কানাইঘাট জুড়ে এ বছর শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। সুরমা নদীর বি¯তৃর্ন দুই তীরে এবং হাওর নদীনালা ঘেষা সমতল এলাকার কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর চাষী ভাইরা হাইব্রীড জাতের ফুলকপি, বাঁধা কপি, ওলকপি, বিভিন্ন জাতের টমেটো, বেগুন, সীম, শসা, ফরাস, লাউ, মিষ্টি কুমড়া সহ বিভিন্ন রকমের সবজির চাষ করেছেন। গত কয়েক বছর চাষীরা তাদের উৎপাদিত এসব সবজি চাষ করে উৎপাদন করছের চাইতে কিছুটা লাভ করায় অনেকে সবজি চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু এবছর একদিকে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন অন্যদিকে সবজির দাম চড়াও থাকায় অধিক মুনাফা অর্জন করেছেন চাষীরা। প্রতিদিন কানাইঘাট বাজারের সুরমা নদীর তীরে সবজির দীর্ঘ হাট বসে। এখান থেকে গড়ে প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার সবজি বিক্রি হয় বলে চাষীরা জানিয়েছেন। এমনিতেই শীত কালীন সবজি উৎপাদনের জন্য কানাইঘাটে একটি সুনাম দেশ জুড়ে রয়েছে। এখনকার চাষকৃত সবজির স্বাদ অনন্য হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারী ও খুচরা সবজি বিক্রেতারা হাট এবং বাগানে গিয়ে সবজি কিনে ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতের গাছের পাঁকা সুস্বাদু টমেটুর কদর দেশ জুড়ে রয়েছে। কয়েকজন টমেটো চাষীর সাথে কথা হলে তারা জানান এবার টমেটোর চাষ অধিক হয়েছে। দাম বেশি থাকায় তারা অধিক লাভও পেয়েছেন। ঢাকা থেকে সরাসরি এসে সবজি আড়ৎদাররা তাদের বাগান থেকে গাছ পাঁকা টমেটো ট্রাক, পিকআপ সাথে নিয়ে এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে অন্যান্য বছরের চাইতে এ বছর দাম অনেক বেশি। তবে অনেক টমেটো বাগানে পোঁকার আক্রমন দেখা দেওয়ার পরও তারা স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে তারা কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন না। সনাতন পদ্ধতিতে কীটনাশক ব্যবহার করে তেমন একটা ফল পাচ্ছেন না। টমেটো চাষী জাকারিয়া জানান, তিনি এ পর্যন্ত ৭ল টাকা, আব্দুশ শুকুর ৫ল টাকা, কবির আহমদ ২ল ৫০হাজার টাকা, ইসলাম উদ্দিন ৪ল টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। গড়ে প্রতিদিন ৫০-৬০ল টাকার টমেটো বিক্রি হয় বলে তারা জানিয়েছেন। কয়েকজন কপি চাষী জানান, এবার বাম্পার ফলন হয়েছে, দামও বেশি। প্রতি শত কপি প্রথমে ৬-৭হাজার দামে বিক্রি হত। বর্তমানে ১৫শত থেকে ২হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বেশিরভাগ কপি দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা কিনে নিচ্ছেন বলে তারা জানিয়েছেন। এছাড়া সীম, ফরাস, বেগুন, শসা বিক্রি করে অধিক মুনাফা লাভ করেছেন কৃষকরা।

bumper folon
ReplyDelete