Monday, March 9

কানাইঘাটে ফসলি জমির মাটি কাটার হিড়িক, হুমকিতে কৃষি ও পরিবেশ


নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেটের কানাইঘাটে আইনের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে আবাদি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপসয়েল) কেটে বিক্রির হিড়িক পড়েছে। এতে করে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে কৃষিজমি এবং ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন নিয়ে দেখা দিচ্ছে উদ্বেগ।

অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র, কিছু জনপ্রতিনিধি, ট্রাক মালিক ও চালকদের যোগসাজশে উপজেলার পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলি জমিতে কয়েকশ’ এক্সকাভেটর (ভেকু) ও ফেলুডার দিয়ে নির্বিচারে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ডাম্প ট্রাক ও নিষিদ্ধ ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট এবং পুকুর ভরাটের কাজে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এভাবে ফসলি জমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় জমির শ্রেণী পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এসব জমিতে ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে শত শত ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি পরিবহনের কারণে কানাইঘাটের গ্রামীণ সরু পাকা সড়কগুলো ভেঙে বেহাল অবস্থায় পরিণত হচ্ছে। কাঁচা রাস্তা দেবে যাচ্ছে এবং প্রধান সড়কগুলোও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

নির্বিচারে মাটি কাটা ও পরিবহনের ফলে আশপাশের বসতবাড়ি ও সরকারি স্থাপনাও ঝুঁকিতে পড়ছে। সেই সঙ্গে ট্রাক ও ট্রাক্টরের চলাচলে সৃষ্টি হওয়া ধুলোবালিতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এছাড়াও বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী এসব যানবাহনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি মাটি বহনকারী একটি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় রাজনৈতিক ঐক্যমত এবং প্রভাবশালী মাটি খেকো চক্রের যোগসাজশে এই অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম চলছে। এতে করে সংশ্লিষ্টরা রাতারাতি বিপুল অর্থের মালিক বনে যাচ্ছেন। স্থানীয় জনগণ প্রতিবাদ করলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।

সম্প্রতি উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে পরিবেশের ক্ষতি করে মাটি কাটার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একটি ফেলুডার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এক্সকাভেটর ও ফেলুডার ভাড়া করে এনে মাটি খেকো চক্র তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে উপজেলা প্রশাসন পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিছু ফেলুডার ও এক্সকাভেটর আটক করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও পরে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীরা গর্ব করে বলেন-তারা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে অবৈধ এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান শাকিল বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষিজমির টপসয়েল কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জমির শ্রেণী পরিবর্তনের জন্য পূর্ব অনুমোদন প্রয়োজন এবং গ্রামীণ সরু সড়কে ডাম্প ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়