মাহবুবুর রশিদ ::
টগবগে তরুণ শাকিল। চোখেমুখে ছিল রঙিন স্বপ্ন, বুকভরা আশা। উচ্চশিক্ষা আর একটি সুন্দর ভবিষ্যতের খোঁজে গত বছরই পাড়ি জমিয়েছিল যুক্তরাজ্যে। হয়তোবা পরিবার, বন্ধু, স্বজনসবার কাছে সে ছিল সম্ভাবনার নাম। কিন্তু সময়ের নির্মম পরিহাসে এক বছরের মাথায় আচমকা এক ঝড় শাকিলের সব স্বপ্ন চুরমার করে দেয়।
গত ১৪ জানুয়ারি, লন্ডনের কর্মাশিয়াল রোডে সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারের দরজা হঠাৎ খুলে গেলে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন শাকিল। মুহূর্তের মধ্যেই পেছন থেকে আসা একটি লরি তার ওপর দিয়ে চলে যায়। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।
খবর পেয়ে লন্ডন পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাকিলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (১৯ জানুয়ারি) না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
এদিকে ছেলের দুর্ঘটনার খবর পৌঁছাতেই দেশে আরেকটি নীরব ট্র্যাজেডি ঘটে যায়। শাকিলের বাবা, গাছবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী ফজলুল হক, এই দুঃসংবাদ শুনে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে ছেলের মৃত্যুর খবর আর তাকে জানানো হয়নি।
কিন্তু নিয়তির লিখন আর ঠেকানো গেল না। আজ ছেলের পথ ধরেই পরপারের বাসিন্দা হলেন বাবাও। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হয়তো বেঁচে থাকলে শেষবারের মতো হলেও ছেলের নিথর দেহটি দেখার সুযোগ পেতেন-কিন্তু সেই শেষ দেখাটুকুও আর হলো না।
শাকিলের মরদেহ এখনো দেশে পৌঁছায়নি। বাবা-ছেলের জীবনের শেষ অধ্যায় যেন একই শোকের সুতোয় বাঁধা রইল,দূরত্ব, অপেক্ষা আর অপূর্ণতায়।
সবই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছা। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা যেন শাকিল ও তার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং এই শোক সইবার শক্তি ও ধৈর্য শোকাহত পরিবারকে দান করেন। আমিন।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়