নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের কানাইঘাটে মাদকের টাকা না পেয়ে দাদীকে ঘুমন্ত অবস্থায় নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের কালিনগর ধর্মটিলা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ এই ঘটনায় অভিযুক্ত নাতি আব্দুস ছামাদকে (২০) গ্রেফতার করেছে।
নিহত আমিরুন বিবি হারি (৭০) ওই গ্রামের বাসিন্দা। ঘাতক আব্দুস ছামাদ একই গ্রামের আকমল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস ছামাদ দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মরণঘাতী মাদক সেবনে আসক্ত ছিল। তার বাবা আকমল হোসেন স্ত্রীসহ বিয়ানীবাজারে এক প্রবাসীর বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করেন, যার ফলে ছামাদ বাড়িতে দাদীর সাথেই থাকত। মঙ্গলবার রাতে নেশার টাকা নিয়ে দাদীর সাথে ছামাদের বাগবিতণ্ডা হয়। দাদী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছামাদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে গভীর রাতে দাদী যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন সে ঘরে ঢুকে ভারী কোনো অস্ত্র বা লাঠি দিয়ে দাদীর মাথায় সজোরে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
আজ মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা আমিরুন বিবির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে কানাইঘাট সার্কেলের এএসপি সালমান নুর আলম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গ্রাম থেকেই ঘাতক নাতি আব্দুস ছামাদকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের শিকার বৃদ্ধার মাথায় গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নেশার টাকার জন্য দাদীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ছামাদের নেশার অত্যাচারে পরিবারের সবাই অতিষ্ঠ ছিল। এর আগে একবার পুলিশ তাকে নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিল।

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়