নিজস্ব প্রতিবেদক:
কানাইঘাট পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল, ভুল মিটারে বকেয়া বিল যুক্ত করা, সময়মতো বিল না দিয়ে একসঙ্গে কয়েক মাসের বিল প্রদানসহ নানা অভিযোগ করেছেন দুই গ্রাহক। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া অভিযোগে গ্রাহক অশোক রঞ্জন দে উল্লেখ করেন, তার নিজের ও মায়ের নামে পৃথক চারটি বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ রয়েছে। তিনি নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন। তবে আগস্ট মাসে তার মা জ্যোৎস্না রানী দে’র নামে থাকা মিটার নম্বর ১০৫৮০৩১৯৪২২৩৭-এর বিলে ওই মাসের ১ হাজার ৭৭৯ টাকা বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে ১৭ হাজার ৮৩২ টাকা ‘বিবিধ বকেয়া’ হিসেবে যোগ করা হয়। ফলে মোট বিল দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৭০০ টাকা।
অশোক রঞ্জন দে’র অভিযোগ, অতিরিক্ত এই ১৭ হাজার ৮৩২ টাকা কীসের জন্য যুক্ত করা হয়েছে, তা জানতে তিনি পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তাকে জানানো হয়, ‘অশোক দে (ডিশ)’ নামে বাণিজ্যিক মিটার নম্বর ১০৫৮০৩১৯৪২২৩৬-এর জুন ২০১৯ সালের বকেয়া বিল তার মায়ের নামে থাকা মিটারে যুক্ত করা হয়েছে। তবে অশোক রঞ্জন দে দাবি করেন, তার নামে এমন কোনো বাণিজ্যিক মিটারই নেই।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, উপজেলার ৩ নম্বর দিঘীরপাড় ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের গ্রাহক মোস্তাক আহমদ বেবুল অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ এনে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইউএনও বরাবরে আরেকটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে তিনি জানান, তার বাড়িতে আগে পোল্ট্রি খামার থাকায় শিল্প মিটার সংযোগের মাধ্যমে বসতবাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন। তখন মাসে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা বিল আসত। পরবর্তীতে পোল্ট্রি খামার বন্ধ হয়ে গেলে ওই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে গত মে মাসে বসতবাড়ির জন্য নতুন আবাসিক মিটার সংযোগ নেন।
মোস্তাক আহমদ বেবুলের অভিযোগ, মে মাসে নতুন সংযোগ দেওয়ার পর মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসের কোনো বিল তাকে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে তিনি সড়কের বাজার অভিযোগ কেন্দ্র ও কানাইঘাট পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। পরে আগস্ট মাসে তার আবাসিক মিটারের বিপরীতে ১৪ হাজার ৯৯৮ টাকার বিল দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, এলাকায় তীব্র লোডশেডিং থাকা সত্ত্বেও আবাসিক মিটারে এত বেশি বিল আসায় তিনি বিষয়টি নিয়ে অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পেয়ে বরং হয়রানির শিকার হয়েছেন।
অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মে মাস থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার মিটারে ১ হাজার ৮৩২ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়েছে। ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত হারে বিল হিসাব করা হয়েছে। তবে তার দাবি, এ সময়ে তিনি সর্বোচ্চ প্রায় ৭০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন।
একসঙ্গে চার মাসের বিল প্রদান এবং অতিরিক্ত বিলের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের গাফিলতি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, কানাইঘাটের কয়েকজন পল্লীবিদ্যুৎ গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক মাস ধরে অনেক গ্রাহক আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল পাচ্ছেন। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহে লোডশেডিং থাকলেও বিলের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কানাইঘাট পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব অনুযায়ী বিল প্রদান করা হচ্ছে। কোনো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে দেখা হয়।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়