Thursday, October 26, 2017

১৭ লাখ টাকাসহ ৭ ডিবি পুলিশ আটক

১৭ লাখ টাকাসহ ৭ ডিবি পুলিশ আটক

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ পৌরসভার এক কাউন্সিলরের ভাইকে আটকের পর জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা আদায়ের ঘটনায় ৭ ডিবিকে আটক করেছেন সেনাবাহিনী। এঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবির) দুই  উপ-পরিদর্শক (এসআই) তিন সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও দুই কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন এ আদেশ দেন।
 
টেকনাফ পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনিরুজ্জামানের ভাইকে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে আটকের পর জিম্মি করে আদায় করা ১৭ লাখ টাকাসহ ডিবি পুলিশের অফিসারসহ ৭জনকে আটক করেছে সেনাবাহিনীর একটি দল। এসময় তাদের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার ভোরে ডিবির এসব সদস্যকে আটক করা হয়। পরে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল আটকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

এ ব্যাপারে টেকনাফের সাবরাং নয়াপাড়া ত্রাণকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা মেজর নাজিম আহমেদ বলেন, তার নেতৃত্বে ডিবির ওই দলটিকে আটক করা হয়। আটক ব্যবসায়ীর নাম আবদুল গফুর। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামানের ভাই ও কম্বল ব্যবসায়ী।

কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান বলেন, আবদুল গফুর মঙ্গলবার কক্সবাজার আয়কর অফিসে রিটার্ন জমা করতে যান। সেখান থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় ডিবির একটি দল। এরপর তাকে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে চালান দেয়ার হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে ডিবির ওই দলটি। দর-কষাকষির পর ১৭ লাখ টাকায় তাকে ছেড়ে দিতে সম্মত হয় ডিবিদল। এসব বিষয় সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়। কথামতো টেকনাফ এসে টাকা বুঝে পাবার পর তাকে ভোররাতে মেরিন ড্রাইভ এলাকায় ছেড়ে দেয় আটককারীরা। বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানালে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ এলাকার লম্বরী সেনাবাহিনীর তল্লাশিচৌকিতে ডিবির গাড়িটি সংকেত দিয়ে থামানো হয়।

গাড়িতে এসআই আবুল কালাম আজাদ, এসআই আলাউদ্দিন ও এসআই মনিরুজ্জামান, তিনজন এএসআই এবং ২ কনস্টেবলসহ ৮জন ছিলেন। গাড়ি থামানোর পর এসআই মনির কৌশলে পালিয়ে যান। গাড়ি থেকে জিম্মির বিনিময়ে আদায় করা ১৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর বাকি ৭জনকে সাবরাং সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়।

মেজর নাজিম আহমেদ বলেন, কক্সবাজারের পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেনাবাহিনী ক্যাম্পে এসে আটকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়ে যান। তবে উদ্ধার করা টাকা আমাদের হাতেই রয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র মতে, ইয়াবার তালিকাভূক্ত এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছিল। তারা কৌশলে ডিবি পুলিশকে ফাঁসিয়েছে। সেনা হেফাজত থেকে ডিবির সেই দলটিকে নিয়ে অফিসে ফিরছেন পুলিশ সুপারসহ অন্যরা।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, অভিযুক্ত দুই এসআই, তিন এএসআই ও দুই কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এটি জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক ইয়াসির আরাফাতের নিয়ন্ত্রণাধীন ২ নাম্বার টিম। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়

নোটিশ :   কানাইঘাট নিউজ ডটকমে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক