Wednesday, March 11

কানাইঘাটে ‘সফল জননী নারী’ হিসেবে মনোনীত মিনুবালা রায়


নিজস্ব প্রতিবেদক:

কানাইঘাট উপজেলা পর্যায়ে “অদম্য নারী পুরস্কার–২০২৫” এর আওতায় সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত হয়েছেন ৩নং দিঘীরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের মাটিজুরা গ্রামের শ্রী পুতুল বিশ্বাসের স্ত্রী মিনুবালা রায় (৪৬)। তিনি পেশায় একজন গৃহিণী।

মিনুবালা রায় সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার জামডহর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেই থেমে যেতে হয় তার শিক্ষা জীবন। ১৭ বছর বয়সে তিনি এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের পুত্রের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

সাংসারিক জীবনে তিনি চার সন্তানের জননী হন। নিজের শিক্ষাজীবন অসম্পূর্ণ থাকলেও সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার অদম্য স্বপ্ন লালন করতেন তিনি। দারিদ্র্য, অভাব-অনটন ও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি কখনো হাল ছাড়েননি।

মাটিজুরা গ্রামটি হাওড় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় স্কুল-কলেজ থেকে অনেক দূরে এবং যাতায়াত ব্যবস্থাও তেমন উন্নত নয়। তবুও সকল বাধা অতিক্রম করে মিনুবালা রায় সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছেন।

তার বড় ছেলে সুনান্ত বিশ্বাস পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। মায়ের উৎসাহ ও ত্যাগ তাকে ভালো ফলাফল অর্জনে সহায়তা করে। তিনি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮৮ এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ অর্জন করেন। পরে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নেন। অল্পের জন্য সরকারি মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেলেও সৌভাগ্যক্রমে সিলেটের দুটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মেধাবী কোটায় ভর্তির সুযোগ পান। এর ফলে তিনি বিনা খরচে এমবিবিএস সম্পন্ন করার সুযোগ লাভ করেন।

২০১৯ সালে সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন সুনান্ত বিশ্বাস। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার লক্ষ্যে তিনি নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটে এমডি কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি ঢাকায় স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এ বছর তিনি ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

মিনুবালা রায়ের দ্বিতীয় ছেলে মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তৃতীয় ছেলে ও একমাত্র মেয়ে কানাইঘাট সরকারি কলেজে ডিগ্রি পর্যায়ে অধ্যয়নরত।

মিনুবালা রায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ ও অদম্য প্রচেষ্টা এলাকার মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তার সন্তানদের সাফল্য দেখে এলাকার অন্যান্য অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

এলাকাবাসী জানান, বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শের জন্য অনেকেই মিনুবালা রায়ের কাছে আসেন। তার বড় ছেলে চিকিৎসক হওয়ায় দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবায়ও তিনি সহায়তা করে থাকেন। গরিব রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করার মাধ্যমে মানবসেবায় নিয়োজিত হতে পেরে মিনুবালা রায় নিজেকে গর্বিত মনে করেন।

উপজেলা পর্যায়ে সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে মনোনীত হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যেও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।


শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়