এহসানুল হক জসীম ::
বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরীর জীবনের এক আবেগঘন অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি ছবিকে কেন্দ্র করে। কোয়ালা কোলে খালেদা জিয়ার সেই ছবিটি ছিল তাঁর কাছে শুধু একটি আলোকচিত্র নয়, বরং প্রিয় নেত্রীর প্রতি অটুট আনুগত্য ও নীরব প্রতিজ্ঞার প্রতীক।
এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হারিছ চৌধুরী আত্মগোপনে চলে যান। সে সময় অনেকের ধারণা ছিল, তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে বাস্তবে তিনি দেশেই ছিলেন-ছদ্মবেশে, নিঃশব্দে এবং কঠিন বাস্তবতার ভেতর দিয়ে। প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী তিনি দেশ ছেড়ে কোথাও যাননি।
দীর্ঘ আত্মগোপন জীবনের অবসান ঘটে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, যখন তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কাকতালীয়ভাবে, একই হাসপাতালেই ৩০ ডিসেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এ ছাড়া, গত বছর ঠিক এই দিনেই হারিছ চৌধুরীর দেহাবশেষ সাভারের একটি কবরস্থান থেকে উত্তোলন করে তাঁর জন্মস্থান সিলেটের কানাইঘাটে পুনরায় সমাহিত করা হয়।
হারিছ চৌধুরীর আত্মগোপনের সময়কার একটি ছোট ব্যাগে সংরক্ষিত ছিল ছবিটি। ছবিটি তোলা হয়েছিল ২০০২ সালে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড সফরকালে। সেখানে বিড়ালের মতো দেখতে স্তন্যপায়ী প্রাণী কোয়ালাকে কোলে নিয়ে হাস্যোজ্জ্বল খালেদা জিয়ার মুহূর্তটি ধরা পড়ে ক্যামেরায়। সেই ছবিই হারিছ চৌধুরী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যত্ন করে আগলে রেখেছিলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর হারিছ চৌধুরীর কন্যা ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করেন। ক্যাপশনে তিনি আবেগঘন ভাষায় তাঁর বাবার আত্মগোপনের দিনগুলো, সংগ্রাম ও নেত্রীর প্রতি অটল ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন।
তিনি লেখেন, এক-এগারোর পর প্রায় পনেরো বছর তাঁর বাবা সবসময় একটি ছোট ব্যাগ প্রস্তুত রাখতেন, যাতে হঠাৎ স্থান পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থাকত। বাবার মৃত্যুর পর তালাবদ্ধ সেই ব্যাগ খুলে পাওয়া যায় কিছু দৈনন্দিন সামগ্রী, একটি ডায়েরি এবং দুটি ছবি-একটি বাবার সঙ্গে মেয়ের, আরেকটি প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার।
সামিরা তানজিন চৌধুরী লেখেন, জীবনের যৌবন, সময় ও স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে তাঁর বাবা আপসহীনভাবে নেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নেত্রীকে দেওয়া শেষ কথাটি-দেশ ছেড়ে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি-তিনি জীবনের বিনিময়ে রক্ষা করেছিলেন।
শেষে তিনি দোয়া কামনা করে লেখেন, “আল্লাহ তাঁদের উভয়কে জান্নাতবাসী করুন।”

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়