Showing posts with label ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label ইসলাম. Show all posts

Saturday, October 24

বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে কানাইঘাটে নাগরিক সংবর্ধনা

বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে কানাইঘাটে নাগরিক সংবর্ধনা


নিজস্ব প্রতিবেদক:

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হিফজুল কোরআন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে তাঁর নিজ জন্মভূমি সিলেটের কানাইঘাটে বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজয়ী এই কৃতি সন্তানকে কাছে পেয়ে আনন্দ, ভালোবাসা ও গর্বে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষক, সহপাঠী, স্বজন ও এলাকাবাসী।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ মাদরাসা মাঠে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে এ নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননায় সিক্ত হন হাফেজ হিরা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণে পরিণত হন স্বয়ং হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা। তাঁর সুললিত কণ্ঠের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতে পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে এক আবেগঘন ও মুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন হিরার গর্বিত পিতা এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনওয়ারুল হক।

৯ নম্বর রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় কুরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা যুবায়ের আহমদ চৌধুরী। তরুণ আলেম মাওলানা খালেদ আহমদ ও মাওলানা নজরুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, মাওলানা আমিমুল ইহসান শামীম, মাওলানা রায়হান উদ্দিন, মাওলানা ইমরান হোসাইন, মাওলানা আলী আবেদীন, মাওলানা শাহেদ আহমদ, মাওলানা সাঈদ আহমদ, মাওলানা আব্দুল জলিল, হাজী মুদরিছ আলী, ইউপি সদস্য মাহবুবুর রহমান চুনু ও ফয়ছল আহমদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক আলেম-ওলামা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা শাহ ওলিউর রহমান।


উল্লেখ্য, সম্প্রতি মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বিশ্বের শতাধিক দেশের সেরা প্রতিযোগীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতা। কয়েক ধাপের তীব্র বাছাই শেষে ৩৮টি দেশের প্রতিযোগী মূল পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান। সেই বিশ্বমঞ্চে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে হিফজুল কোরআন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন বাংলাদেশের প্রতিযোগী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা।

আন্তর্জাতিক এ আসরটির উদ্বোধন করেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। সমাপনী পর্বে দেশটির ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান চ্যাম্পিয়ন হিরার হাতে সম্মাননা ট্রফি, নগদ ৪০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ৩ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের একটি স্বর্ণের বার এবং ৫ হাজার রিঙ্গিত সমমূল্যের ওমরাহ প্যাকেজ তুলে দেন। হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা রাজধানীর মিরপুর-১-এ অবস্থিত বিশিষ্ট ক্বারী নাজমুল হাসানের প্রতিষ্ঠান ‘মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামী’র শিক্ষার্থী।

Thursday, June 18

মহানবীর (সা.) জীবন থেকে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

মহানবীর (সা.) জীবন থেকে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

 


মানব ইতিহাসের সবচেয়ে চমৎকার ভারসাম্যের উদাহরণ হলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি ছিলেন আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা, তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ নেতা। মানবীয় কোনো দুর্বলতা ছাড়াই তিনি ছিলেন একজন অনুকরণীয় মানুষ।

মহানবীর (সা.) সীরাত বা জীবনী পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, মহানবীর জীবন-ভারসাম্য শুধু কোনো তাত্ত্বিক কথা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি বাস্তব জীবনপদ্ধতি। পবিত্র কোরআনের সূরা আহযাবের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মাঝে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবনীতে এই ভারসাম্য ও মধ্যপন্থার অনবদ্য প্রতিফলন ঘটেছে। বিশৃঙ্খল এই পৃথিবীতে কীভাবে নিজের জীবনে স্থিতি ও ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, তার জীবন থেকে এমন ৭টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো:

১. ইবাদত ও জাগতিক দায়িত্বের সমন্বয়

মহানবী (সা.) সবসময় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। ইবাদতের পাশাপাশি তিনি শিখিয়েছেন ধর্ম মানুষের জন্য সহজ, কঠিন কিছু নয়। একবার তিনজন সাহাবী সারাজীবন রোজা রাখা, সারা রাত জেগে নামাজ পড়া এবং বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিলে নবীজী (সা.) তাদের এই ভুল ধারণা সংশোধন করে দেন।

বুখারী শরীফের একটি হাদিসে তিনি বলেন, আমি রোজা রাখি আবার তা ভঙ্গও করি, নামাজ পড়ি এবং ঘুমাাই, আর নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে আমার এই সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।

২. মানুষের অধিকার রক্ষা

জীবনে ভারসাম্য আনার জন্য যার যা প্রাপ্য বা অধিকার, তা সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি। হজরত সালমান ফারসি (রা.) যখন দেখলেন যে হজরত আবু দারদা (রা.) অতিরিক্ত ইবাদত করতে গিয়ে নিজের শরীর ও পরিবারের প্রতি অবহেলা করছেন, তখন তিনি তাকে বাধা দেন। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) সালমান (রা.)-এর এই বুদ্ধিমত্তাকে সমর্থন করে বলেন, তোমার শরীরের যেমন অধিকার আছে, তেমনি তোমার পরিবার এবং অতিথিদেরও তোমার ওপর অধিকার রয়েছে।

৩. দয়া ও কঠোরতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য

রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন দয়ার মূর্ত প্রতীক, তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অবিচল। ব্যক্তিগত কোনো অপমানের জন্য তিনি কখনো প্রতিশোধ নেননি। কিন্তু যখনই কোনো দুর্বল মানুষের অধিকার খর্ব করা হতো কিংবা আল্লাহর নির্ধারিত সীমার অবমাননা হতো, তখন তিনি কঠোর অবস্থান নিতেন।

তার জীবন থেকে শেখা যায় যে, দয়া করার অর্থ সত্যের সাথে আপস করা নয়, আবার দৃঢ় থাকার অর্থ নিষ্ঠুরতা নয়।

৪. কোমলতার সাথে ভুল সংশোধন

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা দেওয়ার মূল পদ্ধতিই ছিল মানুষকে তিরস্কার না করে সংশোধন করে দেওয়া। একবার এক বেদুইন মসজিদে নববীর ভেতরেই প্রস্রাব করে দিলে সাহাবীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কিন্তু নবীজী (সা.) তাদের শান্ত করেন। তিনি অপরাধীর আত্মসম্মান বজায় রেখে তাকে সঠিক নিয়মটি বুঝিয়ে দেন।

বর্তমান সময়ে সন্তান লালন-পালন বা শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও শাস্তি নয় বরং স্নেহের সাথে বোঝানোই হলো নববী আদর্শ।

৫. আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে শোক প্রকাশ

ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক আবেগ-অনুভূতিকে দমন করতে বলে না, বরং তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। নিজের শিশুপুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুর পর মহানবী (সা.)-এর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়েছিল।

তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, প্রিয়জনের বিদায়ে চোখ অশ্রুসিক্ত হতে পারে এবং হৃদয় ব্যথিত হতে পারে, তবে তা যেন ঈমানের গণ্ডি পেরিয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি কোনো ধরনের ক্ষোভ বা হতাশার রূপ না নেয়।

৬. পারিবারিক জীবনে ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতা

পারিবারিক জীবনে মহানবী (সা.) ঘরের মানুষদের থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ ছিলেন না। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সবসময় ঘরের কাজে স্ত্রীদের সাহায্য করতেন এবং সাংসারিক সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতেন। গভীর ভালোবাসার পাশাপাশি পরিবারের সবার মাঝে শতভাগ সমতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতেন তিনি।

৭. কৌশলগত নেতৃত্বে পরিকল্পনা ও আল্লাহর ওপর ভরসা

মহানবী (সা.) ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী মানুষ, কিন্তু তিনি কখনো হঠকারিতা দেখাননি। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় তিনি সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল ও পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী বেছে নিয়েছিলেন, দক্ষ পথপ্রদর্শক ভাড়া করেছিলেন এবং শত্রুকে ফাঁকি দিতে ভিন্ন পথ ব্যবহার করেছিলেন। নিজের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিখুঁত পরিকল্পনা সম্পন্ন করার পরই তিনি গুহার ভেতর সাহাবীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।

অর্থাৎ, নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সঠিক পরিকল্পনার সাথে আল্লাহর ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুলের মেলবন্ধনই হলো প্রকৃত ভারসাম্য।

শেষ কথা

আজকের আধুনিক যুগে যে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের জীবনে শান্তি ও স্থিতি খুঁজছে, তাদের জন্য মহানবী (সা.)-এর জীবনই একমাত্র বাস্তবমুখী পথপ্রদর্শক।

সমাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়েও কীভাবে একজন খাঁটি বিশ্বাসী হওয়া যায়, অহংকারী না হয়েও কীভাবে একজন শক্তিশালী নেতা হওয়া যায় এবং অন্যের দ্বারা প্রতারিত না হয়েও কীভাবে দয়ালু হওয়া যায়—তার অনন্য এক রূপরেখা পাওয়া যায় মহানবীর এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনদর্শনে।

Tuesday, June 16

শিশুকে নামাজে আগ্রহী করার ১০ উপায়

শিশুকে নামাজে আগ্রহী করার ১০ উপায়

 


শাহাদাহ বা কালিমার পর ইসলামে নামাজের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব দিতে হবে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং অভ্যাসে পরিণত করা প্রত্যেক মা-বাবার জন্য জরুরি।

শিশুরা যেন নামাজকে শুধু মা-বাবার আদেশ বা বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখে, বরং তাদের মনে যেন স্রষ্টার সঙ্গে কথা বলার গভীর আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় তা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। সন্তানকে কীভাবে নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলবেন, সে বিষয়ে ১০টি পরামর্শ তুলে ধরা হলো—

১. নিজেই উদাহরণ হোন

শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তারা যা দেখে তা-ই শেখে। তাই আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অজু করা এবং নামাজের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়গুলো আপনার সন্তানকে দেখতে দিন। আপনি যখন নামাজকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে গুরুত্ব দেবেন, আপনার সন্তানও বড় হওয়ার সাথে সাথে সেই শিক্ষাটিই মনে ধারণ করবে। তাকে বলতে পারেন,আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় হয়ে গেছে, দেরি করা যাবে না।

২. ছোট থেকেই শুরু করুন

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়স থেকেই নামাজের নির্দেশ দাও। ১০ বছর বয়সে তারা নামাজ না পড়লে শাসন করো। যদিও সাত বছরের আগে নামাজ ফরজ নয়, তবুও ছোটবেলা থেকেই বাড়ির পরিবেশ এমন রাখা উচিত যেন তারা নামাজের গুরুত্ব বুঝতে পারে।

৩. নামাজের নির্দিষ্ট স্থান বা মুসল্লা

সম্ভব হলে বাড়িতে নামাজের জন্য একটি আলাদা ঘর বা কক্ষের নির্দিষ্ট কোণ বরাদ্দ রাখুন। এতে শিশুরা বুঝবে যে নামাজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের শেখাতে হবে যে এই জায়গাটি শুধু নামাজের জন্য এবং এটি সবসময় পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখতে হবে।

৪. পুরস্কারের ব্যবস্থা

শিশুদের নামাজের গুরুত্ব বুঝান এবং তারা নামাজের প্রতি আগ্রহী হলে এবং নিয়মিত নামাজ পড়লে তাদেরকে পুরস্কার দিন।

৫. সাত বছর বয়সে নামাজের উৎসব

আপনার সন্তানের বয়স যখন সাত বছর পূর্ণ হবে, তখন তার জন্য একটি ছোটখাটো প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেন। তাকে নতুন জায়নামাজ, টুপি, হিজাব বা তসবিহ উপহার দিন। এতে সে নিজেকে বড় মনে করবে এবং গর্বের সাথে নিয়মিত নামাজ পড়ার প্রতি আগ্রহী হবে।

৬. আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরুন

আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে নামাজ শুধু একটি শারীরিক কসরত বা প্রথা মনে হতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে আল্লাহর অসীম কুদরত এবং করুণার গল্প শোনান। আল্লাহ যে আমাদের সব দিয়েছেন এবং আমাদের রক্ষা করেন—এই বোধ তাদের মনে আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সংযোগ তৈরি করবে।

৭. প্রিয় নবীকে (সা.) আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করা

সন্তানের সামনে নিয়মিত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী বা সিরাত নিয়ে আলোচনা করুন। তিনি আমাদের জন্য যে রোল মডেল, তা গল্পের মাধ্যমে বুঝিয়ে বলুন। যখন তারা প্রিয় নবীকে ভালোবাসতে শিখবে, তখন স্বতস্ফূর্তভাবেই তারা নবীজির মতো নামাজ আদায় করতে চাইবে।

৮. ধীরে ধীরে শুরু করুন

হঠাৎ করেই দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে শুরু করুন। প্রথমে এক ওয়াক্ত, এরপর দুই ওয়াক্ত—এভাবে অভ্যস্ত করালে তাদের ওপর কোনো মানসিক চাপ তৈরি হবে না।

৯. ধারাবাহিকতা বজায় রাখা

অনেক সময় শিশুরা অলসতা করতে চায় বা নামাজ পড়তে অনীহা দেখায়। বিশেষ করে ১০ বছর বয়স হয়ে গেলে এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। মা-বাবা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো শত ব্যস্ততার মাঝেও যেন তারা নামাজ মিস না করে সেদিকে নজর রাখা। অভ্যাসে পরিণত করার জন্য ধারাবাহিকতার কোনো বিকল্প নেই।

১০. জামাতে বা পরিবারের সাথে নামাজ পড়া

পরিবারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির জন্য দিনে অন্তত একবার সবাই মিলে জামাতে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করুন। বাবা ইমামতি করবেন এবং ছেলে সন্তান বড় হলে তাকে আজান দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া নিয়মিত জুমার নামাজ এবং ঈদের নামাজে তাদের সাথে নিয়ে যান। বড় জামাতে সবাইকে একসাথে নামাজ পড়তে দেখলে তাদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয় এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।

বিপদ থেকে সুরক্ষার দোয়া ও আমল

বিপদ থেকে সুরক্ষার দোয়া ও আমল

 


মানুষের জীবন সবসময়ই অনিশ্চয়তার মধ্যে আবর্তিত। এক মুহূর্তে সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকা মানুষ পরের মুহূর্তেই রোগ, দুর্ঘটনা কিংবা অপ্রত্যাশিত বিপদের সম্মুখীন হতে পারে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে মানুষের ক্ষতিকর আচরণ সবকিছু মিলিয়ে জীবনের নিরাপত্তা সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ। এই বাস্তবতায় একজন বিশ্বাসী মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা ও নিরাপত্তার আশ্রয় হলো মহান আল্লাহর স্মরণ ও তাঁর কাছে প্রার্থনা।

ইসলামে দোয়া শুধু ইবাদতই নয়, বরং এটি মুমিনের আত্মিক শক্তি ও মানসিক প্রশান্তির অন্যতম উৎস। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বান্দাদের দোয়ার প্রতি উৎসাহ দিয়ে বলেন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সূরা গাফির: ৬০)। এই ঘোষণা মূলত মানুষের জন্য এক অপার আশ্বাস যে আল্লাহ তাঁর বান্দার ডাকে সাড়া দিতে সর্বদা প্রস্তুত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর উম্মতকে বিভিন্ন দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যেগুলোর মধ্যে কিছু দোয়া বিশেষভাবে নিরাপত্তা ও হেফাজতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে একটি বহুল পরিচিত দোয়া হলো-

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

অর্থ: “আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামের সাথে কোনো কিছুই আসমান ও জমিনে ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।”

এই দোয়া সম্পর্কে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে তিনবার এবং সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পাঠ করবে, আল্লাহর অনুমতিতে কোনো অনিষ্ট তার ক্ষতি করতে পারবে না। (তিরমিজি: ৩৩৮৮)

অন্য বর্ণনায় এই দোয়ার ব্যাপারে আরও বলা হয়েছে যে, এটি নিয়মিত পাঠ করলে মানুষ বিভিন্ন ধরনের রোগ, শারীরিক কষ্ট এবং অজানা বিপদ থেকেও সুরক্ষা লাভ করে। পাশাপাশি এটি অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি তৈরি করে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা আরও দৃঢ় করে তোলে।

এই আমল করার নিয়ম খুবই সহজ। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনবার এবং মাগরিবের নামাজের পর তিনবার এই দোয়া পাঠ করা সুন্নতসম্মত আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুধু পাঠ করাই যথেষ্ট নয়, বরং অর্থ অনুধাবন করে, আন্তরিক বিশ্বাস ও একাগ্রতার সাথে দোয়া করলে এর প্রভাব ও আত্মিক অনুভূতি আরও গভীর হয়।

বর্তমান জীবনে মানুষ প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নানা ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে, পরিবারকে এবং সমাজকে নিরাপদ রাখার জন্য এই ধরনের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো জীবনের অংশ করে নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

ইসলাম দোয়ার মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের শিক্ষা দেয়। তাই নিয়মিত এই দোয়া পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন যেমন আত্মিক শক্তি অর্জন করতে পারে, তেমনি আল্লাহর রহমত ও নিরাপত্তার ছায়াতেও নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

Saturday, June 13

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি, মৃত্যু ৪৯ জন

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি, মৃত্যু ৪৯ জন


 পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৫২ হাজার ৪৯১ জন হাজি। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ফিরেছেন ৪ হাজার ২৮৯ জন হাজি। বেসরকারি মাধ্যমে ফিরেছেন ৪৮ হাজার ২০২ জন। বাংলাদেশ সময় ১২ জুন রাত ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে এসব জানানো হয়েছে হজ বুলিটিনে। একই সময়ে সৌদিতে হজে গিয়ে মারা গেছেন ৪৯ জন।

দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২১ হাজার ৯২০ জনকে, সৌদি এয়ারলাইন্স ১৮ হাজার ৮৮০ জনকে, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৮ হাজার ৩৮০ জনকে পরিবহন করেছে। অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন ৩ হাজার ৩১১ জন।

এখন পর্যন্ত ফিরতি ফ্লাইট সংখ্যা ১২৩টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৫৫টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪৭টি, ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

হজে গিয়ে সৌদি আরবে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬২ হাজার ২৪৩ জন। আর এখন পর্যন্ত দেশেটিতে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ বাংলাদেশি হাজির।

হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে, যা চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।