নিজস্ব প্রতিবেদক :
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানীর সহকারী ও খেতাবপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টায় সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভার নন্দিরাই পশ্চিম জামে মসজিদ মাঠে দ্বিতীয় দফা জানাজার নামাজ শেষে মহল্লার কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা তজম্মুল আলীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তজম্মুল আলী। বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা ২টায় ঢাকার পল্টন জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ গ্রামের বাড়ি কানাইঘাট পৌরসভার নন্দিরাই গ্রামে নিয়ে আসা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে গার্ড অব অনার শেষে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জানাজার নামাজে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
তজম্মুল আলী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় তিনি বাক ও শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এরপর জীবনের বাকি সময়টুকু তিনি বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী অবস্থায় কাটিয়েছেন।
স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধকালীন সহযোদ্ধা জেনারেল ওসমানীর সহযোগিতায় ঢাকার পুরানা পল্টনে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত বাসস্থানে বসবাস শুরু করেন তিনি। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৪ বছর সেখানেই কাটিয়েছেন এই সরল-সহজ মানুষটি।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, জীবনে কারও কাছে কিছু চাননি তজম্মুল আলী। নিজের কষ্ট কিংবা অভিমানও প্রকাশ করেননি কখনো। মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা এই বীর যোদ্ধা নীরবে-নিভৃতে কাটিয়েছেন জীবনের শেষ দিনগুলো।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তজম্মুল আলী কানাইঘাট পৌরসভার নন্দিরাই গ্রামের মরহুম তছদ্দর আলীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে কানাইঘাটের মুক্তিযোদ্ধা সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়