নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিলেটের কানাইঘাটে চোরাকারবারিদের ভারতীয় জিরাবোঝাই পিকআপের ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ঢাকায় নেওয়ার পথে নিহত ফারুক আহমদ (৫৫)-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের আগ্রীপাড়া জামে মসজিদ মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে আগ্রীপাড়া গ্রামের কবরস্থানে ফারুক আহমদকে দাফন করা হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে ফারুক আহমদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। দরিদ্র দিনমজুর ফারুকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সুরইঘাট-বড়বন্দ সীমান্ত এলাকায় বেপরোয়া চোরাচালান বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহত ফারুক আহমদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে তার বাড়িতে যান কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস। ইউএনওর উপস্থিতির খবর পেয়ে জানাজায় অংশ নেওয়া লোকজনসহ এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হন।
এ সময় স্থানীয়রা ইউএনওর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফারুক আহমদ একজন হতদরিদ্র দিনমজুর ছিলেন। সুরইঘাট বাজারে বিভিন্ন মালামালের বস্তা বহন করে তিনি সংসার চালাতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে সুরইঘাট বাজারে ভারতীয় জিরাবোঝাই একটি পিকআপকে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করলে সেটি দ্রুতগতিতে বাজারের দিকে চলে আসে। তাদের দাবি, পিকআপটির গ্লাস লাঠি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় এবং পরে গাড়িটি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে। একপর্যায়ে ইট নিক্ষেপের ঘটনায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফারুক আহমদ ও আম্বিয়া মিয়াকে সজোরে ধাক্কা দিলে তারা আহত হন। পরে গুরুতর আহত ফারুককে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় কার—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকা ও সুরইঘাট বাজারসহ আশপাশের এলাকায় বেপরোয়া চোরাচালান বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস। তিনি বলেন, তিনি সদ্য কানাইঘাটে যোগদান করেছেন। সকল মহলের সহযোগিতা নিয়ে চোরাচালান প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে ইউএনও আরও বলেন, মামলার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) মাধ্যমে নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফারুক আহমদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।
এর আগে ইউএনও সুমাইয়া ফেরদৌস সুরইঘাট বাজারের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বাজারের ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার বিষয়ে তথ্য নেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার, কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এদিকে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, ফারুক আহমদ নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়