স্পোর্টস রিপোর্টার,ঢাকা: স্পেনীশ লা লিগায় বড়ধরণের অঘটন ঘটে গেল । রিয়াল দীর্ঘ ক বছর পর এই প্রথম বড় ধরণের হার নিয়ে মাঠ ত্যাগ করল। অন্যদিকে অপর স্পেনীশ জায়ান্ট বার্সা কষ্টের জয় তুলে নিয়েছে। দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে বিশ্রাম দেয়ার পরও শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু ম্যাচের ১১ মিনিটের মধ্যে দুই গোল দেয়া রিয়াল মাদ্রিদকে মাটিতে নামালো রিয়াল সোসিয়েদাদ। স্পেনের সবচেয়ে সফল ক্লাবটিকে তারা উপহার দিল ৪-২ গোলে হারের লজ্জা।
এবারই প্রথম স্পেনের শীর্ষ লিগে আসা দল এইবারের কাছে ১-০ গোলে হেরে শুরুটা ভালো হয়নি রিয়াল সোসিয়েদাদের। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই কার্লো আনচেলোত্তির তারকা খচিত দলকে হারিয়ে চমকে দিল তারা।
Real+Sociedad's+players+celebrate+a+goal
রোববার রিয়াল সোসিয়েদাদের জয়ে বড় অবদান দাভিদ সুরুতুসার। দুটি গোল করেন তিনি। আর একটি করে গোল করেন ইনিগো মার্তিনেস ও কার্লোস ভেলা। আর রিয়াল মাদ্রিদকে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে দিয়েছিলেন সের্হিও রামোস ও গ্যারেথ বেল। পঞ্চম মিনিটেই দলকে এগিয়ে নেন রামোস। টনি ক্রুসের কর্নারকে গোলে পরিণত করে এই তারকা ডিফেন্ডার।
পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলছিলেন রামোস। তার ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে হতাশ হতে হয় অতিথিদের। তবে পরের মিনিটেই দশবারের ইউরোপ সেরাদের উচ্ছ্বাসে মাতান বেল।
লুকা মদরিচের পাস থেকে বিপজ্জনক জায়গা বল পান বেল। সেখান থেকে রিয়াল সোসিয়েদাদের জাল খুঁজে পেতে কোনো সমস্যা হয়নি ওয়েলস তারকার।
ব্যবধান বাড়ানোর আরো সুযোগ পেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তারা। বরং শুরুতে এলোমেলো ফুটবল খেললেও ক্রমশ নিজেদের গুছিয়ে নেয় রিয়াল সোসিয়েদাদ। এরপরই খেলার চিত্রটা পাল্টে যায়।
MESSI+1
৩৫তম মিনিটে অধিনায়ক চাবি প্রিতোর ফ্লিক থেকে বল পান মার্তিনেস। তার গোলে ব্যবধান কমায় স্বাগতিকরা। ছয় মিনিট পর ম্যাচে সমতা ফেরান সুরুতুসা। দে লা বেলার ক্রসকে গোলে পরিণত করেন এই স্পেন মিডফিল্ডার। ২-২ সমতায় বিরতিতে যাওয়া দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে দ্বিতীয়ার্ধে। কিন্তু শুরুর ছন্দে আর ফিরতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। ৬৫তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে এগিয়ে নেন সুরুতুসা। সের্হিও কানালেসের ক্রস থেকে এবারো জালে জড়াতে কোনো ভুল হয়নি তার। ৭৫তম মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণভাগে একটি আলগা বল পেয়ে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করে মেক্সিকোর এই স্ট্রাইকার ভেলা। ৪-২ গোলে পিছিয়ে থাকা রিয়াল আর গোল শোধ করতে পারেনি।
এদিকে লিগের প্রথম ম্যাচের মতো সহজ জয় মেলেনি বার্সেলোনার। লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের মাঠ থেকে একমাত্র গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে লুইস এনরিকের দল। গেল সপ্তাহে এলচের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়ে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল বার্সেলোনা। আর ভিয়ারিয়ালের মাঠে রোববার শুরু থেকেই কঠিন লড়াই করতে হয় মেসিদের। বল দখলে শুরু থেকে ঠিকই এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা কিন্তু স্বাগতিক রক্ষণের সামনে বারবারই মুখ থুবড়ে পড়ছিল তাদের আক্রমণগুলো। প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ সুযোগটি বার্সেলোনা পায় ২৮তম মিনিটে। ডান দিক থেকে নেয়া মেসির নীচু ফ্রি কিকটি প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে গোল প্রায় হয়েই যাচ্ছিল। শেষ মুহূর্তে অসাধারণ দক্ষতায় সেটা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।
_77292602_hi023701531
দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায় বার্সেলোনা। বাঁ দিক থেকে নেয়া স্পেনের মিডফিল্ডার কানির ক্রস ঠেকাতে ডি বক্সের মধ্যে পা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বার্সেলোনার ফরাসি মিডফিল্ডার জেরেমি মাথিউ। তার পায়ে লেগে বল জালে না ঢুকে লাগে গোলপোস্টে। ৭২তম মিনিটে আবারো গোলপোস্টে বল লাগার হতাশায় ডোবে ভিয়ারিয়াল। এবার বাধা পায় স্পেনের মিডফিল্ডার তমাস পিনার শট।
চার মিনিট বাদে গোলপোস্ট হতাশায় ডোবায় বার্সেলোনাকে। মেসির আরেকটি প্রচেষ্টা বাধা পায়।
অবশেষে ৮১তম মিনিটে গোলখরা কাটে। বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা সান্দ্রো রামিরেস। নেইমার-মেসির নৈপুণ্য গোলে পরিণত করেন স্পেনের এই স্ট্রাইকার। ডি বক্সের বাইরে থেকে মেসিকে দারুণ একটা পাস দেন নেইমার। ওই পাস পেয়ে অনেকটা এগিয়ে গিয়ে একেবারে গোল লাইনের কাছ থেকে গোলরক্ষকের দু পায়ের মাঝ দিয়ে আড়াআড়ি বল বাড়ান মেসি। যাতে শুধু পা ছোঁয়ানোই বাকি ছিল রামিরেসের। চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমার এবারের লা লিগায় এদিনই প্রথম মাঠে নামেন। ৫৯তম মিনিটে মুনির এল হাদ্দাদির বদলি হিসেবে তাকে নামান কোচ।
খবর বিভাগঃ
খেলাধুলা

0 comments:
পাঠকের মতামতের জন্য কানাইঘাট নিউজ কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়