Tuesday, July 16

বাসর ঘরে আর ফেরা হলো না আযমের

সিরাজগঞ্জে বিয়ের মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ নিহত হয়েছে ৯ জন। এই ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ১০জনের মত। মাইক্রোবাসের চালক বাদে বাকীরা সবাই আত্মীয়। সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় এই ঘটনায় ট্রেনের সামনে থেকে ছিটকে পড়ে ৫-৬ জন ও মাইক্রোবাসের ৪ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, বরযাত্রীসহ মাইক্রোবাসটি উল্লাপাড়ার ঘাটিনা থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের কান্দাপাড়ায় যাচ্ছিল। সলপ স্টেশনের উত্তরে পঞ্চক্রোশী আলী আহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে উন্মুক্ত লেভেল ক্রসিং পারাপারের সময় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা লাগে।
নিহতদের মধ্যে বর ও কনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বর আযম হোসেন (২৫) সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে এবং কনে সুমাইয়া খাতুনের (২০) বাড়ি উল্লাপাড়ার চরঘাটিনায়। নিহতদের মধ্যে একজন বরের বোন জামাই সুমন শেখ, বরযাত্রী একই গ্রামের টুটুল শেখ, খোকন মিয়া, শরিফুল ইসলাম শরিফ, ভাষান আলী, আব্দুস সামাদ ও বায়োজিদ হোসেন।

বরের বাড়িতে বাসরঘর সাজানো হয়। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস সেই ঘর সেভাবেই পড়ে ছিল। আসেননি নববধূ, বর।
অরক্ষিত রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং-এর কারণেই এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন উল্লাপাড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. গোলাম মোস্তফা। তিনি জানান, উন্মুক্ত লেভেল ক্রসিং পারাপার হওয়ার সময় বিয়ের গাড়িবহরের একটি মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন মারা যান। রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং-এ কোনও ব্যারিয়ার বা বার্জ ছিল না। এমনকি সেখানে রেল বিভাগের কোনও পাহারাও ছিল না। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।
পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগের পাকশীর বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মিজানুর রহমান জানান, এটা রেল বিভাগের নির্ধারিত কোনও লেভেল ক্রসিং নয়। স্থানীয় লোকজন নিজেদের স্বার্থে চলাচলের জন্য সেখানে উন্মুক্ত রেখেছে। দুর্ঘটনার পর দেড়ঘণ্টা দেরিতে ট্রেনটি ছেড়ে ঢাকার দিকে গেছে।
এদিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের নয় যাত্রী নিহত হওয়ায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান মন্ত্রী।

সূত্র:বিডি লাইভ

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়