Monday, September 24

চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কার্যকর

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: আজ থেকে চীনা পণ্যের ওপর তৃতীয় দফায় মার্কিন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। দুই অর্থনৈতিক মহাশক্তির সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব চলাকালীন অবস্থায় চীনের বিরুদ্ধে আরোপ করা সবচেয়ে বড় আকারের শুল্কের সিদ্ধান্ত ছিল এটি। ২০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চীনের অন্যায্য বাণিজ্য নীতিকে। চীন এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে ৬০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। চীনের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র 'আন্ত:দেশীয় অর্থনীতিতে সর্বকালের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য যুদ্ধ' শুরু করেছে। জুলাইয়ে শুল্ক আরোপ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে মোট ২৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হলো। সোমবার থেকে যা কার্যকর হচ্ছে। যেসব চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান সেসব পণ্য আমদানি করতে চাইলে ১০% অতিরিক্ত শুল্ক প্রদান করতে হবে। প্রায় ৬ হাজার পণ্যের ওপর এই শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন থেকে এত বেশি পণ্যের ওপর কখনো এত বড় মাপের শুল্ক আরোপ করা হয়নি। হ্যান্ডব্যাগ, চাল ও কাপড়ের ওপর এই শুল্ক আরোপিত হবে। তবে স্মার্ট হাতঘড়ি ও চেয়ারের মত পণ্য শুল্কের আওতায় পরবে না। দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে ২০১৯'এর শুরু থেকে এই শুল্কের হার ২৫% এ উন্নীত হবে। এর বিপরীতে ছোট আকৃতির মার্কিন বিমান, কম্পিউটার ও টেক্সটাইল পণ্যের ওপর ৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে চীন। রাসায়নিক দ্রব্য, মাংস, গম ও ওয়াইনের ওপর আরোপ করা হয়েছে ১০% শুল্ক। এখন পর্যন্ত যা হয়েছে। এবছর এখন পর্যন্ত তিন দফায় মোট ২৫০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জুলাইয়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় হোয়াইট হাউজ। এরপর গত মাসে দ্বিতীয় দফায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপ করা হয়। প্রতিশোধস্বরূপ, ৫০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে চীন। বিশেষত ঐসব পণ্যে, যেসব পণ্যে শুল্ক আরোপ করলে মার্কিন কৃষকরা- যাদের সিংহভাগই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক- সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্র কেন শুল্ক আরোপ করছে? প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন তিনি 'চীনে মার্কিন প্রযুক্তি ও মেধা সম্পদের অন্যায্য হস্তান্তর' বন্ধ করতে এবং নিজদেশে কর্মসংস্থান সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে এই ধরণের শুল্ক আরোপ করছেন। অর্থনৈতিক মূলনীতি অনুযায়ী, শুল্ক আরোপ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের জন্য আমদানিকৃত চীনা পণ্যের চেয়ে মার্কিন পণ্য বেশি সস্তা হবে। কাজেই তারা আমদানিকৃত পণ্য না কিনে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যই কিনতে চাইবেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে ও দেশের অভ্যন্তরে ব্যবসা প্রসার লাভ করবে। কিন্তু এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির অফিসে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ঘরোয়া অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সংরক্ষণবাদী বাণিজ্য নীতি অনুসরণ করেছেন ট্রাম্প; যা যুগযুগ ধরে চলতে থাকা বৈশ্বিক মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার পরিপন্থী। এরপর যা হতে পারে। সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন আরো ২৬৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর 'স্বল্প সময়ের নোটিশে' শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এর ফলে, কার্যত, চীনের সব পণ্যের ওপরই শুল্ক আরোপ করা হয়ে যাবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে চীন কী ভূমিকা গ্রহণ করবে, তা পরিষ্কার নয়। চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ পণ্য কেনে, সে তুলনায় অনেক কম পরিমাণ পণ্য চীনের কাছে বিক্রি করে তারা। কাজেই খুব বেশি মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার সুযোগও নেই চীনের সামনে। তবে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, চীন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ চালাতে পারে। চীনে অবস্থিত মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কড়াকড়ি আরোপ করতে পারে তারা। রপ্তানি বাড়াতে কমিয়ে আনতে পারে নিজেদের মুদ্রার মূল্যমানও।

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়

নোটিশ :   কানাইঘাট নিউজ ডটকমে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক