নিজস্ব প্রতিবেদক ::
দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক চাপের ফল বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ, যিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘চাকসু মামুন’ নামে পরিচিত। তিনি বলেছেন, নিজের ভবিষ্যৎ রাজনীতির শেষ সিদ্ধান্ত দেবেন জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের জনগণই।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আবেগঘন স্ট্যাটাসে চাকসু মামুন এসব কথা বলেন। স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, এমন সিদ্ধান্ত যে আসতে পারে, তা না জেনেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়াননি। দল থেকে বহিষ্কার করা গেলেও মানুষের বিবেক ও চেতনাকে বহিষ্কার করা যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের দিনে নিজের দলের কিছু নেতার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের কারণ তিনি রাজনৈতিক জীবনের ৪৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে ভালোভাবেই অনুধাবন করেন।
চাকসু মামুন দাবি করেন, জনবিচ্ছিন্ন একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এবং কিছু সংখ্যক নেতাকে সুবিধা করে দিতে চাপের মুখে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা মনে করছেন, এই আসনে তাঁকে বহিষ্কার করিয়ে সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যাবে, তারা বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকে তিনি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় নয় বলে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে যাদের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তাদের সম্মতি ও অনুমোদন নিয়েই তিনি অধিকার আদায়ের পথে নেমেছেন। এই সংগ্রামে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন তিনি বাজি রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের সিদ্ধান্ত একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের হাতে। তবে নিজের আগামীর রাজনৈতিক জীবন কোন পথে যাবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার কেবল জকিগঞ্জ-কানাইঘাটবাসীরই রয়েছে। জন্মভূমির মাটির সঙ্গে বেঈমানি করে কোনো অর্জন তিনি চান না বলেও স্পষ্ট করেন চাকসু মামুন।
স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, রাজনীতি কখনো সরল রেখায় চলে না। সংগ্রামের জীবন বেছে নেওয়ার দিন থেকেই তিনি জানতেন, এই পথ সহজ নয়। তবুও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের সর্বস্তরের মানুষ ইনশাআল্লাহ প্রমাণ করবে-একজন রাজনীতিবিদকে বহিষ্কার করা গেলেও মানুষের বিবেক ও চেতনাকে কখনো বহিষ্কার করা যায় না।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়