Tuesday, August 4

বন্ধ লোভাছড়া পাথর কোয়ারী নিয়ে নতুন আশার আলো, মাঠে ডিএমডি পরিচালক


নিজস্ব প্রতিবেদক :

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী দেশের অন্যতম প্রাচীন লোভাছড়া পাথর কোয়ারী। কোয়ারীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশগত পরিস্থিতি এবং জব্দকৃত পাথরের অবস্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (ডিএমডি)-এর পরিচালক মো. রুহুল আমীন। একই সঙ্গে আয়োজিত গণশুনানিতে ব্যবসায়ী, শ্রমিক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা এক কণ্ঠে লোভাছড়া পাথর কোয়ারী দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

সোমবার (৩ আগস্ট) পরিচালক মো. রুহুল আমীন লোভাছড়া কোয়ারী এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের জব্দ করা বিপুল পরিমাণ পাথরের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপস চক্রবর্তী তুষার এবং উপজেলা ভূমি অফিসের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে পাথর ব্যবসায়ী, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা লোভাছড়া পাথর কোয়ারী পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, কোয়ারী বন্ধ থাকায় হাজারো শ্রমিক ও ব্যবসায়ী চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ লিখিত ও মৌখিকভাবে তাদের মতামত তুলে ধরেন। অধিকাংশ বক্তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় লোভাছড়া পাথর কোয়ারী পুনরায় চালুর আহ্বান জানান।

জানা গেছে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে লোভাছড়া পাথর কোয়ারীর লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উত্তোলিত প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ ঘনফুট পাথর পরিবেশ অধিদপ্তর জব্দ করে। একই সময় সরকারি সিদ্ধান্তে লোভাছড়াসহ দেশের সব পাথর কোয়ারী বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর জব্দকৃত পাথরের মালিকানা ও নিলাম নিয়ে একাধিক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন।

এদিকে, গত বছর জব্দকৃত পাথরের মধ্যে ৪৪ লাখ ঘনফুট পাথর তিন মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে সব পাথর উত্তোলন করতে না পারায় ক্রেতা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় লোভাছড়া পাথর কোয়ারী চালুর বিষয়ে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমডির পরিচালক মো. রুহুল আমীন বলেন, “সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে দেশের সব পাথর কোয়ারী চালুর বিষয়ে আন্তরিক। লোভাছড়া পাথর কোয়ারীর বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে আইনি জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে দ্রুত লোভাছড়া পাথর কোয়ারী পুনরায় চালু হবে। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্থানীয় অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন এবং সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।


শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়