নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের কানাইঘাটে ভারতীয় জিরাবোঝাই চোরাকারবারিদের পিকআপের ধাক্কায় গুরুতর আহত ফারুক আহমদ (৬৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ফারুক আহমদ কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের আগ্রীপাড়া গ্রামের মৃত মতসিন আলীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি এলাকা দিয়ে একটি টাটা পিকআপে করে ভারতীয় জিরা নিয়ে আসছিল চোরাকারবারিরা। এ সময় সুরইঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা পিকআপটি আটক করতে পেছন থেকে ধাওয়া করেন।
বিজিবির ধাওয়া খেয়ে পিকআপচালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে সুরইঘাট বাজারের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাজার পয়েন্টে ফারুক আহমদ ও আম্বিয়াকে সজোরে ধাক্কা দেন। এতে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় ফারুক আহমদের দুই পা ভেঙে যায়। পরে বাজারের লোকজনের সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা পিকআপটি আটক করতে সক্ষম হলেও চালক পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত আহত দুজনকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফারুক আহমদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আটক পিকআপে থাকা ভারতীয় জিরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে সীমান্তবর্তী সুনারতনপুঞ্জি গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, বাগরা গ্রামের আনিছুল হকের ছেলে সাজনসহ আরও কয়েকজনের নাম স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। পলাতক চালক হিসেবে ভাউরভাগ ৪র্থ খণ্ড গ্রামের মৃত ফরিদ আহমদের ছেলে তুলি মিয়ার নামও জানা গেছে।
কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নিজাম উদ্দিন বলেন, আহত ফারুক আহমদ ও আম্বিয়া তার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ফারুক আহমদ সুরইঘাট বাজারে দিনমজুরের কাজ করতেন। সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে আসা পণ্যবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতির কারণে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। এলাকায় চোরাচালান বন্ধে বিজিবি ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সুরইঘাট বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারতীয় পণ্যবোঝাই যানবাহন প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে বাজার ও আশপাশের সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এতে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করতে হয়। তারা চোরাচালান বন্ধের পাশাপাশি এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল আহত হওয়া লোকটি মারা গেছে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপের কাজ চলছে।’
ফারুক আহমদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়