Monday, August 10

সুরমার বালুমহাল নিয়ে উ'ত্তেজনা! উত্তোলনে বাধা, ফেসবুকে হুমকি-অপপ্রচার


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুরমা নদীর নওয়াগাঁও বালুমহাল ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য ভ্যাট-করসহ ২ কোটি ৫ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়ার পর বালু উত্তোলনে বারবার বাধার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ করেছেন ইজারাদার চন্দন তালুকদার। তাঁর অভিযোগ, কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমানে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী জাবের আশরাফ চৌধুরীর লোকজন বালু উত্তোলনে বাধা, শ্রমিকদের মারধর, যন্ত্রপাতি ক্ষতিসাধন এবং ফেসবুকে হুমকি ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

ইজারাদার সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নওয়াগাঁও বালুমহালটি ইজারাদারের কাছে বুঝিয়ে দেয়। এরপর ইজারার শর্ত মেনে সুরমা নদীর নির্ধারিত অংশ থেকে বালু উত্তোলন শুরু করা হয়। তবে এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ইজারাদারের।

চন্দন তালুকদারের দাবি, জাবের আশরাফ চৌধুরী তাঁর স্বার্থ হাসিলের জন্য স্থানীয় কিছু লোককে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বালু উত্তোলনে বাধা দিচ্ছেন। তাঁর পক্ষের লোকজন অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের নামে লোকজন জড়ো করে ইজারাদারের শ্রমিকদের মারধর, ড্রেজারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ক্ষতিসাধন এবং বালুবাহী নৌকা আটকের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইজারাদারের আরও দাবি, এসব ঘটনার কারণে বারবার বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

তবে নওয়াগাঁও বালুমহালটি জকিগঞ্জ উপজেলার সুরমা নদীর অংশে অবস্থিত হলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বালু উত্তোলনে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন ইজারাদার। তাঁর অভিযোগ, কানাইঘাটের কিছু লোকজনের মাধ্যমে বালুমহালটি কানাইঘাটের সুরমা নদীর অংশে পড়েছে,এমন অভিযোগ তুলে প্রশাসন ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একের পর এক অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ইজারাদার চন্দন তালুকদার বলেন, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টাস্কফোর্স, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসন কয়েক দফা বালুমহাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে। তাঁর দাবি, অভিযানে নওয়াগাঁও বালুমহালের নির্ধারিত এলাকা ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এদিকে জাবের আশরাফ চৌধুরীকে ঘিরে অতীতের বালু ব্যবসা নিয়েও অভিযোগ করেছেন ইজারাদার। তাঁর দাবি, বিগত সরকারের সময়ে কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সুরমা নদীর কানাইঘাট-রাজাগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বৈধ-অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় জাবের আশরাফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ওই মামলার পর তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান বলেও দাবি করেন চন্দন তালুকদার।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাবের আশরাফ চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ইজারাদার চন্দন তালুকদারের অভিযোগ, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে জাবের আশরাফ চৌধুরী তাঁর নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নওয়াগাঁও বালুমহালের ইজারাদারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করছেন। এসব পোস্টে ইজারাদার ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য, গুজব, উসকানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চন্দন তালুকদার। তাঁর দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে ইজারা নেওয়ার পরও যদি এভাবে বাধা, হামলা ও অপপ্রচারের শিকার হতে হয়, তাহলে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে বালুমহাল পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জাবের আশরাফ চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।


শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়