Tuesday, July 7

জকিগঞ্জে সুরমার ভয়াল ভাঙন: বিলীনের পথে ১২১ বছরের বিদ্যালয়, আতঙ্কে পাঁচ গ্রামের মানুষ


হাফিজ আহমদ সুজন:

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। ভাঙনের তীব্রতায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে নদীপাড়ের কয়েকটি গ্রাম, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা। প্রতিনিয়ত নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। নতুন করে ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সুরানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী এই বিদ্যালয়টি বর্তমানে নদীভাঙনের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি সুরমা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

বিদ্যালয়টিতে মানিকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর, দুধরচক, শিবেরচক, হরাইচক ও সুরানন্দপুর-এই পাঁচটি গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থাও বড় সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।

মানিকপুর ইউনিয়নের সুরানন্দপুর প্রবাসী ফোরামের সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক, পর্তুগাল প্রবাসী জুবায়ের আহমদ বলেন, “সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো চরম হুমকির মুখে রয়েছে। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই সুরমা নদীর ভাঙনে এই জনপদের মানুষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় বছর বছর একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়