প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত যতো ষড়যন্ত্র করুক, যতো অপচেষ্টা করুক, যুদ্ধাপরাধী, যারা মা-বোনদের সম্ভ্রম হরণকারী, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী, বাঙালির ঘরে ঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতনকারী তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। আমি দেশবাসী আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করি। দোয়া চাই। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দানকালে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রচার করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গত চার বছরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে সরকারকে আরেকবার সুযোগ দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির যে উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে জনগণই আরেকবার সরকারকে সুযোগ দিতে পারে। তিনি বলেন, আপনারাই পারেন আমাদেরকে সেই সুযোগ দিতে। ভাষণে গত চার বছরে সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশ দ্রুত এগিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি পরিবারে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব কাজে সরকারকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করার জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দলকে সংঘাতের পথ পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করবেন না।
তা হলে জাতি আপনাদের কখনোই ক্ষমা করবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণেই দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ডেসটিনি ও হল-মার্ক দুর্নীতির সুষ্ঠুু তদন্ত হয়েছে এবং হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধী-স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। বাংলার শিশু-কিশোর-যুবক-বৃদ্ধ ও আপামর মা-বোনসহ প্রত্যেক মানুষই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। এই দাবিকে অগ্রাহ্য করে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য মাঠে নেমেছে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, প্রতিটি নির্বাচন অবাঁধ, সুষ্ঠুু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। কোথাও কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এসব নির্বাচনে জনগণের রায় সরকার মাথা পেতে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভাষণে রাজধানীবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীতে যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাতিরঝিল প্রকল্প, বনানী ওভারপাস, মিরপুর-এয়ারপোর্ট রোড উড়ালসড়ক নির্মাণ প্রভৃতির কথা উল্লেখ করেন।(fairnews24)

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়