Tuesday, July 5

ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

কানাইঘাট নিউজ ডেস্ক: প্রতিবছরের মত এবারও ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর বেশীরভাগ মানুষ গ্রামে বেড়াতে যাওয়ায় ঢাকা এখন অনেকটাই ফাকা। এ অবস্থায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি গুলশানে ভয়াবহ জঙ্গী হামলার কারণে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পুলিশ-র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বাহিনীর সব সদস্যকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ জামাত ও বিনোদন কেন্দ্রের মতো জনসমাগম হয় এমন সব স্থানে থাকবে কড়া নিরাপত্তা। এছাড়া বাস-লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে রয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈদে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত থাকবে। ঈদগাহসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনাগুলোতে কঠোর নজরদারি থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা করার জন্যও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, ঈদসহ বড় ধরনের উৎসব-অনুষ্ঠান ঘিরে সব সময়ই পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এবারও রমজানের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে নিরাপত্তা বাড়ানোর আয়োজন ছিল। এর মধ্যে শুক্রবার রাতে গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়। এ প্রেক্ষাপটে নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিন্যাস করা হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাকধারী সদস্যদের পাশাপাশি আরও বাড়ানো হয়েছে সাদা পোশাকে গোয়েন্দাদের সংখ্যা। তাদের আরও সতর্ক ও কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি বাতিল করে অনেককে ডেকে নেওয়া হয়।

গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, ঈদ জামাত ও হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রায় হামলা চালাতে পারে জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা। বুধবার রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে একটি শপিংমলেও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে টুইট করে। এসব বিষয় মাথায় রেখে সব বিপণিবিতান ও দুই ধর্মীয় উৎসব ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গুলশান হামলার পর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জনসমাগম হয় এমন স্থানগুলোতে। এর ফলে মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

র‌্যাব ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন ও বিপণিবিতান ঘিরে নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ এসব স্থানেই মানুষের ভিড় থাকবে বেশি। ঈদের দিন সারাদেশের সব ঈদ জামাত ছাড়াও পার্ক, চিড়িয়াখানা, সিনেমা হলের মতো বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় থাকবে কড়া নিরাপত্তা। ঈদের পরও কিছুদিন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। এর ফলে হয়তো জনসাধারণকে কিছুটা বাড়তি তল্লাশির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এ ব্যাপারে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ঈদ ঘিরে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগেই নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নগরজুড়ে আরও কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কিছু সড়কে বন্ধ রাখা হয়েছে যান চলাচল। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এক কথায়, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব রকমের ব্যবস্থাই নিয়েছে ডিএমপি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থাকবে। তাৎক্ষণিক অভিযোগ বা সমস্যা জানানোর জন্য পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষগুলোর ফোন নম্বর সবখানে দেওয়া থাকবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

শেয়ার করুন

0 comments:

পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়