Saturday, January 31

আলেম বনাম আলেম, মাঝখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী: সিলেট-৫ আসনে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই


মাহবুবুর রশিদ/নিজাম উদ্দিন

দেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী এলাকা সিলেট-৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই পুরো আসনজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর নির্বাচনী আমেজ। এবারের নির্বাচনে এ আসন থেকে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিএনপি সমমনা জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক খেজুরগাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জামায়াত সমমনা নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি মাওলানা আবুল হাসান দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন। 
অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত মামুনুর রশিদ ওরফে চাকসু মামুন, যিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া মুসলিম লীগ থেকে মাওলানা বিলাল উদ্দিন হারিকেন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

জোটবদ্ধ নির্বাচনের কারণে এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের নিজস্ব দলীয় প্রার্থী না থাকলেও কানাইঘাট ও জকিগঞ্জজুড়ে ভোটের উত্তাপ কমেনি। প্রতীক পাওয়ার পরপরই প্রার্থীরা নিজ নিজ সমর্থক ও জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিএনপি জোট থেকে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে মনোনয়ন দেওয়া হলেও দলের মনোনয়ন বঞ্চিত মামুনুর রশিদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলায় কিছুটা চাপে পড়েছেন তিনি। বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশিদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে উবায়দুল্লাহ ফারুকের পক্ষে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যান্য নেতারাও খেজুরগাছ প্রতীকের সমর্থনে মাঠে কাজ করছেন।

অন্যদিকে, এ আসনে জামায়াতের মনোনয়নপ্রাপ্ত হাফিজ আনোয়ার হোসেন খান দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় থাকায় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তবে জোটের সমীকরণে খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসানকে প্রার্থী দেওয়ায় শুরুতে জামায়াত-শিবিরের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিলেও বর্তমানে তারা আবুল হাসানের পক্ষে মাঠে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। যদিও কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলায় খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

রাজনীতিতে নিয়মিত সক্রিয় না থাকলেও একজন জনপ্রিয় ওয়াজি হিসেবে মুফতি আবুল হাসানের নির্বাচনী এলাকায় পরিচিতি রয়েছে। আলেম-উলামা অধ্যুষিত এই আসনে দুই আলেম প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশিদের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই দিন দিন আরও জমজমাট হয়ে উঠছে।

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়