Monday, June 22

মরদেহের অপেক্ষায় কানাইঘাটে স্বজনদের আর্তনাদ


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক:

একগুচ্ছ স্বপ্ন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যাশা আর স্বজনদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কেউ চার বছর ধরে প্রবাসজীবনের কষ্ট সয়ে আগামী মাসে দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, কেউবা সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে দিন-রাত পরিশ্রম করছিলেন। কিন্তু সব স্বপ্ন থেমে গেল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়।

রোববার (২১ জুন) সকালে কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের মোস্তাক আহমদ (৩০) ও জুবায়ের আহমদ (৩০), আগতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩০), আমরপুর গ্রামের জিবাল আহমদ (৩৬) এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি নয়াগ্রামের কাদির আহমদ (২৪)। নিহত কাদির আহমদের স্বজনরা জানান, চার বছর আগে জীবিকার সন্ধানে কাতারে যান তিনি। আগামী মাসে ছুটিতে দেশে ফেরার কথা ছিল। পরিবারও তার ফেরার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু দেশে ফেরার বদলে এলো মৃত্যুর খবর। এখন তারা মরদেহের অপেক্ষায় আছেন।

অন্যদিকে তিন বছর আগে কাতারে পাড়ি জমান জসিম উদ্দিন। দুই সন্তানের এই জনকের উপার্জনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল পুরো পরিবার। একইভাবে পাঁচ সন্তানের বাবা জিবাল আহমদও পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় প্রবাসজীবন বেছে নিয়েছিলেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় কাজের উদ্দেশ্যে কাতারের দোহা থেকে একটি পিকআপে করে আল-শাহানিয়া শহরের দিকে যাচ্ছিলেন তারা। পথিমধ্যে আল শাহানিয়া শহরের সামাল এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা এক ভারতীয় নাগরিকও প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করে কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত কাদির আহমদের পিতা বাহার উদ্দিন জানান, চার বছর আগে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে তার ছেলে কাতারে গিয়েছিলেন। আগামী মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল। নিহত জসিম উদ্দিনের স্ত্রী শাহিনা বেগম জানান, তিন বছর আগে জীবিকার তাগিদে তার স্বামী কাতারে যান। পুরো পরিবার তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল। স্বামী মারা যাওয়ায় দুই সন্তানকে নিয়ে এখন কীভাবে জীবন যাপন করবেন, তা ভেবে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কানাইঘাটের ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল লতিফ বলেন, নিহত পাঁচজনই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয়জনদের মরদেহগুলো ফেরত চায় তারা। নিহতদের মরদেহ সরকারি খরচে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।


শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়