নিজস্ব প্রতিবেদক :
জীবনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছিল ১৬ বছর বয়সী কিশোর আহাদ আহমদ। মা নেই, বাবা থেকেও যেন নেই। যে বয়সে তার স্কুলে পড়াশোনা করার কথা, সে বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে একটি ওয়ার্কশপে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বন্ধুর পরিচয়ে আসা সায়েম আহমদের হামলায় ঝরে গেল তার প্রাণ।
জানা যায়, আহাদ আহমদের গ্রামের বাড়ি কানাইঘাট পৌরসভার দলইমাটি গ্রামে। তিনি রিকশাচালক ছালেহ আহমদের ছেলে। তালাকপ্রাপ্ত মা আফতারুন বেগমকে নিয়ে মহেষপুর এলাকায় নানার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রায় এক বছর আগে তার মা মারা যান। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেলেও ছোট বোনকে নিয়ে নানা-নানির আশ্রয়েই দিন কাটছিল আহাদের। বাবা জীবিত থাকলেও কখনো সন্তানদের খোঁজখবর নেননি।
সংসারের অভাব ঘোচাতে আহাদ কানাইঘাট উপজেলা রোডের তাজু নামে এক ব্যক্তির ওয়ার্কশপে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
রবিবার (২৮ জুন) রাত প্রায় ৮টার দিকে একই এলাকার পরিচিত সায়েম আহমদ (২১) ওয়ার্কশপে যান। কথাবার্তার একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হলে সায়েম দোকানে থাকা একটি স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে আহাদের মাথায় আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে আহাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আহাদ মারা যান।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহাদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়নি। তবে অভিযুক্ত সায়েম আহমদকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত পৌরসভার রায়গড় গ্রামের সায়েম আহমদ দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা আরও দাবি করেন, সায়েমের বাবা এনাম উদ্দিন ভান্ডারীও এলাকায় একজন চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত।
আহাদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘাতক সায়েমকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়