Showing posts with label স্বাস্থ্য. Show all posts
Showing posts with label স্বাস্থ্য. Show all posts

Tuesday, August 4

কানাইঘাটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের আলোচনা সভা

কানাইঘাটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের আলোচনা সভা


নিজস্ব প্রতিবেদক
:

“জীবনের টেকসই সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান, কার্যকর উদ্যোগসমূহকে করি বেগবান” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কানাইঘাটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে কমিউনিটি মোবিলাইজেশন প্রোগ্রাম ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় কানাইঘাট পৌরসভার রামপুরে সীমান্তিক অফিসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গর্ভবতী ও নবজাতকের মায়েদের মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব, শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সুষম পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আলোচনা সভায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য রাখেন কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আবুল হারিছ। তিনি বলেন, জন্মের পরপরই শিশুকে মায়ের শালদুধ খাওয়ানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ পান নিশ্চিত করা শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির (এসএমসি) অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় এবং সীমান্তিকের বাস্তবায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এইচএ আমিনুল ইসলাম, এএইচআই সাইদ আহমদ, প্যারামেডিক তাহমিনা আক্তার সেবি, উপজেলা সুপারভাইজার মো. আবুল কালাম এবং সিএম মিলি রানী দাস।

অনুষ্ঠানে গর্ভবতী ও নবজাতকের মায়েসহ প্রায় ৩০ জন নারী অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, মাতৃদুগ্ধের পুষ্টিগুণ এবং শিশুর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং জেএমপি পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টির অবস্থা নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা প্রদান করা হয়।

বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 

Sunday, July 12

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে কানাইঘাটে উৎসবমুখর আয়োজন, সম্মাননা পেলেন শ্রেষ্ঠ কর্মীরা

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে কানাইঘাটে উৎসবমুখর আয়োজন, সম্মাননা পেলেন শ্রেষ্ঠ কর্মীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক : 

“তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সিলেটের কানাইঘাটে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং শ্রেষ্ঠ কর্মী ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের মাঝে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিবার পরিকল্পনা হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আবুল হারিছ।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক তানভীর জাহান চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমএসি’র পিও-সিএম (কমিউনিটি মবিলাইজেশন প্রোগ্রাম) মো. হুমায়ুন কবির।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মুজিবুর রহমান, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নাহিদ আহমদ শিব্বির, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শাহরিয়া আক্তার, সীমান্তিকের উপজেলা সুপারভাইজার মো. আবুল কালাম এবং কানাইঘাট প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সুজন চন্দ অনুপ।

আলোচনা সভায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের সাফল্য, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পরিবার পরিকল্পনা সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ মাতৃত্ব, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার কল্যাণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ কর্মী ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

এ বছর শ্রেষ্ঠ কর্মী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সোহেল আহমদ, দিঘীরপাড় পূর্ব মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা চন্দনা রানী চন্দ, রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ সহকারী অর্পনা রানী চক্রবর্তী এবং ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার জাবেদ আহমদ।

অন্যদিকে, পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে দিঘীরপাড় পূর্ব মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এবং সাতবাঁক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র।

Monday, July 6

কানাইঘাট হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপিসহ শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

কানাইঘাট হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপিসহ শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান। সোমবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর বিভাগ ঘুরে দেখা হয় এবং চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাংসদ আবুল হাসানের আমন্ত্রণে পরিদর্শনে অংশ নেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. আখলাক উদ্দিন, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম, সহকারী পরিচালক (রোগ নির্ণয়) ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত।

হাসপাতালে পৌঁছালে অতিথিদের স্বাগত জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান শাকিল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবল চন্দ্র বর্মণসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়রা হাসপাতালের জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সভায় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর উদ্যোগেই স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চপর্যায়ের এ পরিদর্শনের আয়োজন হয়েছে। তিনি জানান, সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীর বিপুলসংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং খুব শিগগিরই কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকট ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ৫০ শয্যার হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা ইতোমধ্যে তিনি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই পরিদর্শনের মাধ্যমে হাসপাতালের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান এবং চিকিৎসাসেবার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সবাইকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ সময় সিলেট জেলা ও কানাইঘাট উপজেলা খেলাফত মজলিশের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Thursday, June 18

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

 


সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৫৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার নয় জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮৯ হাজার ৮০৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৩৯ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৭৩৩ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪ হাজার ১৮৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫০৩ জন।

আখের রস না কি ডাবের পানি, গরমে কোনটি বেশি উপকারী?

আখের রস না কি ডাবের পানি, গরমে কোনটি বেশি উপকারী?

 


যখন গরম চরমে ওঠে, তখন আমরা বেশিরভাগই ঠান্ডা ও সতেজকারক কিছুর দিকে হাত বাড়াই। গ্রীষ্মের দুটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়- আখের রস এবং ডাবের পানি তাপমাত্রা বাড়লেই সর্বত্র পাওয়া যায়। উভয়ই শরীরকে আর্দ্র রাখে, উভয়ই শীতল অনুভূতি দেয় এবং উভয়ই প্যাকেটজাত চিনিযুক্ত পানীয়ের চেয়ে অনেক ভালো। কিন্তু আপনি যদি শরীরকে আর্দ্র রাখা, হজম বা সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য একটু বেশি সচেতনভাবে কোনো একটি বেছে নিতে চান, তবে এই দুটির মধ্যে পার্থক্যটি বোঝা জরুরি হয়ে পড়ে। যদিও আপাতদৃষ্টিতে দুটিকে একই রকম মনে হতে পারে, তবে এদের পুষ্টিগুণ এবং শরীরে প্রভাব ফেলার ধরন ভিন্ন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, গ্রীষ্মের জন্য আপনার কোন পানীয়টি বেছে নেওয়া উচিত-

আর্দ্রতা: কোনটি ভালোভাবে পূরণ করে?

‘স্পোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা অনুসারে, ডাবের পানিতে পটাসিয়াম এবং সোডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট রয়েছে যা ঘামের মাধ্যমে হারানো তরলের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে, ফলে এটি শরীরকে পুনরায় আর্দ্র করার ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক স্পোর্টস ড্রিংকের সমতুল্য। এই কারণেই প্রচণ্ড গরমে বা শারীরিক পরিশ্রমের পরে ডাবের পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আখের রস সতেজকারক হলেও, এটি মূলত প্রাকৃতিক চিনির একটি উৎস এবং এটি একই রকম ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য প্রদান করে না।

চিনির পরিমাণ: যা জানা জরুরি

EAS জার্নাল অফ হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, আখের রস প্রাকৃতিক মিষ্টি হওয়া সত্ত্বেও, এর উচ্চ সুক্রোজ উপাদানের কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা লক্ষণীয়ভাবে বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই আখের রস পান করলে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি পাওয়া যায়, কিন্তু এটি নিয়মিত পানের জন্য আদর্শ নাও হতে পারে।

ডাবের পানিতেও প্রাকৃতিক চিনি থাকে, তবে তা কম পরিমাণে, যার ফলে এটি নিয়মিত পানের জন্য একটি হালকা এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শীতল অনুভূতি: কোনটি বেশি হালকা?

উভয় পানীয়কেই শীতল বলে মনে করা হয়, তবে ডাবের পানি সাধারণত পেটের জন্য বেশি সহজপাচ্য। এটি হালকা অনুভূত হয়, বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে এবং এটি পেট ভারি করার সম্ভাবনা কম। আখের রস কখনও কখনও কিছুটা ঘন মনে হতে পারে, বিশেষ করে যদি বেশি পরিমাণে বা ভরা পেটে পান করা হয়।

পুষ্টিগুণ: শুধু সতেজতার চেয়েও বেশি

ডাবের পানি ইলেক্ট্রোলাইট, অল্প পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে এবং শরীরের সামগ্রিক জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এটি সুপারিশ করা হয়।

আখের রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উদ্ভিদ যৌগ থাকে। অ্যানালস অফ ফাইটোমেডিসিন-এ প্রকাশিত ২০২৪ সালের একটি পর্যালোচনা অনুসারে, আখের রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত ফেনোলিক যৌগ রয়েছে, কিন্তু পুষ্টির দৃষ্টিকোণ থেকে এটি মূলত একটি চিনি-ভিত্তিক পানীয়।

ডাবের পানি বনাম আখের রস: গ্রীষ্মের জন্য কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

দৈনিক শরীরকে আর্দ্র রাখার জন্য ডাবের পানি আদর্শ, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বা ঘামের পরে।

আখের রস মাঝে মাঝে শক্তি বাড়ানোর জন্য বেশি কার্যকর, বিশেষ করে যদি আপনি ক্লান্ত বোধ করেন বা তাৎক্ষণিক সতেজতার প্রয়োজন হয়।

আপনি যদি স্বাস্থ্যকর গ্রীষ্মকালীন পানীয় খুঁজে থাকেন, তবে ডাবের পানিই সেরা পছন্দ। এটি কার্যকরভাবে শরীরকে আর্দ্র রাখে, শরীরের জন্য হালকা এবং নিয়মিত পান করা যায়। আখের রস সতেজকারক এবং উপভোগ্য হলেও, এর উচ্চ চিনির পরিমাণের কারণে পরিমিত পরিমাণে পান করাই ভালো।

Tuesday, June 16

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৬ শিশুর মৃত্যুর দায় নিতেই হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৬ শিশুর মৃত্যুর দায় নিতেই হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 


রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘আমাদের একটি জায়গায় আসতে হবে, এ ধরনের সব ঘটনায় দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা লাইসেন্স বাতিল করেছি। আমি মনে করি, আমি কোনো ভুল কিছু করিনি। ছয়টা বেবিকে কেয়ারলেসলি রেখে মেরে ফেলবে, আর কর্তৃপক্ষকে আঙ্গুল দেখিয়ে শান্তিতে ঘুমাবে, সেটা হতে পারে না।’

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘হামের চিকিৎসার প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশিকা-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

চিকিৎসকদের সমর্থন কামনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ছয়টি শিশু মারা গেছে একটি হাসপাতালে। মারা তো যেতেই পারে। আমি তাদের দোষারোপ করছি না, কিন্তু কী কারণে মারা গেল? আমি গিয়েছি সেখানে—বদ্ধ ঘর, একটা জানালা নেই, একটি মাত্র দরজা। সাতটি বেবি থাকবে, তার ওপর ২৫ জন মা ও অ্যাটেনডেন্ট। এসি বন্ধ করে দিয়েছে দুই ঘণ্টা যাবৎ।’

তিনি বলেন, ‘এই যে অক্সিজেন ঢুকছে না বদ্ধ ঘরে, কার্বন-ডাই অক্সাইড ছাড়ছেন ১৬-১৭ জন; আপনাদের কাছ থেকে শুনেছি অক্সিজেন ছাড়া একটি বেবি বাঁচতে পারে, আর ১৩-১৪ মিনিট একজন অ্যাডাল্ট বাঁচতে পারে। ছয়টি বেবি এক নাগারে কান্নাকাটি করছে। মায়েরা চিৎকার করে নার্সকে ডাকছে—আসে না। ডিউটিতে কোনো ডাক্তার নেই, অথচ পোস্ট-অপারেটিভ রুম। অনেক পরে একজন নার্স এসে একটি বেবিকে নিয়ে গেল। ১০ মিনিট পরে বেবিকে নিয়ে এলো—ভালো।’

‘আমি তো ডাক্তার না, আমি হলেও বুঝতাম বদ্ধ ঘর থেকে বাইরে নেওয়ার পরে কেন সে হাসে, ওখানে কেন সে কাঁদছিল? আবার বেবিটাকে ওই ঘরে নিয়ে আসছে, আধাঘণ্টা পরে ছয়টা বেবি পর পর মারা গেল। বদ্ধ ঘর, অক্সিজেন ছিল না। তাদের উচিত ছিল বাচ্চাগুলোকে সরিয়ে নেওয়া। ছয়টা বাচ্চা পর পর মারা গেল, এবং কর্তৃপক্ষ সেই ঘর পরিদর্শনে যায়নি। কল্পনা করতে পারেন? তাদের কিছু এসে-যায় না,’ যোগ করেন তিনি।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে সাখাওয়াত প্রশ্ন রাখেন, ‘আমাদের কি শাস্তি দেওয়া উচিত না? নাকি ছেড়ে দেবো প্রথমেই?’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রোগীদের সেবা সুন্দর-পরিচ্ছন্নভাবে দেওয়ার জন্য দেশের প্রতিটি জেলায় ঘোরাফেরা করছি। তারপরও সঠিকভাবে কাজটা করছে না। সে কারণে আজকে যাচ্ছি, হয়তো নির্মম কিছু সিদ্ধান্ত দিয়ে আসতে হবে।’

হামের চিকিৎসায় নির্দেশিকা প্রকাশ

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ (এইচএফআরসিএমসি) দেশের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ‘হাম চিকিৎসা নির্দেশিকা’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করল।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোগভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা নির্দেশিকা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত থাকলেও বাংলাদেশে এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ উদ্যোগ এই প্রথম।

অনুষ্ঠানে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারহানা হক হাসপাতাল সম্পর্কিত একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। এরপর মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সায়েম মোহাম্মদ নির্দেশিকা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, হামজনিত নিউমোনিয়ায় কর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করা যাবে না, চোখের জটিলতায় স্টেরয়েড ড্রপ ব্যবহার করা যাবে না, এবং গুরুতর পানিশূন্যতায় শুধুমাত্র ডেক্সট্রোজ স্যালাইন ব্যবহার নিষিদ্ধ।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের ডেঙ্গু নিয়েও কথা বলার আহ্বান জানান। এছাড়া, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রদাহ থেকে হতে পারে এই ৩ রোগ, যেভাবে সুস্থ থাকবেন

প্রদাহ থেকে হতে পারে এই ৩ রোগ, যেভাবে সুস্থ থাকবেন

 


ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদরোগের নেপথ্যে একটি পরিচিত কারণ রয়েছে, সেটি হলো আমাদের বাড়তি ওজন। যে কারণে অনেকেই মনে করেন ওজন কমালে বেশিরভাগ বিপাকীয় স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যদিও স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা অবশ্যই সহায়ক, তবে আধুনিক গবেষণা দেখাচ্ছে যে পর্দার আড়ালে আরেকটি কারণ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেটি হলো দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ। বিপাকীয় প্রদাহ হলো মৃদু, দীর্ঘস্থায়ী এবং নীরব। সাধারণত অনুভব করা যায় না, কিন্তু এটি ধীরে ধীরে শরীরের শর্করা প্রক্রিয়াজাতকরণ, চর্বি জমা করা এবং রক্তনালী রক্ষা করার কাজকে প্রভাবিত করে।

লিভার, রক্তে শর্করা এবং হৃদপিণ্ড কীভাবে সম্পর্কিত?

ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদরোগ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই রোগগুলো একসঙ্গে বিকশিত হয় কারণ এদের বিপাকীয় পথগুলো একই। এই প্রক্রিয়ায় আমাদের যকৃত একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। শরীর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিশোধিত শর্করা, চিনি এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি নিয়মিত গ্রহণ করলে যকৃত এই অতিরিক্ত শক্তিকে চর্বিতে রূপান্তরিত করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে যকৃতের কোষগুলোতে চর্বি জমা হতে থাকে, যা ফ্যাটি লিভার রোগের কারণ হয়।

ফ্যাটি লিভার শুধু চর্বিই জমা করে না, এটি এমন রাসায়নিক সংকেতও নির্গত করে যা সারা শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে তোলে। এই প্রদাহজনক সংকেতগুলো ইনসুলিনের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করে, ফলে শরীরের পক্ষে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স যত বাড়তে থাকে, অগ্ন্যাশয়কে তত বেশি কাজ করতে হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই প্রদাহজনক প্রক্রিয়াগুলো রক্তনালীর ভেতরের আস্তরণকে প্রভাবিত করে। এর ফলে ধমনীগুলো ক্ষতি এবং প্লাক গঠনের জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

আমরা যে খাবার খাই এবং যেভাবে জীবনযাপন করি, তা শরীরের প্রদাহের মাত্রার ওপর শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। সঠিকভাবে খাবার গ্রহণ করা হলে তা শরীরকে শান্ত করতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, পরিশোধিত ময়দার তৈরি খাবার এবং ঘন ঘন চিনিযুক্ত পানীয় প্রদাহ বাড়িয়ে দিতে পারে।

এই খাবারগুলো রক্তে শর্করা এবং ইনসুলিনের মাত্রা বারবার বাড়িয়ে দেয়, যা ধীরে ধীরে লিভারে চর্বি জমা করে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সকে আরও খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, শাক-সবজি, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম, বীজ এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবার ভারসাম্যপূর্ণ বিপাকীয় পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই খাবারগুলো ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উপকারী চর্বি সরবরাহ করে যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। যা প্রদাহ কমানোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

এ কারণেই আধুনিক পুষ্টি নির্দেশিকাগুলো শুধুমাত্র ক্যালোরি গণনার চেয়ে খাবারের গুণমানের ওপর জোর দেয়। শুধুমাত্র ওজন নিয়ে কথা বললে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিপাকীয় রোগ শুধুমাত্র অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আপনি প্রদাহ মোকাবিলার জন্য ছোট ও সাধারণ পরিবর্তনের ওপর মনোযোগ দিতে পারেন, যা কেবল দৈনন্দিন অভ্যাস এবং দীর্ঘমেয়াদী উপকারে আসে।

প্রদাহ দূর করতে কী করবেন

প্রোটিন গ্রহণ বাড়ান: ভালো মানের প্রোটিন যেমন মসুর ডাল, শিম, সয়া পণ্য, ডিম, দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম এবং বীজ খাদ্যতালিকায় যোগ করুন। এই খাবারগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে এবং পেশীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট সীমিত করুন: সাদা ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার, চিনিযুক্ত মিষ্টি এবং মিষ্টি পানীয় কমালে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বারবার বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করা যায়।

প্রতিটি খাবারে ফাইবার যোগ করুন: শাক-সবজি, ফল, গোটা শস্য এবং ডাল অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য যোগায় এবং ক্ষুধা ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট অন্তর্ভুক্ত করুন: বাদাম, বীজ, অলিভ অয়েল এবং তৈলাক্ত মাছে এমন ফ্যাট থাকে যা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং প্রদাহ কমায়।

শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন: নিয়মিত নড়াচড়া ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে এবং লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এমনকী প্রতিদিন হাঁটলেও অনেকটা পরিবর্তন আসতে পারে।

ঘুমের যত্ন নিন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন: অপর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ প্রদাহ সৃষ্টিকারী হরমোন বাড়াতে পারে এবং বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই আপনার ঘুমের যত্ন নিন ও মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

Monday, June 15

শুধু ত্বক নয়, সূর্যের ক্ষতি থেকে চুলও বাঁচাবে সানস্ক্রিন

শুধু ত্বক নয়, সূর্যের ক্ষতি থেকে চুলও বাঁচাবে সানস্ক্রিন

 


গরমে ত্বকের যত্নে আমরা সবাই সানস্ক্রিন ব্যবহার করি, কিন্তু একই রোদের নিচে থাকা চুলের সুরক্ষার কথা আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।

ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শুধু ত্বক নয়, প্রতিদিন চুলেরও মারাত্মক ক্ষতি করছে। রোদের তাপে কালো চুল ধীরে ধীরে তামাটে হয়ে যাওয়া, রুক্ষ ও প্রাণহীন দেখায়,মূলত অতিরিক্ত সূর্যালোকের প্রভাব। তাই এখন চুলের জন্যও দরকার এসপিএফ বা সান প্রোটেকশন।

সূর্যের রশ্মি কীভাবে চুলের ক্ষতি করে

চুল মূলত কেরাটিন নামের একটি শক্ত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এই প্রোটিনই চুলকে শক্তি ও নমনীয়তা দেয়। কিন্তু তীব্র রোদের ইউভি রশ্মি কেরাটিনের বন্ধনকে দুর্বল করে দেয়। ফলে চুল তার স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা হারায় এবং সহজেই ভেঙে যায়।

শুধু তাই নয়, সূর্যের তাপ চুলের ভেতরের প্রাকৃতিক তেল এবং আর্দ্রতা শুষে নেয়। এর ফলে চুল ধীরে ধীরে শুষ্ক, রুক্ষ এবং প্রাণহীন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে চুলের প্রাকৃতিক মেলানিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার কারণে কালো চুল ধীরে ধীরে বিবর্ণ বা তামাটে রং ধারণ করে।

বিশেষ করে যাদের চুলে রং, হাইলাইট বা ডাই করা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতি আরও দ্রুত হয়। রোদের প্রভাবে চুলের রং ফিকে হয়ে যায় এবং চুল আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

বর্তমানে চুলের সুরক্ষার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের হেয়ার সানস্ক্রিন পাওয়া যায়। এগুলো মূলত পাউডার, স্প্রে এবং ক্রিম তিন ধরনের হয়ে থাকে।

পাউডার সানস্ক্রিন সাধারণত মাথার তেলতেলে ভাব কমিয়ে ভলিউম বাড়াতে সাহায্য করে। স্প্রে সানস্ক্রিন দ্রুত ব্যবহারযোগ্য এবং রুক্ষ চুলে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনে। অন্যদিকে ক্রিম বা লোশন টাইপ সানস্ক্রিন মাথার ত্বককে গভীরভাবে সুরক্ষা দেয় এবং ইউভি রশ্মির ক্ষতি কমায়।

রোদ থেকে চুল বাঁচানোর উপায়

রোদে বের হওয়ার আগে চুলের সঠিক যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। বাইরে যাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে এসপিএফ যুক্ত লিভ-অন কন্ডিশনার বা হালকা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করা উচিত। এরপর এসপিএফ প্রোটেকশন স্প্রে ব্যবহার করলে চুলের ওপর একটি অদৃশ্য সুরক্ষার স্তর তৈরি হয়, যা সূর্যের ক্ষতি কমায়।

এছাড়া ফিজিক্যাল প্রোটেকশনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। চড়া রোদে ছাতা ব্যবহার করা, হালকা সুতির স্কার্ফ বা টুপি পরা চুলকে সরাসরি ইউভি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। এই সহজ অভ্যাসগুলো ধুলাবালি ও দূষণ থেকেও চুলকে বাঁচায়।

চুলে যত্নে ঘরোয়া উপাদান

রোদে ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে পুনরায় প্রাণবন্ত করতে সপ্তাহে অন্তত একদিন হাইড্রেটিং হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। দামি প্রসাধনী না হলেও ঘরোয়া উপাদান যেমন টকদই, মধু, ডিম এবং অলিভ অয়েল চুলের হারানো আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এছাড়া মেহেদি চুলের ওপর একটি প্রাকৃতিক স্তর তৈরি করে, যা ধুলোবালি, দূষণ এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চুলকে রক্ষা করে।

সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার চুলে মেহেদি ব্যবহার করা ভালো। আগে থেকে তেল না দিয়ে পরিষ্কার চুলে ৪ ঘণ্টা মেহেদি রেখে দিলে এটি চুলকে ভালোভাবে কভার করে। এরপর শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং পরদিন শ্যাম্পু করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো চুলকে গভীরভাবে পুষ্টি দেয় এবং রুক্ষতা কমায়। নিয়মিত ব্যবহারে চুল আবার নরম ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

চুল আমাদের সৌন্দর্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু আমরা অনেক সময় এর সুরক্ষাকে অবহেলা করি। শুধু ত্বক নয়, চুলের জন্যও প্রয়োজন নিয়মিত সুরক্ষা ও যত্ন। তাই এখন থেকেই রোদে বের হওয়ার আগে ত্বকের পাশাপাশি চুলের এসপিএফ নিয়েও সচেতন হওয়া জরুরি।

সূত্র: ভোগ, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হেলথশটস

Thursday, June 4

পায়ুপথের যত রুগ ও তার আধুনিক চিকিৎসা

পায়ুপথের যত রুগ ও তার আধুনিক চিকিৎসা

 


হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস

নামক ভাইরাস সংক্রমণের ফলে

পায়ুপথের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা

থাকে। তবে অনেকাংশেই এই রোগ

প্রতিরোধ করা সম্ভব।

কারা আক্রান্ত হন

■ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসে

সংক্রমিত ব্যক্তি

■ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাঁদের

কম

■ যাঁদের যোনিদ্বার, যোনিপথ ও

সারভাইক্যাল ক্যানসারের

ইতিহাস আছে

■ অধিক যৌনসঙ্গী বা সঙ্গিনী আছে

যাঁদের

■ সমকামী বা পায়ুসঙ্গম যাঁরা করেন

ধূমপায়ী।

হিউম্যান প্যাপিলোমা

ভাইরাস (এইচপিভি)

সংক্রমণ একটি সাধারণ

যৌনবাহিত রোগ। এটি

মূলত ত্বকের সঙ্গে

ত্বকের যোগাযোগের

কারণে হয়। সাধারণত

যৌনসঙ্গীর মাধ্যমে এটি

বেশি ছড়ায়। বেশির

ভাগ মানুষ এই ভাইরাস

সংক্রমণের তীব্র

ঝুঁকিতে থাকে।

রোগের লক্ষণ

■ মলদ্বার দিয়ে টাটকা রক্তক্ষরণ ও

রস ঝরা

■ মলদ্বারের আশপাশে ফুলে যাওয়া

■ মলদ্বারে ব্যথা, চুলকানি

■ মলত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন

যাঁদের পায়ুপথের ক্যানসারে

আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো আছে

এবং মলদ্বারের আশপাশে

লক্ষণগুলোর কোনো কিছু দেখা দেয়,

তাঁরা দেরি না করে একজন

কলোরেক্টাল সার্জারি বিশেষজ্ঞ

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চিকিৎসক মলদ্বার পরীক্ষা করে

আপনার রোগ ও রোগের পর্যায় বা

স্টেজ নির্ণয় করে চিকিৎসাপদ্ধতি

নির্ণয় করবেন।

চিকিৎসাপদ্ধতি

■ সার্জারি বা অপারেশন

■ রেডিওথেরাপি

■ কেমোথেরাপি

চিকিৎসাপদ্ধতি কী হবে তা রোগের

পর্যায় ও ধরনের ওপর নির্ভর করে।

তাই সঠিক সময়ে চিকিৎসকের

পরামর্শ নিন।

প্রতিরোধ

■ ধূমপান বাদ দিন

■ পায়ুপথে যৌনমিলন পরিহার

করুন

■ একাধিক যৌনসঙ্গী পরিহার

করুন

■ কারও ব্যক্তিগত ব্যবহৃত জিনিস,

যেমন স্যান্ডেল, মোজা ইত্যাদি

ব্যবহার করবেন না।

দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর পরামর্শ নিয়ে রাখা ভালো।

লেখক :

প্রফেসর ডা. মো. আতিয়ার রহমান।

কোলোরেক্টাল, ল্যাপারোস্কপিক ও হেপাটোবিলিয়ারী সার্জন

পায়ুপথ ও স্তন সার্জারীতে বিশেষ প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত

অধ্যাপক, সার্জারী বিভাগ

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল)

রোগী দেখার সময়সূচীঃ

রাত ৮টা রাত ১০টা, শুক্রবার বন্ধ,

২য় তলা, রুম নং # ২১১

ইউনিট- ০১

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ,মিরপুর,১০ ঢাকা। হটলাইন :

০১৮১৯-২৪৯৪৩৮,

০৯৬৬৬৭৮৭৮০৭