ওষুধ কারিকুরির পাঠ

Kanaighat News on Tuesday, December 30, 2014 | 9:50 PM


আধুনিক হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞান। আবিষ্কার হয়েছে নতুন নতুন ওষুধ। বিস্তর অধ্যয়ন হচ্ছে ওষুধ নিয়ে। অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পড়াচ্ছে ফার্মেসি। কী পড়ছে, কেন পড়ছে কিংবা কাজের ক্ষেত্র কোথায় শিক্ষার্থীদের- এ নিয়ে আজকের আয়োজন : 
রাকিব মোজাহিদ: প্রবাদে আছে, 'যদি হয় রোগ-বালাই, গাছের কাছে চলো ভাই'। সময় বদলে গেছে; এখন বোধহয় এভাবে আর কেউ বলেনও না কিংবা বিশ্বাসও করেন না। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের হাত ধরেই বিশ্বাসের এ বদল হয়েছে বলা যায়। চিকিৎসকরা তো অসুখ ধরেন আর ওষুধ লেখেন, ওষুধ আসে কোথা থেকে? এ ওষুধ তৈরির পেছনে এক দল মানুষ নিরলস পরিশ্রম করে যান- তারা হলেন ফার্মাসিস্ট। বাস্তবিক অর্থে তাদেরও কবিরাজ বলা যেতে পারে। এটা স্বীকার করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের ফার্মেসিপড়ুয়া শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান। 'স্নাতক পড়ার শেষের দিকে আমাদের বাধ্যতামূলক রিসার্চ করতে হয়। এ সময় গাছের শিকড়-বাকড় নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়,' বলেন মিজানুর। তার মানে আপনাদেরও কবিরাজ বলা যেতে পারে, এমন প্রশ্নে তার উত্তর, 'হ্যাঁ, ...বলতে পারেন।' পাঠক বুঝতেই পারছেন, সরল স্বীকারোক্তি আসেনি তার কাছ থেকে। তবে তাদের কাজের ধরন কিন্তু তাই বলে। এই যেমন ধরুন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসেফিকের শিক্ষার্থী আদনান পড়াশোনার ধরন উল্লেখ করে বলেন, 'আমাদের মাঝে মাঝে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে জানতে হয়। কোন কোন রোগটা বেশি হচ্ছে, কেন হচ্ছে- এসব। আবার এ অসুখগুলো সারাতে কোন কোন ওষুধ কাজ করবে সে নিয়েও বিস্তর পড়তে হয়, জানতে হয়।' আদনানের কথা থেকেই বিস্তর জানা যায় ফার্মেসির অধ্যয়ন সম্পর্কে। ফার্মেসি তাদের পড়তে হয় ফার্মাকোলোজি সম্পর্কে, যেখানে কোন ওষুধ কীভাবে কাজ করে তা সম্পর্কে জানা যায়। এছাড়াও আছে মেডিসিনাল ক্যামেস্ট্রি, যেখানে পড়ানো হয় ওষুধ তৈরিকারক রাসায়নিক পদার্থ সম্পর্কে। বিষয়গুলো বেশ মজাই লাগে আদনানের। 'আমরা যেমন রোগ সম্পর্কে জানছি, তেমনি জানছি ওষুধ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে। এটা আমার কাছে বেশ আনন্দদায়ক। অনেকটা রহস্য উদ্ঘাটনের মতো', বলেন মিজানুর। 'আবার অ্যাডভান্স মেডিসিনাল ক্যামেস্ট্রিতে পড়ানো হয় নিত্যনতুন যেসব ওষুধ তৈরি হচ্ছে, সেসব নিয়ে। এটা আরও মজার বিষয় বলা যেতে পারে। তার কারণ হলো, নতুন অসুখ ধরা পড়ছে। সেগুলোর নতুন ওষুধ আবিষ্কার হচ্ছে। কী থেকে অসুখটা হচ্ছে, কোন কোন ওষুধ এর প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে- সে সম্পর্কে জানা যায়', যুক্ত করেন মিজানুর। তাদের কাছ থেকে জানা যায়, ওষুধ কোম্পানিগুলোতে কোন সেক্টরে কাজ করেন তারা। আদনান জানান, ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কোয়ালিটি অ্যাসুয়োরেন্স, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সেকশনে কাজ করেন ফার্মাসিস্টরা। আর কাজের ক্ষেত্রটা কেমন, এমন প্রশ্নে আমাদের উত্তরদাতা ফার্মাসিস্ট শফিউল আলম শিকদার। কাজ করছেন ল্যাব এইড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (প্রডাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) হিসেবে। তার ভাষায়, 'কাজের সুযোগ আছে। এখন একটা সম্পৃক্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আমাদের পেশাটা। অনেক ফার্মাসিস্ট বের হচ্ছে, ফলে চাহিদা কম। কিন্তু এ অবস্থা থাকার কথা নয়।' এবার আসা যাক বিস্তারিত প্রসঙ্গে। শফিউল আলম জানান, ওষুধ তৈরি ছাড়াও তাদের বড় কাজের ক্ষেত্র হলো হসপিটাল ফার্মেসি এবং কমিউনিটি ফার্মেসি। প্রশ্নের উদয় হতে পারে এটা আবার কেমন? এ প্রশ্নে উত্তর দিয়েছেন তিনি। 'বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একজন রোগী আগে পরামর্শ করেন ফার্মাসিস্টের সঙ্গে। সেই ফার্মাসিস্ট পাঠান একজন ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার ওষুধ লেখার পর সেই ফার্মাসিস্ট আবার ওষুধ রিভিউ করে দেন। এটা হলো হসপিটাল ফার্মেসির কাজ', বলেন শফিউল আলম। এবার আসা যাক কমিউনিটি ফার্মাসিস্ট প্রসঙ্গে। শফিউল আলম বলেন, 'কমিউনিটি ফার্মাসিস্ট হিসেবে যিনি কাজ করেন তার দায়িত্ব হলো, রোগের চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ তৈরি করে দেয়া।' তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে এ ব্যবস্থা করা হলে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন হবে। সেটা শিগগিরই হবে বলে প্রত্যাশা তার। এ তো গেল আগামীর প্রত্যাশা। বর্তমান সময়ের প্রাপ্তি? এবার যুক্ত হন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তাসপিয়া। 'আমাদের দেশে এখন ৩০০-র অধিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি আছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের কাজের সুযোগ আছে। আবার এর মধ্যে কয়েটি প্রতিষ্ঠান দেশের বাইরে ওষুধ রফতানি করছে। তার মানে আমরা দেশের রফতানিতেও অবদান রাখছি। এটা একটা বড় পাওয়া', বলেন তাসপিয়া। যারা পড়ছেন বা এরই মধ্যে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন, কাজের ক্ষেত্র অবশ্যই আছে- তবে সেটা নিজের যোগ্যতাবলে দখল করে নিতে হবে।

স্থলেও খোঁজা হচ্ছে নিখোঁজ বিমান


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ এয়ার এশিয়া বিমানটি উদ্ধার অভিযান তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে এবং অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। সমুদ্র ছাড়াও এখন স্থলে খোঁজা হচ্ছে বিমানটি। ইন্দেনেশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা পূর্বদিকে অনুসন্ধানকারী দল পাঠিয়েছে যেখান থেকে গতকাল ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। জাভা সমুদ্রের বেলিতাং দ্বীপের পর এবার সুমাত্রা বোর্নিও দ্বীপে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। এদিকে এয়ার এশিয়ার পাইলটের সঙ্গে সর্বশেষ কথোপকথন উদ্ধার করেছে এয়ার এশিয়া। পাইলট বিমান কতৃপক্ষের নিকট যাত্রার পথ পরিবর্তনের অনমুতি চেয়েছিলেন। পাইলট বিমানটি নিয়ে ৩৮ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়তে চেয়েছিলেন কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষ তাকে ৩৪ হাজার ফুট ওপর দিয়ে যাবার অনুমুতি দিয়েছিল। কারণ ৩৮ হাজার ফুট ওপর দিয়ে এয়ার এশিয়ার অপর আরেকটি বিমান যাচ্ছিল। স্থলেও খোঁজা হচ্ছে নিখোঁজ বিমান যুক্তরাষ্ট্র ,অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। উদ্ধার অভিযানে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, মালোয়শিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিন কোরিয়ার ৩০টি জাহাজ, ১৫টি বিমান ও সাতটি হেলিকপ্টার আংশ নিয়েছে। এদিকে অনুসন্ধান চালাতে যুদ্ধ বিমান পাঠানোর ঘোষনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দক্ষিন চীন সাগরে তাদের যুদ্ধবিমান এরই মধ্যে তল্লাশি শুরু করেছে। ইন্দেনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার এজেন্সির প্রধান হেনরি বামবাং সোয়েলিসতো জানান, ১০ হাজার বর্গমাইল এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালানো হবে। নতুন করে সুমুদ্রের ১৫০ ফুট থেকে ৩০০ ফুট পাানির গভীরেও অভিযান চালানো হবে। পানির গভীরতা কম থাকায় তল্লাশি অভিযান সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।

পুতিন বেশি স্মার্ট নয়: ওবামা


ঢাকা: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রকৃতপক্ষে বেশি স্মার্ট নয়, এনপিআর মরনিংকে দেয়া এক সাক্ষতকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একথা বলেন। সম্প্রতি দেয়া ওই সাক্ষতকারের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিমিয়া দখলের সিদ্ধান্ত রুশ প্রেসিডেন্টের ‘কৌশলগত ভুল’ ছিলো এবং ওই অভিযানের পুতিনের দূরদর্শিতার অভাব ফুটে উঠেছে। ওবামা আরও বলেন, ক্রিমিয়া আক্রমণের আগে পর্যন্ত আমি চিন্তা করতাম আমার রুশ বন্ধু অনেক বুদ্ধিমান এবং স্মার্ট। কিন্তু এখন দেখছি আমার ধারণা ভুল ছিলো। ইরানে সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাস প্রতিষ্ঠার সম্ভবনাও নাকচ করে দিয়ে ওবামা বলেন, ‘আমি কখনোই ইরানে মার্কিন দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করা হবে, এমন কথা বলিনি। তবে এ ব্যাপারে চিন্তা করা যেতে পারে।’ পুতিন বেশি স্মার্ট নয়: ওবামা এছাড়া বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের অস্থিতিশীলতার কারণে রাশিয়ার অর্থনীতিতেও অস্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। মার্কিন এবং রুশ অর্থনীতির তুলনা টেনে ওবামা বলেন, ‘রাশিয়া শুধুমাত্র তেলসম্পদে সমৃদ্ধ। অন্যদিকে মার্কিন অর্থনীতি বহুমুখী। আমরা তেলসম্পদ ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি এমনকি চলচ্চিত্র শিল্পেও উন্নত।’ উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে রুবলের দরপতনের ফলে চাপের মধ্যে রয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। চলতি বছরের মার্চে ইউক্রেনের অংশ ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া। এরপর থেকে চিরবৈরী রুশ এবং মার্কিন সম্পর্কে আরেক দফা বিপর্যয় ঘটে। এরপরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে রাশিয়ান মুদ্রা রুবলের মূল্য ডলারের বিপরীতে প্রায় অর্ধেকেরও কম।

স্পিকারের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ


ঢাকা: জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইউন-ইয়ং। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে গিয়ে রাষ্ট্রদূত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতকালে তারা দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় স্পিকার বলেন, কোরিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু। দু’দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কোরিয়া তথ্যপ্রযুক্তি জগতে একটি অনন্য স্থান করে নিয়েছে। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কোরিয়া বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির পাশাপাশি, তৈরি পোশাকশিল্প, চিকিৎসাখাত, জনশক্তি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এসময় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অবস্থান সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন। সাক্ষাতকালে ডেপুটি চিফ অভ মিশন (কাউন্সিলর) কিম হু-জু ও কোরিয়ান ইপিজেড করপোরেশন (বিডি) লি. এর সভাপতি জাহাঙ্গীর সাদাত উপস্থিত ছিলেন।

কানাইঘাটে জেএসসি,জেডিসি ও পিএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন


নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের জেএসসি ও মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত জেডিসি, ইবতেদায়ী এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অনুষ্ঠিত পিএসসি সমাপনী পরীক্ষায় কানাইঘাট উপজেলার স্কুল ও মাদ্রাসাগুলো সাফল্য জনক ফলাফল অর্জন করেছে। জেএসসি পরীক্ষায় মোট ২৪১৫জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২২৭০জন পাশ করেছেন। এপ্লাস পেয়েছে ৩৯ জন শিক্ষার্থী। জেডিসি পরীায় মোট ৬৫১জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫৭জন শিক্ষার্থী পাশ করেছেন। এপ্লাস য়েছেন ৩৩জন শিক্ষার্থী। স্কুল পর্যায়ে কানাইঘাট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছে। এ স্কুল থেকে ১১৩জন শিক্ষার্থী পরীায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১৩জন শিক্ষার্থী এপ্লাস পেয়েছে। এছাড়া কানাইঘাট আইডিয়াল স্কুল থেকে ৭টি এপ্লাস সহ ১৭জন, ঝিংঙ্গাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ১টি এপ্লাস সহ ১১২জন, মুলাগুল হারিছ চৌধুরী একাডেমী ৭৩জন, বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয় ২টি এপ্লাস সহ ৮৫জন, জুলাই আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ৮৪জন মালিকনাহার মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ ১টি এ প্লাসসহ ৩৩জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়ে শতভাগ ফলাফল অর্জন করেছে। অন্যান্য স্কুলগুলোর মধ্যে মানিকগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ৫৬জনের মধ্যে ৫২জন, রামিজা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১৬৮জনের মধ্যে ১৫৯জন, সরকেড় বাজার উচ্চ বিদ্যালয় ৩টি এপ্লাস সহ ১৯৭জনের মধ্যে ১৭৮জন, সুরাইঘাট উচ্চ বিদ্যালয় ৭১জনের মধ্যে ৬৯জন, বড়চতুল উচ্চ বিদ্যালয় ৪৬জনের মধ্যে ৩৮জন, ছোটদেশ উচ্চ বিদ্যালয় ২টি এপ্লাস সহ ১১১জনের ১০৬জন, বীরদল এন.এম একাডেমী ১২০জনের মধ্যে ১১৮জন, বড়দেশ উচ্চ বিদ্যালয় ১২০জনের ১১৩জন, চরিপারা স্কুল এন্ড কলেজ ৩টি এপ্লাস সহ ১৫০জনের ১৪৭জন, দুর্গাপুর স্কুল এন্ড কলেজ ১টি এপ্লাস সহ ১৮২জনের ১৭৭জন, গাছবাড়ী মডার্ণ একাডেমী ৪টি এপ্লাস সহ ২৩৫জনের ২৩২জন, কাড়াবাল্লা বিদ্যানিকেতন ৩৩জনের মধ্যে ৩২জন, সুরমা উচ্চ বিদ্যালয় ১টি এপ্লাস সহ ১৬০ জনের মধ্যে ১৫০জন, সুরতুন নেছা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ৬৮জনের ৫৯জন, বীরদল অগ্রগামী উচ্চ বিদ্যালয় ৬৮জনের মধ্যে ৬৭জন এবং কানাইঘাট পাবলিক হাই স্কুল ৫৫জনের মধ্যে ৫২জন শিক্ষার্থী পাশ করেছেন। পাশের হার মোট ৯৩%। অপরদিকে মাদ্রসাা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে জেডিসি পরীক্ষায় মনসুরিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ৪টি এপ্লাসহ সহ ১৩৩জনের মধ্যে ১২৮, গাছবাড়ী জামিউল উলূম কামিল মাদ্রাসা ৩টি এপ্লাসহ সহ ৭৬জনের মধ্যে ৭৪জন, ঝিঙ্গাবাড়ী ফাজিল মাদ্রাসা ৫টি এপ্লাস সহ শতভাগ ৮৯, সড়কের বাজার আলিম মাদ্রাসা ৩টি এপ্লাস সহ ৮৮জনের মধ্যে ৮৭, রহিমিয়া আলিম মাদ্রাসা ১টি এপ্লাস সহ ৪৮জনের মধ্যে ৪৭, ফাগু ঝিঙ্গারখাল দাখিল মাদ্রাসা ১টি এপ্লাস সহ ২২জনের মধ্যে ২১, হাজী আব্দুল খালিক মহিলা মাদ্রাসা ৪টি এপ্লাস সহ ৩১জনের মধ্যে ৩০, গাছবাড়ী মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ১টি এপ্লাস সহ ৪৯জনের মধ্যে ৪৮, জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া দাখিল মাদ্রাসা ৫টি এপ্লাস সহ শতভাগ ৪৮, লামাঝিঙ্গাবাড়ী মাদ্রাসা শতভাগ ৪২, শাহজালাল সাত্তারিয়া দাখিল মাদ্রাসা ২টি এপ্লাস সহ শতভাগ ১৫ এবং আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা ১টি এপ্লাস সহ শতভাগ ২৮জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এছাড়া পিএসসির সমাপনী উপজেলার ২২৪টি স্কুলের মোট ৫২৬৩জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৫০৭০জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এপ্লাস পেয়েছে ৯৮জন শিক্ষার্থী। পাশের হার মোট ৯৬.৬৩%।

দেশের সব জেলায় শীতবস্ত্র পাঠানোর সুপারিশ


ঢাকা: দেশের সবকটি জেলার শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র পাঠানোর সুপারিশ করেছেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে শীতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির জন্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ১০ম জাতীয় সংসদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৫ম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর আলোচনা হয়। কমিটি দুর্যোগ মোকাবেলা করতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সুষ্ঠুভাবে ও সময়মত বিতরণের সুবিধার্থে যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য প্রত্যেক জেলায় গোডাউন নির্মাণের সুপারিশ করেন। কমিটির সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল জানান, বৈঠকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- কমিটির সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তালুকদার আব্দুল খালেক, আবদুর রহমান বদি, মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল, এস এম জগলুল হায়দার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জিহাদ উদ্ধারে মিডিয়াকে দোষারোপ প্রধানমন্ত্রীর


ঢাকা:মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশে সৃষ্ট কোনো দুর্ঘটনার সময় উদ্ধার কাজ কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় তৎপরতা চলাকালে সংবাদ কর্মীদের অবস্থান ও করণীয় বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো মিডিয়ার কারণে কাজে বিঘ্ন ঘটলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনাস্থলে লাল-হলুদ টেপ ঘিরে কাজ করারও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন বলে বৈঠকসূত্র নিশ্চিত করেছে। গত সপ্তাহে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে খেলতে গিয়ে গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে শিশু জিহাদ মারা যাওয়া এবং তার উদ্ধারকাজ চলাকালে মিডিয়া রিপোর্টিং নিয়ে বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতেই এই নির্দেশনা এলো, জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্রটি। হৃদয়বিদারক মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে একনেক সভায় দীর্ঘ আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, জিহাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য মিডিয়া কর্মী ছাড়াও সাধারণ উৎসুক জনতাকেও দোষারোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা এমনভাবে হাজির হই, সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তারা তাদের কাজে সঠিকভাবে মনোযোগী হতে পারেন না। হাজার হাজার মানুষ এমনভাবে ভিড় করে উদ্ধারকর্মীরা এতে করে যথাযথভাবে তাদের কাজ করতে পারেন না। এতে করে কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা চাই আল্লাহর রহমতে দেশে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে। তবে যদি ঘটে তবে সেক্ষেত্রে দূর্ঘটনা কবলিত এলাকা লাল ও হলুদ টেপে সীমানা বেঁধে দিতে হবে। যাতে করে উদ্ধারকর্মীরা যথাযথভাবে তাদের কাজটি করতে পারেন।’ একনেক’র দায়িত্বশীল সূত্রটি আরও জানায়, এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি শিশু জিহাদের উদ্ধারকাজ দেখেছি এবং সব সময় সর্বশেষ অবস্থা জেনেছি। উদ্ধারকাজ সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি। তবে এ সময় দেখেছি কিছু মিডিয়া উদ্ধার কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। একনেক সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দূর্ঘটনা কবলিত এলাকায় লাল ও হলুদ টেপে ঘিরে দেবেন। এবং সংশ্লিষ্টদের উদ্ধার কাজ করার পরিবেশ তৈরি করবেন। এর পরেও যদি কোনো মিডিয়া লাল ও হলুদ টেপের সীমানার মধ্যে ঢুকে পড়ে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’ জিহাদের মৃত্যুর বিষয় নিয়ে নানা ধরনের ভ্রান্ত তথ্যও মিডিয়ায় দেওয়া হয়। এই বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে একজন স্পোকসপারসন থাকবেন। তিনিই মিডিয়াকে সর্বশেষ তথ্য দেবেন। জিহাদের উদ্ধার কাজ চলাকালে মিডিয়ার ভূমিকার জন্য কয়েকজন মন্ত্রীও বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে সূত্রটি জানায়। একনেক সভায় হরতাল প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, হরতাল রাজনৈতিক বিষয়। বিএনপি-জামায়াত আগে শিশুদের মেরেছে এখন ওরা শিক্ষিকাকেও মারছে। হরতালে সাধারণ মানুষ কেন মরবে? এটা কাম্য নয়। সভাশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও জানান, দেশের সমস্ত গৃহহীণ ও ভূমিহীনদের জরিপ সম্পন্ন করতে বিবিএসকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী মিডিয়া কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যখন দুর্ঘটনা কবলিত স্থানে উদ্ধার কাজ চলবে তখন আমরা যেন একটু দূরত্ব বজায় রাখি।’

মিথ্যা মামলা দিয়ে জনগণকে ব্ল্যাকমেইল করছে সরকার


ঢাকা: বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে ক্ষমতাসীনরা জনগণকে ব্ল্যাকমেইল করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির ৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পল্টন থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলার প্রতিক্রিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার রাতে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সরকার মামলা দিয়ে কি বিএনপির আন্দোলন দমন করতে চাইছে সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মামলা দিয়ে আন্দোলন দমন করা যায়নি। তাই ক্ষমতাসীনরা আন্দোলন দমন করতে যতই মামলা ও নির্যাতন করবে আন্দোলন ততই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। তিনি বলেন, বিএনপির আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করার জন্য সরকার নানান ষড়যন্ত্র করছে। কারণ সরকার জানে বিএনপির আন্দোলনেই তাদের পতন হবে। তাই বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে আওয়ামী লীগ একের পর এক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিচ্ছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম রুখে দিতে সরকার নানান চক্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। রিজভী অভিযোগ করেন, গত ৫ জানুয়ারি একটি তামাশার নির্বাচন হয়েছে। ওই নির্বাচন এক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে ও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য হয়েছে। ওই নির্বাচন দেশের সকল রাজনৈতিক দলসহ দেশের জনগণ প্রত্যাখান করেছে। ফলে এই সরকার একটি অবৈধ সরকার। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

ফখরুল-রিজভীসহ ৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা


ঢাকা: গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ৪৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই বিষয়ে জানতে পল্টন থানায় যোগাযোগ করা হলে ডিউটি অফিসার এস আই জুলহাজ ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমে বলেন, একটি গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির ৪৩ জন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। পল্টন থানার পুলিশ বাদি হয়ে এ মামলা করেছে বলে জানান জুলহাজ।

থার্টিফার্স্ট নাইটে বিধি-নিষেধ


ঢাকা: ইংরেজি নববর্ষের প্রাক্কালে ৩১ ডিসেম্বর রাতে (থার্টিফার্স্ট নাইট) রাজধানীর উন্মুক্ত স্থানে সব ধরণের অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ এ তথ্য জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার বাসিন্দাদের রাত ৮টার মধ্যে বাসায় ফিরে যেতে এবং যারা ওই সব এলাকার বাসিন্দা নন, তাদেরকে সেখান থেকে সড়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘ঢাবি এলাকায় প্রবেশে পরিচয়পত্র দেখিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করা হল। এছাড়া রাজধানীর সব রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভার ও রাস্তায় কোনো ধরণের জমায়েত হওয়া যাবে না। রাত ৮টার পর হাতিরঝিল এলাকায় কেউ প্রবেশ করতে পারবে না এবং কোনো ফ্লাইওভারে জমায়েত হওয়া যাবে না। কোথাও আতশবাজি ও পটকা ফুটানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, প্রতিবছরই দেখা যায়- কিছু উশৃঙ্খল ব্যক্তি সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। তারা অশোভন আচরণ, বেপরোয়া গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এতে জনসাধারণের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা থাকে। তাই এ সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’ কমিশনার বেনজীর বলেন, ‘ডিএমপি আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বদ্ধপরিকর। তাই ৩১ ডিসেম্বর রাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পুলিশের সাহায্য গ্রহণ এবং পুলিশ সদস্যদের সহায়তার জন্য রাজধানীবাসীদের অনুরোধ করা হল।’ মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকেই বেপরোয়া, মদ্যপ ও বিপজ্জনক অবস্থায় গাড়ি চালাতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘৩১ ডিসেম্বর রাত ৮টা থেকে ১ জানুয়ারি ভোর ৫টা পর্যন্ত গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় যানবাহন প্রবেশের জন্য শুধু কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) ব্যবহার করা যাবে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা-ফিনিক্স রোড ক্রসিং, বনানী ১১ নং রোড ক্রসিং, চেয়ারম্যান বাড়ি ক্রসিং, আমতলী ক্রসিং, শুটিং ক্লাব, বাড্ডা লিংক রোড, গ্রুপ-ফোর, ডিওএইচএস বারিধারা-ইউনাইটেড হাসপাতাল ক্রসিং ও নতুন বাজার ক্রসিং যানবাহন প্রবেশে ব্যবহার করা যাবে না, তবে বের হওয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একই সময় ঢাবি এলাকায় প্রবেশে ঢাবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন পুরানো হাইকোর্ট, দোয়েল চত্তর, শহীদ মিনার, জগন্নাথ হলের দক্ষিণ গেট, পলাশীমোড় ব্যবহার করতে পারবে না। প্রবেশে অন্য সব ক্রসিং বন্ধ থাকবে।’ একই সময় বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, সমাবেশ ও উৎসবস্থলে সকল প্রকার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বহন না করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। ডিএমপির নির্দেশনা পালন না করা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এয়ার এশিয়ার ৪০ যাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারী দল জাভা সাগরে কিছু বস্তু ভাসতে দেখেছেন যেটা হারিয়ে যাওয়া বিমানের ধ্বংসাবশেষ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ওই বিমানের ৪০ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। ইন্দোনেশিয়ার বরনো দ্বীপের জাভা সাগরে বিমানের বস্তু ‘সদৃশ’ অনেক কিছু ভাসতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। দেশটির এয়ার ফোর্সের কর্মকর্তা অগাস দুই পুতরান্তো মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন। তিনি বলেন, বিমানটির রাডারের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগের স্থান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ১০টি ‘ধ্বংসাবশেষ’ পাওয়া গেছে। এছাড়া সাদা রঙের ছোট ছোট আরো কয়েকটি ‘বস্তু’ পাওয়ার কথা জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে অগাস বলেন, আমরা জরুরি স্লাইড, প্লেনের দরজা ও চারকোণাকৃতির একটি বক্সের ছবি শনাক্ত করেছি। ইন্দোনেশিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান দলের মুখপাত্র ইউসুফ লতিফ জানান, উদ্ধারকৃত ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল হাতে আাসার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।

আজহারের রায়ে জাতি কলঙ্কমুক্ত


ঢাকা: আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির আদেশ হওয়ায় জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে, জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আজহারকে আদালত ফাঁসির নির্দেশ দেওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রায়কে স্বাগত জানাই। রায়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ‘একজন ভদ্রবেশী সিরিয়াল মিথ্যাচারী’ মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ মিরপুরে ককটেলও ফাটায়নি, শিক্ষিকাকে হত্যাও করেনি। অথচ এর জন্য মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন। হরতালের আগের দিন অতীতের মতো যেভাবে পেট্রলবোমা ছুড়ে জীবন্ত মানুষকে অগ্নিদগ্ধ করা হয়েছে, এর দায়দায়িত্ব শুধু ঘটনার সঙ্গে যারা সরাসরি যুক্ত ছিল, তাদের একার নয়। এর নির্দেশদাতা হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম ও বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের ওপর বর্তায়। জনগণ এসব নৃশংস মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের নির্দেশদাতাদেরও বিচার চায়। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপপ্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইতালিয় ফেরির উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: গ্র্রিস উপকূলে ডুবে যাওয়া ইতালিয় ফেরি নরম্যান আল্টান্টিক আরোহীদের উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। ফেরি থেকে দশব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৪০০ জনের আরোহীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রচন্ড বাতাস ও তীব্র ধোঁয়ার কারনে উদ্ধার অভিযান ব্যহত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়। কর্ফু উপকূলে অগ্নিকা-ের শিকার নরম্যান আল্টান্টিক ফেরিটি থেকে ২৩৪ জন গ্রীক, ৪৫ জন তুর্কি, ২২ জন আলবেনীয় ও ২২ জন ইতালীয় ছিলেন। গ্রিসের পাত্রাস বন্দর থেকে ইতালির আনকোনার উদ্দেশ্যে রবিবার যাত্রা শুরু করেছিল ফেরিটি। ফেরিটিতে ২২২টি গাড়ি, ৪২২ জন যাত্রী ও ৫৬ জন ক্রসহ মোট ৪৭৮ জন আরোহী ছিলেন। ইতালিয় ফেরির উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ফেরি থেকে জীবিত উদ্ধারকৃতরা এটাকে নরকের দৃশ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। এদিকে গণমাধ্যমগুলোতে জাহাজের ক্যাপ্টেন আরগিলো গিয়াসোমাজির দায়িত্বশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। তিনি টানা ৩৬ ঘন্টা তীব্র বাতাস আর ঝড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে উদ্ধার অভিযান পর্যবেক্ষন করেছেন। ফেরিটিতে ঠিক কি কারনে আগুন লেগেছিল সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইতালিয় সরকার ঘটনা তদন্তে একটি অপরাধী অনুসন্ধান কেন্দ্র গঠন করেছে।

নিখোঁজ বিমানটি সাগরের তলদেশে!

Kanaighat News on Monday, December 29, 2014 | 9:58 PM

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক : এয়ার এশিয়া ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ বিমানটির তল্লাশি অভিযানে নিয়োজিত একটি ইন্দোনেশিয় হেলিকপ্টার সোমবার জাভা সাগরে দুটি তেলের রেখা আবিষ্কার করেছে। অপরদিকে অস্ট্রেলিয় একটি বিমানও জাভা সাগরেই কিছু ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করেছে। তবে ওই তেলের রেখা এবং বস্তুগুলো ১৬২ জন আরোহী নিয়ে রবিবার সকালে নিখোঁজ হওয়া এয়ার এশিয়া ইন্দোনেশিয়ার বিমান ফ্লাইট কিউজেড৮৫০৫ এর সঙ্গে যুক্ত কিনা তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

তবে কর্তৃপক্ষ বিমানটির ভাগ্যে ভয়ানক পরিণতি ছাড়া অন্য কিছুরই প্রত্যাশা করছেন না। রবিবার সকালে নিখোঁজ হওয়ার আগে বিমানটির পাইলট আরও উঁচু দিয়ে উড়ে চলার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে আরেকটি বিমান থাকায় কর্তৃপক্ষ সে অনুমতি দেয়নি।


নিখোঁজ বিমানটি সাগরের তলদেশে!


ইন্দোনেশিয়ার তল্লাশি অভিযান দলের নেতৃত্বে থাকা হেনরি বামবাং সোলিস্টিয়ো বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা নিখোঁজ হওয়ার আগে বিমানটির অবস্থান সম্পর্কিত সব তথ্য-উপাত্ত ঘেটে বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিমানটি সাগরেই বিধ্বস্ত হয়েছে। আর ধারণা করা হচ্ছে যে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর জাভা সাগরের তলদেশেই নিমজ্জিত হয়ে পড়ে রয়েছে।’


রবিবার ভোরে ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়ার জুয়ান্দা বিমান বন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমান বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করার এক ঘন্টা পর কালিমাতান (বোর্নিও) ও জাভা দ্বীপের মধ্যবর্তী জাভা সাগরের আকাশে ভারী মেঘমালা ও ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যায় বিমানটি।


নিখোঁজ বিমানটি সাগরের তলদেশে!


জাকার্তায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয় বিমান বাহিনীর ঘাঁটির কমাণ্ডার রিয়ার মার্শাল ডুয়ি পুত্রান্তো বলেন, তল্লাশি অভিযানে নিয়োজিত অস্ট্রেলিয় বিমান ওরিয়ন নাঙ্গকা দ্বীপের কাছে কিছু সন্দেহজনক বস্তু আবিষ্কার করেছে। কালিমান্তান দ্বীপের কেন্দ্রস্থল থেকে ১০০ মাইল আর বিমানটির নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে ৭০০ মাইল দূরে সাগরে ভাসমান ওই বস্তুগুলির হদিস মেলে।


অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার বিমান বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার মার্শাল হাদি তিজাহনান্তো মেট্রো টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তল্লাশি অভিযানে নিয়োজিত একটি ইন্দোনেশিয় হেলিকপ্টার জাভা সাগরে দুটি ভাসমান তেলের রেখার সন্ধান পেয়েছে। বেলিতুঙ্গ দ্বীপের কাছে ওই ভাসমান তেলের রেখা দুটির দেখা পায় ইন্দোনেশিয় হেলিকপ্টার। ওই জায়গাটিই বরং বিমানটির নিখোঁজ হওয়ার স্থানের বেশি নিকটে। ভাসমান তেলের রেখা দু’টি থেকে তেল সংগ্রহ করে তা ওই বিমানটি থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হবেও বলে জানান তিনি।


ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এয়ার এশিয়া ইন্দোনেশিয়ার পরিচালক বামবাং তিজাহজোনো বলেন, বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার আগে সর্বশেষ বিমানটির একজন পাইলট দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এড়ানোর জন্য ৩২ হাজার ফুট উচু দিয়ে নির্ধারিত গতিপথ ছেড়ে আরো উপরে উঠে ৩৮ হাজার ফুট উচু দিয়ে উড়ে চলার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে আরেকটি বিমান থাকায় তাৎক্ষণিকভাবেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে ওই অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু যখন ওই অনুমতি দেওয়া সম্ভব হতো ততক্ষণে বিমানটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। বিমানটির ককপিট থেকে পাইলটের সর্বশেষ যোগাযোগের ৪ মিনিট পরই সেটি কন্ট্রোল রুমের রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।


সুরাবায়া বিমান ঘাঁটির নেভাল এভিয়েশন সেন্টারের পরিচালক ফার্স্ট অ্যাডমিরাল সিগিত সেতিয়ানা জানান ইন্দোনেশিয় নৌ-বাহিনীর ১২টি জাহাজ, পাঁচটি বিমান, তিনটি হেলিকপ্টার এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধ জাহাজ তল্লাশি অভিযানে নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার কয়েকটি জাহাজ ও বিমান এবং অস্ট্রেলিয়ার একটি বিমানও এই তল্লাশি অভিযানে যোগ দিয়েছে।

সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি পেলো ছাত্রদল


ঢাকা:সংগঠনের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২ জানুয়ারি ছাত্র সমাবেশ করবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ডিএমপি পুলিশ আমাদের সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপরি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

পাঠ্যপুস্তক উৎসব ১ জানুয়ারি


ঢাকা: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিনামূল্যে বই বিতরণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আগামী ১ জানুয়ারি সারাদেশে পাঠ্যপুস্তক উৎসব পালন করা হবে। দেশের সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল, মাদরাসায় এ উৎসব পালিত হবে। সকল শিক্ষার্থী বই পাবে। সোমবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের সাথে এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান, এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল কাসেমসহ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় মন্ত্রী দেশের সব স্কুল-মাদরাসায় বই পৌঁছানোর খোঁজখবর নেন। তিনি বই বিতরণে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো গাফিলতি করলে যথোপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হবে বলে সতর্ক করে দেন। আগামীকাল সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করবেন। আগামী ১ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখ সকাল দশটায় কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক বিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক উৎসব পালন করা হবে।

কানাইঘাটে ঢিলেঢালা ভাবে হরতাল পালিত ॥ গ্রেফতার ১


নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশ ব্যাপী ২০ দলীয় জোটের ডাকা সকাল সন্ধ্যা হরতাল কানাইঘাটে ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হয়েছে। হরতালের আগের রাত কানাইঘাট থানা পুলিশ বিএনপির নেতাদের বাসা ও বাড়িতে তল্লাশি করে। পৌর বিএনপির সভাপতি কাউন্সিলার শরিফুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের বাড়িতে গভীর রাতে তল্লাশি করে পুলিশ তাদের কাউকে আটক করতে না পারলেও ছাত্রদল নেতা আর.কে বাবলু (২৫)কে তার পৌরশহরস্থ বাসা থেকে রবিবার গভীর রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। যার কারনে গ্রেফতার আতংকে ভোগছেন বিরোধী জোটের নেতাকর্মীরা। এদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মারমুখী আচরণ ও কঠোর তৎপরতার কারনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন এবং জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে রাজপথে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে পারেনি। তবে হরতালের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল ও বিচ্ছিন্ন ভাবে পিকেটিং করে তারা। সকাল ১১টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা কানাইঘাট পৌর শহরে হরতালের সমর্থনে মিছিলের প্রস্তুতি নিলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে মিছিল করতে বারন করে। পরে পূর্ব বাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে হরতালের সমর্থনে সংক্ষিপ্ত পথসভা করেন। এছাড়া হরতালের সমর্থনে বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা পৌর শহরে নন্দিরাই, গাছবাড়ী বাজার, বুরহান উদ্দিন বাজার, রাজাগঞ্জ বাজারে বিক্ষিপ্ত ভাবে মিছিল ও পিকেটিং করে। হরতাল চলাকালে অফিস পাড়া, ব্যাংক-বীমা, পৌর শহরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। দুরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও হালকা যানবাহন চলাচল করেছে। এব্যাপারে থানার ওসি আব্দুল আউয়াল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‍কানাইঘাট নিউজকে বলেন, কানাইঘাটে সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশি তৎপরতার কারনে হরতালকারীরা কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে নি।

কক্সবাজারে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান


কক্সবাজার: কক্সবাজার জেলায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী, মাদক ও মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। গত এক বছরে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১২০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ২৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মাদকদ্রব্যও। এছাড়া অবৈধপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ৫২৭ জনকে আটক করা হয়। বিভিন্ন মামলার আসামি আটক করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৭৯ জন। গত রবিবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন- জনবল ও যানবাহনসহ নানা সমস্যার মাঝেও পুলিশ সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মদসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত এক বছরে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ২৭টি বন্দুক, ৯১টি এলজি, একটি রাইফেল, একটি রিভলবার, ছয়টি ককটেল ও ৩০টি অন্যান্য অস্ত্র, ১২টি গুলি, ১৭৩টি কার্তুজ ও সাতটি খোসা উদ্ধার করা হয়। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ৮৮টি মামলায় আটক করা হয়েছে ১২৬ সন্ত্রাসীকে। জেলার বিভিন্ন উপকূলীয় পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আটক করা হয়েছে ৫২৭ যাত্রীকে। মামলা করা হয়েছে ৮০টি। এসব মামলার ৪১০ জন আসামির মধ্যে আটক করা হয়েছে ৮৭ জনকে। উদ্ধার করা হয় ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল, বিদেশি মদ, দেশিয় তৈরি মদ, ক্যান বিয়ার, হেরোইন, ক্যালসিয়াম, মাশরুমের পাউডার ও ইউরিয়া সার। মাদক উদ্ধারের ঘটনায় করা ৮৯৫টি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১২৫০ জনকে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয় ৪৩২ জনকে।

হরতালের প্রভাব পড়েনি বুড়িমারী স্থলবন্দরে


লালমনিরহাট: বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের ডাকা হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে। এ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। এছাড়াও পাসপোর্টধারী যাত্রী পারপারও ছিল স্বাভাবিক। বুড়িমারী স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট ও আমদানি কারক ব্যবসায়ী শামীম হোসেন বলেন, হরতালে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে মালামাল পরিবহনে ট্রাক সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। বুড়িমারী স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন ইনচার্জ (এসআই) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হরতালে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক ছিল। বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার (এসি) মতিয়ার রহমান বলেন, হরতালের কারণে আমদানি-রপ্তানিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণেই কমলাপুরের ট্রেন দুর্ঘটনা


ঢাকা: সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণেই কমলাপুরে ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো সরকার জনগণের জীবনের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। কারো কাছে ক্ষমতাসীনদের জবাব দিতে হয় না বলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি বলেন, ‘হরতাল যেন সফল হতে না পারে, সেজন্য যানবাহনের মালিকদের লাইসেন্স বাতিল করার হুমিক দিয়ে সরকার তাদের রাস্তায় বাস নামনোর জন্য বাধ্য করেছে। তাদের প্রতিটি বক্তব্য ও কাজই প্রমাণ করে তারা কতটা চাপে আছে।’ বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা যে ভাষায় কথা বলছেন, তা গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে নয়। মূলত তারা স্বৈরতন্ত্রের বক্তব্যে দিচ্ছেন।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগের ন্যায় এবারও বাসে আগুন ও ককটেল নিক্ষেপ করে জনসাধারণকে আহত করেছে ক্ষমতাসীনদের সন্ত্রাসী বাহিনী ও এজেন্টরা। ক্ষমতাসীনরা অত্যন্ত সুকৌশলে সে দায়ভার বিএনপির উপর চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ক্ষমতাসীনরা তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সারাদেশে বিএনপির মিছিলে গুলি ও লাঠিচার্জ করেছে।’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে বিএনপির ১১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিএনপির ৩৪২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।’ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

বড়লেখায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর মৃতদেহ উদ্ধার


মৌলভীবাজার: জেলার বড়লেখা উপজেলায় আফতাব আলী (৬২) নামে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মচারীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকালে উপজেলার উওর শাহবাজপুর এলাকায় একটি গাছের ডাল থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আফতাব আলী উপজেলার উওর শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহেদপুর গ্রামের জোনাব আলীর ছেলে। তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ছিলেন। পুলিশ জানান, স্থানীয়দের দেয়া খবরের উপর ভিত্তি করে বিকালের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আফতাবের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। বড়লেখা থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা আবুল হাসেম মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ময়নাতদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সমাবেশে বাধা দেওয়ার অভিপ্রায় আ.লীগের নেই


ঢাকা: বিএনপিসহ কারও সমাবেশে বাধা দেওয়ার অভিপ্রায় আওয়ামী লীগের নেই বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপিসহ কাউকেই কোথাও কর্মসূচি পালনে বাধা দিচ্ছি না। দেওয়ার ইচ্ছাও নেই।’ আজ সোমবার দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নানক এ কথা বলেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগকে কোথাও সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। আন্দোলন করতে করতেই আমাদের জন্ম। যদি কারও বাধা দেওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাদের আমরা দেখতে চাই। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আমরা অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি। এখন তারা আমাদের কিছুই করতে পারবে না। তারা যে তাণ্ডব চালিয়েছে, বাংলার জনগণ তা দেখেছে। তাদের সহিংসতার পরিমাণ বেশি, তার মানে এই নয় যে আমরা দুর্বল।’

জেএসসি ও সমাপনী পরীক্ষার ফল কাল


ঢাকা: চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) ও পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় বসা ৫২ লাখ শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান হচ্ছে মঙ্গলবার। এদিন সকাল ৯টায় বোর্ড ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন শিক্ষামন্ত্রী। বেলা সাড়ে ১২টায় আলাদা সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী। দুই মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পরপরই শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ড এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে ফল জানতে পারবেন। এছাড়া মোবাইল থেকে এসএমএস করেও ফল জানা যাবে। গত বছর ২৯ ডিসেম্বর জেএসসি এবং তার পরদিন প্রাথমিক সমাপনীর ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। তার আগের বছর ২৬ ডিসেম্বর একইসঙ্গে জানানো হয়েছিল এ দুই পরীক্ষার ফল। এ বছর ২ নভেম্বর থেকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জামায়াতের হরতালের কারণে তা ৭ নভেম্বর শুরু হয়। হরতালের কারণে জেএসসি-জেডিসির চার দিনের পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ফলে ১৮ নভেম্বর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সমাপনী পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০ নভেম্বর শেষ হয়। এবার ২০ লাখ ৯০ হাজার ৬৯২ জন শিক্ষার্থী জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। আর গত ২৩ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ২৬৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এরমধ্যে পঞ্চম শ্রেণির ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৪ জন এবং মাদ্রাসার তিন লাখ পাঁচ হাজার ৭২১ জন পরীক্ষার্থী। ফল জানা যাবে মোবাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (www.dpe.gov.bd) এবং টেলিটকের ওয়েবসাইট (http://dpe.teletalk.com.bd) থেকে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনীর ফল জানা যাবে। এছাড়া যে কোনো মোবাইল ফোন থেকে DPE লিখে স্পেস দিয়ে থানা/উপজেলার কোড নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৪ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানা যাবে। ইবতেদায়ীর ফল পেতে EBT লিখে স্পেস দিয়ে থানা/উপজেলার কোড নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৪ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। এই এসএমএস লেখার সময় সরকারি অথবা রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের EMIS কোড নম্বরের প্রথম পাঁচ সংখ্যা উপজেলা/থানা কোড হিসেবে ব্যবহার করতে হবে; যা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিস ও প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জানা যাবে। আর শিক্ষাবোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট (www.educationboardresults.gov.bd) ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে জেএসসি-জেডিসির ফল জানা যবে। যে কোনো মোবাইল থেকে JSC/JDC লিখে স্পেস দিয়ে নিজ বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৪ লিখতে এসএমএস করলে ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

অপরাধীদের বাঁচাতে এক সেকেন্ডও হরতাল নয়


ঢাকা: ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির জন্য সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের বাঁচাতে এক সেকেন্ডও হরতাল না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান। সোমবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালি ডিওএইচএসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান। আখতারুজ্জামান বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও যুব দলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ শত শত নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কারণে হয়রানিমূলক গ্রেপ্তারের কারণে আমি হাজারো বার হরতাল দিব। কিন্তু কোন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের জন্য এক সেকেন্ডও হরতাল নয়। আর কেউ হরতাল দিলে আমি তা মানবো না। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সফল হরতালের মাধ্যমে যেমন জনমত প্রতিফলিত হয়, তেমনি ব্যর্থ হরতালে জনমত বিগড়েও যায়। তাই হরতালের মত চূড়ান্ত কর্মসূচি দিতে গেলে বিষয়টি বিবেচনায় রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় প্রয়োজন হয়। বিএনপিরকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, সরকার বিরোধী আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আমার তীব্র মতবিরোধ আছে। আমি আন্দোলন হিসাবে সভা, সমাবেশ ও মিছিল অব্যাহত করার পক্ষে। বিএনপির দাবির পক্ষে জোড়ালো জনমত সৃষ্টি করতে হবে। আন্দোলনে সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য জনগণকে প্রস্তুত করতে হবে। কিন্তু সমাবেশ করতে না পারা বিএনপির ব্যর্থতা। আর এর জন্য সরকারকে দোষ দিলে চলবে না। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবস্থান হলো বর্তমান সরকার একটি অবৈধ নির্বাচনের ফসল। আর সরকারকে বৈধতা পেতে হলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে। অন্যথায় ২০ দলীয় জোট অব্যাহতভাবে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এই বিষয়ে আমার কোন দ্বিমত নেই।

যৌন সঙ্গমে আয়ু কমে!


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: রাজনীতির ময়দানে সাফল্য এলেও কিছু নেতার জন্য বছর শেষে বিড়ম্বনাই বাড়ছে বিজেপি-র। নেতাদের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য বার বার দলের অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। এবার সেই তালিকায় বিজেপি সাংসদ অলোক সঞ্জর। মধ্যপ্রদেশের ভোপালের। এই বিজেপি সাংসদের চিকিতসা শাস্ত্রে কোনও ডিগ্রি নেই। কিন্তু পোড় খাওয়া ডাক্তারের মতো এমন একটি মন্তব্য করে বসলেন, যার ঝক্কি পোহাতে হবে দলকেই। কী বলেছেন অলোক সঞ্জর? সোমবার ভুপালে একটি টেস্ট টিউব বেবি সেন্টারের দশম প্রতিষ্ঠা দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন এলাকার সাংসদ অলোক সঞ্জর। মঞ্চে বক্তব্য পেশ করতে উঠেই যৌন সঙ্গম নিয়ে কয়েকটি মন্তব্য শুরু করে দেন। বিজেপি সাংসদের বক্তব্য, বেশি রতিক্রিয়ায় মানুষের আয়ু কমে যায়। তাই যৌন সঙ্গমে লাগাম টানা উচিত। এখানেই শেষ করেননি গেরুয়া-সাংসদ। তাঁর আরও দাবি, বর্তমানে মানুষ অনেকটা যজ্ঞ করার মতো রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হচ্ছে। তারপরই ঈশ্বরের কাছে পার্থনা করছে, যেন স্ত্রীর গর্ভে ভগবান জন্ম নেন। যৌনতাকে একটা খেলা মনে করছে অনেকে।

শীতের মিষ্টিরোদ থেকে সাবধান


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: শীতের কনকনে ঠাণ্ডাকে সবাই ভয় পাই। তাই একটু আরামের জন্য সুযোগ পেলেই আমরা রোদে এসে একটু উত্তাপ নেয়ার চেষ্টা করি। শরীরের জন্য শীতের রোদ আরামদায়ক হলেও ত্বকের জন্য মোটেও ভালো নয়। কারণ বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে শীতের রোদে ক্ষতিকর প্রভাব বেশি থাকে। রোদের প্রখরতা কম থাকায় শীতের রোদে সবাই একটু বেশি সময় কাটায়। ফলে শীতের রোদে ত্বকের ক্ষতিও বেশি হয়। শুধু সকালেই নয়, শীতের সময় দুপুর কিংবা বিকালেও অনেকে গায়ে রোদ লাগাতে পছন্দ করেন বা গায়ে রোদ মেখে আরাম পান। আর তাই শীতে কেউই রোদ এড়িয়ে চলতে চান না। এ সময় অনেককেই দেখা যায় রিকশার হুড না তুলে পথ চলছেন। রাস্তায় রোদের মধ্যে পথচারীদেরও পথ চলতে তেমন দ্বিধা থাকে না। শীতে এসব দৃশ্যের পেছনে কারণ একটাই, আর তা হচ্ছে শীতের মিষ্টি রোদ থেকে উষ্ণতা আহরণের আকাক্ষা। কিন্তু শীতের এই মিষ্টিরোদ কি আসলেই মিষ্টি? এই প্রশ্নের উত্তর শুনে সৌন্দর্য সচেতন ব্যক্তি নিঃসন্দেহে কিছুটা ভাবনায় পড়ে যাবেন। কারণ শীতের মিষ্টিরোদ আসলে মিষ্টি নয় বরং কিছুটা ক্ষতিকরই বলা যায়। এমনিতেই রোদ ত্বকের অন্যতম শত্রু। রোদ ত্বককে পুড়িয়ে দেয়। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে শীতের রোদের ক্ষতিকর প্রভাব বেশি থাকে। যদিও শীতের সময় রোদের প্রখরতা কম থাকে কিন্তু বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মির পরিমাণ তখন বেশি থাকে। শীতের সময় বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকার কারণেই আলট্রাভায়োলেট রশ্মি তুলনামূলক কম জলীয়বাষ্পের বাধা অতিক্রম করে ত্বকের সংস্পর্শে পৌঁছায়। বছরের অন্যান্য সময় বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আলট্রাভায়োলেট রশ্মি জলীয় বাষ্পের বাধা অতিক্রম করে আসার ফলে তার তেজ অনেকটা কমে যায়। আর শীতে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি অনেকটা সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে। তাই শীতের রোদে ত্বকের ক্ষতিও বেশি হয়। ত্বক মলিন ও গাঢ় হয়ে পড়ে। কাজেই শীতের সময় রোদের মধ্যে বেশি থাকার কারণে ত্বকের ক্ষতি আরো বেশি হয়। অন্যদিকে গরমকালে রোদের প্রখরতা বেশি থাকে বলে লোকজন এমনিতেই রোদ এড়িয়ে চলে এবং তখন রোদের আলট্রাভায়োলেট রশ্মির তেজও থাকে কম। ফলে গরমকালে রোদে ঘুরলে ত্বক শীতের সময়ের চেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আলট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এই রশ্মি থেকে ত্বককে যত দূরে রাখা যাবে ততই মঙ্গল। ত্বকের সজীবতা ও হালকা বর্ণ ধরে রাখার জন্য রোদকে যতই আরামের মনে হোক না কেন, তা আসলে ত্বকের ক্ষতি করছে। অর্থাৎ সৌন্দর্যহানি ঘটাচ্ছে। কাজেই সৌন্দর্যসচেতন প্রত্যেকেই ব্যাপারটি এড়িয়ে চলতে পারেন।

কানাইঘাটে শ্রমিকলীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

Kanaighat News on Sunday, December 28, 2014 | 9:06 PM


নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান বলেছেন, সরকার উৎখ্যাত নামে আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। কোন ধরনের হুমকি, ধমকি ও আন্দোলনের মাধ্যমে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের আশ্রয়স্থল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারকে ক্ষমতার এক দিনের আগেই কোন অপশক্তি মতা থেকে নামাতে পারবে না। তিনি আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের রাজপথে থেকে বিএনপি জামায়াত জোটের যে কোন ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান আজ রবিবার বিকেল ২টায় আল-রিয়াদ কমিউনিটি সেন্টারে কানাইঘাট উপজেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি সিলেট জেলা শ্রমিকলীগের সহসভাপতি মোঃ হারুন রশিদের সভাপতিত্বে উপজেলা শ্রমিকলীগের সাবেক সদস্য সচিব আলা উদ্দিন আল-আজাদের পরিচালনায় সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধক করেন, জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও সিলেট জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি প্রকৌশলী এজাজুল হক। উক্ত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী, জেলা আ’লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আলহাজ্ব এম.এ মুমিন চৌধুরী, জেলা আ’লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এমাদ উদ্দিন মানিক, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মস্তাক আহমদ পলাশ, উপজেলা আ’লীগের আহ্বায়ক পৌর মেয়র লুৎফুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম রশিদ চৌধুরী, বিশেষ বক্তার বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আব্দুল ওদুদ, শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা শ্রমিকলীগের সাবেক আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন। এছাড়া শ্রমিকলীগের এ সম্মেলনে জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় অধিবেশনে উপজেলা শ্রমিকলীগের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষে কাউন্সিলারদের ভোট গ্রহণ প্রস্তুতি চলছিল।

আখেরাতকেন্দ্রিক জীবনই মুমিনের কাম্য


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: মুমিন অর্থ বিশ্বাসী। মহান আল্লাহ তায়ালার একক সত্তা, তাঁর প্রেরিত রাসূল, ফেরেশতা, কিতাব, পরকাল ও তকদিরের ওপর আন্তরিক বিশ্বাস স্থাপনকারী আল্লাহর গোলামকে ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় মুমিন বলা হয়। মুমিনের পরিচয়ে কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে, ‘তারা তাওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকুকারী, সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজের নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা হিফাজতকারী। আর মুমিনদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।’ (সূরা তওবা: ১১২) ‘মুমিন তো তারাই যাদের সামনে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে তাদের অন্তর প্রকম্পিত হয়ে ওঠে আর যখন আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তখন তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পেয়ে যায়।’ (সূরা আনফাল: ২) নুমান ইবনে বশির (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, ‘তোমরা মুমিনদের পারস্পরিক দয়া ভালোবাসা ও হৃদ্যতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে একটি দেহের মতো দেখতে পাবে। দেহের কোনো অঙ্গ যদি পীড়িত হয়ে পড়ে তাহলে অপর অঙ্গগুলোও জ্বর এবং নিদ্রাহীনতাসহ তার ডাকে সাড়া দিয়ে থাকে।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম) মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে বলা হয় আখিরাত। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘সেদিন অবশ্যই আসবে যখন মুত্তাকি লোকদের আমি মেহমানের মতো রহমানের দরবারে উপস্থিত করব। আর পাপী অপরাধী লোকদের পিপাসু জানোয়ারের মতো জাহান্নামের দিকে তেড়ে নিয়ে যাবো। সেই সময় লোকেরা কোনো সুপারিশ করতে সক্ষম হবে না তাদের ব্যতীত যারা রহমানের দরবার থেকে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে।’ (সূরা মারিয়াম: ৮৫-৮৭) হাদিসে এসেছে, আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত, ‘আমি আল্লাহর নবীকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, কিয়ামাতের দিন মানব জাতিকে খালি পায়ে, উলঙ্গ ও খাতনাবিহীন অবস্থায় একত্র করা হবে। আমি আরজ করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এমতাবস্থায় তো নারী-পুরুষ পরস্পর পরস্পরের দিকে তাকাবে। হুজুর (সা:) বললেন, হে আয়েশা! সেদিনকার অবস্থা এত ভয়াবহ হবে যে, পরস্পর পরস্পরের দিকে তাকানোর কোনো কল্পনাই কেউ করবে না।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম) মুমিন সব সময় নিজেকে আল্লাহর ভালোবাসার চাদরে জড়িয়ে রাখতে চান। তার জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া হয় একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। তিনি তার রবের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি হন। দুনিয়ার কোনো লোভলালসা তাকে গ্রাস করতে পারে না। তার শয়নে-স্বপনে-কর্মে সব সময় জাগরুক থাকে আল্লাহর ভয় ও তাঁর ভালোবাসা। দুনিয়ার স্বার্থকে তিনি বড় দেখেন না, বড় দেখেন শুধু আখিরাতের মনজিল। তাই তিনি অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যান তাঁর লক্ষ্যপানে পৌঁছতে, আর বাসনার রাজ্যে পরম তৃপ্তিতে ভাসতে থাকেন রবের হুকুম পালন করার মানসিকতা নিয়ে। কিভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, সে ভাবনাই থাকে তার মনে সব সময়। মুমিন জীবনের লক্ষ্য: সফল জীবন লাভের জন্য একটি চূড়ান্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করা খুবই জরুরি। ইমাম গাজ্জালী (রহ:) বলেন, মানুষ অনাদি নয়, তাই চিরস্থায়ী। অর্থাৎ মানবজীবনের শুরু আছে শেষ নেই। তাই মানুষের উচিত এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করা যা তার চিরস্থায়ী জীবনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী, তাই যদি কেউ পার্থিব জীবনের মধ্যে তার জীবনের লক্ষ্য সীমিত রাখে, তাহলে তা হবে বুদ্ধিমত্তার পরিপন্থী। মানুষ নিজ জীবন সম্পর্কে প্রায়ই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়। কখনো সে নিজেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বস্তু বলে সাব্যস্ত করে এবং অন্যদেরকে নিম্নস্তরের মনে করে তাদের আনুগত্য দাবি করে। আবার কখনো সে নিজেকে নিতান্ত অসহায় ভেবে যেকোনো শক্তিধর বস্তুর কাছে আপন সত্তাকে বিলীন করে দেয়। প্রকৃতপক্ষে এ দুয়ের মাঝামাঝি মানুষের অবস্থান। মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। অত্যন্ত নিকৃষ্ট বস্তু দ্বারা তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করে অহঙ্কার করা মানুষের জন্য সমীচীন নয়। কিন্তু মানুষকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে। তাই মানুষ একমাত্র তাঁরই সামনে মাথা নত করবে, অন্য কারো সামনে নয়। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, ‘নিশ্চয় আমি জমিনে একজন খলিফা সৃষ্টি করছি।’ (সূরা বাকারাহ: ৩০)। জীবনের সব ক্ষেত্রে আল্লাহর গোলামি করাই হচ্ছে সফল জীবনের লক্ষ্য। কারণ মানুষকে সৃষ্টি করাই হয়েছে তাঁর গোলামি করার জন্য। এ ব্যাপারে কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর জিন ও মানুষকে কেবল এ জন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার ইবাদত করবে।’ (সূরা জারিয়াত: ৫৬)। অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতই মানুষের জীবনের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য। এটিই মানুষের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। দুনিয়ার জীবনে মুমিনের চাওয়া-পাওয়া: দুনিয়ার জীবনে মুমিন পেতে চায় তার রবের ইবাদত করার ব্যাপক সুযোগ। দুনিয়ার কোনো মোহ তার চাওয়া-পাওয়া হতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা মানুষসহ সব প্রাণীর আহারের দায়িত্ব নিজের কাছেই রেখেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর জমিনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহরই এবং তিনি জানেন তাদের আবাসস্থল ও সমাধিস্থল। সব কিছু আছে স্পষ্ট কিতাবে।’ (সূরা হুদ: ৬) মুমিনজীবনে ঈমানি পরীক্ষা: যুগে যুগে আল্লাহর মুমিন বান্দাদেরকে তাদের জান, মাল, ইজ্জত আব্রু কোরবানি করতে হয়েছে। আল্লাহ তাঁর দ্বীনের জন্য যাদের পছন্দ করেছেন, তাদেরকে বিভিন্ন সময় পরীক্ষা করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জানমাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সূরা বাকারাহ: ১৫৫) কুরআন মজিদে অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘নাকি তোমরা ভেবেছ যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনো তোমাদের নিকট তাদের মতো কিছু আসেনি, যারা তোমাদের আগে বিগত হয়েছে। তাদেরকে স্পর্শ করেছিল কষ্ট ও দুর্দশা এবং তারা কম্পিত হয়েছিল। এমনকি রাসূল ও তাঁর সাথী মুমিনগণ বলছিল, ‘কখন আল্লাহর সাহায্য (আসবে)? জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।’ (সূরা বাকারাহ: ২১৪) দুনিয়ার জীবনে কোনো মুমিন বান্দাই পরীক্ষা থেকে রেহাই পাননি। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘মানুষ কি মনে করে যে, আমরা ঈমান এনেছি বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? আর আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি। ফলে আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন, কারা সত্য বলে এবং অবশ্যই তিনি জেনে নেবেন, কারা মিথ্যাবাদী।’ (সূরা আনকাবুত: ২-৩) জীবনযুদ্ধে মুমিনের সফলতা: দুনিয়ার জীবনযুদ্ধে একজন মুমিন তার ঈমানের দাবি পূরণে থাকেন সদা আপসহীন। সংগ্রামের পথে তিনি খুঁজে পান জীবনের সফলতা। কুরআনে এসেছে, ‘মুমিন কেবল তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারপর সন্দেহ পোষণ করেনি। আর নিজদের সম্পদ ও নিজদের জীবন দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে। এরাই সত্যনিষ্ঠ।’ (সূরা হুজুরাত: ১৫) মুমিনদের সফলতার ব্যাপারে কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে, ‘তাদের রবের কাছে তাদের পুরস্কার হবে স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা থাকবে স্থায়ীভাবে। আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন তারাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছে। এটি তার জন্য, যে স্বীয় রবকে ভয় করে।’ (সূরা বায়্যিনাহ: ৮) মুমিনের সকল কাজ হয়ে থাকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘সে তো শুধু তার মহান রবের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কাজ করে। অবশ্যই তিনি (তার ওপর) সন্তুষ্ট হবেন।’ (সূরা লাইল: ২০-২১) মুমিনের আসল ঠিকানা: একজন সত্যিকারের মুমিন মনে করেন, তার আসল ঠিকানা হলো আখিরাত। তাই সে আখিরাতের ঘর বানানোর কাজে সদা থাকেন সচেষ্ট। আর আখিরাতের ঘর হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জান্নাত। জান্নাতের আকাক্সী মুমিন বান্দা দুনিয়ার জীবনে এক মুহূর্তের জন্যও আখিরাতের আমল থেকে দূরে থাকতে চান না। সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড তার কাছে মহামূল্যবান। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরোটা সময়ই তিনি আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়ে দিতে ভালোবাসেন। তার কর্মের প্রশংসা করে কুরআনে বলা হয়েছে, ‘সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য রয়েছে নিয়ামতে ভরা জান্নাত। চিরকাল তারা তা উপভোগ করবে। এটা আল্লাহর ওয়াদা। আর তিনি মহাশক্তিশালী ও সুবিজ্ঞ।’ (সূরা লোকমান, ৮-৯) মুমিনের আখিরাত প্রস্তুতি: আখিরাতে চিরসুখ ভোগ করতে একজন মুমিন দুনিয়ার জীবনে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে বিলিয়ে দেন আল্লাহর দ্বীনের পথে। দুনিয়ার কোনো বাধা, অর্থবিত্ত তার কাছে বড় মনে হয় না, বড় মনে হয় আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করাকে। মুমিনের কর্মপ্রস্তুতি সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন (এর বিনিময়ে) যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে। অতএব তারা মারে ও মরে। তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে এ সম্পর্কে সত্য ওয়াদা রয়েছে। আর নিজ ওয়াদা পূরণে আল্লাহর চেয়ে অধিক কে হতে পারে? সুতরাং তোমরা (আল্লাহর সাথে) যে সওদা করেছে, সে সওদার জন্য আনন্দিত হও এবং সেটাই মহাসাফল্য।’ (সূরা তাওবা, ১১১) আখিরাতে মুমিনের অবস্থান: যারা দুনিয়ার সব চাওয়া-পাওয়াকে তুচ্ছ মনে করে, হাসি-আনন্দকে বিসর্জন দিয়ে হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন আখিরাতের বাসনা, আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য মহা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। কুরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে এবং (ওয়াদা দিচ্ছেন) স্থায়ী জান্নাতে পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি সবচেয়ে বড়। এটাই মহাসফলতা।’ (সূরা তওবা, ৭২) দুনিয়ার জীবনটাই শেষ নয়। মৃত্যুর পর শুরু হবে অনন্ত জীবন। সেখানে সবার পাপপুণ্যের হিসাব নেয়া হবে এবং দেয়া হবে আমলের ভিত্তিতে ফলাফল। আখিরাতে মুমিনদের জন্য রয়েছে মহা শান্তির স্থান জান্নাত। আর পাপীদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম। কুরআনে এসেছে, ‘কিয়ামাতের সংবাদ কি তোমার কাছে এসেছে? সেদিন অনেক চেহারা হবে অবনত। কর্মকান্ত, পরিশ্রান্ত। তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত আগুনে। তাদের পান করানো হবে ফুটন্ত ঝর্ণা থেকে। তাদের জন্য কাঁটাবিশিষ্ট গুল্ম ছাড়া কোনো খাদ্য থাকবে না। তা মোটাতাজাও করবে না এবং ক্ষুধাও নিবারণ করবে না। সেদিন অনেক চেহারা হবে লাবণ্যময়। নিজদের চেষ্টা সাধনায় সন্তুষ্ট। সুউচ্চ জান্নাতে। সেখানে তারা শুনবে না কোনো অসার বাক্য। (সূরা গাশিয়া: ১-১১) এমন জান্নাত প্রত্যাশাই হোক মুমিনের কাম্য।

ধামরাইয়ে মধু চাষে সাফল্য


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: শুধুমাত্র সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি চাষের ফলে ধামরাই উপজেলায় সরিষা ও মধু চাষে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ধারাবাহিকভাবে গত ১০ বছরে উপজেলাটির হাজারো কৃষক পরিবার সরিষা ও মধু চাষ করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। শীতের বারতা আর কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল বেলায় সুবিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে বইছে সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠে সবুজের সমারোহের মাঝেই বাতাসে হিন্দোলিত হচ্ছে- হলুদ সরষের পরাগায়ন। ধামরাইয়ের এই অঞ্চলটিতে সরিষা মৌসুমে মৌমাছিদের গুনগুনিয়ে গান গাওয়াই মনে করিয়ে দেয় সরিষা ফলনে কৃষকদের সফলতার কথা। গাজীপুর বিসিকের অধীনে আটিপাড়া এই গ্রামের মতই ইকুরিয়া, হাটুরিয়া, বাংলাপাড়া ও মালঞ্চসহ প্রায় ৮-১০টি গ্রামে এখন বইছে মৌমাছির গুঞ্জন আর হলুদ সরিষার সমারোহ। ইতোমধ্যেই অনেক এলাকায় বেকাররা সরিষা চাষ করে ব্যাপক সফলতা পাওয়ায় এই অঞ্চলের অনাবাদী জমিগুলোতেও এখন সরিষা চাষ হচ্ছে। আটিপাড়া এলাকার সাবলম্বী যুবক আলতাফ (৩৫) জানান, নিজ জমিতে সরিষা ক্ষেতে মধু চাষের মাধ্যমে তার সুদিন ফিরেছে। সরিষার পাশাপাশি মধু চাষের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয়ে তিনি এখন স্বচ্ছল জীবন-যাপন করছেন। ধামরাইয়ে মধু চাষে সাফল্য এলাকার প্রবীণ এক কৃষক আকবর আলী (৬৫) জানালেন, কয়েক যুগ ধরে মৌমাছি ও সরিষা চাষ করে সফল হওয়ার গল্প। তিনি দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে সরিষা ক্ষেতে মৌচাষ করে আসছেন। আর পেশাতেই তিনি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। গাজীপুর বিসিকের মৌচাষ প্রকল্পের প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তা মোবাচ্ছের হোসেন জানান, বছরের বাকি সময় প্রশিক্ষণ দিলেও এই মৌসুমে তারা এই অঞ্চল থেকে মাসে সাড়ে ৬শ’ কেজি মধু আহরণ করেন। ধামরাইয়ে মধু চাষে সাফল্য উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, ১০ বছর আগে এই অঞ্চলে জমিগুলো পতিত পড়ে থাকলেও মৌচাষে কেউ আগ্রহী হত না, কিন্তু বর্তমানে চিত্র ভিন্ন। এক সময় এখানকার কৃষকরা সরিষা ক্ষেতে মধু চাষে আগ্রহী ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সরিষার ক্ষেতে মধু চাষের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের কথা জেনে তারা এখন ব্যাপক পরিসরে মধু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে একদিকে মৌমাছি সরিষার ফুলের ক্ষতিকারক “জাম” পোকাকে নিধনের মাধ্যমে সরিষার ফলন বাড়ায়। অপরদিকে এ পোকা দমনে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এসমস্যা থেকে তারা আশানুরূপ সরিষার ফলনের পাশাপাশি আহরিত মধু বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। আর মধু চাষে কৃষকদের আগ্রহী করার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে উপজেলার কৃষি অফিস থেকে মাঠ পর্যাযে বিভিন্ন কর্মশালার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তাই এ পদ্ধতি সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হলে অতিরিক্ত সরিষা চাষের মাধ্যমে যেমন ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণ করা যাবে। তেমনি মধু উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। -----ঢাকা টাইমস।

শীতের মজা মুগ ডালের খিচুড়ি


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: শীতে পিঠা পায়েস খেতে কার না ভালো লাগে। শীত আর পিঠা যেন প্রতিশব্দে পরিণত হয়েছে। পিঠা পায়েসের পাশাপাশি ভিন্ন স্বাদের খাবার খেতে অনেকে পছন্দ করেন ‘মুগ ডালের সবজি খিচুড়ি’। কিছুক্ষণের জন্যও যা শীতকে একটু দূরে রাখতে পারে। ঢাকাটাইমসের পাঠকদের জন্য মুখরোচক খিচুড়ি বানানোর পদ্ধতি তুলে ধরা হল। উপকরণ: * আধা কেজি চাল * আধা কেজি মুগ ডাল * গাজর, আলু, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি ইত্যাদি সবজি মাঝারি আকারের কুচি ২ কাপ পরিমাণে। * ৩/৪ টি পেঁয়াজ কুচি * ৬/৭ টি মরিচ ফালি (ঝাল বুঝে) * তেজপাতা ২টি * ৩/৪ টি এলাচ * ৩/৪ টি লবঙ্গ * ২ টি ১ ইঞ্চি পরিমাণে দারুচিনি * ২ চা চামচ আদা-রসুন বাটা * লবণ স্বাদমতো * তেল ৪ টেবিল চামচ * আধা চা চামচ হলুদগুঁড়ো * আধা চা চামচ জিরা * ১ চা চামচ ঘি * ২/৩ টি শুকনো মরিচ পদ্ধতি: * চাল ডাল একসাথে মিশিয়ে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন। * এবারে একটি প্যানে ৩ টেবিল চামচ তেল গরম করে এতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে নরম করে ভেজে নিন। এরপর এতে দিন আদা-রসুন বাটা। * এরপর একে একে এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, তেজপাতা, হলুদগুঁড়ো, মরিচ ফালি ও লবণ দিয়ে ভালো করে মসলা কষে নিন। * মসলা কষা হয়ে এলে এতে চাল-ডাল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবং ২-৩ মিনিট নেড়ে ভাজতে থাকুন। এরপর এতে সবজি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। * এরপর পরিমাণমতো পানি দিয়ে চুলার আঁচ বাড়িয়ে রান্না করতে থাকুন। * খিচুড়ি একটু নরম হবে। এবং সেদ্ধ হয়ে এলে চুলার আঁচ একেবারে কমিয়ে দিন। * একটি কড়াইয়ে ১ টেবিল চামচ তেল ও ১ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে গরম করে এতে জিরা দিয়ে দিন। খানিকক্ষণ ভেজে এতে দিন শুকনো মরিচ। * এই মিশ্রণটুকু খিচুড়ির ওপর ঢেলে দিন। ও ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন ৫ মিনিট। * এরপর চুলা থেকে নামিয়ে গরম গরম মজা নিন এই সুস্বাদু খিচুড়ির।

টার্গেট ৫ জানুয়ারি:কানাইঘাটে গ্র্রেফতার ৩


নিজস্ব প্রতিবেদক: সোমবারের ২০দলীয় জোটের সকাল সন্ধ্যা হরতাল এবং ৫ জানুয়ারীকে সামনে রেখে কানাইঘাটে বিএনপি ও জামায়াত জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কানাইঘাট থানা পুলিশ পৌর শহর থেকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যবসায়ী বশির আহমদ (৩০), পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি তাজ উদ্দিন (৩৫) ও যুবদল নেতা মোহাম্মদ কিবরিয়া (২৫)কে গ্রেফতার করে। তাদেরকে নাশকতা মূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ এনে পুলিশ আজ মামলা দায়েরের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করেছে। এছাড়া পুলিশ বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে অনেকের বাসা ও বাড়িতে তল্লাসি চালিয়েছে। এদিকে গ্রেফতার আতংকে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন বলে ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কানাইঘাট নিউজকে বলেন হরতালকে সামনে রেখে নাশকতা মূলক পরিকল্পনা করার দায়ে ৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হরতালে আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পৌর শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান।

রাজধানীতে বাসে আগুন, বোমা, বিজিবি মোতায়েন


ঢাকা: আগামীকাল সোমবার ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের আগের দিন আজ রবিবার রাজধানীর পল্টন মোডে একটি যাত্রীবাহী আগুন দিয়েছে হরতালকারীরা।এতে কেউ হতাহত হয়েছে কি তা জানা যায়নি। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলেও তাতে কাজ হয়নি।দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলের দিকে রওয়ানা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দমকল বাহিনীর সদর দপ্তরের ইন্সপেক্টর ফরহাদ। এর আগে বিএনপির নয়া পণ্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি হাত বোমা বিস্ফোরণের ঘটানো হয়। রবিবার বিকালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী আবদুর রহমান বলেন, রবিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে নয়া পল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ৩/৪ জন দুর্বৃত্ত একটি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। জানতে চাইলে পল্টন মডেল থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুশঙ্কর পাল বলেন, হরতালকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্খা নেয়ার কথা জাানান তিনি। এদিকে আগামীকাল হরতালের সমর্থনে শাহবাগ মোড়ে ঝটিকা মিছিল করেছে বিএনপি। মিছিলটি কারো হামলার মুখে না পড়লেও শাহবাগ মোড়ে ব্যানার রেখে বিএনপি নেতাকর্মীরা ভয়ে পালিয়ে যায়। ২০ দলের ডাকা সোমবারের হরতালের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে রাজধানীতে বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোহসীন রেজা রবিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হরতালকে কেন্দ্র করে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হতে পারে সেজন্য পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিজিবিও কাজ করবে।’ তবে কত প্লাটুন বিজিবি সদস্য নামানো হবে এ বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। আগামীকালের বিএনপির ডাকা হরতালে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে বাস চলাচলের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতি।

৩১ ডিসেম্বর দেশ পরিষ্কারে নামছেন ১২ হাজার তরুণ


ঢাকা: ৩১ ডিসেম্বর বেলা ১১টা থেকে একটা পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি তরুণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নামছেন। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে তাঁরা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করবেন। এই তরুণেরা স্বেচ্ছাসেবী। তাঁরা পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দেশটাকে পরিষ্কার করি দিবস ২০১৪’-এর প্রস্তুতি উপলক্ষে ‘পরিবর্তন চাই’ নামক এক সংগঠন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এই সংগঠন ৩১ ডিসেম্বর ‘দেশটাকে পরিষ্কার করি’ দিবস পালন করবে। সংগঠনটি এক বছর ধরে দেশ পরিষ্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। এরই প্রক্রিয়া হিসেবে এ দিবস পালন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ফিদা হক বলেন, ‘কত ধরনের দিবসই তো আমরা পালন করি। একটা দিন দেশটাকে পরিষ্কার করার জন্য থাকুক।’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহপ্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নুরুল হোসেন খান শহরের বিভিন্ন স্থানে পরিবর্তন চাইয়ের উদ্যোগে ডাস্টবিন বসানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি সবাইকে এগুলো নিয়মিত ব্যবহার ও অন্যদেরও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান। সংবাদ সম্মেলনে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সুন্দর এবং পরিচ্ছন্ন দেশ পাওয়া সম্ভব নয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নগর পরিকল্পনাবিদ সালমা এ শফি, স্থপতি ইকবাল হাবিব ,অস্ট্রেলিয়ার ক্লাইমেট অ্যাকশন ক্যানবেরার যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল আহসান খান, ব্রতীর সিইও শারমিন মুর্শিদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) প্রতিনিধি শরিফ জামিল, পাঞ্জেরী পাবলিকেশনসের পরিচালক কামরুল হাসান প্রমুখ। দেশটাকে পরিষ্কার করি দিবস ২০১৪ পালনে সহায়তা করছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন, বাংলা ট্যাক, ওয়াটার এইড, কিউবি, সূর্যমুখী লিমিটেড ও ওয়ার্ল্ড ভিশন।

পল্লবীতে নবজাতকের লাশ উদ্ধার, মা আটক


ঢাকা : রাজধানীর পল্লবী এলাকায় মৃত নবজাতককে ফেলে যাওয়ার সময় তার মা চম্পা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল আলম বলেন, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পল্লবী থানার ১০ নম্বর সেকশনের, এ ব্লকের, এক নম্বর এ্যাভিনিউয়ের আসলাম হোটেলের গলির মাথায় ফুটপাত থেকে ওই নবজাতককে সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সকালে সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকের লাশটি ফেলে যাওয়ার সময়ে চম্পা বেগমকে হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। পরে তাকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই নবজাতকের অন্য কোনো পরিচয় জানা যায়নি। তবে চম্পা বেগমের দাবি ওই নবজাতকটি তার ছেলে। জন্ম নেওয়ার পরপরই মারা যাওয়ায় তিনি তাকে ওই স্থানে ফেলে যাচ্ছিলেন বলে জানান চম্পা।

অনলাইন যৌন ব্যবসায়ী চক্রের মুখোশ উন্মোচন


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: বেআইনি সেক্স র‍্যাকেট ও দেহব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে ফের একবার বড়সড় সেক্স র‍্যাকেটের পর্দা ফাঁস করেছে ভারতের বেঙ্গালুরু পুলিশ। অনলাইনে চলতে থাকা সেক্স র‍্যাকেটের পর্দা ফাঁস করে পুলিশ তিন দালালকে গ্রেপ্তার করেছে। এমনকি এক দেহ ব্যবসায়ীকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধৃত অভিযুক্তরা হচ্ছে, মোহম্মদ, শিবকুমার ও তবরাজ। পুলিশ যে ২২ বছরের যুবতীকে উদ্ধার করেছে সে মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। যুবতীকে জোর করে দেহব্যবসা করানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ এসেছে। গুপ্তচর সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ একটি আবাসনে তল্লাশি চালিয়ে তিন দালালকে গ্রেপ্তার করে। এই চক্রটি বেঙ্গালুরু কলগার্ল নাম দিয়ে সেক্স র‍্যাকেট চালাত এবং অনলাইনে গ্রাহকদের ফাঁসাত। ডেকান ক্রনিক্যালের খবর অনুযায়ী, অভিযুক্তরা মধ্যচক্রের জন্য একটি ওয়েবসাইট বানিয়েছিল ও তাতে নিজেরদের ফোন নম্বরও দিয়েছিল। তারা উন্নত পরিষেবার লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের আকর্ষণ করত। খবর পেয়ে পুলিশ সোনি জংশনের কাছে হানা দিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ও পরে বিবেক নগরের একটি আবাসন থেকে এক যুবতীকে উদ্ধার করে। তাকে প্রায় ছয় মাস ধরে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। বিগত এক সপ্তাহে দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে এটি পুলিশের চতুর্থ অভিযান ছিল। সমস্ত তল্লাশির পর পুলিশ মোট ১০ জন দালালকে গ্রেপ্তার করেছে ও ছয়টি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছে। এমনকি ১৪জন দেহব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। ডিসিপি সেন্ট্রাল সন্দীপ পাটেল জানিয়েছেন, এমজি রোডে চলতে থাকা সেক্স র‍্যাকেট নিয়ে তাদের কাছে বহু অভিযোগ আসে। দেহ ব্যবসা বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই তারা বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেন। এই বিশেষ দল ক্রমাগত তল্লাশি তালিয়ে সেক্স র‍্যাকেটের পর্দা ফাঁস করছে। এমনই এক তল্লাশি চলাকালীন পুলিশ এমজি রোড থেকে চারজন দেহব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রাহকদের মধ্যে বেশিরভাগ ক্যাব চালক। ধৃত নারীদের জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ আরও অনেকগুলি সেক্স র‍্যাকেটের পর্দা ফাঁস করেছে।

শরীয়তপুরে জিহাদের দাফন সম্পন্ন


ঢাকা: রাজধানীর শাহজাহানপুরে একটি পরিত্যক্ত পানির পাইপের ভেতর থেকে ২৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার হওয়া শিশু জিহাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে দাফন করা হয়েছে। বিকাল পাঁচটার দিকে বাদ আসর জিহাদের মরদেহ শরীয়তপুরের গোসাইরহাই উপজেলার নাগরপুর গ্রামে দাফন করা হয়। সকাল ১১টায় জিহাদকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওয়ান হয়। ময়নাতদন্ত শেষে গোসল করিয়ে তাকে কাফনের কাপড় পড়ানো হয়। জিহাদের মামা মনির হোসেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাশ বুঝে নেন। এর আগে তার ময়নাতদন্তের কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. হাবিবুজ্জামান চৌধুরীকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের চিকিৎসক প্যানেল এই ময়নাতদন্ত করেন। কমিটির অন্য দুই চিকিৎসক হলেন সদস্য সচিব ও সহকারী অধ্যাপক ডা. একে এম শফিউজ্জামান এবং ডা. প্রদীপ বিশ্বাস। শনিবার বেলা ৩টার দিকে দীর্ঘ প্রায় ২৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর জিহাদেকে উদ্ধার করা হয়।

কেজরিওয়ালের দিকে পাথর ছুঁড়লো এক ছাত্র


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: ভারতের আম আদমি পার্টির নেতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দিকে পাথর ছুঁড়ে মেরেছে এক ছাত্র। শনিবার দক্ষিণ দিল্লির দেওলি আসনের তিগদিতে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় তার ওপর এ হামলা চালানো হয়। তিনি অক্ষত আছেন। তার দলের লোকজন হামলাকারীকে ধরে প্রথমে ভীষণ মারধর এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে। ওই এলাকায় কেজরিওয়ালের ওপর এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। এপ্রিলে লোকসভা নির্বাচনকালে দলীয় প্রার্থীর জন্যে রোড শো’র সময়ে তাকে লক্ষ্য করে প্রথম হামলাটি চালানো হয়। ঘটনার পর কেজরিওয়াল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বিজেপি ভীত হয়ে এ ধরণের কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। হামলাকারীর নাম উদিত গোয়াল। সে স্থানীয় এবং গণযোগাযোগ বিভাগের ছাত্র। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের


ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের শৈলকুপার পূর্ব গোপালপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল কুদ্দুস (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরে ওই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন । নিহত কুদো হোসেন (৩৫) উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় ভ্যানচালক। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছগির মিয়া জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিত্যনন্দপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিরোধ চলছিল। সকাল ১০টার দিকে এ নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে নামে। এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন যুবক কুদো হোসেন এবং আহত হন অন্তত ১৫জন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দিল্লীতে হাড় কাপানো শীত


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে দিল্লী। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সর্বনি¤œ তাপমাত্রা। দিল্লীতে গত রবিবার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২.৬ ডিগ্রী। কুয়াশার কারণে যান চলাচলের দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের নিচে নেমে এসেছে। ভারতের আবহাওয় অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটের দিকে যান চলাচলের দৃশ্যমানতা ছিল ৫০ মিটারের নীচে। বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। অধিকাংশ এলাকাগুলোতে দু’ঘন্টা পার হওয়ার পরও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। রেল অধিদপ্তরের সূত্রে জানানো হয়, ৬৩টি ট্রেনের যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে, ৬টি ট্রেনের সিডিউল পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে ও চারটি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। কুয়াশার কারণে শহরের যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, রাস্তায় সকল গাড়ি ও মোটর সাইকেলকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। দিল্লী থেকে নদীয়ায় যাবার পথে এক প্রত্যক্ষ্যদর্শী জানান, কুয়াশায় গাড়ি চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ দৃশ্যমানতা প্রায় ১০ মিটারের নিচে নেমে এসেছে।

জিহাদের বাবার সাথে খারাপ আচরণ প্রমাণ হলে ব্যবস্থা


ঢাকা: শিশু জিহাদের বাবার সঙ্গে পুলিশ খারাপ আচরণ করে থাকলে দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, রহস্য উদঘাটনে শিশু জিহাদের বাবাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, কোনো ইনটেনশন ছিল না। রবিবার সচিবালয়ে ‘জঙ্গি প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত্র বিশেষ কমিটি’র বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ কথা বলেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকারও ছিলেন। ওয়াসার শক্তিশালী ক্যামেরায় পাইপের মধ্যে পড়ে যাওয়া শিশুটির অস্তিত্ব খুঁজে না পেলে রাতেই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় জিহাদের বাবাকে। অভিযোগ ওঠে, ১২ ঘণ্টার মতো তাকে আটকে রেখে মানসিকভাবে নির্যাতন চালানো হয়। গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি মাঠে খেলার সময় রেলওয়ের পরিত্যক্ত গভীর পাইপের মধ্যে পড়ে যায় সাড়ে ৩ বছরের শিশু জিহাদ। রাতভর উদ্ধার অভিযানে শিশুটির অবস্থান জানা যায়নি। পরের দিন শনিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করে চিকিৎসকরা। ‘শিশু জিহাদের বাবাকে পুলিশি হেফাজতের নামে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্যাতনের অভিযোগ আমি শুনিনি। তবে তা যদি হয় তাহলে দু:খজনক। হয়তো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ক্যামেরায় শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত না হতে পারায় রহস্য সৃষ্টি হয়েছিল। সেই রহস্য উদঘাটনে হয়তো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, আইজিপি উপস্থিত আছেন তার কাছে জানুন। পুলিশ মহাপরিদর্শক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এই ঘটনায় দুটি বিষয় ছিল। একটি অভিযান চলছে। অন্যটি- যখন অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, তখন শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া। সৎ উদ্দেশে আন্তরিকভাবে জিজ্ঞসাবাদ করা হয়েছে। এতে যদি জিহাদের বাবা মর্মাহত হয়ে থাকলে তা দেখা হবে। বিষয়টি জানার জন্য কেনো বেশি সময় লাগলো তাও দেখা (ব্যবস্থা) হবে। আইজিপি জানান, ঘটনাটি জাতীয় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। শুধু জিহাদের বাবাকে নয়, জিহাদের সঙ্গে যারা খেলছিল তাদের নেওয়া হয়েছিল বিষয়টি জানতে। তবে অনভিপ্রেত কিছু হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশু উদ্ধারে অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাতে যখন ওয়াসার ক্যামেরায় যখন শিশুটির অবস্থান ধরা পড়েনি, তখন রাত ৩টার দিকে আমি এবং পুলিশ কমিশনার চলে আসি। গার্ভেজ সরিয়ে তার নিচে খোঁজার কথা বলা হয়েছিল। সেই মোতাবেক ফায়ার সার্ভিস অভিযান চালাচ্ছিল। পরদিন দুপুরে যখন অভিযান চলছে, তখন শিশুটিকে পাওয়া যাবে না মনে করে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করে। উদ্ধার হওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাই তাকে হাসপাতালে নেয়।

যুবদল সভাপতি আলাল গ্রেপ্তার


ঢাকা: যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার করেছে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আলালকে মোহাম্মদপুর থানায় আনা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে পুলিশ বলছে, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক বলেন, শনিবার রাত ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ার বাসা থেকে আলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হরতালকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। কী ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা-জানতে চাইলে আজিজুল হক জানান, তিনি বিভিন্ন জায়গায় গণ্ডগোলের পরিকল্পনা করছিলেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এই তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আওয়ামী লীগকেও সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না


ঢাকা: বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দেওয়া হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেও কোথাও সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। ২০ দলীয় জোটকে দেশের কোথাও সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না— আওয়ামী লীগের এমন মন্তব্যের প্রতিবাদে রিজভী রবিবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। রিজভী আরও বলেন, ২০ দলীয় জোট সোমবার সারাদেশে হরতাল ঘোষণার পর সরকার টালমাটাল হয়ে গেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করছে। এ সময় ২০ দলীয় জোটের সোমবারের হরতাল সফল করার আহ্বান জানান তিনি।

নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ইসলাম


কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীকে ঘোর অমানিশা থেকে মুক্ত করে হেদায়েতী নূরের আলোতে উজ্জ্বল করেছেন যিনি, মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের চরম বির্পযয় রোধ করে উসওয়াতুন হাসানার মাধ্যমে উত্তম জীবনাদর্শ ও অনুপম তাহযীব তমদ্দুন প্রতিষ্ঠা করেছেন যিনি, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানবতার মুক্তি সাধন করে সর্বতোব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন যিনি, তিনি হলেন মানবতার মুক্তির দিশারী, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব, আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সা.)। তিনি ছিলেন নারী জাতির মুক্তির ত্রাণকর্তা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক। নারী জাতি সম্পর্কে নবীজি (সা.) এর অমিয় শাশ্বত বাণী ছিল নারী জাতি মানব সমাজেরই একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ যা সৃষ্টি জগতের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে এক অনুপম ও অতুলনীয় সৃষ্টি। আল্লাহ তায়ালা আদি পিতা হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টির পর তার সৃষ্টির পরিপূর্ণতা আনায়নের লক্ষ্যে আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ.) কে সৃষ্টি করেছেন। কেননা আল্লাহর সৃষ্টিতে নর আর নারী এক অন্যের পরিপূরক। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় পৃথিবীর এই নারী সমাজ শতাব্দীর পর শতাব্দী কাল ধরে সমাজের সর্বক্ষেত্রে চরম নির্যাতিতা, অবহেলিতা, বঞ্চিতা এবং ভোগের সামগ্রী হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। মানব জাতির স্থায়িত্ব, শান্তি নর ও নারীর পারস্পরিক সহযোগিতা এবং তাদের সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্কের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। কিন্তু ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় দেখা যায় তার সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। প্রাচীন ভারতের অন্যতম হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মে নারী জাতিকে সকল পাপকর্মের প্রধান উৎস এবং তাদের অবজ্ঞা ও ঘৃণার পাত্রী বলে মনে করত। প্রাচীন কালের নারী সভ্যতার সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত গ্রিসে নারী জাতিকে শয়তানের সমতুল্য মনে করা হতো এবং সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের কোনো গ্রহণযাগ্য অবস্থান ছিল না। সারাজীবন তারা গোলামির জিঞ্জিরে আবদ্ধ ছিল। সামাজিক জীব হিসেবে তাদের কোনো স্বীকৃতি ছিল না। দাসী এবং স্ত্রীদের মধ্যে সামাজিকতার কোন ভিন্নতা ছিল না। বায়জেন্টাইন সাম্রাজ্যে নারীর কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। তাদের আত্মাবিহীন জীব মনে করা হতো এমনকি নারী সম্পর্কে তাদের যে ধারণা ছিল তা ছিল নিদারুণ কষ্টের এবং বেদনাদায়ক। তারা মনে করতো নারী আদম সন্তানদের বিপদে পরিচালিত করার এক আকর্ষণীয় অস্ত্র। ব্যাবিলন এবং ইরানের অবস্থা গ্রিক বা রোম সাম্রাজ্য থেকে কোনো ভিন্ন চিত্র ছিল না। অন্যদিকে জাহেলি আরব সমাজে নারীদের অবস্থা ছিল আরও শোচনীয় এবং করুণ। কন্যা সন্তান জন্ম হওয়া তাদের কাছে অমঙ্গলের প্রতীক হিসেবে গণ্য হতো। তাদের কোন সামাজিক মর্যাদা ছিল না। কোনো কোনো আরব গোত্রে কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হলে তাদের জীবন্ত কবর পর্যন্ত দিতে তারা দ্বিধা করত না। (জাহেলি যুগের দাহইয়া কালবী যার বাস্তব উদাহরণ পরে অবশ্য তিনি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে অতীত জীবনের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে খালেস তওবা করেছেন)। নারী জাতীর এহেন ক্রান্তি লগ্নে তাদের সকল প্রকার শোষণ, বঞ্চনা, অবহেলা, অবজ্ঞা এবং নির্যাতনের স্টিম রোলার থেকে পরিত্রাণ দিয়ে সম্মান এবং গৌরবময় সামাজিক জীব হিসেবে জীবনযাপনের অধিকার নিশ্চিত করতে এই বিশ্বধরায় আবির্ভূত হলেন মহানবী হযরত (সা.)। তার আনিত জীবন ব্যবস্থাই অবহেলিত নারী সমাজকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে মর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছে। তিনি বলিষ্ট কন্ঠে নারী পুরুষের অপরিহার্য সুসম্পর্কের উপর গুরুত্বারোপ করে উল্লেখ করেন ‘তাকওয়া ব্যতীত বংশগত ও প্রকৃতিগতভাবে কোনো এক শ্রেণীর উপর অপর শ্রেণীর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো যিনি, তোমাদের এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি, তা হতে তাহার সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তাহাদের দুজন হতে বহু নর নারী ছড়িয়ে দেন। এই আয়াতের মর্মবাণী থেকে বুঝা যায় যে, কোরআনের দৃষ্টিতে মানব জীবনে নারী পুরুষের ভূমিকা সমান। পুরুষ বা নারী হওয়ার ভিত্তিতে মর্যাদা নির্ধারিত হয় না কেবল মাত্র তাকওয়ার ভিত্তিতেই মর্যাদা নির্ধারিত হয়ে থাকে। মর্যাদা নির্ধারিত হওয়ার আসল মাপকাঠি হল তাকওয়া। এ ব্যাপারে আল্লাহ কোরআন পাকে এরশাদ করেন ‘নিশ্চয় তোমাদের নিকট থেকে সেই ব্যক্তি আল্লাহর কাছে বেশি মর্যাদাসম্পন্ন যে বেশি মুত্তাকি।’ অপর আয়াতে আল্লাহ পাক হযরত মরিয়ম (আ.) এর মাতাকে শান্ত্বনা দিয়ে এরশাদ করেন ‘যে ছেলে তুমি চেয়েছিলে, সে তো এ মেয়ের মতো নয়! যাকে তোমাকে দেয়া হয়েছে।’ অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ যেখানে নারীর মাতৃত্বকে সম্মান দিতে কুন্ঠিত সেখানে ইসলাম মাতৃত্বের মর্যাদাকে মানবতার উচ্চতম স্থানে সমুন্নত করেছে। রাসূল (সা.) এর অমীয় চিরন্তন বাণী মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। তাছাড়া ইসলামের সুমহান বিধানে পিতার চেয়ে মায়ের মর্যাদা অনেক ক্ষেত্রে বেশি। এ ব্যাপারে এক সাহাবী (রা.) নবী (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রথম তিনবার মায়ের কথা বলে চতুর্থবার পিতার কথা বললেন। এখানে মায়ের প্রতি যে সম্মান এবং মর্যাদার বার্তা নবীজি (সা.) প্রদান করলেন পৃথিবীতে প্রচলিত অন্যান্য ধর্মে তা সত্যিই বিরল। নারীদের মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে রাসুল (সা.) এরশাদ করেন যে ব্যক্তি দুই কন্যা বা ভগিনী প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত লালন পালন করবে এবং পুরুষদিগকে (ছেলে/ ভাই) তাদের উপর প্রাধান্য দিবে না সেই ব্যক্তি আর আমি কিয়ামতের দিন এমনভাবে অবস্থান করব যেই ভাবে দুটি আঙ্গুল একত্রে থাকে। বিশ্বের বহু সভ্য জাতি নারী জাতিকে কোনো না কোনোভাবে উত্তরাধিকারীনি হতে বঞ্চিত করেছে এবং বর্তমানে বঞ্চিত করার হীন ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু মানবতা এবং শান্তির ধর্ম ইসলাম নারীর অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করে তাদের স্বাধীন মালিকানা স্বত্ত্ব নির্দেশ করত আর্থিক ক্ষেত্রে স্ত্রীর অবস্থা সুদৃঢ় করার প্রয়াসে পুরুষের উপর স্ত্রীর মোহর প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করে নারী জাতির আর্থিক অবস্থাকে আরও সমুন্নত করেছে। তাছাড়া মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তাদের অধিকার সুনিশ্চিত করেছে। যা আজ সভ্য পৃথিবীর অনেক সভ্য জাতির কাছেই উপেক্ষিত। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে প্রথমেই তাহার স্ত্রীর মোহরানা বকেয়া থাকলে তা আদায় করা হয়। তারপর বাকি সম্পত্তি উত্তরাধিকারীগণের মধ্যে বণ্টন করা হয় আর সেখানেও স্ত্রীর জন্য একটা অংশ নির্ধারিত থাকে। ইসলাম নারীদের পৃথক ব্যক্তিসত্ত্বা স্বীকার করে কর্তব্যর সঙ্গে তাদের অধিকারের সীমারেখা বর্ণনা করে ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতি দান করেছে। এ ব্যাপারে নবী (সা.) এরশাদ করেন ‘দুনিয়ার সবকিছুই সম্পদ, এদের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ হল নেককার স্ত্রী।’ অন্যত্র বলা হয়েছে ‘তারা (স্ত্রীগণ) তোমাদের অঙ্গাবরণ স্বরুপ।’ ইসলাম নারীদের সম্মান আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে বিদায় হজের ভাষণে নবীজি (সা.) বললেন, ‘নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, ‘তাহাদিগকে তোমরা আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ।’ নারী জাতির শিক্ষাক্ষেত্রে ও ইসলাম যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে যদিও তৎকালে নারী শিক্ষার দ্বার ছিল সর্বদা রুদ্ধ। যেখানে সামাজিকতার স্বীকৃতি ছিল না সেখানে শিক্ষা গ্রহণ ছিল এক অরণ্য রোদন। এত প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাকে নারীর মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ব নবী (সা.) এরশাদ করেন ‘প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর জন্য জ্ঞান অর্জন অবশ্যই কর্তব্য।’ রাসূলের যুগে নারীরা শিক্ষাক্ষেত্রের কোনো অংশেই পিছিয়ে ছিলেন না বরং শিক্ষা-দীক্ষায় তাদের মেধা এবং প্রতিভার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বর্তমান পৃথিবীর অনেক জাতি যারা নিজেদের সভ্য জাতি বলে জাহির করে তাদের কাছে বিধবাদের কোন সামাজিক মূল্যবোধ ছিল না। তাদের স্বামী মারা যাওয়ার পর তাদের সাথে (স্বামীর সাথে) আত্মাহুতি দিতে প্ররোচিত করত। (আজকের শিক্ষিত এবং ভদ্র সমাজেও তাদের কে ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের বোঝা মনে করা হয়)। আরবের রীতি ছিল পিতা মারা যাওয়ার পর তার জ্যৈষ্ঠ পুত্র তাহার সৎ মাতার বৈধ উত্তরাধিকারী হতো। কোনো কোনো ধর্মে বিধবাদের বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ইসলাম বিধবাদের অধিকার নিশ্চিত করে, বিধবা বিবাহ উৎসাহিত করছে। বিশ্ব নবী (সা.) স্বয়ং এ বিধান কার্যে পরিণত করে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন যা পৃথিবীর এই সভ্য ইতিহাসে সত্যিই বিরল।
 
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: মো:মহিউদ্দিন,সম্পাদক : মাহবুবুর রশিদ,নির্বাহী সম্পাদক : নিজাম উদ্দিন। সম্পাদকীয় যোগাযোগ : শাপলা পয়েন্ট,কানাইঘাট পশ্চিম বাজার,কানাইঘাট,সিলেট।+৮৮ ০১৭২৭৬৬৭৭২০,+৮৮ ০১৯১২৭৬৪৭১৬ ই-মেইল :mahbuburrashid68@yahoo.com: সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত কানাইঘাট নিউজ ২০১৩