটে লবণ পানি তুলে চাষ করছে চিংড়ি। আশির দশকে নির্মৃত ঐ সকল স্লুইচ গেট ও ভেড়ী বাঁধ দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় বর্তমানে সে গুলো ঝুঁকি পূর্ণ। অন্যদিকে দীর্ঘদিন প্রাকৃতিক বিবর্তন ও মানুষের সৃষ্টি বিভিন্ন ধরণের  প্রতিবন্ধকতায় নদীর বক্ষে পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে পানি বহন ক্ষমতা একেবারেই নেই ঐ সব নদ-নদীর। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত হয় কপোতাক্ষ, শিবসা ও হাড়িয় নদীর ২৫০ কি. মি. পর্যন্ত খনন। কিন্তু বর্তমান মহাজোট সরকার কপোতাক্ষ খননে প্রায় ২৬২ টাকা বরাদ্দ দিলেও দেয়নি শিবসা ও হাড়িয় নদী খননে। এদিকে সুবিধাভোগীদের কুটকৌশলের কারনে কপোতাক্ষ খনন কাজও বন্ধের সংশয় দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলার তিন নদ-নদী সংষ্কার ও পুনরুজ্জীবনে বাস্তব সম্মত ব্যবস্তা না নিলে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে উদ্বাস্ত জীবন যাপন করবে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।(ডিনিউজ)

Thursday, June 27

মোটরসাইকেল যখন গণপরিবহন

মোটরসাইকেল যখন গণপরিবহন

নেত্রকোনা: ব্যক্তিগত যান মোটরসাইকেল এখন গণপরিবহন-এ পরিণত হয়েছে। নেত্রকোনার দশ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিন অবাধে গণপরিবহন হিসাবে চলছে প্রায় তিন-চার হাজার মোটরসাইকেল। এক শ্রেণীর বেকার যুবক এসব মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু ওই চালকদের বেশীরভাগ অদক্ষ এবং এদের চলাচলে কোন ধরণের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনার হার। অন্যদিকে মাদক পরিবহনসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডেও জড়িয়ে পড়ছে কিছু কিছু চালক। অথচ এদের নিয়ন্ত্রণে তেমন কোন ভূমিকা নেই কর্তৃপক্ষের।  
জানা গেছে, নেত্রকোনা-কলমাকান্দা, নেত্রকোনা-মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা-দুর্গাপুর, নেত্রকোনা-পূর্বধলা, নেত্রকোনা-সিধলী, নেত্রকোনা-মদন, নেত্রকোনা-কেন্দুয়া, নেত্রকোনা-আটপাড়া, মদন-নাওটানা, পূর্বধলা-দুর্গাপুরসহ জেলার প্রায় ১৫টি সড়কে প্রতিদিন তিন-চার হাজার মোটরসাইকেল ভাড়ায় চলাচল করে। এসব মোটরসাইকেলের চালকদের বেশীরভাগই বেকার তরুণ-যুবক। কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করে এরা রোজগার করছে। আবার অনেকে ওই যুবকদের কাছে দৈনিক ভিত্তিতে মোটরসাইকেল ভাড়া দিয়েও লাভ নিচ্ছে। কিন্তু সমস্যার কারণÑ ওই চালকদের বেশীরভাগই অদক্ষ। অনেকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক। এরা ট্রাফিক আইনের কোন তোয়াক্কা করছে না। দিন-রাত যেখানে-সেখানে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে। একটি মোটরসাইকেলে একসঙ্গে পরিবহন করছে তিন-চারজন করে যাত্রী। এসব কারণে বাস বা টেম্পু চালকদের সঙ্গে প্রায়ই তাদের বচসা বা সংঘর্ষ হচ্ছে। নাজেহাল হতে হচ্ছে যাত্রীদের। অন্যদিকে রাত-দিন বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায় সময় ঘটছে হতাহতের ঘটনা। ওদিকে কিছু কিছু চালক ভাড়ায় যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি মাদক পাচার করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরাও যাত্রীবেশে এসব মোটরসাইকেল দিয়ে মাদক আনা-নেয়া করছে। দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ঘটনায় কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক খুনও হয়েছে। 
জানা গেছে, নেত্রকোনায় বিআরটিএ’র স্থায়ী অফিস নেই। ময়মনসিংহ সার্কেলের কর্মকর্তারা সপ্তাহে মাত্র একদিন নেত্রকোনায় আসেন। ফলে এ জেলায় অবৈধ চালকদের ব্যাপারে বিআরটিএ অনেকটা উদাসীন। অন্যদিকে ট্রাফিক কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে খুব একটা তৎপর নয়। জেলার ট্রাফিক অফিস সূত্র জানায়, অবৈধ মোটরসাইকেল ও চালকদের নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে জেলা সদরের বাইরে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করে না। এ কারণে অনেকে ধরা পড়ে না। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাইসেন্স বা নিবন্ধন না থাকায় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের নামে এসব মোটরসাইকেল  চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হয়। কিন্তু এর ভাগ কারা পায় তা অনেকেই জানে না। (ডিনিউজ)

Tuesday, June 25

মিরসরাইয়ে গ্রামীণ কুটির শিল্পের মাধ্যমে ভাগ্য বদল

মিরসরাইয়ে গ্রামীণ কুটির শিল্পের মাধ্যমে ভাগ্য বদল

মিরসরাই(চট্টগ্রাম): গ্রামীণ কুটিরশিল্প বদলে দিয়েছে চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার হাজার নারী-পুরুষের জীবন। কুটিরশিল্পের মাঝে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী-পুরুষ এখন খুঁজে পেয়েছে বেঁচে থাকার নতুন প্রেরণা। এ শিল্পের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে তাদের জীবন। এ শিল্পে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আরো বাড়িয়ে দিলে কর্মসংস্থানের হার আরো বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক সময় কেবল নারীরাই সখের বশে বিভিন্ন কুটিরশিল্প সামগ্রী তৈরি করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে ক্রমেই নারী পুরুষ সমান তালে এ শিল্পের দিকে ঝুঁকছে। এ শিল্পের সামগ্রীগুলো যেমন নানা সহজলভ্য তেমনি আবার অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া যায় এগুলো। লাভ বেশি হওয়ায় ক্রমেই বেকার নারী পুরুষরা ঝুঁকে পড়ছে এ শিল্পের প্রতি। জেলার উপকূলীয় এলাকা গুলোতে কুটিরশিল্পের দেখা মিলবে বেশি। এসব এলাকা ঘুরে দেখলে সহজেই চোখে পড়বে কুটিরশিল্পের নানান কারুকাজের বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র। জেলার ১৪ টি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাজারগুলোতে মৌসুমভিত্তিক কুটির শিল্পের কারুকার্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন ধরণের সামগ্রী কেনাবেচা হয়। এসব সামগ্রী স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশেরে অন্যান্য স্থানেও বিক্রি করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে যেসব নারীপুরুষ অজ্ঞতা-অশিক্ষার কারণে ভালো কাজের সুযোগ পায়নি তারা ক্রমেই আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে এ শিল্পের ছোঁয়া পেয়ে। যাদের নেই কোনো কর্মসংস্থান, নেই শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক চাহিদার সর্বোত্তম সুবিধা। অভাব যাদের নিত্যসঙ্গী,তারা বেচে নিয়েছে এ কাজটি। তারা এটিকে পেশা হিসেবেই বেচে নিয়েছে।
গ্রামের নারীরা ঘরের কোণে বন্দি জীবন নয় তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। গ্রামীণ শিল্পের আওতায় এসে নিরীহ অসহায় সব নারীরা এখন আত্মনির্ভরশীল। তারা খুঁজে নিয়েছে তাদের বাঁচার মাধ্যম।
চট্টগ্রামের প্রাচীন কুটিরশিল্পের অনেকটাই এখন কেবল বয়োবৃদ্ধদের মুখে শোনা বুলি কিংবা হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য। কিছু কিছু কুটিরশিল্প এখানকার জনপদে বিলীন হয়ে গেলেও বাঁশ ও বেত শিল্প, কারু শিল্প, মাছ ধরার জাল বুনা, মৃৎশিল্প, কমার শিল্পসহ বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্পের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।এসব গ্রামীণ শিল্পে পুরুষের চেয়ে নারীদের কর্মব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়।
গ্রামের নারীরা বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারিক সরঞ্জামাদি। বাঁশ ও বেত দিয়ে তারা তৈরি করে মাছ ধরার সরঞ্জাম, আনতা, ভ্যাংচা, টেইঁয়া ইত্যাদি।
গৃহস্থ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য হাজারী, টুকরি, আড়ি, মেরী, কুলা, চালনি, হাতপাখা, হাতা, ধোচনা তৈরি হয় বাঁশ ও বেত দিয়ে। বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরিকৃত এ সকল জিনিস বাজারজাতকরণ করা হয়। বাজারে এগুলোর রয়েছে প্রচুর চাহিদা। পাটি পাতা দিয়ে গ্রামের নারীরা শীতল পাটি তৈরি করে যা কারুশিল্প নামেও পরিচিত।
জানা গেছে, একজন নারীরা শীতল পাটি বুনে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা আয় করে যা পুরুষ সমৃদ্ধ পরিবারের জন্য বর্ধিত আয়। তাছাড়া যাদের স্বামী পৃথিবীতে বেঁচে নেই তাদের বাঁচার একমাত্র মাধ্যম হল এসব গ্রামীণ শিল্প। কুটিরশিল্পের মধ্যে বেত দ্বারা তৈরিকৃত নানান আকৃতির নজরকাড়া ফার্নিচারের কদর এখন চোখে পড়ার মত। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মাছ ধরার জাল বুনেও প্রচুর লোক জীবিকানির্বাহ করে। বহু পরিবারের সদস্যরা ঝাঁকি জাল, কাফাই জাল, ছটকি জাল ও দোওনজাল তৈরি করে থাকে। আর জেলেরা তৈরি করে সমুদ্রে মাছ ধরার জাল।
অন্য একটি গ্রামীণ শিল্প হল মৃৎশিল্প। মিরসরাই, সীতাকুন্ড, বোয়ালখালী, পটিয়াসহ জেলার প্রায় সব উপজেলাতে কুমার মৃৎশিল্প দিয়ে রান্নার সরঞ্জাম হাড়ি, পাতিল, চড়ি, কত্তি, সানকি প্রভৃতি তৈরি করে থাকে। তারা মাটির বিভিন্ন খেলনা তৈরি করে যা ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের কাছে খুবই প্রিয়। এগুলো  এলাকায় অনুষ্ঠিত মেলাতে প্রচুর বিক্রি হয়।(ডিনিউজ)
সবজি চাষে ভাগ্য বদলাতে পারে চিতলমারীর চাষিরা

সবজি চাষে ভাগ্য বদলাতে পারে চিতলমারীর চাষিরা

চিতলমারী (বাগের হাট): প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ভাইরাস সংক্রমন ব্যাধি ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কারণে এ অঞ্চলের চিংড়ি চাষিরা যেমন সংকটে তেমনি পরপর দু’বছর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে বোরো ধান নষ্ট’র জন্য প্রত্যেক কৃষকের ঘাড়ে মোটা অংকের ঋণের বোঝা। তাই দিনদিন বাগেরহাটের কৃষক-চাষিরা ধান ও চিংড়ি চাষের প্রতি উৎসাহ-উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলছেন। উৎপাদিত চিংড়ি ও ফসলে বারবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে তারা এখন প্রায় সর্বশান্ত। তবুও পরিবার-পরিজনদের নিয়ে বাঁচার তাগিদে এ জেলার চাষিরা নবউদ্যমে শুরু করেছে সবজি চাষ। তাই স্থানীয় ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকে রেহাই এবং উৎপাদিত ফসলের বাজারজাতকরণের পরিধি বাড়িয়ে নায্যমূল্য দিলে এ অঞ্চলের চাষিদের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে পারে। ঘুচতে পারে পাওনাদারের তাড়া। 
বাগেরহাটের জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ জেলায় প্রায় ৮২ হাজার চিংড়ি ঘের। যার মধ্যে ৩৬ হাজার বাগদা, ৪৬ হাজার গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। মোট উৎপাদিত চিংড়ির সিংহ ভাগ এ জেলায় উৎপন্ন হয়ে থাকে। এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ২ লাখ পরিবার এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল। 
তবে চাষিরা জানান, বিভিন্ন কারণে চিংড়ি শিল্পের আয়ে এখন আর সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই তারা ধান চাষে ফিরে যান। কিন্তু পরপর দু’বছর উঠতি পাকা ধান অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কৃষকরা বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও, দাদন ব্যবসায়ী ও সুদখোর মহাজনের ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছে। উৎপাদিত চিংড়ি ও ফসলে বারবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে এখন তারা সর্বশান্ত। বর্তমানে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে বাঁচার তাগিদে নবউদ্যমে সবজি চাষ শুরু করেছেন ।   
চিতলমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমল কান্তি রায় জানান, চিতলমারীতে বাগদা চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৯০টি। আয়তন ২ হাজার ৪৬০ হেক্টর। গলদা চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা ৯ হাজার ৮২০টি। আয়তন ৩ হাজার ৯৩৮.২০ হেক্টর। যার প্রতিটি ঘেরের পাড়ে হচ্ছে সবজি চাষ। চাষিরা বিভিন্ন চাষ নিয়ে এখন মহাব্যস্ত।
চিতলমারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু তালহা জানান, চলতি মৌসুমে চিতলমারীতে ১৪৫ হেক্টর জমিতে করল্ল¬া, ৮৫ হেক্টরে শসা, ঢেঁড়স ৫ হেক্টের, চাল কুমড়া ১৫ হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ১০ হেক্টর, বেগুন ২৫ হেক্টর, বরবটি ৫ হেক্টর, লাউ ৫ হেক্টর এবং ৫ হেক্টর জমিতে পুঁইশাকের চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বে-সরকারি পরিসংখানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক সবজি চাষ শুরু করেছে। উপজেলার খাশেরহাট, শ্রীরামপুর, বাখেরগঞ্জ, কুরমনি, সুরশাইল, শৈলদাহ, কালিগঞ্জ, হিজলা নালুয়া, বড়বাড়িয়া ও ডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ঘেরের ওপর ব্যাপকহারে সবজির চাষ শুরু হয়েছে। এ জেলার বিভিন্ন প্রকার তরকারির ঢাকা, খুলনা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা মেটায়।
খড়মখালী গ্রামের সবজি চাষি আলমগীর তরফদার, কৃষক সুধাংশু মন্ডল, দেবেন মন্ডল, কুরমনির রেজাউল খান, কুড়ালতলার অনাদী বিশ্বাস, পাটরপাড়ার মুজিবর বিশ্বাস, দড়িউমাজুড়ি গ্রামের সুধান্ন ঘরামীসহ অসংখ্য চাষি অভিন্ন সুরে জানান, স্থানীয় ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকে রেহাই এবং উৎপাদিত ফসলের বাজারজাতকরণের পরিধি বাড়িয়ে নায্যমূল্য পেলে এ অঞ্চলের চাষিদের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে পারে। ঘুচতে পারে পাওনাদারের তাড়া। (ডিনিউজ)

Monday, June 24

মন্টুদার পত্রিকার দোকান

মন্টুদার পত্রিকার দোকান

প্রবীর বিকাশ সরকার
কুমিল্লা: কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়স্থ পত্রিকা বিক্রির দোকান ‘ও.কে.স্পোর্টস’ এর সাইনবোর্ডটির কথা অনেকেরই জানা নেই বলেই ধারণা করি। কারণ ঝুলিয়ে রাখা অসংখ্য বহুরঙা এবং বিচিত্র পত্রিকা ও সাময়িকীর ভিড়ে নামটির দিকে সহজে নজর পড়ে না। এবং এই দোকানের মালিক মন্টুবাবুর নামও ক’জন জানেন তাও গবেষণার বিষয়। তবে আমাদের মধ্যে যারা ৭০ দশকের কবি, লেখক ও সাংবাদিক তাদের কাছে মন্টুদা একটি প্রিয় নাম, তিনি আমাদের যেমন গুরুজন তেমনি প্রিয় মানুষ। অবশ্য আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও প্রিয়জন তিনি। মন্টুদার আসল নাম ইন্দ্রজিৎ দাস।

জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থিত এই দোকানটি তিনি চালু করেছিলেন ১৯৬৫ সালে সংঘটিত পাক-ভারত যুদ্ধের পরে। তখন দোকানটি বর্তমান অবস্থানের উল্টো দিকে রাস্তার অপর দিকে জাফর খান স্টোর্স এবং বেঙ্গল স্টোর্স এর মাঝখানে ছিল। বেঙ্গল স্টোর্স কুমিল্লার সবচে বড় কাপড়ের দোকান ছিল। এখন যেটা বহুতলবিশিষ্ট খন্দকার মার্কেট। অবশ্য এই মার্কেটের ভেতরে মন্টুদার প্রাক্তন দোকানটি কাপড়ের দোকান হিসেবে রূপান্তর ঘটেছে। আর এই পাড়ে নতুন করে চালু করেছেন পত্রিকা বিক্রির দোকানটি। সর্বদা হাসিখুশি মন্টুদার বয়স এখন ৬৫ ছাড়িয়েছে কিন্তু এখনো যথেষ্ট শক্ত সমর্থ বলে আমাদের ভালো লাগে।

এক জীবনে মন্টুদা বহু মানুষকে দেখেছেন। এই শহরের এবং বাইরেরও। বহু খ্যাত-অখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষকের হাতে তিনি পত্রিকা ও ম্যাগাজিন তুলে দিয়েছেন। সাধারণ পাঠক তো আছেনই। সুতরাং মন্টুদার নাম জানা না থাকলেও তার মুখটি চেনেন না এমন কেউ নেই এই শহরে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে যারা নিয়মিত পত্রিকা পড়েন। অনেকেই চলে গেছেন ইহধাম ত্যাগ করে তাঁদের কথাও তিনি স্মরণ করেন সশ্রদ্ধচিত্তে।

আমার সঙ্গে মন্টুদার পরিচয় সেই ১৯৭৬ সালে যখন ছড়া লেখা শুরু করেছি, ঢাকার পত্রিকাগুলোতে লিখছি, লেখা প্রকাশিত পত্রিকাগুলো সংগ্রহ করেছি অধিকাংশ তাঁর দোকান থেকেই। যেসব দৈনিক কিনতাম সেগুলো ছিল: দৈনিক বাংলা, ইত্তেফাক, সংবাদ, পূর্বদেশ, মিল্লাত, দেশ, বাংলারবাণী, দেশবাংলা, রূপালী প্রভৃতি। আর সাপ্তাহিক ছিল: নয়াযুগ, বিচিত্রা, মুক্তিবাণী, ইত্তেহাদ, হককথা, স্বদেশ প্রভৃতি। জনপ্রিয় সাপ্তাহিক ‘কিশোরবাংলা’র জন্য আগাম বলে রাখতাম, তিনি তুলে রাখতেন। কলকাতার পুজো সংখ্যা, ঢাকার ঈদ সংখ্যাগুলোর জন্য আগাম টাকা দিয়ে রাখতাম তিনি তুলে রাখতে ভুলতেন না। একসময় মুড়ি মুড়কির মতো এইসব বিশেষ সংখ্যাগুলো বিক্রি হতো। আর কিনতেন মহিলারাই বেশি। এখন তো মন্টুদার সঙ্গে মোবাইল টু মোবাইল যোগাযোগ। অনুরোধ করলেই তুলে রাখেন।

যৌবনের উন্মেষলগ্নে কলকাতার বিখ্যাত সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকার সঙ্গে প্রণয়বন্ধনে আবদ্ধ হই প্রথম তাঁর দোকান থেকে কিনে। কলকাতার তুখোড় চিন্তাশীল সাহিত্য কাগজ ‘জিজ্ঞাসা’, মননশীল সাহিত্য কাগজ ‘চতুরঙ্গ’, ‘শিলাদিত্য’, ‘অনুষ্টুপ’ প্রভৃতি ছাড়াও সাপ্তাহিক জনপ্রিয় সংবাদ সাময়িকী ‘প্রতিক্ষণ’ কম কিনিনি! এগুলোর জন্য মুখিয়ে থাকতাম। না পেলে মন ভীষণ খারাপ হয়ে যেতো। ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাসের কাগজ ‘ভারতবিচিত্রা’ও এখান থেকে সংগ্রহ করেছি। শিশু সাময়িকী ‘আনন্দমেলা, ‘সন্দেশ’ ‘ধ্রুবতারা’ এক সময় মন্টুদা সংগ্রহ করে আনতেন। তাও কিনেছি। মনে পড়ে এক সময় সাপ্তাহিক ‘চিত্রালী’, ‘পূর্বাণী’ ও ‘সিনেমা’ পত্রিকা নিয়মিত কিনেছি তাঁর দোকান থেকে। রাহুল দত্ত, ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতি সে ছিল অসম্ভব সিনেমা পাগল। সিনেপত্রিকাগুলো মাঝেমাঝে তাকে দেখাতাম। চোখ বড় বড় করে সে পড়ত। রক্তে তার যে বইছে মামা ঋত্বিক ঘটকের রক্ত চলচ্চিত্র তো তাকে পাগল করবেই। রাহুল যদি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী না হতো তাহলে আজকে সে বড় চলচ্চিত্রকার হতোই।

স্মরণ হচ্ছে মন্টুদার দোকান থেকে কিনেছি বহু লিটল ম্যাগাজিন। যে-ই লিটল ম্যাগাজিন বের করুক না কেন মন্টুদার দোকান ছাড়া উপায় নেই। মন্টুদা যতœসহকারে সেটা ঝুলিয়ে রাখতেন। নতুন, পুরাতন কাস্টমার এলে বলতেন, এটা নেন ভালো কাগজ। এভাবে পিআর এর মাধ্যমে মন্টুদা লিটল ম্যাগ আন্দোলনকে এখনো পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছেন। মনে পড়ছে লুকিয়ে লুকিয়ে রাতের বেলা কিনেছি ‘নরনারী’, ‘কামনা’, ‘ললনা’, ‘চিকিৎসা’ প্রভৃতি যৌন পত্রিকাও। হাতে নিয়েই মুড়ে ফেলতাম। তিনি মুচকি হাসতেন। ভাবতে আশ্চর্য লাগে যে, মন্টুদার চোখের সামনে আমরা লক লক করে বেড়ে উঠেছি লজ্জামেশানো বয়স নিয়ে কিন্তু টের পাইনি।

এখন কত বিচিত্র পত্রপত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। ছোট্ট দোকানটিতে জায়গা দেয়া যাচ্ছে না এত বিস্তর কাগজ প্রতিদিনই আসছে। শিক্ষিতের হার যেমন বাড়ছে তেমনি পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। ডিজিটাল যুগেও প্রিন্টিং এখনো জনপ্রিয়। এক কুমিল্লা শহর থেকেই এখন ট্যাবলয়েড সাইজের ১০-১২টির বেশি রঙিন দৈনিক ও সাপ্তাহিক খবরের কাগজ প্রকাশিত হচ্ছে। সেগুলো টানানো আছে মন্টুদার দোকানে। আমার সম্পাদিত ‘কিশোরচিত্র’ পত্রিকাটিও তিনি স্থান করে দিয়েছেন তাঁর দোকানে। এক সময় আমার ‘মানচিত্র’ কাগজটিও মন্টুদার দোকানে ঝোলানো থাকতো।

মন্টুদার পত্রিকার দোকান এই কুমিল্লা শহরের অন্যতম একটি মুখ, পরিচিতি ও ঐতিহ্য। কুমিল্লার মুদ্রণ সংস্কৃতির প্রদর্শনকেন্দ্র কিংবা বলা যায় সংবাদপত্রের এক চলমান জাদুঘর।

মন্টুদার দীর্ঘায়ু জীবন কামনা করি। তিনি আগামী আরও বহুদিন আমাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকুন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রবীর বিকাশ সরকার : সম্পাদক, কিশোরচিত্র।(ডিনিউজ)