এহসানুল হক জসীম ::
সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের এমপি মোহাম্মদ আবুল হাসান রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আজ (৭ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদে বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর বক্তব্যে তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ও মুক্তিযুদ্ধের বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে অনেককে স্মরণও করেছেন।
মোহাম্মদ আবুল হাসান তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সংসদের বর্তমান স্পীকার মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা যে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ-- সে বিষয়টি সংসদে তিনি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
তাঁর জন্য নির্ধারিত পাঁচ মিনিটের বক্তব্য শুনে স্পীকার আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠে। তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। স্পীকার স্মৃতি রোমন্থন করে আটগ্রাম, চারিগ্রাম ইত্যাদি জায়গার নাম উল্লেখ করে এসব জায়গায় যে তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন-- সে কথা বলেন এবং একাত্তরের ২১ ও ২২ নভেম্বরের সম্মুখ যুদ্ধের স্মৃতি রোমন্থন করেন। তাঁর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এলাকার এমপিকে সংসদে পেয়ে এবং এমপি সংসদে মুক্তিযুদ্ধের বিষয় তুলে ধরায় স্পীকার হাফিজউদ্দিন আহমদ সিলেট-৫ আসনের এমপিকে আরো তিন মিনিট সময় বাড়িয়ে দেন।
সংসদে তাঁর বক্তব্যে মোহাম্মদ আবুল হাসান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন সিলেট-৫ আসনের সাবেক এমপি মাওলানা উবাইদুল হক উজিরপুরী, হেফাজতে ইসলামের মরহুম আমীর আল্লামা আহমদ শফি এবং মরহুম সেক্রেটারী আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী প্রমুখকে। শাপলা চত্বরের গণহত্যা এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
সিলেট-৫ আসনের এই এমপি তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর সেনানীদেরও স্মরণ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে দেশের প্রথম অঞ্চল হিসেবে হানাদার মুক্ত হয়েছিল। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের মাটি ও মানুষের সাথে মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস মিশে আছে। এই ইতিহাসকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। তিনি এই অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা সংরক্ষণ এবং কল্যাণে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জকিগঞ্জকে দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চল এবং কানাইঘাটকে দেশের দ্বিতীয় মুক্তাঞ্চল দাবী করে মোহাম্মদ আবুল হাসান স্পীকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জকিগঞ্জ প্রথম মুক্ত হয়। এর পরের দিন ২২ নভেম্বর তারিখে জিয়াউর রহমান, মেজর হাফিজদের নেতৃত্বে কানাইঘাট মুক্ত হয়। এই দুই উপজেলাকে দেশের প্রথম ও দ্বিতীয় মুক্তাঞ্চল হিসেবে ঘোষণার জন্য তিনি জোর দাবী জানান।
এমপি তাঁর বক্তব্যে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার নদীভাঙন সমস্যাকে ওই এলাকার বড় একটি সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেন। দেশের মানচিত্র রক্ষায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানান। এ ছাড়া এই দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিশেষ করে জকিগঞ্জের শেওলা রাস্তা ও কানাইঘাটের বোরহানউদ্দিন রাস্তার আশু সংস্কারের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মোহাম্মদ আবুল হাসান তাঁর বক্তব্যে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের স্বাস্থ্য সেবার দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। দুই উপজেলার দুই প্রধান হাসপাতালের চিত্র তুলে ধরে বলেন, শূন্য পদ পূরণ করে ডাক্তার-নার্সের পাশাপাশি অন্যান্য জনবল সংকট নিরসন করার দাবী জানান।
সিলেট-৫ আসনের এমপির মোট আট মিনিটের বক্তব্য শেষ হলে স্পীকার সংসদে উপস্থিত থাকা সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সিলেট-৫ আসন তথা কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ হচ্ছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা। তিনি সেখানে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। অতএব, জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নের প্রতি এই মন্ত্রীদ্বয় যেন বিশেষ দৃষ্টি দেন-- সেই কথা বলেন স্পীকার।
সিলেট-৫ আসনের এমপি মোহাম্মদ আবুল হাসান তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পীকারের ভালোই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন-- এটা তাঁর যোগ্যতা ও দক্ষতা। তাঁর পাঁচ মিনিটের পর এবং পুরো আট মিনিটের পর স্পীকার কথা বলেছেন-- এটা চমৎকার দিক। স্পীকার নিজে তিন মিনিট সময় বাড়িয়ে দিয়েছেন-- এটা আরেক চমৎকার দিক। সিলেট-৫ আসনের এই এমপি স্পীকারকে সংসদে আবেগতাড়িত করতে পেরেছেন-- সেটা খুবই ভালো লাগার বিষয়।
মোহাম্মদ আবুল হাসান সাবলীলভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। তাঁর বক্তব্যে জড়তা ছিলো না, ছিলো দৃঢ়তা। তাঁর পয়েন্টগুলো ছিলো গোছালো। তাঁর নির্ধারিত সময়ে তিনি অধিক কথা বলতে পেরেছেন। অনেকগুলো বিষয় টাচ করেছেন।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়